Home রুহ এ ইশক রুহ এ ইশক পর্ব ২৭

রুহ এ ইশক পর্ব ২৭

রুহ এ ইশক পর্ব ২৭
আনান রোজ

“এখন নিজের চোখে ভালো করে দেখো! তোমার নখ দিয়ে আমার পুরো পিঠ আর বুক এভাবে ক্ষতবিক্ষত করে রেখেছ! এবার তুমিই বলো… বন্য অত্যাচারের প্রতিশোধ আমার আর কতক্ষণ এবং কীভাবে নেওয়া উচিত?”
ইনশিরা ওনার পিঠের সেই লতার মতো লাল আঁচড়ের চাক্ষুষ প্রমাণ আর ওনার এই মোক্ষম প্রতিশোধের দাবি দেখে এক সেকেন্ডে এক্কেবারে থতমত খেয়ে গেল। সে লজ্জায় আর অপ্রস্তুত ভাবনায় নিজের মুখ লুকিয়ে কী বলবে কিছুই বুঝতে পারছিল না।
ঠিক তখনই… রুমের দরজার বাইরে এক ভারী বুটের আওয়াজ পাওয়া গেল এবং দরজার ওপর খটখট করে দুটো ফর্মাল নক পড়ল। দরজার এই হঠাৎ আওয়াজে ইনশিরার হৃদস্পন্দন এক লাফে থমকে দাঁড়াল, ওনার আব্বু-আম্মু এসে গেছে ভেবে ওর মুখের ভেতরের সব নালী এক সেকেন্ডে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল!
এসিস্ট্যান্ট দরজার ওপাশ থেকে অত্যন্ত মার্জিত ও ফর্মাল গলায় বলল—

—”Excuse me, Boss! গাড়ি প্রস্তুত, বাইরে আছে। সিগন্যালের জন্য ওয়েট করছি।”
উযাইন দরজার ওপাশে কোনো কথা না বলে নিজের চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করে ইনশিরার দিকে তাকাল। সে অত্যন্ত ফর্মাল ও কড়া গলায় ইনশিরাকে বলে—
—”ইনশিরা, ওই ড্রয়ারে তোমার জন্য একটা নিউ ড্রেস রাখা আছে। জাস্ট পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাইরে রেডি হয়ে চলে এসো, আমরা এখনই এই ইয়ট থেকে বের হব, হারি আপ।
বলেই উযাইন নিজের জ্যাকেটটা হাতে নিয়ে হনহনিয়ে রুম থেকে বের হয়ে চলে গেল। প্রায় আধা ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। সমুদ্রের সেই বিলাসবহুল ইয়ট আর ডক এখন অনেকখানি পেছনে ফেলে উযাইনের সেই পরিচিত কালো অডি গাড়িটা হাইওয়ে দিয়ে নিজের আপন গতিতে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে। ইনশিরা তীব্র চিন্তিত, উৎকণ্ঠিত ও কাঁপানো গলায় ল্যাপটপে মগ্ন উযাইনের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল—
—”উযাইন..?! আ…আম্মু আর আব্বু কোথায়? উনারা কই গেলেন?! কাল রাতের পর থেকে তো উনাদের আর কোনো খোঁজ পেলাম না! উনারা কি আমাদের এই নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার কথা জেনে গেছেন?
ইনশিরার উৎকণ্ঠিত প্রশ্ন শুনে প্রফেসর উযাইন আবরার নিজের ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরাল না। সে নিজের চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করে এক অত্যন্ত শান্ত, বরফ শীতল অথচ চতুর গলায় জবাব দিল—

—”রিল্যাক্স, ইনশিরা! ওরা একটু পরেই বাসায় ফিরে যাবে। আমি সব সামলে নিয়েছি, সো প্যানিকড হওয়ার কোনো কারণ নেই ।”
উযাইনের এই লজিক্যাল উত্তর শুনে ইনশিরা একটা স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার সিটে হেলান দিল। এর কিছুক্ষণের মাঝেই ওনাদের কালো অডি গাড়িটা এসে পার্কিং লটে থামল। সে ইনশিরাকে নিজের বলিষ্ঠ বাহুর ওপর কোলে তুলে নিয়ে সোজা নিজেদের বেডরুমের দিকে হেঁটে গেল। রুমে ঢুকে সে ইনশিরাকে বেডের ওপর বসিয়ে দিল। বসিয়ে দিয়েই সে ইনশিরার চোখের দিকে এক গভীর মায়া নিয়ে তাকিয়ে খুব নিচুে বলল—
—”কাল রাতের জন্য… আই অ্যাম রিয়ালি সরি, লিটল বার্ড ।”
কিন্তু ‘সরি’ বলার ঠিক এক সেকেন্ড পরেই ওর মুখটা আবার এক তীব্র গম্ভীর ও কঠোর পুরুষালী সত্ত্বায় রূপ নিল । সে নিজের দুই হাত বাড়িয়ে আলতো করে ইনশিরার দুটো গোলগাল ফর্সা গাল নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরে হালকা চাপ দিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলল—

—”তোমাকে শেষবারের মতো বলছি, ইনশিরা… অন্য কোনো ছেলেদের সাথে বেশি ক্লোজনেস করা আমার পছন্দ না! জাস্ট স্টে ইন ইয়োর লিমিটস!”
ইনশিরা ভ্রু কুঁচকে, এক বুক অভিমান নিয়ে চোখ রাঙিয়ে বলল—
—”কীসের ক্লোজনেস, হ্যাঁ? কই… আমি তো নিজের ইচ্ছেয় কারও সাথে ওমন কিছু করতে যাইনি…”
উযাইন ইনশিরার ঠোঁটের ওপর নিজের একটা আঙুল আলতো করে স্লাইড করতে করতে, এক তীব্র হিংস্রতা মিশানো গলায় ফিসফিসাল—
—”আমি কোনো এক্সকিউজ শুনতে চাই না! তুমি জীবনে যাই করো না কেন, আমাকে কখনোই কোনো বিষয়ে বিন্দুমাত্র মিথ্যা বলবে না! রিমেম্বার… ইউ আর মেরিড নাও, অ্যান্ড আই অ্যাম ইউর অফিশিয়াল হাজবেন্ড!
ইনশিরা উযাইনের এই অতিরিক্ত ডমিনেন্টিং রূপ আর কড়াকড়ি দেখে ধড়ফড়িয়ে উঠে বলল—

—”আপনি… আপনি হটাৎ আমার সাথে এত কড়াভাবে কেন কথা বলছেন, উযাইন সাহেব? আমাকে এত বেশি রেস্ট্রিকশন কেন দিচ্ছেন আপনি, হ্যাঁ?”
উযাইন ইনশিরার এই রাগী কিউট মুখটার দিকে তাকিয়ে নিজে আরও একটু এগিয়ে নিয়ে এলো। সে নিজের তপ্ত ঠোঁট জোড়া দিয়ে ইনশিরার নরম ঠোঁটের ওপর গভীর ও আলতো একটা মিষ্টি চুমু দিল। চুমু দিয়ে সে ইনশিরার কানের লতির কাছে নিজের মুখ এনে এক মরণজয়ী অমোঘ কণ্ঠে—
—”তোমাকে আগেই বলেছি, পাখি… তুমি যদি এক বিন্দুও দূরত্ব চাইও, তবে এই পুরো দুনিয়াটা মুহূর্তেই ছোট হয়ে যাবে!”
বলেই উযাইন ইনশিরাকে আর কোনো তর্ক বা ডিল মেলানোর সুযোগই দিল না। সে নিজের জ্যাকেটটা হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে রাগে ও তীব্র পজেসিভনেসে গজগজ করতে করতে রুম থেকে হনহনিয়ে বেরিয়ে নিজের স্টাডি রুমের দিকে চলে গেল।

উযাইন চলে যাওয়ার পর প্রায় একটা পুরো ঘণ্টা পার হয়ে গেল। সকাল ৮টায় হন্তদন্ত হয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলেন, জাহির আর ইরা।
ওদিকে ইনশিরা তখন নিজের মিররের কাছাকাছি মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে ওরনা টা হালকা সরিয়ে কাল রাতের দেওয়া উযাইনের সেই বন্য কাম’ড়ের লাল লাল দাগগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। সে প্রতিটি ক্ষত চিহ্নের ওপর হাত বোলাতে বোলাতে তীব্র এক লজ্জায় আর এক অপার্থিব আদিম শিহরণে নিজের মনে মনে কুঁকড়ে উঠে বিড়বিড় করে বলছিল—

—আ…আমরা কাল রাতে ওমন একটা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেললাম এই ৩৮বছরের লোকটা যে এত বেশি বেহায়াপনা করতে পারে বন্ধ ঘরের আড়ালে… ছি ছি! আস্ত একটা জংলী, উফফ!”
ঠিক তখনই… করিডোর দিয়ে তীব্র গতিতে হেঁটে আসার এক চেনা পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল এবং দরজার পর্দা ঠেলে এক ঝটকায় ইনশিরার ঘরের ভেতর প্রবেশ করলেন ইরা!
ইরা চরম ব্যাকুল ও চিন্তিত মুখে ইনশিরার একদম কাছাকাছি ছুটে এসে বললেন—
—”কিরে ইনশি আম্মু?! কী হয়েছে তোর সোনা? শরীর ঠিক আছে তো তোর?”
ইরার কন্ঠে ইনশিরার মগজে যেন এক বিশাল বজ্রপাত হলো! সে তীব্র আতঙ্কে আর লজ্জায় থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে ঝট করে নিজের গায়ের ওড়নাটা টেনেটুনে গলার কাছে এক্কেবারে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে ঢেকে ফেলল। সে মায়ের দিকে তাকিয়ে নিজের থতমত খাওয়া ফেসটা লুকাতে পারল না, কী বলবে কিছুই বুঝতে পারছিল না।
ইনশিরা চরম তোতলামির স্বরে, ফ্যাকাশে মুখে আমতা আমতা করে বলল—

—”ক… কী… কী হ… হবে আম্মু? আমার আবার কী হবে? আমি তো ভালোই আছি…!”
ইরা ইনশিরার কপালে হাত দিয়ে তাপমাত্রা চেক করতে করতে বললেন—
—”ভালো আছিস মানে? কাল ড্রাইভার হঠাৎ আমার আর তোর আব্বুর ফোনে একটা আর্জেন্ট মেসেজ পাঠিয়ে বলল— তুই অসুস্থ বোধ করছিস বলে চলে এসেছিস। তা এখন কেমন বোধ করছিস, মা?”
এসব শোনামাত্রই ইনশিরা এক সেকেন্ডে মনে মনে প্রফেসরের বুদ্ধির তারিফ করে এক বড়সড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল! সে নিজের তোতলামি সামলে নিয়ে এক গাল বানিয়ে হাসার ভান করে মাথা নেড়ে বলল—
—”হ… হ্যাঁ আম্মু! আসলে… আসলে কাল রাতে ওই সমুদ্রের ঠাণ্ডা আর তীব্র বাতাসের কারণে আমার হুট করেই বড্ড বেশি মাথা ব্যথা করছিল!”
ইনশিরার এই জোড়াতালির ডিফেন্স আর মিথ্যা গল্প শুনে ইরা শেষপর্যন্ত পরম মায়ায় মুচকি হেসে সায় দিলেন। তবে জানলার কাঁচের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা উযাইন আবরার করিডোর থেকে ইনশিরার এই তোতলামি আর মায়ের সামনে মিথ্যা বানানোর কিউট রূপটা দেখে ওর ঠোঁটের কোণে এক তীব্র বিজয়ী হাসি খেলে যাচ্ছিল !
ইরা ইনশিরার মাথায় আর একবার পরম মমতায় হাত বুলিয়ে—

—”তুই একটু রেস্ট নে মা, আমি কিচেন থেকে তোর জন্য গরম সুপ নিয়ে আসছি,”
বলে ঘর থেকে বের হয়ে চলে গেলেন । ইরা চলে যাওয়ার ঠিক দুই সেকেন্ডের মাঝেই ইনশিরার ঘরের ভেজানো দরজাটা হুট করে আবার এক ইঞ্চি ফাঁকা হলো। ইনশিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই, এক লম্বা ফরসা হাত ভেতরে এসে এক ঝটকায় দরজাটা নিঃশব্দে একদম বন্ধ করে দিল!
ইনশিরা তীব্রভাবে চমকে উঠে মিররের আড়াল থেকে তাকিয়ে দেখল— উযাইন অত্যন্ত শান্ত ও চতুর পায়ে ওর দিকেই এগিয়ে আসছে! ওর ঠোঁটের কোণে তখন সকালের সেই কুখ্যাত ও মারাত্মক চতুর হাসিটা স্পষ্ট হয়ে ঝুলছে।
ইনশিরা নিজের ওড়নাটা গলার ওপর আরও শক্ত করে চেপে ধরে, চোখ রাঙিয়ে ফিসফিসাল—

—” এখন আবার আমার রুমে এভাবে চোরের মতো ঢোকার কী দরকার ছিল? আব্বু-আম্মু কিন্তু একদম পাশের রুমেই আছে!”
উযাইন ইনশিরার একদম কাছাকাছি নিজের শরীরটা লেপ্টে দিয়ে, কড়া গলায় বলল—
—”মালিকের এক্টিং স্কিল দেখে এই দাস তো, একদম মুগ্ধ হয়ে গেছে ! তোমার কি আসলেই কাল রাতের ওই সমুদ্রের ঠাণ্ডা বাতাসে বড্ড বেশি ‘মাথা ব্যথা’ করছিল?”
বলেই উযাইন ইনশিরার কোনো বারণ বা উত্তর পাত্তাই দিল। সে নিজের হাত বাড়িয়ে এক ঝটকায় ইনশিরার সেই ফর্সা গলার ওপর চেপে রাখা ওড়নাটা এক টানে একপাশে সরিয়ে দিল। ওড়নাটা সরতেই নিজের দেওয়া কাল রাতের সেই লাল টকটকে বন্য কা’মড়ের দাগগুলো দিনের আলোয় আবার স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠল । উযাইন নিজের আঙুলটা ইনশিরার গলার সেই মায়াবী ক্ষতের ওপর খুব কড়াভাবে স্লাইড করতে করতে এক তীব্র হিংস্রতা ও নেশাতুর গলায় ফিসফিসাল—

—”আজ সকালের রিমাইন্ডারটা কিন্তু তুমি এখনও নিজের মাথায় ভালো করে ঢোকাওনি, ইনশিরা?
এদিকে ইনশিরা উযাইনের এই অতিরিক্ত ডমিনেন্টিং রূপ আর গলার কলারবোনের ওপর ওর আঙুলের তপ্ত পুরুষালী ছোঁয়া পেয়ে নিজের পুরো অস্তিত্বে তীব্র এক শিহরণ অনুভব করল । সে ওর শার্টের কলারটা নিজের ছোট আঙুল দিয়ে শক্ত করে খামচে ধরে এক বুক অভিমান নিয়ে বলল—
—”আপনাকে তো আগেই বলেছি আমি ওনার সাথে ইচ্ছে করে নাচতে যাইনি, আম্মুর জোরাজোরিতে সৌজন্যতার খাতিরে গিয়েছিলাম।
উযাইন ইনশিরার ঠোঁটের একদম কাছাকাছি নিজের মুখটা এনে এক ঝটকায় ইনশিরাকে নিজের দুই বলিষ্ঠ বাহুর মাঝে জড়িয়ে ধরে ওর মায়াবী নরম ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটের ভেতর আষ্টেপৃষ্ঠে পিষে ফেলার ভঙ্গিতে আঁকড়ে ধরল!জাহিরের ঠিক পাশের রুমে থাকা সত্ত্বেও, ধরা পড়ে যাওয়ার তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ভয় আর এক পরম তৃষ্ণায় সে ইনশিরাকে এক দম বন্ধ করা বন্য ও গভীর চুম্বন করতে শুরু করল!
ইনশিরা চরম শিহরণে নিজের চোখ দুটো কুঁচকে শক্ত করে বন্ধ করে নিয়ে উযাইনের শাট টা দুই হাত দিয়ে শক্ত করে খামচে ধরল। উযাইন ইনশিরার ঠোঁটে নিজের পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করার পর একটু আলাদা হয়ে ওর ফর্সা গলার ওপর নিজের মুখ ডুবিয়ে দিল। সে ইনশিরার কলারবোনের ঠিক পাশে তীব্র ভাবে কামড় বসিয়ে দিয়ে ওড়নাটা আবার আগের মতো সুন্দর করে টেনে দিল!
পরে আবার উযাইন ইনশিরার কানের লতির কাছে নিজের মুখ এনে এক বরফ শীতল গলায়—

—”এই নতুন সিলটা মনে রেখো, মিসেস আবরার ! এর পরেও যদি অন্য কোনো ছেলের সাথে তোমাকে দেখি… তবে লিখে রাখো, পরবর্তী ২ দিন তুমিও নিজের পায়ে সোজা হয়ে হাঁটার অবস্থায় থাকবে না!”
বলেই প্রফেসর উযাইন নিজের কলারটা হাত দিয়ে ঠিক করতে করতে, রুম থেকে হনহনিয়ে বেরিয়ে চলে গেল ইনশিরা বিছানার চাদর খামচে ধরে ওর এই ভয়ংকর ওম ছড়ানো পজেসিভনেসে নিজের মুখ লুকিয়ে এক অদ্ভুত ভালো লাগার আবেশে ডুবে গেল।
উযাইন যখন বের হয়ে আসছিলতখন উপরের করিডোরের এক কোণ থেকে ইরা ওকে ওভাবে বের হতে দেখে বেশ অবাক হলেন ! তবে উযাইনকে নিজের ভাইয়ের মতো বেস্ট ফ্রেন্ড এবং ইনশিরার অভিভাবক মনে করায় ইরা বিষয়টাকে নরমাল ভাবেই নিলেন । এরপর উযাইন কোনো কথা না বলে নিজের ল্যাপটপ ব্যাগ গুছিয়ে ইউনিভার্সিটির কাজে সোজা বাইরে চলে গেল এবং পুরো দিন-রাত পার হয়ে গেলেও সে ইনশিরাকে একবারের জন্যও কোনো কল বা মেসেজ দিল না! এই কয়েক দিনের সেই তীব্র আসক্তির পর উযাইনের এই আকস্মিক বরফ শীতল ইগনোরেন্স ইনশিরার বুকের ভেতর এক মরণ যন্ত্রণার সৃষ্টি করল। সে নিজের রুমে বসে অনবরত ছটফট করতে করতে ভাবল—
—”উযাইন সাহেব কি তবে কাল রাতের ওই এলিনের সাথে নাচের কারণে আমার ওপর বড্ড বেশি রেগে আছেন? আগে তো উনি হাজার ব্যস্ত থাকলেও প্রতি আমাকে কল দিতেন! কেন যে আমি ওই এলিনের সাথে ফ্লোরে গেলাম!”

পরদিন সকালবেলা
লিভিং রুমে ব্রেকফাস্টের টেবিলে বসে জাহির কফির মগে চুমুক দিয়ে ইরা আর ইনশিরাকে উদ্দেশ্য করে বললেন—
—”তোমাদের জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে! আমরা আজ রাতেই লন্ডনের বাইরে একটা চমৎকার লাক্সারিয়াস রিসোর্টে যাচ্ছি দুই দিনের জন্য। উযাইনও কাজ শেষ করে সোজা ওখানেই আমাদের সাথে জয়েন করবে বলল।”
জাহিরের কথা শুনে ইনশিরা মনে মনে একটু খুশি হলেও, বিকেল পর্যন্ত উযাইনের একটাও কোনো রেসপন্স না পাওয়ায় ওর মনটা আবার পুরো দমে শুকিয়ে গেল। বিকেলের দিকে ওরা সবাই গাড়ি নিয়ে রিসোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল। প্রায় দীর্ঘ তিন ঘণ্টার জার্নি শেষে যখন ওনাদের গাড়িটা সেই পাহাড় ঘেরা আলিশান রিসোর্টের মেইন গেটের সামনে এসে থামল, তখন চারপাশের কুয়াশা আর সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এসেছে। গাড়ি থেকে নামতেই যা ইনশিরার চোখের সামনে ভেসে উঠল, তা দেখে ওর বুকের ভেতরের সব নালী এক সেকেন্ডে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল! সে দেখল—রিসোর্টের লাইটের আলোয় ড্যাশিং লুক নিয়ে ওদের রিসিভ করতে মেইন গেটেই দাঁড়িয়ে আছে মিস্টার এডাম কোরটানের ছেলে এলিন কোরটান!
এলিন ইনশিরার সেই মেসি ব্যান আর ক্রপটপ লুকের অনিন্দ্য রূপের দিকে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে এগিয়ে এসে বলল—

—”আঙ্কেল আর আন্টি আপনাদের এই রিসোর্টে স্বাগতম। জার্নি করে আপনারা নিশ্চয়ই বড্ড ক্লান্ত ?হেই ফেইরি! আমি নিজেই তুমাকে রুমে দিয়ে আসি!”
ইনশিরা নিজের মা-বাবার সামনে কোনো রকম সিন ক্রিয়েট করতে চাইল না । সে এক বুক তীব্র অস্বস্তি আর ভয় নিয়ে নিরুপায় হয়ে এলিনের পেছন পেছন ওর লাউঞ্জের দিকে হেঁটে গেল। সে মনে মনে তীব্র আতঙ্ক নিয়ে শুধু আল্লাহর কাছে আকুতি করতে লাগল—
—” উযাইন যদি কোনোভাবে জানতে পারে যে আমি আবার এই এলিনের সাথে একা একা এই রিসোর্টে ঘুরছি… তবে সে যে আমার কী ভয়ংকর অবস্থা করবে, তা শুধু এই আল্লাহই জানেন”
রুমে পৌঁছানো মাত্রই ইনশিরা এলিনকে আর কোনো কথা বাড়ানোর সুযোগই দিল না। সে দরজার হাতল ধরে অত্যন্ত ঠান্ডা গলায় বলল—

— “মিস্টার এলিন, আমি বড্ড বেশি ক্লান্ত। আজ রাতে আর বাইরে আসব না।”
বলেই সে ধড়াস করে এলিনের মুখের ওপর দরজার ভারী পাল্লাটা বন্ধ করে ভেতর থেকে লক করে দিল। এলিন ওড় ওমন স্বভাব দেখে নিজের ঠোঁটের কোণে এক চতুর, হাসি ফুটিয়ে, সায় দিয়ে চলে গেল।
ইনশিরা রুমে ঢুকেই নিজের ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে উযাইনের ইনবক্সে গিয়ে একটা বড় ইমোশনাল মেসেজ টাইপ করে সেন্ড করল। বেশ অনেকক্ষণ পর ওপাশ থেকে একটা রিপ্লাই ভেসে উঠল—
—”ব্যস্ত আছি… আসব শীঘ্রই।”
উযাইনের এই চরম অবহেলা আর শুকনো রিপ্লাই দেখা মাত্রই ইনশিরার ভেতরের বাঘিনী রূপটা এবার অভিমানে আর রাগে জ্বলে উঠল ! সে ফোনটা এক ঝটকায় বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে নিজের ঠোঁট কামড়ে চড়া গলায় বিড়বিড় করে বলল—

—”ঢং কত! ‘ব্যস্ত আছি’ আচ্ছা প্রফেসর সাহেব… আরেক বার আসিস চুমু দিতে !!
বলেই সে রাগে ফুসতে ফুসতে কম্বলটা নিজের গায়ের ওপর টেনে নিয়ে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ল পরদিন সকাল,
রিসোর্টের বিশাল আলিশান ডাইনিং হলে ঝকঝকে রোদের আলো এসে পড়েছে। ইনশিরা নিজের মা-বাবার সাথে ব্রেকফাস্ট করতে গিয়ে আবিষ্কার করল—ওদের টেবিলের ঠিক মাঝখানে এডাম কোরটান এবং ওনার মডার্ন স্ত্রী ইভানা ও এলিন, মানে পুরো ফ্যামিলি একসাথে বসে ব্রেকফাস্ট করছে!
ব্রেকফাস্ট করার পুরোটা সময় জুড়ে এলিন ইনশিরার প্লেটে প্যানকেক তুলে দেওয়া, জুস এগিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে অত্যন্ত অতিরিক্ত মাত্রায় ওর কেয়ার করছিল, যা দেখে ইনশিরার নিজের গা ঘিনঘিন করছিল। ব্রেকফাস্ট শেষ করে ইনশিরা কোনোমতে নিজের রুমে ফিরে এসে একা একা জানলার পাশে মন খারাপ করে বসে রইল। উযাইন কাল রাতের ওই মেসেজের পর থেকে আজ দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলেও একটাও কোনো নতুন কল বা মেসেজ করেনি। আর উমায়েরের সাথেও কথা হয়নি।

এই বিরহের কষ্ট ওর মাথা পুরো ফাটিয়ে দিচ্ছিল।
ঠিক তখনই বিকেলে ইনশিরার রুমের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলেন জাহির আর ইরা। ওনাদের দুজনের ফেসেই এক অদ্ভুত গম্ভীর অথচ খুশির আমেজ। ওনারা এসে ইনশিরার বেডের ওপর একদম মুখোমুখি হয়ে বসলেন।
জাহির ইনশিরার মাথায় পরম স্নেহে হাত বুলিয়ে, অত্যন্ত সিরিয়াস গলায় বললেন
“আম্মু আমার… তুই তো এখন মাশাল্লাহ্ অনেক বড় হয়েছিস, নিজের লাইফের ভালো-মন্দ বোঝার বয়স হয়েছে তোর…!”
ইনশিরা বাবার এই আচমকা গম্ভীর ডায়ালগ শুনে নিজের দুই ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে তাকাল, সে কিছুই মাথায় মেলাতে পারছিল না ওনারা কী বলতে চান।
ইরা জাহিরের কথায় সায় দিয়ে, ইনশিরার একটা হাত নিজের হাতের মুঠোয় জড়িয়ে ধরে বললেন

“হ্যাঁ রে ইনশি আম্মু… আমরা বলছিলাম যে, তুই কি নিজের লাইফের পরবর্তী স্টেপ। মানে ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে নিজের মনে মনে কিছু ভাবছিস নাকি সোনা?”
ইনশিরা চরম আমতা আমতা করে, কাঁপানো গলায় বলল
“ক… কীসের পরবর্তী স্টেপ আম্মু? তোমরা হুট করে এসব কী বলছ, আমি তো বিন্দুমাত্র কিছুই বুঝতে পারছি না…!”
জাহির নিজের ল্যাপটপ আর ফাইলটা একপাশে রেখে, এক গাল হেসে ওনার জীবনের সবচেয়ে বড় ধামাকা ডিক্লেয়ারেশনটা দিলেন

“আসলে আম্মু, আজ ব্রেকফাস্টের টেবিলে কোরটান সাহেব নিজে থেকে আমাদের কাছে একটা প্রকাণ্ড প্রস্তাব রেখেছেন! উনার ছেলে এলিন তোকে লাইক করে। তাই উনারা নিজের বউমা হিসেবে পেতে চায়! আর সত্যি বলতে কি… আমাদের নিজেদেরও ছেলেটার ভদ্রতা, ওনার ফ্যামিলির স্ট্যাটাস আর কেয়ারিং স্বভাবটা বড্ড বেশি ভালো লেগেছে! আমরা ভাবছি এই কোরটান ফ্যামিলির সাথেই তোর লাইফের পরবর্তী সুন্দর…”
এলিনের সাথে নিজের বিয়ের প্রস্তাবের কথা শোনামাত্রই ইনশিরার পায়ের নিচের পুরো মেঝেটা যেন এক সেকেন্ডে ৪৪০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে ভেঙে গেল ! সে তীব্র বিস্ময়ে, চরম আতঙ্কে আর এক প্রকাণ্ড মানসিক ট্রমার মাঝে স্তব্ধ হয়ে জাহিরের দিকে হা করে চেয়ে রইল।
সে মনে মনে ভাবল—”এখন আমি এই গোলকধাঁধা থেকে কীভাবে নিজেকে বাঁচাব, আল্লাহ!”
ওর পুরো ফর্সা শরীরটা এক অজানা আশঙ্কায় আর উযাইনের ভয়ংকর পজেসিভনেসের কথা মনে করে থরথর করে কাঁপতে লাগল! মাথা নাড়িয়ে তীব্রভাবে কান্নায় ও বসা গলায় বলল
“না আব্বু! আমি… আমি এখন বিয়ে নিয়ে বিন্দুমাত্র কিছু ভাবছি না! প্লিজ… তোমরা ওনাদের এই প্রস্তাব এখনই ডিরেক্ট রিজেক্ট করে দাও, প্লিজ!”
কিন্তু জাহির আর ইরা মেয়ের এই তাৎক্ষণিক আপত্তিকে স্রেফ একটা মেয়ের অবুঝ ছেলেমানুষি ছাড়া আর কিছুই ভাবলেন না। জাহির কড়া গলায় বললেন—

— “দেখো আম্মু, ওরা লন্ডনের অনেক বড় এবং নামকরা রেসপেক্টেড ফ্যামিলি। আজ সন্ধ্যায় ওনাদের কিছু ক্লোজ রিলেটিভও এই রিসোর্টে আসবে। আমি ওনাদের অলরেডি কথা দিয়ে ফেলেছি, সো আজ রাতের জন্য রেডি থেকো!”
বলেই জাহির নিজের সিদ্ধান্তের ওপর অনড় থেকে কোনো কথা না শুনে গম্ভীর মুখে ঘর থেকে চলে গেলেন। বাবা চলে যেতেই ইনশিরা নিজের সব প্রতিরোধ হারিয়ে এক ঝটকায় মাকে নিজের দুই হাত দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ গুঁজে ডুকরে কেঁদে উঠল। সে কান্নাভেজা গলায় আকুতি জানাল—
— “আম্মু… প্লিজ আব্বুকে বোঝাও না! আমি এই মুহূর্তে কোনোভাবেই কোনো বিয়ে করতে চাই না! তোমরা কেন আমার ওপর জোর করছ?”
ইরা মেয়ের মাথায় পরম মায়ায় হাত বুলিয়ে ওঝাকে বুঝিয়ে শান্ত করার সুরে বললেন—

—”দেখ ইনশি… আজই তো আর তোর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে না! আজ সন্ধ্যায় জাস্ট একটা ক্যাজুয়াল ফ্যামিলি ডিনারে উনারা তোকে সামনাসামনি একটু দেখতে চেয়েছেন। মন খারাপ করিস না মা… আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আজ রাতের জন্য একটু রেডি হয়ে নে, প্লিজ সোনা!”
ইনশিরা আর কিছু বলতে পারল না। ইরা চলে যাওয়ার পর ইনশিরা বিছানার ওপর একা একা রাগে আর অপমানে ছটফট করতে লাগল। উযাইনের সেই গত দুই দিনের ঠান্ডা অবহেলা কথা মনে পড়ে ওর বুকের ভেতর তীব্র এক অভিমানের আগুন জ্বলে উঠল ! সে নিজের ফোনটা হাতে সুইচ অফ করে রেখে দেয়।

দেখতে দেখতে ঘড়িতে রাত ঠিক ৮টা বাজল। লন্ডনের কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া আর কুয়াশাকে ভেদ করে রিসোর্টের বিশাল আভিজাত্য ঘেরা ওপেন-এয়ার আঙিনায় এক রাজকীয় ডিনার পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। ইনশিরা আজ নিজের সব অভিমান আর চোখের জল লুকিয়ে এক অনিন্দ্যসুন্দর পিঙ্ক রঙের শাড়ি পরেছিল । চুলগুলো আলগা করে পিঠে ছেড়ে দেওয়া। আর হালকা মায়াবী সাজগোজ করা —এই অপার্থিব রূপে গোলাপি পরিচ্ছদে ইনশিরাকে দেখতে আক্ষরিক অর্থেই এক ডানাকাটা অপ্সরার মতো লাগছিল!
ইনশিরা যখন লাউঞ্জ দিয়ে আসছিল, তখন এলিন কোরটানের দুই সুন্দরী কাজিন অত্যন্ত হাসিমুখে এসে ইনশিরার দুই হাত ধরে ওকে ফ্লোরের মাঝখান দিয়ে নিয়ে এলো। তারা পরম আদরে ইনশিরাকে এনে সোজা এলিনের একদম পাশাপাশি বসিয়ে দিল! এলিন নিজের চোখে গোলাপি শাড়ি পরা ইনশিরার এই রূপ দেখামাত্রই এক প্রকাণ্ড, সম্মোহনী মুগ্ধতায় অপলক চোখে ওনার দিকে তাকিয়ে রইল, ওর চোখের মণি জোড়া আক্ষরিক অর্থেই চকচক করছিল। ঠিক তখনই ওর মা ইভানা, অত্যন্ত খুশিতে এগিয়ে এসে ইনশিরার কপানে পরম মায়ায় একটা বড় করে চুমু দিলেন। কিন্তু ইনশিরার পুরো শরীরটা তখন এক তীব্র আতঙ্ক আর আশঙ্কায় থরথর করে কাঁপছিল, কারণ সে খুব ভালো করেই জানে—উযাইন যদি কোনোভাবে জানতে পারে যে অন্য কোনো ছেলে ওর ‘মালিকানার শিকল’ পরা বউয়ের এত কাছে বসে আছে, তবে আজই ধ্বংস নিশ্চিত।

ঠিক সেই তীব্র উত্তেজনার মুহূর্তেই… ওপাশ থেকে হাই-হিল জুতোর খটখট শব্দ করতে করতে এক মডার্ন ও অহংকারী মেয়ে এসে ইনশিরার দিকে এসে দাঁড়াল। সে নিজের ঠোঁটের কোণে এক চতুর হাসি ফুটিয়ে, ইনশিরার কাঁধের ওপর হাত রেখে অত্যন্ত চড়া ও রসিকতার গলায় বলে উঠল—
“দেখি তো… দেখি তো আমার হবু সিস্টার-ইন-ল কে ! আমার ভাই এলিন গত কাল রাত থেকে যার জন্য এক্কেবারে অস্থির আর পাগল হয়ে ছটফট করছে, ও কেমন দেখতে?”
ইনশিরা নিজের মুখটা ওপরের দিকে তুলল। আর দুজনের চোখ এক হওয়ামাত্রই—যেন পুরো রিসোর্টের চারপাশের বাতাস এক সেকেন্ডে এক্কেবারে থমকে জমে বরফ হয়ে গেল !
ইনশিরা নিজের জায়গায় একদম পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে জমে গেল। কারণ… ওর ঠিক সামনে বড় বড় চোখ করে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ টা আর কেউ নয় ইউনিভার্সিটির সেই এলিনা !!

রুহ এ ইশক পর্ব ২৬

এলিনাও নিজের হবু ভাবি বা ভাইয়ের ক্রাশ হিসেবে এই ইনশিরাকে নিজের চোখের সামনে ওভাবে গোলাপি শাড়ি পরে বসে থাকতে দেখে আক্ষরিক অর্থেই আকাশ থেকে পড়ল। ওর মনের ভেতর এক সেকেন্ডে ইউনিভার্সিটির সেই ওয়াশরুমের মারামারি আর উযাইনের মুখ থেকে বলা,,”মিট মাই ওয়াইফ… উই আর মেরিড সিন্স লাস্ট থ্রি ইয়ার্স”
কথা গুলো এক ধাক্কায় ফ্ল্যাশব্যাকের মতো ভেসে উঠল!

রুহ এ ইশক পর্ব ২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here