Home তুমি এলে বসন্ত নামে তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২৭ (২)

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২৭ (২)

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২৭ (২)
রিমঝিম বৃষ্টি

চৌধুরী প্যালেস—————
দুপুরের খাওয়া শেষ করে রুমে বসে আছে তমা ফোন টা হাতে নিয়ে। গতরাত থেকে তার বরের সাথে লেগেছে কথা কাটাকাটি। ইদানীং কেনো জানি সামান্য বিষয় নিয়েও তাদের মাঝে ঝগড়া লাগছে। গত চার টা বছর হলো এভাবে ফোনে তাদের কথাবার্তা হয়। তমার শাশুড়ী সায়রা মির্জা এক অনুষ্ঠানে তমাকে দেখেই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলো তাদের বাড়িতে তার বড় ছেলে সাদিক মির্জার জন্য। সাদিক মির্জা পেশায় একজন বিজনেসম্যান। এ বিয়েতে ইভা একদমই রাজি ছিলো না। তার কথা এটাই যে, ছেলে গরীব হোক কিন্তু একটু চাকুরীজীবি হলে নিশ্চিতে থাকা যায় আর ব্যবসা দেখে দিলে কখন লোস হয় বলা যায় না তখন তার মেয়ের ওপরও জুলুম পড়তে পারে কিন্তু ইমদাদুল আর তার শাশুড়ির কথায় তিনি আর অমত করেন নি কারণ সাদিকের পরিবার এমনিতেই অনেক বড়লোক, তার ধনসম্পত্তির অভাব নেই । তমা ছোট থেকেই বেশ শান্ত স্বভাবের কোনো ছেলের সাথে সম্পর্ক তো দূর প্রয়োজনীয় ছাড়া কথা বলে নি। সাদিক বিদেশ যাওয়ার আগে তার সাথে তমার ছোটখাটো এ্যাংগেইজমেন্ট আর রেজিস্ট্রার হয়েছিলো শুধু তারপর দুই পরিবার মিলে সিদ্ধান্ত নেয় সাদিক বিদেশ থেকে ফিরলেই ঘরোয়া ভাবে অনুষ্ঠান করে নিয়ে যাওয়া যাবে। এরপর থেকে তাদের শুধু ফোনেই আলাপ হয়। তার হবু শাশুড়ীও একটু অহংকারী ধরনের তমার খুব একটা খবর নেয় না আর নিলেও দুই-এক টা কথা বলেই রেখে দেয়।
তমা ফোন দিতেই ওপাশ থেকে সাদিক রিসিভ করলো কিন্তু কথা বললো না। তমা ঠোঁটের কোণায় হাসি রেখে নরম গলায় বললো,

” এখনো রেগে আছেন..?”
ওপাশ থেকে ভেসে এলো থমথমে গলা,
” তা রাগ করারই তো তাই না আমি তোমায় বলেছিলাম খেয়েই ফোন দিও। দিয়েছিলে ফোন তুমি রাতে..?”
” আমি তো তোমায় বলেছিলাম সন্ধ্যার পর থেকে আমার শরীর টা ভালো না রাতে খেয়ে মাথা ভার হয়ে ছিলো তাই তো ঘুমিয়ে গেছিলাম…!”
ওপাশ থেকে আর কথা এলো না তমা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বললো,
” ফিরবেন কবে..! ”
” সামনের সপ্তাহে..! ”
” এভাবে রাগ করছেন যে এখনি যদি ভয় পায় তাহলে আপনার বাড়ি কিন্তু আর যাবো না বলে দিলাম..!”
তমার কথায় সাদিক হালকা হেসে উঠলো আর বললো,
” তুমি যথেষ্ট ম্যাচিউর তমা ভয় পাবে কেন, সংসার করতে গেলে স্বামীর রাগকেও কবুল করতে হয়..! ”
তমা সাদিকের কথায় উচ্চ স্বরে হাসলো বেডের ওপর শুইয়ে থেকে বললো,
” তাহলে তো আপনি এটাও জানেন যে, সংসার করতে গেলে বউকেও সবসময় দেমাগ দেখাতে নেই, বউকে যত্ন করতে হয়। ভুল করলে বুঝিয়ে দিতে হয়। তারাও কিন্তু তার স্বামীর ভরসায় নিজের জন্মপিতা-মাতা কে ছেড়ে আসে। ”

” সেটা তো ছেলের ক্ষেত্রেও হয় ছেলেটা মায়ের আঁচল ছেড়ে বউয়ের আঁচলে চলে যায় বিয়ের পর..!”
তমা দম ধরে থেকে বললো,
” তাহলে কী আপনি বউয়ের আঁচল ধরবেন বিয়ের
পর! বউয়ের কথা শুনবেন তো..? ”
ওপাশ থেকে এবারও কথা এলো না তাতে তমা কি বলবে আর খুঁজে পেলো না । সাদিক যে মা ভক্ত সেটা সে গত চার বছরে টের পেয়েছে। তমা নিজের মায়ের একটা কথা খুব মনে পড়লো, তার মা বলতো শোন কোনো জিনিস দীর্ঘ করতে নেই তার ওপর একঘেয়েমি চলে আছে কথাটা বোধহয় আসলেই সত্যি ভাবতেই তমা তপ্ত শ্বাস ছেড়ে শীতল কন্ঠে বললো,
” শুনন, প্রেমের সময় দীর্ঘ করতে নেই সেখানে অনীহা চলে আসে । একসময় সেখানে নিজেদের মধ্যে দোষ ধরতে শুরু করে। তার চেয়ে বরং দ্রুত বিয়ে করে ফেলি শশুর বাড়িতে নিয়ে চলুন, সংসার করুন , ভালোবাসা হবে এমনিতেই দেখবেন ! ”
সাদিক এর বিনিময়ে কোনো জবাব দিলো না শুধু হেসে বললো,
” আচ্ছা প্রিয়তমা করবো বিয়ে। আমি একটু কাজ করছি আবার পড়ে কথা হবে আর শশুর বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিও শীঘ্রই ফিরছি কিন্তু..! ”

” আচ্ছা সাবধানে থাকবেন..! “,
বলেই কেটে দিলো ফোন। ফোন টা পাশে রেখেই কয়েক সেকেন্ড স্থির রইলো। সম্পর্কের বাঁধনটা ঠিক কেমন হওয়া উচিত বুঝলো না। এই ভালো তো এই মন্দ তাদের সম্পর্কে ঠিক এমন ব্যাপার এসেছে এখন কিন্তু তার মনটা ইদানীং ভারী দুঃখে ভরে থাকে। এইযে সারাক্ষণ বাড়িতে শুইয়ে থাকে, ঘুরে বেড়ায় তার মা হয়তো অল্পস্বল্প বকা দেয় কিন্তু তার এসব গায়ে লাগার মতো নয়। খাচ্ছে, ঘুমোচ্ছে এসব কী আদো শশুর বাড়িতে করতে পারবে সে সেখানে না চাইতেও কাজ করতে হবে তাকে। কে কেমন মুখ করে রইলো, কার কখন কী লাগবে সেদিকে নজর রাখতে হবে তাকে। এসব ভাবতেই তার কষ্ট হচ্ছে।
” আপু আসবো..?”

দরজার সামনে তাকাতেই দেখতে পেলো সাবাহ্ কে। তমাকে শুইয়ে থাকতে দেখে সে ভেতরে এসে বেডের ওপর বসে পড়লো তার পাশে আর বললো,
” তুমি টিকটিকর মতো বিছানার সাথে লেগে থাকো কেন সবসময় বলো তো..?”
তমা বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললো,
” আর তুই যে আঠার মতো ফোন চোখের সামনে ধরে থাকিস আমি বলেছি কিছু..! ”
বোনের মেজাজ বিগড়ে গেছে বোধহয় সাবাহ্ ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,
” আপু ইভান ভাই এর ফোনের লক খুলতে পারো তুমি..?”
” কেনো তুই জেনে কি করবি..?”
সাবাহ্ পিছন থেকে ইভানের ফোন টা সামনে ধরে বোকা হাসি দিয়ে বললো,
” প্লিজ একটু খুলে দাও না বেশি অকাম করবো না প্রমিস আপু..!”
তমা গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো শুধু তা দেখে সাবাহ্ বললো,
” সত্যি বলছি বেশি অকাম করবো না..?”
” চুরি করেছিস তুই। ইভান দেখলে মেরে আলু ভর্তা বানিয়ে দেবে দেখিস আবার বলছিস অকাম করবি ঠিকই বেশি করবি না তাহলে সেখানে তো সেই অকামই আসছে তাই না দে ফোনটা..!”
সাবাহ্ খুশি হয়ে ফোন টা দিতেই তমা আন্দাজ করে কিছু দিতেই দেখলো খুলে গেলো তা দেখে তমা ভাবান্তর হয়ে গেলো,
” এত ইজি পাসওয়ার্ড ও দেওয়ার ছেলে..! ”
সাবাহ্ ফোন টা নিয়ে উঠে যেতে যেতে বললো,
” তাতে আমার কী! এবার বোঝাবো কেমন ছেলে সে হি হি হি..!”,
বলেই দৌড়ে চলে গেলো।

” আরে না না আর লাগবে না..! ”
ফারিশা মাছের পিস টা তবুও তুলে জোর করে তার পাতে দিলেন আয়েশা চৌধুরী আর কোনো কথা বললো না চুপচাপ খাচ্ছেন। পাশেই বসে বসে ইরাদ আর ইয়াশ খাচ্ছে। আয়েশা মুখের মধ্যে এক লোকমা নিয়ে চিবোতে চিবোতে বললো,
” তা মাকে বলবি না তুই আসতে..?”
ইয়াশ পাশ ফিরে আয়েশার মুখপানে তাকিয়ে রইলো শুধু। ইরাদ ছেলের তাকানো দেখে স্বাভাবিক গলায় বললো,
” দীদা আম্মুকে অবশ্যই আনবো তার আগে তুমি বলো কী করতে আসছো..! ”
আয়েশা পাশ ঘুরে ফারিশা কে বসে থাকতে দেখে ঝড়া কেশে বললো,
” আসলাম তোদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। বলছিলাম কী নাতবউ আগে যা হইছে তা তো আর ফিরিয়ে দিতে পারবো না এবার না হয় আমায় ক্ষমা করে দাও আর ফিরে চলো ও বাড়িতে..!”
দীদার কথায় ইরাদের মুখে চওড়া হাসি ফুটলো যেনো। প্লেট থেকে খাবার টা খেতে খেতে বেডের ওপর রেখে বললো,

” সিরিয়াসলি আয়েশা চৌধুরী ক্ষমা চাইলো ওয়ার্ড রেকর্ড করলো রে..! ”
” দীদা কয়েক দিন পর না হয় যাবো..?”
ফারিশার কথায় শুনে আয়েশা তড়াক গলায় বললো,
” আর দেরি করো না তো তোমার শাশুড়ি ফিরছে না দেখো তোমার শশুরের কথা একটাবার ভাবো। জানো না কাল রাতে প্রেশার উঠে কী অবস্থা হয়ছিলো তার..! জানি তুমি হয়তো আমাকে এখনো ক্ষমা করতে চাইছো না এতে আমারি দোষ কিন্তু একটা বার যদি আমায় ক্ষমা করে বাড়ি ফিরতে…? ”
আয়েশা কথায় ফারিশা বসা থেকে উঠলো আর বললো,
” দীদা জানি দোষ আছে আপনারও আছে আমারও আছে কিন্তু তারপরও সব কপালের লিখনই ধরবো আমি। আমায় আজ সময় দিন দীদা কাল না হয় ফিরে যাবো ইয়াশ কে নিয়ে অনেকবছর এখানেই আসি তো ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না..! ”

আয়েশা আর কথা বললো না খাওয়া শেষ হতেই ফারিশা সবকিছু নিয়ে কিচেনে রেখে আসতে গেলে তাতে ইরাদও হাত লাগায় সেও রেখে আসছে তা দেখে আয়েশা চোখ বাঁকালো। পাশ থেকে ইয়াশ আয়েশাকে বললো,
” তোমাল ঠোঁত লাল কেন, লক্ত বেল হচ্ছে কী..?”
ইয়াশের কথায় আয়েশা হাসলো আর বললো,
” না দাদু পান খায় তো তাই লাল হয়ছে তা তুমি ভালো আছো তো..?”
ইয়াশ মাথা দুলিয়ে বললো,
” হুম..!”
” তা তুমি কার সাথে ঘুমাও..?”
ইয়াশ মাথা চুলকে বললো,
” আমি! আমি তো বিচানার সাথে শুই..! আল বালিস নিয়ে কেনো তুমি কী ঘুমাবে..?”
আয়েশা মুখে হাতে দিয়ে ভাবলেন ভারী চালাক এ ছেলে। ফারিশা আর আর ইরাদ রুমে আসতেই ইয়াশ বেড থেকে নেমে ফারিশার কাছে গিয়ে বললো,
” আম্মু আমি নিচে যায় দিয়ার সাথে খেলি একতু..?”
” বাবা দুপুর তো আরেকটু পরে যাও..!”
ইয়াশ মাকে ছেড়ে এবার ইরাদকে জড়িয়ে ধরে বললো,
” মিলাদ একতু যায়..! ”
ইরাদ ফারিশার দিকে তাকিয়ে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
” আচ্ছা যাও কিন্তু বেশি দৌড়াদৌড়ি করো না ঠিক আছে..! ”
ইয়াশ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে বেরিয়ে গেলো। তা দেখে আয়েশা ইরাদকে বললো,
” তা বস দেখিনি একটু তোর মাকে ফোন দিয়ে বল আসতে..?”
ইরাদ পাশে বসে বললো,

” পড়ে বলে দিবো নে..! ”
” হু তোকে আমার বিশ্বাস হয় না এখুনি আমার সামনে করবি..!”
ইরাদ বিরক্ত মাখা মুখ নিয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে তার মাকে ফোন দিতেই সাথে সাথে রিসিভ হলো লাউডস্পিকাররে দিতেই ওপাশ থেকে ইভা বললো,
” হে রে বল ইরাদ..? ”
” আম্মু দীদা আসছে ফারিশাকে নিতে তো ফারিশা তো কাল বাড়ি ফিরতে চেয়েছে তুমি চলে আসো কাল তাহলে..?”
ইভা অবাক হয়ে গেলো অবাক সুরে বললো,
” সত্যি তোর দীদা আসছে..? বাহ্ তাহলে কাল যাচ্ছি ফিরে..!”
ইভার কথা শুনে আয়েশা ইরাদের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো তা দেখে ইরাদ সূক্ষ্ম হেসে বললো,
” আচ্ছা আম্মু পড়ে কথা বলবো আবার দীদা আছে তো কথা বলছি আমরা..!”
” আচ্ছা রাখ তাহলে রাতে একটাবার ফোন দিস আমায়..!”
” আচ্ছা! “,
বলেই ফোন টা কেটে দিলো। আয়েশা তা দেখে বললো,
” তাহলে সবকিছু রেডি কর, নাতবউ তুমিও ব্যাগপত্র গুছিয়ে রাখো! ”
ফারিশা দরজার কাছে দাঁড়িয়েই বললো,
” আচ্ছা কর……..
বাকি কথা বলার আগেই দু’কান চেপে ধরলো ফারিশা সাথে ইরাদ আর আয়েশাও। এক বিকট আওয়াজ হলো সাথে চিৎকারের আওয়াজ এলো। ফ্ল্যাট এর সব ইলেক্ট্রিসিটিও সেকেন্ডের মাঝেই বন্ধ হয়ে গেলো। ইরাদ কান থেকে হাত সরিয়ে আতঙ্ক গলায় বললো,

” কী হলো এটা কীসের আওয়াজ ছিলো ই..য়াশ কোথায়..?”
ফারিশা ইরাদের কথা শুনেই ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে নিচে ছুটলো তার পিছু পিছু ইরাদও ছুটলো আয়েশা আস্তেধীরে নিচে যেতে লাগলো। নিচে যেতেই দেখতে পেলো সবাই চেচাঁমেচি করছে। নিচতলায় পাশেই মালিকের রান্না ঘর থেকে আগুনের ধোঁয়া ভেসে আসছে অনবরত। মহিলাটি চিৎকার করছে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দেওয়া হয়েছে। দারোয়ানকে দেখে ফারিশা জিজ্ঞেস করলো,
” কি হয়েছে এখানে..?”
” আরে শুনলাম দিয়ার আম্মু রান্নাঘরে গ্যাস দিতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ছে গ্যাস লিক হয়ে ছিলো নাকি আহারে মা কে বাঁচানো যাবে নে নাকি কে জানে? বেরই তো করতে পারতিছে না। যে জোরে বিস্ফোরণ হইলো।”
ইয়াশ তো দিয়ার সাথে বাগানে খেলছিলো কথাটা মাথায় আসতেই ফারিশা সেদিকে এগিয়ে আশেপাশে তাকাতেই দেখতে পেলো বাগানের সাইডে ইয়াশ বাগানে শুইয়ে আছে ওপর হয়ে আর কাঁদছে পাশেই দিয়াও বসে বসে কাঁদছে। এই দিকটাই এই অঘটন দেখে কেউ নজর সেদিকে দেয় নি। ফারিশা দৌড়ে এগিয়ে গেলো ইরাদ ফারিশার যাওয়া দেখে সেদিকে তাকাতেই থমকালো ছেলেকে কান্না করতে দেখে। দিয়াদের রান্না ঘরের জানালার পাশেই বাগান হওয়ায় আগুন ছিটকে তাদের বাগানের ঘাসের ওপর পড়েছে জায়গায় জায়গায় ঘাস পুড়ে কালো হয়ে গেছে । ফারিশা এগিয়ে গিয়ে বসে পড়লো ছেলের কাছে কোলে তুলে দেখলো ইয়াশ হাউমাউ করে চোখ দু’টো বন্ধ করে কাঁদছে। ইরাদ এগিয়ে এসে ফারিশার কোল থেকে নিয়ে নিজের কোলে নিয়ে বললো,

” কি হয়েছে বাবা এই যে ভয় পেও না কিচ্ছু হয়নি তাকাও ইয়াশ দেখো চোখ খোল..!”
ফারিশা পাশে দিয়াকে কাঁদতে দেখে দিয়ার কাছে এগোতেই দেখলো তার ঘাড়ে আর পায়ে আগুন ছিটকে একদম পুড়ে গেছে ফোঁসকা উঠে গেছে তা দেখে ফারিশা ঘাড় উঁচু করে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
” দেখুন তো ওর কোথায় পুড়ে গেছে নাকি..! ”
ইরাদ ফারিশার কথামতো ইয়াশকে এদিক-ওদিক চেক করতে করতেই চোখ পড়লো ডান হাতের কব্জির দিকে একদম চামড়া পুড়ে গেছে তা দেখে যেনো ইরাদের মস্তিষ্ক কয়েক সেকেন্ড এর জন্য ফাঁকা হয়ে গেলো। ছেলের হাত টা ধরে কম্পিত গলায় বললো,
” ফারিশা ছেলের হাত পুড়ে গেছে তো ইশশ..! “,
বলেই আর দাঁড়ালো না গেইটের দিকে ছুটলে ফারিশা উঠতে গিয়েও উঠলো না দিয়াকে কোলে তুলে সেও হাঁটা ধরলো। এগিয়ে যেতেই আয়েশা তাদের দেখে বললো,

” কোথায় যাচ্ছিস ইরাদ..?”
” দীদা ইয়াশের হাত পুড়ে গেছে হসপিটাল যাচ্ছি..! ”
আয়েশা এগিয়ে এসে ইয়াশের হাত দেখে বললো,
” এ তো সামান্য দেখ গাড়ির ভেতর ফাস্ট এইচ বক্স আছে..! ”
ইরাদ দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
” পারবো না তোমার এটা সামান্য লাগলেও আমার কাছে অনেক দীদা! তুমি চলে যাও দীদা আমরা শীঘ্রই ফিরছি বাড়িতে..! “,
বলেই সামনে এগিয়ে রিকশা তে উঠে পড়লো সাথে ফারিশাও। আয়েশা সেদিকে এক নজর তাকিয়ে গাড়িতে উঠে চলে গেলো।

হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরতে ফিরতে তাদের সন্ধ্যা হলো। দিয়ার নানি ফারিশাকে ফোন দিলে সে জানায় তার কাছেই আছে তাই তারা আর চিন্তা করে নি তারপরই তার বাবা গিয়ে তাকে নিয়ে গেছে সেখান থেকে । সেই হসপিটালেই তার মাকে ভর্তি করেছে ফারিশা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ডাক্তার জানিয়েছে বাঁচার চান্স আশঙ্কাজনক কারণ তার শ্বাসনালী ৯০% পুড়ে গেছে। বাড়ির সামনে আসতেই ফারিশা দেখলো নিচ তলায় একদম কালো রঙ হয়ে ছেঁয়ে গেছে। ইরাদ ছেলেকে ফারিশার কোলে দিয়ে বললো,
” তোমরা রুমে গিয়ে ব্যাগপত্র রেডি করো এখানে আর এক মুর্হুত রাখবো না আমি দেখলে তো কি হলো আল্লাহ রক্ষা করেছে আজ নয়তো ছেলের যদি বড় কিছু হতো।আমার তো এখনো বুক কাঁপছে ভাবতেই..! ”
ইরাদের কথা শুনে ফারিশা আর অমত করলো না সত্যি আজ অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে অন্যান্য দিন তো সে দিয়াদের ঘরে গিয়েও খেলে। এখানে ছেলেকে আর না রাখায় ভালো হবে। ফারিশা মুখখানা ছোট করে তার রুমে চলে গেলো। রুমে গিয়ে বিছানার ওপর বসে ছেলেকে কোলের মধ্যেই বুকের সাথে আগলে ধরে রাখলো। ইয়াশ এখনো কেঁপে কেঁপে উঠছে তা দেখে ফারিশা নিচু গলায় বললো,

” আমার সোনা কি ভয় পেয়েছে..? ”
” হু.ম..!”
” খুব বেশি…?”
” হু..ম..!”
” চলো আমরা এখানে আর থাকবো না বাবার বাসায় ফিরে যায়..!”
” আ..ম্মু দিয়াল…. আ..ম্মু আ.গুন..! ভয়..আ.ম্মু.!”
ফারিশার ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
” দিয়ার আম্মুর কিচ্ছু হয় নি বাবা। আমরা এখানে আর থাকবো না তোমায় রেডি করায় দেয় চলো তো..!”
ইয়াশ মাকে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
” আম্মু ভয়…!”
” দ্রুত বেরিয়ে যাও ফারিশা ছেলেকে নিয়ে গেইটের সামনে গাড়ি আছে..! ”
পিছন থেকে ইরাদের নরম গলা পেয়ে ঘাড় বাকিয়ে তাকিয়ে বললো,

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২৭ 

” ব্যাগ গুছিয়ে নেয়..!”
ইরাদ শান্ত গলায় বললো,
” তাহলে ইয়াশকে ইভানের কাছে দিয়ে এসো একটু পরে বাড়ির গেইট দিয়ে যখন অ্যাম্বুলেন্স ডুকবে তখন ছেলে ভয় পেতে পারে..! ”
” মানে..!”
ফারিশা চিন্তিত গলায় শুধালো ইরাদ ছেলের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বললো,
” উনি মারা গেছে দারোয়ান এর কাছে এইমাত্র ফোন এসেছিলো..!”

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here