এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৪
আসিফা খান
ঘড়িতে তখন আড়াই টা। চারিদিকে নিস্তব্ধতা বিরাজ করেছে।আকাশের বৃহৎ চাঁদ নিজের স্নিগ্ধ শুভ্রতা ছড়িয়ে দিয়েছে ধরণীতে।। রিফাত এর এক হাত নিজের বুকের সাথে দৃঢ় ভাবে জড়িয়ে নিয়ে ঘুম সাগরে ডুবে আছে ইয়ানা। মাঝে মধ্যে কেপে উঠছে তীব্র জ্বরের কারণে।মাথায় রাখা জ্বর পট্টি টা নিয়ে পানি ভর্তি ছোট্ট বাটিতে চুবিয়ে আবার ও ইয়ানার মাথায় রাখলো রিফাত।সবার অগোচরে মেয়েটাকে নিজের রুমে এসে শুইয়ে দিতেই মেয়েটা গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে যায়।।
রিফাত তাকালো ইয়ানার ঘুমন্ত মুখের দিকে। মনে পড়লো মেয়েটা বলেছিল,,,রিফাত এর রুমে প্রবেশ করার রুচিও তার নেই,,,আর এখন রিফাত এর হাত জড়িয়ে তারই রুমে কেমন আরামে ঘুমাচ্ছে।।
কপালে হাত রেখে দেখলো জ্বর আগের তুলনায় অনেক টা কম,,,রুদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল রিফাত।। এতক্ষণ ধরে মনের মধ্যে চলমান ভয়টা কিছুটা কমে এলো।। মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে সংগোপনে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলেই ইয়ানা আরো শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে রিফাত এর হাত।। রিফাত এবার ঘামতে শুরু করে,এই ঠান্ডার মাঝেও। শরীরে পুলক অনুভব করে।এদিক ওদিক তাকিয়ে নিজেকে সামলে রাখতে চেষ্টা করে।।,,কোনরকম নিজের হাত ছাড়িয়ে, বেড সাইড টেবিল এর ড্রয়ার থেকে সিগারেট এর প্যাকেট নিয়ে সোজা ব্যালকনিতে চলে যায়।
মনের মধ্যে ঝড় বইছে রিফাত এর। রেলিং এ নিজের হাত শক্ত করে চেপে ধরে।,,রাগ,উত্তেজনা নির্বিশেষে ইয়ানার বিদ্ধস্থ চেহারা,,,সব মিলিয়ে এক লৌহমানবের রঙ ধারণ করেছে সে।।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
তখন মেয়েটাকে দেখে রিফাত এর বুক কেঁপে উঠেছিল,মনে হচ্ছিল যেন তার বুকের ওপর কেউ ভারী পাথর চাপিয়ে দিয়েছে।অস্থির হয়ে ইয়ানা কে পিছন থেকে নিজের সম্মুখে দাড় করাতেই রিফাত এর অন্তর আত্মা কেপে ওঠে,,, ভয়ার্ত,ভামার্ত মুখ, করুন চোখ, কম্পনরত ঠোঁট,,বিষাদ মিশানো নিঃশ্বাস,,,মাথার কাছে হিজাবটা ছিঁড়ে গিয়েছে কিছুটা,,জামার হাতা কিছুটা ছেড়া,,মনে হচ্ছে কেও সেচ্ছায় টান দিয়েছে।রিফাত নিজের আওয়াজ যেনো হারিয়ে ফেলে,,,শব্দ দলা পাকিয়ে আটকা পড়েছে।চারিদের বাতাস যেনো অদ্ভুত রকমের ভারী হয়ে উঠেছে।।,, রিফাত এর দিকে তাকিয়ে হ্ন হ্ন করে ডুকরে কেঁদে ওঠে ইয়ানা,,,সময় ব্যায় না করে রিফাত এর বুকের সাথে নিজেকে মিশিয়ে নেয়।,,,রিফাত নিজের কাপা হাত ইয়ানার মাথায় রেখে অত্যাধিক অদূরে কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে,,,,
“ইয়ানা,,,”
নাম টা উচ্চারণ করতে সময় লাগলেও ইয়ানার কান্নারত কণ্ঠ রিফাত এর কানে আসতে দেরি হয়নি,,,মেয়েটা উন্মাদের মত আড়াতে থাকে,,,
“আমায়,,,আমায় লুকিয়ে ফেলুন,,,সে আমায় ছুঁয়ে দেবে,,খুব খারাপ ভেবে,,,বিষাক্ত মানুষ সে,,,আমায় ছাড়বেন না আপনি,,নাহলে ও চলে আসবে। আমাকে বাঁচান,,,সেই জমঘন্য স্পর্শ থেকে।,, দয়া করে কোথাও যাবেন না আমাকে ছেড়ে,,,।”
রিফাত এর সর্বাঙ্গ শিহরিত হয়ে জমে গেলো যেনো,,, ইয়ানার এক একটা বাক্য তার কর্ণ সীমানায় তীরের মত গিধলো,,,বুকের মধ্যে দ্রিম দ্রিম শব্দ হচ্ছে,,,গলার মাঝে যেনো কাটা বিধে গেছে,, ভাঁজ যুক্ত কপাল ঘেমে একাকার,,,কোনো রকম ঠোঁট নাড়িয়ে বললো,,,
“কে?,,,কে তোমায় ছুঁ*”
কথা শেষ করতে পড়লো না রিফাত,,,বুক থেকে মাথা তুলে ইয়ানা অনুভূতি শূন্য, বিকৃতমস্তিষ্ক এর সাথে নিজের বহু,কাধ আর কোমরে হাত দিয়ে দেখাতে দেখাতে বলে,,,”এখানে,এখানে,এখানে,,,,”
“শুউউউ,,,চুপ।”
রিফাত এর আর বুঝতে বাকি থাকে না ইয়ানা কি বলতে চাইছে।,,,ইয়ানা কে টেনে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো,,,চোয়াল শক্ত করে ইয়ানার মাথা চেপে ধরলো বুকের বা পাশে,,,প্রলয় এর হাওয়া বয়ে গেলো,,মেয়েটা বুকে মিশে না থাকলে ধিংশ লীলা চালাতো এই ছেলে।।,,,রক্তিম চোখ, টান টান শরীর ,ক্ষিপ্ত মস্তিষ্কের সাথে জোরালো কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো,,,”কোথায় সে?,,চলো আমার সাথে।”
বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা দিল না,,রিফাত কেপে উঠল।,, ইয়ানার মাথা থেকে হাত সরিয়ে দিতেই মেয়েটা কাত হয়ে পড়ল সঙ্গে সঙ্গে ইয়ানাকে কোলে তুলে নিলো,,,নিথর ইয়ানা,,লেপ্টে আছে তার স্বামীর শরীরের সাথে।।,,,গাড়িতে শুইয়ে শুধু দাদু কে ফোন করে জানিয়ে দিলো,,ইয়ানা তার সাথেই আছে,চিন্তার বিষয় নেই।।,,দাদুর পাল্টা প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়েই কল কাটলো রিফাত।।,,বাড়ি প্রবেশ করেই নিজের রুমে শুইয়ে দিতেই বুঝতে পারলো জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে মেয়েটার।,,,সমস্ত রাগ এসে পড়ল নিজের উপর,,মেয়েটার খেয়াল রাখতে সক্ষম হলো না সে,, দীক্ষার দিলো নিজেকে।।
ভাইব্রেট রত ফোন পকেট থেকে বের করে হাতে থাকা জ্বলন্ত সিগারেট লম্বা একটা টান দিয়ে নিচে ফেলে দিল,,,তত্পর ফোন রিসিভ করে কানে ঘরতেই অপর পাশের মানুষটি আমতা আমতা করে বলল,,,”স্যার,,,, সেকেন্ড করিডোরের সিসি ক্যামেরা এক্টিভ ছিল না,,,আর অন্যান্য ক্যামেরা ফুটেজ দেখেছি,,,,সেখানে সন্দেহ জনক কিছুই খুজে পাই নাই স্যার।”
রিফাত এর রাগ এবার তুঙ্গে উঠেছে,,,জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলে দাতে দাঁত পিষে বলে,,,”ইউজ লেজ ফেলও,,,।”
আরো অনেক কিছু বলতে চাইলো রিফাত,,,কিন্তু এখন তার রাগ সংবরণ করতে হবে।,,,ফোন কেটে পকেটে পুরে নিল,,,অন্য সময় হলে এই ফোন এতক্ষণে ফ্লোরে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে থাকত। অসহায়ত্বের কাছে যেনো আত্মসমর্পণ করেছে রিফাত,,,সময় তার সঙ্গ অবলম্বি নয়।।,,,নিষ্প্রভ দৃষ্টি মেললো পাশের বারান্দায়,,,ফুলের সমাহার এর দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে উঠলো,,,”তোমাদের ইয়ানা ভালো নেই,সে তো আজ আমাকেও ব্যর্থ করে দিয়েছে।”
রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে তাকালো আকাশ পানে,,,মনে পড়লো একটা আয়াত ‘ আকাশের দিকে তোমার বারবার তাকানোকে আমি অবশ্যই লক্ষ্য করি ‘,,,,চোখ বন্ধ করলো রিফাত,,দুয়া চাইলো সেই পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে,,,যিনি কিনা কখনোই তাকে ফিরিয়ে দেবেন না।
রুমের মধ্যে থেকে গোঙরানির আওয়াজ পেয়ে ধ্যান ভাঙলো রিফাত এর।ঝটপট বারান্দা পেরিয়ে রুমে প্রবেশ করলো।। মেয়েটা বিছানা হাতড়াচ্ছে,, পাশে কাওকে না পেয়ে ঘুমের মধ্যে ভয় পাচ্ছে মেয়েটা। রিফাত ঘাবড়ালো, বিক্ষিপ্তচিত্তে বিছনায় বসে ইয়ানার মাথায় হাত রাখতেই, ইয়ানা খপ করে ধরে নেয় রিফাত এর হাত,,,বির বির করে বলে,,,”কোথাও যাবেন না,,,আমার পাশেই থাকুন,,,নাহলে ও আবার চলে আসবে।”
রিফাত অনুভূতিহীন হয়ে তাকিয়ে রইল ইয়ানার পানে।।,,, ঘুমন্ত ইয়ানার কপালে গভীর ঠোঁটের ছোঁয়া দিলো,,,মাথা নিচু করে মেয়েটির কপালে কপাল ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো রিফাত।।
ইয়ানার উষ্ণ শরীর, গরম নিঃশ্বাস রিফাতকে ভেতর দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে ।। কি এক ভরসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মেয়েটা রিফাতের দিকে।,,, এই ভরসা ,এই বিশ্বাস ,এই নিষ্ঠাকে রিফাত কোনভাবেই উপেক্ষা করতে পারছে না।।,, কোন এক অদৃশ্য অনুভূতির মায়াজালে আটকা পড়ছে রিফাতের হৃদয়,, যে হৃদয় এ রিফাত কোনদিন এই মেয়েটা কে জায়গা দেবে না বলে পন করেছিল,,, সেই প্রতীজ্ঞা কে আজ রিফাত যেন নিজের হাতে দুমড়ে মুছরে ফেলে দিয়েছে।।,,, রিফাত উপলব্ধি করতে পারছে যে সে আটকা পড়েছে কোন এক কোন এক অনুরাগের বন্ধনে।
কোনো কিছু না ভেবেই ইয়ানা কে নিজের বুকের মাঝে জড়িয়ে নিলো। আদর মাখা স্পর্শে মাথায় হাত বুলাতে লাগলো,,, আহ্লাদ পেয়ে ইয়ানা আরো বেশি শক্ত করে জড়িয়ে নিলো রিফাত কে।।,,,এই প্রথম কোনো নারীর এত কাছাকাছি রিফাত,,, আর তার ওপর নারীটা তার বিবাহিত স্ত্রী।,, যুবক বয়সের কিছু বেসামাল ইচ্ছে প্রকাশ পেতে চাইছে,,,কিন্তু রিফাত সেই ইচ্ছে গুলোকে সুন্দর ভাবে ধামা চাপা দিয়েছে।,,,মেয়েটা জাগ্রত অবস্থায় থাকলে হয়তো কখনোই তার এত কাছে আসতো না।। আজ আকাশের সেই শুভ্র চাঁদ আর তার জোছনা সাক্ষী হিসেবে রইল এই দুই নরনারির সান্নিধ্যে আসার।
রাতের আঁধার পেরিয়ে সূর্য মামা উকি দিয়েছে।।,,,
ধরণীর বুকে শুরু হয়েছে কোলাহল,,,নিজ নিজ জীবন যাত্রায় ব্যাস্ত সবাই। পাখিদের মত আবারও আপন নীড়ে ফিরে আসবে দিন শেষে।।,,,
শরীর টনটনে ব্যাথা,,,মাথা বেজায় ভারী।। কোনরকম বিছানা ছেড়ে উঠে বসে ইয়ানা।,,,চোখ পিটপিট করে এদিক সেদিক তাকাতেই ভরকে গেল মেয়েটা। চোখ মুখ কুচকে ফেললো। সে যে এখন রিফাত এর রুমের বিছানায় বসে আছে তা উপলব্ধি হতেই চোখ কপালে উঠে যায় তার।,, নিজের দিকে ভালোভাবে তাকাতেই দেখলো কালকের সেই নীল গাউনটাই তার পরনে,, শুধু মাথায় হিজাবটা নেই।।
নিজের রুমে যাবে বলে বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো,,,এক দুই পা হাঁটতেই,নিজের ভর হারিয়ে পরে যেতে নিলেই কোনো এক শক্ত হাত তার কোমর জড়িয়ে ধরে। ইয়ানাও পড়ে যাওয়ার ভয়ে সামনের মানুষটার বুকের কাছে কাপড় টেনে ধরে।।
সামনের মানুষ টির দিকে তাকাতেই দেখলো ওটা আর কেউ না রিফাত।।
ইয়ানা কে ধরে রিফাত বিছানায় বসায়,,,এক হাতে থাকা খাবারের প্লেট টেবিলের উপর রেখে ডান হাতের উল্টে ইয়ানার কপালে ঠেকায়,,, কৃয়ৎকাল পরখ করে সস্থির শাস ফেলে,,, এক ধমক দেয় ইয়ানা কে।,,
“এই স্টুপিড,,,সবুর নেই!,,, এখনই তো পড়ে যাচ্ছিলে।,,,শরীরে জোর নেই কিন্তু জেদ অনড়।,,,কোথায় যাচ্ছিলে?”
ইয়ানা মাথা নিচু করে বললো,,”আমার রুমে।”
“কোথায় যাওয়া হবে না,,,যাও ফ্রেশ হয়ে আসো।,,গোসল করবে।”
ইয়ানা চকিত চাহনি নিয়ে তাকালো রিফাত এর দিকে। ভীত নজরে একবার চোখ বুলালো নিজের দিকে সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকার সত্ত্বেও অশান্ত মন হয়ে উঠলো,,বুক ধড়পড় করছে।,,,ছেলেটা তাকে সকাল সকাল গোসল করতে বলছে কেনো?,,, জোরে নিঃশ্বাস ছাড়লো কয়েকবার,,সাথে শুকনো ঢুক গিললো।,,,এরই মধ্যে দরজায় এসে হাজির হলো আলেয়া,,, হাতে ইয়ানার জামা কাপর।,রিফাত আলেয়ার কাছ থেকে কাপড় নিয়ে আবারও ইয়ানার সামনে এসে হাজির হলো।,,,এতক্ষণে ইয়ানার ভাবনা চিন্তা পরখ করে ফেলেছে রিফাত,,,মেয়েটা কি ভাবছে তার বুঝতে বেগ পেতে হলো না।,,,রিফাত বাঁকা হাসলো,,, ইয়ানার মুখের সামনে ঝুঁকে পড়ে বললো,,
“অশ্লীল চিন্তা মাথা থেকে বের করো,,,যা ভাবছো তাহ হয়নি।,,আর এই বুদ্ধিটা নিশ্চই আছে,,,যদি কিছু হতো তাহলে তুমি বুঝতে পেতে।,,,রাতে জ্বর এসেছিল,,,,এখন গোসল করলে ভালো লাগবে।,,আর ঘড়ির দিকে একবার তাকাও,,,এটা সকাল নয় বরং আধা বেলা।”
ইয়ানা লজ্জায় একাকার।,,ছিঃ কি ঠোঁট কাটা ছেলে।,,,,মনের কথা বুঝে ফেললো কেমনে!।,,হালকা মাথা তুলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো সাড়ে এগারোটা।,,,চোখ বড় বড় করে রিফাত এর দিকে তাকিয়ে আবারও মাথা নুইয়ে নেয়। আর কিছুক্ষন ছেলেটার সামনে থাকলে লজ্জায় পানি হয়ে যাবে।
আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে ইয়ানা বেরিয়ে এলো,,,কালো লাল সংমিশ্রণ এর একটা থ্রি পিজ পড়ে বেরিয়ে এলো,,,কোমরের নীচ পর্যন্ত চুল ভিজে চুপচুপে অবস্থা। কাপতে কাপতে বিছানার সামনে এসে দাঁড়াতে শুনতে পায় ব্যালকনি থেকে রিফাত এর চিৎকার এর শব্দ,,,বোঝা যাচ্ছে কাওকে আচ্ছা করে ধমক দিচ্ছে লোকটা।। ইয়ানার ভাবনা চিন্তার মাঝেই রিফাত এসে হাজির হয়,,,ইয়ানা কে ভিজে চুলে দাড়িয়ে কাপতে দেখে রিফাত ধমকানি দিয়ে বলে,,,
“এই স্টুপিড,,,এই ভাবে বলদ এর মত দাড়িয়ে আছো কেনো?,,,ভুল ভাল চিন্তা মাথায় থাকে,,,কিন্তু এদিকে যে ভিজে চুল মুছতে হবে সেদিকে লক্ষ্য নেই।”
ইয়ানার এবার কিছুটা রাগ হয়,,, মিনমিনে কন্ঠে বলে,,,,,”আপনি কিন্তু আমাকে,,,অপমান করছেন।”
“হ্যাঁ,,একশো বার করছি।,,,তো!”
ইয়ানা কে টেনে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে নিজেই টাওয়াল নিয়ে মেয়েটার চুল মুছে দিতে থাকে।।
ইয়ানা স্তব্ধা খেয়ে বসে থাকলো। কোন কথাই মুখ থেকে উচ্চারণ করতে পারল না। লোকটা তার এত কাছে,,,যে তার দম বন্ধ হয়ে আসছে ।। ওড়নাটাও বুকের মধ্যে জড়ানো নেই তাই আরো বেশি অস্বস্তি বোধ করছে।।,,, রিফাত ও আঁকাবাঁকা চোখে ইয়ানাকেই দেখে চলেছে,,, মেয়েটা যে তার কাছাকাছি আশাতে কিছুটা অস্থির বোধ করছে তা বেশ ভালই বুঝতে পেরেছে। কালকের ইয়ানা আর আজকের ইয়ানার মধ্যে কতটাই না তফাৎ কালকের অবচেতন ইয়ানা নিজেই সব দূরত্ব গুচিয়ে ছিল। আর আজ সেই ইয়ানাই তার কাছে আসতে বিব্রত বোধ করছে।,,,, যদি মেয়েটা জানতে পারে গত রাতে তারা কতটা ঘনিষ্ঠ ছিলো,,, মেয়েটাই কিভাবে তার বুকের সাথে মিশে ছিল তাহলে নিশ্চয়ই লজ্জা পাবে কিংবা ভুল বুঝবে রিফাতকেই।।
ওয়াশরুমে ফেলে আসা ইয়ানার ওড়না রিফাত নিজেই নিয়ে এসে ইয়ানার দিকে বাড়িয়ে দেয়,,, অত্যন্ত লজ্জা আর অস্বস্তির সাথে ওড়না নিয়ে নিজের বুকে জড়িয়ে নেয়।।,, তারপর টেবিলে রাখা প্লেটটা এগিয়ে দেয় ইয়ানার দিকে,,,তিন পিজ্ এগ ব্রেক টোস্ট আর একটা গ্লাস ভর্তি দুধ,,,দেখেই ইয়ানা ঠোঁট উল্টায় তাহ দেখে রিফাত ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর স্বরে বলল,,,
এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ১৩
“পুরোটা শেষ করবে,,,”
কাদো কাদো মুখ করে ইয়ানা খাওয়া শুরু করে,,, জ্বর মুখে কোনো জিনিসেরই স্বাদ লাগছে না তার,,,কিন্তু সামনে বসে থাকা খটাস টার জন্য কিছু বলতেও পারছে ইয়ানা,,,রিফাত এর জায়গায় ইয়াসমিন বেগম হলে কোনো রকম ইনিয়ে বিনিয়ে দুইটা ব্রেড টোস্ট খেয়ে দৌড় দিত নিজের রুমে।। রিফাত ও মাঝে মধ্যে ফাইল থেকে চোখ তুলে তাকাচ্ছে মেয়েটার দিকে।।
