Home mad for you mad for you part 25

mad for you part 25

mad for you part 25
তানিয়া খাতুন

রিকশা থেকে নামতেই ঠান্ডা হাওয়া রুহির গায়ে লাগে।
সারাটা পথ নিজেকে সামলে রাখলেও আমানের বাড়ির সামনে এসে তার বুকটা হঠাৎ ধক করে ওঠে।
নিঃশ্বাস নিয়ে গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢোকে রুহি। বড় বাড়িটার নীরবতা যেন আরও চাপা হয়ে আসে।
কলিং বেল বাজাতেই কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে যায়।
সার্ভেন্ট, ভদ্রভাবে—

“কাকে চাই, ম্যাডাম?”
রুহি, একটু নার্ভাস—
“আমি… আসলে আমান ভাইয়ার সাথে দেখা করতে এসেছিলাম।”
সার্ভেন্ট মাথা নেড়ে বলে—
“কিন্তু ম্যাডাম, উনি তো বাড়িতে নেই।”
ঠিক তখনই ভিতর থেকে আমানের মায়ের গলা শোনা যায়—
“কে এসেছে গো?”
রুহি একটু উচ্চস্বরে বলে—
“ভিতরে বলুন, রুহি এসেছে।”
রুহির নাম শুনতেই যেন আমানের মা চিনে ফেলেন।
তিনি তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে দরজায় দাঁড়ান। রুহিকে দেখে মুখটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
আমানের মা, স্নেহভরা হাঁসিতে—

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“আরে রুহি মা! এসো এসো, ভেতরে এসো।”
রুহি, মিষ্টি হেসে—
“কেমন আছেন আন্টি?”
আমানের মাঃ “আমি ভালো আছি মা, তোমাকে দেখে তো আরও ভালো লাগছে।”
তিনি রুহিকে নিয়ে ডাইনিং রুমে বসান।
রুহি, একটু সংকোচে—
“আন্টি, আমান ভাইয়া বাড়ি নেই?”
আমানের মাঃ “ও একটু পরেই চলে আসবে মা, তুমি বসো।”
রুহি আস্তে বলেঃ “আচ্ছা… আমি কি একটু আমান ভাইয়ার রুমে গিয়ে রেস্ট নিতে পারি? আসলে কিছু কাজও ছিল, ব্যাগে ফাইল আছে…”

আমানের মাঃ “অবশ্যই মা, ওপরে চলে যাও। ডান দিকের যে রুমটা—ওটাই আমানের।
যা দরকার ব্যবহার করো। ওর ল্যাপটপও আছে, চাইলে নাও। আমি তোমার জন্য কিছু বানিয়ে আনছি।”
রুহি( কৃতজ্ঞ হয়ে)ঃ “থ্যাংক ইউ সো মাচ আন্টি…”
ব্যাগটা বুকে চেপে রুহি সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। আমানের মা স্নেহমাখা চোখে তাকিয়ে থাকেন— যেন রুহিকে তিনি অনেক আগের থেকেই চেনেন, যেন নিজের মেয়ের মতো।
রুহি রুমে ঢুকেই আস্তে দরজাটা বন্ধ করে দেয়।
তারপর চোখ ঘুরিয়ে ঘরটা দেখে—
ডান পাশে কিং সাইজ খাট, পরিষ্কার নীল চাদর বিছানো।
সামনেই একটা চেয়ার আর স্টাডি টেবিল, টেবিলের উপর দুই–একটা ফাইল আর ল্যাপটপ পড়ে আছে।
বাম দেয়ালে বুকশেলফ—সারি সারি বই।
রুহি গভীর শ্বাস নেয়—

“এখান থেকেই শুরু করতে হবে…”
রুহি সোজা গিয়ে বুকশেলফের সামনে দাঁড়ায়।
তার হাতে তাড়াহুড়া—চোখে অস্থিরতা।
প্রথমেই সে একে একে সব বই বের করে নেড়ে–বাড়িয়ে দেখে।
পাতা উল্টায়, ঝাঁকায়—
যদি ভেতরে কোনো কাগজ, কোনো প্রমাণ, কিছু লুকানো থাকে।
কিন্তু সব বইই ফাঁকা…
কিছুই নেই।
ঠিক তখনই তার হাতে একটা ডায়েরি পড়ে।
রুহি সেটা খুলতেই—

নীচে থেকে একটা খাম পড়ে যায়।
রুহি থমকে যায়।
ধীরে ধীরে ঝুঁকে খামটা তুলে নেয়…
চেয়ারে বসে সাবধানে খামটা খোলে।
চোখ দুটো বড় হয়ে যায়—
“এটা… সিমরানের লেখা চিঠি!”
রুহি হতবাক—
“সিমরান আমানের নামে চিঠি লিখবে কেন?”
মাথার মধ্যে হাজার প্রশ্ন ঘুরতে থাকে।
সময় নষ্ট না করে রুহি দ্রুত চিঠিটা নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলে।
এখনই সব পড়া যাবে না—
আজ সে এসেছে শুধু প্রমাণ নিয়ে বের হওয়ার জন্য।
তারপর সে টেবিলের উপর ভালো করে খুঁজতে শুরু করে—
ফাইল, কাগজ, স্ট্যান্ড—

সব ঘেটে দেখে কিন্তু কিছুই পায় না।
শেষে তার চোখ পড়ে ল্যাপটপে।
রুহি ল্যাপটপে হাত দেয়—
পাসওয়ার্ড চায়।
সে নিজের মতো করে উল্টা পাল্টা কিছু পাসওয়ার্ড দেয়—
কিন্তু খোলে না।
অনেকবার চেষ্টা করার পর,
হতাশ হয়ে সে অজান্তেই টাইপ করে—ruhi
এন্টার চাপতেই—
ল্যাপটপ খুলে যায়।
রুহি চমকে ওঠে।
শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়।
“আমান… তার ল্যাপটপের পাসওয়ার্ডে আমার নাম রাখবে কেন…?”
ঘরের ভেতরের নীরবতা হঠাৎ খুব ভারী হয়ে ওঠে।
রুহির হৃদয় কেঁপে ওঠে—

“এখানে আরও কিছু আছে… নিশ্চয়ই।”
রুহি ল্যাপটপে চোখ গেঁথে মনোযোগ দিয়ে সব ফোল্ডার, ফাইল খুঁজছে।
পেজ পাল্টাচ্ছে, ডকুমেন্ট খুলছে—
তার নিঃশ্বাস ধীরে ধীরে দ্রুত হয়ে উঠছে।
“নিশ্চয়ই কোথাও কিছু আছে… ।”
ঠিক সেই সময় নিচতলায় দরজার শব্দ—
আমানের মা: “তুই চলে আসছিস? রুহি এসেছে।”
সিঁড়ির নিচে দাঁড়ানো আমান থমকে যায়।
চোখ বড় হয়ে যায় তার।
আমান: “রুহি এসেছে?
কিন্তু আমাকে তো বলেনি কোথাও ও!”
আমানের মাঃ“তোর রুমেই আছে। যা।”
আমান: “আমার… রুমে?”
এক ঝটকায় তার শরীর সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
কোনো কথা না বলে সে সিঁড়ির দিকে ছুটে যায়।
দৌড়াতে দৌড়াতে তার মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে—

“রুহি… আমার রুমে কেন? সে কি খুঁজছে?”
কয়েক সেকেন্ডে আমান সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠে যায়।
আমান রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়—
এক মুহূর্তও দেরি না করে,
জোরে দরজাটা ঠেলে ঢুকে পড়ে।
ঢুকতেই দেখে রুহি সোফায় বসে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে আছে।
আমান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এগিয়ে এসে হাঁসে,
“অনেক টায়ার্ড মনে হচ্ছে।”
রুহি চোখ খুলে বলে,
“হ্যাঁ, ওই… একটু চোখে লেগে গেছিলো।”
আমান রুহির পাশে বসে বলে,
“আগে বলতে—আমি তো তোমায় নিতে যেতাম।”
রুহি হালকা হাসে,
“আসলে এখান দিয়েই যাচ্ছিলাম, তাই ভাবলাম তোমায় একটা সারপ্রাইজ দিই।”
আমানঃ “আচ্ছা, কালকে আমিও তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দেব।”
রুহি কৌতূহলী হয়ে,
“কি সারপ্রাইজ?”
আমান হাঁসে,
“সেটা কালকেই জানতে পারবে। চলো, নিচে চলো—লাঞ্চ করবে।”

পরের দিন সকালবেলা রুহি ঘুম থেকে উঠতেই তার দরজায় জোরে ধাক্কা দেয় সোহান।
সোহান: “আপু, দরজা খোলো… বাইরে সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।”
রুহি চোখ–মুখ কুঁচকে দরজা খুলতেই সোহান ঘরে ঢুকে পড়ে।
সোহান: “তারাতারি রেডি হয়ে যাও, আপু। নিচে সবাই তোমাকে ডাকছে।”
রুহি: “রেডি হবো মানে? কারা ডাকছে?”
সোহান: “সেটা তুমি গেলেই দেখতে পাবে।”
রুহি সোহানের কথায় কান না দিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।
সোহান একা বসে পা দোলাতে দোলাতে রুহির ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে।
রুহি সোহানকে নিয়ে নিচে নামতেই অবাক হয়ে যায়—
নিচে আমান আর তার বাবা–মা বসে আছেন।
রুহিকে নামতে দেখেই রুহির আম্মু এগিয়ে এসে বলেন,
“আয় মা, আয়… বস।”
রুহি থমকে দাঁড়ায়,
“কি হইছে আম্মু? সবাই একসাথে…?”

রুহির আব্বুঃ “আমানের বাবা–মা তোমাদের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন।
আমরাও শুনে খুশি হইছি… তাই ভাবলাম আজকেই যদি কাবিনটা করে রাখা যায়।”
রুহির পায়ের নিচের মাটি যেন সরে যায়।
রুহি: “মানে কী? আমান ভাইয়াকে তো আমি ভাইয়া বলি… কোনোদিন ওইভাবে ভাবিনি।
তোমরা না জিজ্ঞেস করে কীভাবে বিয়ে ঠিক করলে?”
রুহির আম্মু: “এসব কেমন কথা হইল? ও ভালো ছেলে, আর তোমাকে পছন্দ করে। বিয়ে করবে, এতে খারাপ কী আছে?”
রুহি হতবাক হয়ে বলে,
“আম্মু, তুমি ভুলে যাচ্ছো… আমার একবার বিয়ে হইছিলো।”
ঠিক তখন আমান এগিয়ে আসে—
“One sec, aunty… এক সেকেন্ড। আমি একটু রুহির সাথে আলাদা কৱে কথা বলতে চাই, please.”
আমানের আব্বু মাথা নেড়ে বলেন,

“হ্যাঁ, তোমরা দু’জন আগে কথা বলো… যাও।”
রুহি এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে সোজা উপর দিকে উঠে যায়।
আমানও তার পিছনেই উঠে যায়।
রুহি রুমে ঢুকে বিছানায় বসে মাথা চেপে ধরে।
আমান আস্তে আস্তে এসে রুহির সামনে দাঁড়ায়।
রুহি: “ভাইয়া, এসব কি? আপনি প্লিজ আপনার বাড়ির লোককে বোঝান।”
আমান: “আমি তোমাকে পছন্দ করি রুহি… তোমাকে বিয়ে করতে চাই।”
রুহি: “কিন্তু আমি চাই না আমি তোমাকে ভাইয়া ভাবি…”
আমান: “কোনো ব্যাপার না। একবার বিয়ে হয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
রুহি মনে মনে ভাবে—এভাবে বোঝানো যাবে না, তাকে কিছু একটা করতেই হবে।
রুহি: “আমি একদিন সময় চাই ভাবার জন্য… প্লিজ আমান ভাইয়া।”
আমান হেসে এগিয়ে এসে রুহির মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
“বেশ দিলাম… তবে কাল থেকে আর ‘ভাইয়া’ বলবে না। কালই আমাদের কাবিন হবে।”
রুহি চুপচাপ মাথা নাড়ে।
আমান রুম থেকে বের হয়ে যায়।

রাত অনেক হয়েছে।
চারপাশের অন্ধকার এমন ঘন হয়ে আছে যেন বাতাসের মধ্যেও ভয় মাখা।
বাড়ির প্রতিটা ঘরে নিস্তব্ধতা—সবার চোঁখে ঘুম নেমে এসেছে।
কিন্তু একজনের চোখে ঘুম নামেনি—রুহি।
রুহির বুকের ভেতরটা কেমন অস্থির।
ফোনটা শক্ত করে হাতের মুঠোয় ধরে সে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ায়।
ওড়নাটা জড়িয়ে নিয়ে দৱজাৱ কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।
সে ধীরে ধীরে লক খুলে দরজা ফাঁক করে, নিঃশব্দে রুম থেকে বের হয়।
সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে—প্রতিটা ধাপ যেন হাজার গুণ ভারী লাগছে।
পায়ের সামান্য শব্দেও সে থেমে যায়, চারদিকে তাকায়, কেউ জেগে আছে কি না দেখে নেয়।
তারপর আবার ধীরে ধীরে এগোতে থাকে।
শেষে মেইন গেট পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
রুহি নিশ্বাস টেনে নেয়—এটা যেন একটা সীমারেখা পার হওয়া।
গেটটা সামান্য ঠেলে রুহি বাইরে বেরিয়ে আসে।
বাড়ির রাস্তাটা অদ্ভুতভাবে ফাঁকা।

দূরে একটা কুকুরের ডাক শোনা যায়,
রুহি দ্রুত পা ফেলে বাড়ি থেকে দূরে যায়।
একটা নির্জন জায়গায় এসে থামে—যেখানে স্ট্রিটলাইটটাও আধাআধি নিভে থাকে সবসময়।
অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা এক মানুষের ছায়া ধরা পড়ে তার চোখে।
এক সেকেন্ডই লাগে চেনা।
রুহি: “এসেছিস… তাহলে?”
সামনে থাকা মানুষটা ধীরে ধীৱে ঘুরে দাঁড়ায়—
চাঁদের ক্ষীণ আলো মুখে পড়তেই দেখা যায় সিমরান।
তার ঠোঁটে ভয়ংকর একটা হাঁসি।
সিমরান: “আমার বেস্টি ডাকছে—আর আমি আসব না?
এটা তো কখনো হতে পারে না, রুহি!”
রুহির ভিতরটা গরম হয়ে ওঠে।
রুহি: “শাট আপ! তোকে বন্ধু বলতে আমার গা গুলায়।
তুই কারো বন্ধু হওয়ার যোগ্যই না।”

সিমরান হেঁসে ওঠে—অন্ধকারে সেই হাসিটা আরও বেশি ভয়ংকর দেখায়।
সিমরান: “ওরে বাবা… তাহলে সব সত্যি জেনে গেছিস?”
রুহির চোখ দুটো চকচক করছে রাগে।
রুহি: “অবশ্যই জেনেছি।
আর শোন—তোদের দুজনকেই আমি নিজের হাতে পুলিশে দেব।
এবার তোদের রক্ষে নেই।”
সিমরান নাক সিঁটকায়, তারপর জোরে জোরে হেঁসে ওঠে।
সিমরান: “পুলিশে দিবি?
সেই অবস্থা থাকবি তো?”
রুহি কিছু বলার আগেই—
তার পেছনে অন্ধকার ভেঙে একটা ছায়া এগিয়ে আসে।
মুহূর্তের মধ্যে দুটো শক্ত হাত রুহির মুখে রুমাল চেপে ধরে।
রুহির চোখ বড় হয়ে ওঠে।
শরীরটা কেমন ঢিলা হয়ে আসে।
শ্বাস নিতে কষ্ট হয়…
মাথা ঘুরতে থাকে।

সে শেষবার দেখল—সিমরান হাঁসছে।
এক মুহূর্ত পরেই রুহির শরীরটা ঢলে পড়ে ।
সিমরান রুহির চুল সরিয়ে ব্যঙ্গ করে বলে—
সিমরান: “চু চু চু … এই নাকি আমাদের পুলিশে দেবে? Nice jokes ।”
অন্ধকার থেকে ধীরে ধীরে আমান বেরিয়ে আসে।
তার চোখে ভয়ংকর ঠাণ্ডা রাগ, ঠোঁটে হালকা বাঁকা হাসি।
আমান: “ভাবছিলাম ওকে কিছুই বুঝতে দেব না।
শান্তিতে বিয়ে করে সংসার করব।
কিন্তু এই মেয়ের সাহস কম না—আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ খুঁজছে!”
সিমরান আমানের কাঁধে মাথা ঠেকায়, যেন সবকিছু ঠিকই চলছে।
সিমরান: “চলো, তোমার ‘বিয়ের খাবার আমাৱ মনটা আনচান আনচান কৱছে।
আমান ঠান্ডা হাঁসে।

mad for you part 24

আমান: “Sure, darling.”
দুজন মিলে অচেতন রুহির দিকে এগিয়ে যায়।
রাতের অন্ধকার আরও গাঢ় হয়ে ওঠে…
শীতল বাতাস বয়ে যায়…
নীচে পড়ে থাকা অচেতন রুহির নিঃশ্বাস পর্যন্ত শোনা যায় না।

mad for you part 26