Home ফিরে গেছে কত আলো ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭০ (২)

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭০ (২)

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭০ (২)
শানজানা আলম

সকাল সকাল উঠে পড়েছে এহসান। অথৈও উঠেছে, তবে অথৈ এর শরীর ভালো যাচ্ছে না। মুখে ব্রাশ নিলে বমি পাচ্ছে। উইক লাগছে আর খাওয়া দাওয়াও করতে পারছে না। এহসান দেরী করতে চাইলো না। মামার বাসায় দাওয়াত ছিল, সেটা বাতিল করে ঢাকায় ব্যাক করবে সিদ্ধান্ত নিলো। অথৈ বলল, এত তাড়াহুড়ো করে চলে যাচ্ছি, ভালো দেখাচ্ছে না।
এহসান বলল, শক্ত করেই বলল, খারাপও দেখাচ্ছে না। এখানে থাকলে স্ট্রেস বাড়বে। সব কিছু বাদ দাও অথৈ, এখন তোমার একমাত্র কনসেনট্রেশান আমাদের বেবির দিকে হওয়া উচিৎ।

এহসান সাধারণত এত শক্তভাবে কথা বলে না। তাই অথৈ মেনে নিলো। তাছাড়া তাহিরা বেগমও অথৈকে থাকতে বললেন না৷ অথৈ এর প্রতি তার সকল ভালোবাসা যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। অথৈরা চলে গেলেই বেঁচে যায়, এরকম একটা ভাব। ওনার আচরণে এহসান আরো অবাক হলো, যতই অপরাধ করুক, সন্তান তো! এক এক সময় এহসান ভাবল, সিরিয়াল সিনেমার মত অথৈ অন্য কারো মেয়ে না তো! সেটাও তো নয়, বাবার সাথে যথেষ্ট মিল আছে অথৈয়ের।
ঐশিও ওদের যাওয়ার বিষয়ে কিছু বলল না আর। এহসান অথৈ কে নিয়ে আর্লি লাঞ্চ করে বের হয়ে গেল।
ওরা চলে গেলে ঐশি রুমের দরজা বন্ধ করে নাসিরকে ফোন করল। ভেবেছিল নাসির পিক করবে না, তবে নাসির ফোন ধরল।

হ্যালো-
নাসির ফোন পিক করল, তুমি হঠাৎ?
হ্যা, তোমার কথা মনে পড়ছিল- তাই! ভালোবাসাটা তো মিথ্যা ছিল না।- ঐশি বলল।
নাসির বলল, তোমাকে তো বললাম, ঢাকায় এসো, এসব অল্প সময়ের মামলা, সপ্তাহ খানেক লাগবে তোমার সুস্থ হতে। তারপরই আমরা মরিশাস ঘুরে আসব।
ঐশি অনুরোধের স্বরে বলল, নাসির, আমি বাচ্চাটা রাখি? প্লিজ?
নাসির বলল, না, অসম্ভব। এটা হতেই পারে না।
কিন্তু কেন নাসির? – ঐশি আরেকবার চেষ্টা করে নাসিরকে কনভিন্স করার।
আমি কখনো তোমার বাসায় যাব না। আমার কিছুই দরকার নেই, আমি আলাদাই থাকব।
নাসির বলল, আমি না বলেছি, মানে না! আর কোনো কথা হবে না! তোমার কাছে এখনো পথ খোলা, তুমি সুন্দরী, তোমার শরীর নিয়ে খেলতে আমার ভালো লাগে, এজন্য তোমাকে সেকেন্ডবার সুযোগ দিচ্ছি আমি। এখনো তোমার কোনো সর্বনাশ করিনি।
ভাবো, ভেবে দেখো, তোমার আরাম আয়েশের সব ব্যবস্থাই করা আছে। আর তুমি চাইছ সব রুইন করে দিতে! আমি এই ঝামেলা চাই না৷

তুমি তাহলে বেবি চাইছনা? – ঐশি শেষ বার জানতে চায়।
নাসির বলল- না। তুমি ভালো চাও তো আমার কথা শোনো৷ কোনো চালাকি করলে ফল ভালো হবে না।
ঐশি কিছুটা হতাশ হয়ে ফোন রেখে দিলো।
ঐশি নিজের জিনিসপত্র, ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে সন্ধ্যার আগে আগে বের হলো, ঢাকায় পৌছাতে রাত হয়ে যাবে। বের হওয়ার আগে নায়েব পাশাকে ফোন করে নিলো। নায়েব পাশা ওকে গাড়ি ম্যানেজ করার ব্যবস্থা করে দিলো। ঐশি নিজের প্ল্যানের কথা নায়েব পাশাকে জানালো না।ঐশির জন্য নাসিরের বাসায় আবার ওঠা খুবই বিপদজনক। ঐশি উঠবে নায়েব পাশার ঠিক করে দেওয়া ফ্ল্যাটে। তবে ঢাকায় পৌছে, রাত পোনে একটা বাজে। ঐশি গিয়ে দাঁড়ালো নাসিরের বাড়ির গেটে। বিশাল বাংলো প্যাটার্নের বাড়ি। গেটে পেরিয়ে বড় লন। গেটের বাইরে থেকে ভেতরের আভিজাত্য বোঝা যায়, লনে বিশাল ফোয়ারায় লাল নীল আলো জ্বলছে৷
গেটে সিকিউরিটি ঘুমিয়ে পড়েছিল।
ঐশি জানালার কাঁচে নাড়া দিলো, কেউ আছেন?
সিকিউরিটি উঠে জানালার কাঁচ সরালো- কে আপনে?

-আমি ভেতরে যাব- ঐশি বলল।
-ভেতরে যাবেন মানে? পাগল নাকি, মাঝ রাইতে কইত্থে আইছেন।
-আমি নাসিরের বাবার সাথে দেখা করতে চাই!
-এত রাত্রে! দিনে আসেন!
-না, এখনি দেখা করব, আমার জরুরি দরকার- ঐশি জোর করে।
ভেজাল করবেন না তো, পুলিশ ডাকতে হবে এত রাতে! বিরক্তিকর! – সিকিউরিটি গার্ড চুড়ান্ত বিরক্ত হলো।
-আপনি ভেতরে জানান তো- ঐশি বলল।

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭০

-সেটা ম্যাডাম দিনে আসেন, মাঝরাতে ভিজিটর কেন, কেউই এলাউড না। আমাদের চাকরি থাকবে না৷
ঐশি বলল, আমি গেটের সামনে আগুন জ্বালিয়ে দেব।
পুলিশে আপনি যাবেন কি, আমি যাচ্ছি, তখন যখন আপনার মালিক জানবে, আমি আগে এসেছিলাম, আপনার তখন বিপদ না হয়!
সিকিউরিটি বলল, আপনে ওয়েটিং রুমে বসেন, সকালে ফোন করব।
ঐশি শান্ত হয়ে ওয়েটিং রুমে বসল
রাতটা শেষ হোক আগে!

ফিরে গেছে কত আলো পর্ব ৭১