বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬
shanta moni
রোদ সেই যে শুভ্রের রুম থেকে বেরিয়ে আসছে। তার পর থেকে আর রুম থেকে বের হয়নি। ভয়ে তার শরীর এখনো থর থর করে কাঁপছে। তখন কার কথা মনে পড়লেই শরীর শিউরে উঠছে। শুভ্রের হাতে থাপ্পড়ে রোদ এর গাল লাল হয়ে আছে। এখনো মনে হচ্ছে।। গাল অবশ হয়ে আছে।
রাত ১২:৩০ মিনিট
রোদ ছাদের এক কোনে দাঁড়িয়ে আছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে। আর আন মনে বলে উঠে।
রোদ: যেই হাতগুলো একদিন আমার হাত শক্ত করে। ধরে রাখার কথা ছিলো। আজ সেইগুলো আমাকে আঘাত করে।
রোদ ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। তারপর আবার বলে উঠে।
রোদ: আব্বু আম্মু তোমরা আমাকে কেনো একা করে গেলে। আমাকেও নিয়ে যেতে তোমাদের সাথে। তোমাদের সেই রোদ ভালো নেই। একটুও ভালো নেই।
রোদ কাঁদতে কাঁদতে ছাদের ফ্লোরে বসে পড়ে। তারপর বলে।
রোদ: যখন আঘাত পাই। তখন বুঝি -আমার হাত ধরে বলার মতো কেউ নাই। যে আমি আছি।
কষ্ট পেলে সবার মা -বাবা বুকে টেনে নেয়। আর আমি শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবি আমাকে বুকে টানার মানুষ কোথায়। আমার চোখের পানি মুছে দেবার মতো কেউ নেই। কেউ না।
রোদ চোখের পানি হাত দিয়ে মুছে উঠে দাঁড়ায়। আবার ছাদের এক কোনে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে।
রোদ: আকাশ, তুই তো সবার মাথার উপরে ছায়া হয়ে থাকিস। আর আমার মাথার উপরে কোনো একটা আপন মানুষ এর ছায়াও নেই।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
সকাল : ১০:৩০
চৌধুরী বাড়িতে আজ খুশির আমেজ। নীরার মেহেদী অনুষ্ঠান আজকে। তারপর কালকে হলুদ পরের দিন বিয়ে।পুড়ো বাড়ি সাজানো হচ্ছে। রোদ অনেক সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ে। নামাজ পড়ে। বাড়ির কাজে নেমে যায়। রান্না ঘরে কাজ করছে রোদ।
এইদিকে, শুভ্র রুম থেকে রেডি হয়ে। অফিসে যাচ্ছিলো। সিঁড়ি বেয়ে নামতেই হটাৎ কোথা থেকে একটা মেয়ে এসে। শুভ্র বেবি বলে জড়িয়ে ধরে।
আসে পাশে মেহমানরা কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে। শুভ্র কিছুটা বিরক্ত হয়। তার পর চাপা স্বরে বলে।
শুভ্র: হোয়াট দ্যা হেল? কি হচ্ছে কি রিয়া
বলেই নিজের কাছ থেকে সড়িয়ে দেয়।
রিয়া মেকি হেসে বলে।
রিয়া : আরে কুল বেবি। এতোটা হাইপার হচ্ছিস কেনো। বলেই শুভ্রের হাত জড়িয়ে ধরে।
শুভ্র রেগে যায়। কিন্তু আসে পাশে মেহমান থাকায়। কিছু বলতে পারে না। রাগান্বিত হয়ে ধপধপ পা ফেলে। চলে যায়।
কিছুক্ষণ আগে
রোদ রান্না ঘর থেকে মেহমানের জন্য নাস্তা নিয়ে আসছিল। ড্রয়িং রুমে তক্ষুনি চোখ পড়ে শুভ্রের দিকে।
শুভ্র একটা মেয়ে জড়িয়ে ধরে আছে। সাথে সাথে সেখান থেকে চলে আসে। রোদ এই মেয়েকে ভালো করেই চিনে। হাসি বেগম এর বোন এর মেয়ে। অয়নের খালাতো বোন। আমেরিকা থাকে।
রোদ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে তারপর মনে মনে বলে উঠে।
রোদ : যে কখনো আমার ছিলোই না। তার জন্য কষ্ট পেয়ে কি লাভ।
হটাৎ রোদকে আরাফ চৌধুরী ডাকে রোদ আরাফ চৌধুরী সামনে দাড়িয়ে বলে।
রোদ: মামা তুমি কখন এলে। আর কেমন আছো তুমি?
আরাফ চৌধুরী হেঁসে রোদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে।
আরাফ: আমি কালকে রাতে এসেছি মামনি। আর আমি ভালো আছি। তুই কেমন আছিস। আর তোর কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো।
রোদ হেঁসে বলে
রোদ : আমি ভালো আছি মামা। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
আরাফ চৌধুরী নিজের বিজনেসের কাজে দেশের বাহিরে ছিলো।
আরাফ চৌধুরী রোদ এর দিকে ভ্রু কুচকে তাকায় তারপর বলে।
আরাফ : রোদ মামনি তোকে শুভ্র কিছু বলছে বা কিছু করছে।
রোদ আমতা আমতা করে বলে।
রোদ: নাহ মামা উনি আমাকে কিছুই বলেনি।
হটাৎ আরাফ চৌধুরী চোখ পড়ে রোদ এর গালে। গাল লাল হয়ে আছে। আরাফ চৌধুরী ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে।
আরাফ : রোদ তোর গালে কি হয়েছে।
রোদ কিছুটা চমকে যায়। তাঁরপর বলে।
রোদ: মামা আসলে এলার্জী হয়েছে আমার গাল অনেক চুলকায়। আর এই জন্য হয়তো লালা হয়ে আছে।
রোদ তাঁরপর বলে। মামা আমাকে নানু ডাকছে আমি যাই। তাড়াতাড়ি রোদ সেখান থেকে এসে পড়ে। ওড়না ভালো করে মাথায় দিয়ে রাখে। যেনো কেউ গালের দাগ দেখতে না পারে।
পার্লার থেকে চারজন মেয়ে এসেছে। নীরাকে মেহেদী পড়াতে। রুমে বসে মেহেদী দিচ্ছে নীরা। সাথে টিনা,রিয়া, অহনা এরাও আছে। রোদ যাচ্ছে সবার জন্য নাস্তা নিয়ে। নাস্তা দিয়ে আসতে যাবে। তক্ষুনি অহনা বলে উঠে।
অহনা: রোদ তুমি মেহেদী পড়বে না।
রোদ পিছন ফিরে তাকিয়ে বলে।
রোদ: না আপু
নীরা বিরক্ত হয়ে বলে। রোদ এখানে সবাই মেহেদী পড়ছে। তুই ও পড়বি আর কোনো কথা শুনতে চাই না।
রোদ আর কিছু বলে না। কিন্তু রিয়া আর টিনা রাগে ফুসছে। এই বাহিরের মেয়েটাকে নিয়ে এতো আদিখ্যেতা কিসের বুঝেনা। কিন্তু সামনে নীরা থাকায় কেউ কিছু বলতে পারে না।
এক ঘন্টা ধরে রোদকে মেহেদী দিয়ে দেয়।
সবার হাতে মেহেদী দেওয়া শেষ।
সবাই হাত ধুয়ে আসছে। আর এক একজন মেহেদী রঙ দেখছে। যে কার মেহেদী রঙ গাড়ো হয়েছে। রোদ এর হাতের মেহেদী শুকাতে অহনা বলে উঠে।
অহনা: রোদ তুমি যাও, মেহেদী ধুয়ে আসো। এখন দেখবো তোমার মেহেদীর রঙ কতটা গাড়ো হয়েছে।
আর যার মেহেদী রঙ যত বেশি গাড়ো হয়। তার বর তাকে তত বেশি ভালোবাসে।
রোদ মেহেদী ধুয়ে আসে। ওয়াশরুম থেকে।
সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রোদ এর হাতের দিকে। অহনা বলে উঠে। লেখিকা: #shanta_moni_মায়াবতী
অহনা: ওয়াও রোদ এতো সুন্দর রঙ হয়েছে। এই অল্প সময়। রোদ তোর বর দেখছি। তোকে খুব ভালোবাসেরে। তা আমাদের দুলাভাই কোথা থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে এতো ভালোবাসে রে।
রোদ লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয়। আর এই দিকে টিনা আর রিয়া রাগে ফুসতে থাকে।
রিয়া মনে মনে বলে, যত্তসব আদিখ্যেতা।
অহনা রোদের কাছে গিয়ে বলে।
অহনা: আহারে লজ্জাবতী লাজুক লতা। আর লজ্জা পেতে হবে না।
নিলয় বাসার বাহিরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিডিও করেছিলো। অনেক ক্ষন ধরে চেষ্টা করছে শাহরুখ খানের পোস দিতে। কিন্তু পারছেই না।
এমন সময় নিলা আসছিল। ফোনে কথা বলতে বলতে
এমন সময় নিলয় সাথে ধাক্কা লাগে। নিলয় গিয়ে মাটিতে পড়ে যায়। আর নিলা কিছুটা দূড়ে ছিটকে পড়ে।
নিলা সামনে নিলয় কে দেখে। রাগান্বিত হয়ে বলে।
নিলা: শালার কপাল টাই ফুটো। এই বাড়িতে আসলেই এতো মানুষ থাকতে। এই হাদারামের সাথে কেনো ধাক্কা খেতে হবে হ্যা। লেখিকা Shanta Moni-মাঁয়াঁবঁতীঁ
রাগে গজ গজ করতে নিলা উঠে দাঁড়ায় তার পর বলে।
নিলা : সমস্যা কি আপনার হ্যা। এতো’লোক থাকতে আমার সামনে এসে পড়তে হবে।
নিলয় উঠে এসে নিলার সামনে দাঁড়ায় তাঁরপর বলে
নিলয় : খালাম্মা আপনি এইখানে
নিলা খালাম্মা ডাক শুনে রাগে ফুসতে থাকে।
নিলয় হাত হটাৎ ভিজে ভিজে লাগে। প্যান্ট পেছন কেমন ভিজে ভিজে। চার পাশ তো শুকনো আছে। তাহলে প্যান্ট আর হাত ভিজলো কিভাবে। হাতটা নাকের কাছের আনতেই একটা বাজে গন্ধ নাকে আসে। আর নিলয় ওয়াক থু বলে।
নিলা ভ্রু কুচকে নিলয়ের দিকে তাকায়।
পাশ থেকে একটা সাত আট বছরের ছেলে বলে উঠে।
ভাইয়া তুমি যেখানে পড়ে গিয়েছো। সেখানে কিছুক্ষণ আগে আমি হিসু করেছি। বলেই ফিক করে হেঁসে ফেলে।
নিলা ও ফিক করে হেঁসে দেয়। তাঁরপর বলে।
নিলা: একদম ঠিক হয়েছে। হুম বলেই হাঁসতে হাঁসতে চলে যায়।
নিলয় রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। বাচ্চাটার দিকে।
দৌড়ে গিয়ে বাচ্চাটাকে ধরতে যায়। এমন সময় আবার একই৷ যায়গা ঠাসসসস করে পড়ে যায়।
বাচ্চা ছেলেটা আবার হাঁসতে থাকে। তাঁরপর দৌড়ে চলে যায়। সেখান থেকে
নিলয় রাগে দুঃখে বাড়ির ভিতরে যায়। গোসল করতে।
এইদিকে..
রোদ নিজের রুম থেকে বেরিয়ে নিচে যাচ্ছিল। এমন সময় অয়ন ডাক দিয়ে বলে উঠে।
অয়ন: রোদ কোথায় যাচ্ছো।
রোদের পা থেমে যায়। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখে। অয়ন হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে। রোদ আমতা আমতা করে বলে।
রোদ: ভাইয়া কিছু বলবেন?
অয়ন: না মানে এমনি ডাক দিছিলাম। কোথায় যাচ্ছো।
রোদ : নিচে যাচ্ছি ভাইয়া কাজ আছে।
অয়ন রোদের হাতের দিকে তাকিয়ে বলে।
অয়ন: হাতের মেহেদী দিয়েছো। খুব সুন্দর লাগছে।
রোদ লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে বলে উঠে।
রোদ: ধন্যবাদ ভাইয়া।
অয়ন কাঁদো কাঁদো মুখ বানিয়ে বলে।
অয়ন: এই ভাবে ভাইয়া ডেকো না রোদ। যে কোনে সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
রোদ কিছুটা অবাক হয়ে। তাকায় অয়ন এর দিকে।
অয়ন হেসে দেয়। তার পর বলে
অয়ন : তোমার মুখর ভাইয়া ডাকটা বেমানান।
রোদ আমতা আমতা করে বলে।
রোদ: আমার কাজ আছে। ভাইয়া আমি যাই।
বলে আর দাঁড়ায় না। সেখান থেকে নিচে চলে যায়।
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৫
রাত ৮:৩০
সারাদিনের ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরছে শুভ্র। কোনো এক কারনে মাথা গরম হয়ে আছে।
বাসার ভিতরে ড্রয়িং রুমে ডুকে। হটাৎ গায়ে এসে শরবত পড়ে। রাগে চোয়াল শক্ত করে সামনে তাকায়
রোদকে সামনে দেখে যেনো। রাগটা আরো দ্বিগুন বেড়ে যায়।
ঠাসসসসস করে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। রোদ এর গালে।
তাঁরপর রাগে চোয়াল শক্ত শুভ্র বলে..?
