রুহ এ ইশক পর্ব ২৫
আনান রোজ
জাহির ভাইয়ের মেয়ে না। আমাদের উযাইনের বউ বল। আর মামুনি না, ভাবি বলবি রে গাধা! উযাইন না বলেছিল আজ ওর ওয়াইফের সাথে দেখা করাবে।
আসিফের কথায়, যামির আর আরিয়ান অবাক চোখে তাকাল। কিন্তু তাদের ভংগিমায় কোনো প্রকার নেগেটিভিটি ছিল না। কারন এই সম্পর্ক যে পুরোপুরি জায়েজ আছে, তা তো তাদের অজানা নয়। কিন্তু ব্যপার টা ঠিক কি হলো তারা তা ই বুঝার চেষ্টা করল। এদিকে ইনশিরা ভাবছে, আল্লাহ কই এসে পরলাম এরা আমার চাচ্চু হয় নাকি জামাইয়ের বুন্ধ।
উযাইন ওদের দিকে তাকিয়ে বলল—
—আসিফ সব ই জানে ও তোদের বলে দিবে। আর তোদের কেন বলিনি এটাও সে বলে দিবে।
আরিয়ান আর যামির একসাথে বলে উঠে—
—ইনশিরার বাবা জানে? সে রাজি হয়েছে?
—না, জাহির এখনো জানে না। তবে ওর রিয়েকশন কি হবে তা নিয়ে আমি চিন্তিত।
ওদের কথায়, উযাইন বলল কথা গুলো। যামির ভরসা দিয়ে বলে —
—এত চিন্তা করিস না। তোর কপালে একটু সুখ এসেছে এতদিনে। আমরা তোদের পাশে আছি, প্রয়োজনে পায়ে ধরে বসে থাকব।
—হ্যাঁ হ্যা! আমিও ভাই। জাহির ভাই না মানে, মিস্টার কায়নাত কে যে ভাবে পারি রাজি করাবো।
যামিরের কথার পর আরিয়ানাও এই গুলো বলল। ওরা এই পরিস্থিতি টা এত সুন্দর আর স্বাভাবিক ভাবে নিবে তা ইনশিরার ধারণার বাইরে ছিল। আরিয়ান ইনশিরাকে বলে—,
—এই পিচ্চি তুমি যে ছোট বেলায় উযাইনের জন্য পাগল ছিলে, আর ওকে হাজবেন্ড বলতে। এটা যে সত্যি ই ছিল তা আগে জানলে তুমাদের বিডিতে যেতে দিতাম না। এখানেই রেখে দিতাম।
—হ্যা তুমি ছিলে না বলে আমাদের বুড়ো টার লাইফে অনেক ঝড়ঝাপটা গেছে। বেচারা!
আসিফ হাসতে হাসতে বলল। উযাইন কটমট করে তাকিয়ে আছে, ইনশিরারও হাসি পাচ্ছে তবে, উযাইনের দিকে তাকিয়ে আর হাসল না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে, ইনশিরা যে উযাইনের হাতে নক বসিয়ে দিচ্ছিল ওখানটায় আলতো করে স্পর্শ করছে। তখন ই উযাইনের কল আসল, স্ক্রিনে বড় করে ভেসে উঠে ড্যাড। উযাইন উঠে ফোন টা নিয়ে বলে,—
—আমি কল টা এটেন্ড করে আসছি
বলে চলে যায় ওদিকে, কিছুক্ষন পর আসিফও যায়। সে উযাইকে বলে—
—যা যা হচ্ছে সবই আমার জানা। তুই না বললেও আমি সব খবর রাখি। এলিনা হয়তো বারারি করবে। ওর বাবা এডাম কোরটান, উনি যেহেতু তোদের বিজনেস রাইভেল। তাই হয়তো সাংঘাতিক কিছু হতে পারে।
—চিন্তা করিস না। এলিনার ব্যাপার টা আমি জানি আর ও যেহেতু আমার স্টুডেন্ট তাই আমি বিষয় টা এরিয়ে গেছি। ইউনিভার্সিটিতে ঝামেলা চাই না। বাট প্রভ্লেম করতে চাইলে ছার পাবে না।
উযাইনের কথা গুলো শুনলেও আসিফের চেহারায় চিন্তার ছাপ রয়েগেল। সে খুব ভালো করেই জানে কোরটান ফেমিলি কতটা ভয়ংকর, আর উযাইনের বাবার সাথে ওদের বিজনেস বিষয়ক শত্রুতার সম্পর্কেও তার জানা। এমন কি এলিনা কোরটান যে গত ২ বছর যাবত উযাইনের পিছনে লেগে আছে তাও সে জানে। কিন্তু চিন্তা হলো, উযাইন এখন একা না, ওর ফেমিলি আছে। ইনশিরা আর আর উমায়ের, বিশেষ করে ইনশিরা মেয়ে টা একদিন পিচ্চি। আর উযাইন কতটা পাগল এই পিচ্ছির জন্য সেটাও আসিফের জানা। এত গুলো বছর উযাইন কিভাবে জীবন পার করেছে এবং গত তিন বছর কিভাবে কাটিয়েছে তা আসিফ নিজের চোখে দেখেছে। সে চায় না এখন আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হোক উযাইন যেন একটু সুখ পায়।
এরপর ওরা অনেক গল্প করল, উযাইন কে নিয়ে বলল। দুপুরের লাঞ্চ করল, এবং ফ্রি টাইমে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করল। ইনশিরা ভাবতেও পারে নি যে সময় টা সুন্দর যাবে।
দুপুর বেলা ওরা এসে বাসায় পৌছালো। উযাইন কিছু টা চিন্তিত, সে ইনশিরার দিকে তাকিয়ে রইল। ওরা গাড়ির মধ্যেই, ইনশিরার নামার জন্য, দরজায় হাত রাখতেই উযাইন ওকে টেনে নিল নিজের কাছে, আর কিছু বলতে দিলনা ওর ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটে আকরে নিল! কিছুক্ষন পর ইনশিরার আলাদা হতে চাইল কিন্তু উযাইন ছারল না, ইনশিরা খেয়াল করল উযাইন একটু অন্য রকম বিহেভ করছে। কেমন যেন একটা অস্থিরতা, আর আতংক তার মাঝে। এর আগে এমন কিছু অনুভব করে নি ইনশিরার। সে উযাইনের কাধে হাত দিয়ে হাল্কা করে সরাতে চাইল, আর একটু আলাদা হয়ে বলল—
—একটু থামুন উযাইন, প্লিজ! আই কান্ট ব্রেথ!
উযাইন ওর কপালে কপাল ঠেকিয়ে রেখেছে সেও দ্রুত দম নিচ্ছে, তাদের মাঝে ইঞ্চিখানেক দূরত্ব। সে ইনশিরাকে আরেক টু কাছে টেনে বলে—
—প্লিজ ইনশিরা! আমার থেকে দূরে থেকো না আমার সহ্য হয় না এসব। কখনো আমার থেকে দূরে যেও না আমার অন্তিম নিশ্বাস অব্দি তোমার কাছে থাকতে চাই।
বলেই সে ইনশিরার গলায় মুখ গুজে দেয় আর তার চেনা বুনো ফুলের ঘ্রান টা বুক ভরে টেনে নেয়। কিন্তু উযাইনের হটাৎ এই কাতর অনুভূতিপ্রবণতার কোনো মানে বুঝতে পারছে ইনশিরা। সে উযাইনের চুলে আংগুল গলিয়ে আদুরে গলায় বলল—
—আপনি কি ভয় পাচ্ছেন। আপনি আমার অনেক শখের, আর এই আপ্নাকেই আমি ছেরে দিব?
উযাইন নিজের মুখ টা আরেকটু গুজে প্রসঙ্গে পাল্টাতে আর নিজের ভয়টা লুকাতে অভিমানী স্বরে বলে —
—আবির! ওর থেকে দূরে থাকবে। ওর অত ক্লোজ নেস আমার সহ্য হয় না।
—আর ইউ জেলাস?
—ইয়া আই অ্যাম। তুমি শুধু আমার, ওইদিন কি করে বললে আবির আমার সতিন হয়? আমি ওকে মেরে ফেলব।
ইনশিরা হাসল, উযাইনের এলো চুলে চুমু খেল। উযাইন ইনশিরার গলায় নাক ঘষতে ঘষতে কয়েক টা চুমু দিল আর বাইটও করে। তারপর উযাইন মুখ তুলে বলে
—আমি আর উমায়ের দু দিনের জন্য আমাদের ওল্ড হাউসে যাচ্ছি কিছু কাজ আছে বিজনেস রিলেটেড। তুমি নিজের খেয়াল রেখ।
ইনশিরা মুখ কুচকে ফেলল, এই বলল দুরত্ব সহ্য হয় না। আবার নিজে এখন চলে যাচ্ছে। সে কিছু বলে না, কারণ এখানে কিছু বলে লাভ নেই। উযাইন আরেক টু এগিয়ে ইনশিরার জ লাইনে চুম দিল কয়েক টা আর ঘোর লাগা গলায় বলে—
—তুমি আরেকটু বড় কবে হবে পিচ্চি?এইটুকুনি আদরে আমার পুষাচ্ছে না! আরেকটু আদর করলে তুমি…
ইনশিরা, উযাইনের কথা শেষ হওয়ার আগেই গাড়ি থেকে বেড় হয়ে আসে।সে বোধ হয় বেশ লজ্জা পেয়েছে। উযাইন বিষয় টা খেয়াল করে, মুচকি হেসে সেও বেড় হয়। পরে ওরা বাসার ভেতর গেল, ইরা আর যাহির বসে ছিল লিভিং রুমে। যাহির ওদের একসাথে দেখে অবাক হয়, কিন্তু এই নিয়ে তেমন মাথা ঘামায় নি।
—যাইহোক তোরা এক সাথে ফিরলি ভালোই হলো। আচ্ছা উযাইন শুন, আমার বিজনের পাটনার রাতে কাল পার্টির জন্য ইনভাইট করেছে আমাদের। তুই ও যাচ্ছিস কিন্তু।
—না, জাহির আমাকে বাসায় যেতে হবে, ড্যাডের কিছু অফিসিয়াল কাজ আছে। আমি নেক্সট দুদিন অনেক ব্যস্ত থাকব।
জাহিরের কথার উত্তরে উযাইন একদমে কথা গুলো বলে ইনশিরার দিকে তাকিয়ে, নিজের রুমে চলে গেল।
সময় পেরিয়ে বিকাল হয়ে যায়, উযাইন সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে বের হচ্ছিল ইনশিরার রুমের কাছে দাঁড়িয়ে দেখল দরজা টা খুলা, সে ভেতর গেল। ইনশিরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে। উযাইন চুপ করে এগিয়ে গিয়ে পেছন থেকে জরিয়ে নেয় ওর কাধে মুখ গুজে দেয় আর হাত জোরা ইনশিরার সোয়েটারের ভেতর নিয়ে উন্মুক্ত কোমরটা পেছিয়ে ধরে। ইনশিরা হটাৎ এই ঠান্ডা স্পর্শে নরচরে উঠে বুঝতে পারল স্পর্শ গুলো কার।
—রাগ করেছ সোনা?
ইনশিরা চুপ। উযাইন ওর কাধে মুখ গুজে রেখেই কথা বলল। সে একটু আলগা হয়ে ইনশিরাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আবার বলল —
—মন খারাপ কেন আমার পিচ্ছির
—আপনি আমাকে এক্টুও ভালবাসেন না আপনি খুব পচা লোক!
উযাইন বউয়ের অভিমান বুঝতে পারল। সে ইনশিরার চুল গুলো ঠিক করে দিতে দিতে বলে—
—দু দিনই তো। কিন্তু আমি কাজের ফাঁকে আসব, দেখা করতে। আর এনি টাইম কল দিবে, এনি টাইম!
ইনশিরা আরও একদফা অবাক হলো, এই লোক টা কে নিজের জন্য পছন্দ করাতে তার কোনো আফসোস নেই। কি সুন্দর সব কিছু বুঝে নেয়! কিছু এক্সপ্লেইন করতে হয় না কৈফিত দিতে হয় না। ইনশিরার মাঝে মধ্যেই রিয়েলাইজ হয় এই লোক, এই লোক টা তার! তার জন্যই বরাদ্দ ছিল, হ্যা তার জন্য! শুধু মাঝখানে সেরিন নামের একটা অধ্যায় এসেছিল আর, আরেকটা আফসোস? সে জন্মাতে বড্ড বেশি দেরি করে ফেলেছে। আর কয়টা দিন আগে আসতে পারলে কয়টা দিন বেশি থাকা যেত। উযাইন ইনশিরা আবার উল্টো দিকে ঘুরিয়ে, চিরুনি টা নিয়ে চুল গুলো আচরে দিয়ে বেনি করতে লাগলো—
—ক…কি করছেন?
—বেনি!
—পারেন?
—হুম!
—কবে থেকে?
—যবে থেকে বউ জুটেছে। তোমার চুল তো অনেক লম্বা, তাই আগে থেকেই শিখে রেখেছি। এই চুলের যত্ন যে আমাকেই নিতে হবে। তা আগেই জানতাম।
ইনশিরার কিছু না বলে ঘুরে উযাইন কে জরিয়ে ধরে ওর বুকে মুখ লুকালো। বেশ অনেকটা সময় তারা এভাবেই ছিল। তারপর উযাইন ইনশিরাকে নিয়ে বেডে বসিয়ে দিল, আর নিজে হাটু গেরে বসে ইনশিরার পায়ে মোজা পরিয়ে দিতে দিতে বলে—
—এই মেয়ে? নিজের খেয়াল রাখবে। না হয় পানিশমেন্ট আছে কিন্তু। এত ঠান্ডায় স্কস পড় না কেন তুমি?
—আরেহ উযাইন? তুমি এভাবে? এই মেয়ে তুই উযাইনকে দিয়ে কাজ করাচ্ছিস ও তোর বড় হয় না? আজব তো?
দরজায় দাঁড়িয়ে ইরা, কথা গুলো বলল। ওদিকে ওদের রোমান্স আবেগ সব উরে গেল দুজনেই চরম থতমত খেয়ে তাকাল। ইনশিরা কি বলবে বুঝতে পারল না। উযাইন উঠে দারিয়ে বলল—
—না না মিসেস কায়নাত। আমিই বলেছিলাম ওকে, বাইরে অনেক ঠান্ডা তো।
বলে পাশ কাটিয়ে চলে যায় ওর যাওয়ার সময় চলে যাচ্ছে তাই। কিন্তু ইরা চমকালো, উযাইন তো ওকে ভাবি ডাকে তাহলে? মিসেস কায়নাত? কিন্তু এ নিয়ে আর তেমন মাথা ঘামায় নি ইরা ।
এরপরই, পুরো একটা দিন কেটে গেছে উযাইন আর উমায়ের বাসায় নেই। উযাইনের জীবনে অফিশিয়াল হাজারও ব্যস্ততা আর কাজের চাপ থাকলেও, তার মন এক সেকেন্ডের জন্যও লন্ডনের এই বাড়িতে শান্তিতে ছিল না। সে কাজের ফাঁকে একটু সময় পেলেই প্রতি এক-দুই ঘণ্টা পর পর ইনশিরাকে অনবরত ভিডিও কল দিচ্ছিল আর ফোনে মেসেজ করে ওর খোঁজ নিচ্ছিল । ভিডিও কলে উযাইনের মায়াবী নীলচে চোখ জোড়া স্ক্রিনে দেখামাত্রই ইনশিরার সব ক্লান্তি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাচ্ছিল।
হটাৎ আজ সন্ধ্যা বেলায় জাহির জানায় ওর নতুন বিজনেস পার্টনার মিস্টার এডাম কোরটানের এক বিশাল লাক্সারিয়াস পার্টি এবং সাথে আর্ট এক্সিবিশন রয়েছে। ইনশিরার একটুও মন ভালো ছিল না বলে সে এই পার্টিতে কোনোভাবেই যেতে চাচ্ছিল না। কিন্তু জাহির আর ইরার অনবরত জোরাজোরি আর রিকোয়েস্টের কাছে হার মেনে সে শেষপর্যন্ত যেতে রাজি হলো।
ইনশিরা পার্টিতে যাওয়ার মানসিকতায় ছিল না। অন্য জামা না পরে, একটা লুজ ডেনিম জিন্স আর একটা ওভারসাইজড স্টাইলিশ শার্ট যার বোতাম আলগা করে খোলা রাখা, ভেতর শুভ্র সাদা একটা ক্রপটপ। চুলগুলো সে মেসি ব্যান করে নিল। এই ছিমছাম হট লুকেই ইনশিরাকে বেশ মায়াবী লাগছিল।
ইনশিরা যাওয়ার আগে উযাইন কে লোকেশনটা সেন্ড করে, লিখল—
—”উযাইন, আব্বুর পার্টনারের পার্টিতে যাচ্ছি। পার্টিটা নাকি সমুদ্রের একটা বিলাসবহুল ইয়ট হবে। কোনোভাবে আজ রাতের জন্য এখানে একটু আসতে পারবেন? আই রিয়ালি মিস ইউ…”
মেসেজটা পাঠানোর মাত্রই উযাইনের ওপাশ থেকে এক গভীর আক্ষেপ মেশানো রিপ্লাই ভেসে উঠল—
—”আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি, লিটল বার্ড! আমি বড্ড বেশি ব্যস্ত এখানে। তোমরা এনজয় করো… আমরা কাল রাতেই ফিরছি।”
মেসেজটা পড়া মাত্রই ইনশিরার মুখটা আবার একরাশ অভিমানে ভার হয়ে গেল।
রাত তখন প্রায় সাড়ে ৮টা।
লন্ডনের সমুদ্র সৈকতের এক মায়াবী, নির্জন ভিআইপি ডকে এসে জাহিরের গাড়িটা থামল। ইনশিরা গাড়ি থেকে নেমে বাইরে তাকাতেই দেখল—সমুদ্রের কালো জলের ওপর ভাসছে এক প্রকাণ্ড, চোখ ধাঁধানো আলোয় সাজানো বিলাসবহুল বিশাল ইয়ট ইয়টের ডেক থেকে চমৎকার ভিন্টেজ মিউজিক আর আর্ট গ্যালারির মায়াবী আলো চারিদিকের কুয়াশাকে ভেদ করে ছড়িয়ে পড়ছে। সমুদ্রের কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া এসে ইনশিরার মেসি ব্যানের চুলে আর ওভারসাইজড শার্টে আছড়ে পড়ছিল সে জাহির আর ইরার হাত ধরে ধীর পায়ে সেই ইয়টের মেইন গ্যাংওয়ে পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল।
সমুদ্রের বুকে ভাসমান সেই বিলাসবহুল বিশাল ইয়টের ভেতরের পরিবেশ ছিল চোখ ধাঁধানো আলো আর আভিজাত্যে ভরপুর। লন্ডনের বড় বড় নামকরা বিজনেস টাইকুন, নামী চিত্রশিল্পী আর উচ্চবিত্ত সমাজের মানুষেরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইয়টের এক কোণে দাঁড়িয়ে, জাহির আর মা ইরা মিস্টার এডাম কোরটানের সাথে নতুন মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিজনেস ডিল নিয়ে কথা বলছিলেন।
ওদিকে ইনশিরা একা পুরো আর্ট এক্সিবিশনের হলরুমটা ঘুরে ঘুরে দেখছিল। চারিদিকে শত শত মানুষ অনর্গল হাসাহাসি আর হাই-প্রোফাইল আড্ডা দিলেও, ইনশিরার এই জমকালো পার্টিতে বিন্দুমাত্র ভালো লাগছিল না, কারণ এখানে তার কোনো চেনা বন্ধু বা চেনা মুখ নেই।
ইনশিরা যখন ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে উযাইনের পুরোনো মেসেজগুলো স্ক্রোল করতে করতে আনমনে হাঁটছিল ঠিক তখনই অন্যদিক থেকে আসা এক অসম্ভব সুদর্শন, লম্বা আর ড্যাশিং এক ব্রিটিশ যুবকের সাথে ওর তীব্র একটা ধাক্কা লেগে গেল। ধাক্কার চোটে ইনশিরার হাতের ফোনটা ছিটকে গিয়ে সোজা ইয়টের শক্ত কাঠের ফ্লোরে পড়ে স্ক্রিনটা মট করে একদম ভেঙে চুরমার হয়ে গেল!
ইনশিরার মেজাজ সেকেন্ডে এক্কেবারে সপ্তমে চড়ে গেল। সে ডাগর চোখ দুটো বড় বড় করে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চড়া গলায় চেঁচিয়ে উঠল—
—”হেই…! আর ইউ ব্লাইন্ড?! এভাবে কেউ ভেতরে হাঁটে?”
ইনশিরার এই আচমকা চড়া ধমক আর মতো রুদ্রমূর্তি দেখেও সেই সুদর্শন যুবকটি বিন্দুমাত্র রেগে গেল না। বরং সে নিজের ঠোঁটের কোণে অত্যন্ত ভদ্র ও মায়াবী এক মুচকি হাসি ফুটিয়ে খুব সাবধানে ফ্লোর থেকে ইনশিরার ভাঙা ফোনটা তুলে নিল। সে ফোনটা ইনশিরার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে এক অপার্থিব বিনয়ী চোখে তাকাল।আর মিটিমিটি হেসে, খুব ফ্লার্টিং স্টাইলে বলল—
—”আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি, মিস! চারপাশের এত সুন্দর সুন্দর পেন্টিং দেখতে গিয়ে আমি আসলে খেয়ালই করতে পারিনি যে আমার সামনে আস্ত একটা জীবন্ত পরী হেঁটে আসছে! এই ভুলের জন্য আপনি আমাকে যা শাস্তি দিবেন, আমি হাসিমুখে মাথা পেতে নিতে রাজি আছি !
এক বিদেশী যুবকের মুখে এতখানি কাব্যিক ও সুন্দর মার্জিত কথা শুনে ইনশিরা প্রথমটায় বেশ অবাক হলো, ওর ভেতরের রাগটা এক নিমেষে একটু কমে এলো। যুবকটি আর এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে নিজের একগাল চওড়া হাসি ধরে রেখে ইনশিরার দিকে নিজের ডান হাতটা বাড়িয়ে দিল
—”হাই! আই অ্যাম এলিন… এলিন কোরটান”
‘কোরটান’ সারনেমটা ইনশিরার ভুরুর মাঝখানটা হঠাৎ কুঁচকে গেল, সে তীব্রভাবে চমকে উঠল!
ইনশিরা অবাক হয়ে—
—”কোরটান…? মানে… আপনি কোরটান ফ্যামিলির কোনো মেম্বার?”
এলিন মাথা নেড়ে সায় দিয়ে খুব গর্বের সাথে বলল—
—”হুম, একদম ঠিক ধরেছেন। আজ রাতের এই গ্র্যান্ড ইয়ট পার্টির হোস্ট মিস্টার এডাম কোরটান হলেন আমার বাবা!”
ইনশিরা আর রাগারাগি করল না, যেহেতু লোকটা তার বাবার বিজনেস পার্টনারের ছেলে, তাই সৌজন্যতা আর ভদ্রতার খাতিরে সে নিজের হাতটা এলিনের বাড়িয়ে দেওয়া হাতের তালুর ওপর রাখল। সে নিজের ঠোঁটের কোণে হালকা এক চিলতে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে মার্জিত গলায় নিজের পরিচয় দিল—
—”আই অ্যাম ইনশিরা কায়নাত।”
ইনশিরার পুরো নামটা শুনে এলিন কোরটানের চোখের মণি দুটো এক প্রকাণ্ড বিস্ময় আর গভীর একরাশ মুগ্ধতায় সেকেন্ডে চকচক করে উঠল! সে ইনশিরার অনিন্দ্য রূপের দিকে অপলক চেয়ে থেকে এক অদ্ভুত সম্মোহিত গলায় বলল—
—”ইনশিরা কায়নাত…! আপনি কি মিস্টার জাহির কায়নাতের…?”
ইনশিরা নিজের হাতটা এলিনের হাত থেকে সরিয়ে নিয়ে মুচকি হেসে বলল—
—”হ্যাঁ, আমি ওনার মেয়ে।”
এলিন ইনশিরার এই মায়াবী হাসির দিকে তাকিয়ে নিজের মনের ভেতর এক তীব্র ভালো লাগার শিহরণ অনুভব করল। এই জমকালো পার্টিতে লন্ডনের উচ্চবিত্ত ঘরের মেয়েরা কত নামী ডিজাইনার পোশাক পরে এসেছে, কত সাজগোজ করছে—অথচ এই বাঙালি মেয়েটা এক্কেবারে সাধারণ একটা ক্যাজুয়াল লুকে সবার চেয়ে বেশি গর্জিয়াস আর কিউট লাগছে! তার ওপর ওর এই অবাধ্য ও রাগী স্বভাবটা এলিনের মতো এক প্লে-বয়ের বুকে এক অদ্ভুত ভালো লাগার শিহরণ তৈরি করল। এলিন ওয়েটারকে ডেকে ইনশিরাকে একটা ফ্রেশ সফট ড্রিংকসের গ্লাস অফার করে ওর সাথে আরও কিছুটা সময় অনর্গল গল্প আর আড্ডা দিতে লাগল।
ঠিক তখনই ইয়টের স্পিকারে মিউজিকের সুরটা বদলে গেল এবং পার্টির হোস্ট মাইক হাতে নিয়ে ঘোষণা করল—
—”Attention please, everyone! এখন আমাদের এই সমুদ্রের বুকে এক স্পেশাল কাপল ড্যান্সের সেশন শুরু হতে যাচ্ছে! সো, সবাই নিজের নিজের পার্টনার খুঁজে নিন!”
চারপাশের বড় বড় বিজনেসম্যান আর টাইকুনরা নিজেদের জুড়ি খুঁজে নিয়ে ইয়টের সুদৃশ্য ড্যান্স ফ্লোরের মাঝখানে এসে জড়ো হতে লাগল। এলিন কোরটান মুচকি, ইনশিরার সামনে এসে হালকা একটু নিচু হয়ে নিজের হাতটা বাড়িয়ে দিল—
—”উইল ইউ ড্যান্স উইথ মি, মিস কায়নাত?”
ইনশিরা ওনার এই হাত বাড়ানো দেখে এক সেকেন্ডে গম্ভীর হয়ে গেল। সে নিজের অনামিকার সেই উযাইনের দেওয়া আংটিটার দিকে তাকিয়ে সোজা মাথা নেড়ে দিল—
—”আই অ্যাম সো সরি, মিস্টার এলিন!”
ওদিকে উযাইন, ইনশিরার ফোন অনবরত ট্রাই করার পরও যখন ফোনটা বন্ধ পাচ্ছিল, ভেতরটা হঠাৎ এক অজানা আতঙ্কে ধক করে উঠল! সে জাহিরের নম্বরেও তিন-চারবার কল দিল, কিন্তু ব্যস্ততার কারণে জাহিরও কল রিভিস করল না। উযাইন ইনশিরার পাঠানো সেই শেষ লাইভ জিপিএস মেসেজটার ওপর ক্লিক করল। আর স্ক্রিনে ম্যাপের নামটা ভেসে ওঠামাত্রই ওনার পুরো শরীর যেন এক সেকেন্ডে বরফের মতো জমে গেল! স্ক্রিনে বড় বড় অক্ষরে লেখা— “Cortan Yacht, London Dock”
উযাইনের মাথার ভেতর এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটল! সে খুব ভালো করেই জানে এই কোরটান ইয়ট আর কেউ নয়—ওদের বিজনেসের শত্রু এডাম কোরটানের পার্সোনাল বিলাসবহুল জাহাজ। আর সেই এডাম কোরটানের ছেলে এলিন হলো লন্ডনের এক নামকরা প্লে-বয়, যে মেয়েদের জঘন্য ফাঁদে ফেলতে ওস্তাদ ! সে আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। সে এক ঝটকায় নিজের ডেস্কে থাকা ওডি গাড়ির চাবিটা তুলে নিয়ে প্রায় উঁড়ে আসার মতো ঝড়ের গতিতে পাশের শহর থেকে সোজা লন্ডনের সমুদ্র সৈকতের দিকে গাড়ি ছুটিয়ে দিল!
ওদিকে, এলিন কোনোভাবেই ইনশিরার এই ‘না’ মানতে চাইল না। সে ইনশিরার আরও এক ধাপ কাছে এগিয়ে এসে পরম মায়ায় আবদার করল—
—”প্লিজ বিউটিফুল… সবাই ফ্লোরে ড্যান্স করছে আর আমি এই পার্টির ওনার হয়ে একা এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকব? এটা বড্ড বেশি বেমানান দেখায় না বলো? জাস্ট ওয়ান ড্যান্স প্লিজ!”
ইনশিরা তাও অনড় হয়ে মাথা নাড়ছিল। ঠিক তখনই ওপাশ থেকে ইরা কফি কাপ হাতে নিয়ে ওদের আড্ডার কাছে এসে দাঁড়ালেন। ইরা এডাম কোরটানের ছেলেকে এতখানি রিকোয়েস্ট করতে দেখে ইনশিরার দিকে তাকিয়ে মৃদু ধমকের সুরে বললেন—
— “আরেহ ইনশি আম্মু, মিস্টার এলিন এত করে বলছেন, সৌজন্যতার খাতিরে ওনার সাথে একটু ফ্লোরে যা! এভাবে মানা করতে নেই।”
মায়ের জোরাজোরি আর এলিনের নাছোড়বান্দা আবদারের কাছে নিরুপায় হয়ে ইনশিরা চরম ইতস্তত করতে করতে, এক বুক অনিচ্ছা নিয়ে নিজের নরম ফরসা হাতটা আলতো করে এলিনের বাড়িয়ে দেওয়া হাতের ওপর সঁপে দিল। এলিন একরাশ বিজয়ের হাসি ফুটিয়ে ইনশিরার কোমর ছুঁয়ে ওকে নিয়ে সোজা সুদৃশ্য ড্যান্স ফ্লোরের একদম মাঝখানের স্টেজে গিয়ে রোমান্টিক মিউজিকের তালে তাল মেলাতে শুরু করল।
ঠিক সেই মুহূর্তে… ইয়টের মেইন এন্ট্রান্সের হন্যে হয়ে, তীব্র গতিতে ভেতরে প্রবেশ করল থ্রি-পিস ব্ল্যাক স্যুট পরা প্রফেসর উযাইন আবরার! ওর কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে, চুলগুলো বাতাসে ওলটপালট হয়ে আছে—ওনার সেই “ওয়াইল্ড লুক” আজ এক তীব্র আতঙ্কে এক্কেবারে কাঁপছে! উযাইন একহাতে অনবরত ইনশিরার বন্ধ নম্বরে কল দিচ্ছিল আর ভিড়ের মাঝে নিজের সেই চেনা বুনো ফুলের সুবাস হন্যে হয়ে খুঁজছিল।
হলরুমের শত শত বিজনেসম্যানের ভিড় ঠেলে সে যেই ড্যান্স ফ্লোরের স্টেজের দিকে নিজের চোখ জোড়া ফেরাল… ওর হৃদস্পন্দন পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল! ইনশিরা সেই প্লে-বয় এলিনের কাছাকাছি গিয়ে ওর হাত ধরে রোমান্টিক ড্যান্সের স্টেজে দুলছে!
নিজের বিবাহিত বউকে অন্য একটা পুরুষের বাহুর মাঝে ওভাবে ড্যান্স করতে দেখা মাত্রই প্রফেসরের ভেতরের সেই তীব্র ক্ষণিকের আতঙ্ক এক নিমেষে এক ভয়ংকর, বন্য ও রক্তচোষা বাঘের মতো প্রকাণ্ড রাগে পরিণত হয়ে গেল। ওর সেই মায়াবী আইস ব্লু চোখ দুটো রাগে এক সেকেন্ডে জলন্ত কয়লার মতো লাল হয়ে উঠল। সে নিজের দুই হাত মুঠো করে, চোয়াল শক্ত করে সোজা বাঘের মতো লম্বা লম্বা পা ফেলে ড্যান্স ফ্লোরের স্টেজের দিকে এক ভয়ংকর রুদ্রমূর্তি নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল!
ইনশিরা আর প্লে-বয় এলিন কোরটান একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হাসিমুখে কথা বলছে। শুধু তা-ই নয়, নাচের প্রতিটি তালে ও তালের ছন্দে এলিন অত্যন্ত চতুরতার সাথে ইনশিরার সরু কোমর আর পিঠের ওপর হাত রাখছে, আর ইনশিরা অন্য একটা পুরুষের এই স্পর্শে বিন্দুমাত্র আপত্তি না জানিয়ে স্বাভাবিক ভাবে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে ! উযাইন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিল এলিনের ওই চোখের তীব্র মুগ্ধতার আড়ালে কোনো পবিত্রতার ছিটেফোঁটাও নেই, সেখানে লুকিয়ে আছে শিকার করার আদিম নেশা!
নিজের বিবাহিত বউয়ের শরীরে অন্য একটা পুরুষ উযাইন আর এক মুহূর্তও নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। সে লম্বা লম্বা পা ফেলে ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেল ড্যান্স ফ্লোরের স্টেজের একদম মাঝখানে ঠিক তখন মিউজিকের একটা চমৎকার বিটের সাথে সাথে ফ্লোরের কাপলরা একটু আলাদা হয়ে নিজেদের পার্টনার চেঞ্জ করতে শুরু করল।
সেই সময়ের নিখুঁত সুযোগ নিল উযাইন। এলিন যখন ইনশিরার হাতটা ছেড়ে অন্য দিকে ঘুরল, উযাইন এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে এক্কেবারে বিদ্যুতের গতিতে নিজের একটা শক্ত বলিষ্ঠ হাত বাড়িয়ে ইনশিরার হাতটা খপ করে ধরে এক তীব্র ঝটকায় নিজের চওড়া বুকে আষ্টেপৃষ্ঠে টেনে নিল! ইনশিরা হুট করে এই অতর্কিত টানে চরম অবাক হয়ে গেল।
স্পর্শটা ওর চেনা মনে হলেও, এই ছোঁয়ায় কোনো কোমলতা ছিল না। উযাইনের হাতের মুঠোটা আজ এত বেশি শক্ত ও রুক্ষ ছিল যে ইনশিরার এক মুহূর্তের জন্য মনে হল, জোরালো চাপে ওর কবজিটা বুঝি এক্ষুনি মট করে ভেঙে বা মুচড়ে যাবে!
ইনশিরা নাচের মাঝেই তীব্র অসস্তি নিয়ে নিজের মুখটা ওপরে তুলল মানুষটার দিকে, কিছু একটা কড়া গলায় বলতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু উযাইনের মুখটা ইঞ্চিখানেক দূরে দেখামাত্রই ইনশিরার ঠোঁটের কোণে এক স্বর্গীয় লাজুক হাসি ফুটে উঠল!
ইনশিরা উযাইনের স্যুটের কলারটা নিজের আঙুল দিয়ে খামচে ধরে ফিসফিসাল—
—”উযাইন…? আপ…আপনি শেষপর্যন্ত এসেছেন তাহলে? আমি যে আপনাকে কত মি…”
ইনশিরা বাক্যটা শেষ করার কোনো সুযোগই পেল না। উযাইনের মুখাবয়ব তখন রাগে আর চরম পজেসিভনেসে থমথম করছে। সে ইনশিরার কোনো কথা না শুনে, এক ঝটকায় ও কে ড্যান্স ফ্লোরের সেই শত শত চেনা মানুষের ভিড় থেকে প্রায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে একপাশে চলে যেতে লাগল। উযাইনের এই গতি এত বেশি মার্জিত ও দ্রুত ছিল যে ইয়টের ভেতরে থাকা জাহির-ইরা বা বাকি বিজনেস টাইকুনদের কেউই হুট করে ওদের এই আড়ালে চলে যাওয়াটা বিন্দুমাত্র খেয়াল করতে পারল না।
উযাইন ইনশিরাকে টেনে নিয়ে সোজা করিডোরের শেষ মাথায় থাকা ইয়টের এক নির্জন, ঘুটঘুটে অন্ধকার “আর্ট কালেকশন অ্যান্ড রিসার্চ রুমে” গিয়ে প্রবেশ করল। রুমে ঢুকেই সে নিজের এক পা দিয়ে ধড়াস করে পেছনের ভারী কাঠের দরজাটা বন্ধ করে ভেতর থেকে সাউন্ডপ্রুফ অটো-লক হয়ে গেল!
উযাইন কৈফিয়ত চাইল না। সে এক পুরুষালী আসক্তি আর বন্য উন্মাদনায় ইনশিরাকে দেয়ালে চেপে ধরল। আর এক হাতে ওর গাল গুলো আকরে ইনশিরার ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটের দখলে নিল।
রুহ এ ইশক পর্ব ২৪
উযাইন তীব্র জেলাসি আর হিংস্র উন্মাদনায় তৃষ্ণনার্থ পতিকের মতো ইনশিরাকে এক দম বন্ধ করা বন্য ও পাগলাটে চু’ম্ব’ন করতে শুরু করল। ইনশিরার ঠোঁটে নিজের একচ্ছত্র কামনার অধিকার ফলাতে ফলাতেই অন্য হাত বাড়িয়ে এক সেকেন্ডে নিজের গায়ের ব্ল্যাক কোট আর টাইটা এক টানে খুলে ফ্লোরে ছুড়ে ফেলে দিল…..
