Home বাঁধনহারা প্রেম বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৪

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৪

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৪
shanta moni

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ে, রোদ বাসার সবার জন্য নাস্তা বানিয়ে, দিয়ে রুমে আসে,
সকাল সকাল বাড়ির সামনে গার্ডেন এ বসে এক্সারসাইজ করছিলো,নিলয় এমন সময় নিলা তাড়াহুড়ো করে গেট দিয়ে ঢুকছে, নিলা দেখে নিলয় জোরে ডাক দেয়, এই যে খালাম্মা কোথায় যাচ্ছেন, আপনি, কারো ডাক শুনে পিছন ফিরে তাকায় নিলা, ভ্রু কুচকে বলে, এটা সেই কালকের হাদারাম টা নাহ,

আবার খালাম্মা কাকে ডাকছে, নিলয় নিলার সামনে এসে দাঁড়ায় তার পর বলে →এই বাড়িতে কার কাছে আসছেন, নিলা বিরক্ত হয়ে বলে→আপনাকে বলতে যাবো কেনো, নিলয় হেঁসে বলে→তো কাকে বলবেন খালাম্মা, নিলা রাগান্বিত হয়ে বলে এই ছাগল এর তিন নাম্বার বাচ্চা শেওড়া গাছের পেত্নীর জামাই,আপনি কাকে খালাম্মা বলছেন হ্যা, নিলয় হেঁসে দেয়, তাঁর পর বলে→আমি তো আপনার নাম জানি না,তাই খালাম্মা বলে ডাকলাম,যদি নাম টা বলতেন,তাহলে আর ডাকতাম না খালাম্মা, নিলা রাগান্বিত হয়ে বলে →অসভ্য লোক তো আপনি নাম জানবেন না তাই বলে খালাম্মা বলবেন, নিলয় বলে→আচ্ছা তো নাম টা বলেন এখন, নিলা রেগে গিয়ে নিলয় কে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়, তার পর বাড়ির দিকে যেতে যেতে বলে, আপনার মতো হাদারাম কে এই নিলা কখনোই নিজের নাম বলবে না, নিলার কথা শুনে নিলয় হেঁসে দেয়, আর নিলা বিরক্ত হয়ে বাসার মধ্যে চলে যায়, নিলা রোদ এর রুমে গিয়ে দেখে রোদ গোসল করে বেড়িয়েছে এখন ফ্যান এর নিচে চুল শুকাচ্ছে, নিলা গিয়ে রোদ কে জড়িয়ে ধরে, রোদ নিলাকে এতো সকাল সকাল এই বাড়িতে দেখে ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে,তুই এতো সকাল সকাল এইখানে, নিলা রোদ কে জড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলে,আম্মু পাঠিয়েছে আমাদের বাসা থেকে নাস্তা করে,তাঁর পর ওই খান থেকে রেডি হয়ে,কলেজ যাবো,তাই এতো তাড়াতাড়ি তোকে নিতে আসলাম,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

রোদ কিছুই বলে না, নিলা আবার বলে→আচ্ছা রোদ এই চৌধুরী বাড়ির ছেলেদের কি মাথার তার কি ছিড়া নাকি, রোদ বলে→মানে নিলা তার পর নিলয় কথা বলে→রোদ এই কথা শুনে ফিক করে হেঁসে দেয়, তার পর রোদ বলে→
নিলয় ভাই খুব ভালো মানুষ, তবে একটু চঞ্চল টাইপের,সব সময় হাসি খুশি থাকতে পছন্দ করে, নিলা মুখ ভেঙিয়ে বলে→কত টা ভালো বুঝাই যাচ্ছে,আস্ত একটা হাদারাম, রোদ আবার হেঁসে দেয়, তার পর বলে আমার ভাইয়ের বদনাম আমার কাছেই করছিস, নিলা আবার মুখ ভেঙিয়ে বলে→হাদারাম কে তো হাদারাম বলবে, এতে আবার বদনাম এর কি হলো, এখন তুই তাড়াতাড়ি চল,আম্মু তাড়াতাড়ি যেতে বলছে, তার পর রোদ আর নিলা হেনা বেগম এর কাছে বলে, চলে যায়,

সকাল এর নাস্তা করে সেই তিন ঘন্টা ধরে সেজে যাচ্ছে,
নিলা আর রোদ ম্যাচিং নীল রং এর সুতি জামদানি শাড়ি পড়ছে,রোদ কে সেই এক ঘন্টা ধরে সাজিয়ে যাচ্ছে নিলা, রোদ বিরক্ত হয়ে বলে, নিলা প্লিজ দোস্ত এবার থাম, এই ভাবে বসে থাকতে থাকতে কোমর ব্যাথা হয়ে গেছে প্লিজ, নিলা বলে, জানু এই তো হয়ে গেছে, আর পাঁচ মিনিট, রোদ কে সাজিয়ে আয়নার সামনে দাড় করিয়ে দেয়, নিলা তার পর বলে দেখতো জানু কেমন লাগছে,রোদ আয়নায় সামনে দাড়িয়ে নিজেকে চিনতে পারছে না,অবাক হয়ে, আয়নার দিকে তাকিয়ে আছে, হলদে ফর্সা গায়ে নীল রং এর শাড়ি যেনো জ্বলজ্বল করছে, সাথে ম্যাচিং অর্নামেন্টস সাথে হালকা মেকাপ,ঠোঁটে ঘাড়ো লাল লিপস্টিক জীবনে প্রথম শাড়ি পড়েছে, রোদ নিজেকে দেখে নিজেই মুগ্ধ হচ্ছে, নিলা হেসে বলে→ জানু তোকে যাহ লাগতে আছে নাহ কি বলবো, আমি যদি মেয়ে না হয়ে ছেলে হতাম, তাহলে তোকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করতাম,

রোদ ফিক করে হেঁসে দেয়, নীলা চোখ থেকে কাজল এনে রোদ এর কানে পাশে লাগিয়ে দিয়ে বলে→ইশশ আমার জানুর যেনো কারো নজর নাহ লাগে,তার পর দুজন মিলে কলেজ যায়,
কলেজ গেঁটের সামনে দাড়িয়ে আছে, রোদ ভিতরে যেতে ভীষন লজ্জা লাগছে,এই ভাবে কখনো শাড়ি পড়ে
বাহিরে আশা হয়নি,নিলা বিরক্ত হয়ে বলে→আরে শালি এতো লজ্জা পাবার কি আছে,ভিতরে চল, অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে, রোদ বলে উঠে → নিলা দোস্ত ভীষণ অস্থির লাগছে,ভয় করছে ভীষণ, নীলা বলে→আরে জানু কিচ্ছু হবে না, তুই ভিতরে চল,তাঁর পর দুজন কলেজ এর ভিতরে চলে যায়,দুইজন কলেজ এর ভিতরে গিয়ে চেয়ারে বসে, হটাৎ চোখে সামনে স্টেজে শুভ্রকে দেখে ভয়ে, কেপে উঠে রোদ,

একটু পাশে খেয়াল করতেই, দেখে অয়ন পাশে একটা চেয়ারে বসে আছে, আর স্টেজের পাশে দাঁড়িয়ে নিলয় ভিডিও করছে, রোদ কে এই ভাবে ভয় পেতে দেখে, নিলা বলে এমন করছিস কেনো কি হয়েছে,রোদ নিলাকে বলে→আচ্ছা তুই কি জানতি শুভ্র ভাই এইখানে আসবে,নিলা আস্তে করে বলে→হুম কেনো, রোদ বলে তাহলে আমাকে কেনো বল্লি না, আমি যদি তোকে বলতাম যে শুভ্র ভাই এই অনুষ্ঠানে আসবে, তাহলে কি তুই আসতি এই অনুষ্ঠানে তাই বলিনি,রোদ রেগে গিয়ে বলে →না বলে তুই একদম ঠিক করিসনি তুই, তুই জানিস ওই লোকটা বলেছে, উনি যদি তার আসে পাশে আমাকে দেখে তাহলে আমাকে গুলি করে মারবে,নিলা বলে→আরে বেবি কুল কিচ্ছু করবে না, আর তোর এই কলেজ আসার রাইট আছে, আর এটা তো তোর বাড়ি না কিচ্ছু করবে না, চাপ নিস না, রোদ এর তার পর যেনো ভয় কমে না, কেমন যেনো অস্থির লাগতে আছে,

ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসছিল, রোদ হটাৎ কারো হেচকা টানে কালো অন্ধকার রুমের মধ্যে নিয়ে যায়,ভয়ে কেঁপে উঠে রোদ, যখনি চিৎকার দিতে যাবে,এমন সময় মুখ চেপে ধরে, ভয়ে যেনো প্রান পাখি উড়ে যাচ্ছে, হটাৎ গলায় কারো গরম নিশ্বাস পড়তেই রোদ ধর ধর করে কেঁপে উঠে, অন্ধকারে অবায়কটি, দেয়ালের সাথে চেপে ধরে, হটাৎ গলায় ঠোঁটের স্পর্শ পেতেই,

রোদ এর পুড়ো শরীর কেঁপে উঠে, ধাক্কা দিয়েও অন্ধকারে অবায়ক কে সরাতে পারে না,চোখ বন্ধ করে ধর ধর করে কাঁপছে রোদ, মিনিট খানেক পর কারো সারা শব্দ না পেয়ে,চোখ খুলে তাকায়,সামনে এখন কাউকে দেখতে পায় না,দৌড়ে অন্ধকার রুম থেকে বেরিয়ে আসে রোদ, বাহিরে এসে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে, আসে পাশে চোখ ভুলিয়ে দেখে, কিন্তু কেউ নেই, এখানে কিছু দূড় যেতেই অয়ন ভাইকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে, রোদ কিছুটা সাহস নিয়ে বলে→অয়ন ভাই আপনি এখানে কি করছেন, পেছন ফিরে তাকায় অয়ন, আমতা আমতা করে বলে→আসলে একটা জরুলি কল আসছিল, ওই দিক থেকে অনেক শব্দ আসছে তো তাই এখানে কথা বলতে আসছিলাম, রোদ আস্তে করে বলে → ওহহ অয়ন কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে রোদ এর দিকে তার পর বলে →নীল শাড়িতে তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে রোদ,

রোদ লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয়, অয়ন মুচকি হাসে,
রোদ আস্তে করে বলে→অয়ন ভাই আপনারা এইখানে,
অয়ন আস্তে করে আমাদের ইনভিটেশন ছিল, আর চাচা জান ও অনেক জোর করছে আসার জন্য, আমি শুভ্র তো এই কলেজ থেকেই পড়াশোনা করছি, সেই সুবাদে চিপস গেস্ট হয়ে আসা, রোদ বলে→ওহ
অয়ন বলে →আচ্ছা চলো একসাথে যাই, অনুষ্ঠান তো শেষ, রোদ কিছু বলে নাহ, অয়ন এর পিছন পিছন হাঁটতে থাকে,

আধাঘন্টা আগে নীলা গেছিলো রোদ বসিয়ে রেখে আইসক্রিম আনতে, আর এই দিকে রোদ এর ওয়াশরুম যেতে হয়, অনেকক্ষন অপেক্ষা করে নীলার জন্য যে নীলাকে নিয়ে যাবে, কিন্তু নিলা আসার নামই নেই, তার পর একাই চলে যায়, তার পর অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে এই ঘটনা ঘটে,
এইদিকে রোদকে নীলা খুঁজতে খুঁজতে হয় রান, রোদকে আসতে দেখে দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে তার পর বলে জানু কই গেছিলি তুই, তোকে আমি খুঁজতে খুঁজতে শেষ, রোদ তার সব বলে কিন্তু সেই অন্ধকার রুমের ঘনটা চেপে যায়,
রাত:১২:৩০ রোদ ছাদের এক কোনে দাঁড়িয়ে আছে,আর আজকের দিন এর ঘটে যাওয়া ঘটনা ভাবছে, আর আন মনে বলে উঠে আচ্ছা সে কি ভুলে গেছে, সব এতো এতো সৃতি সব কিছু, হয়তো বা ভুলেই গেছে,রোদ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে, তার পর ছাদ থেকে নেমে রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে,

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ে রোদ, আজকে অয়ন এর বোন নীরা কে পাত্র পক্ষ দেখতে, আসছে বাড়িতে আজ অনেক কাজ, সকাল সকাল উঠে কাজে লেগে পড়ে রোদ, নীরাকে দেখে পাত্র পক্ষের পছন্দ হইছে, আর তারা আংটি পড়িয়ে বিয়ের দিন তারিখ ও ঠিক করে গেছে,রোদ নীরা কে যখন দেখতে আসে পুড়োটা সময় রুমে ছিলো রুম থেকে বের হয়নি,কারন এর আগের বার অনেক জামেলা হয়েছিল, এর আগের বার পাত্র পক্ষ নীরাকে দেখতে এসে, রোদকে পছন্দ করে,আর এই নিয়ে হাসি বেগম অনেক তুলকালাম বাজায় বাসায় আর রোদকেও খুব বাজে বাজে কথা বলেন, এমন কি গায়েও হাত তুলে,তাই রোদ সব কাজ করেই, আগে আগে রুমে এসে পড়ে, কারন সে চায়’না, এই বাড়িতে তার জন্য আর জামেলা হোক,

নীরা আর অহনা সাথে রোদ এর ভালো সম্পর্ক থাকলেও টিনা রোদ কে একদম সহ্য করতে পারে না, কথায় কথায় অপমান করে, আজে বাজে কথা বলে, আর হাসি বেগম আর মীরা বেগম দোষ পেলেই গায়ে হাত তুলে,যতদিন রোদ এর মামনি ছিলো, সে কখনো মায়ের অভাব বুঝেয়নি,কিন্তু মামনি চলে যাবার পড় থেকে বাস্তবতা শিখেছে মানুষ চিনেছে, রোদ শুভ্র আম্মু ফটো নিয়ে কাঁদছে,আর বলছে,আচ্ছা মামনি তুমি তো জানতে আমার কোনো দোষ ছিল না, তাহলে শুভ্র ভাই কেনো আমাকে এতো গৃনা করে,কোনো’ ভুল না করে কেনো এতো শাস্তি পাচ্ছি আমি মামনি এই বাড়িটা আমার নরক মনে হয়,কেউ ভালোবাসে না আমায়, মা বাবা চলে গেলো,তার পর তুমিও চলে গেলে আমায় ছেড়ে,আমাকে ভালোবাসার জন্য এই পৃথিবীতে আর কোনো মানুষ রইলো না মামনি, কেউ রইলো না,

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৩

বিকাল ৪:৩০
ছাদে বসে ফুল গাছে পানি দিচ্ছিল রোদ, হটাৎ শুভ্র কোথা থেকে এসে ঠাসসসস ঠাসসসস দুটো থাপ্পড় দেয়, রোদকে রোদ ভয়ে কেপে উঠে,রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে শুভ্র,রোদ এর চুলের মুঠি ধরে চেপে ধরে মুখে কাছে এনে বলে, হাপ ফুট একটা মেয়ে আমার কথার অবাধ্য হস, তোর কলিজা কতো বড় হইছে হ্যা আজকে তোকে খুন করে কলিজা বেড় করে দেখবো তোর কলিজা কতো বড় হইছে,, রোদ ভয় ব্যাথায় জোরে কেঁদে উঠে, রোদ এর কান্না যেনো শুভ্ররের রাগে আগুনে ঘি ডালার মত, কাজ করলো, রোদ কে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে গলা টিপে ধরে,
তার পর রাগে রি রি করতে বলে, তোর মতো একটা হাপ ফুট That class মেয়ে আসছে, এই শুভ্র চৌধুরী কে জ্বালাতে নাহ,
তুই আমাকে জ্বালাতে আসবি,তো আমার রাগের উত্তপ্ত
আগুনে তোকে পুড়িয়ে মারবো আমি

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫