রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৪
সুহাসিনি ফাতেহা
“আপনি তোয়ালেটা নিয়ে এবার আমাকে মুক্ত করুন তো।”
যুবক বাঁকা হাসলো। কপালে লেপ্টে যাওয়া ভেজা চুলগুলো দুহাতে পেছনে ঠেলে দিতে দিতে দরজার ফাঁক গলিয়ে বাড়িয়ে রাখা রমণীর হাতের পানে তাকালো। কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখ ছোট ছোট হলো তার। খোঁচাখোঁচা দাড়িযুক্ত দৃঢ় চোয়ালটা সামান্য বাঁকা করে ফের ঝর্ণার পানির নিচে দাঁড়িয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে ভিজিয়ে নিলো ফারাজ। ওইদিকে অধৈর্যবান তিতলি একটুখানি ধৈর্য্য ধরে এখনো তোয়ালেটা বাড়িয়ে রেখেছে ওয়াশরুমের ভেতরে। সে তো এতক্ষণে চলে যেত। শুধু এটা তার তোয়ালে বলে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ফারাজ তার তোয়ালে দিয়ে গা মুছবে আর সে অনেকদিন ধুবে না এই তোয়ালে। কিন্তু তোয়ালে নিচ্ছে না কেন এখনো। ফারাজের তোয়ালে হলে এতক্ষণে ভেতরে ছুড়ে মেরে চলে যেত। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে নিজেকে নিজে একশকটা গালি দিচ্ছে। এবার না পেরে গলার আওয়াজ বাড়িয়ে তিতলি বলল,
“এই নিন না।”
না! কোনো উত্তর আসলো না ভেতরের মানুষটার কাছ থেকে। তিতলি এবার বড্ড অতিষ্ট, অধৈর্য হলো। তোয়ালে আনতে বলে এখনও তাকে দাঁড় করিয়ে রাখার মানে কি? নিচ্ছে না কিছু বলছেও না। মনে হয় ভাল্লুক ভুলে গেছে সে যে এখানো দাঁড়িয়ে। তিতলি মনেমনে বলল,
“এবার লাস্ট বার বলবো যদি তোয়ালে না নেয় আমি চলে যাবো বলে দিলাম।”
মনেমনে কথাটা বলে তিতলি তোয়ালে সমেত নিজের হাতটা ভেতরে পুরোপুরি বাড়িয়ে দিয়ে দরজাটাও একটু ফাঁক করল এবার। চোরাপথে ভেতরে উঁকি দিতে গিয়ে দু’চোখ বুঁজে নিয়েছে ফারাজকে দেখার আগেই। কি একটা পরে আছে তার বুঝি লজ্জা লাগে না? হাতটা একটু নড়চড়া করে তিতলি নিজের উপস্থিতি জানান দিতে বলল,
“কি করছেন আপনি? তোয়ালে নিবেন নাকি আমি চলে যাবো।”
ফারাজ এতক্ষণ ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে চুপচাপ তিতলির কথা শুনে গিয়েছে। সে দেখতে চেয়েছিলো তার বউ তার জন্য ঠিক কতসময় অপেক্ষা করতে পারে। চুপ থাকলেও তার দৃষ্টি ঘুরেফিরে শুধু তিতলির হাতের দিকেই ছিলো। মনে মনে ফারাজ বিড়বিড় করে আওড়ালো,
“তোয়ালের সাথে সাথে তার মালিককেও চাই।”
সহসা অন্য ইচ্ছে জেগে উঠলো ফারাজের মনে। সুযোগের সঠিক সময় ব্যবহার করা বলতে একটা কথা আছে তো? ফারাজ হচ্ছে বড্ড সুযোগ সন্ধানী মানব। ঘাড় ডলতে ডলতে তৎক্ষণাৎ কদম বাড়ালো দরজার পানে। দরজার সম্মুখে এসে কোনোরকম পূর্বাভাস ছাড়া-য় আচমকা নিজ পেশিবহুল হাতের সাহায্য তিতলির বাড়িয়ে রাখা তুলতুলে নরম হাতের কব্জিসন্ধি ধরে এক হেঁচকা টান দিলো ফারাজ।
তিতলি ভয়ে চোখমুখ খিঁচে নিয়ে বিড়বিড় করে আওড়াচ্ছে,
“আল্লাহ! এই ভাল্লুক আমাকে ভেতরে টান দিলো কেন?”
ঘটনাপ্রবাহে তক্ষুনি সম্পূর্ণ দরজা খুলে গিয়ে অপ্রস্তুত তিতলি হুড়মুড়িয়ে থুবড়ে পড়েছে ফারাজের উদোম বুকে। ফারাজের হাতের টান এতটাই জোর ছিলো যে তিতলি পুরোপুরি মিশে গিয়েছে ফারাজের পুুরুষালী বলিষ্ঠ দেহের সাথে। নিজেও একটু ভিজে গিয়েছে ফারাজের শরীরের সাথে মিশে। চিরচেনা পুরুষালী দেহের ভেজা সুবাস ভেসে এসেছে নাকে। ঘনিষ্ঠ হয়ে নিজেই দুরু কেঁপে উঠলো বোকা মানবী। একটু ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করে উঠল। ফারাজ চোখদুটো বন্ধ করে রেখে ফেলে রাখা হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়েছে। কি-জানি কি ভাবছে সে।
তিতলি সুযোগ বুঝে ফারাজের বুক থেকে সরে এসে হাঁসফাঁস করল কিছুক্ষণ। চোখ পিটপিট করে চোরাচোখে ফারাজের দিকে তাকাল। ফারাজের পরনে ছুপছুপে ভেজা আন্ডারওয়্যার ছাড়া আর কিছু নেই। সেটায়ও লেপ্টে আছে পুরুষালী অগ্রভাগ। তিতলির আজ লজ্জায় মরে যাওয়ার দিন। লজ্জায় যত্রতত্র নুইয়ো গেলো। এসব কেন তার চোখে পড়তে গেল আসতাগফিরুল্লাহ। মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যেতে চাইলে ফারাজ তিতলির হাত আবারও টেনে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আনলো। ভেজা চুলে কঠিন ঝাঁকুনি দিয়ে তিতলির গায়ে ফেলল ফোঁটা ফোঁটা পানি। তিতলির বিস্ফোরিত চোখদুটো একমুহূর্তের জন্য বুঁজে গেলো অভিঘাতে, আতঙ্কে। কোনোরকমে রয়েসয়ে কাঁপা গলায় বলল,
“ছা-ছাড়ুন আমি ভিজে যাবো তো।”
ফারাজের ঘোর লাগা দুটো চোখ। ক্ষণে ক্ষণে তৃষ্ণার্ত পথিকের ন্যায় জিভ ঠেলে ভেজাচ্ছে অধর। গভীর দৃষ্টে একমনে পরোখ করে যাচ্ছে পিচ্চি বউকে। ধীরলয়ে ঝুঁকাচ্ছে পাহাড়সম দেহটা।
তার কন্ঠসুর টাও কেমন অন্যরকম শুনালো,
“তো? ভিজে গেলে কি হবে?”
সহসা লজ্জায় উত্তাপে গালদুটো রক্তিম ধারণ করেছে সপ্তদশীর। বুকের খাঁচায় লুকায়িত হৃদস্পন্দন আকাশ ছুঁয়েছে অনেক আগেই।
দ্রুত গতিতে চলমান দ্রিমদ্রিম শব্দের আওয়াজ যেন এক্ষুনি বুক ছিড়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে। আমতা আমতা করে অসহায় কন্ঠে শুধালো,
“আমি গোসল করে ফেলেছি আমার নতুন জামা নষ্ট হয়ে যাবে প্লিজ।”
“জামা নষ্ট হয়ে গেলে কিনে দেওয়ার দায়িত্ব আমার। সো..ঐসব নিয়ে ভাবনা চিন্তা না করে জাস্ট ফেকাস অন মি।”
ফারাজের হাতদুটো তিতলির কোমরে চলে এসেছে এবার। ধীরেধীরে তার আঁকিবুকি চলছে কোমরের আশেপাশে। তিতলি জড়সড় হয়ে গিয়েছে। একবারের জন্যও চোখ খুলছেনা। গলায় বুঝি সব শব্দরা আটকে গেল। কন্ঠনালী ভেদ করে যেন কোনো কথাও বের হতে চাচ্ছে না তেমন করে বলল,
“আ…আমি আপনার দি–কে আমি তাকা..বো কি করে? আপনি…”
“চোখ খুলে আমার চোখের দিকে তাকাও। তাতেই হবে।”
ফারাজের হাত দুটো থেমে নেয়। অন্যদিকে চলাচল করতে যাচ্ছে বুঝতেই তিতলি ফারাজের হাতদুটো খামছে ধরে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে উঠলো,
“আমার কে-কেমন জানি লাগছে সব।”
ফারাজের চলন্ত হাত থেমে গেলো। তিতলির পুরো মুখে নজর বুলিয়ে আলগোছে একহাত রাখল তিতলির নরম গালে। গভীর গলায় শুধালো,
“আমার টাচ খারাপ লাগছে?”
তিতলি এই কথার উত্তরে কি বলবে যেন সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। মাথা নত করে নিলো। চিবুক এসে ঠেকেছে গলায়। ফারাজ তখনও উত্তরের আশায় চেয়ে। তিতলি হ্যাঁ বা না কিছুই বলছেনা।
ফারাজ পরক্ষণেই চোয়াল শক্ত করে গ্রীবাটা সামান্য ঝুঁকিয়ে এনে তিতলির কানের বড্ড কাছে মুখ নামিয়ে অনেকসময় নিয়ে কিছু অপরিচিত,অদ্ভুত কথা বলতে শুরু করলো। এমন ছিলো যে একথা গুলো তিতলির কাছে আজ নতুন। বুঝতে সময় লেগে গেলো মিনিটের বেশি সময়। যখন বুঝলো তখন তিতলির কানের লতিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ফারাজের কথাগুলো। গালদুটোতে তার সে-কি লালিমা ভাব।
ফারাজ এবার তিতলির লাজুকময় মুখপানে দৃষ্টি রেখে মৃদুস্বরে বলল,
“তখন…তখন কি করবে হুমম?”
“ছিঃ, আপনার মুখে কোনো কথা আটকায় না।”
ফারাজ ভ্রু উঁচিয়ে হাসল। কন্ঠে দুষ্টুমির প্রলেপ লেপে আওড়ালো,
“মুখ হচ্ছে কথা বলার একমাত্র মাধ্যম। তবে তুমি যদি চাও মুখ সাময়িক সময়ের জন্য তোমার ঠোঁট দ্বারা আটকে রাখতে পারি, কিন্তু কিছু একটা আটকাতে পুরোপুরি তোমাকে প্রয়োজন।”
তিতলি ফারাজের কথার মানে বুঝতে পেরে কথা ঘুরানোর জন্য কাচুমাচু করে বলল,
“আপনি আমাকে বলছেন তোয়ালে দিয়ে যেতে…”
তিতলি এদিকওদিক তোয়ালে খুঁজতে গিয়ে দেখে তার হাতের তোয়ালে ঝর্ণার নিচে ভিজে গিয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ওই সময় টান দেওয়ার ফলস্বরপ হাত থেকে ছিটকে ওখানে গিয়ে পড়েছে। তিতলি ভাবুক হয়ে বলল,
“এখন কি করে গা মুছবেন?”
ফারাজ তিতলির গায়ের থেকে ওড়নাটা খুলে নিজের হাতে পেঁচিয়ে নিলো কিছু সময়ের জন্য। তিতলির তুলতুলে নরম হাতদুটোকে পেছনে নিজের বলিষ্ঠ হাতে মুঠোবন্দি করে অসামান্য পায়ে এক পা দুপা করে দেওয়ালের সঙ্গে লেপ্টে গেল তারা। মাথাটা ঝুঁকিয়ে এনে আচমকা তিতলির গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়ে নাক ঘষল ফারাজ। ধীরলয়ে বুকের নরম উদরের কাছাকাছি নেমে আসতেই বরফের ন্যায় জমে গেলো তিতলি। ধড়াস ধড়াস শব্দ হলো বুক পিঞ্জরে। সর্বাঙ্গে ঝংকার বইতেই কর্ণকুহরে ভেসে এলো ফারাজের ঘোরলাগা কন্ঠ,
“ড্যাম! ইউ স্মেল আই লাইক ইট!”
তিতলি গায়ের সবটুকু জোর দিয়ে ফারাজের মাথা সরাতে চাইলো। ফারাজ তার হাতদুটো আঁটকে রেখেছে তাই সরাতে চাইলেও ফারাজ হাতের জোর বাড়িয়ে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। নিজের বলিষ্ঠ দেহের সাথে পিষে ফেলবে তিতলিকে যেমন। তিতলি দুহাতে ফারাজের বুক ঠেলে সরাতে চেয়ে বলল,
“আপনি প্যান্ট পরুন রুমে গিয়ে প্লিজ। আমি..আমি…”
ফারাজ তিতলির কথা শুনে একটু মুখ তুলে সোজা হলো এবার। নিজের দিকে একবার তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে নিলো। হাতে পেঁচিয়ে রাখা তিতলির ওড়নাটা খুলে নিজের কোমরে পেঁচাতে পেঁচাতে সন্দিহান গলায় বলল,
“এবার কোনো অসুবিধা নেই তো।”
ফারাজের কান্ড দেখে তিতলির মুখ ফুরিয়ে হাসি আসতে চাইছে। কি আশ্চর্য! তার ওড়না কোমরে পেঁচিয়েছে। তাতে কি? তিতলি হঠাৎ শফারাজকে ধাক্কা দিয়ে বলল,
“অনেক অসুবিধা। কানখাড়া করে শুনুন আম্মু ডাকছে রুমের বাইরে।”
কথাটা খুব করে শুনলো ফারাজ। শুনলোও কেউ ডাকছে। অথচ গা ছাড়া ভাবটা যা ধরছে না। তিতলির কথাটা তেমন একটা পাত্তা না দিয়ে বলল,
কই আমি শুনছি না তো? তুমি কানে বেশি শুনো?
কথাটা বলে ফারাজ আবার একই কাজ করতে গেলো। তিতলি না পেরে ফারাজের বুকে চিমটি কেটে কোনোরকমে দৌড় বেরিয়ে গেলো। নয়তো থোরাই বলে দিতে পারবে, দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে গেলেও এই লোকের থেকে ছাড়া পাবেনা সে। তাই নখ দিয়ে খামচি দিয়ে পালিয়ে এসেছে।
ফারাজ ভ্রু কুঁচকে তিতলির চঞ্চল পায়ে ছুঁটে যাওয়া দেখল। কতবড় সাহস তাকে চিমটি কাটে। বিড়বিড় করে যুবক আওড়ালো,
অনেক দিন হয়ে গেছে তো হাতের নখ কেটে দিই নি। তোমার নখের জোর বেড়ে গেছে ইউ্য নো না, আমারও বেড়েছে…”
বাকি কথাগুলো শেষ না করে ফারাজ নিজের বুকে খামচি দেওয়ি দাগটার দিকে তাকিয়ে আবারও ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে গোসল শেষ করলো। গোসলে দেরি করা তার মোটেই পছন্দ নয়। কিন্তু আজ কি হলো কে জানে।
ফারাজ আসবে না বললেও তিতলি নিজের ট্রলি করে ফারাজের কিছু শার্ট প্যান্ট নিয়ে এসেছিলো। মনে করে সেখান থেকে শার্ট প্যান্ট বের করে বিছানায় রেখে গেছে তিতলি।
ফারাজ বের হওয়ার আগে আগে রুম থেকে বেরিয়ে অন্য একটা ওড়না গায়ে দিয়ে চলে এসেছে।
ড্রয়িংরুমে মানুষজনে ভরপুর। দুপুরের খাওয়াদাওয়া কেউ এখনো খাচ্ছে কেউ বা খেয়েও নিয়েছে। তিতলি ঝিলিকদের সাথে খেয়ে নিয়েছে।
হুশিয়ার সাহেবের বড়ছেলে হাশেম সাহেবের স্ত্রীর বোন জাহানারা বেগম তিতলিকে পছন্দ করেছেন নিজের ছেলের জন্য। ছেলেও নাকি তিতলিকে প্রথম দেখায় পছন্দ করে ফেলেছে। তিতলিকে তো দেখতে মনেই হয়না যে বিবাহিত। হবেও বা কি করে? গায়ে গোল ফ্রক ওড়না পরে সবার মাঝে যেভাবে হাটাহাটি করছে কোনোভাবেই বুঝার উপায় নেই। একথা এখন বলার জন্য ফারিন বেগম সহ আরও কয়েকজন মহিলা নিয়ে গোল করে সোফায় বসেছেন জাহানারা বেগম। অনেক ভেবেচিন্তে ফারিন বেগমকে বললেন,
“বলতে চাইছিলাম যে আপা এখন যে একটা মেয়েকে দেখলাম ওটা কার মেয়ে? আপনার জা কোনটার মেয়ে যদি একটু বলতেন?”
ফারিন বেগম হতভম্ব হয়ে গেলেন জাহানারা বেগমের কথা শুনে। তিতলির কথাটায় মনে পড়ল কারণ এখন তিতলিই এখান দিয়ে গেলো।
ভাবুক হয়ে বললেন,
“কোনটার কথা বলছেন? হালকা গোল জামা…”
“হে হে ওই মেয়েটার কথায় বলছিলাম। মেয়েটাকে খুব পছন্দ হয়ছে আমার। আমার ছেলে জনির জন্য মেয়েটাকে পছন্দ করছি।”
ফারিন বেগমের মুখে হাত চলে গেলো। তিনি আশেপাশে তাকিয়ে দেখলেন ফারাজ কোথায়ও আছে কিনা। কত কষ্ট করে ফারাজকে বিয়ে
করিয়েছেন। আশ্চর্য ভাবে এত মেয়ে দেখানোর পরও তার ছেলে শুধু তিতলিকে বিয়ে করতে রাজী হয়েছে। তিনি আয়েশার বিয়েতে তিতলিকে ফারাজের সাথে কথা বলতে দেখেছেন তিনি তখনই ভাবছিলেন এই মেয়েকে যদি ফারাজের বউ করতে পারতাম। ভাবনাটাও পূরণ হলো। আশেপাশে তিতলিকেও দেখলেন না। স্বঃস্থির নিশ্বাস ফেলে বললেন,
“ওটা ফারাজের বউ। আপনি হয়তো চিনেন নাই তাই বলছেন…”
জাহানারা বেগম কপাল কুঁচকে ব্যঙ্গ করে বললেন,
“কিহহ! ফারাজের বউ? ফারাজের বউ হলে শাড়ি না পরে এভাবে বাড়ির মেয়েদের মতো ঘুরছে কেন? ”
নাছিমা বেগম পাশ থেকে মুখ বাঁকিয়ে বললেন,
“ঘুরবেই তো পারিবারিক কোনো শিক্ষা নেই। কোথায় কীভাবে চলতে হয় সেসব জ্ঞান নেই তো।”
“চুপ কর নাছিমা। বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে কোনো ঝামেলা হোক আমি চাইনা।”
কথাটা বলে ফারিন বেগম আরো ভদ্রভাবে আডরও কয়েকটা কথা শুনিয়ে উঠে চলে এলেন। আসলে তিনি ভুল করেছেন তিতলিকে শাড়ি পরিয়ে রাখায় উচিত ছিলো। নতুন বউ শাড়ি পরে থাকলে কিন্তু আসার সময়ই তো ফারাজ বললো শাড়ি পরার দরকার নেই। জামাই পরে যাবে। তাই তিনিও আর জোর করেন নি।
রোহান গ্লাসে ভর্তি কমলার জুস এনে তিতলির সামনে এসে দাঁড়াল। পাশে রোহানের বোন নীলাও আছে সাথে ঝিলিক ও ময়না। রোহান গ্লাসটা তিতলির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে রহস্যময় চোখে তাকিয়ে বলল,
“নেন ভাবি স্পেশাল জুস ফারাজ ভাই পাঠিয়েছে আপনার জন্য।”
তিতলি ফারাজ পাঠিয়েছে শুনে সন্দেহের চোখে জুসের গ্লাসের দিকে তাকালো। ঝিলিক পাশ থেকে তিতলিকে চিমটি কাটছে। তিতলি ফারাজের দিয়েছে শুনেই রোহানের কথা বিশ্বাস করে নিলো যেন। ওদিকে রোহান তিতলিকে বলল,
“ওইদিকে ফারাজ ভাই আছে আপনাকে ডাকতে বললো। যাবেন?”
“আপনি যান আমি জুস খেয়ে আসছি।”
রোহান চলে গেলো। তিতলি মুহূর্তেই জুস একটু খাওয়ার ভান করে নিজের ঠোঁটে ছুঁইয়ে দিয়ে নীলার দিকে বাড়িয়ে বলল,
“তুমি খাবে নীলা আপু?”
নীলা হাত কচলাতে কচলাতে বলল,
“ফারাজ ভাইয়া তো তোমার জন্য পাঠিয়েছে।”
তিতলি জুসের গ্লাসটা নীলার হাতে ধরিয়ে দিয়ে প্রায় ঠোঁটের কাছে নিয়ে খাইয়ে দিবে তেমন ভাব নিয়ে বলল,
রাগে অনুরাগে পর্ব ৪৩
“তো কি হয়ছে একটু খেয়েই দেখো। খুব মজা আমিও তো খেয়েছি। তুমিও একটু খাও। আমি এখন আসছি তোমাদের ফারাজ ভাইয়া ডাকছে।”
নীলা সত্যি জুসের গ্লাস হাতে নিয়ে খেতে শুরু করল। এমনিতেই অনেক তৃষ্ণা পেয়েছিল।
