Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৯

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৯

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৯
Chadny islam

দুপুর ছাড়িয়ে বিকেল, বাইরের তাপমাত্রা বেশ অনেক টাই কমে গিয়েছে! অল্প অল্প ঠান্ডা শীতল মুগ্ধ আবহাওয়া বয়ে চলেছে ধরণী জুড়ে!
আদিল দুপুর গড়াতেই বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, কোথায় গিয়েছে সেটা হয়তো বাড়ীর কেউ জানে না, জানার কথা ও না! আদিল কাউকে বলে যায় সে কোথায় যাচ্ছে বা কেন যাচ্ছে! এমন কি ইরাকে ও না! ইরা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে এক মনে কিছু একটা ভেবেই চলেছে! ইরার ভাবনার ছেদ ঘটে দুইটি ছোট্ট ছোট্ট হাতের স্পর্শে! ইরা কারো স্পর্শ আচ করতে পেরে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে জুথী! জুথী আলতো করে জড়িয়ে দরে রেখেছে ইরা কে! ইরা কিছু টা অবাক হয় এই অসময়ে জুথী কে এই বাড়িতে আসতে দেখে! জুথী আদুরে গলাই বলে উঠলো!

___অনেক মিস করছিলাম তোকে! বিয়ের পর থেকে তো আমাকে একদম ভুলেই গিয়েছিস!
ইরা ঠোঁটের কোণে এক চিলটে হাসি দিয়ে বললো!!
____তুই আমার বেস্ট ফেন্ড তোকে আমি কখনোই ভুলতে পারবো না, আর হ্যা কখনো ভুলতে চাই ও না আমি!
ইরার কথা শুনে জুথী ফিক করে হেসে ফেললো! এবং বলে উঠলো ‌!!
____এক্সাম তো কাছাকাছি চলে এসেছে!পিপারেশন কেমন তোর!
ইরা মাথা চুলকাতে শুরু করলো, সে তো এক্সাম এর কথা টা ভুলেই গিয়ে ছিলো! পিপারেশন একদম জিরো! কিভাবে এই পিপারেশন নিয়ে এক্সাম দিবে! ইরা আমনে ভাবতে লাগলো! ইরা কে এমন ভাবনার মাঝে ডুবে যেতে দেখে জুথী শক্ত করে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠলো!!!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

____এক্সাম হলে চলে গেলি নাকি! ফিরে আই জলদি!
ইরার এবার যেনো কিছুটা ঘোর কাটলো, সে গলার স্বর খাদে নামিয়ে মিনমিন করে বললো!!!
___আমি তো ভুলেই গিয়ে ছিলাম এক্সাম এর কথা, আমার পিপারেশন একদম জিরো!
জুথী এবার বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
___ভালোই তো, দুইজনের একদম সেম অবস্থা, এবার না হয় দুইজন একসাথে মিলেমিশে ফেল করার মূহুর্ত তাকে উপভোগ করবো! জীবনে একবার হলে ফেল করে হলে ও, এমন সওয়াবের কাজ করতে হবে!
ইরা কপাল কুঁচকে ফেললো, বড় বড় চোখে তাকিয়ে একটু অবাক হয়ে বললো!!

____ফেল করা বুঝি সওয়াবের কাজ???
জুথী সাথে সাথে সম্মতি প্রকাশ করে বললো!!
___হুম ১০০%!
ইরা বাঁকা হেসে বললো!!
____তাহলে তুই বছর বছর ফেল করে সওয়াবের কাজ কর!
আশরাফ সিকদার এবং ওনার পরিবারের সবাই বসে আছেন ড্রয়িংরুমে, আজকে নতুন করে ঈশান ও যুক্ত হয়েছে তাদের সাথে! নির্বাচনে আদিল জয়ী হবার পর থেকে ঈশান আর সিকদার মহলে আসতে পারে নি, নিজের ব্যাস্ততার জন্য! হয়তো জুথী আসার কথা না বললে, ঈশান আজকেও আসতো না! সোফায় আশরাফ সিকদার এর পাশেই বসে আছে ঈশান! আশরাফ সিকদার এর সাথে ঈশান এর সম্পর্ক টা বেশ ভালো বরাবরি!

আমি তোকে বার বার নিষেধ করার পর, আমার নাম্বারে কেনো কল করলি?
আদিল খিপ্ত মেজাজে কথাটি বললো, রিজ লুমান কে!
রিজ লুমান বিরক্তি টেনে বললো!!!
____তাহলে কি করতাম আমি, প্রয়োজন ছিলো তোকে!
আদিল দাঁতে দাঁত পিসে, রাগে রিরি করতে করতে বললো!!
____ফাকিং ইউর প্রয়োজন! কল টা আমার বউ দরে ছিলো! সে নিশ্চয় কখনো চাইবে না তার স্বামী নারী সহ বিভিন্ন অস্ত্র পাচার করুক!
রিজ লুমান এক রাশ বিরক্তি নিয়ে বললো!!

___সো হোয়াট, সে জানুক আজ নয়তো কাল সে তো জানবেই! আর যদি এত বেশি সমস্যা হয় তাকে নিয়ে, তাহলে ছেড়ে দিয়ে আরেক টা বিয়ে কর! পৃথিবীতে কি মেয়ের অভাব পরছে নাকি!
আদিল এবার শক্ত গলাই বললো!!.
___চুপ কর ইডিয়েট ফাজলামো করিস না, বউ আমার ইরায় যথেষ্ট! আর আমি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য কোনো রকম ইচ্ছে পোষণ করছি না!
রিজ লুমান কিছুটা হাসি হাসি মুখ করে বললো!!
____সালা তুমি বউ এর গোলাম..!
আদিল শক্ত গলাই বললো!!

___আমি ও দেখবো বিয়ের পর তুই বউ এর কি হস? চল আজকেই তোকে বিয়ে করাবো!!
রিজ লুমান শব্দ করে হেসে উঠলো! সে করবে বিয়ে ইম্পসিবল! মেয়েরা বিশ্বাস এর অযোগ্য তাদের কে বিয়ে করা মানে নিজের হাতে নিজের জীবন টাকে শেষ করা! কোনো রকম এই পেড়া সে এই জীবনে নিতে চাই না আর! কোনো রকম ভুলে বেঁচে আছে সেই ছলনাময়ী নারীকে! আবার কোনো ছলনাময়ী তার জীবনে আসুক সে মুটেও চাই না! লুমান গা জেড়ে বলে উঠলো!
____বন্ধু আমি বিয়ে ছাড়াই ভালো আছি, আমি এত দূত বউ এর গোলাম হতে চাই না!
আদিল প্রশংঙ্গ পালটালো, এবার সিরিয়াস গলায় বললো!!

___আমি তোকে বললাম না, কেবল আমি এমপি হয়েছি এখনি এত রিক্স নেয়া যাবে না, তারপর ও কেনো আমার অবাধ্য হলি! এক দিনে এত গুলা মেয়ে কে কিভাবে কিডনাপ করলি! সাহায্য করছে কে তোকে!
আদিল বেশ কিছু টা রাগী গলাই কথা গুলা বললো, রিজ লুমান আদিল এর রাগের কারন টা আনদাস করে পেরে বলে উঠলো!!
___টাকা থাকলে বাঘের চোখ ও মেলে, আর সেখানে কিনা সামান্য কয়েক টা মেয়ে। এ তো মেরা বাহান হাত ক্যা কাম হে!
আদিল রাগে রিরিরি করে দাঁতে দাঁত পিসে বললো!!
____বোকার মতোন কথা বলসিস কেনো, তুই এই দেশে প্রথম এসেছিস, তাছাড়া তুই কার সাথে হাত মিলিয়ে ছিস?
“”তোকে এইগুলা নিয়ে টেনশন করতে হবে না, আমি এই দিক টা ঠিক সামলে নিবো!
“”যদি তোর উল্টা পাল্টা কাজের জন্য, আমার কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আমি তোকে দেখে নিবো! আন্ডাসস্ট্যান্ড!
আদিল রাগে রাগান্বিত হয়ে, দূত জায়গা পরিবর্তন করলো! এই খানে আর কিছু মিনিট থাকলে হয়তো খুনাখুনির পর্যায়ে চলে যেত।

আপনি সারা দিন কোথায় ছিলেন, আমাকে একবার ও কল করেন নি! এখন আমি পুরনো হয়ে গেছি তাই না! একদম কথা বলবেন না আমার সাথে!
রিমঝিম বেশ রাগ নিয়ে, এক নিশ্বাসে গড়গড় করে বলে উঠলো! সারা দিন আজকে আদিব একবার ও কল করেনি তাই! কেনো করে নি পরে শুনবে আগে নিজের রাগ গুলোকে ভালো ভাবে ঝেরে নেক! রিমঝিম এক দারে কথা গুলা শেষ করলো,এদিকে আদিব বেচারা কোনো টুঁশব্দ পর্যন্ত করছে না! তাই দেখে রিমঝিম আরও রেগে গিয়ে বললো!!
___এই যে ডক্টর সাহেব, অজ্ঞান হয়ে তাল হারিয়ে বেশামাল হয়ে মরে পরে আছেন নাকি!
রিমঝিম এইটা কি বললো,আগা গোড়া সবটাই কেমন অদ্ভুত! আজকে আদিব এর ফোন থেকে কলটা কলি করছে, কিন্তু রিমঝিম কোনো কিছু না শুনে এক গুষ্টি কথা শুনিয়ে দিয়ে দিলো। কলি রিমঝিম এর বকা খেয়ে কপাল কুঁচকে আদিব এর দিকে তাকিয়ে আছে! এদিকে বেচারা আদিব ঠোঁটে ঠোট কামড়ে হাসতেছে! কলি রাগে কটমট করে উঠলো!

____এই রিমঝিম এর বাচ্চা, আমি কলি তোর ডক্টর সাহেব নয়! ইডিয়েট!
কলির নাম টা শোনার সাথে সাথে, রিমঝিম মুখটা গম্ভীর করে বললো!!
____তোর ফোনে কি হয়েছে, ওনার টা দিয়ে ফোন দিছিস!
কলি রেগে এক দমক দিয়ে বললো ‌
___চুপ কর কুওা!
সরি পাখি, ভুল করে বকা দিয়ে ফেলছি! আর হবে না দেখ কানে দরছি!!!
কলি এবার মন টাকে নরম করে শব্দ করে হেসে দিয়ে বললো!!!
____বিয়ের আগেই ঠিক মতোন নাট বল্টু টাইট করে রেখো,প্রিয় ভাবী! তোমার হত্তছাড়া না হওয়া স্বামী কিন্তু বড্ড বাদর!
কলির এমন কথা শুনে রিমঝিম শব্দ করে হেসে উঠলো! এদিকে বেচারা আদিব মহাশয় বড্ড গাল ফুলালো! তাকে বার বার ইনসাল্ড করা হচ্ছে! একজন বোন তো আরেক জন হবু বউ কাকে কি বলবে সে এক দম জানে না! আদিব ফোন টা কলির থেকে টেনে নিয়ে হিসহিসিয়ে বললো!!

____এই যে ম্যাডাম, আপনি কেমন বউ হ্যা আপনার সামনে আপনার স্বামী কে ইনসাল্ড করা হচ্ছে, আর আপনি কিনা দাঁত চেপে হাসতেছেন! ছি আজ সমাজ কোথায়, আর আমি কেথায়! সত্যি আজ আমি লজ্জিত, এবং আমরা পুরুষ জাতি বড্ড অবহেলিত !
আদিব তো কথা শেষ করতেই পারলো না, তার আগেই এই পাশ থেকে কলি হিহিহি করতে হাসতে শুরু করলো, আরেক দিকে রিমঝিম! আদিব কাকে কি বলবে কি বোঝাবে এদের কে!
সব বাদ এবার আদিব কপালে হাত দিয়ে বসে পরলো! এই বউ আর বোন এক বাড়িতে এক সাথে থাকলে তাকে যে কতবার নাজেহাল হতে হবে, স্বয়ং আল্লাহ মালুম!
কলি দাঁত চেপে হাসছে তো হাসছেই! আদিব বালিশ ছুরে মারলো কলির মুখে, রাগে রিরি করে বলে উঠলো!!

___কুওা বের হও আমার রুম থেকে! দরকার নাই তোর মতোন বোন নামক ঘটক এর!
কলি বালিশ টা ক্যাস ধরলো, আবারও শব্দ করে হাসতে শুরু করলো! কলির এমন ভাবে হাসাহাসি করতে দেখে পাশের রুম থেকে ঈশান জুথী ইরা সবাই চলে এসেছে রুমে! আরেক টু শব্দ করে হাসলে হয়তো বাড়ীর বড় রাও চলে আসতো! আদিব ইরা এবং ঈশান কে দেখে কিছুটা সংকোচ বোধ করলো! তাতেই বা কি সবাই তো বন্ধুর মতোন, ঈশান সোজা গিয়ে বসলো আদিব এর পাশে! আর জুথী এবং ইরা বসলো কলির পাশে! কলি সেই আগের মতোন হাসছে তাই দেখে ইরা বললো!!

____কলি ঠিক আছো!
কলি একটু থেমে বললো!!__হুম আমি ঠিক আছি ভাবী, তোমার দেবর কিন্তু ঠিক নাই!
ইরা এক পলক আদিব এর দিকে তাকালো, ফের বললো কই আদিব তো ঠিকি আছে,
তাই ইরা এবার আদিব কে জিজ্ঞেস করলো !!
___কি হয়েছে ভাইয়া, আপনি ঠিক আছেন?
আদিব বেশ স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
___জ্বি ভাবী আমি ঠিক আছি!
আদিব এর হাতের ফোন টা ইসপ্কিকারে দেয়া, হয়তো রিমঝিম এতখনে সবার উপস্থিত প্লাস সবার গুলো শুনে নিয়েছে! আদিব যেই ইসপিকার টা কমানোর চেষ্টা করতে লাগলো ঠিক তখনি অপর পাশ থেকে রিমঝিম বলে উঠলো!!

____আসসালামু ওয়ালাইকুম ভাবী!
ইরাকে হঠাৎ করে ভাবী কে ডাকলো, তার গতিবেগ বুঝতে চেয়ে, ইরা পেছন ফিরে তাকাই! আশ্চর্য কেউ নেই তবে কে ডাকছে তাকে! আদিব এত খনে বার বার ফোনের এর দিকে দেখছে! তাই ইরার এবার আর বুঝতে বাকি রইলো না! তাকে ভাবী বলে সম্মোদন টা ফোন থেকে করা হয়েছে। তাই ইরা হাত বাড়িয়ে দেয় ফোনের দিকে, মানে বুঝাতে চাইছে যে ফোন টা তার হাতে দেয়া হোক! ইরা হাত বাড়ানোর সাথে সাথে আদিব ফোন টাকে ইরার হাতে তুলে দিলো! ইরার কথা বলার আগে আবার ও রিমঝিম বললো!!
___ভাবী আমি রিমঝিম, কলির বেস্ট টু!! শুনতে পাচ্ছেন!
ইরা আদিব এর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে, ফোকাস করলো ফোনের দিকে,

___জ্বি আপু শুনতে পাচ্ছি! কেমন আছো আপু!
রিমজিম মিষ্টি করে বললো!!!
___আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি ভাবী,
ইরা নিজের মনের কৌতুহল দূর করতে প্রশ্নটা অবশেষে করেই ফেললো!
___তুমি কি কামাল স্যার এর মেয়ে??
রিমঝিম বললো!
___জ্বী ভাবী, আপনি কি আমার আব্বু কে চিনেন কোনো ভাবে!
ইরা এবার পিটপিট করে তাকালো আদিব এর দিকে, আদিব সে তো লজ্জায় ঠোঁট কামড়ে হাসতেছে মিনমিনিয়ে, ইরা এবার বললো!!

___ইনশাআল্লাহ আগামীকাল আমরা আসছি তোমাকে দেখতে, আমার একমাত্র দেবর এর জীবন সঙ্গী করতে!
রিমঝিম লজ্জায় লাল হয়ে গেলো, আদিব এর পরিবার থেকে সরাসরি বিয়ের বিষয়ে কথা বলছে! এত বড় সম্মানিত পরিবারে বউ হয়ে যাওয়া টা কেমন ভাগ্যের ব্যাপার! রিমঝিম চুপটি করে বসে রইলো বেশ কিছু খন। আর এই পাশ থেকে সবাই অপেক্ষা করছে ওর উওরের! আদিব রিমঝিম এর লজ্জার কারন টা বুঝতে পেরে বলে উঠলো!!
____ভাবী আমার বউ টা কেমন লজ্জা পাচ্ছে, প্লিজ ফোন টা আমাকে দিয়ে দেন!
আদিব এর কথাই সবাই শব্দ করে হেসে উঠলো, পাশ থেকে জুথী বলে উঠলো!!
___বিয়ের আগেই কত প্রেম ভালোবাসা বেয়াই! এই প্রেম ভালোবাসা কি বিয়ের পর এমনি থাকবে??
আদিব সবাই কে উপেক্ষা করে বলে উঠলো শ. শব্দে!

___অবশ্যই ভালোবাসা সুন্দর, হোক বিয়ের আগে কিংবা পরে!
কলি চট করে বলে উঠলো!!
___জানো ভাবী ভাইয়া না কালকে….
কলির কথা শেষ করার আগেই আদিব মুখ চেপে দরলো, আর রাগে কটমট করে বললো!!
___এই দেখ কলির বাচ্চা লাথী খাবি!
ঈশান যেনো শুধুই দর্শক, চুপটি করে সবার আলাপ সালাপ দেখছে শুনছে! তার চোখ তো খুঁজছে আদিল কে! আজকে রাতে একটা পার্টি হলে মন্দ হতো না! কিন্তু আদিল কোথাই???
আদিবের হাত টাকে কামড়ে ছাড়িয়ে দিলো কলি, আর বলে উঠলো!!
____যদি আবার কিছু বলো না, তাইলে দেইখো আমি সব বইলা দিমু সবাইরে!
আদিব কটমট করে বললো!!
___হালকার উপর ঝাপসা থ্রেট দেয় আমাকে, কত বড় সাহস!
পাশ থেকে ইরা বললো!!
___তোমাদের বোন বলে কথা, সাহস তো তোমাদের মতোনি থাকবে এই টাই স্বাভাবিক!
“””ভাবী তুমি প্লিজ কলির দলে অনন্ত নিজের নামটা লিখিও না!
“”চিন্তা করবেন না ভাইয়া আমি আপনার দলেই আছি!

আশরাফ সিকদার আদিস সিকদার এবং ওনাদের ওয়াইফ, সোনালি তালুকদার সবাই বসে বসে কফি খাচ্ছেন এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করছেন! আশে পাশের সারবেন্টরা সব খাবার দাবার সামনে এগিয়ে দিচ্ছেন! এর মাঝে আশরাফ সিকদার এর নাম্বারে একটা কল আসে! নাম্বার টা অপরিচিত, আশরাফ সিকদার হয়তো নাম্বার টা চেনেন না! তবুও কল রিসিভ করলেন! অপর পাশ থেকে লম্বা সালাম দিয়ে বলল!!
___স্যার মিডিয়াতে আপনাদের কে নিয়ে বেশ কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে!

আশরাফ সিকদার মূহুর্তেই সোফা থেকে ওঠে গিয়ে টিভি ওন করলেন, বিশেষ করে সময় টিভিতে ডুকেই দেখতেন পান! বেশ কয়েক টা মেয়ে সাথে পুলিশ সহ আরও অপর মহলের বড় বড় জায়গার লোক গেপ্তার! ধারনা করা হয়েছে, এই মেয়ে গুলো কে পাচার করার চেষ্টা করা হয়েছিলো! তার সাথে জড়িত আছে বেশ আরও অনেকেই!
খোজ নেয়া হয়েছে, এতে বড় বড় রাজনীতি বিদ রাও জড়িত থাকতে পারে! এমন টা ও হতে পারে এই কাজের সাথে আশরাফ সিকদার এবং ওনার ছেলে আদিল সিকদার ও জড়িত থাকতে পারে!যেহেতু তারাই এখন সর্বোচ্চ উপরে আছে রাজনীতির দিকে থেকে! সে হিসাবে ধারণা করা হচ্ছে! এখনে সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তবে দূত প্রমাণ সহকারে সব এভিডেন্স তুলে ধরা হবে সবার সামনে! বিশেষ করে সবার টার্গেট আদিল সিকদার এর দিকে! এর আগে কখনো নারী পাচার নিয়ে তেমন কেনে জটিলতা ছিলো না! নতুন এমপি আসার পরি এমন হলো!

আশরাফ সিকদার সহ বাড়ির প্রতিটি মানুষ কপাল কুঁচকে তাকালেন আশরাফ সিকদার এর দিকে! এদের এমন তাকাতাকি দেখে আশরাফ সিকদার লজ্জায় লাল হয়ে গেলেন! তার এক মূহুর্তের জন্য মনে হচ্ছে হয়তো তাকে নতুন করে আরেক টা বিয়ে করানো হবে, তাই সবাই মিলে তাকে দেখতে এসেছে! আহা যদি এমন টা হত মন্দ হতো না! আশরাফ সিকদার মুচকি মুচকি হাসছেন, এবার তার ভাবনারা এসে কড়া নাড়ছে বার বার ! অহনা সিকদার ভয়ংকর দৃষ্টি মেলে তার দিকে নজর বুলাচ্ছেন! এদিকে বেচারা আশরাফ সিকদার এর হুশ নেই! অহনা সিকদার রাগে কটমটিয়ে উঠলেন! কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি আশরাফ সিকদার এর চোখ পরে অহনা সিকদার এর দিকে! আশরাফ সিকদার খেক করে গলা পরিষ্কার করে বললেন!

___তুমি এমন করে তাকিয়ে আছো কেনো, খেয়ে ফেলবে নাকি??
অহনা সিকদার নিজের মাঝে রাগকে এবার আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না,বরং বলে ফেললেন ‌!!
____এই বয়সে নারী পাচার ছি..!
আশরাফ সিকদার রাগে কটমটিয়ে উঠলেন, তাকে কিনা নারীর দালাল মনে হয়, আশরাফ সিকদার রাগে রিরি করে বলে উঠলেন!!
___ ছি আজ সমাজ কোথায়, আমার সম্মান কোথায়! আমি একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর কিনা এইসব দালালি করবো ছি!
অহনা সিকদার কপাল কুঁচকে বললেন!!

___স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবার পর ও কিনা দালালি করো?
আশরাফ সিকদার রেগে গেলেন বড্ড রেগে গেলেন! তাকে কোনো ভাবে বিশ্বাস করা হচ্ছে না কেনো! আশরাফ সিকদার রাগে রিরি করে নিজের রুমে চলে গেলেন!
তার কোথাও শান্তি নেই সম্মান নেই! তার জীবনে ভালোবাসা এবং সম্মান এর বড্ড অভাব! সে অতিদ্রুত আবার আরেক টি বিয়ে করবে! একজন রাজনীতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটা বউ মানায় না কমপক্ষে ডজন খানেক প্রয়োজন ছিলো! তবে এবার বাংলাদেশের কাউকে না বরং বিদেশি দের বিয়ে করবে, বাংলাদেশ এর মেয়েরা লোকরা বুঝে কম চিল্লায় বেশি!

ইতি মধ্যে নিউজ টা আদিল এর কানেও পৌঁছে গেছে! যেই ভয় টা পেয়ে ছিলো ঠিক সেই টাই হলো! এত গুলা লোক কে আদিল সেভ করবে কিভাবে, রিজ কিনা পুলিশ কেও সাথে জড়িয়েছে! নরমাল মানুষ তাদের কে তো যেভাবো হোক ছাড়ানো হবে! তবে জারা পুলিশ তাদের কি চাকরি প্লাস সম্মান টা থাকবে! এর মাঝে রিফাত সব ধরনের খোঁজ খবর নিয়ে ফেলেছে! সবাই কে নাকি আবদুল মামুন প্লানিং মাফিক খুব বুদ্ধিমওার সাথে দরছে! আশা করা যায়, এর সাথে যারা আছে তাদের কেও অতিদ্রুত দরে ফেলবে!
আদিল চেয়ারে শক্ত হয়ে বসে আছে! মনে হচ্ছে এই মূহুর্তে এক কুপ দিয়ে মাথা থেকে মন্ডু টা আলাদা করে দিতে! নিষেধ করার পরও কিনা উল্টা পাল্টা করলো! আদিল রিফাত কে বললো,

___তুমি যাও প্রয়োজন হলে তোমাকে আবার ও ডাকবো!
অনেক দিন পর কোম্পানির কিছু ইমপোর্টেন্স কাজের জন্য অফিসে এসেছিলো, এর মাঝে রিফাত মিডিয়াতে এসব দেখে এসে আদিল কে বললো!
আদিল ফোন বের করে কল করলো সেভ করা নাম্বারে! একবার দুইবার তিনবার, তারপর ও রিজ লুমান কল টা দরলো না, কেন দরছে না কল টা। আদিল এর রাগে মাথা টনটন করছে! মেজাজ হারিয়ে যাচ্ছে বার বার, রিজ লুমান কেন দরছে না কল তাহলে কি ওকেও পুলিশ,,,
আদিল পরের কথাটা শেষ করতে পারলো না, তার আগেই ফোনটা কাঁপতে শুরু করলো, হয়তো তো ফোন টা সাইলেন্ট ছিলো! কল টা আসার সাথে সাথে আদিল কল রিসিভ করে, রিজ লুমান এর কিছু বলার আগেই আদিল শব্দ করে রাগে রিরিরি করে বলে উঠলো!!

____সুওরের বাচ্চা কুওার বাচ্চা আমার থেকে বেশি বুঝলি কেন! বলে ছিলাম না বার বার বেশি বাল পাকনামি করিস না! কুওার বাচ্চা যদি ভুল করেও আমার সামনে পরিস তোর মন্ডু কেটে আমি ফুটবল খেলমু! ইডিয়েট!
রিজ লুমান বার বার বলছে,
__ আগে শুনবি তো
“””না কোনো কিছুই শোনার নেই আমার! ইমিডেটলি দেশ ছাড়! এই মূহুর্তে আমাকে বাধ্য করিস না তোর রুমে আসতে!
রিজ লুমান আর কথা বাড়ালো না বরং দীর্ঘ শ্বাস টেনে বললো!!

____ওকে
ইরা জুথী কলি তিনজন মিলে একসাথে এত খন টিভিতে এই নিউজ টাই দেখলো! অপস কি শান্তি সবাই মু্‌ক্তি পেয়ে গেলো, এবার সবাই বাড়ি ফিরবে সবার পরিবারের কাছে!
ইরা তো মনে মনে বড্ড খুশি, কি যে অদ্ভুত এক শান্তি লাগছে বলে বোঝানোর মতোন নয়! ইরার খুব ইচ্ছে করলো এই মূহুর্তে একটি বার আদিল কে দেখতে।না জানি তাকে দেখতে ঠিক কতটা বেচারা অসহায় লাগছে! ইরা মনে মনে এক গাল হেসে নিলো!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৪৮

আজকে রাতে সে অনেক আগে ঘুমাবে না বরং অপেক্ষা করবে আদিল এর জন্য।তার অসহায় মুখ খানা একটি বার দেখার জন্য! স্বামীর জন্য অনন্ত এতটুকু ভালোবাসা থাকা প্রয়োজন! বড্ড ভালোবাসি আপনাকে অসভ্য বাজে লোক! আই ওয়েটিং ফর ইউ সিকদার সাহেব!!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫০