Home রুহ এ ইশক রুহ এ ইশক পর্ব ৩০

রুহ এ ইশক পর্ব ৩০

রুহ এ ইশক পর্ব ৩০
আনান রোজ

তোর লজ্জা করলো না? উযাইন তোর বাবার বন্ধু হয়! ওর বয়স ৩৮প্লাস, সে তোর থেকে ২০ বছরের বড়। আর তুই ওর সাথে ফি’জি’কালি ইনভলভ? ছিহ ইনশিরা! তুই কবে এমন চরিত্রহীন হয়ে গেলি….
কথা গুলো একদমে বলে গেল, ইরা! ইনশিরার চোখে পানি ছলছল করছে। এভাবে সব কিছু প্রকাশ পাক সে কোনো দিন চায়নি, সে তো চেয়েছিল সবটা গুছিয়ে তারপর সবাই কে জানাবে। তবে জানানোর পর যে ভয়ংকর প্রলয় আসবে তা ওর অজানা ছিল না। সে মাথা টা নিচু করে কান্না ভেজা গলায় বলে—
—আ…আম্মু , আমি চরিত্রহীতনা প্রকাশ পায় এমন কাজ করেনি!
ইরা রেগে গিয়ে বলে উঠে —

—আমাকে তোর বোকা মনে হয়? তোকে দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে কিছুক্ষন আগে তোরা কি করছিলি…ছিহ!
—আম…আমরা বিবাহিত, আম্মু! এখানে নোংরা কিছুই ঘটেনি।
ইরার কথা গুলোর মাঝেই ইনশিরা, সব সত্য ফাস করে দেয়। আর ইরা যেন মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলার মতো অবস্থা। সে ইনশিরার কাছে এসে অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলে—
—ক..কি বলছিস মেয়ে? মাথা ঠিক আছে তোর? লোক টা তোর বাবার বন্ধু! মিথ্যা বলিস না।
—না আম্মু মিথ্যা না, উনি…আমরা বিবাহিত!
ইরা চিন্তিত হয়ে, ইনশিরার দুই বাহুতে হাত দিয়ে জরিয়ে বলে—
—কি বলছিস? উযাইন কি তোকে ফাসিয়েছে? ও কি তোকে ফোর্স করেছে? ভয় পাস না, বল?
না আম্মু উনি এমন কিছুই করেন নি, আমি উনাকে ভালবাসি আম্মু। আর এই কথা টা তোমাকে আমি তিন বছর আগেই জানিয়েছিলাম।
কথা গুলো শুনে ইরার মনে পড়ল যে তিন বছর আগে উযাইন ওদের বাসায় আসার ৪ মাস পর হটাৎ ই একদিন ইনশিরা মায়ের কাছে নিজের মনের কথা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তখন ইরা এত টা পাত্তা দেয়নি, তবে মেয়েকে বাস্তবতা দিয়ে বুঝিয়েছিল এসব বাজে কথা যেন আর না শুনে। এরপর ইরা যখন জানতে চাইল যে কিভাবে এসব হলো তখন ইনশিরা আর কিছু লুকাতে পারে না, সুমির এনগেজমেন্ট এর দিন থেকে গত তিন বছরে যা যা হয়েছে সব বলে দেয়।
ইরা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে, বলে উঠে—

—এসব মেনে নেয়া সম্ভব নয়। উযাইন ডিভোর্সি, ওর পাস্ট লাইফের সম্পর্কে আমরা জানি না। আমি ডিভোর্স পেপার রেডি করাচ্ছি, আর উযাইনকে বলে দে আমার সাথে কথা বলতে।
ইনশিরার চোখ জোড়া ভিজে উঠল এই ভয়েই সে জানাতে চাচ্ছিল না। সে ইরার হাত ধরে কেদে উঠে, আর বলে—
—আম্মু প্লিজ! আমি উনাকে ভালবাসি এমনটা করো না। আমরা এমনিতেই…
চুপ কর মেয়ে। সমাজ, দুনিয়া বয়স সম্পর্কের লেহাজ করতে শিখ ও তোর ২০ বছরের বড়! ভেবেছিস বাকি জিবন টা কিভাবে কাটাবি? সুদূর ভবিষ্যতে, যখন উযাইন বার্ধক্য চলবে তখন তোর বয়স?? প্রকপ্রকৃতির নিয়ম অনুসারে যে আগে আসে তাকে আগে যেতে হয়, যদিও এমন টা সবার ক্ষেত্রে না। কিন্তু আল্লাহ না করুন উযাইন যখন থাক…..
—এমনও তো হতে পারে যে আমি আগে মারা যাব? তুমিই তো বললে, সবার ক্ষেত্রে এমন হয় না। তাহলে কেন এত অগ্রিম চিন্তা??
ইরার কথার মাঝেই ইনশিরা, এই প্রলয়ঙ্কারী আর যুক্তিযুক্ত কথা গুলো বলে উঠল।

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল। লন্ডনের শহরতলীতে থাকা ওর সেই বিশাল, আলিশান রাজকীয় ক্রিমিনাল ভিলার লিভিং এরিয়াতে বসে ছিল। চারপাশের গথিক অন্ধকারের মাঝে ফায়ারপ্লেসের আগুন জ্বলছে। উযাইন নিজের শার্টহীন সুগঠিত বুকের ওপর একটা দামি সিল্কের বাথরোব জড়িয়ে, একহাতে বরফ ভর্তি গ্লাসে নামী ভিন্টেজ ড্রিংকস নিয়ে অত্যন্ত শান্ত ও কোল্ড মেজাজে চুমুক দিচ্ছিল। তার চোখ দুটো তখন এক প্রকাণ্ড প্রতিশোধের নেশায় বুঁদ হয়ে শান্ত হয়ে আছে ।
ঠিক তখনই লিভিং রুমের মেইন করিডোর দিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে ওনার মুখোমুখি এসে দাঁড়াল ডাক্তার আসিফ। আসিফ নিজের হাতের গ্লাভসটা টেবিলের ওপর রেখে উযাইনের সামনের সোফাটায় ধপ করে বসল।
আসিফ উযাইনের গ্লাসে নিজের গ্লাসটা হালকা ঠেকিয়ে, অত্যন্ত সিরিয়াস ও ঠান্ডা গলায় বলল—
—”প্রসিকিউটররা অলরেডি নিজেদের কাজ নিখুঁতভাবে শুরু করে দিয়েছে, উযাইন! আর জাহিরের গোপন জালিয়াতির ডেটা হ্যাক করে হয়ে ছিল সেই জাহির কায়ানাতের সব কুর্কীতির ডার্ক এভিডেন্স ও প্রমাণপত্রগুলো আজ সকালেই আমাদের টিম ওই মেইন প্রসিকিউশনের অফিশিয়াল ফাইলে সাকসেসফুলি এটাচ করে দিয়েছে!”
উযাইন ডিলান নিজের ড্রিংকসের গ্লাসে একটা হালকা চুমুক দিয়ে কোনো কথা না বলে ওনার ফেসের দিকে অপলক চেয়ে রইল।
আসিফ নিজের ঠোঁটের কোণে এক চতুর হাসি ফুটিয়ে আসল সত্যটা রিভিল করল—

—”আর আমাইরা আর নিকের গাড়ির সেই রাতের এক্সিটেন্টের ফুটেজটাও রেডি! আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী—ঠিক কাল সকাল নাগাদ এডাম কোরটানের হাউজে প্রসিকিউশনের এক বিশাল হাই-প্রোফাইল রেইড পড়বে এবং ওদের পুরো ফ্যামিলিকে অ্যারেস্ট করা হবে। আর… এই উইকের লাস্টে ইনশিরার বাবা জাহির কায়ানাতের বাসায় প্রসিকিউশনের টিম হানা দিয়ে ওনাকে জেলের অন্ধকারের ভেতর কুটি কুটি করে পিষে ফেলবে!”
প্রতিশোধের এক ভয়ংকর আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠল উযাইনের চোখে! সে নিজের ড্রিংকসের গ্লাসটা শক্ত করে ধরে জানলা দিয়ে বাইরের লন্ডনের রাতের অন্ধকারের দিকে তাকাল, আর ওর মনের ভেতর তখন কেবল ১৯ বছরের সেই গোলাপি শাড়ি পরা মায়াবী মেয়েটার মুখটা ভেসে উঠছিল।
আসিফ কিছু টা নরেচরে বলে, আর নিজের গ্লাসে ওয়াইন ঢালতে ঢালতে উযাইনের দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকায় আর উৎসুক গলায় বলে—
—আচ্ছা ডেনিয়াল, এলিন যে তোর বউকে স্পর্শ করলো, আর তুই এর শাস্তি ওকে দিলি প্রায় চার দিন পরে, মানে ইয়টের ঘটনা থেকে…
উযাইন আসিফের কথা শেষ করার আগেই কাউচে হেলান দিয়ে বসল, আর চোখ জোড়া বন্ধ করে লম্বা শ্বাস নিয়ে বলতে লাগলো—

—সহ্য হয়নি! কিন্তু বাহির থেকে দেখতে গেলে, ড্যান্স করাটা কোনো বড় রিজন ছিলনা। লন্ডনে এটা অতি স্বাভাবিক, আর যেখানে আমাদের ম্যারিজ টা হাইড। তবে আমি অপেক্ষায় ছিলাম এলিনের নেক্সট রিয়েকশনের জন্য। কারণ ওর ব্যাকগ্রাউন্ড স্ট্যাটাস হাই! তাই অনেক বড় রিজন দরকার ছিল খেলাটা শেষ করার জন্য।
আসিফ অবাক হয়ে উযাইনের দিকে তাকিয়ে রইল। উযাইন আবার বলতে লাগলো—
—যেহেতু ও আমার পারিবারিক শত্রু, আর এডাম জানে আমার হিডেন আইডেন্টিটি সম্পর্কে। তাই গতকালের ডিনারে আমার কোনো প্রকার উগ্রতা বা সিনক্রিয়েট করা একদমই বোকামি হত। এমন করলে বিয়ের কথা সামনে এসে পড়ত, আর এডামও আমার সেকেন্ড আইডেন্টিটি টা রিভিল করে দিত। রিভেঞ্জ নেওয়ার আগে সব কিছু রিভিল হলে, এত বছরের সাধনা শেষ হয়ে যেত।
আসিফ হা করে রইল, সে যেন উযাইনের তীক্ষন চিন্তা আর স্থিরতা দেখে অবাক হয় আর বলে—

—ব্রো তোকে স্যালুট! ওইখানে আমি হলে এলিন কে মারধর শুরু করতাম, কিছু না ভেবেই।
—জাহির যে কতটা লোভী আর সে যে কি পরিমাণ নিচে নামতে পারে তার আন্দাজ আছে আমার। গত কালকের পরিস্থিতি টা আগেই বুঝতে পেরেছিলাম এমন কিছুই হবে। তবে আমার পিচ্ছিটা মাঝখানে পরিস্থিতি শিকার হলো।
আসিফের কথার পিঠে কথা গুলো বলে, উযাইন আবার কিছুক্ষন চুপ থেকে সোজা হয়ে বসে আর আসিফের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে—
—ইনশিরা যেমন পিচ্ছি ওর মাথার বুদ্ধি গুলোও ওমন পিচ্চি! সে আমাকে জেলাস ফিল করানোর জন্য সেজেগুজে বসেছিল।
আসিফ হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা হলো তার সে বলে—
—ব্রো পিচ্চিদের বউ বানালে এমনই হয়। আমার টা দেখেছিস, হাজার টা বায়না ধরে। ইনশিরা তো সারার থেকে আরও দুই বছরের ছোট।
উযাইন হাসলো। সারভেন্ট এসে বলল ডিনার রেডি। ওরা দুজন গেল টেবিলে আর খাওয়া শুরু করে, আসিফ জানতে চাইল পরবর্তী প্ল্যান কি? উযাইন ফোরক আর নাইফ টা রেখে বলে—
—রেইড পরার অপেক্ষা! আর জাহির জেলে যাওয়ার পর ওকে নিজে গিয়ে বলে আসব যে ওর মেয়ে আমার সম্পত্তি। এর আগে জানানো ঠিক না, পরে তৃপ্তি আসবে।

ডিনার শেষ করে বারান্দায় এসে আরাম করে বসল। আর এতক্ষণে ওদের ক্রিমিনালওয়ার্ল্ডের লোকেরা আধমরা ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া এলিন কোরটানকে নিয়ে গিয়ে সোজা কোরটান ফ্যামিলির দরজার সামনে ফেলে দিয়ে এসেছে! নিজের একমাত্র ছেলের এই মরণাপন্ন, হাত-পা ভাঙা ও নিস্তেজ অবস্থা নিজের চোখে দেখে মিস্টার এডাম কোরটান এক ভয়ংকর প্রতিশোধের নেশায় দাউদাউ করে জ্বলে উঠল! সে নিজের মাথায় উযাইন আবরারকে পৃথিবীর বুক থেকে এক্কেবারে চিরকালের জন্য শেষ করে দেওয়ার এক ভয়ংকর খুনি ফন্দি আঁটতে শুরু করল।
পরদিন সকাল হতেই উযাইন ও আসিফের সেই নিখুঁত ব্ল্যাক ফাইলের ইশারায়—কোরটান হাউজ এবং এডামের মেইন হেড অফিসে একসাথে প্রসিকিউশনের এক বিশাল হাই-প্রোফাইল রেইড আছড়ে পড়ল! সরকারি টিমের লোকেরা ওদের ভেতরের সব গোপন নথিপত্র, ল্যাপটপ আর ডার্ক ডেটা নিজেদের দখলে নিয়ে নিল এবং কোরটান ফ্যামিলির বাকি মেম্বারদের হাতকড়া পরিয়ে অ্যারেস্ট করে টানতে টানতে নিয়ে গেল। কিন্তু সবচেয়ে বড় মোড় হলো—এডাম কোরটান কাল রাতেই নিজের সব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পুলিশ ও ক্রিমিনালওয়ার্ল্ডের চোখ ফাঁকি দিয়ে আড়ালে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলো!

রিসোর্টে বসে সকাল সকাল কোরটান হাউজের এই ভয়ংকর ধ্বংস আর রেইডের খবর জাহির কায়ানাতের কানে পৌঁছানো মাত্রই ওর পায়ের নিচের মাটি এক সেকেন্ডে কেঁপে উঠল! জাহির তীব্র আতঙ্কে ভোর বেলাতেই ইরা আর ইনশিরাকে সাথে নিয়ে ওই রিসোর্ট থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে সোজা বাড়িতে ফিরে এলো! ইনশিরাও উযাইনের নম্বরে অনবরত কল করতে শুরু করল। কিন্তু এক… দুই… বিশবার ট্রাই করার পরও সে ওপাশে ওর ফোনটা এক্কেবারে বন্ধ বা আউট অফ রিচ পেল! উযাইনের এই প্রকাণ্ড নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ওর মনটাকে এক চরম বিরহের ট্রমা আর অপার্থিব কষ্টে এক্কেবারে দুমড়ে-মুচড়ে দিল। ওদিকে চিরশত্রু এডাম কোরটানের এই রেইড থেকে পালিয়ে যাওয়ার চালটা জানতে পেরে উযাইন আর আসিফ—দুজনেই এক বুক রাগে ও পজেসিভনেসে এক্কেবারে ফেটে পড়ল! ওরা নিজেদের পুরো ‘ডেনিয়াল গ্যাং’ ও ক্রিমিনাল ওয়ার্ল্ডের নেটওয়ার্ক নামিয়ে দিয়ে লন্ডনের প্রতিটা গলিতে এডামকে হন্যে হয়ে খুঁজতে মারাত্মক ব্যস্ত হয়ে পড়ল!
ওদিকে নিজের বাড়িতে বসে জাহির কায়ানাত নিজের সেই অতীত ও বর্তমানের সব অবৈধ জালিয়াতির কাজ, পেপারস আর ফাইলগুলো খুব সূক্ষ্মভাবে লুকাতে ও ধুয়েমুছে সাফ করতে শুরু করে দিল !
দেখতে দেখতে লন্ডনের বুকে এক… দুই… তিন… করে পাঁচ-পাঁচটি দিন একদম এলোমেলো ভাবে কেটে গেল! পুরো পরিস্থিতির প্রতিটি সূত্র যেন এক সেকেন্ডে সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গেছে। ইনশিরা আর উযাইনের মাঝে কোনো ধরণের যোগাযোগ বা একটা টু শব্দ পর্যন্ত আদান-প্রদান হলো না। উযাইনের ডেটা অনুযায়ী—আজ বা কালের মাঝেই জাহিরের মেইন আস্তানায় প্রসিকিউশনের রেইড পড়ার কথা ছিল। কিন্তু দেখতে দেখতে আরও দুটো দিন এক্কেবারে নিঃশব্দে পার হয়ে গেল।

মোট সাত দিন কেটে গেল! প্রসিকিউশনের সরকারি গোয়েন্দা টিমের লোকেরা জাহিরের মেইন কর্পোরেট অফিসে হানা দিল ঠিকই—কিন্তু ওখানকার প্রতিটা ফাইল ও ড্রয়ার ওলটপালট করে খোঁজার পরও, জাহিরকে অফিশিয়ালি হাতকড়া পরিয়ে অ্যারেস্ট করার মতো একটাও মোক্ষম প্রমাণ ওরা নিজেদের হাতে পেল না ! কারণ চতুর জাহির নিজের বুদ্ধি খাঁটিয়ে ওনার সব ডার্ক এভিডেন্স নিখুঁতভাবে লুকিয়ে ফেলেছে!
এরই মাঝে আরও তিনটি পুরো দিন পার হয়ে গেল, অর্থাৎ মোট ১০-১০টা দিন এক নরক যন্ত্রণার মতোন কেটে গেল ! ইনশিরা গত কয়েক দিন যাবত নিজের ঘরের ভেতর একা একা বসে মারাত্মক রকমের অসুস্থ ফিল করছিল! একে তো উযাইন আবরারের কোনো হদিস নেই ওদিকে ওর বাবা জাহিরকে দিনরাত চোরের মতো অনবরত পুলিশ স্টেশনে গিয়ে হাজিরা দিতে হচ্ছে—এই দুই মানসিক ট্রমা আর ডিপ্রেশন ওর ছোট্ট শরীরটাকে এক্কেবারে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিল!

জাহিরের এই আইনি ফাঁক গলে বের হয়ে যাওয়ার সূক্ষ্ম চাল আর এলিনের সেই হাত ভাঙার প্রতিশোধ না নিতে পারার কারণে— উযাইন নিজের সহ্যের সীমা আজ একদমই শেষপ্রান্তে এসে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল!
লন্ডনের আকাশে তখন কুয়াশা ঘেরা বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঠিক পৌনে ৬টা বেজে গেছে। উযাইন নিজের কালো অডি গাড়িটা নিয়ে হাইওয়ে দিয়ে এক বুক প্রকাণ্ড রাগে ও পজেসিভনেসে ফুঁসতে ফুঁসতে তীব্র গতিতে ড্রাইভ করে নিজেদের সেই চেনা আস্তানার দিকে ফিরে আসছিল।
ঠিক তখনই… ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় সন্ধ্যা ঠিক ৬টা বাজল!
“ধড়ামমম….!!!”

হুট করেই হাইওয়ের মোড় থেকে এক দানবীয় গতিতে ধেয়ে আসা এক বিশাল ট্রাক কোনো ব্রেক না কষে—সরাসরি এক প্রকাণ্ড বিকট ও কান ফাটানো শব্দ করে উযাইনের চলন্ত অডি গাড়িটার ওপর আছড়ে পড়ল! সেই লোহার দানবের তীব্র পিষে দেওয়ার ধাক্কায় উযাইনের সুদৃশ্য লাক্সারি গাড়িটা এক সেকেন্ডের মাঝেই ফ্লোরের ওপর একদম দুমড়ে-মুচড়ে তুবড়ে এক দলা লোহায় পরিণত হয়ে গেল!
এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার ঠিক কয়েক মিনিট পার হতে না হতেই… দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটার ফুয়েল ট্যাংক লিক হয়ে এক প্রকাণ্ড ও ভয়ংকর আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠল সেই জ্বলন্ত আগুনের লেলিহান শিখা কুয়াশা ঘেরা লন্ডনের হাইওয়ের আকাশটাকে এক নিমেষে লালচে রক্তিম রঙে ভরিয়ে দিল।

রুহ এ ইশক পর্ব ২৯

আর এই পুরো মরণ যন্ত্রণার লাইভ লাইভ দৃশ্যটা… এক নির্জন সিক্রেট ডার্ক আস্তানার স্ক্রিনে বসে, মেইন ট্রাফিকের সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ফিডের দিকে তাকিয়ে—নিজের ঠোঁটের কোণে এক কুখ্যাত, বন্য ও চূড়ান্ত পিশাচের মতো হাসি ফুটিয়ে খুব গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছিল পলাতক এডাম কোরটান! সে নিজের মদের গ্লাসে একটা হালকা চুমুক দিয়ে সিসিটিভির সেই আগুনের দিকে তাকিয়ে এক বন্য অমোঘ কণ্ঠে খিলখিল করে হেসে উঠল—
—”খতম…! আজ এই সমুদ্রের তপ্ত আগুনেই এই উযাইন ডেনিয়াল নামের কুখ্যাত চ্যাপ্টারটা আমি নিজের এই হাত দিয়ে আজীবনের জন্য পুড়িয়ে ছাই করে দিলাম!”

রুহ এ ইশক পর্ব ৩১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here