প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৬৬
জান্নাত নুসরাত
ঘড়ির কাটা শব্দ করে বেজে ওঠে জানান দিল তিনটা বেজে গিয়েছে৷ ঝিঝি পোকার ঝিঝি শব্দ ভেসে বেড়াচ্ছে চারিদিক হতে। রুমের সাদা রঙের পর্দা টানানো, তা বাহিরের মৃদু বাতাসে উড়ছে। আরশ একবার তাকাল বাহিরের অন্ধকারের দিকে, আকাশে তারাগুলো মিটমিট করে জ্বলছে। তারপর আবার তাকাল বিছানার দিকে। সেখানে নিশ্চিন্তে শুয়ে ঘুম দিচ্ছে নুসরাত। আরশের আর আজ রাতে ঘুম হবে না, মনের ভেতর চলা দোদুল্যমান অনুভূতির জন্য। সে এক-পা দু-পা করে আগাল বিছানার দিকে। যেখানে নুসরাত শুয়ে আছে। হাঁটু গেড়ে বসল তার শিয়রে। হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিল কপালের পুড়ে যাওয়া অংশ। অনিমেষ নেত্রে চেয়ে থাকল। অস্ফুটে স্বরে ডেকে উঠল,”নুসরাত নাছির, নুসরাত নাছির, আমার নুসরাত নাছির..!
নুসরাত ঘুমের মধ্যেই জবাব দিল হু করে। নড়েচড়ে আবারো তলিয়ে গেল গভীর ঘুমে। ধীরে ধীরে আরশের আঙুল স্পর্শ করল তার নাকে। নাকে পরে রাখা রিংটায় হাত বোলাল। হাত স্থির রইল না সেখানে, ধীরে ধীরে হাতের আঙুল তার পুরো মুখ অন্বেষণ করল। গালের একপাশে হাত ঠেকাতেই নুসরাত একদম পাশ ঘেঁষে শুলো। আরশকে কন্ঠস্বর খাদে নামিয়ে বিড়বিড় করতে শোনা গেল, যা রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেল অনায়াসে,“আমি তো আশা-ই ছেড়ে দিয়েছিলাম, তোকে আবার পাব? এটা কী আমার ভাগ্য? নাকি অন্যকিছু? আমি নিজের খুশির জাহির কীভাবে করব? খোদার এই অশেষ রহমতের জন্য আমার শুকরিয়া আদায় করা উচিত না? আমি কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব, বল? আমি আমার চোখ, আমার হৃদয়, আমার অস্তিত্বকে এখনো বিশ্বাস করাতে পারিনা, তুই এখন আমার! নুসরাত নাছির এখন সম্পূর্ণ আমার। সে এসেছে আমার ঘরে, খোদার এ কী কুদরত!
ইসরাত খালি রাস্তায় দৌড়াচ্ছে, তার সাথে যোগ দিয়েছে এসে আহান। নাছির মঞ্জিল থেকে বের হতেই দেখা হয়েছে তাদের। আহানের গায়ে সাধারণ স্যন্ডো গেঞ্জি। কানে এয়ারপড। পায়ে স্লিপার। চুলগুলো সামান্য বাতাসে উড়ছে৷ ফরসা চেহারা শীতের প্রকোপে লালাভ বর্ণ ধারণ করেছে। ইসরাত আহানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,”আমিরার অবস্থা কী? গতকাল রাতে বমি করে তো ভাসিয়ে দিচ্ছিল।
আহান ইসরাতের সাথে পা চালাতে ব্যস্ত ছিল। তার কথায় গ্রীবা বাঁকিয়ে তাকাল। বলল,”এ বাড়ি থেকে আসার পর অবস্থা নাজুক ছিল, তারপর বাথরুমে আমাকে দেখে এমনভাবে জ্ঞান হারাল যেন আমি ওকে কাচা খেয়ে ফেলব। কথা নেই বার্তা নেই ধুম করে হুঁশ হারিয়ে ফেলেছে। কী এমন হয়েছিল, এত ভয় পেয়েছে? আমাকে দেখে তো এত ভয় পেয়েছে বলে আমার মন হয়নি। এখানে অন্য কোনো কারণ আছে। আপু, ও বাড়িতে কী হয়েছিল রাতে?
ইসরাত জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিল। আহানের প্রশ্নের উত্তর দিল একটু রয়ে সয়ে। কথা শেষ হওয়ার পর সে জিজ্ঞেস করল,”বুঝেছিস?
আহান প্রশ্নের উত্তরে বোঝার মতো মাথা দোলাল। তারপর দু-জনেই ব্যস্ত হলো সামনের দিকে অগ্রসর হতে। মৃদু বাতাস এসে ধাক্কা খেল দু-জনের গায়ে। আহান প্রশ্ন করল,”তোমার আর বড় ভাইয়ার মধ্যে কিছু হয়েছে?
ইসরাত এমনভাবে দৃষ্টিপাত করল, আহানকে তার দৃষ্টি সরিয়ে নিতে হলো দূরে। সাফাই গেয়ে বলল,”তেমন কিছু না, শুধু জানতে চাচ্ছি। আমার কেন জানি অনুভূতি হয়েছে তোমাদের মধ্যে কিছু একটা ঠিক নেই।
মেয়েটা কথার উত্তর দিল না। আহান আবারো জিজ্ঞেস করল,”তুমি কী ভাইয়ার সাথে ফ্রান্স চলে যাবে?
“না!
“ ভাইয়া যে বলল?
ইসরাত অবাক হলো সামান্য৷ জিজ্ঞেস করল,”কখন বলেছে?
“ওই তো সেদিন, জোহরের নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর নিজাম উদ্দিন জিজ্ঞেস করছিলেন এবার কী তোমাকে সাথে নিয়ে যাবে, তো তখন তিনি বললেন।
“ উনি বললেই কী আমি যাব?
“তার মানে তুমি যাচ্ছো না?
“ না..!
আহানের খুশির জোয়ার উঠল যেন। আবারো কী একটা ভেবে হাসি মিলিয়ে গেল৷ ইসরাত তা দেখে জিজ্ঞেস করল,”মন খারাপ কেন আবার? কী হয়েছে?
“তুমি না গেলেও, ছোট আপু চলে যাবে। ভাইয়া এখানে রেখে যাবে বলে মনে হয় না।
“সেটা আমি বলতে পারছি না। হয়তো নুসরাত যেতে পারে।
আহান জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিল। বলল,”আপু একটা প্রশ্নের উত্তর দাও, তুমি কী জানো?
“ কী?
“কোন শহরের মানুষ সব থেকে ফ্যাশেনেবল?
ইসরাত ভ্রু কুটি করে উত্তর দিল,”প্যারিসের!
আহানের চোখ মুখে বিস্ময়। সে শুধাল,”তুমি জানো এটা?
“এটা কে না জানে!
তাদের কথার মধ্যেই পাশ ঘেঁষে এসে দাঁড়াল ইরহাম৷ ইসরাত আর আহান দৌড় থামিয়ে তখন হাঁটছিল। ইরহামের দিকে তাকাতেই দেখা গেল তাদেরকে কাটিয়ে একজন চলে গেল। আহান, ইসরাত, ইরহাম তার পরণের অদ্ভুত কাপড়ের দিকে তাকাল একবার৷ এই শীতের মধ্যে থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পরেছে। উপরে অভারসাইজড হুডি। পায়ে বুট হিল। হুডির গায়ে বড় বড় অক্ষরে লিখা ক্যালভিন ক্লাইন। তাদের তাকানোর ভেতর সে আবার ফিরে এসে দাঁড়াল তাদের মধ্যে। ইরহাম নুসরাতের দিকে তাকিয়ে শুধাল,’”আমি ভেবেছি এ আবার কোন ছাপড়ি আমাদের সোসাইটিতে এসে উপস্থিত হয়েছে৷ পরে দেখি এতো তুইই! আশ্চর্য, নুসরাত, তুই ছাপড়ি ইস্টাইল কেন করেছিস?
নুসরাত ইরহামের দিকে দাঁত খিঁচিয়ে তাকাল, যেন এক্ষুণি কয়েকটা বসিয়ে দিবে। ইরহাম মুখ বন্ধ করল না, সে বলতেই থাকল,”মানুষ হুডির সাথে এমন ছোট প্যান্ট পরে? তুই তো দেখি কাপড়ের অভাবে আছিস? গরীবস.. বল কাপড়ের প্রয়োজন আছে? ভাইকে বল, ভাই এনে দিব।
ইরহামের কথায় গা করল না নুসরাত। হাঁটা ধরল সামনে। ইসরাত হাসছে ক্ষীণ স্বরে৷ ইরহাম নুসরাতের পিছু ধরল। বলল,”লজ্জা পাস না, বুঝতেই তো পারছি দূর্ভোগে আছিস, ছোট বোন হিসেবে কিছু কাপড় কিনে দিব। কসম, ফুটপাত থেকে।
নুসরাত দাঁড়াল, সাথে করে দাঁড়াল ইরহাম। সে সতর্ক করল,”আমাকে নিয়ে মজা উড়াবি না, ইরহাম। জুতো দিয়ে পেটাব।
ইরহাম মুখ এমন ভাব তৈরি করল, নুসরাত যেন হাসির কিছু বলছে। হো হো করে হেসে উড়িয়ে দিল তআর কথা। রসিয়ে রসিয়ে আলাপ পারল,’”কীরে, গলায় দেখি স্টাম্প মেরেছিস? ছোট ভাইয়া, মেরেছে?
আহান আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসলো নুসরাতের দিকে একদম ঝুঁকে পড়ল দেখার জন্য। বাঁকানো গ্রীবা ধরে ইসরাত টেনে সোজা বানাল। নুসরাত খ্যাঁক করে উঠল,”অন্যের স্টাম্প দেখার এত শখ কেন, যা গিয়ে আমিরার গায়ে স্টাম্প মার। পরে মন ভরে আমিরার গায়ের স্টাম্প দেখিস।
আহান চোখ মুখ কুঁচকে অন্যদিকে তাকাল। শুধাল,”তোমাদের দু-জনের মুখে কিছু আটকায় না?
একসাথে উত্তর আসলো দু-জনের কাছ থেকে,”না!
ইসরাত এদের আগেভাগেই হাঁটা শুরু করল। কখন না জানি তার পেছনে পড়ে যায়। যেতে যেতে বিড়বিড় করল,”বেফাঁস একেকটা।
তার পালানো আর হয়ে উঠল না৷ তিনটাই এখন একসাথে মশার মতো ভনভন করতে করতে তার দিকে এগিয়ে আসছে। নুসরাত এসে গা ধাক্কা দিয়ে শুধাল,”কবে সুখবর পাচ্ছি?
ইসরাতের প্রশ্ন, “কীসের?
আহান হাত সামনে এনে দেখাল। ইসরাত ভ্রু কুঁচকাল। তাকে এমনভাবে তাকাতে দেখে নুসরাতই বলল,” বোনের মেয়ে কী হয় যেন রে ইরহাম?
ইরহাম কথা শেষ করে দিল,”বোনজি এর সুখবর কবে পাব?
ইসরাত মুখ ফিরিয়ে নিল। বলল,”বাদ দে ওসব কথা।
আহান বলল,”বাদ দিব কেন? ইম্পর্ট্যান্ট একটা আলোচনা, বাদ দেওয়া যায় কী!
ইরহাম দু-পাশে মাথা দোলাল। তারপর শুরু হলো সবার চাপাচাপি। তাদের চাপাচাপি আচানক থেমে গেল। সবাই সুরসুর করে সরে পড়ল ইসরাতকে রেখে ওখান থেকে। মেয়েটা বুঝতে পারল না কেন সবাই আগেভাগে তাকে রেখে চলে যাচ্ছে, তাই ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল। আর তখনই চোখাচোখি হলো জায়িনের সাথে। তার গায়ে জড়ানো লোয়ার নেক স্লিভলেস ট্যাঙ্ক টপ তার উপরে ওভারসাইজড হুডি কালো রঙের। ইসরাতের দৃষ্টি কয়েক সেকেন্ডের জন্য সামনের ব্যক্তির উপর থামলেও নিমেষেই তা সরিয়ে নিল সে। হাঁটা শুরু করল৷ সেকেন্ড কয়েক অতিবাহিত হতেই তার পাশ ঘেঁষে এসে দাঁড়াল জায়িন। চোখ দুটো সামনে স্থির। শুধাল,”সিদ্ধান্ত কী নিয়েছেন?
ইসরাত কথার উত্তর দিল না, হয়তো প্রয়োজন বোধ করল না। জায়িন কয়েক পল অপেক্ষা করল, আবারো শুধাল,”সিদ্ধান্ত কী নিয়েছেন? বলুন?
মাথা ঘুরিয়ে মেয়েটা তাকাল জায়িনের দিকে। বলল,”আপনি জানেন আমার সিদ্ধান্ত।
“না, জানি না! আপনার মুখ থেকে শুনতে চাচ্ছি। বলুন, কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
পায়ের গতি বাড়াল ইসরাত। তার সাথে তাল মিলিয়ে জায়িন ও বড় বড় পা ফেলল৷ বলল,” কী মনে করছেন? এভাবে পালালে আমার থেকে বেঁচে যাবেন? উত্তর দিন, আমার উত্তর চাই!
ইসরাত হঠাৎ থেমে গেল। মাথা তুলে তাকাল জায়িনের চোখের দিকে। বলল,”আপনার উত্তর চাই?
“হ্যাঁ!
“তাহলে শুনুন উত্তর, আমি আপনার সাথে কোথাও যেতে চাই না। এমনকি এই বৈবাহিক সম্পর্ক ও রাখতে চাই না। হয়েছে উত্তর?
জায়িন তাচ্ছিল্য করে হেসে ফেলল। তার হাসির শব্দ প্রতিধ্বনি হলো, তা আবার ফিরে আসলো। ইসরাতের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুটি করে বলল,”এত সহজে বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট করে দিবেন?
“হ্যাঁ দিব!
“ কীভাবে শুনি?
“যেভাবে এই পাঁচ বছর আপনার থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলাম।
জায়িন জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নিল। ঠোঁটের কোণে তীর্যক হাসি। ইসরাত তা দেখল, খুবই স্পষ্ট ভাবে দেখল। আঙুল দিয়ে যেন জায়িনের শ্লেষ মিশ্রিত হাসিটা কেউ তাকে বারবার দেখিয়ে দিল।
“তোমার কী মনে হয়, ইসরাত, তুমি চেয়েছ বলে এই পাঁচ বছর আমার থেকে দূরত্ব রাখতে পেরেছ?
ইসরাতের অবাক হয়ে তাকানোর মধ্যেই জায়িন ঝুঁকে এলো তার দিকে৷ গলা খাদে নামিয়ে হিসহিসিয়ে আওড়াল,”স্যরি টু সে ইসরাত, তোমার ধারণা পুরোপুরি ভ্রান্ত। তুমি চেয়েছ বলে এই দূরত্ব তৈরি হয়নি, আমি চেয়েছি বলে এই দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরাত হাসল একপেশে। বলল,”যান ধরে নিলাম আপনি চেয়েছেন বলে এই দূরত্বের সৃষ্টি, কিন্তু এখন কীভাবে এই দূরত্ব গুচাবেন?
“দূরত্ব কমাব আমি, তোমাকে এ কথা কে বলেছে?
“ তাহলে আপনি তা করবেন না। আমাকে ছেড়ে দিচ্ছেন?
প্রশ্নাত্মক কন্ঠ ইসরাতের। জায়িনের কন্ঠস্বর আরো ঝুঁকল। সে ঝুঁকে আসলো একদম কানের সান্নিধ্যে। বলল,”ইসরাত, আমার বোকা ইসরাত! তুমি আসলেই বোকা। তোমার কী মনে হয় আমি তোমাকে ছেড়ে দিব?
ইসরাতের চেহারার রঙ পাল্টাল। সেখানে প্রশ্নরা ভীর জমিয়েছে। বলল,”আমাকে ম্যানুপুলেট করছেন?
“ম্যানুপুলেট করলে এতক্ষণে তুমি আমার সাথে দেইদেই করে নাচতে নাচতে ফ্রান্স চলে যেতে।
ইসরাত মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইল, জায়িন তার চিবুক চেপে ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে আনল। বলল,” জানতে চাইবে না কীভাবে আবার নিজের করব?
“না!
“ শোনো, শুনলে তোমার গায়ের লোম অব্ধি কেঁপে উঠবে।
“শোনার প্রয়োজন বোধ করছি না৷ আপনার যা ইচ্ছে করুন।
জায়িন হেসে উঠল অশরীরির মতো, ইসরাতের মুখের সান্নিধ্যে। বলল,” তোমার কী মনে হয় আমি অনেক ভালো, ইসরাত? উঁহু, এই ভাবনা মনের কোণে একটুও রাখবে না। আমি মোটেও ভালো না। নিজের জিনিস নিজের করে নেওয়ার জন্য যতটা নিচে নামা যায় আমি ততটা নিচে নামি।
“তাহলে এতদিন ভালো মানুষির মুখোশ পড়ে ছিলেন?
“ উঁহু, আমি শুধু আমার একদিক তোমাকে দেখিয়েছি। পুরোটা দেখাইনি। তুমি ও দেখতে চাওনি।
“আমি এখনো দেখতে চাচ্ছি না।
“ কিন্তু তোমাকে দেখতে হবে। শোনো ইসরাত, চুপচাপ আমার সাথে ফ্রান্স চলো। নাহলে তুমি যা ভাবতে পারছ না আমার ব্যাপারে আমি তাই করব।
ইসরাত চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করল। জিজ্ঞেস করল,“ব্ল্যাকমেইল করবেন আপনি? আমাকে ব্ল্যাকমেইল করবেন?
ইসরাতের অবিশ্বাস্য কন্ঠস্বর। অবিশ্বাসে ভরা পুরো দৃষ্টি। বিস্ময় প্রকাশ করতে পারল না, সেজন্য মনে হলো চোখ দুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসবে। তার কথার মধ্যেই জায়িন হেসে উঠল। তার হাসির শব্দ যেন পরিবেশটা আরো বিষাক্ত করে তুলল। জায়িন বলল,”কীভাবে ব্ল্যাকমেইল করব জানতে চাও?
ইসরাত কথা বলার ভাষা পেল না, সে কী বলবে! জায়িন হাত বাড়িয়ে তার চুলের গোছা আঙুলে প্যাঁচাল। ঘৃণায় গা রিরি করে উঠল মেয়েটার।
“তোমার বাবার কাছে বসব। তার মেয়ের সাথে আমার বর্তমান সম্পর্ক কেমন তা বিস্তারিত জানাব। তুমি কীভাবে পাঁচ বছর আগে আমাকে জুতো পেটা করবে বলেছিলে তা পূঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বর্ণনা করব। আমাকে কীভাবে ফেলে এসেছিলে, পাঁচ বছর ধরে আমাদের সম্পর্ক কেমন, এবং আমাকে এখনো প্রত্যাখান করে চলেছ! অতঃপর বলব তুমি এখন আমার কাছ থেকে খোলা চেয়েছ৷ ভাবো, এরপর তোমার বাবার অবস্থা কেমন হবে? আমি বলতে চাচ্ছি না৷ তবুও একটা কথা বলি, শোনো! তোমার বাবা যে স্টেজের রোগী, সে স্টেজের রোগীদের সামান্য পরিমাণ কষ্টের খবর দিলে তারা সেসব সামলে উঠতে পারে না। আর এই মুহুর্তে আরশ আর নুসরাতের বিয়েতে উনি যে পরিমাণ খুশি, সেইসময় আমার মুখ থেকে কোনো আচানক খবর পেলে হার্ট অ্যাটাক করতে পারেন। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে!
ইসরাত চোখ দুটো রাগের লালিমায় ফেটে পড়ল। অদৃশ্য রক্ত মুখে ফুটল। চোখের শিরা উপশিরা লাল হতে দেখা গেল। সেখানে ঘৃণারা দলা পাঁকিয়েছে। কঠোর স্বর ভাসল,”তোমার বিন্দুমাত্র লজ্জা লাগছে না এসব বলতে? একটুও মনুষ্যত্ব বেঁচে নেই? তুমি পশু হয়ে গেছ। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিবিম্ব কী এখন দেখো? না দেখলে দেখবে, পশুর আকৃতি ভেসে উঠবে।
জায়িন নির্লজ্জের মতো হাসল। বলল,”তোমার ইচ্ছা শীরধার্য! আজই আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াব।
“তুমি কতটা নিচে নেমেছ, তুমি কী তা বুঝতে পারছ?
“তোমাকে নিজের করে নেওয়ার জন্য আমি আরো বেশি নিচে নামব, তুমি তার ধারণাও করতে পারবে না।
ইসরাত জায়িনের দিক থেকে অবহেলায় চোখ ফিরিয়ে নিল। সে বিশ্বাস করতে পারল না, একসময় এই লোককে সে পছন্দ করেছিল, এই লোকের আচরণ দেখে মুগ্ধ হয়েছিল৷ তার এখন বমি আসছে! সামনে দাঁড়ানো লোকটার গালে সপাটে একটা বসালে তার আরাম লাগত। কী পাষাণের মতো কথা! তোমাকে নিজের করে নেওয়ার জন্য আমি আরো বেশি নিচে নামব৷ ইসরাতের চেহারাটা কোনো রোগীর মতো মনে হলো। ফ্যাকাশে! রঙ উড়ে গিয়েছে। সেখানে কান্নারা জায়গা পায়নি, কিন্তু হৃদয়ের এক কোণে কষ্টরা দলা পাঁকিয়েছে।
ইসরাত জায়িনকে পেছনে রেখেই হাঁটা ধরল। তার চোখের সামনের দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে আসতে শুরু হয়েছে। কান্নারা এমনভাবে দলা পাঁকিয়েছে, যেন গলায় কিছু একটা প্যাঁচানো। কানে ভেসে আসছে দূর থেকে ইরহাম আর আহানের আলাপের স্বর। কিছু একটা নিয়ে কথা বলছে নিজেদের মধ্যে। সেসব ইসরাতের কানে আসলো না! তার কানের কাছে এখনো বাজছে,”তোমার বাবার কাছে বসব। তার মেয়ের সাথে আমার বর্তমান সম্পর্ক কেমন তা বিস্তারিত জানাব। তুমি কীভাবে পাঁচ বছর আগে আমাকে জুতো পেটা করবে বলেছিলে তা পূঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বর্ণনা করব। আমাকে কীভাবে ফেলে এসেছিলে, পাঁচ বছর ধরে আমাদের সম্পর্ক কেমন, এবং আমাকে এখনো প্রত্যাখান করে চলেছ! অতঃপর বলব তুমি এখন আমার কাছ থেকে খোলা চেয়েছ৷ ভাবো, এরপর তোমার বাবার অবস্থা কেমন হবে? আমি বলতে চাচ্ছি না৷ তবুও একটা কথা বলি, শোনো! তোমার বাবা যে স্টেজের রোগী, সে স্টেজের রোগীদের সামান্য পরিমাণ কষ্টের খবর দিলে তারা সেসব সামলে উঠতে পারে না। আর এই মুহুর্তে আরশ আর নুসরাতের বিয়েতে উনি যে পরিমাণ খুশি, সেইসময় আমার মুখ থেকে কোনো আচানক খবর পেলে হার্ট অ্যাটাক করতে পারেন। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে!
ইসরাত যতক্ষণে এসে দাঁড়াল নুসরাতের সামনে ততক্ষণে সে বুঝে ফেলল কী একটা হয়েছে ওখানে! দূর থেকে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে থাকল জায়িনের দিকে৷ তার তাকানোর ভেতর ইসরাত বলে বসল,”বাসায় ফিরে চল, শরীর ভালো লাগছে না৷
সকালের নাশতা করার জন্য সবাই বসেছে চেয়ারে। খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সবাই কিছু না কিছু আলাপ আলোচনা করছে৷ আমিরা এক কোণে জড়সড় হয়ে বসা। ইসরাতের অবস্থা খুব একটা সুবিধার না। জায়িন কথা বলা শুরু করল, গলা খাঁকারি দিয়ে,”কিছু বলার ছিল।
সবাই একসাথে তাকাল জায়িনের পানে। হেলাল সাহেব বললেন,”হ্যাঁ বলো!
“এ মাসের শেষে আমাদের ফ্রান্স ফিরে যেতে হবে। টিকেটের তারিখ আটাশ৷
জায়িনের কথায় লিপি বেগমের মনোক্ষুণ্ণ হলো। তিনি হয়তো দীর্ঘ দিন থাকতে চাইছিলেন, তাই বললেন,”এত তাড়াতাড়ি ফিরে যাব?
জায়িনের স্বাভাবিক স্বর,”হ্যাঁ! আমার অনেক কাজ পড়ে আছে। সেগুলো গিয়ে কমপ্লিট করতে হবে।
নাছির সাহেব বললেন,”বড় ভাই থাকতে চাইলে ডেট বাড়িয়ে ফেলুন।
হেলাল সাহেব বললেন,”না থাক, সেই তো যেতে হবে আজ যাই আর কাল যাই। থাকুক ওই ডেট!
জায়িন কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে বলল,”ওহ হ্যাঁ, ইসরাত ও এবার আমার সাথে যাচ্ছে। ওর সব ব্যবস্থা করে ফেলেছি।
হেলাল সাহেব ইসরাতের পানে তাকালেন। সে অন্যমনস্ক ভাবে খাবার খাচ্ছে৷ যেন এই ভুবনে নেই। ডুবে আছে অন্য চিন্তায়। ডাক দিলেন,”ইসরাত?
ইসরাত তাকাল না। সৌরভি হাত দিয়ে খোঁচা দিতেই সে নড়ে উঠল। কেঁপে উঠে তাকাল হেলাল সাহেবের দিকে। ভদ্রলোক শুধালেন,”শরীর খারাপ তোর?
সে দু-পাশে মাথা দোলাল। কিন্তু তার ভঙ্গিমা দেখলেই যে কেউ ভাববে সে অসুস্থ। হেলাল সাহেব জানতে চাইলেন,”আমাদের সাথে ফ্রান্স যেতে তোর কোনো আপত্তি আছে?
ইসরাত একবার জায়িনের চোখে তাকাল, তার দিকেই তাকিয়ে ছিল ওই লোকটা।তাই ঝটপট চোখ সরিয়ে নিল। শান্ত স্বরে বলল,”জ্বি না!
নাছির সাহেবের মুখে বিদ্বেষ ফুটে ওঠলেও কোনো কথা বললেন না। আরশ এবার বলল,”সবই বুঝলাম, কিন্তু নুসরাতকে রেখে চলে যাব কী? এত তাড়াতাড়ি সব হবে কীভাবে?
জায়িন বলল,”এই কয়েকদিনের ভেতর হলে তো ভালো, না হলে ওখানে গিয়ে চেষ্টা করবি। বেশি সময় লাগবে না, মাস দু-য়েক সময় লাগবে নুসরাতের যেতে।
নুসরাতের যাওয়া নিয়ে বিশেষ কোনো ভাবনা দেখা গেল না। ফ্রান্স যাওয়া নিয়ে আলাপ চলল অনেকক্ষণ, কিন্তু সেখানে ইসরাত থেকেও যেন নেই। নুসরাত শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল সবকিছু। বাক্য ব্যয় করল না। সবার আলাপ একসময় শেষ হলো ফ্রান্স নিয়ে। কথা গড়াল অন্যদিকে। আমিরা আর আহানের পড়াশোনা নিয়ে!
সময় কেটে চলেছে তার গতিতে। বুনো মেঘের মতো কখন যে সপ্তাহ কেটে মাস কেটে গেল তা কেউই টের পেল না। শীত শেষে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন শুরু হলো, তোড়জোড় করে। বসন্তের আগমনে কচি পাতা ফুটল গাছে। সবুজের সমরোহে ভরে উঠল। তখনো কী জায়িন ইসরাতের সম্পর্কের উন্নতি ঘটল। না, ঘটল না! দু-জন দু-জনের মতো আছে! কিন্তু যত করে জায়িনদের ফিরে যাওয়ার সময় গণিয়ে এলো ইসরাতের চেহারার রঙ যেন তত পাল্টাতে শুরু করল। এক সকালে জানা গেল আর তিনদিন পর তাদের ফিরে যাওয়ার ডেট। লিপি বেগম নিজের ব্যাগ পত্র পুরোদমে গুছাচ্ছেন। জায়িন এসে ইসরাতকে বলে দিল,’প্রয়োজনীয় জিনিস সব গুছিয়ে নাও। কোনো প্রকার ভ্রান্ত ধারণা রাখবে না, আমি তোমাকে এখানে রেখে যাব৷ প্রস্তুতি নাও।’
ইসরাতের মনের অবস্থা কী হলো তার পরোয়া করল না। দেখতে দেখতে তিনদিন ও কেটে গেল। ক্যালেন্ডারের পাতায় যেন কাটা পড়ল নিমেষেই দিনগুলো। ইসরাতের ইচ্ছে হলো সময় থামিয়ে দিতে, তা কী আর পারা যায়? সময় নিজের মতো চলমান, চলতেই থাকল।
আরমান আর অনিকার বিয়ের কথা আগিয়েছে। শাহেদ খান তাদের বিয়ে দিয়ে একদম ফিরবেন। মাহাদি ও থাকবে দেশে। মমোর সাথে বিয়ের কথাবার্তা চলছে। হেলাল সাহেবের ইচ্ছে ছিল একদম মমোর বিয়ে দিয়ে যাবেন। কিন্তু জায়িনের জন্য তাকে ও ফিরে যেতে হচ্ছে। আজ রাত আটটায় তাদের ফ্লাইট।
আরশ অনেক চেষ্টা করেছিল নুসরাতের জন্য। কিন্তু সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাই সে যাবে না। কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে তার পাসপোর্টে। আরো মাস তিনেক লাগবে ফ্রান্সে যেতে। আরশের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না, তবুও যে তাকে ফিরে যেতে হবে নিজ নীড়ে। মাগরিবের আজান হওয়ার পর সবাই নামাজ পড়ে রেডি হয়ে গেল। তাদের সি অফ করতে যাবেন নাজমিন বেগম, সোহেদ সাহেব, নুসরাত, ইরহাম আর আহান৷ নাছির সাহেব যাবেন না৷ তার শরীর ভালো নেই। নাজমিন বেগম যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি শেষ মুহুর্তে গেলেন না। বাড়ি থেকে বিদায় দিলেন মেয়েকে। ইসরাতের বিমর্ষ চেহারাটা দেখে ভাবলেন হয়তো দূরে যাচ্ছে তাই এমন হয়ে আছে চেহারা। তার মনের অভ্যন্তরীণ খবর কেউ নিল না, জানল না হৃদয়ে বয়ে চলা দোলাচাল। সবাই মিলে হাসি হাসি মুখে বিদায় দিল তাদের। রুহিনী বেগম ইসরাতকে বললেন,”বিদেশ ঘুরে ফেলছ, দেখছ তোমার কী ভাগ্য ইসরাত আম্মা!
রুহিনী বেগমের কথায় শুধু হাসল সে। জোর করে টেনে হাসা যাকে বলে। ঝর্ণা বেগম কপালে চুমু খেলেন। বললেন,”সবসময় হাসিখুশি থাকো, সুখী হও!
নুসরাত সবার শেষে আগাল। এসে জড়িয়ে ধরল তাকে বুকের সাথে। তার শুধু মনে হচ্ছে কিছু একটা ঠিক নেই। সে বুঝতে পারছে না ভেতরের কাহিনি! তবুও টু শব্দটি করল না। ইসরাতকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বলল,”আমি জানি না তোর কী হয়েছে, ইসরাত! বোন হিসেবে শুধু চাইব সুখী থাক! আমি জানি তোর কষ্ট হচ্ছে, যদি কষ্ট হয়, প্রকাশ করতে না পারিস তাহলে কেঁদে ফেল। যা কাঁদার এখনই কেঁদে ফেল। ভেতরে কষ্ট চেপে রাখলে তা আরো বাড়বে। নিজেই ধুঁকে ধুঁকে মরবি। আমি, আম্মা, আব্বা কেউ নেই সেখানে। কাঁদবি? কেঁদে ফেল! পরে আফসোস করবি। বুকের ভার কমাতে একটু কাঁদা উচিত তোর। আমি যাচ্ছি না তোর সাথে, ইসরাত! আমি জানি এতদিনে আমাদের মধ্যে অনেক বেশি দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। তবুও আমি চাই তুই কাঁদ, একটু হলেও কাঁদ। বুকের ভার একটু হলে তোর কমুক।
নুসরাতের এত কথার বিপরীতে ইসরাত তার কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল৷ চুপচাপ! কথা বলল না। এক সেকেন্ড, দু-সেকেন্ড, তিন সেকেন্ড কাটল। নীরবতা! রাতের মিহি বাতাস চারিদিক থেকে আসছে৷ সেই বাতাস গা জমিয়ে দেওয়ার মতো। ইসরাত সময় নিল, নিজেকে সময় দিল৷ অতঃপর শোনা গেল মেয়েটার কন্ঠস্বর। ভঙুর, কান্নামাখা, ,”আমি ওই লোককে কখনো ক্ষমা করব না৷ আমাদের সংসার হলেও আমি ওই লোককে কখনো ক্ষমা করব না। ও একটা ঘৃণ্য লোক, ও একটা মিথ্যুক। আমি বিশ্বাস করেছিলাম ওই লোককে। ও আমার বিশ্বাস ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে।
ইসরাত থামল। কথা বলতে তার বেগ পোহাতে হচ্ছে। কথারা গুলিয়ে যাচ্ছে বারবার,”আমার কেমন অনুভূতি হচ্ছে তোকে বলে বোঝাতে পারব না! গত পনেরো দিনে আমি যে কষ্ট সহ্য করেছি, তা কাউকে দেখালে কেউ সহ্য করতে পারবে না। নিজ হাতে আমাকে গলা টিপে মেরে ফেলবে। বলবে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরার তুলনায় আমি নিজ হাতে তোমাকে মেরে ফেলছি। মনে হচ্ছে কেউ আমার গলা চেপে ধরে হৃদয়ে বারবার ছুরির আঘাত করছে। বুকে কী তীক্ষ্ণ ব্যথা করছে, আমি বোঝাব তোকে কীভাবে! বিশ্বাস ভাঙার কষ্ট কী এমনই হয়? আমার বিশ্বাস, আমার ভালোবাসা, ও পায়ে পিষে ফেলেছে। এরপরও আমি সুখী হবো ওর সাথে, এটা তুই ভাবিস?
নুসরাত হাসল। বলল,”তবুও আমি চাইব, আমার বোকা বোনটা সুখী হোক। তার বিশ্বাস আবারো জোড়া লাগুক৷
দু-জনের কথার সমাপ্তি ঘটল সোহেদ সাহেবের তাড়া দেওয়ায়। গাড়িতে উঠে বসল ইসরাত। তার দৃষ্টি স্থির বাহিরের দৃশ্যপটে৷ গাড়ির কাচ ঘেঁষে সৃষ্ট দালানের প্রতিবিম্ব শূণ্য চোখে দেখল। গাড়ি সিলেট বিমানবন্দরে যেতে যেতে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট সময় লাগল। গাড়ি থেকে নামার পর দেখা গেল আরশ নুসরাতের কপালে চুমু খাচ্ছে। তারপর কোনো কথা ছাড়া দু-জন দু-জনকে বিদায় দিল। আরশ এয়ারপোর্টের ভেতর ঢোকে আবারো ফিরে আসলো। নুসরাতের কাছে ফিরে এসে বলল,”আমাকে বেশি করে মিস করিস। শীগ্রই আমাদের দেখা হবে।
প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৬৫
নুসরাত হাত নাড়িয়ে বিদায় জানাল আরশকে। ইসরাত শেষবারের মতো নুসরাতকে জড়িয়ে ধরল। দু-বোন নিশ্চুপ জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে রইল। হেলাল সাহেব বললেন,”লেইট হয়ে যাচ্ছে ইসরাত, চলো!
হেলাল সাহেব হাঁটা ধরলেন সামনে। ইসরাতকে দেখা গেল লাগেজ টেনে জায়িনের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। গায়ে জড়ানো ব্রাউন কালার ওভার কোট। ওয়াইড লেগ জিন্স, আর স্কিনি টি-শার্ট। যেতে যেতে গ্লাসের ওপার হতে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল, অক্ষিগত হলো নুসরাতের হাস্যজ্জ্বল মুখ। হাত নাড়িয়ে তাকে বিদায় জানাচ্ছে। ইসরাত পেছনে তাকিয়ে হাঁটল সম্মুখে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের অবয়ব দেখা গেল ততক্ষণ পর্যন্ত তাকিয়ে রইল নির্মিশেষ। কেউ দেখল না, তার চোখের এক কোণে অবহেলায় জমা হওয়া পানির চিহ্ন, কেউ তা খেয়াল করল না।
‘মে মাসের আট তারিখ সিলেট সেন্ট্রাল জেলে নাহিয়ান আবরার পূর্বের ফাঁসি হয়।’
