সুইটহার্ট পর্ব ২০
মোনালিসা মেহরোজ
পরদিন সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠলো এমেরাল্ড ক্রেস্ট রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা-এর পুরো এলাকা। সকাল গড়াতেই একের পর এক দামি গাড়ি এসে থামতে লাগলো রিসোর্টের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে। নামি-দামি ব্যবসায়ী, আত্মীয়-স্বজন, পরিবারের ঘনিষ্ঠজন—এক এক করে পরিচিত মুখে ভরে উঠলো পুরো রিসোর্ট।
চৌধুরী, তালুকদার এবং শেখ পরিবারের যেসব আত্মীয় আগেরদিন আসতে পারেননি, তারাও সকাল থেকেই উপস্থিত হতে শুরু করেছেন। কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাতে, কেউবা ছুটছেন বিয়ের আয়োজনের দিকে। রিসোর্টের লনে তখন সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। লাল আর সাদা ফুলে তৈরি হচ্ছে বিশাল মঞ্চ। চারপাশে ঝুলছে ফেয়ারি লাইট। কোথাও ফটোগ্রাফারদের আনাগোনা, কোথাও ক্যামেরার ফ্ল্যাশ। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, কোনো বড়সড় রাজকীয় আয়োজন বসেছে সেখানে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার আগেই মেহরিনের ঘরেও শুরু হয়ে গেলো সাজসজ্জার ব্যস্ততা। পাশের শহর থেকে বিশেষভাবে ডেকে আনা পার্লারের লোকজন এসে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে মেহরিনকে সাজিয়ে দিয়ে গেছে। চুল, মেকআপ, গয়না—সবকিছুতেই ছিলো নিখুঁত ছোঁয়া।
অথচ এত আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু যে মেয়েটা—তার মুখে যেন কোনো অনুভূতিই নেই! সাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই আয়নার সামনে বসে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে আছে মেহরিন। পরনে বিয়ের জন্য পড়ানো লাল টুকটুকে ভারী লেহেঙ্গা, চুলে নিখুঁত সাজ, কানে ঝুলছে ঝুমকা। রমণীকে দেখতে অপূর্ব লাগছে।
কিন্তু তার মুখ একদম নির্লিপ্ত। যেন তার জীবনে আজ কিছুই ঘটছে না। বরং হাতে ধরা আইসক্রিমের কাপ থেকে চামচে করে একের পর এক আইসক্রিম তুলে বেশ আয়েশ করে খেয়ে চলেছে সে। ঠিক তখনই দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো শিফা। ভারী লেহেঙ্গা পরণে। চুলগুলো ছেড়ে দেওয়া। মুখে হালকা মেকআপের আস্তরণ। আর বারবার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় বেশ বিরক্ত হচ্ছে সে। একহাতে ফোন ধরে অন্যহাতে লেহেঙ্গা টেনে ধরলো। অতঃপর ধীর পায়ে কনের ঘরে পা রাখলো। আর ভেতরে প্রবেশ করে মেহরিনকে দেখেই কয়েক সেকেন্ড থমকে দাঁড়িয়ে রইলো মেয়েটা। বিস্ফারিত চোখে তাকালো মেহরিনের হাতে থাকা আইসক্রিমের দিকে।
—তুই আইসক্রিম খাচ্ছিস?
মেহরিন চোখ না তুলেই উত্তর দিলো—
—হুম।
—আজকে?
—হুম।
—মানে… আজকে তোর বিয়ে ইয়ার?
—জানি।
—তারপরও তোর কোনো টেনশন হচ্ছে না?
মেহরিন এবার চামচটা মুখে পুরে ধীরে ধীরে চিবোতে লাগলো।
—কেন হবে?
শিফা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো। দু’পা এগিয়ে এসে আশ্চর্য কন্ঠে আওড়ালো—-
—কারণ আজকে তোর বিয়ে। কয়েক মুহূর্ত বাদে অভ্রের সাথে জুড়ে যাবি তুই। নতুন জীবন নিয়ে একটুও আশংকা হচ্ছে না তোর মনে?
মেহরিন এবার একেবারে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আইসক্রিমের কাপটা নেড়ে বললো—
—না হচ্ছে না।
—মেহু!
শিফা প্রায় চিৎকার করে উঠলো। দু’পা এগিয়ে তড়িঘড়ি করে মেহরিনের হাত থেকে ছো মেরে আইসক্রিমটা নিয়ে নিলো। এতে ক্ষু্দ্ধ হলো মেহরিন। তবে কিছু না বলে মনোযোগ দিলো নিজের হাতের চুরির দিকে। মুখটা তার নির্লিপ্ততায় ছেয়ে আছে।
—তুই কি সত্যিই স্বাভাবিক আছিস?
মেহরিন ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
—কেন? আমাকে অস্বাভাবিক লাগছে?
শিফা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো। কাল সারাদিন মেয়েটার মুখ শুকনো ছিলো। একটা কথাও বলেনি। আর আজ হুট করে মেহরিন এমন অদ্ভুত আচরণ করছে কেন? সে কি অতি শোকে পাথর হয়ে গেছে? শিফা শুকনো ঢোক গিলে অসহায় নয়নে মেহরিনের পানে চাইলো। কাল দেখে মনে হলো মেহরিন এই বিয়ে করতে চায় না। অথচ আজ!
—হ্যাঁ। প্রচণ্ড অস্বাভাবিক লাগছে তোকে।
মেহরিন আবারও চুরিতে মন দিলো তার কথায় কান না দিয়ে। শিফা তার পাশে বসলো ধপ করে। মেহরিন আড়চোখে তাকায়।
—আচ্ছা, তুই কি এই বিয়েতে খুশি?
—নাহ্।
মেহরিনের চটপট জবাব। গলায় কোন দ্বিধা ছিলো না। কি অকপটে বললো সে কথাখানা! শিফা ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইলো বান্ধবীর পানে।
—তাহলে এই বিয়ে করছিস কেনো?
মেহরিন ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো। শিফার গাল টেনে বললো—-
—প্রথমে ভাগ্যকে মেনে বিয়ে করছিলাম। তবে এখন চুপ আছি কারণ আমার মনে হয়না এই বিয়েটা হবে।
শিফা হতভম্ব, হতবিহ্বল। চোখজোড়া বড়বড় হয়ে এলো রমণীর। বিয়ে হবে না মানে? কি বলছে মেহরিন?
—কি বলছিস এসব?
—ঠিক-ই বলছে। ১০০ পার্সেন্ট সিউর নয়, বাট ৯৯ পার্সেন্ট সিউর।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে বেশ খুঁতিয়ে খুঁতিয়ে দেখছিলো আদ্রিয়ান। পরণে শেরওয়ানি, বিছানার উপর রাখা আছে পাগড়ি। হাতে কালো বেল্টের ঘরি। চুলগুলো সেট করা জেল দিয়ে। মুখে চিরচেনা তীব্র আত্নবিশ্বাসীর ছাপ সুস্পষ্ট। চোখের কোণে অদ্ভুত দৃঢ়তা ভাসমান যুবকের। চওড়া কাঁধ শেরওয়ানির উপর দিয়ে ফুটে জানান দিচ্ছে নিজের গাঢ় উপস্থিতি। চারিদিকে পারফিউম-এর মৃদু সুভাস ভেসে বেড়াচ্ছে।
আদ্রিয়ান ঠোঁটের কোণায় এক চিমটি বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুললো। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। সাথে শুরু হতে যাচ্ছে তার জীবনের নতুন এক অধ্যায়। আদ্রিয়ান হাসে। চোখ ঘোরায় ঘরির পানে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ঘরির কাটার পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আপনমনে আওড়ায়—
—ওয়ান…..টু….থ
থ্রি-র ঘর উচ্চারণ করার সময় পেলো না যুবক। তার আগে-ই দরজায় ঠকঠক আওয়াজ হলো। ওপাশ থেকে ভেসে এলো কারো পুরুষালী গলা। আদ্রিয়ান ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো।
—খোলা আছে, কাম ইন।
বলেই ফের নজর দিলো আয়নার পানে। ওপাশ হতে দরজা ঠেলে ভেতরে এলো অভ্র তালুকদার। তার পরণেও আদ্রিয়ানের মতো সাজসজ্জা। পিছুপিছু বাঁকা হেঁসে প্রবেশ করলেন নাজমা তালুকদার। আদ্রিয়ান আয়নায় তাদের প্রতিবিম্ব লক্ষ করে। তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে ক্রুর হাসি ফুটে উঠে।
—কি ব্যাপার? ফুফু আর বড় ভাই দেখি এই অধমের ঘরে! দোয়া দিতে এলে না-কি ফুফি-মা। তা, এতো কষ্ট করে আসার দরকার ছিলো না তো! আমিই যেতাম আপনাদের পায়ের ধুলো নিতে।
চোখমুখ কুঁচকালেন নাজমা তালুকদার।
—শাট আপ আদ্রিয়ান৷ এসব অ্যাদিখেত্যা ছাড়ো।
—ওমা! এমন বললে কেনো ফুফি? তোমার একমাত্র ভাইপো আমি। আজ আমার বিয়ে আর দোয়া চাইবো না?
আদ্রিয়ান আয়নার সামনে থেকে সরে এলো। অভ্র কথা বললো না। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে গিয়ে বিছানায় পা এলিয়ে বসলো। নাজমা তালুকদার বিরক্তিতে চোখ ফিরিয়ে নিলেন।
—নাটক বন্ধ করে এটা বল। কি প্ল্যান করলি সারারাত?
অভ্রের কথায় আদ্রিয়ান ভ্রু উঁচু করলো। অবাক হওয়ার ভান করে দু’পা এগিয়ে এনে কপালে আঙুল স্লাইড করতে করতে আওড়ালো—-
—প্ল্যান? কিসের প্ল্যান বড় ভাই?
অভ্র হাসলো। ঠোঁট জুড়ে ফুটে উঠলো চওড়া হাসি। বসা হতে উঠে আদ্রিয়ানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পরলো। হাত তুলে কলার ঠিক করে দিতে দিতে আওড়ালো—-
—এতো ড্রামাবাজি কোথায় শিখলো আমার ভাইটা?
আদ্রিয়ান মাথার চুলে হাত দিয়ে চমৎকার হাসলো।
—বড় ভাইয়ের কাছ থেকে।
—তোর এসব ফালতু কথা রাখ। এসব বা*লের আলাপ করার জন্য এখানে আসিনি আমি। কাজের কথায় আয়।
তীব্র বিরক্তিতে নাক-কান কুঁচকে কথাখানা বললো অভ্র। আদ্রিয়ান পাত্তা দিলো না। শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মাত্র। অভ্র মায়ের দিকে হাত বাড়লো আদ্রিয়ানের দিকে দৃষ্টি স্থির রেখে। নাজমা তালুকদার হেঁসে শাড়ীর আড়াল হতে একখানা কাগজ বের করে দিলেন। অভ্র তা হাতে নিয়ে একটা কলমসহ আদ্রিয়ানের দিকে বাড়িয়ে দিলো। চওড়া হেঁসে আওড়ালো—-
—নে, সাইনটা করে দে।
আদ্রিয়ান হাত বাড়িয়ে কাগজটা নিয়ে নিলো। কাগজে নজর বুলিয়ে ভ্রু কুঁচকে নিলো সে। এটা সেই জমির কাগজ, যেটার পিছনে নাজমা তালুকদার আঠার ন্যায় পরে আছে। এখন এখানে তার সাইন নিয়ে জমিটা নিজের নামে করতে চাইছে? আদ্রিয়ান মনে মনে ক্রুর হাসলো।
—কেনো সাইন করবো?
অভ্র তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানের পানে চেয়ে আওড়ালো—–
—কেনো করবি না? নিজের ভালোবাসার উপর একটুও মায়া নেই তোর?
আদ্রিয়ান ভ্রু জোড়া আড়াআড়ি করে নিলো। নাজমা তালুকদারের পানে এক পলক তাকিয়ে আওড়ালো—-
—থাকবে না কেনো? সারা বেবিকে তো আমি ভালোবাসি। আর তাই জন্যই তো বিয়ে করতে যাচ্ছি, তাই-না? কি সব কথাবার্তা বলছো তোমরা?
ভ্রু কুঁচকায় নাজমা তালুকদার। অভ্র নিজেও বিরক্ত আদ্রিয়ানের হেঁয়ালিপনায়। সে সিউর, আদ্রিয়ান তাদের সাথে গেম খেলছে। তবে এই মুহূর্তে অভ্র এসবে ইন্টারেস্ট ফিল করছে না। অভ্র দু’পা এগিয়ে এলো। আদ্রিয়ান তখনো না জানার ভান করে ঠোঁট উল্টে আছে।
—ড্রামা বন্ধ কর ইয়ার। সিরিয়াস মোডে আছি, আপাতত এসবে মজা পাচ্ছি না।
—কিন্তু আমি তো সত্যি কথা বলছি, তোর কসম!
আদ্রিয়ান চট করে অভ্রের মাথায় হাত দিয়ে কথাটা বললো। নাজমা তালুকদার তা দেখে তড়িঘড়ি ছেলের পানে এগিয়ে চট করে আদ্রিয়ানকে অভ্রের থেকে দূরে সরিয়ে দিলেন৷ চোখে তার আগুন জ্বলছে যেনো। দাঁত কটমট করতে করতে আওড়ালেন—
—খবরদার আদ্রিয়ান। আমার ছেলেকে নিয়ে এরূপ কসম আর কাটবি না। নইলে খুব খারাপ হবে।
বিরক্ত হয় আদ্রিয়ান। হাত ঘড়িতে নজর বুলিয়ে কপাল কুঁচকে নিলো।
—ওকে ফাইন। আর কাটবো না। এখন বের হও। সময় হয়ে এসেছে, কবুল বলাটা প্র্যাকটিস করে নিই।
—তুই কি সিরিয়াস, আদ্রিয়ান?
—হ্যান্ড্রেট পার্সেন্ট।
নাজমা তালুকদার বাঁকা হেঁসে বুকে হাত ভাজ করলেন। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে আওড়ালেন—–
—তাহলে তোর মেহরিনকে চাই না?
কথাটা শোনা মাত্র গালে হাত দিয়ে আদ্রিয়ান তওবা তওবা পড়লো। অবাক গলায় সুধালো—-
—একি কথা ফুফি? স্টুডেন্ট সে আমার। সবচেয়ে বড় কথা সে আমার বড় ভাইয়ের বউ হতে যাচ্ছে। তাকে নিয়ে এরূপ মন্তব্য করো না প্লিজ! আমি তার ভাসুর লাগি। এসব আজব কথা মাথায় এলো কিভাবে তোমার?
—তুই কি স্বীকার করবি না তাহলে?
আদ্রিয়ান কাঁধ ঝাঁকালো। নাজমা তালুকদার দাঁতে দাঁত চেপে বললেন—-
—তাহলে ঠিক আছে। আমিও দেখবো আর কতক্ষণ তোর এই নাটক তুই চালিয়ে যেতে পারিস। মনে রাখিস, জমি আমার না হলে, মেহরিনও তোর হবে না। অ্যান্ড আই মিন ইট।
বলেই ছেলের হাত ধরে গটগট পায়ে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে গেলেন নাজমা তালুকদার। আদ্রিয়ান তাদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে তপ্ত শ্বাস ফেললো।
—লোভী মহিলা কোথাকার। এ আমার দাদার ডিএন-এ কি করে হতে পারে? সন্দেহ হচ্ছে আমার। কোথাও দাদি আবার পরকী….
পুরো কথাটা শেষ না করে চোখমুখ খিঁচে নিলো আদ্রিয়ান। গটগট পায়ে এগিয়ে গেলো বারান্দার পানে। ফোন বের করে কানে ধরে মনোযোগ দিলো সেথায়।
শিফা যাওয়ার পর মেহরিন তপ্ত শ্বাস ফেলে ভারী লেহেঙ্গা দু’হাতে সামলে খোলা বারান্দার গিয়ে দাঁড়ালো। তখন শিফাকে বিয়ে না হওয়ার কথাটা মেহরিন নিজের তীব্র আত্নবিশ্বাস থেকেই বলেছিলো। কাল সারারাত আদ্রিয়ান নামক পুরুষটির সমীকরণ মিলিয়েছে সে। আর এটাও তার ছোট্ট মস্তিষ্ক বুঝে ফেলেছে, আজ বিয়ের এই আয়োজনের পিছনে চলছে নিখুঁত কোন খেলা। যেখানে চৌধুরী বাড়ি ও তালুকদার বাড়ি সামিল রয়েছে। নইলে যখন তখন আদ্রিয়ান-অভ্র গেমের কথা বলতো না। আর না আদ্রিয়ান তার সাথে অদ্ভুত ব্যবহার করতো। নজর কাড়তো তার আচরণ।
মেহরিন আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে। খানিক আগেই মা এসেছিলো তার। মাথায় হাত রেখে দোয়ার পাশাপাশি অশ্রু বিসর্জন দিলেন কতক্ষণ! মেহরিনের বুকটাও তখন মোচড় দিয়ে উঠেছিলো মায়ের চোখে পানি দেখে৷ মনোয়ার শেখ এখনো আসেননি মেয়ের কাছে। মেহরিন জিজ্ঞেস করেছিলো বাবার কথা, তবে সুফিয়া বেগম কথা বলেননি।
মেহরিন শুকনো ঢোক গিলে পিছু ফিরে। এরমধ্যেই হুট করেই আগেরদিনের ন্যায় পুনরায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় হকচকিয়ে যায় রমণী। চারিদিকটা ঘুটঘুটে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পরে মুহূর্তেই। মেহরিন শুকনো ঢোক গিলে। ফোনটা বিছানার উপর অযত্নে পরে আছে। সে পিছু ফিরে পা বাড়াতে চায়। তবে আচমকা পিছন হতে আকস্মিক কেউ তার মুখে রুমাল চেপে ধরে। মেহরিন থমকে যায়। আকস্মিক ঘটনায় তার মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। অন্ধকারের বুকে প্রথমে ব্যপারখানা ঠিক ঠাওড় করতে না পারলে কয়েক মুহূর্ত বাদে ছটফটিয়ে ওঠে রমণী। ভয়ে শির-দাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নামে। মেহরিনে নিশ্বাস দ্রুত হয়ে আসে। ছটফটে হাতে আগন্তুকের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে মেহরিন। তবে ঠিক সুবিধে করে উঠতে পারেনা।
—উম্…..
রমণীর মুখ দিয়ে অস্ফুট আর্তনাদ বেড়িয়ে গেলো। চোখের কোণ বেয়ে পানি ঝরছে অঝোর ধারায়। পিছনের ব্যাক্তিটি শক্ত করে তার তার মুখে রুমাল চেপে আছে। আর এভাবে অন্ধকারের মাঝে কয়েক মুহূর্ত বাদে মেহরিন ধীরে ধীরে নেতিয়ে গেলো। নিশ্চুপ হয়ে ঢলে পরলো মেঝেতে। আগন্তুক যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো। লম্বা শ্বাস টেনে নিজেকে ধাতস্থ করতে যাবে ঠিক তখনি খট করে দরজাটা খুলে গেলো। সাথে পুরো ঘর আচমকা এক লহমায় ঝকঝকে আলোয় ভরে উঠলো। আগন্তুক হকচকিয়ে গেলেন এমনটা হওয়ায়। কি করবে তৎক্ষনাৎ তা বুঝে উঠতে পারলো না। পাথরের ন্যায় চোখমুখ খিঁচে দাঁড়িয়ে রইলো তিনি সেথায়।
সুইটহার্ট পর্ব ১৯
অন্যদিকে তড়িঘড়ি করে ঘরে প্রবেশ করলো শাওনসহ আরো বেশ কিছু অচেনা মানব। ঘরে প্রবেশ করে বারান্দা কাছে মেহরিনকে ফ্লোরে সেন্সলেস হয়ে পরে থাকতে দেখে থমকে গেলো সকলে। আর তার সামনে পাথরের ন্যায় একজন মানবকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আরো বেশি আশ্চর্য হয়ে পরলো। চোখ কপালে তুলে আওড়ালো—-
—এই বয়সে এসেও বিয়ে বাড়ি থেকে বউ কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছেন? ঘরে কি বউ নেই? ছেলের মা জানে এসব? ছি ছি ছি।
