এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১২
আসিফা খান
উদাসীন মনে নিঃশব্দে নোনা জল গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে।। মনে পড়লো প্রায় দুই বছর আগেরকার কথা। ইব্রাহিম সাহেব একদিন হুট করেই ভিডিও কল করে বসে রিফাত কে,,,আর তাঁর পাশেই বসে ছিল ইয়ানা ও।। রিফাত কল রিসিভ করে টুকি টাকি কথা বলার মাঝেই রিফাত এর এক বন্ধু ইয়ানা কে লক্ষ্য করে জিজ্ঞাসা করে,,,
“Hayy Rifat,,,who is she ?”
রিফাত খুবই স্বাভাবিক ভাবে,,সব সময়ের মত গম্ভীর স্বরে উত্তর দিয়েছিল,,,”She is cousin,,,Not very important.”
তখন এই কথার মধ্যে থাকা অবহেলা ইয়ানা বুঝতে না পারলেও এখন তাহ ঠিকই উপলব্ধি করতে পারে সে।। ঠুনকো এই সম্পর্কের মেয়াদ রিফাত শেষ করার আগে সে শেষ করে ফেলবে।। কিন্তু ওই যে মন মাঝারে বেসামাল অনুভূতি সেটা কিভাবে শেষ করবে?
এদিকে রিফাত পায়চারি করছে রুমের এমাথা থেকে ওমাথা। কিছুতেই নিজেকে শান্ত রাখতে পারছে না। মেয়েটার দুরূহ চাহনি , কঠিন শব্দ রিফাত মানতে নারাজ। ওই লৌহমানবি, শক্ত ভাষী ইয়ানা কে সে চেনেনা,,,নাকি পরিস্থিতির বসে নিজের কঠিন দেখানোর চেষ্টা মাত্র।। এরই মধ্যে দরজায় টোকা পড়লো,,বাহিরে দাড়ানো আফতাব সাহেব এর কন্ঠ ভেসে আসলো,,,
“রিফাত,,,রুমে আছো?”
“জ্বী,,,,আসুন।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
রিফাত এর অনুমতি পেয়ে আফতাব সাহেব রুমে প্রবেশ করলো।। এক বাড়িতে থেকেও তাদের দূরত্ব আকাশ ও জমিন এর ন্যায়। বাপ ছেলের দেখা প্রায় সপ্তাহ খানেক পর।,, আফতাব সাহেব মনে মনেই সূক্ষ্ম দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। ছেলেটার সাথে দূরত্বের কারণ হিসাবে,নিজের অবিচার বেশি খুজে পেলেন তিনি।।
“তোমায় তো আর বাড়িতে দেখাই যায় না রিফাত। সকালে নাস্তার টেবিলেও না,আর না রাতের ডিনার এর সময়।। এই ভাবে ব্যাস্ত সময় পার করলে শরীর খারাপ করবে তো!”
নিজের বাবার এরকম সম্বন্ধসূচক কথা শুনে রিফাত মাথা তুলে তাকালো।। বাবার দিকে যে কত দিন পর তার নজর পড়েছে তাহ হাতে গোনার বাহিরে।। ভালোবাসা যেনো অভিমান এর কাছে হেরে গেল,,,শুকনো ঢুক গিলে নজর কার্নিশে রেখে তাচ্ছিল্যতার সংগে বললো,,,
“কি অদ্ভুত না? হৃৎ রোগের ডাক্তার আমি,,,আর আমার শরীর খারাপ এর কথা এক ব্যাবসায়ী মানুষ বলছে।। যার কিনা আমায় নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথাই ছিলো না,,,কোনো দিনই।।”
“রিফাত,,,,,,,!”
বাবার কথা অগ্রাহ্য করে রিফাত আবারও বললো,,,
“প্রয়োজনে পাশে পাইনি তাকে,,,শুধু নানান সম্পর্ক , সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলো আমার মাথায়।। বাচ্চা ছেলেটার পাশে দাঁড়ানোর বদলে ব্যস্ত ছিল তখন নিজের নতুন জীবন শুরু করতে।।যাইহোক,,,,যা বলার জন্য এসেছেন,,,বলে ফেলুন।”
ছেলের এরকম বেদনামূলক কথা শুনে আফতাব সাহেবের বুক কেঁপে উঠল।। ভাষা খুঁজে পেল না ছেলের কথার বদলে কোন উত্তর দিতে।। তাই নিজের দুঃখ সংগোপনে ঢোক গিলে ফেলল।। হাতে থাকা কাগজ টা টি- টেবিল এর ওপর রেখে বলল,,,
“তোমার আর ইয়ানার রেজিস্ট্রি পেপার।। আমি জানি তোমাদের সম্পর্ক টা বেশি দুর এগায়নি। কিন্তু আমি বলবো,,সম্পর্কটাকে একটা সুযোগ দিয়ে দেখো। বিয়ে টা যে ভাবেই হোক না কেনো,,,তোমার বিবাহের এক অটুট ও পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ।। শরীয়ত মোতাবেক তোমাদের জীবন এক।। আমার বিশ্বাস ইয়ানা তোমায় কোনো দিন নিরাশ করবে না।। মেয়েটাকে তুমি ছোট্ট থেকে নিজের চোখের সামনে দেখেছো,,,আশা করি তোমায় নতুন করে কিছু বোঝাতে লাগবে না।। জন্মের আগেই বাবা হারিয়েছে,,, আমি চাইনা সম্পর্ক এগানোর আগেই সে নিজের স্বামী ও হারাক।। তোমার চোখে আমি একটা ভালো বাবা হতে পারিনি। কিন্তু রিফাত আমার মিনতি,,, ইয়ানার সামনে আমাকে একটা ভালো শ্বশুর হওয়ার সুযোগ দিও।।”
কথাটি বলেই আর দাড়ালেন না আফতাব সাহেব।। এদিকে নিস্তব্ধ হয়ে থাকলো রিফাত। গলা ভারী হয়ে এলো। অনিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল টি – টেবিলে রাখা রেজিস্ট্রি পেপার এর উপর।
নিজের রুমের চিয়ারে মাথায় হাত দিয়ে আফতাব সাহেব কে বসে থাকতে দেখে ব্যাকুল বেগে ছুটে এলো আসফিয়া।। মন টা দুরদুর করছে,,,আফতাব সাহেব এর কাধে হাত রেখে অস্থির কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো,,,
“এই ভাবে বসে আছো কেনো ? শরীর কি খারাপ লাগছে? আজ অফিস যেতে হবে না।। কিছু বল!”
আফতাব সাহেব মাথা তুললেন। আসফিয়া এবার মনে হয় কেঁদে দিল বলে,,,এই মহিলাটার মন ভীষণ নরম,,,মায়ার মোড়ানো।। রিফাত এর মা দুনিয়া ছাড়ার প্রায় নয় মাস পর তিনি আসফিয়া কে বিয়ে করেন। নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে,,পরিবার এর চাপে। তাদের কথা মতে রিফাত এর একটা মা প্রয়োজন।।,,,সময় পারলে আফতাব সাহেব উপলব্ধি করতে পারে তিনি সত্যি একটা বিস্ময়কর ভালো জীবন সঙ্গী পেয়েছেন,,,কিন্তু এর বদলে তিনি হারিয়ে ফেলেছেন তার ছেলে কে।।
“আসফু,,,,আমি মনে হয় আমার ছেলে কে তৃতীয় বারের মতো হারিয়ে ফেলবো।।”
মিস্টার আফতাবের কম্পনরত গলার স্বর আসফিয়া কেও কপিয়ে তোলে।। অতঃপর আফতাব সাহেব এর হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আশ্বাস কণ্ঠে বলে,,,”চিন্তা করবেন না সব ঠিক হয়ে যাবে।। যখন রিফাত নিজেকে ইয়ানার সাথে অত্যাধিক সুখী দেখবে ,,,তখন সে বুঝতে পারবে তার বাবা আর তার দাদু নেওয়া সিদ্ধান্ত তার জন্য অমঙ্গল ছিল না।।”
সন্ধ্যায় হাতে মিষ্টি নিয়ে হাজির হাফিজ আর হাফিজের মা হাফজা।। আজ বাড়িতে সবাই অবস্থিত।। আলেয়া হাতে খাতা নিয়ে সোফার এক কোণে বসে পড়ছে,,,ইয়ানা আসফিয়া আর ইয়াসমিন বেগম এর সঙ্গে কিচেন এ নাস্তায় সাহায্য করছে। রিফাত ড্রইং রুমের কোণে সিঙ্গেল সোফায় ল্যাপটপ নিয়ে কাজে ব্যাস্ত।। আফতাব মিয়া আর ইব্রাহিম সাহেব এটা সেটা নিয়ে কথা বলছে।। এই সবের মধ্যে হাফিজ আর হাফজা প্রবেশ করলো,,,তাদের দেখেই ছুটে এলো আসফিয়া।। দুই জা এর মিল যেনো দুই বোনের মত।। খুসল বিনিময় করলো দুইজনেই।। ইয়াসমিন বেগম ও ইয়ানা ও ভালো মন্দ জিজ্ঞাসা করলো।। তত্পর সবাই কে মিষ্টি মুখ করিয়ে জানালো হাফিজ এর চাকরি হয়েছে। সবাই অত্যন্ত খুশি হলো।। রিফাত হাফিজ কে জড়িয়ে ধরে শুভকামনা জানালো।। আফতাব সাহেব হাফিজ কে কাজের বিষয়ে না না প্রশ্ন করলো,,, পোস্ট? সেলারি? আরো নানান বিষয়। হাফিজ সমস্ত কিছু চাচা কে বুঝিয়ে বললো,,,তাতে আফতাব সাহেব সন্তুষ্ট হলেন।
হাফিজ এবার ইব্রাহিম সাহেব এর পাশে বসে ইব্রাহিম সাহেবের দাড়ির মাঝে আঙ্গুল চালিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,,,,”হ্যান্ডসাম,,,কেমন আছো।। দিন যাওয়ার সাথে সাথে আরো বেশি ইয়াং হয়ে যাচ্ছ যে,,,ব্যাপার কি। দাদী কি স্বপ্নে এসে চুমু দিয়ে যায়!”
হাফিজ এর কথা সবাই হেসে উঠলো। দাদু নিজের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে হাফিজ এর বাহুতে মেরে বললো,,,
“যা,,, ব্যাটা।,,,দাদুর খোঁজ নেওয়ার সময় হয়না তো একটুও।। কখন যে আল্লাহর ডাক আসে,,,”
“ছিঃ ছিঃ ছিঃ,,,দাদু এরকম কথা মুখেও আনে না।,,আমার সন্তানের বাচ্চার বিয়ে দেখা বাকি এখনও তোমার। আর তুমি কিনা যাওয়ার কথা বলছো।।,, বদনা,, ওহ্ সরি বেদনা পেলাম।”
“হতচ্ছাড়া,,,আগে বিয়ে কর তারপর তো তোর বাচ্চাকাচ্চার বাচ্চাকে দেখতে পাবো।। এই জরিনা ,,যা তো আমার রুম থেকে আমার ডায়েরি টা নিয়ে আয়,,,ওখানে কটা মেয়েদের নম্বর আছে,,,হাফিজ এর সাথে বেশ মানাবে।”
আলেয়া ভ্রু কুঁচকে তাকালো দাদুর দিকে।,,, মানে কি,,, মেয়ে গুলোর নাম্বার কি হাফিজ এর চাকুরী পাওয়ার অপেক্ষায় রেখেছিল।। তার উপর নামের পিন্ডি দিয়ে আবার কাজ বলছে,,,যাবে না সে।। আলেয়া আঁটসাঁট হয়ে বসে থাকল সোফার কোনটায়,, এমন ভান করল যেন সে দাদুর কথা শুনতে পাইনি। এরই মাঝে আলেয়ার দিকে তাকিয়ে দাদু আবারো বলে উঠলো,,,”কি রে হালিমা,,,যাবি তো।”
এবার মাথাটা গরম হয়ে গেল আলেয়ার।।,,, তেতে উঠে বললো,,,”সব মেয়েদের নম্বর তোমার কাছে যখন আছে ,,তখন তুমিই তো একটা বিয়ে করে নিতে পারো নাকি। ডায়েরি তো নয় যেন shaadi.com অ্যাপ,,, বলিকি আমাদের জন্য একটা স্মার্ট দাদী নিয়ে আসলেই তো পারো।”
আলেয়ার কথায় পুরো ড্রইং রুমে হাসির রোল পড়ে গেলো। দূরে বসা রিফাত ও না চাইতেও হেসে দিলো,,,জোরে নয় ঠোঁট চেপে।। ইয়ানা দূরে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে রিফাত এর দিকে তাকালো,,,লোকটা হাসছে। চাঁদ নিশ্চই আজ নিজের পথ ভুলেছে।।হাসির এক পর্যায়ে হাফিজ দাদুর উদ্দেশ্যে বললো,,,
“চিন্তা নেই দাদু সময় হলে বিয়ে করে নেবো,,,মেয়ে আমার দেখা আছে,,,শুধু সে হ্যাঁ বললেই হয়।”
হাফিজ এর কথায়,,, হাফজা বেগম আসফিয়ার সাথে কথা থামিয়ে,,, হাফিজের দিকে বিস্ফোরিত চোখে তাকায়,,, শুধু তিনি নয়, ড্রয়িং রুমে বসে থাকা সমস্ত সদস্যের চোখ এখন হাফিজের দিকে।। হাফজা বেগম অবাক স্বরে বলে,,,
“বাবু তুই প্রেম করছিস?”
হাফিজ একদম ভোরকে যায়,,, তার মা তো ফিল্ম শুরু হওয়ার আগেই ক্লাইম্যাক্স দেখিয়ে দিচ্ছে,,,নার্ভাস হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে বলে,,,”আরে মা,,,তুমিও না। আমি বলেছি একটা মেয়ে আমার দেখা আছে,,,, আমি প্রেম করছি এটা আমি কখন বললাম?”
“কে,,,মেয়ে টা?”
আসফিয়ার প্রশ্নে হাফিজ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। মনে মনে নিজেকে ঝাড়ি দিয়ে বলে,,’ কি উত্তর দিবি এবার,,মেয়ে আর কেও না বড়মা,,,তোমারই মেয়ে আলেয়া।’ মনে মনে নিজের গুষ্টি উদ্ধার করে মুখে আমতা আমতা স্বরে বলে,,,
“ওটা সিক্রেট,,,সময় আসলে বলবো।”
হাফিজ কে আর কেউ ঘাটে না। আজ কালগার ছেলে মেয়ে উভয়েই অনেক অ্যাডভান্স,,,নিজের জীবনের সাথে খারাপ ডিসিশন নেবে তাহ বিশ্বাস সবার।।সবাই সবার মত ব্যাস্ত হওয়ার পর,,হাফিজ গিয়ে বসে আলেয়ার পাশে,,,জিজ্ঞাসা করে,,,
“পড়া শুনার কি খবর?”
“পড়াশুনার ফোন নম্বর নেই আমার কাছে,,,তাই তার খবর জানি না,,,”
“আরে পরীক্ষার কথা জিজ্ঞাসা করছি।”
“তো পরীক্ষার কথা পরীক্ষাকেই জিজ্ঞাসা কর,,,আমার সাথে তার দেখা হয়নি অনেক দিন,,,
খবর বলবো কেমনে! আবার তার সাথে আমার সম্পর্ক খুব একটা ভালো না।”
আলেয়ার সিরিয়াস ভাবে এরকম আবল তাবোল উত্তরে হাফিজ ভরকে যায়। মাথায় হাত দিয়ে অবাক হয়ে বলে,,,,”হায় হায়,,,আল্লাহ,,,,পরীক্ষার চাপে পাগল হয়ে গেলি নাকি,,,, ইসস বেচারি কম বয়সে মেন্টাল রোগী হয়ে গেলি।সমবেদনা জানাই আন্তরিক ভাবে।”
আলেয়া আবার উঠে দাড়ালো,, হাতে থাকা খাতা দিয়ে পর পর বাড়ী মারলো হাফিজ এর বুকে। তারপর হন হন করে হেঁটে উপরে চলে গেল। হাফিজ বুকে হাত দিয়ে হেসে ফেললো,,,
“উফফ,,,আমি শেষ।”
রত প্রায় এগারোটা বেজে দশ। ঠান্ডা বেড়েছে প্রবল ,,,হাফিজ এবং হাফজা কে রাতে না খেইয়ে পাঠাতে অমত পোষণ করেন আসফিয়া। তাই তারা রাত্রে ডিনার করেই বাড়ি ফিরে যায়।।,,নানান কাজে ব্যাস্ত সময় পার করে রুমে আসে ইয়ানা। ফ্রেশ হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলেও ঘুম আসছে না তার।।,,,একাকী সময় কাটাতে ব্যালকনি তে দাড়ায়। থালার মত চাঁদ ধীরে ধীরে আবারও ফুটিয়ে আসছে।। কিন্তু ইয়ানার কাছে চাঁদ সমস্ত রূপেই ভালো লাগে,,,এক কথায় চাদ তার একাকী কালের বন্ধু।।,,,হঠাৎই ইয়ানার মন খারাপ হলো,,,১৯ বছর বয়সেই নিজেকে এমন পরিস্থতিতে পাবে তাহ ধারণার বাহিরে ছিল।।,,গলা ভারী হয়ে এলো,,,আকাশের দিকে তাকিয়ে আপন মনেই বললো,,,
এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১১
“বাবা ছাড়া পৃথিবী টা বড়ই কঠিন। এই কঠোর পৃথিবীতে কেও কারোর নয়।,,,আমি যে বড়ই একা আব্বু,,,জন্মের আগেই তোমায় হারিয়েছি তো কি?,,আমাদের তো আত্মার সম্পর্ক।।,, যানো,,মাঝে মধ্যেই ভয় হয়,,,আমার শেষ সম্বল,,,মাম্মা যদি আমার হাত ছেড়ে দেয় তোমার মত তাহলে ত আমি শেষ আব্বু,,,আমার আর কেও থাকবে না তাহলে। তখন আমি দয়ার পাত্রী হয়ে যাবো,,, আশ্রিতার নাম পাবো।। ভালোবাসা হীনা জীবন মৃত্যুর থেকেও কঠিন।”
রিফাত এর অস্থির লাগছিল,,চোখের পাতা এক করতে না পারায় হাতে সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার নিয়ে ব্যালকনিতে পা দেয়ার আগেই ইয়ানার গলার আওয়াজ শুনে থেমে যায়,,,পা বাড়ালো না আর। থমকে দাড়িয়ে শুনে ফেলে ইয়ানার প্রতিটা বাক্য।।,,বুক ধক করে উঠল,,,অস্থির ভাব টা বাড়লো,,, ঘাড় বেয়ে বয়ে গেলো এক শিহরণ।
