প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৫+২৬
Afnan Lara
জামাটা চেঞ্জ করে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে আহানা
এত ভিজেছে সে এখন মনে হয় মাথাটা ছিঁড়ে হাতে চলে আসবে,পাশে থাকা একটা কঙ্কর নিয়ে জোরে সোরে সামনে নিক্ষেপ করলো মাথা ব্যাথার চোটে
আউচচ!
আহানা মাথা থেকে হাত সরিয়ে মুখ তুলে তাকালো
শান্ত হাত ডলতে ডলতে এগিয়ে আসতেসে
কি?আবার ভিজাবেন?একবারে শান্তি হয়নি?
নাহ তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় যাব চলো
যাব না আমি,যান এখান থেকে!
শান্ত নিচু হয়ে আহানার হাত মুঠো করে নিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে
আহানা বলতেছে হাত ছাড়তে শান্ত সেদিকে মন না দিয়ে ঝাউ গাছগুলোর অপরুপ দৃশ্য পর্যবেক্ষন করে যাচ্ছে
কি হলো?কথা কানে যায় না আপনার?এই যে শুনুন,আমার হাত ছাড়ুন,আমার মাথা ব্যাথা করতেসে,প্লিস ছাড়ুন
অনেকটা দূরে শান্ত আহানাকে নিয়ে চলে এসেছে,একটা চায়ের দোকান,আশেপাশে মানুষ নেই বললেই চলে
শান্ত টুলটা সামনে এনে আহানাকে বসতে বলে চায়ের দোকানদারকে দুকাপ দুধ চা দিতে বলে নিজেও বসে পড়লো
কি হলো?বসো,চা খাওয়াতে এনেছি তোমাকে,বলসিলাম না একসাথে চা খাবো
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আহানা ব্রু কুঁচকে টুল টেনে বসলো
শান্ত বিসকুট নিয়ে আহানাকে এক প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে নিজেও গাপুসগুপুস করে খেয়ে যাচ্ছে
আহানা প্যাকেট খুলে একটা বিসকিট খেয়ে বাকি বিসকিট লুকিয়ে ফেললো,ঢাকায় ফিরে সেটা খেয়ে ভার্সিটিতে যাওয়া যাবে,ভাত বেঁচে যাবে এই ভেবে লুকালো
শান্ত হাত থেকে বিসকিটের গুড়ো ঝাড়তে ঝাড়তে বললো আরেক প্যাকেট কিনে দিবো,আপাতত এই প্যাকেট খাও,আমি জানি তোমার খিধা পেয়েছে
আহানা একটা ভাব ধরে লুকিয়ে রাখা বিসকিটের প্যাকেটটা বের করে খাওয়া ধরলো
শান্তর বুক ফেটে হাসি পাচ্ছে,অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে চায়ের কাপ নিতে গেলো
আহানা তো চা পেয়ে মহা খুশি,মনে হয় আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে,গরম গরম পুরো এক কাপ চা ৩সেকেন্ডে শেষ করে ফেললো সে
শান্ত থ হয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে,তারপর তার কাপে এক চুমুক দিয়ে দোকানদারের দিকে তাকিয়ে বললো মামা আরও দুকাপ চা দেন
আহানা চমকে ওর দিকে তাকিয়ে আছে
আরও দুকাপ কেন?কার জন্য
আমার আর তোমার জন্য,এই এক কাপে আমার মাথা ব্যাথা গেলেও তোমার যাবে না তাই বললাম আরও ২কাপ,যেভাবে গরম গরম চা শেষ দিসো বাপরে বাপ!
দোকানদার চা বানাচ্ছে,আহানা টুল থেকে উঠে একটু দূরে হাঁটতে গেলো
দুপাশে পুকুর,সম্ভবত কারো মাছ চাষ করার পুকুর,আহানা কিনারায় গিয়ে পুকুরের দিকে এক নজর চেয়ে রইলো,মাছ আর মাছ,তাহলে ঠিক ধরেছিলাম এই পুকুরগুলোয় মাছ চাষ করা হয়
বিকাল না হয়ে যদি সকাল হতো আমি এই পুকুরে নেমে মাছ ধরতাম
হ্যাঁ,আর মালিক এসে কান ধরে টানতো
জি না,মালিক হলেন মানিক হক,উনি আমার বাবার বন্ধু,উনি আমাকে কোলে করে পুকুরে নামাবে বুঝছো?
হুহ,মগেরমুলুক!
পরেরবার আসলে প্রমান দিয়ে দিব তোমাকে,এখন চলো চা বানানো হয়ে গেছে মনে হয়
আহানা ফিরে এসে চায়ের কাপ নিয়ে টুলে বসে বারবার একটা গাছের দিকে তাকাচ্ছে,একটা বরই গাছ,পাতা যতগুলো বরই ঠিক ততগুলো
আহানা এই নিয়ে ৪৯বার তাকিয়েছে
শান্ত বিষয়টা খেয়াল করে সেও তাকালো,ও মাই গড! এত বরই!!এগুলা তো চুরি করতে হবে আজই,এখনই
আপনার জন্য আমি দৌড়ানি খেতে চাই না
তোমাকে বেশি কিছু করতে হবে না,আমি গাছ নাড়া দিব তুমি ওড়না ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে
হ্যাঁ গাছ নাড়ানো এত সোজা আর কি
কি বলো,আমি ডেইলি জিমে যাই,আমার কাছে এসব কিছু না,আমার বডি দেখছো?মনে হয় দেখো নাই,একদিন দেখাবো
শাট আপ!আপনার বডি এলিনাকে দেখান,আমার এত শখ নাই
কথা হলো গিয়ে বরই গাছটার মালিক হলেন গিয়ে আক্কাস মিয়া,উনি অনেক সম্মানীয় একজন মানুষ,তার রাগ কপালে থাকে
কপালে মানে?আমি তো জানতাম রাগ মানুষের মাথায় থাকে
আরে কপালে মানে হলো উনি রেগে গেলে উনার কপাল ৬ভাগে ভাগ হয়ে যায়,আই মিন সাগরের ঢেউয়ের মতন,অদ্ভুত লাগে তখন,তুমি দেখলে নির্ঘাত জ্ঞান হারাবে
আচ্ছা তো?
তো মানে,শুনো আমি বলতেসি,তুমি ওড়না ধরে দাঁড়াবা,উনার পেয়াদারা আসা ধরলে আমরা দুজনে পশ্চিম দিকে দৌড় মারবো ওকে?
কিন্তু আমরা তো এসেছি উত্তর দিক থেকে
আরে গাধি!পশ্চিম দিক দিয়ে শর্টকাট রোড আছে,আশ্রমে ৫মিনিটেই যেতে পারবো
আচ্ছা তাহলে চলুন,বরই খাবো
এক শর্তে
কি?
আমার সাথে আজ ঢাকায় ফিরে যেতে হবে তোমাকে
পারবো না,আমার শরীর ঠিক লাগতেসে না,আমি কাল যাবো
ওহহ শিট!!একটা কথা তো তোমাকে বলতে ভুলেই গেছিলাম আমি!
মিষ্টির আম্মু নাকি তোমাকে কল করেছিলো,ধরো নাই কেন?
কই কখন কল করেছে?ফোন তো বাজলো না
আমাকে তো বললো
কি বললো?
বললো মিষ্টির কদিন বাদেই পরীক্ষা শুরু,তুমি যেন কাল সকাল থেকে টিউশনি শুরু করো
সত্যি বলছেন নাকি মিথ্যা?
মিথ্যা বলে আমার কি লাভ,থাক যেও না,আর একদিন মিস দিলে মিষ্টির মা তোমার টিউশনি অফ করে দিবে,আমার কি হুহ!
আরে না,ঠিক আছে আমি যাব আপনার সাথে
আচ্ছা তাহলে চলো বরই নিব
শান্ত বরই গাছের নিচে এসে আহানাকে বললো ওড়না খুলো হাতে ধরতে
আহানা ব্রু কু্চকে চেয়ে আছে ওর দিকে
কি?তোমার চুল আছে না?তুমিই তো বলছিলে ওড়না না থাকলে সেফটি হিসেবে কাজ করে চুল,তো এখন এমন করে চেয়ে আছো কেন?
আহানা ওড়না খুলে চুল সামনে এনে ওড়না লম্বা করে ধরলো
শান্ত হাত লাগিয়ে একটু ঠেলা দিতেই বরইয়ের বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো,আহানা ইয়া বড় হা করে তাকিয়ে আছে
হেহে!দেখেছো??এটা কে বলে ছেলেদের পাওয়ার,তোমরা মেয়েরা এই গাছের পাতাও নাড়াতে পারবে না বুঝলা
ঢং কম করেন,গাছ নাড়ানো বড় কোনো ব্যাপার নাহ
তো তুমি নাড়িয়ে দেখাও তাহলে
আমি কি বলসি আমিও পারি?হুহ,আমি বলসি অন্য ছেলেরাও পারবে
কে রে?কে ওখানে?চোর চোর চোর!!
আহানা দৌড়াও!!!
আহানা ওড়নাতে গিট্টু দিয়ে দৌড়ানো শুরু করে দিলো
আহানার স্পিড ছিল শান্তর চেয়েও কম
শান্ত থেমে ওর হাত ধরে দৌড় দিলো,দুজনে দৌড়াচ্ছে তো দৌড়াচ্ছে
আশ্রমের একটু কাছে এসে থামলো,শান্ত হাঁপাতে হাঁপাতে একটা গাছের সাথে লেগে গেলো
আহানা ও হাঁপিয়ে গেছে,দুজনে হেসে দিলো একসাথে
শান্ত হাসতে হাসতে মাটিতে বসে পড়লো
আহানার হাত ধরে ওকেও বসিয়ে দিলো
নাও ভাগ করো,তোমার ৪০% আমার ৬০%
মানে কি?
আমার ৫০% আপনার ও ৫০%
ইস শখ কত!আমি গাছ না নাড়লে তুমি বরই পেতে না
আমি ওড়না না ধরলে সব মাটিতে পড়তো আর আপনি বরই কুড়ানোর সময় পেতেন না,পেয়াদা এসে কেলানি দিতো ততক্ষণে
আচ্ছা,তোমার ৪৮% আমার ৫২%
না হবে না,৫০/৫০
আমার বোন মিতুকে দিতে হবে,বাচ্চা মেয়ে ও,তাকে কম দিলে হয়?
আমাকেও তো আশ্রমের কত বাচ্চাকে দিতে হবে
আচ্ছা ফাইন,৫০/৫০ যাও
ভাগ করা শেষে আহানা উঠে পড়লো
যাও সন্ধ্যায় রেডি হয়ে থেকো,মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ৬টা ১০মিনিটে ফ্ল্যাটফর্মে আসবে,আমরা সেখান থেকে উঠবো
ঠিক আছে,বাই
আহানা চলে গেলো আশ্রমের দিকে
শান্ত ও তার বাসার দিকে ফিরে গেলো
সন্ধ্যায় আহানা সবার থেকে বিদায় নিয়ে গেটের বাইরে পা রাখতেই শান্ত এসে দাঁড়ালো ওর সামনে
আপনি এখানেই ছিলেন?
হ্যাঁ মায়ের কবরটা দেখতে গেছিলাম
ওহ!
চলো যাই
শান্ত আহানার হাত ধরে হাঁটা ধরলো
এই হাত ছাড়ুন,সবসময় আমার হাত ধরেন কেন আপনি?
হুহ,ফাইন,পিছন থেকে কোনো বখাটে টান মারলে বলিও শান্ত প্লিস হেল্প মি,সেভ মি প্লিস!
অলক্ষুনে কথা বলেন কেন এত??
হইসে থামো,আর ক্ষেতে নামো,লেট হয়ে যাবে তোমার সাথে ঝগড়া করতে গেলে
ক্ষেতে নেমে আহানা চুপচাপ হেঁটে চলেছে,শান্ত এতক্ষণ চুপচাপ ছিল হঠাৎ থেমে গিয়ে পকেট থেকে সিগারেট একটা নিয়ে ধরালো
এখন দেরি হয় না?
চুপ!আমি সব পারবো,তুমি কিছু পারবে না বুঝছো তুমি?এখন চলো!
ফ্ল্যাটফর্মে পা রাখতেই ট্রেন এসে গেলো,শান্ত আহানাকে নিয়ে ট্রেনের কেবিনে ঢুকলো,একটা ছেলে জানালার সিটে বসে আছে
এই যে ভাই??ওটা আমাদের সিট,সরে বসো
আমি জানালার সিটে বসবো প্লিস
আমার পাশে যে এই মেয়েটা আছে না?ওর বমি করার অভ্যাস,এখন তুমি কি চাও ও ট্রেনের ভেতরে বমি করুক?
ছেলেটা শান্তর কথা শুনে চোখ কপালে তুলে তড়িগড়ি করে তার নিজের সিটে ফিরে গেলো
এই মিথ্যা বললেন কেন আপনি?আমি বুঝি বমি করি?
তো?এটা না বলে কি বলতাম আমি?জানালার সিট খোয়ানো যায় না কোনো মতেই,তুমি না বসলে বলো আমি জানালার পাশে বসবো
নাহহহ,আমি বসবো
বসো যাও,এই নাও ধরো সিগারেটটা হাতে রাখো আমি দোকান থেকে পানি কিনে আনতেসি
এটা ফেলে দেন,আমাকে দিচ্ছেন কেন
এই সিগারেটের দাম জানো তুমি?হাতে নিয়ে বসে থাকো চুপচাপ!
শান্ত ব্যাগটা তার সিটের উপর রেখে পানির জন্য চলে গেলো
আহানা সিগারেটটার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে,এদিক ওদিক একবার চোখ বুলিয়ে নিলো,পাশের ছেলেটা ফোনে গেমস খেলছে,আর সামনে ২টা মেয়ে একটা ছেলে তারা ব্যাগ রেখে কোথায় যেন গেছে মাত্র
আহানা সুযোগ বুঝে সিগারেটটা আবারও দেখতে লাগলো,এটা মানুষ কেন খায়,এটার ধোঁয়া মুখের ভেতর নিলে কেমন ফিলিং হয়?এটা জানার খুব শখ আহানার,আর এখন মোক্ষম সুযোগ,এই সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না
টুপ করে মুখে নিয়ে নিলো সে সিগারেট টা
শান্তর মতো করে এক টান দিয়ে আবার বের করলো
কিন্তু না,যতটা সহজ মনে করেছিল ততটা সহজ না বিষয়টা
মুখের ভিতরে মনে হয় আগুন লেগেছে,দম বন্ধ হয়ে আসতেসে সাথে মনে হয় সব পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে
মুখ থেকে ধোঁয়া সব বের করে কাশতে কাশতে আহানার নাকের পানি চোখের পানি একসাথ হয়ে গেলো
পাশে থাকা ছেলেটা ফোন থেকে চোখ তুলে চেয়ে আছে ওর দিকে
মেয়ে মানুষ সিগারেট খায় তা লাইভ দেখে নিলো,এমন জানলে সে আগেই একটা ছবি তুলে নিতো,আর ফেসবুকে পোস্ট করতো
“”সব মেয়েরা এক,আমার এক্স সিগারেট খেতো আর আজ এই আপুটাও সিগারেট খাচ্ছে””
ইস কেন যে পিক তুললাম না,এই জন্য হয়ত মা বলে সবসময় ফোনের ভেতর ডুবে থাকিস না,মাঝে মাঝে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে নিস,পেলেও পেতে পারিস ফেসবুকে দেওয়ার মতন পোস্ট!
শান্ত পানির বোতল আর চিপস চকলেট নিয়ে এসে আহানার অবস্থা দেখে তাড়াহুড়ো করে সব হাত থেকে সিটের উপর রেখে আহানার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো কি হয়েছে,এমন কাশতেসো কেন??পানি খাবে?
আপনার জিএফ আপনার অবশিষ্ট সিগারেটটা খেয়ে নিয়েছে
কথাটা শুনে শান্ত চোখ কপালের সাথে লাগিয়ে আহানার হাত থেকে সিগারেটটা ফেলে পানির বোতল নিয়ে ওকে পানি খাওয়ালো,পকেট থেকে টিসু নিয়ে দিলো ওকে
ভাই ও আমার গার্লফ্রেন্ড নাহ ওকে?
আহানা!তোমারে কি মাঝে মাঝে ভূতে ধরে?আর ইউ ম্যাড? মেয়ে হয়ে সিগারেট টেস্ট করার ইচ্ছা জাগছে তোমার?এখন হলো তো, মেয়েদের এসব সুট করে না জানো না তুমি?
আহানা মুখ মুছে শান্তর দিকে মুখ তুলে তাকালো,চোখমুখ রেড ভেলবেট কেকের মত হয়ে গেছে
শান্ত ফিক করে হেসে দিয়ে বললো আমি দিনে ৬/৭টা খেলেও আমার এমন অবস্থা হয় না আর তুমি কিনা একটার অর্ধেক খেয়ে চোখ মুখের এই অবস্থা করলে?
আর খাবা?
জীবনেও না
গুড😂
ভাই?
হ্যাঁ বলো ভাই
পাবজি খেলবা আমার সাথে?
তাই নাকি,তাহলে তো ভালোই হয়,চলো খেলি
শান্ত আর ছেলেটা পাবজি খেলে যাচ্ছে তো যাচ্ছে
আহানা মুখ গোমড়া করে একবার ওদের দেখছে আবার সামনে থাকা মেয়েগুলোকে দেখছে আবার বাইরে তাকাচ্ছে
অন্ধকারে বাইরে তাকিয়ে লাভ নেই কোনো,কিছুই দেখা যায় না,আহানা বসে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো
এই যে ভাইয়া
হ্যাঁ বলো আপু
আপনার গার্লফ্রেন্ড ঘুমিয়ে পড়েছে,মাথা জানালার বাইরে চলে গেছে টেনে কাছে নিয়ে আনেন নাহলে বিপদ হতে পারে
শান্ত সাথে সাথে পাশে তাকিয়ে দেখলো তাই তো
ওকে টেনে কাছে নিয়ে আসলো,আহানা ঘুমের ঘোরে শান্তর কাঁধে মাথা রেখে হাত নিয়ে ওর বুকের উপর রাখলো
মেয়েগুলো মুচকি হেসে তাদের কাজে মন দিলো
শান্ত লজ্জা পেয়ে ওর হাতটা নিয়ে ওর হাঁটুর উপর রাখলো তারপর আবার গেমস খেলায় মন দিলো
ঢাকা ফিরতে ফিরতে রাত ৯টার উপর বেজে গেলো
বিড়াল যেমন সাউন্ড করে খাবার খায় ঠিক তেমন করে কে যেন খাবার খাচ্ছে,ঘুমের মধ্যে বেশ ভালোই টের পাচ্ছি আমি
আহানা চোখ খুলে পাশে তাকালো,শান্ত চিপস খাচ্ছে দেখে মনে হচ্ছে ভাতের লোকমা ধরে খাচ্ছে,পেটুক কোথাকার!
আহানা আরেকটু ভালো করে চেয়ে দেখলো তার মাথা শান্তর কাঁধে
বাতাসের গতিতে ছিঁটকে সরে গেলো সে
শান্ত খাওয়া বন্ধ করে ওর দিকে তাকিয়ে এমন একটা ভাব নিলো যে যত্তসব ঢং বুঝালো
আহানা ব্রু কুঁচকে বললো আমাকে কি বললেন?
তুমি যেটা ভাবলে সেটাই বললাম,ধরো
আমি চিপস খাবো না
তোমাকে আমি খেতে দিই নাই,প্যাকেটটা তোমার ব্যাগে রাখো ফ্ল্যাটফর্মে আসলো ময়লার ঝুড়িতে ফেলবা
ইহরে এত কষ্ট আমি কেন করবো?খেয়েছেন আপনি,ফেলবেন ও আপনি
শান্ত গাল ফুলিয়ে প্যাকেটটা নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নিলো
সামনের মেয়েগুলো হাসতেসে ওদের ঝগড়া দেখে
চলো!
কোথায়?
আপনার শ্বশুরবাড়ি এসে গেছে
মানে?
ঢাকা!!চলেন,ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন এসে গেছে,নেমে আমাকে ধন্য করুন আহানা ম্যাডাম
আহানা মুখ বাঁকিয়ে শান্তর পিছন পিছন গেলো
মামা যাবেন?৩০০টাকা? কিন্তু আমি তো ২০০দিয়ে আসছি,ওকে সমস্যা নাই
আহানা চলো
দুজনে একসাথে সিএনজিতে উঠে পড়লো
আহানা ফিসফিস করে বললো এই শুনুন,আপনার বাসা তো আমার বাসা থেকেও দূরে তাহলে তো ৩০০টাকাই ভাড়া হবে,আপনি এমন ভাব করলেন কেন যে ২০০টাকা ভাড়া?
আরেহহ আমি তোমাকে তোমার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে সেখান থেকে রিকসা নিয়ে বাড়ি যাব,সোজা আমার বাসায় সিএনজি যাবে না,ভিআইপি এরিয়া তো
আপনি বুঝি ভিআইপি?
ভিআইপি ২কারণে বুঝানো হয়
১.নেতা হলে
২.টাকার জোর থাকলে
আপনার কোনটা?
২নাম্বারটা
ইহহহহহহহহ
চুপ!
সিএনজি থেকে নেমে শান্ত পকেটে হাত দিতেই আহানা ২০০টাকা লোকটাকে দিয়ে এক দৌড় দিলো
আরে আহানা,আমি দিতাম,তুমি দিসো কেন?
আপনার ২হাজার টাকা তো শোধ করতে হবে তাই না?
আহানা মুচকি হেসে চলে গেলো
শান্ত ও হাসলো,আমার টাকা আমাকেই ফেরত দিয়ে আমারই ঋণ শোধ করছে?বোকা মেয়ে
শান্ত রিকসার খোঁজে হাঁটা ধরলো
এই যে শুনুন!
শান্ত থেমে গিয়ে পিছন ফিরে আহানার দিকে তাকালো
তোমাকে বলসি না আমাকে এমন করে ডাকবা না?তুমি কি আমার বউ?
😒চা খাবেন?
সেটা হলে তো ভালো হয়,তোমার মত জঙ্গলিকে এতদূর সহ্য করে নিজের কাঁধে ঘুমাতে দিয়ে এনেছি,শুধু চা না সাথে বিসকিট ও খাওয়াতে পারো
আসেন
শান্ত ছুটতেই আহানা আবার থামিয়ে দিলো ওকে
আবার কি?
যান দুধের গুড়ি,আর চা পাতা আনেন,বাসায় নেই,এই নেন ১০০টাকা,মিনি প্যাক গুলো আনবেন
তুমি এমন করে আমার টাকা ফেরত দিচ্ছো?
হুম
শান্ত তার হাতের ব্যাগটা আহানার হাতে দিয়ে চললো বাজার করতে,নিজেকে আজ সদ্য বিবাহিত মনে হচ্ছে,নতুন বউ বললো এই যে শুনুন বাজার করে আনুন
হাহাহা!!
আহানা ব্যাগ এনে বিছানার উপর রেখে চায়ের পানি বসালো চুলায়
চুলে খোঁপা করে এক গ্লাস পানি নিয়ে খেলো,শান্ত যে বিসকিট কিনে দিয়েছিল সেটা বাটিতে করে টেবিলে এনে রাখলো সে,দরজার দিকে তাকাতেই দেখলো শান্ত এসে গেছে
নাও ধরো
আহানা কিছু না বলে সেগুলো নিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো
শান্ত একটা বিসকিট খেতে খেতে খাটে বসে ফোন নিয়ে নওশাদকে কল করে বললো বাইক নিয়ে আসতে,রিকসা নাই এদিকে
আহানা চা নিয়ে এসেছে,শান্ত চায়ের কাপটা নিয়ে হেসে আহানার দিকে তাকিয়ে বললো তোমার সাথে চা খেতে খেতে কফির স্বাদই ভুলে গেছি আমি
ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড আমি একটু শুতে পারি এখানে?আমার মাথার ভেতর টনটন করতেসে
ঠিক আছে
শান্ত দুম করে বিছানায় শুয়ে পড়লো সোজা হয়ে হাত পা ছড়িয়ে
আহানা সব গুছিয়ে নিয়ে ভাত বসালো,আলু ভেজে খাবে সেটা দিয়ে
শান্ত গভীর ঘুমে
আহানা একবার এসে দেখে গেসে ওকে,আবার দেখতে এসে চলে যাওয়ার সময় দেখলো শান্ত ঘুমের মধ্যে মাথার চুল টানছে
আহানা একটু একটু করে কাছে গিয়ে দেখলো শান্ত এত জোরে টানছে মনে হয় মাথা ছুটিয়ে ফেললো বুঝি এখনই
আহানা হাত দিয়ে শান্তর মাথায় রাখতেই শান্ত নিজের হাতটা সরিয়ে নিলো
মাথাটা টিপে দাও না,খুব ব্যাথা করছে
শান্ত ঘুমের ঘোরে বললো কথাটা
আহানা হাত নিয়ে শান্তর মাথায় রেখে আস্তে আস্তে চুল টানতেসে,বেশ সুন্দর করে মাথাটা টেনে দিলো সে,কেন দিলো সে নিজেও জানে না,তবে শান্তর জন্য কেন জানি মায়া হচ্ছিলো
শান্ত আহানার হাত মুঠো করে ধরে ঘুমাচ্ছে
আহানা হাত ছুটাতে পারছে না দেখে একটু নিচু হয়ে হাত সরাতে যেতেই শান্ত চোখ জোড়া খুলে তাকালো ওর দিকে
আহানার কলিজা মনে হয় বের হয়ে আসবে,ভয়ে চোখ বড় করে চেয়ে আছে সে শান্তর দিকে
শান্ত আহানাকে এত কাছে দেখে কিছুটা চমকে পিছিয়ে গেলো
আহানাও সরে দাঁড়ালো
আহানা দরজা খুলো!!আমি নওশাদ
আসতেসি ভাইয়া!
আহানা গিয়ে দরজা খুললো নওশাদ পকেটে হাত ঢুকিয়ে দাঁত কেলিয়ে উঁকি দিলো রুমের ভেতরের দিকে
কিরে শান্ত?এখানেই থাকবি মনে হয় আজীবন,আমি যাই তাহলে
আরে না থাক,আসতেসি
শান্ত উঠে ব্যাগ হাতে নিয়ে নওশাদের সাথে বেরিয়ে গেলো,বাইকে বসে নওশাদের পিঠে মাথা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করছে সে,ঘুমের নেশাটা ভালো করে ধরেছে তাকে
আহানা ভাত খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়লো
পরেরদিন ভোরবেলায় উঠে নামাজটা পড়ে নিয়ে বের হলো বাসা থেকে
মিষ্টিদের বাসায় এসে লিফটটা ভালো করে দেখে নিয়ে ভিতরে ঢুকলো আহানা,শান্তি লাগতেসে এই ভেবে যে শান্ত লিফটের ভিতরে নেই
৫তলায় এসে ঢোক গিলে লিফট থেকে বের হলো সে,ওমা এখানেও নেই,নিশ্চয় মিষ্টিদের বাসার ভেতরে,হুমমমম
আহানা মিষ্টিদের বাসার দরজার সামনে এসে নক করতেই মিষ্টির আম্মু এসে দরজা খুলে আহানাকে দেখে অবাক হলেন
আরে আহানা?এত জলদি?
মানে!আপনি তো বলেছিলেন মিষ্টির পরীক্ষা,জলদি করে পড়াতে আসতে
কবে কখন বললাম?মিষ্টির তো পরীক্ষা আরও দেরিতে হবে
ওহ,(শান্ত কুত্তা আমাকে মিথ্যা কথা বলে আনাইছে!ওরে আমি ছাড়মু না!)
সমস্যা নাই আহানা আসো,এসেছো যখন মিষ্টিকে পড়িয়ে যাও,ভালো হয়েছে আজ এসেছো
আহানা মনে মনে শান্তকে বকতে বকতে ভিতরে গেলো
পড়ানো শেষ করে বের হয়ে রাগে গজগজ করতে করতে চলে যেতে নিতেই শান্ত সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো,হাতে তার ব্রাশ,তোয়ালে আর চুলগুলো ভিজা,সেটা থেকে পানি গড়িয়ে পুরো মুখ ভিজিয়ে দিয়েছে
আহানা ব্রু কুঁচকে চেয়ে থেকে বললো কি সমস্যা??
সরি সরি,আমি আজ তোমাকে লিফট থেকে জ্বালাতে পারিনি,ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছিলো
তোহহহ??
তোহহ কি আর,চলো তোমাকে গ্র্যান্ড ফ্লোর পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি
নো থ্যাংকস!এমনিতেও আপনার সাথে আমার আর কোনো কথা নেই,আপনি আমাকে মিথ্যা বলে আনাইছেন,মিষ্টির মা তো কোনো কলই করে নাই,হুদাই আমি এত তাড়াতাড়ি মোহনগঞ্জ থেকে ফিরে আসছি
হেহেহে!!মিষ্টির আম্মু গাঁজা খাইসে,সত্যি বলতেসি উনি আমাকে কল করে বলসে তোমাকে আসতে বলতে
আর একটা মিথ্যা কথা বললে চুল ছিঁড়ে ফেলবো আপনার!বেয়াদব ছেলে
আহানা হনহনিয়ে চলে গেলো
বাপরে বাপ আজ দেখি উনার মেজাজ গরম হয়ে আছে অনেক😲
আহানা বাসায় ফিরে শান্তকে বকতে বকতে সব কাজ করতেসে
কিরে ভাই এরকম টেনসড হয়ে আছিস কেন কি হয়েছে তোর?
নাহ কিছু না,আচ্ছা একটা কথা বল মেয়েরা রাগ করলে কি দিয়ে রাগ ভাঙ্গাতে হয়?
এলিনা রাগ করসে নাকি?
উফ নওশাদ! বল না কি করে ভাঙ্গায়?
রুপা রাগ করলে ওকে ঘুরতে নিয়ে যেতে হয়,দামি দামি খাবার খাওয়াতে হয়,এলিনাও সেমই হবে
ওহহহ (এসব তো আহানা একদম পছন্দ করবে না,ওর পছন্দই আনকমন,উফ নওশাদরে কি করে বলবো যে এলিনা না আহানা আমার উপর রাগ করেছে!)
এলিনাকে নিয়ে আজ ঘুরতে যাবি নাকি?
নাহ,চল নাস্তা করি,নাহলে দেরি হয়ে যাবে ভার্সিটিতে যেতে যেতে
আহানা ভার্সিটিতে এসে মুখ গোমড়া করে বসে আছে
হুদাই আনাইসে আমাকে,আশ্রমে থাকলে একটু রেস্ট নিতে পারতাম,সবার সাথে আরেকটু সময় কাটাতে পারতাম,বেয়াদবটা মিথ্যা বলে আমাকে নিয়ে আনলো,অসভ্য ছেলে একটা
কিরে চোখ বড় বড় করে কি এত ভাবস?
কিছু না,তোর কি খবর?
ভালো না,নওশাদকে কোথাও দেখেছিস?আজ মনে হয় আসে নাই,ফোন ধরতেসে না আমার
তুই একটু শান্ত ভাইয়াকে বলবি ওকে বলতে আমার ফোন ধরতে,আমি কাল ওর সাথে ঝগড়া করেছিলাম,এখন নিজেই অনুতপ্ত হয়ে ওকে কল করে যাচ্ছি,আর ও ধরতেছেই না
পারবো না,তুই গিয়ে বল যা,ঐ বেয়াদবটার সাথে আমি আর কোনো কথা বলবো না👿
কথাটা বলে আহানা ক্যানটিনের দিকে চলে গেলো
এদের আবার কি হলো??সারাদিন ঝগড়া কেমনে করে এরা,আমি ২মাস পর একবার ঝগড়া করি নওশাদের সাথে তাও আমার কলিজা ফেটে যায় আর এরা কিনা দিনে ৩২বার ঝগড়া করে,আর আমি কিনা ভাবলাম শান্ত ভাই আহানাকে লাইক করে,জীবনেও না,শান্ত ভাই আর আহানা কেরোসিন আর আগুনের মত,একসাথ হলেই ঠুস করে বোমা ফেটে যায়,এদের মিল ইমপসিবল
আহানা পানির বোতল নিয়ে ফিল্টার থেকে পানি ভর্তি করে পিছন ফিরতেই দেখলো শান্ত অসহায়ের মত চেয়ে আছে ওর দিকে
কি?আমার হাতে আরেকটা চড় খেতে না চাইলে পথ থেকে সরুন
শান্ত জ্যাকেট ঠিক করে এদিক ওদিক তাকালো,সবাই না হলেও অনেকজনেই তাকিয়ে আছে ওদের দিকে
শান্ত মুচকি হেসে আহানার দিকে এগিয়ে আসলো
হ্যাঁ মারো আমাকে,দেখি তোমার কত সাহস,এতে করে তোমার রাগ গেলে তো ভালই
আহানা রেগে গিয়ে হাত উঠিয়ে শান্তকে এক ধাক্কা মেরে দিলো
শান্ত একটু দূরে পিছিয়ে গেলো ধাক্কা খেয়ে
চড় মারবে না?
গো টু হেল!!
আহানা সেখান থেকে চলে গেলো,গিয়ে একদম এলিনার সামনে গিয়ে থামলো,এলিনার চোখে মুখে রাগ দেখে বোঝাই যাচ্ছে সে কি জন্য রেগে আছে,শান্তকে ধাক্কা দেওয়াটা সে মোটেও ভালো চোখে দেখেনি
কিছু বলবেন এলিনা আপু?
তোমার সাহস হয় কি করে আমার শান্তকে ভরা ক্যামপাসের সামনে ধাক্কা দেওয়ার,টাচ করার!!
আপনি না বুঝে কথা বলবেন না,উনি আমাকে!
চুপ!
এলিনা এগিয়ে এসে আহানার হাত টেনে নিয়ে গেলো ভার্সিটির বাইরের দিকে
ছাড়ুন,এলিনা আপু আপনি এমন করতেসেন কেন?
আমাদের ভার্সিটির প্রিন্সিপাল আর স্যার ম্যাডাম কড়া নাহলে তোমাকে ওখানেই ১২টা বাজাইতাম,তাদের সম্মান করি বলে তোমাকে বাইরে নিয়ে যাচ্ছি
দূর থেকে শান্ত আসতেসে,সে দেখেছে এলিনা আহানার হাত ধরে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে
এলিনা আহানাকে এক ধাক্কা দিয়ে রোডের উপর ফেলে দিলো
কি হলো?কেমন লাগতেসে তোমার??ভরা ক্যামপাসের সামনে আমার শান্তকে ধাক্কা দিয়েছো আর আমি মানুষ ভরা রোডে তোমাকে ফালাইসি,সমান সমান
আহানা কুনুইতে ব্যাথা পেয়েছে,চুপ করে চেয়ে আছে এলিনার দিকে
শান্ত এসে দেখলো আহানা রোডে বসে এলিনা আর ওর দিকে চেয়ে আছে
শান্ত?তুমি এই ছেঁসড়া মেয়েটার সাথে কথা বলো কেন?আমি বুঝি না,দেখলে তো তোমাকে আবারও অপমান করলো,একবার চড়!একবার ধাক্কা,আর কিছু বাকি রেখেছে?
আহানা? তুমি ভুলে যাও কেন শান্ত তোমাকে রাঙামাটিতে পানি থেকে তুলে বাঁচিয়েছিলো!
শান্ত চলো এখান থেকে,আর কখনও ওর সাথে কথা বলবা না
শান্ত চুপ করে আহানার দিকে চেয়ে আছে
আহানা উঠে দাঁড়িয়ে চলে গেলো শান্তর পাশ দিয়ে
এলিনা?তুমি এই মেয়েটার পিছনে এত লাগো কেন?কি দরকার ছিল এত সিনক্রিয়েট করার??কাঁটা দিয়ে সবসময় কাঁটা তুলতে হয় না,আর কখনও এমন কাজ করবা না তুমি,আমি বলি নাই তোমাকে আমার হয়ে তদারকি করো,একবার এক ঝামেলা করো তুমি
শান্ত তুমি আমাকে লাভ করে না?
না করি না,শুনছো?আর কতবার বললে বিশ্বাস করবা?
কথা শেষ করে শান্ত চলে আসলো সেখান থেকে
তারপর ভার্সিটিতে ঢুকে ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাসের দিকে গেলো,আহানাকে কোথাও দেখছে না সে
রুপা এসে বললো আহানা চলে গেছে
আহানা চোখ মুছতে মুছতে কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচ দিয়ে চলে যাচ্ছে টিউশনিতে
আহানা দাঁড়াও প্লিস আহানা!
শান্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে এসে আহানার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো
আহানা মাফ করে দাও আমাকে
কিসের মাফ?আপনি এবার আপনার জিএফকেও লাগাইসেন আমাকে কথা শুনানোর জন্য?
আমার থেকে দূরে থাকুন প্লিস!তাহলেই আপনার জিএফ আর আমাকে কথা শুনানোর কোনো পথ পাবে না,এসব সহ্য করতে করতে আমি তিক্ত,আর না,আমার সাথে আর কখনও কথা বলবেন না
আহানা চলে গেলো কথাগুলো বলে
শান্ত আর কিছু বলতে পারলো না
পরেরদিন ভোরে আহানা মিষ্টিদের বাসায় ঢুকে লিফটে উঠার সময় দেখলো শান্ত সেখানে দাঁড়িয়ে আছে
আহানা সেখান থেকে চলে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগলো
আহানা প্লিস আমার কথা শুনো,আই এম সরি আহানা,এলিনার হয়ে আমি মাফ চাচ্ছি
আহানা থেমে গিয়ে বললো এলিনা আপুর দোষ নেই,না আপনি আমার সামনে আসতেন না এত কিছু হতো,এলিনা আপু তার জায়গায় ঠিক আছে,কোনো জিএফই চাইবে না তার বিএফ আরেকজনের সামনে অপমানিত হোক,সো আপনি আর আমার আাশেপাশে কোথাও আসবেন না,নাহলে অপমান করতে বাধ্য হবো
আহানা আরেক সিঁড়িতে পা বাড়াতেই শান্ত টান দিয়ে নামিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো ওকে
হ্যাঁ করো অপমান,আমি দেখি কতটা পারো
আমি চিৎকার করবো,সামনে থেকে সরুন বলতেসি,আপনি বেশি বেশি করতেসেন আজকাল!
শান্ত আরেকটু এগিয়ে গিয়ে হাত আহানার পাশে দেয়ালের উপর রাখলো
এলিনা আপু!!
কই?কই?
আহানা এক দৌড় দিলো
আহানা?এটা ঠিক করলে না তুমি,দাঁড়াও বলতেসি
শান্ত দৌড়াচ্ছে আর আহানাও,আহানা মিষ্টিদের বাসায় ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো
কি হলো মিস??বাইরে থেকে কে আসতেসে?ভূত আসতেসে?মাম্মামকে ডাকি?
নাহ,বসো পড়াবো তোমাকে
শান্ত ওর বাসার দরজায় হেলান দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে খাচ্ছে আর আহানার অপেক্ষা করছে
আহানা পড়ানো শেষে বের হতেই দেখলো শান্ত বাইরের দিকে চেয়ে সিগারেট খাচ্ছে,ওকে এখনও দেখেনি
আহানা এই সুযোগে পা টিপে টিপে বের হয়ে এক দৌড় মারলো
আহানা!!
শান্ত সিগারেট ফেলে দৌড়ে গেলো আহানাকে ধরতে
আহানা টাইলসের উপর দিয়ে দৌড়াতে গিয়ে স্লিপ খেয়ে দুম করে পড়ে গেলো নিচে
হেহে!!আরও পালাও,আমার সাথে দৌড়ে পারবা না কোনোদিন বুঝলা??
আপনি!!
নাও উঠো,আমার হাত ধরো
আহানা শান্তর হাত না ধরেই উঠে গেলো,তারপর আবার হাঁটা ধরতেই শান্ত ওর হাত ধরে টেনে ওর দিকে ফিরালো
সে আহানাকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই উপরের তলা থেকে রামিমা আন্টির ফ্ল্যাটের বুয়া এসে পড়লো
বুয়াকে দেখে শান্ত আহানার হাত ছেড়ে দিলো সাথে সাথে
আহানা সুযোগ বুঝে বুয়ার সাথে লিফটে ঢুকে গেছে ততক্ষণে
সমস্যা না,ভার্সিটিতে তো আসবা,তখন দেখা যাবে
আহানা বাসায় ফিরে ঘর পরিষ্কার করে,ভাত রেঁধে খাওয়া শেষ করে নিলো,তারপর রেডি হয়ে ভার্সিটির জন্য রওনা হলো
আজ এত কাঠ ফাটা রোদ বলে বুঝানো যাবে না,মাথা মনে হয় গলেই যাবে,গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখলো শান্ত রিয়াজ আর সূর্যকে নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে বটতলায়
আহানা মুখ ফিরিয়ে হেঁটে চলে গেলো
শান্ত ভাই তোমার শত্রু যাচ্ছে তোমার সামনে দিয়া
রিয়াজের কথা শুনে শান্ত আহানার দিকে তাকালো,আহানা আরেকদিকে মুখ নিয়ে হেঁটে ক্লাসের ভেতর ঢুকে গেলো
দেখলে তো?এই মেয়ের এত ভাব!!শান্ত ভাই তুমি শুধু অর্ডার করো,ভালো করে টাইট দিয়ে দিব ওকে
কোনো দরকার নেই,তোরা তোদের কাজ কর
আহানা জানালার পাশে বসে দূরের কৃষ্ণচূড়া গাছটার দিকে চেয়ে আছে
মানুষ বড়ই অদ্ভুত,সে কি চায় সে নিজেও জানে না,যেমন আমি
এখন কোন পাল্লায় এসে পড়েছি সেটা আমি জানি না,বলতে পারি না,দিন চলছে তো চলছে,এই মাসের টাকা তো তারেক আঙ্কেল নিবে না,শান্ত দিয়ে দিয়েছে,আমি টিউশনির টাকা পেয়ে উনাকে সেটা ফেরত দিয়ে দিব,কারোর ধার ধারি না আমি
একটা জিনিস বুঝি না!! শান্তর জিএফ আছে,তার সাথে চুইংগামের মত লেগে থাকে সারাদিন তাহলে আমাকে এত ডিস্টার্ব করে কি পায় কে জানে!
চড় একটা দিসিলাম সেটার ঝাঁঝ মনে হয় আদৌ যায়নি,নাহলে একটা চড় মানুষ এতদিন মনে রাখে??
সেদিন কার মুখ দেখে উঠেছিলাম কে জানে,শয়তানটা আজ আবার কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে এসে আমাকে ডিস্টার্ব করবে কি একটা জ্বালাতন,আমার যদি কোনো বড় ভাই থাকতো আচ্ছা করে পিটুনি দিতাম
এলিনাকে নিয়ে নাই বলি,এলিনার সাথে আমার কোনো শত্রুতামি নেই,আপুটা না বুঝেই আমাকে কষ্ট দেয়,সে তো জানে না তার বিএফের চরিত্র কেমন,জানলে আমি তো এক চড় মেরেছিলাম উনি হলে ২০টাই মারতেন
আজ বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরেকটা চড় মেরে দিবো শয়তানটার গালে,অতিরিক্ত কোনো কিছুই আমার পছন্দ নাহ
এই আহানা!
হুম বল
তুই সারাদিন কি এত ভাবিস?
বাদ দে আমার কথা,তোর আর নওশাদ ভাইয়ার ঝগড়া মিটমাট হয়েছে তো?
আরে সেটাই তো তোর সাথে ডিসকাস করতে এলাম,আমি নওশাদের সাথে একটা জায়গায় যাব
তো যা
না সেটা না,কথা হলো গিয়ে রিকসায় আমাকে আর নওশাদকে একসাথে কেউ দেখে ফেললে মহা বিপদ,বাবা দেখে ফেললে তো আমি শেষ
তুই আমার সাথে চল না প্লিস,নওশাদ বাইক নিয়ে আসবে
আমি গিয়ে কি করবো,তোদের মাঝে গিয়ে কাবাবে হাড্ডি হবো কেন?
চল না প্লিস প্লিস
ঐ বেয়াদবটা যাবে না তো?
নাহ শান্ত ভাই কোথায় যেন গেছে একটা কাজে
তাহলে চল
আহানা খুশি খুশি রুপার সাথে সেই জায়গায় গেলো
বেশ ঠাণ্ডা পরিবেশ,দুপাশে ঘাস,বন আর মাঝখান দিয়ে চিকন রাস্তা,এখানে আগে কোনোদিন আসেনি আহানা,তাই হেঁটে হেঁটে সবটা দেখছে সে
দূরে একটা কুটিরে রুপা আর নওশাদ একা টাইম স্পেন্ড করছে
আহানা এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে শান্তর সামনে গিয়ে থেমে গেলো
এই বেয়াদবটা এখানেও!রুপা মিথ্যা বললো আমাকে!!
হাই!!
বাই
প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৩+২৪
আহানা হাঁটা ধরলো,যেই ভাবা সেই কাজ,শান্ত ও পাশে পাশে আসতেসে
আহানা বিরক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো
আপনার কি সমস্যা??এলিনাকে নিয়ে আসতে পারতেন,একা এসেছেন কেন??আমাকে এত ডিস্টার্ব করেন কেন বলেন তো?
সবসময় এলিনা এলিনা করো কেন?এলিনা আমার কিছু না,অনলি ফ্রেন্ড,কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নাও
যাই হোক,ফ্রেন্ড তো!ও যদি আবার আমার সাথে আপনাকে দেখে খুন করবে হয় আমাকে নয় আপনাকে,সো দূরে থাকুন
আমি কোথায় যাব কি যাব না সেটা আমার ব্যাপার,তোমার পাশ দিয়ে হাঁটবো কি হাঁটবো না সেটাও আমার ব্যাপার,আর তুমি আমার দিকে না তাকালে তুমি জানো কি করে আমি তোমার পাশ দিয়ে হাঁটছি?
আজব তো!!সত্যি আপনার মত ভেজাইল্লা ছেলে আমি আর ২টো দেখিনি বিশ্বাস করেন!!
