এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২১
ফাতেমা তুজ জোহরা
রুশভিয়ান কয়েক মুহূর্তে স্থির হয়ে শুয়ে থাকার পর তার ফোনটা কর্কশ শব্দে বেজে উঠলো । রুশভিয়ান জেগেই ছিলো সে হাতবাড়িয়ে বালিশের নিচ থেকে ফোনটা তুলতেই স্কিনে দেখতে পেল লেখা আছে হাবিব। রুশভিয়ানের মনে সে আসার সময় হাবিবকে বলে এসেছিলো রত্নকুঞ্জ যেতে,ওই ডেভিড যেকোন সময় চলে আসতে পারে রত্নকুঞ্জ । রুশভিয়ান সময় ব্যয় না করে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই তার মুখের স্থিরতা কমে এলো, চোয়াল শক্ত এলো আচানাক। রুশভিয়ান বিছানায় থেকে উঠে বসে ফোনটা কেটে ছুটলে দরজার দিকে ফোনের কথা আর শুনলো না সে।
রত্নকুঞ্জের মুল ফটকের সামনে গাড়ির থামার আগেই রুশভিয়ান গাড়ি থেকে নেমে এলো, তার পিছু পিছু নামলো আমির। সারা রাতের অন্ধকার তখন ও পুরোপুরি কাটেনি। বিশাল রত্নকুঞ্জের চারপাশে একধরনের অস্বস্তিকর নীরবতা জমে আছে। অথচ রুশভিয়ানের কাছে সেই নীরবতা যেন চি*ৎ*কা*রে*র মতো লাগছিলো। সে দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকলো। এরইমধ্যে হাবিব তার ছোটখাটো শরীরটাকে নিয়ে ছুটতে ছুটতে এলো রুশভিয়ানের সামনে।এসেই অস্থির কন্ঠে বলল,” স্যার আমি এসে দেখছি রত্নকুঞ্জের সকল পাহারাদার এমনকি চাকর গুলো ও অ*জ্ঞান হয়ে নিচে পড়ে আছে। কারো অবস্থা সেরকম ভালো না আমি সকলকেই রুপনগর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে… হাবিবের কথা শেষ হওয়ার আগেই রুশভিয়ান হুংকার ছেড়ে বলল, ” ইনান আছে ?
হাবিব হকচকিয়ে গেল এমন প্রশ্নে, সে এতকিছুর মধ্যে খেয়াল করেনি ম্যাডাম তার ঘরে আছে কি নেই। রুশভিয়ান হাবিবের কলারটাকে শক্ত করে চে*পে ধরে হি*স*হি*সি*য়ে বলল,” কি হইলে বল আমার ইনান আছে? রুশভিয়ানের আঙুল গুলো হাবিবের কলারে আরও শ*ক্ত করে চে*পে ধরল। হাবিবের ছোটখাটো শরীরটা প্রায় মাটি থেকে উঠে আসার উপক্রম। রুশভিয়ানের চোখের দিকে তাকানোর সাহসটুকু ও যেন অবশিষ্ট নেই । সেই চোখে এমন এক ভ*য়ং*ক*র অস্থিরতা, যা হাবিব বহুবার দেখছে রুশভিয়ানের শ*ত্রু*র দের জন্য। হাবিব তোতলাতে তোতলাতে বলল,” স্য…. স্যার ….. আমি..
রুশভিয়ান র*ক্তি*ম চোখ তার দিকে তাক করে বলল,” বল কি হইছে?
হাবিব শুকনো ঢোক গিলে বলল,” স্যার…. আমি আসার পর কাউকে স্বাভাবিক অবস্থা পায়নি। সবাই অ*জ্ঞা*ন হয়ে পড়েছিলো। আমি আগে তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। ম্যাডামের ঘরটাও…
—ঘরটাও কি
হাবিব কাঁপতে কাঁপতে বলল,” আমি ….. আমি দেখিনি স্যার!
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই রুশভিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। হাবিবকে সর্বশক্তি দিয়ে নিচে আ*ছ*রে ফেলে ।রুশভিয়ান চোখ বন্ধ করলো নিজেকে সামলানোর জন্য।মনের মধ্যে অজানা ভ*য় বাসা বাঁধলো ইনান কে ঘরে গিয়ে পাবে তো নাকি আবারো ,, রুশভিয়ান আর ভাবতে পারলো না । ঝট করে চোখ খুলে পাশ থেকে বড় ফুলদানিটা তুলে মেঝেতে আ*ছ*রে ফেলল। ঝনঝন শব্দে কাঁচের টু*ক*রো গুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো।
আমির তার ভাইয়ের কর্মকান্ড গুলো এতক্ষণ নিরব হয়ে দেখছিলো। সে বুঝতে পারছে তার ভাইয়ের ক্রো*ধ আর রা*গে*র সীমায় নেই। তার বুকের ভেতরে ইনানকে হারানোর আ*ত*ঙ্ক বাসা বেঁধেছে। আমির কয়েক পা এগিয়ে এসে নিচু গলায় বলল, ” ভাই ঘরে চলেন, ভাবি হয়তো ঘরে থাকতে পারে, হেই তো ঘর থেইকা বাইর হয় না ” কথাগুলো বলে রুশভিয়ানের দিকে তাকালো। আমিরের কথাগুলো রুশভিয়ানের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হলো তাই আর দেরি না করে ঘরের দিকে হাঁটা ধরলো ।
রুশভিয়ান দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল ইনানের ঘরে। আমির আর হাবিব পিছনে পিছনে । করিডোরটা তখন অস্বাভাবিক নিরব। সাধারনত এই সময় রত্নকুঞ্জের ভেতরে কাজের লোকজনের চলাফেরা,রান্নাঘর থেকে বাসনপত্র শব্দ কিংবা পাহারাদারদের কথাবার্তা শোনা যায়। কিন্তু আজ পুরো প্রাসাদটা নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। রুশভিয়ানের প্রতিটি পদক্ষেপের শব্দ সেই নিরব করিডোরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল ।
ইনানের ঘরের সামনে আসতেই রুশভিয়ান এক মুহুর্ত থমকে দাঁড়াল । দরজাটা বন্ধ হয়ে আছে। রুশভিয়ানের বুকের ভেতর অজানা এক আ*শ*ঙ্কা হঠাৎ আর ভারী হয়ে গেল। সে হাত বাড়িয়ে দরজার হাতল ঘুরিয়ে দিল। দরজা খুলেই হাঁক ছাড়লো ইনান বলে।
কোন উত্তর নেই
রুশভিয়ান ঘরের ভেতর ঢুকে চারদিকে তাকালো। বিছানা গোছানো, জানালার পর্দা সামান্য দুলছে। কোনার চেয়ারে পড়ে আছে ইনানের একটি ওড়না। রুশভিয়ান কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে ওড়নার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর দ্রুত গিয়ে ওড়নাটাকে তুলে নিলো। আঙ্গুলের ফাঁকে শক্ত করে ওড়নাটাকে চেপে বিরবির করে বলল,” ইনান” আজকে রুশভিয়ানের কন্ঠে কোন ক*ঠো*র*তা নেই,রয়েছে শুধু চাপা অ*স্থিরতা।
সে ওড়নাটাকে হাতে জড়িয়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গিয়ে কম্বল সরিয়ে দেখলো, আলমারীর দরজা গুলো ভালো করে খুলে দেখলো। তার সাজানো গোছানো শার্ট লুঙ্গি গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলল মেঝেতে। অ*স্থির ভাবে বাথরুমে ছুটলো কেউ নেই সব ফাঁকা হয়ে পড়ে আছে। রুশভিয়ান থামলো না খাটের নিচ,প্রতিটি পর্দার আড়ালে, স্টোর রুমে, অতিথি কক্ষে, দোতালার করিডোরে, সিঁড়ির নিচে ছোট ঘরে, রত্নকুঞ্জের প্রতিটা ঘর দেয়াল তন্ন তন্ন করে তারা তিনজনে খুঁজে ফেলল কিন্তু কোথাও ইনানকে খুঁজে পেল না।
রুশভিয়ান পা*গ*লে*র মতো চিৎকার করে, ” ইনান বলে ডাকলো। পুরো রত্নকুঞ্জের দেয়াল কেঁপে উঠলো তার ডাক শুনে। কোথাও থেকে কোন উত্তর আসছে না, সবদিকে শূন্যতাতে ঘেরা। রুশভিয়ান মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে গেল। মনের মধ্যে একটাই প্রশ্ন জাগলো এই গার্ডগুলো কে ঘুমের ওষুধ দিলো ইনান,, নাকি ডেভিডের ষড়যন্ত্র । রুশভিয়ান লাল টকটকে চোখ গুলো নিয়ে আমিরের দিকে তাকিয়ে বলল, ” সব গুলান সিসিটিভি ক্যামেরা চেক কইরা দ্যাখ আমি কি হইয়া ছিলে আমি না থাকাতে এই রত্নকুঞ্জে?
আমির বড় ভাইয়ের আদেশ পাওয়া মাত্র ছুটলো কন্ট্রোল রুমে।
রুশভিয়ান কিয়তক্ষন বসে থাকার পর মনে পড়লো বারান্দার কথা, যেখানে ইনান সবসময় বসে থাকে, হয়তো আজকে ও আছে সে দেখতে পায়নি । তাই সে দ্রুত এগিয়ে গেল বারান্দার দিকে। বারান্দায় পা রাখতেই তার দৃষ্টি আটকে গেল মেঝেতে। মেঝেতে কয়েকটি গোলাপের পাপড়ি পড়ে আছে। তারপাশেই বড় সোফাটা উল্টে পড়ে আছে, পাশেই একটা বড় ফুলদানি পড়ে আছে নিচে। রুশভিয়ান বুঝতে পারলো এগুলো ইনানের কাজ না, এখানে কেউ এসেছিলো।
এরইমধ্যে হন্তদন্ত হয়ে আমির ছুটে এসে রুশভিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,” ভাই সিসিটিভি কাজ করতেছে না, কেমন জানি ঝিরঝির করতাছে?
রুশভিয়ানের কপালে ভাঁজ পড়লো সিসিটিভি কেন ঝিরিঝিরি আসবে, কয়েকদিন আগেই সব লাগানো হয়েছে ইনানকে চোখে চোখে রাখার জন্য। রুশভিয়ান এগিয়ে গেল কন্ট্রোল রুমে ।
রত্নকুঞ্জের কন্ট্রোল রুমে বসে আছে রুশভিয়ান ।সামনে একসঙ্গে জ্ব*ল*ছে অনেকগুলো মনিটর । একটা মুলফটক, একটা করিডোরে,একটা সিঁড়িতে,একটা বাগানে, একটা বারান্দায়। রুশভিয়ান সামনের দিকে ঝুঁকে বসে আছে। তার চোখে শুধু একটাই অনুসন্ধান ইনান কোথায় গেল।
রুশভিয়ান হাবিবের উদ্দেশ্য বলল, ” একটু আগাইয়া দাও ”
হাবিব তাই করলো কিন্তু লাভের লাভ কিছু হলো না। যেটুকু সময় সে রত্নকুঞ্জে ছিল না, সেটুকু সময় নেই। সব কেমন ঝিরঝির করছে। রুশভিয়ানের মাথায় আ*গু*ন জ্ব*লে উঠলো। সে হাতের কাছের কাগজ গুলো টেবিল থেকে নিচে ফেলে কন্ট্রোল রুম থেকে বেরিয়ে গেল। সামনে বার ফুটেজ চেক করার কারনে বুঝতে পেরেছিলো ইনান কোন দিকে গিয়েছে আর এবার কি করে বুঝবে ইনান কোথায় গেল।
এরপর রুশভিয়ানের আদেশে পুরো আরো লোকজন এনে রাতের মধ্যেই রত্নকুঞ্জের দরজা ভা*ঙা হলো, তালাগুলো ভালো ভাবে চেক করলো, পুরো ফ*রে*ন*সিক* টিম ডেকে পুরো রত্নকুঞ্জের দেয়ালে, মেঝোতে চিরুনি তল্লাসি চললো হাতের ছাপ পাওয়া জন্য। এমনকি রুশভিয়ান তার ঘরটাও বাদ দেয়নি।
রুশভিয়ান বড় একটা দা” নিয়ে বাড়ির পেছনের জঙ্গল গুলো কেটে ফেলছে ,সাথে পুকুরঘাট,পরিত্যাক্ত গুদাম ঘর, পেছনের দালান, গ্যারেজ সবকিছু হন্য হয়ে খুঁজতে লাগলো রুশভিয়ান ।এই রাতের বেলায় যদি আশেপাশে কোথাও ইনান লু্কিয়ে নয়তো কোন প্রমান পাওয়া গেল। চারপাশের লোকজন রুশভিয়ানের এমন পা*গ*লা*মী দেখে অবাক। যে তার মায়ের স্মৃতি এই রত্নকুঞ্জে একটা আঁচড় আসতে দেয়নি সে কি না আজকে একটা মেয়ের জন্য পুরো রত্নকুঞ্জ ভা*ঙ*ছে।
রুশভিয়ান উন্মাদের মতো নিচে বসে আছে , চুল গুলো বড্ড এলো মোলো হয়ে আছে তার। মাথায় শুধু একটা কথায় ঘুরছে ইনান কই গেল, তার থেকে কিছুদূরে ফ*রে*ন*সিক লোকগুলো মুখে মাস্ক লাগিয়ে রত্নকুঞ্জের প্রতিটি জিনিসপত্র খুঁটিনাটি করে দেখতে ব্যস্ত।
পরক্ষণেই রুশভিয়ান দুইহাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো। তার শ্বাস ভারী, চোখ র*ক্তা*ভ, চোয়াল শক্ত।
যে মানুষটা নিজের আবেগকে কখনো প্রকাশ্য আসতে দেয়না। আজ সেই মানুষটার সমস্ত কিছু নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গিয়েছে। রুশভিয়ান কিছুক্ষণ পর আমিরের দিকে তাকিয়ে গমগমে স্বরে বলল,” রুপনগর ঘিরা ফ্যাল? একটা গলিও বাদ যাবে না, ব্যাসস্ট্যান্ড,হাসপাতাল, নদীর ঘাট, প্রতিটি বাজার,প্রতিটি মোড়,প্রতিটি নির্জন রাস্তা সব ঘেইরা নেয়। ওই বা*ন্দি*র বাচ্চারে নিয়া আয় ” রুশভিয়ান শেষের কথাটা খুব আস্তে স্বরে বলল।
রাত পেরিয়ে ভোর হলো, রুপনগরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত গাড়ি ছুটলো। লোকজন ইনানের ছবি নিয়ে ছুটলো। কেউ আবার দেকান দার দের জিজ্ঞেস করলো। প্রায় সব জায়গায় খোঁজা শেষ কিন্তু ইনানের কোন খোঁজ খবর নাই। কেউ কোন উত্তর দিতে পারলো না। আর প্রতিবারই ফলাফল ইনান নেই।
রুশভিয়ান শূন্যচোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। সে মুলত রুপনগরের হাসপাতালের সামনে গাড়ির উপরে বসে আছে । হাতে এখনো ইনানের ওড়নাটা বাঁধা আছে। একরাতের ব্যবধানে চোখের নিচে জমা হয়েছে কালির আস্তরন, মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে, চুল গুলো এলোমেলো হয়ে কপালে লেপ্টে আছে তার। রুশভিয়ান ঠোঁটে কখন ব্যা*থা*তুর হাসি ফুটে উঠছে কখনো আবার সেটা মিলিয়ে গিয়ে চোয়াল শক্ত করে নিচ্ছে।
রুশভিয়ান কে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে দশজন গার্ড তাদের মধ্যে আলি,হাবিব,আর আমির ও আছে। আমিরের চোখের কোনে পানির কণা, সে ভেবেছিলো তার ভাই হয়তো এবার একটি সুখের মুখ দেখতে পাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবার তার ভাইয়ের হৃদয় টা টুকরো টুকরো হয়ে ভে*ঙে গেল।
এই জীবনে তুমি ক*ষ্ট ছাড়া কিছুই পাবে না রুশভিয়ান,আর এটা হওয়ার ছিলো। তুমি জানো বন্দি পাখি কখনো পোষ মানে না। আজকে তার প্রমান হলো তোমার বউ ইনান মির্জা… কথাগুলো একনাগাড়ে বলতে বলতে রুশভিয়ানের দিকে এগিয়ে এলো ডাক্তার সায়েরা বেগম। যিনি এর আগে ইনান কে চিকিৎসা করতে রত্নকুঞ্জে গিয়েছিলো।
রুশভিয়ান সায়েরা বেগমের কন্ঠ শুনে একটু ও ঘাবড়ালো না, বরং একই রকমভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।
সায়ের এগিয়ে এসে রুশভিয়ানের হাত থেকে ব*ন্দু*ক*টা কেড়ে নিয়ে মুচকি হেঁসে বলল,” তা এই ব*ন্দু*ক দিয়ে কাকে মা*রা*র জন্য বের হয়েছো রুশান? নিজেকে নাকি কোন নিরীহ মানুষকে! ও হো সরি সরি তুমিতো আবার নিজেকে মা*র*বে না, মা*র*লে কোন নিরীহ লোককে মারবে ” কথা গুলো বলেই সায়েরা বেগম রুশভিয়ানের দিকে তাকালো। রুশভিয়ান কোন হেলদোল নেই, সে একবারে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে। সায়েরা বেগম আর কিছু বলল না তাদের পাশকাটিয়ে চলে যেতে নিলেই রুশভিয়ান স্ফু*লি*ঙ্গে*র ন্যায় বলল,” দাঁড়ান !
সায়েরা বেগমের পা থমকে গেল, সে ঘাড় ঘুরিয়ে রুশভিয়ানের দিকে তাকাতেই রুশভিয়ান গাড়ি থেকে নেমে এসে সায়েরা বেগমের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,” আমার বউরে দিয়া দেন?
সায়েরা বেগম ঠোঁটে বাঁকা হাসি, সে রুশভিয়ানের দিকে খানিক ঝুঁকে এসে বললো, ” তোমার কোন এ্যাঙ্গেল থেকে মনে হলো ইনান আমার কাছে আছে?
রুশভিয়ান সায়েরা বেগমের হাত থেকে বন্দুকটা কেড়ে নিতে নিতে বলল,” নাই কইছেন, নাকি লুকাইয়া নিজের বোনের প্র*তি*শো*ধ নিতে চাইছেন? বলেই ক্রুর হাসি ফুটে উঠলো রুশভিয়ানের মুখে।
এই পর্যায়ে সায়েরা বেগমের ফর্সা মুখ রা*গে লাল টকটকে হয়ে গেল। সে জোরে চি*ৎ*কা*র করে বলল,” সংযত হয়ে কথা বল বে*য়া*দ*প, আমি কেন ওই পা*পি*ষ্ঠ নারীর জন্য প্রতিশোধ নিতে যাবো।কিয়তক্ষন থেমে বলল, ” নাকি তুই নিজেই ইনানকে মে*রে ফেলে নাটক করে লোকজন নিয়ে খুঁজতে বের হয়েছিস,আর তোর দ্বারা এগুলো ডাল ভাত যে প্রথম স্ত্রী কে মা*র*তে পারে সে আরেকটা স্ত্রী কে মা*র*তে পারবে না এটা কোন কথা হলো।
রুশভিয়ান চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, চোখ দুটো বড় বড় করে সায়েরার দিকে তাকালো। সায়েরা থোড়াই না তার চোখকে পাত্তা দিলে, সে ও একভাবে রুশভিয়ানের দিকে তাকিয়ে রইলো।
ইতিমধ্যে আশে লোকজন জমা হতে শুরু করেছে।সায়েরা সবার দিকে একবার তাকিয়ে চলে যেতে নিলেই রুশভিয়ান শান্ত গলায় বলল, ” বেশি প্যাঁচাল লাগাইনা, আমার বউরে দিয়া দেন, না হইলে আপনার ছেলেরে কলেজ থেইকা তু*ই*লা আনমু?
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২০
সায়েরা পিছু না ফিরেই বলল,” যা পারবি কর! আই ডোন্ট কেয়ার, আর তোর বউ যদি আমার কাছে আসতো তাহলে আমি তাকে কোনদিনও তোর মতো জা*নো*য়া*রে*র হাতে তুলে দিতাম না” সায়েরা কথাগুলো বলে হনহন করে চলে গেল সামনে।
আমির রুশভিয়ানের কাছে গিয়ে আস্তে আস্তে বলল,” ভাই ইনি কি ভাবি রে লইয়া গিয়েছেন?
রুশভিয়ান মুখে কিছু না,শুধু মাথা নাড়িয়ে না বোঝালো। পরক্ষণেই বলল, ” গাড়ি ঢাকার দিকে নে আমির, হয়তো ইনানরে পা*চা*র কইরা দিতে পারে ওই তিয়াসা
