এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ২
আসিফা খান
অর্ধ লাল চাঁদের স্নিগ্ধ হালকা আলোয় রাঙা আবছা মায়াবী মুখশ্রীর দিকে একবার তাকিয়ে চোখ সরানো অসম্ভব হয়ে পড়লো রিফাত এর।। চোখের পাতা ফেলতে ভুলেই গেলো সে কিছু মুহূর্তের জন্য। এক অদৃশ্য শক্তি তাকে যেনো বাঁধা দিচ্ছে।। স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল আশপাশ জুড়ে।হঠাৎ করেই এরকম অনুভুতির কারণ কি?,,,এক দমকা বাতাস ছুঁয়ে গেলো রিফাত কে কিন্তু তার হেলদোল নেই,,,একই ভাবে তাকিয়ে রইল সে,সেই মায়াবিনীর দিকে।। হুট করেই এক সুপ্ত বাসনা জাগলো মনের অজান্তেই,,,কে এই রমণী?সামনে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ইচ্ছে করলো।
ঘোর কাটল দরজায় টোকার শব্দে।।ভরকে গেল সে,,বিরক্তি নিয়ে রুমের দিকে তাকিয়ে আবারও পাশের ব্যালকনির দিকে তাকালো।দেখলো সেই রমণীর ছায়ামূর্তি নেই। দমকা হাওয়া তাকে কি উড়িয়ে নিয়ে গেলো?এক নিমিষেই কোথায় হারিয়ে গেল?ভাঁজ পড়লো কপালে।
রিফাত চোখ বন্ধ করে পরমুহূর্তেই আবার চট করে খুলে ফেললো।। কিছুক্ষন আগে তার কি হয়েছিল? ওরকম বেহায়ার মত করে তাকিয়ে ছিল কেনো? নিজের উপর রাগ হলো রিফাত এর।। সে যেরোকম ধাঁচের ছেলে সেখানে তার সাথে এরকম আচরণ শোভা পায় না।। যেখানে সে কোনো দিন কোনো মেয়ের দিকে ঘুরে পর্যন্ত তাকায়নি,সেখানে এই ভাবে কোনো নারীর দিকে তাকিয়ে থাকা বেমানান।।রিফাত এর ইচ্ছে করছে,নিজেকেই কয়েকটা কটু কথা শুনাতে।। বিরক্তি রাগ সব এক সাথেই বাসা বেঁধেছে মাথায়।। চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।।
আবারও দরজায় টোকা পড়তেই রিফাত দিয়ে দরজা খুলে দেয়।। আলেয়া হাতে ট্রে নিয়ে দাড়িয়ে আছে।।রিফাত ঠোঁট খানিকটা প্রসারিত করে তাকে রুমে প্রবেশ করতে দেয়।।আলেয়া চঞ্চলতার সাথে রুমে ঢুকে টি – টেবিল এর উপর ট্রে রেখে বলে,,,,”দাদাভাই তোমার খাবার,মা পাঠিয়েছে আর কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমায় বলতে বলেছে।।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
রিফাত আলেয়ার মাথায় টোকা দিয়ে বললো,,”ওকে বুড়ি,,,”
“আহ্ দাদাভাই,,,আর আমার নাম আলেয়া।।আমার নামের সাথে সবার সমস্যা কি? কেও আলু বলে তো কেও বুড়ি আর দাদুর কথা তো আমি বাদই দিলাম।।”
মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে অভিযোগের সুরে কথা গুলো বললো আলেয়া।। রিফাত মুচকি হেসে ফেললো।। যখন সে দেশ ছেড়েছিল তখন আলেয়ার বয়স মাত্র ১২ ছিল,,, সেই ছোটো খাটো আলেয়া আজ অনেকটা বড়ো হয়েগেছে।।রিফাত বিছানার ওপর রাখা লাগেজ খুলে সেখান থেকে চারটে,চার ধরনের চকলেট এর বড়ো বক্স বার করে আলেয়ার সামনে ধরতে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে রিফাত কে জড়িয়ে ধরে বলল,,,”Thank you Dada vai.(বক্স গুলো হাতে নিয়ে আবার বললো) আচ্ছা দাদাভাই একটা প্রশ্ন করি?”
রিফাত মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিতেই আলেয়া উসকুস চিত্তে প্রশ্ন করলো,,,,
“লন্ডনে কি সবাই ইংলিশ বলে?”
রিফাত হেসে মাথা নাড়িয়ে বললো,,,”হ্যাঁ সবাই বলে।।”
“মানে,,,,সবজি ওয়ালা, মাছ ওয়ালা,কাজের মাসি, যারা রাস্তা ঝাড়ু দেয় তারাও ইংলিশে কথা বলে?”
“অবশ্যই,,,,কারণ ইংরেজি তাদের মাতৃ ভাষা,,,যেমন আমাদের মাতৃ ভাষা বাংলা ঠিক তেমনি।।”
রিফাত এর উত্তরে জ্ঞানী ব্যক্তির মত মাথা নাড়ালো আলেয়া।সে সন্তুষ্ট হয়েছে।।রিফাত বোনের দিকে তাকিয়ে হলকা হেসে সোফায় বসল।। ট্রের উপর থেকে প্লেট সরাতে দেখলো,সমস্ত খাবার তার প্রিয়।।কোনো কিছু না ভেবেই খাওয়া শুরু করলো সে।। আলেয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,,,”তুই খেয়েছিস?”
আলেয়া বিস্তার হেসে বলল,,,”হ্যাঁ,,,দাদাই তোমার আর কিছু লাগবে?”
“না,,,রাত অনেক হয়েছে তুই যা,,ঘুমিয়ে পড়।”
আলেয়া ” ঠিক আছে ” বলে চলে যেতে নিলে আবার ঘুরে দাঁড়ায়,,,”দাদাভাই,,,,এই চকলেট গুলো কি সব আমার?”
উপর নিচ মাথা হালকা মাথা নাড়িয়ে ” হ্যাঁ ” বোঝালো রিফাত।।আলেয়া খুশি মনে জিজ্ঞেসু কন্ঠে বলে,,,
“না মানে,,,আমি কি ইয়ানা আপীর সাথে শেয়ার করে খেতে পারি!আপির ও চকলেট ভীষণ প্রিয়।”
ইয়ানা,,, নাম কর্ণ ঘাত হতেই রিফাত এর শরীর জুড়ে এক শিহরণ বয়ে গেলো।। মনে পড়লো চার বছর আগের কার সেই ছোট্ট মায়াবী মুখশ্রী, ডগর আখি,হলদে ফর্সা চেহারায় হাসলে এক গালে টোল পড়ে।। প্রনাউজ্জল স্বভাবের সেই মেয়েটি এখন নিশ্চই কোনো এক তরুণী।।মাথায় আসলো,, যখন থেকেই সে এসেছে,মেয়েটিকে একবার এর জন্যও দেখেনি। কোথায় সে?,,কেমন হয়েছে? তাকে দেখলে কি এখনও চোখ নুইয়ে ফেলবে সেই ছোটো বেলায় মত!নাকি সে তার সামনেই আসতে চায়না।। না আসলে তার কি? আরও ভালই তো,,সেও তো চায়না মেয়েটার মুখোমুখি হতে।দূরত্ব থেকেই ইতি টানতে চায় এই নাম মাত্র সম্পর্কের। পরক্ষণে মনে পড়লো তার পাশের রুমের ব্যালকনির সেই মেয়েটির কথা।না চাইতেও ভাবনার মধ্যে থেকেই রিফাত প্রশ্ন করে বসলো,,,”পাশের রুম টা কার?”
আলেয়া চঞ্চলিত কন্ঠে বলল,,,”পাশের রুম টা ইয়ানা আপির।”
ভরকে গেল রিফাত,,,বুকটা কেমন ধক করে উঠল।।তার বুঝতে আর বাকি থাকলো না যে,তখন যাকে দেখে এক মুহূর্তের জন্য পলক ফেলতে ভুলে গেছিলো সে আর কেউ নয়,ইয়ানা।। তার বৈবাহিক স্ত্রী,,,যাকে সে এখনও পর্যন্ত মেনে নিতে পারেনি আর ভবিষ্যতে পারবে কিনা সেটাও তার অজানা।।যাকে না দেখেই ইতি টানতে চেয়েছিল,,তাকে দেখতেই পলক ফেলতে ভুলে গেছিলো সে!নিজের মন কে বুঝ দিতে চাইছে,,,যা হয়েছে তাহ শুধু মাত্র একটা কুইন্সিডেন্স,,,আর কিছুই না।।
কারোর মায়ায়,ভালোবাসায় দ্বিতীয় বারের মত সিক্ত হতে চায়না সে।এই ভয়ংকর অনুভুতির থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চায়।।কিন্তু আদেও কি তা সম্ভব?
প্রায় পনেরো মিনিট এর বেশি হতে চললো ইয়ানার শরীর কেপেই চলেছে।। বার বার রিফাত এর তাকানোর মুহূর্তের কথা স্মরণে আসছে।। কি গভীর চাহনি ছিল তার। ভাবতেই ইয়ানার শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত উপর দিকে উঠে যাচ্ছে। কেনো যেনো,না চাইতেও একরাশ লজ্জা ঘিরে ধরেছে ইয়ানা কে।। বুকের মধ্যে কেমন ঢিপ ঢিপ আওয়াজ হচ্ছে।।
রিফাত তাকে ভালো ভাবে দেখতে না পেলেও সে সম্পুর্ণ ভাবে দেখেছে রিফাত কে।ভাগ্যিস তার ব্যালকনির লাইট অফ ছিলো।।পুরো পুরি ভাবে রিফাত এর দিকে না তাকালেও কোনা চোখে সবটাই পরখ করেছে সে।রিফাত রুমের দিকে না দেখলে সে হয়তো ব্যালকনিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতো,আর কিছু মিনিট থাকলে।।
দীর্ঘ চার বছর পর লোকটা কে আবার দেখলো।তার ধারণা মতেই রিফাত,আগের থেকে আরো অনেক হ্যান্ডসাম হয়ে গেছে।সুপুরুষ সে আগাগোড়াই ছিল ।৫.৯ ইঞ্চি লম্বা সুঠাম দেহ,সিল্কি চুল,চাপ দাড়ি,গভীর চোখ আর একই গম্ভীর চেহারা।।বিদেশের হওয়া পানি মানুষ কে রূপে বদলায়,গুনে নয়।।ইয়ানা ছোট্ট করে নিশ্বাস ছাড়লো।ভাবতেই কেমন হয় যে ,লোকটা তার স্বামী। শুধুই নামের।।বিয়ের রাতেই সে পাড়ি জমিয়েছিল ভিন দেশের উদ্দেশে। যাওয়ার আগে এক বার ও ফিরে তাকায়নি তার দিকে।।তখন বিয়ে নামক পবিত্র সমকর্কের কথা না জানলেও,,বয়স বাড়ার সঙ্গে এই সম্পর্কের পবিত্রতা আর বন্ধন এর কথা জানতে পারে ইয়ানা।।
রাত গভীর এর সাথে ভাবনা চিন্তা ও গভীর হতে শুরু করেছে।।দুই মানব মানবীর আঁখিতে কখন ঘুম ধরা দিয়েছে টের পায়নি দুইজনে।।
☞পুব আকাশে উঠেছে রবি চাচু।। নারিকেল গাছের আড়াল থেকে ছড়িয়ে দিচ্ছে নিজের উষ্ণতা।। নাম না পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ সাথে বাড়ছে মানুষ জন দের কোলাহল। হয়তো কিছু সময় পরেই পুরোপুরি ভাবে জেগে উঠবে এই ব্যাস্ত শহর।।
পায়ের তলায় নরম কিছুই ছোঁয়া পেতেই ইয়ানা পিটপিট করে চোখ খোলে।পরক্ষণেই ভয়ে ধরফরিয়ে ওঠে।। চাদর সরিয়ে পায়ের দিকে তাকাতেই দেখলো তার পোষা বিড়াল ‘ মিশি ‘।এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে মিশি কে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো। তার নরম শরীরে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে,,,,
” কাল যখন তোকে আমার বেশি প্রয়োজন ছিলো তখন কোথায় ছিলি,,বদমাশ।”
ইয়ানর কথা হয়তো সে বুঝেছে।চোখ খুলে নিজের ভাষায় সাফাই গাইতে লাগলো মিশি।।ইয়ানা মিশি কে নিচে নামিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠতে উঠতে বলে,,” থাক থাক আর সাফাই দিতে হবে না, আমি সব বুঝি। তুমি যে পাশের বাড়ির সেই বিল্লুর প্রেমে পড়েছ তা কি আমি জানি না।।”
বিছানা গুছিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলো ইয়ানা,,,ফ্রেশ হয়ে মাথায় ওড়না টেনে সোজা পা বাড়ালো ছাদের দিকে।।
সকালের ঠান্ডা হাওয়া প্রাণ ভরে নিল ইয়ানা। মাথার কাপড় সরিয়ে দিয়ে তার কোমরের নীচ পর্যন্ত লম্বা চুল ছেড়ে দিল সে।উন্মুক্ত বাতাসে দোল খেতে লাগল তার বাঁধাহীন চুল।।তত্পর এগিয়ে তার পালিত সাদা খরগোশ এর খাচার দরজা খুলে সেখান থেকে একটা খরগোশ তুলে কোলে নিয়ে ছাদের মেঝের উপর বসে পড়ল।। ছাদে ট্যাঙ্কি রাখার নিচের দিকে ফাঁকা জায়গাটায় মিস্টার আফতাব ইয়নার জন্য খরগোশ পোষার জায়গা করে দিয়েছে।।প্রথমে দুটো খরগোশ আর এখন তাদের চারটা বাচ্চা মিলিয়ে মোট ছয় জনের পরিবার তারা।।
“হ্যাল্লো সুগার ক্যান্ডি গুড মর্নিং।। তোমার বউ বাচ্চা সব ঠিক আছে তো,,না থাকলে আমায় বলো কেমন।।তোমাদের সুখী পরিবার দেখতে আমার যে কি ভালো লাগে তাহ বলে বোঝাতে পারবো
না।।”
এরকম নানান রকমের কথা বাচ্চাদের মত বলে চলেছে ইয়ানা তার কোলে থাকা খরগোশ টির পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে।।
কত গুলো পুসআপ দিয়েছে তার কোনো ঠিক নাই,উন্মুক্ত সুঠাম শরীর এর কিছু অংশে ঘাম জমেছে রিফাত এর।। উঠে বোতল থেকে পানি পান করে তাহ থেকে কিছুটা নিজের মুখে ছিটিয়ে নিলো,,,রেলিং এর উপর রাখা তার ওভার সাইজ টি শার্ট গায়ে জড়িয়ে রেলিং ধরে দাড়ালো।। চোখ বন্ধ রেখে কিছুক্ষন ভারী নিশ্বাস ফেললো।।
হঠাৎ কারোর কথা বলার আওয়াজ কানে আসতেই ভ্রু কুঁচকালো।। হাত উঠিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো ৭.৪৫ বাজে। এই সময় আবার ছাদে কে এলো?দেখার জন্য কিছুটা ছাদের অন্য পাশে তাকাতেই রিফাত এর চোখ জোড়া স্থির হয়ে গেলো।। এক নাম না জানা শীতল স্রোত বয়ে গেলো ঘাড় বেয়ে।। ঘিয়া রং এর লং ফ্রক যা নিচে বসার কারনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,লাল রঙের ওড়না টা গায়ে জড়ানো,লম্বা চুল গুলো মেঝেতে শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে।। আপন মনে কথা বলছে আর হাসছে মেয়েটা।কি প্রাণ উজ্জ্বল দৃশ্য দেখছে রিফাত।।আচ্ছা মেয়েটা ইয়ানা না তো?,,,কনফার্ম করতে চোখ ছোট ছোট করে ধির কন্ঠে এক বার ডাকলো” ইয়ানা ” নাম উচ্চারণ করতে মেয়েটি মাথা তুলে এদিক সেদিক তাকিয়ে তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। রিফাত এবার সিওর হলো।।
এদিকে ইয়ানার অবস্থা টাইট।চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে রিফাত এর দিকে। শরির হালকা ভাবে কাপতে ও শুরু করেছে তার।।রিফাত ও তার দিকে কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে।। মুখে পানি ছিটানোর জন্য দাড়ি আর চুলের সামনের কিছু অংশ ভিজে।। ইয়ানা এক ঢোক গিললো।। যার জন্য কাল রাত থেকে রুম থেকে বেরায়নি,,, যার সামনে আসবেনা বলে নিজের সাথে পণ করেছিল,,,এখন সেই কঙ্কিত মানুষটাই তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।।
রিফাত এর ঘোর কাটে ইয়ানার হিচকি দেওয়ার শব্দে।। তৎক্ষণাৎ হালকা কাশি দিয়ে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে সে।। নিজের উপর প্রচুর পরিমাণে রাগ হচ্ছে রিফাত এর।। ঘনো প্রশ্বাস ছেড়ে আড় চোখে ইয়ানার দিকে তাকায়।মেয়েটা এখনও তার দিকে বড়ো বড়ো চোখে দিকেই তাকিয়ে হিচকী তুলছে,,তার তাকানো দেখেই চোখ নামিয়ে নিলো।।
প্রচণ্ড ভয় পেলে,ঘাবড়িয়ে গেলে বা এক্সসাইটেড হলে ইয়ানার এরকম হিচকি ওঠে যা রিফাত এর জানা।এটা ইয়ানার ছোটবেলার অভ্যেস।তবে কি ইয়ানা রিফাত কে দেখে ভয় পেলো নাকি অন্য কিছু? ভাবলো রিফাত।।
রিফাত ইয়ানার সান্নিধ্যে গিয়ে তার হাতে থাকা পানির বোতল টা এগিয়ে দিল তার দিকে।। এক পলক রিফাত এর দিকে তাকিয়ে ঝট করে পানির বোতল নিয়ে পানি খেতে লাগলো ইয়ানা।
এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১
কিছুটা পানি ঠোঁটের কোন বেয়ে গলা থেকে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে, যা দেখে রিফাত অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। সময় ব্যায় না করে ছাদ থেকে নিচে নেমে গেলো সে।। আর ইয়ানা অবাক হয়ে চেয়ে রইলো রিফাত এর যাওয়ার দিকে ।।
হালকা পানির জন্ম নিল চোখের কোনে।চার বছর পর তাকে দেখে কথা পর্যন্ত বললো না রিফাত।রিফাত যেনো এক অদ্ভুত যন্ত্রণা দিয়ে গেলো ইয়ানার মন মাঝারে।।
