Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯১ (২)

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯১ (২)

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯১ (২)
সাইয়্যারা খান

তৌসিফ, পৌষ দুজনেই ভেবেছিলো টুইন প্রেগন্যান্সির কথাটা চেপে যাবে তারা। যখন হবে তখন সবাই উত্তেজিত হয়ে যাবে কিন্তু তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে তুহিন তালুকদার। যখনই শুনেছে আলট্রা শেষ তখন রিপোর্ট সে নিজে কালেক্ট করেছে। খতিয়ে দেখেছে ভেতরের প্রতিটি অক্ষর। নিচ দিকে নীল রঙের কালিতে লিখা টুইন প্রেগন্যান্সি শব্দটা দেখা মাত্রই কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে ছিলো সে অতঃপর শুরু হয়েছিলো তার পা’গলামো। রিপোর্ট হাতে প্রাপ্তবয়স্ক তুহিন লাফিয়ে উঠেছিলো, গলা ভেদ করে এসেছিলো তার আনন্দ চিৎকার। নিতান্তই ফ্লোর খালি ছিলো নাহয় আঁতকে উঠতো সকলে। দুই চারজন নার্স বড় বড় চোখে তাকিয়ে ছিলো। ডক্টর মিতা তৌসিফের দিকে তাকিয়ে চাপা স্বরে বলছিলেন,

“ওকে থামাও তৌসিফ। ইটস অ্যা হসপিটাল।”
তুহিন থামবে? তৌসিফ তাকে থামতে দুইবার তো নিষেধও করলো অথচ শুনলো নাকি তুহিন? সে আদিত্যকে হুট করে কাঁধে চেপে তুলে ফেললো। সেদিন যেন আদিত্যও বেজায় সাথে ছিলো তুহিনের। পৌষ কপালে হাত চেপে বসে ছিলো শুধু। এই তুহিন এমন করছে কেন? পৌষের তো ইচ্ছে করছিলো ঠাটিয়ে একটা মেরে ওকে ঠান্ডা করতে। কান তব্দা লাগিয়ে চেঁচিয়ে বলতে,
“শয়তানের শিরোমণি তুহিন, তুই শান্ত থাক।”

আফসোস পৌষ এই কথা বলতে পারে নি। সুযোগটাও পায় নি। সেদিন থেকে বরং তুহিনের অত্যাচারের মাত্রা বেড়েছে। কপাল গুনে এমন শশুর বাড়ী পেয়েছে পৌষ। শাশুড়ীহীনা শশুর বাড়ীতে তার দেবড়ই একশত।
তালুকদার বাড়ীর এই বাগানটাই ইদানীং পৌষের শ্বাসপ্রশ্বাসের একমাত্র উৎস। ঘরের ভেতর দম আটকে আটকে আসে। পৌষের অজানা নয় তৌসিফ ব্যাস্ত মানুষ। ব্যাবসা একটা হলে নাহয় কথা ছিলো। একা হাতে বেচারা কত দিক সামলায়। নতুন দায়িত্ব জুটেছে তার কপালে। জুটেনি অবশ্য, তৌসিফ নিজে জুটিয়েছে। রোজ বিকেল নাগাদ পৌষকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়। আজও তার ব্যাতিক্রম হয় নি। পৌষকে নিয়ে এসেছে তৌসিফ। পরণে লম্বা ফ্রক। তৌসিফের জ্বালা এখানে শেষ হলেও পারতো কিন্তু তাকে জ্বালাতে তার পৌষরাতের রূপরঙ খুলেছে। তৌসিফ নিজেই দেখে আর ঢোক গিলে গিলে শান্ত থাকে। কাউকে দেখতে দিতে মন চায় না। মন চায় ঢেকেঢুকে রেখে দিতে। বুকের ভেতর পুরে রাখতে। চোখের পলকে বসিয়ে রাখতে। এই রূপ লুকাতেই তৌসিফ ইয়া বড় ঘোমটা দিয়ে আনে পৌষকে। এই দিকে কেউ আসে না বিকেলে। তৌসিফ পৌষের হাত ধরে ধরে হাঁটা-চলা করাচ্ছে। নরম ঘাস মাড়িয়ে যাচ্ছে তার বউ অথচ তৌসিফ তাতেও খুব সতর্ক থাকছে। একটু পরই মিনু খেতে আনবে কিছু। আজ-কাল এমনটাই হয়ে আসছে। হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতেই পৌষ প্রশ্ন করলো,

“আচ্ছা, শাহরিয়ার ভাইজান কেমন আছেন? আপনি দেখতে যান ওখানে?”
“কেন জিজ্ঞেস করছো?”
“কৌতুহল জাগলো।”
“তোমাকে না বলেছি ওসব না ভাবতে।”
“মানুষ কি নিজের ভাবনা আটকে রাখতে পারে? ভাবনা তো চলে আসে একা একা।”
“ভাবনাকে বলবে তোমার বর তাকে আসতে না করেছে।”
“ঠিক আছে।”
দু’জন আরেকটু হাঁটলো। তৌসিফ আপনা থেকে জিজ্ঞেস করলো,
“রাগ করলে?”
“উঁহু।”
“তাহলে চুপ করে গেলে যে?”
“ভাবছি সম্রাট চেয়ারম্যান… ”
“ওহ প্লীজ পৌষরাত! আবারও ভাইজান!”

“ধুরু মিয়া৷ কথা শুনুন। বলছি, সম্রাট চেয়ারম্যান থাকলে তো শাহরিয়ার ভাইজানের এই দশা হতো না৷ আপনারা তো ওনার ভাই হন। ডক্টর দেখান তাকে। তার একটা সুস্থ জীবন প্রয়োজন।”
তৌসিফ দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। বললো,
“তাহমিনা আপা করাচ্ছেন চিকিৎসা। কাজ হচ্ছে না।”
“দেশের বাইরে নিক। টাকার কি অভাব?”
“তার ভাই সে না নিলে আমি তৌসিফ কে?”
“যাহ্, ছাই।”
“এসব ছাড়ো অন্য কথা বলো। এই ধরো, একটু রোম্যান্টিক কথাবার্তা।”
“ইশ রে ব্যাটার কুরকুরানি উঠেছে। রোম্যান্টিক কথা শুনতে মন চায়। কি বলব? উম্মা, চুম্মা?”
তৌসিফের মুখটা একদম দেখার মতো হলো। সে বউয়ের উপর কথা বলা ছেড়ে দিয়েছে তাই তো মুখে আঠা লাগিয়ে চুপ রইলো। পৌষের হাসি ওর কানে সুরেলা লাগছে। আচ্ছা, তার পৌষরাতটা আজকাল বেশিই চোখে লাগছে। নজর লাগবে না তো?
পৌষ দাবি করলো,

“দোলনা চড়ব। ছাদে চলুন।”
“আজ বাগান হেঁটেছো পৌষরাত। কাল ছাদে নিব।”
“আমি আজই যাব।”
“কথা শুনো তোতাপাখি।”
“অবশ্যই শুনব। আমি তো বয়রা না।”
তৌসিফ কথা বাড়ালো না। এমনিতেই চিন্তা হচ্ছে। পৌষের কোন টিকা দেওয়া নেই। এসব টিকা তো আঠারো-উনিশে দিয়ে রাখে সকলে। পৌষকে কেউ জোর করে দেওয়াতে পারে নি। হেমন্ত পরবর্তীতে নিতান্তই ভুলে গিয়েছে। ছেলেটা খুব অপরাধী ভাবছে নিজেকে অথচ তার দোষ নেই। পৌষই দিতে যায় নি। সে না যাওয়ার পেছনেও কারণ ছিলো। সুই দিলে হাত প্রচুর ব্যথা হতো। ব্যথা হাতে কাজ করা যেতো না। চাচিরা নিশ্চিত তাকে টিকা দেওয়ার জন্য কাজের ছুটি দিতো না।
ডক্টর বলেছে টিকাগুলো দিতে। পৌষ কি ভয় পাবে, ওর থেকে বেশি ভয় তো তৌসিফ নিজেই পাচ্ছে।
নিজ বাহুতে আগলে নিলো তৌসিফ ওকে। ধীরে ধীরে পথ ধরলো বাড়ীর।

সবে মাত্র তুহিন উপরে উঠেছিলো। নিজের রুমে ঢুকে কিছু কাগজপত্র ঘেটে টনিকে দুটো পেপার দিয়ে বললো,
“এগুলো অফিসে দিয়ে এসো। আমি রাতে কথা বলব।”
“ঠিক আছে বস।”
টনি চলে যেতেই তুহিন কলিকে উদ্দেশ্য করে পানি চাইলো। তুহিন বসলো সোফায়। বরাবর মেইন দরজাটা সামান্য খোলা। টনি মাত্রই বেরিয়ে গিয়েছে। কলি দরজা লাগানোর সুযোগ পায় নি। তুহিন ফোনটা বের করে আরেকটু গা এলিয়ে দিলো। এসির টেম্পারেচার কেউ নামিয়ে রেখেছে। ভালোই ঠান্ডা লাগছে। বাম গালে হাত দিয়ে দাঁড়ি চুলকে তুহিন ফোনে মনোযোগ দিলো। তার পাশে বিড়াল পায়ে এসেছে পলক। কখন বসেছে তুহিন টের পায় নি। কলি পানি আনায় তুহিন দেখলো পাশে পলক বসা। গ্লাস নিয়ে দুই ঢোক পানি পান করলো তুহিন। কলি ততক্ষণে চলে গিয়েছে। দরজাটা খোলা এখনও। তুহিন এক পলক ওখানে তাকিয়ে পরপর পলকের দিকে মুখ ঘুরালো। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,

“কিছু বলবে পলক? মুখটা কালো দেখাচ্ছে কেন?”
“তোমাকে কিছু বলার ছিলো আমার।”
“হ্যাঁ, বলো।”
তুহিন যেন আরেকটু মনোযোগী হলো পলকে। এতটাই গুরুত্ব দিলো যে নিজের হাতের ফোনটা পাশে রাখলো। পলক তুহিনের দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। তার নেত্রপল্লবে লুকিয়ে অনুরাগী জলছাপ। তুহিন খানিক বিভ্রান্ত হলো। পলকের হাত ধরে বললো,
“কিছু হয়েছে? শরীর খারাপ লাগছে জান?”
“জান ডাকো আমাকে অথচ নিজের জানপ্রাণ উজাড় করে দিচ্ছো অন্য নারীর পেছনে।”
তুহিনের সুন্দর মুখশ্রীতে মূহুর্তেই অবাকতা দেখা গেলো পরপর সে বুঝলো পলকের ইঙ্গিত। চোয়াল শক্ত হলেও তুহিন ভ্রুঁ নাচালো। তাকালো গভীর দৃষ্টিতে। পলক ওর চাহনি দেখে ঢোক গিললেও নিজেকে শক্ত রাখলো। তুহিন কায়দা করে পলকের হাতটা ধরলো। বললো,
“জানপ্রাণ যেহেতু আমার সেহেতু কার পেছনে উজাড় করব সেটা নিতান্তই আমার বিষয়।”
“তাই বলে ঘরে বউ রেখে ভাই বউয়ের পিছু ঘুরবে?”
“কি বলতে চাইছো?”

তুহিন ক্রমশ ধৈর্যহারা হচ্ছে। নিজেকে যথাসম্ভব সামলে প্রশ্নটা করেছে। পলক যেন ভয় পেলেও চুপ থাকলো না। বরং বলে ফেললো ভেতরের লুকায়িত কথা যা শোনা তুহিনের কাম্য ছিলো না।
“কি বলতে চাইছি বুঝতে পারছো না তুমি? বুঝার তো কথা তুহিন।”
ওকে ঝাড়া দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো তুহিন। পলকও দাঁড়িয়ে গেলো সাথে সাথে। তুহিন চোয়াল শক্ত করে বললো,
“মুখ সামলে কথা বলবে পলক।”

“আর কত? আর কত সামলে কথা বলব আমি? এতবছর শুনে এলাম সব আমার বোনের দোষ। মেঝ ভাইয়া না থাকায় সে তুষারের সাথে প্রেম করেছে। প্রেম করে তারা ভেগেও গিয়েছে। দোষ কি করেছে? কোন মেয়ে এমন জীবন চাইবে যেখানে তার হবু বর দিনের পর দিন এদিক ওদিক লুকিয়ে থাকে। ঘরে যাকে পাওয়াই যাবে না তার কাছে কেন থাকবে? আমার বোনকে *শ্যা ডেকেছিলে তুমি এখন পৌষকে কি ডাকবে? দিনে পারলে তিনবেলা নিয়ম করে ওর হাতের খাবার খাও৷ যখন তখন ওখানে গিয়ে পড়ে থাকো। হসপিটালে ওকে মেঝ ভাইয়াই তো নিতে পারে, তোমার এত কি ওখানে? পৌষের আগেপাছে ঘুরঘুর কেন করতে থাকো তুমি? ওর বাচ্চা হবে তাতে তোমার কি? তুমি কেন এত যাবে ওর কাছে? কি আছে ওর মাঝে? আর ঘেঁষাঘেঁষি কিসের? আর ওর বাচ্চা হলেই বা তোমার কি? আমার তো সন্দেহ হচ্ছে তুহিন, হাজার হোক র’ক্ত তো এক বংশের। তুষার ভাইয়া যদি ভাইয়ের হবু বউয়ের সাথে প্রেম করতে পারে তাহলে তুমি কেন পারবে না? আমার তো মেঝ ভাইয়ার জন্য আফসোস হচ্ছে। যাকেই…

পলক থেমে গেলো। তীব্র এক চড় এক উড়ে এসেছে লেগেছে ওর গালে। পরপর আরো দুটো চড়ে পলক ছিটকে পড়লো সোফায়। কাঁদলো না পলক। রাগে ফুঁসলো আরো। তুহিন তেড়ে যেতে নিলেই মুখ বরাবর কাচের দেওয়ালে স্পষ্ট এক নারীমূর্তি দেখলো। এহেন দৃশ্যে তুহিন জমে গেলো। তার শরীর মৃদু কেঁপে উঠলো। তুহিন ভয় পেয়ে গেলো হঠাৎ। ‘পৌষ’, পৌষ এখানে কিভাবে এলো? ঐ তো কাচের মধ্যে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ওর অবয়ব। তুহিন ঢোক গিলে ফিরে তাকালো। সিঁড়ির রেলিং ধরে এক হাত পেটে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পৌষ। কোথায় যাচ্ছিলো মেয়েটা? ছাদে? হবে হয়তো। তুহিন ভীতু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। পা দুটো যেন জমে গিয়েছে মেঝেতে। নড়ছেই না।
তখনই দেখলো তৌসিফ পানির বোতল হাতে দৌড়ে উঠে আসছে। হ্যাঁ, তারা ছাদেই যাচ্ছে। তৌসিফ অবশ্য ওকে একা রেখে যায় নি। ঐ তো পাশে মিনু দাঁড়িয়ে। তৌসিফ পানিটা এনেই পৌষকে পেছন থেকে ধরে বললো,

“চলো এবার। আস্তে আস্তে পা ফেলবে হানি।”
পৌষ তুহিন থেকে দৃষ্টি সরালো। তৌসিফের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ঘরে যাব।”
“মাত্রই না ছাদে যেতে চাইলে? দোলনা চড়বে না?”
“উঁহু। আমি রুমে যাব।”
তৌসিফ দ্বিরুক্তি করলো না। তুহিনকে নিজ ফ্ল্যাটে দন্ডায়মান দেখে শুধু বললো,
“রাতে অফিসে নামিস তো। জমির কাজ আছে একটু।”
তুহিন কিছুই বললো না। ওর শুধু মনে হলো ওর কলিজার অর্ধেক কেউ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
তৌসিফ অতশত খেয়াল করলো না। সে পৌষকে ধীরে ধীরে এক তলা নামিয়ে নিলো। পৌষ সোজা নিজের রুমে ঢুকলো। খাটে বসলো পা ঝুলিয়ে। তৌসিফ পানি ধরলো ওর মুখের সামনে। খুব আদুরে স্বরে বললো,
“একটু পানি খাও।”
পৌষ চুপচাপ মুখে দিলো। তৌসিফ উঠতে নিলেই পৌষ আটকালো। খুব অনুনয় শোনালো ওর কণ্ঠে,
“আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবেন?”
“খারাপ লাগছে হানি?”

তৌসিফ আতঙ্কিত স্বরে বলতে বলতে নিজের বুকে জড়ালো পৌষকে। পৌষ আরাম খুঁজতে চাইলো ঐ বুকে। একটু শান্তি পেতে মরিয়া হয়ে উঠলো। জীবনে তৌসিফ এলো তবুও সে আকারইঙ্গিতে সেই ঘুরেফিরে চরিত্র নিয়েই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এর কারণটা কি? শুধু মাত্র পৌষই কেন? সেই ছোট থেকে আজ অব্দি কেউ কোনদিন বলতে পারবে না পৌষ প্রেম করেছে। কেউ বলতে পারবে না উমুক ছেলে নিয়ে পৌষ ঘুরেছে অথচ পৌষ শুধু লাঞ্ছনাই পেয়ে গেলো যা আজও বহমান।
সেই ক্লাস ওয়ানে থাকতে একটা ছেলে বাচ্চা ওর পিছুপিছু গেট পর্যন্ত এসেছিলো। সেঝ চাচি সেদিন বোধহয় প্রথম বলেছিলো,
“এই বয়সেই পেছনে ছেলে ঘুরায়, আর তো দিন পড়েই আছে।”

ছোট্ট একটা বাচ্চাকে একথা বলতে তার মোটেও দ্বিধা হয় নি। পৌষ তখন অত না বুঝলেও খারাপ তো বুঝেছিলো। আজও মনে আছে সেই ভৎসনা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হেমন্তকে নিয়ে কটু কথা, নোংরা ইঙ্গিত যেন বেড়েই চলছিলো। শেষমেষ তো চৈত্র, জৈষ্ঠ্যও ছাড় পেলো না। পৌষকে যে কত ইঙ্গিতে কথা বলা হতো তা কোনদিন প্রকাশ করে নি পৌষ। এই যে আজ তৌসিফের বুকে পড়ে অতীত ভাবছে। এই তৌসিফও তার সাথে ঘটা এক ঘটনারই ফলাফল। পৌষ তো ভেবেই নিয়েছিলো তার চরিত্রে দোষ ধরার দিন বুঝি ফুরালো কিন্তু তিশা তো বিয়ের পরই আদিত্যকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেললো। আর আজ প্রশ্ন না সরাসরি তুহিনের সাথে পৌষকে জড়িয়ে ফেলেছিলো পলক। ঘুরেফিরে সেই এক চরিত্র নিয়েই টান দেয় সবাই কিন্তু কেন? পৌষ তো খারাপ মেয়ে না। তৌসিফের বুকে থেকেই মন চাইলো চিৎকার করে বলতে, “আমি চরিত্রহীন না৷ আমার চরিত্র নিয়ে বলো না৷ আমি কষ্ট পাই। আমি শক্ত দেখালেও ভেতরে মাটিরই গড়া তোমাদের মতো। আমাকে এভাবে বলো না। এখন তো আমি মা হব। আমার দুটো কুটু পাখি আছে এ পেটে। ওদের জড়িয়ে অন্তত কিছু বলো না। ওরা নিস্পাপ।”

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯১

অথচ পৌষ মুখে কিছুই বলতে পারলো না। তৌসিফের বুকে শুধু কাতরেই গেলো। তৌসিফ ধীরে ধীরে হাত বুলাচ্ছে ওর মাথায়। বেশ খানিকটা সময় ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
“আমার তোতাপাখি কথা বলে না কেন?”
পৌষ কিছু বলার আগেই ধুপধাপ শব্দ হলো ওদের দরজায়। পৌষ শক্ত হয়ে বসে রইলো। তৌসিফ কপাল কুঁচকে তাকালো। দরজা যেন ভেঙে ফেলবে কেউ।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯২