Home প্রেমের পাঁচফোড়ন প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৯+৩০

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৯+৩০

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৯+৩০
Afnan Lara

আহানা বাসায় ফিরে বিছানার চাদর,বালিশের কভার,সব ধুয়ে দিলো,কালকে পরার জামাটাও ধুয়ে দিলো
তারপর ঘর মুছলো,সব শেষ করে গেলো রান্না করতে,আজ শুক্রবার তাই সব কাজ সারতেছে সে
একটু পড়ে,ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে গেলো,আবার দুপুর ২টায় উঠে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লো পিউদের বাসার উদ্দেশ্যে,উফ আকাশকে তো আর পড়াতে পারবো না,সবসময় আমার কাজে দখল দিয়ে ১২টা বাজিয়ে দেয়,বেয়াদব একটা
আহানা শান্তকে বকতে বকতে পিউদের বাসার দিকে যাচ্ছে হঠাৎ সামনে শান্ত বাইক এনে থামালো
আহানা ব্রু কুঁচকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই শান্ত নোটবুক ২টা ওর হাতে ধরিয়ে দিলো

নাও,আজ থেকে তোমার চাকরি শুরু,এই নোটগুলো আরেকটা নোটখাতায় তুলে দিবে,পরের মাসের এই দিনে আমি তোমাকে ৩হাজার টাকা দিবো,বাই
হেলমেট পরে শান্ত বাইক নিয়ে চলে গেলো,আহানাকে কিছু বলতেই দিলো না
আহানা হা করে চেয়ে আছে,থাক বকতেও পারবো না,এটাও তো কাজ,নোট উঠানো তো আর সহজ কোনো কথা না,উফ কি ঝামেলা
আহানা পিউকে পড়িয়ে বের হয়ে হেঁটে ফিরছে বাসার দিকে
তখন ৪টা ১০কি ১৫বাজে মনে হয়
যে পথ দিয়ে আহানা যাচ্ছে সেখানে ফুচকাআলা,ঝালমুড়ি আলা সব,মানুষ খেয়ে যাচ্ছে,শুক্রবার বলে কথা,ছুটির দিন,এই দিনেই মানুষ ঘুরতে বের হয় বেশি,ঢাকার মানুষ তো আরও আগে বের হয়
কাপল আছে কেউ,কেউবা পরিবার নিয়ে এসেছে,আবার অনেকেই দল বেঁধে এসেছে,সম্ভবত বন্ধুবান্ধব হবে তারা
গান গাইছে,আড্ডা দিচ্ছে হাসিঠাট্টা করছে,বেশ কিউট একটা পরিবেশ

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আহানা সবাইকে দেখতে দেখতে হেঁটে যাচ্ছে,পাশে কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে থেমে গেলো সে,পাশে ফিরতেই দেখলো শান্ত হাতে ঝালমুড়ি নিয়ে খাচ্ছে,এমন ভাবে খাচ্ছে যেন পাশে আহানা তার জানা নেই
আহানা ব্রু কুঁচকে হাঁটা ধরলো,ওমা শান্ত ও পাশে পাশে আসতেসে
সূর্য তুই ক্যাফে আয় আমি সেখানে আসতেসি,তমালকেও নিয়ে আসিস,নওশাদ আসতে পারবে না ও ঘুমাচ্ছে
আহানা হাঁটার গতি বাড়িয়ে চলে যাচ্ছে
এক মিনিট দাঁড়াও আহানা
কি?
শান্ত ফোনে কথা বলতে বলতে ওর হাতের বারতি ঝালমুড়িটা আহানার হাতে দিতে দিতে বললো রাখো আমি কথা বলে আসতেসি

আমি কেন রাখব আজব!!আরে আরে কই যান আপনি?
শান্ত পূর্ব দিকে চলে গেলো ফোনে কথা বলতে বলতে
আহানা ঝালমুড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,৫মিনিট হইসে এখনও আসতেসে না
আহানা এদিক ওদিক তাকাচ্ছে হাতে ঝালমুড়ি নিয়ে,হঠাৎ সামনে একটা বাইক এসে থামলো
শান্ত হেলমেটের গ্লাস উঠিয়ে আহানার দিকে তাকিয়ে হেসে বললো আমার লেট হচ্ছে বাই
বাইক উধাও!!সাথে শান্ত ও
ওমা গেলো কই,ঝালমুড়ি কি করবো আমি,আজব লোক!!

আহানা ঝালমুড়ির দিকে চেয়ে থেকে কোনো উপায় না পেয়ে খেতে খেতে হাঁটা শুরু করলো,এই লোকটা এমন কেন,সকালে এতগুলো কথা শুনাইলাম তাও আবার সেই আমাকে জ্বালাতে চলে আসলো
আহানা বাসায় ফিরে উঠান থেকে সব জামাকাপড় নিয়ে আসলো রুমে
আরে কাল তো ২৩ তারিখ,চাকরিটার interview দিতে যাবো,কে জানে কি হবে,এইচএসসির সার্টিফিকেট দিয়ে কি আর ভালো চাকরি পাওয়া যায়!
শুক্রবার কেটে গেলো,পরেরদিন শনিবার,সকাল সকাল সব কাজ সেরে আহানা মিষ্টিদের বাসায় গেলো,আজ শান্ত কোথাও নেই
হুহ একদম ঠিক হয়েছে উনার থেকে যত দূরে থাকবো ততই ভালো
মিষ্টিকে পড়িয়ে বাসা থেকে চলে যাওয়ার সময় আহানা বার বার পিছন ফিরে তাকিয়েছে,এতদিন ধরে জ্বালাতো
আর এখন জ্বালাচ্ছে না বলে কেমন যেন লাগছে তার কাছে
আহানা বাসায় ফিরে পানি খেয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো interview দিতে
সকাল ৮টা ৩০মিনিটে interview আজ
ব্যাপারটা বুঝলাম না ঠিক,এত সকাল সকাল কেন সেটাই মাথায় ঢুকছে না

এই যে ভাইয়া এটা কি এস.পি কোম্পানি?
জি,আপনি কি ইন্টার্ভিউ দিতে এসেছেন?
হুম
তাহলে ৩য় তলায় যান
ওকে ধন্যবাদ
আহানা ৩য় তলায় আসলো
আল্লাহ গো এত ভিড়,আমি তো টিকবো না মনে হয়,ছেলে যতগুলো মেয়ে ততগুলো,আর আমি ভাবসিলাম অল্প কয়েকটা হবে,এদের সাথে টিকা অসম্ভব

একজন লোক আসলেন,এসে সবার মাঝখানে দাঁড়ালেন,দেখতে ভদ্র টাইপ তবে এই অফিসের বস মনে হয় না,নরমাল মনে হয়,নরমাল শার্ট পরা
উনি বললেন সার্টিফিকেট অনুযায়ী সবাই আলাদা হয়ে যেতে
আমি এইচএসসির দলে দাঁড়ালাম,কয়েকটা মেয়ে এসেছে
এত সেজেছে মাগো মা,সাজারই কথা,কর্মচারী তো আর আমার মত ক্ষেতরে নিবে না,আমি তো চেয়েও সাজতে পারিনি,কিছু নাই সাজার
তাও ওড়না জামা টেনেটুনে ঠিক করে নিলো আহানা
আয়রন করার উপায় নাই,বাসায় আয়রন করার মেশিন নেই,কাল জামাকাপড় ধুয়ে শুকিয়ে ভাঁজ করে বালিশের তলায় রেখে দিয়েছিলাম তাই দেখে মনে হচ্ছে আয়রন করা,হিহি গরীবের আয়রন মেশিন হলো বালিশ

শুনেন সবাই ২জন ২জন করে যাবেন,ভাগ্য হলে ২জনই সিলেক্ট হবেন,ভাগ্য ভালো না হলে ১জন হবেন,আবার দুজনের একজন ও না হতে পারেন
স্যার খুব রাগী,ঠিক করে কথা বলবেন,আমি লিস্ট দেখে ডাকবো এক এক করে যাবেন আপনারা,ঠিক আছে??সবার আগে রুশা রহমান আর টুম্পা চৌধুরী আসেন
আহানা বসে বসে আল্লাহকে ডাকতেসে,১০হাজার বেতন হলে বেশ ভালো যাবে তার,আল্লাহ যেন টিকে যাই আমি
এর আগেও আহানা ইন্টারভিউ দিয়েছিল অনেক চাকরির আশায় কিন্তু একটাতেও সফল হয়নি,তাই এখন ভয় করছে,ক্লাস ৯এ থাকতে আমাদের স্কুলের একজন বাংলা ম্যাডাম ছিলেন,ফেরদৌসি ম্যাডাম,উনি আমাকে বলেছেন ইন্টারভিউ কোনো বড় কিছু না,তবে এটাকে বড় ভাবতে হবে,ভয় থাকলে টিকবে না কোনোমতেই
ভয় এক পাশে রেখে আত্নবিশ্বাস নিয়ে কথা বললে জিতা ৯৯% সিউর
তাই আজ আমি আমার আত্নবিশ্বাস জারি রাখবো,ইনশাল্লাহ আমি সফল হবো

১২/১৩জনকে ডাকার পর এবার আহানাকে ডাকলো,সাথে যাকে ডাকলো তার নাম শুনে আহানার চোখ কপালে,শাহরিয়ার শান্ত!!!!কিহহহ ও এখানে কি করে
আহানা চারিদিকে তাকাতে তাকাতে ভিতরে চলে গেলো,কিন্তু শান্তকে দেখলো না
শান্ত দৌড়ে আসলো কারন আজ তার আসতে আসতে দেরি হয়ে গেছে,ঘুম থেকে উঠতে পারেনি
আহানা ভিতরে এসে চেয়ারে বসলো,শান্ত ও এসে চেয়ারে বসতে গিয়ে আহানাকে দেখে সে চমকে উঠলো
আহানা ব্রু কুঁচকে ওর থেকে চোখ সরিয়ে বসের দিকে তাকালো
হাই আই এম জাকির হোসেন,নাইস টু মিট ইউ!
তো বেশি কথা না বাড়াই আরও অনেকজন ওয়েটিংয়ে আছে আপনারা আপনাদের সার্টিফিকেট এবং ম্যানেজিং স্কিল প্রুভের পেপার দিন আমাকে

আহানা আর শান্ত একসাথে দিলো,উনি সার্টিফিকেট দেখতেসে
শান্ত আর আহানা একজন আরেকজনকে দেখতেসে মনে মনে একজন আরেকজনকে গিলে খাচ্ছে
Why do you want to be a part of our business Mr.Santo? (তুমি কেন আমাদের ব্যবসার অংশ হতে চাও?)
Because I’m a good candidate for this job and I’m
Sure I will be able to handle all the work
(কারণ আমি জানি আমি এই চাকরির জন্য একজন ভালো কর্ম প্রার্থী এবং আমি নিশ্চিত আমি সব কাজ সামলাতে পারবো)

And what about you Ms. Ahana?
আমার চাকরিটা প্রয়োজন
ইংরেজীতে কথা বলুন
সরি স্যার,আমি ইংরেজীতে নিখুঁত না
ওকে সমস্যা না,আপনি বলুন আপনার চাকরিটা কেন প্রয়োজন?দেশে আরও এমন অনেক চাকরি আছে যেটা আপনি করতে পারবেন আপনার প্রয়োজন মিটানোর জন্য তাহলে এই চাকরিটাই কেন?
এই ব্যাবসার মূল উপাদান হচ্ছে বিল্ডিং তৈরির নকশা নিয়ে,আর আমার সেই সম্পর্কে ধারনা আছে বলেই আমি শত চাকরির মাঝে এটা বেছে নিয়েছি,আশা করি আমি নির্ভুল ভাবে কাজটা করতে পারবো
ওকে দ্যাটস গুড,আই এম ইমপ্রেসড
শান্ত মুচকি হেসে বসের দিকে চেয়ে আছে,শুধু বস না শান্তরও আহানার কথাটা ভালো লেগেছে,আহানার এই জোস কথায় সে পাক্কা আজকে টিকে যাবে

তোহহ মিঃ শান্ত এবং মিস আহানা আপনাদের দুজনের কথাই আমার বেশ লেগেছে,কংগ্রেচুলেশনস!আপনারা দুজনেই সিলেক্টেড
থ্যাংক ইউ সো মাচ স্যার
আমার পি.এ মিঃ রাফি তোমাদের বেতনের সম্পর্কে সবটা জানিয়ে দিবে,সো ফর নাও গুড বাই
শান্ত পকেটে হাত ঢুকিয়ে রাফির কাছে চলে গেলো
আহানা খুশিতে আটকানা হয়ে দিশেহারা হয়ে গেছে মাথা ধরে নিজেকে সামলিয়ে শান্তর পিছে পিছে গেলো

তো শুনুন আপনারা,মাসে একদিন ও ছুটি নাই,পুরা মাস চাকরি থাকবে,দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত,মাঝে মাঝে ওভারটাইম ও হবে
মিঃ শান্ত আপনার বেতন ২৫হাজার,আর মিস আহানা আপনার বেতন ১০হাজার,কাল থেকে জয়েন করবেন,আল্লাহ হাফেজ
কথাটা বলে উনি চলে গেলেন
আহানা চোখ বড় করে বললো আমার এত কম কেন,আজব তো,আমি কি দোষ করসি
মিস আহানা আপনি এখনও পিচ্চি মাইয়া,একে তো ইংরেজী পারেন না,আরেক তো অনার্সের ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট,১০হাজার দিবে এটাতেই আমি শকড!!বাই দ্যা ওয়ে হিংসা হয়?আমার মতো হতে চাও তাহলে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ে তার পর আসো বুঝছো বাবু?

আমি বাবু না ওকে?
আর আপনার না বাবার লাখ লাখ টাকা,তো আপনি ২৫হাজার টাকার চাকরি করতে আসছেন কেন?
none of your business!,নিজের কাম করো
যাও নিজের চরকায় তেল দাও
হুহ!!
আহানা চলে গেলো ভার্সিটির দিকে
শান্ত দাঁত কেলিয়ে টাই ঠিক করতে করতে বাইকে উঠলো,যাক ভালোই হয়েছে,ডেইলি ওরে জ্বালাতে পারবো😎
আহানা আজ অনেক খুশি,অনেক অনেক,এভাবে টিকে যাবে সে একদমই ভাবতে পারেনি,কাল থেকে নো টিউশনি,ইয়ে😎
শান্ত বটতলায় বসে নওশাদের সাথে কথা বলতেসে
আহানা ক্লাসে বসে উঁকি দিয়ে শান্তকে দেখছে,সবসময় আল্লাহ আমার সাথে ওরেই কেন রাখে বুঝি না,চড় মারার পর থেকে এমন কোনো দিন যায়নি যেদিন এর চেহারা দেখতে হয়নি আমার,উফ!
ব্রেক টাইমে ক্যামপাসে আসতেই ২সেকেন্ড ও হয়নি শান্ত সামনে এসে হাজির

কি?
আমার নোটবুক দাও
দাঁড়ান আনতেসি,আহানা গিয়ে ব্যাগ থেকে নোটবুক এনে শান্তকে দিলো
হুম গুড জব,আর এই নাও আজকের নোটস
আহানা নোটস হাতে নিয়ে মুখ বাঁকিয়ে চলে যেতে লাগলো
এই মিস আহানা!
আহানা থেমে পিছনে তাকিয়ে বললো কি?
তুমি কি জানো তুমি এখন থেকে আমার সহকারী কর্মচারী
কে বলসে?
জাকির বস বলসে,আর বিশ্বাস নাহলে তোমাকে যে কাগজ দিসে আজকে সেটায় চেক করিও,আমার কথা মতো চলবা ঠিক আছে?আমি তোমার বস,আর আমার বস জাকির স্যার

হুহ,বয়ে গেছে আমার,যান এখান থেকে,বসের গুষ্টি কিলাইতাম!!
আহানা চলে গেলো ক্লাসের দিকে
শান্ত কোমড়ে হাত দিয়ে ভাবতেসে এই মেয়েটার এত তেজ কেন বুঝি না
ঠিক আছে! কাল থেকে তেজ বুঝাবো!
আহানা নাচতে নাচতে পিউদের বাসায় গিয়ে বললো যে আর পড়াতে পারবে না
আহা কি মজা,মিষ্টির আম্মুকে মানা করবো না,ভোরে আমার কোনো কাজ থাকে না,এটা পড়ালে বারতি ইনকাম হবে
শয়তান শান্ত ৩হাজার দিবে,মাস শেষে বেতন হবে ১৫হাজার টাকা,বেতন পেয়ে ভালো করে বাজার করবো
আহানা খুশিতে আজ আলুর ভর্তা বানালো,আহা আমার সুদিন আসতেসে☺মজা করে ভাত খেয়ে নিলো
তারপর নামাজ পড়ে নিয়ে বই নিয়ে বসলো,পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে গেলো,শান্তর নোট লিখতেই ভুলে গেলো
পরেরদিন ভোরে মিষ্টিদের বাসায় ঢুকার সময় শান্ত পিছন থেকে ডাক দিলো

তুমি আমার নোটস কমপ্লিট করেছো?আজকে স্যার বলসে সবার আগে আমার নোটস চেক করবে
ইসসস আমি ভুলে গেছি কাল ক্লাসের পড়া পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গেছিলাম হুস ছিল না একদম
কিহ?তুমি এখনও লিখো নাই!!আজ যদি স্যার আমাকে কথা শুনায় তোমার হাড্ডি আমি সত্যি সত্যি ভাঙ্গবো
এই কথায় কথায় মারার হুমকি দেন কেন এতো?আমি ভার্সিটিতে আসার আগে পুরোটা কমপ্লিট করে নিয়ে আসবো
আসলেই ভালো
আহানা ভয়ে মিষ্টিদের বাসায় ঢুকে গেলো,ওকে পড়িয়ে এক দৌড় দিলো বাসার দিকে,বাসায় ফিরে হাত থকে ব্যাগ রেখেই টেবিলে বসে গেলো নোট লিখার জন্য,৩ঘন্টা ধরে খাটনি খেটে অবশেষে নোট কমপ্লিট করলো,২/৩লাইন বাকি ক্লাসে গিয়ে লিখবো,বাপরে বাপ,খাওয়া দাওয়া কিছু হয়নি আমার

ক্রিং ক্রিং
ফোন বাজতেসে
কার কল আবার সেই শয়তানটার!কল করে করে মাথা খাবে আমার,এই নিয়ে ৫বার কল করেছে
হ্যালো কি সমস্যা আপনার?বলসি না আমি সব কমপ্লিট করে আনবো,অসহ্য
এই আমাকে ভাব দেখাবা না,আমি তোমার বস
কচুর বস আপনি!মানি না আমি,ফকিন্নি বস একটা!
কি?আমি ফকিন্নি বস??তোমার সাহস হয় কি করে আমাকে এটা বলার,আজ দেখিও অফিসে তোমার কি হাল করি আমি
কচু করবেন আমার,আপনার মন্ডু করবেন,ছাতার মাথা করবেন
এই চুপ,আবোলতাবোল এসব কি বলে যাচ্ছো,মগজ কি গুলে গেছে তোমার?
না গুলে নাই,আপনার গুলে স্যুপ হয়ে গেছে
কিহহহহ,কথা সামলিয়ে বলো আহানা
আপনি কি সামলায় বলতেসেন যে আমি সামলিয়ে বলবো?মিঃ অশান্ত
এই আমাকে অশান্ত ডাকবা না একদম,আমার নাম শাহরিয়ার শান্ত,ওকে?গট ইট?

নো,আপনার নাম অশান্ত
দরজা খুলো
মানে?
খুলো বলতেসি
আহানা চোখ কপালে তুলে দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুলতেই শান্ত ভিতরে চলে আসলো
কানে ফোন,দরজা লাগিয়ে এগিয়ে গেলো সে আহানার দিকে
আহানা ঢোক গিলে কানের থেকে ফোন রেখে দিলো
কি বলছিলে তুমি?আমার মগজ গুলে স্যুপ হয়ে গেছে?আমি অশান্ত?
আআআআআপপপপপনি এখানে কি করে?

বাইকে বসলাম এক টানে চলে এলাম হাই স্পিড দিয়ে,ভাবসিলাম তোমাকে অফিসে টাইট দিব বাট সব বসই তো তাদের পিএ কে অফিসে টাইট দেয় আমি নাহয় ইউনিক কিছু করি
আহানা পিছোতে পিছোতে দুম করে খাটে বসে গেলো
শান্ত টেবিল থেকে নোটবুক নিয়ে চেক করতেসে
আহানা এই সুযোগে পালাতে যেতেই শান্ত ওর হাত ধরে ফেললো
আরে থামো থামো,কই যাও তুমি?এখনও তো কিছু করলাম না,ডেইলি আমার সাথে ঝগড়া করার শাস্তি তোমায় আজ পেতে হবে
চা খাবেন?
শান্ত মুচকি হেসে এগিয়ে গেলো আরও
চা??না তোমাকে খাব!
আহানা চোখ কপালে তুলে পিছোতে পিছোতে বললো বাঁচাও বাঁচাও

শান্ত কাছে এসে আহানার মুখ চেপে ধরে বললো চুপ!!
তোমাকে বলসি না তোমার প্রতি আমার interest নেই,ওরকম কিছু করবো না ওকে?
তাহলে কি করবেন?
দাঁড়াও ভাবতে দাও
শান্ত আহানার পাশে বসে গেলো,গালে হাত দিয়ে ভাবনায় পড়ে গেলো সে আহানার সাথে কি করবে
আহানা আবার পালিয়ে যেতে নিতেই ওর হাত ধরে ফেললো সে
প্লিস ছাড়ুন!
কি বলছিলে যেন?
না না কিছু না,আর কখনও বলবো না সত্যি!

যাও চা বানাই আনো,চা খেতে খেতে ভাববো তোমাকে কি শাস্তি দিব এখন
আহানা হাত ছাড়িয়ে রান্নাঘরে গেলো,এই ছেলেটা জোঁক টাইপের,উফ,একেবারে বাসায় চলে আসলো,তারেক আঙ্কেল জানলে নির্ঘাত আমাকে বাসা থেকে বের করে দিবে
আহানা চা নিয়ে এসে দেখলো শান্ত নোট বাকিগুলো লিখতেসে
নিন আপনার চা
হুম,তোমার জন্য বানাও নি?
দুধের গুড়ি শেষ
আরেকটা কাপ আনো
কেন?
আনতে বলসি আনো
নিন
শান্ত এক কাপের চা দুকাপ করলো,অর্ধেক অর্ধেক,নাও খাও
খাব না আমি
খাও বলতেসি,সবসময় না ছাড়া কিছু বলতে জানো না??
খালি না না না,আমার সাথে সবসময় হ্যাঁ হ্যাঁ বলবা,ওকে?
না

আবার না??উফ!
শুনো!!তোমাকে আমার আম্মু কোলে নিসিলো ওকে?সো সেই খাতিরে আমার সাথে একটু ঠিক হয়ে চলো
ওহ হ্যা আরিফ আঙ্কেল বলেছিল আপনি নাকি আমাকে একবার কচু পাতা খাইয়েছিলেন,তাও কাঁচা,আপনার এত বড় সাহস!!আমার তখন বুঝাশুনার জ্ঞান ও হয়নি আর আপনি কিনা আমাকে কাঁচা কচু পাতা খাইয়ে দিছিলেন
ওয়েট ওয়েট!কচু পাতা,কাঁচা?
ওহহ আচ্ছা আচ্ছা এবার মনে পড়লো,তাহলে তুমি আমার সেই পাতানো বউ??যাকে আমি কচুপাতা রেঁধে খাওয়াই ছিলাম

রেঁধে না,কাঁচা
এক মিনিট বউ মানে?আমার তো কিছু মনে আসতেসে না
শান্ত দাঁত কেলিয়ে খাটের উপর গিয়ে বসলো
তাহলে তো তোমার সাথে আমার আগেই দেখা হয়েছিল even আমি তোমার সাথে যা যা করসি সব আমার মনে আছে
যা যা মানে?কি বলতে চান আপনি
থাক আহানা শুনলে তোমার খারাপ লাগবে,নাই বলি
ককককককি আপনি কি বলতে চান এসব!

হেহে!তোমার ৩বছর হওয়া পর্যন্ত আমরা মোহনগঞ্জেই ছিলাম
মা তোমাকে দেখতে আসত রোজ,সাথে আমিও আসতাম,তুমি তো আমার কোল থেকে নামতেই না,আমার একদম মনে ছিল না সেই পাতানো বোকা বউ আমার এখন কিনা ধানি লঙ্কা হয়ে গেছে
এই এসব কি বলতেসেন আপনি,আন্দাজে মিথ্যা হাবিজাবি বললেই আমি বিশ্বাস করে নিব?
তুমি এখন একটা কথা শুনলে লজ্জায় আর মুখ দেখাতে পারবে না আমাকে
কককককি?!!!
আগে এটা বলো তোমার কি কোনো বিএফ আছে?নাকি ছিল?
নেই😒আমার মতো অনাথ মেয়েকে কে ভালোবাসবে?

তাহলে শুনো,তুমি আর আমি একদিন চড়ুই ভাতি খেলতেসিলাম,আমি চকলেট খাচ্ছিলাম তো তুমি ড্যাবড্যাব করে চেয়েছিলে বলে আমি তখন তোমাকেও একটুখানি দিসিলাম চকলেট
তুমি সারা গালে মেখেছিলে,আমার চকলেট শেষ হয়ে গেছিলো,আর তোমার দিকে চেয়ে দেখলাম তুমি একটুও খাওনি সব মুখে মাখাইসো,আমি তখন আমার জিভ দিয়ে….
এই!!!!আর একটা কথাও না,আপনি এত মিথ্যা কি করে বলতে পারেন,ছিঃ ছিঃ
শুনো না আমি তো তোমার গাল চুষতে গেসিলাম বাট তুমি তো তুমিই,তুমি ফিক করে হেসে দিয়ে গাল হেলিয়ে দুলিয়ে ফেললে আর আমার জিভ গিয়ে তোমার ঠোঁটে….
স্টপ ইট!!আপনার লজ্জা করে না এসব বলতে!!

আহানা এগিয়ে এসে শান্তর জ্যাকেট ধরে ঝাঁকিয়ে বললো বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে এসব করলেন আপনি?
জিভ লেগেছিল আর কিছু না!
জিভ লাগাতে গেছেন কেন আপনি, অসভ্য কোথাকার!
আহানা ওড়না দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে উঠান দিকে চলে গেলো
শান্ত অবাক চোখে আহানার লজ্জা পাওয়া দেখছে,যা যা বললো সব সত্যি
অনেকগুলো বছর কেটে যাওয়ায় সব ভুলে গিয়েছিল সে,আহানা একদম ছোট থাকতে শান্ত আর তার পুরো পরিবার সিলেট চলে গিয়েছিল,পরে অনেকবছর পর ফেরত এসেছিল তারা তাও তখন মায়ের অসুখ নিয়েই প্রতিটা দিন কাটত,আহানাকে মনে থাকার কথা না ,মায়ের মৃত্যুর পর এসব একদমই মাথায় ছিল না তার,সেই ছোট্ট বউটা আমার কোথায় হারিয়ে গেলো আমি খোঁজই নিলাম না,এভাবে ফেরত আসবে ভাবতেই পারিনি
আহানা চোখ বন্ধ করে উঠানে দাঁড়িয়ে আছে,মনে করার চেষ্টা করতেসে
কিন্তু শান্ত নামক ছেলেটিকে এর আগে সে দেখেছে কিনা তার মনে নেই,থাকবে কি করে তখন যে সে ছোট্ট বাবু ছিল

শান্ত হেসে দিয়ে নোটস নিতে নিতে আহানার দিকে চেয়ে বললো যাই আমার পাতানো বউ,টাটা
আহানা রেগে গিয়ে শান্তকে ধাক্কা মেরে বাসা থেকে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে ফেললো
গা কেঁপে যাচ্ছে,এ কেমন অনুভূতি,সত্যি কি তাই ঘটেছিল,না এটা হতে পারে না
কিস তো করে নাই,হ্যাঁ করে নাই তাহলে ঠিক আছে নাকি করেছে,নাহ না এটা হতে পারে না,একবার জিজ্ঞেস করবো?না থাক লজ্জা করে,নাহ জিজ্ঞেস করার দরকার নাই,হুমমম
পরেরদিন সকাল সকাল আহানা মিষ্টিকে পড়াতে বের হলো,কাল সারারাত ঘুমাতে পারেনি সে,মাথায় শুধু এটা ঘুরেছে শান্ত আর কিছু করেনি তো,একটা ছবি দেখেছিল মীম আপুর ফোনে,সেখানে নায়িকার ছোটবেলার খেলার সাথী তার সাথে উল্টা পাল্টা কাজ করেছিল,না না এটা হতে পারে না

টিং টং
নওশাদ!!
টিং টং
উফ রিয়াজ??তোরা মরে গেছিস?তখন থেকে কলিংবেল বাজতেছে,,দরজা খুলতে পারোস না?আজব!
শান্ত উদম গায়ে ছিল,খাট থেকে থেকে জামা নিয়ে পরতে পরতে দরজার দিকে গেলো সে,দরজা খুলতেই ঝাটকা লাগার মত অবস্থা,আহানা দাঁড়িয়ে আছে সামনে
আহানা?আজ কি সূর্য উঠেছে?উঠলেও কোন দিক দিয়ে উঠেছে,সয়ং আহানা ইয়াসমিন আমার বাসার দরজায় নক করলো?
তা কি মনে করে?
আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে
হ্যাঁ বলো
আহানা পাশে তাকিয়ে দেখলো অন্য ফ্ল্যাটের বুয়া করিডোর পরিষ্কার করতেছে
এখানে না বলি?

আচ্ছা ভিতরে আসো
আহানা সাথে সাথে ভিতরে চলে গেলো
শান্ত পানির বোতল নিয়ে নিজের রুমের দিকে গেলো,আহানা এদিক ওদিক তাকিয়ে সেও গেলো
শান্ত ফ্লোর থেকে জামাকাপড় উঠাচ্ছে
আহানা ফ্লোরে মেয়েদের একটা জামা দেখতে পেলো,চোখ ইয়া বড় করে সেটাই দেখে যাচ্ছে সে,ছোট একটা পার্টি ড্রেস,আহানার গা কাঁপা শুরু হয়ে গেছে,এই লোকটা এত খারাপ!!
এই যে মিস আহানা এত ড্যাবড্যাব করে দেখার কিছু নেই,কাল আমি এখানে ছিলাম না,তোমার সো কলড বেস্টু রুপা আর নওশাদ মেবি আমার রুমে রুমডেট করসে
কিহহহহ!

চুপ,আস্তে,এত জোরে চেঁচাও কেন বলোতো,নওশাদ বেচারা কিছুক্ষন আগে ঘুমিয়েছে
আহানা ঢোক গিলে এদিক ওদিক দেখছে
রুপা কে খোঁজো?তাকে তো নওশাদ বাসায় পৌঁছে দিয়ে এসেছে ভোর ৪টায়
ওর মা বাবা!??
আরে রুপার মা বাবা রুপার দাদার বাড়ি গেছে এই সুযোগটাই রুপা নিসে বুঝছো,কি বলবে বলো,আমার ঘুম পাচ্ছে,কাল আমি আমার এক ফ্রেন্ডের বার্থডে পার্টিতে গেছিলাম,তাই বাসায় আসতে আসতে লেট হয়ে গেছিলো
আমি আসলে বলতে এসেছিলাম আপনি কি আমাকে

কি?
আমাকে কককককিসস করেছিলেন?
শান্ত হেসে দিয়ে পানি খেতে খেতে বেডের উপর গিয়ে বসলো
তারপর আহানার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললো আরে আমি তখন জানতাম না এটাকে কিস বলে,আমি জাস্ট আমার চকলেট চেটে খেয়েছি,ব্যাস!
আহানা কাঁপা কাঁপা আওয়াজে বললো আর কিছু করেননি তো??
শান্ত হাসতেসে,হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে,তারপর পানির বোতল টেবিলে রেখে আহানার দিকে তাকালো
আহানার পিছনে ড্রেসিং টেবিল,সেটার আয়নায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আহানার পিঠে একটা কুচকুচে কালো তিল ঠিক জামার গলা যেখান দিয়ে শুরু সেখানে,আহানা নড়াচড়া করতেসে বলে সেটা একবার দেখা যাচ্ছে আরেকবার দেখা যাচ্ছে না

তোমার পিঠের উপরে জামার গলা বরাবর একটা তিল আছে রাইট?
কথাটা শুনে আহানা সিউর যে শান্ত সেই ছবির ছেলেটার মত কাজ করেছে
আহানার চোখ দিয়ে পানি টপটপ করে পড়তেছে
সে কাঁদতে কাঁদতে দেয়ালের সাথে লেগে গেলো
আপনি আমার সাথে এমনটা কেন করলেন,কি দোষ করেছিলাম
শান্ত একদমই প্রস্তুত ছিলো না এটার জন্যে,আহানা এভাবে কাঁদতেসে কেন,কথাগুলো সিরিয়াস নিয়ে নিলো নাকি!
শান্ত আহানার দিকে এগিয়ে গেলো
খবরদার আমার কাছে আসবেন না আপনি,আপনি খুব খারাপ!

আহানা থামো,আমি মজা করছিলাম,আমি তোমার সাথে কিছু করিনি
শান্ত এগিয়ে এসে আহানার হাত ধরলো
আমি মজা করসি,এটাকে সিরিয়াসলি নিও না প্লিস
আপনি তাহলে জানেন কি করে আমার পিঠে কোন জায়গায় তিল আছে
আমি মাত্র আয়নায় দেখলাম তাই বলসি,জাস্ট ফান আর কিছু না,আহানা কান্না থামাও
শান্ত হাত দিয়ে আহানার চোখ মুছে দিলো
আহানা এবার শান্তকে বিশ্বাস করলো,কান্না থামালো
শান্ত আহানার হাত ধরে খাটে বসিয়ে পানি এক গ্লাস এনে ওকে দিলো
আহানা ওড়না দিয়ে মুখ মুছে পানি খাচ্ছে
তারপর নিজেকে ঠিক করে উঠে দাঁড়াতেই শান্ত সিগারেট মুখে দিতে দিতে বললো আহানা সেটাকে কিস ও বলতে পারো!
আহানা চোখ বড় করে শান্তর দিকে তাকালো,শান্ত হাসতে হাসতে বারান্দার দিকে চলে গেছে

বেয়াদব একটা!!
বাসায় এসে আহানা গালে হাত দিয়ে ভাবতে লাগলো হুদাই কাল সারারাত এত চিন্তা করসি,আসলেই তো কিছু হয়নি,শুধু কিস!!বেয়াদব কোথাকার!!আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম
আহানা ভাত রেঁধে খেয়ে রেডি হয়ে বের হলো,আজ ভার্সিটি থেকে অফিসের দিকে যাবে
ভার্সিটিতে এসে ক্লাসরুমে ঢুকে বেঞ্চে বসতেই দেখলো রুপা মুখ লুকিয়ে কাঁদছে
কিরে রুপা কি হয়েছে তোর?কিরে?
আমি না একটা ভুল করে ফেলেছি
কি?
আমি নওশাদের সাথে রুমডেট করসি
জানি
কিহ!!কেমনে!
শান্ত ভাইয়া বলসে আমাকে
এ্যা আস্তে আস্তে সবাই জেনে যাবে

নাহ শুধু আমি আর উনি জানি আর কেউ জানে না জানবেও না,রুমডেট তো নিজের ইচ্ছায় করেছিলি তাহলে এখন কাঁদতেছিস কেন?
না নিজের ইচ্ছায় না,আমি তো জাস্ট নওশাদের সাথে মিট করতে শান্ত ভাইয়ার বাসায় গিয়েছিলাম,সেখানে আমরা দুজনেই মদ খেয়ে উন্মাদ হয়ে গেছিলাম কি করসি তাই মনে নাই,পরে হুস আসতে সব মনে পড়লো,আমি এখন কি করবো রে আহানা,যদি প্রেগন্যান্ট হয়ে যাই??
আরে চিন্তা করিস না,নওশাদ ভাইয়া ভালো,তোকে চিট করবে না
সেটা জানি,কিন্তু ও তো কোনো চাকরি ও করে না,কি হবে কোথায় যাব!
এতসব ভাবিস না তো,কিছু হবে না(আমি মরি আমার জ্বালায়,নতুন আরেকটা ঝামেলা)
ক্লাস ছুটি হতেই আহানা অফিসে যাওয়ার জন্য রওনা হলো,শান্ত বাইক নিয়ে আহানার সামনে এসে ব্রেক করলো
কি মিস আহানা?? যাবেন নাকি একসাথে?
নো থ্যাংকস
ফাইন!
শান্ত অফিসের দিকে চলে গেলো,আহানা আস্তে আস্তে আসতেসে অফিসের দিকে

হ্যালো everyone,তোমরা মোট ২০জন employee,তাহলে আর একজন মিসিং কেন?
স্যার স্যার আসছি!
প্রথমদিনেই লেট?নেক্সট যেন এমন না হয়
শান্ত দাঁত কেলিয়ে বললো স্যার আমিও একই ভার্সিটি থেকেই এসেছি,ওকে বলসি বাইকে উঠতে ও উঠে নাই,এখন হেঁটে এসে দেরি করলো
আহানা?দেরি ইচ্ছে করে করলে এর শাস্তি তোমায় পেতে হবে,হয় রিকসায় নয় শান্তর সাথে আসবে ওকে?
ওকে
সবাই সবার কেবিন বুঝে নাও,নাম লিখা আছে,ফাইল রাখা আছে,কাজ শুরু করে দাও,কোনো প্রবলেম হলে রাফিকে ডাক দিবে,Alll the best
আহানা তার কেবিনে বসে খুব খুশি হলো,কি সুন্দর তার ছোট্ট কেবিন,আহানা মুচকি হেসে পাশে তাকাতেই মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো তার
শান্ত দাঁত কেলিয়ে টাই ঠিক করতেছে
আপনি আমার পাশে?

হুম তো?তোমার কি,আমি রাফিরে বলসি আমাকে এই কেবিন দিতে,এসির হাওয়া আসে ঠিকমত
আহানা ফাইল খুলে দেখতেসে
হাই!!হ্যান্ডসাম!!
হাই ববি!
ববি না বেবি
ওহ আচ্ছা,বেবি,কি খবর??
আই এম ফাইন মিঃশান্ত!!ইউ লুক সো কিউট!!
ওহ থ্যাংক ইউ
আহানা বিরক্তি নিয়ে তাকালো সেদিকে,এই মেয়ে এবার শান্তর গলা জড়িয়ে থাকবে অলওয়েজ,এই ছেলেটার মাঝে কি আছে যে সুন্দর সুন্দর মেয়েরা চিপকুর মত লেগে থাকে
শান্ত আহানার দিকে তাকিয়ে টাই ঢিলা করে কয়েকটা বোতাম খুলে ফেললো শার্টের তারপর বেবির সাথে কথা বলা শুরু করে দিলো
বেবি হেলেদুলে শান্তর চেয়ারে গা এলিয়ে দাঁড়িয়ে শান্তর সাথে কথা বলে যাচ্ছে,আহানা ফাইল একটা কমপ্লিট করে ফেলেছে ততক্ষণে
সেটা নিয়ে উঠে গেলো রাফিকে দিতে
শান্ত আহানার দিকে চেয়ে আছে,বেবি শান্তর মুখে হাত দিয়ে নিজের দিকে ফিরালো
ওদিকে কি দেখো শান্ত,আমাকে দেখো না
ববি এখন যাও,আমার কাজ আছে
ববি না বেবি
হুম বেবি
বাই!!

ভেরি গুড আহানা,প্রথমদিনেই খুব ভালো কাজ করেছো,আশা করি এমন করেই কাজে মন দিবে
রাফি স্যার একট কথা বলার ছিলো
হ্যাঁ বলো
স্যার আমার কেবিনটা যদি চেঞ্জ করে দিতেন তাহলে খুশি হতাম
না সেটা করা যাবে না,তা হলে সবাই বলবে তাদের টাও চেঞ্জ করতে
ওহ,ঠিক আছে
আহানা মুখ গোমড়া করে আবার কেবিনে এসে বসলো
শান্ত ফাইল রেডি করে সেও দেখাতে চলে গেলো
আহানা চুপচাপ আরেকটা ফাইল দেখতেসে
শান্ত ফিরে এসে পাশে বসে ঢুলতেসে আর চুইংগাম খাচ্ছে
উফ এরকম কেবিন নাড়তেসেন কেন??আমার ডিস্টার্ব হচ্ছে
তাই?তাহলে তো আরও জোরে নাড়াতে হয়
আপনার কি সমস্যা!!

তুমি
মানে
কিছু না,নিজের কাজ করো এত ফটরফটর করো কেন
আপনি নাড়ানো অফ দিবেন নাকি আমি রাফি স্যারকে ডাক দিব
ডাকো না মানা করসি আমি?অফিস থেকে বের হলে কিভাবে ঠিকমত বাসায় ফিরো সেটাও আমি দেখে নিব
আহানা ব্রু নাড়িয়ে নিজের কাজে মন দিলো,থ্রেট ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না বেয়াদবটা
আউচচচ!এটা কি
আহানার গায়ে একটা কাগজের দলা এসে পড়লো,নিচ থেকে তুলে খুলে দেখলো লিপ্সটিক লাগানো চুমু💋
আহানা চোখ কপালে তুলে সামনে তাকিয়ে দেখলো বেবি ইশারা করতেসে এটা শান্তকে দিতে
উফ কি ঝামেলা,এই নেন ধরেন
কি এটা?
শান্ত খুলে দেখলো এটা “💋”
চোখ বড় করে আহানার দিকে চেয়ে বললো তুমি আমাকে কিস পাঠালে?

আজব তো আমি আপনাকে কিস পাঠাতে যাব কেন,এটা আপনার বেবি পাঠিয়েছে,ঐ যে!
আর আমি তো লিপ্সটিক লাগাই না আপনার এটা কেন মনে হলো যে আমি দিসি?আমার আর কাজ নাই?
শান্ত বিরক্তি নিয়ে বেবির দিকে তাকালো,বেবি ওর দিকে ফ্লাইং কিস পাঠাচ্ছে,একদিনেই এত বাপরে বাপ!!
শান্ত কাগজটা নিচে ফেলে দিয়ে নিজের কাজে মন দিলো
আহানা মিটমিট করে হাসতেসে,যাক আমাকে খুব জ্বালান তাই না,এবার এই বেবি আপনাকে জ্বালাবে,হুহ!
বিকাল ৪টায় ব্রেক টাইম,সবাই অফিসের ক্যানটিনে চলে গেছে
আহানা একা বসে ফাইল দেখতেছে,টাকা নেই খাবার ও নেই,আর আমি তো এসময়ে কিছু খাই না,সমস্যা নেই,এই ফাঁকে কাজ করে ফেলি
শান্ত মাথা ধরে বসে আছে আর বেবি বকবক করেই যাচ্ছে,এই মেয়েটা এত জোঁক কেন,এর বকবক থেকে তো আহানার বকবক ভালো লাগে,আহানার সাথে ঝগড়া করতে ভালো লাগে
আর এ মেয়েটা কবে আই লাইনার কিনসে কোথা থেকে কিনছে,কোন ব্র্যান্ডের কিনছে সেটা নিয়েই আছে,আল্লাহ বাঁচাও আমাকে!

আচ্ছা ববি আমি আসতেসি আমার একটা কাজ করা বাকি
ববি না বেবি,কি কাজ শুনি?
বেবির কথার উত্তর না দিয়েই শান্ত ক্যানটিন থেকে পালিয়ে আসলো কেবিনের দিকে
শুধু আহানা আছে কেবিনে,বসে বসে কম্পিউটার নিয়ে কিসব করছে আর এদিক ওদিক তাকিয়ে কাকে যেন খুঁজছে
কি হলো মিস আহানা?আমাকে খুঁজছেন?
না
তাহলে এদিক ওদিক তাকিয়ে কি দেখতেসো আর কম্পিউটার কি করসো,ইয়া আল্লাহ!!কি করসো এটা তুমি??ভাইরাস ধরসে কম্পিউটারে
শান্ত আহানার কাছে এসে কম্পিউটার ঠিক করার চেষ্টা করছে
আহানা ভয়ে শেষ,জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে
শান্ত হাসতে হাসতে টাইপ করছে,আহানা ম্যাডাম ভাইরাস পেলেন কই?
আপনি সরুন বলতেসি

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ২৭+২৮

ওমা আমি হেল্প করতে আসছি আর তুমি আমাকে সরতে বলছো?
আপনি আমার এত কাছে ঝুঁকে কাজ করতেসেন কেন,আমি সরতেসি দাঁড়ান
তুমিও না!!
শান্ত চেয়ারে বসে ভাইরাস দূর করার কাজ করে যাচ্ছে
আহানা ভয়ে শেষ,কম্পিউটার চালাতে এতটা দক্ষ না সে
ভুলে কি থেকে কি টিপ দিয়ে দিসে এখন না জানি কি হয়ে যাবে!

প্রেমের পাঁচফোড়ন পর্ব ৩১+৩২