Home নীলের হুরপাখি নীলের হুরপাখি পর্ব ২৪

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৪

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৪
কারিমা ইসলাম কেয়া

নীল ঃ আরে সবাই এভাবে আমার দিকে কিহ দেখছো। তোমরা কিহ ভাবছো এটাঁ আমার কাজ।
Exactly right তোমরা সকলেই ঠিক।
নীল নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলছিল। এখন ধীরে ধীরে মাথা উঁচু করলো।
নীলের নীলচে কালো চোঁখে ফাল্গুনের সদ্য ফুটে উঠা শিমুল ফুলের রক্তিম লালিমা খেলা করছে। নীলকে হ্রিংস এক দানব জন্তুর মতো লাগছে।

ছেলের এই রুপ দেখে ঢোক গিললেন মা রুহানি। বাড়ির সবাই ই ভীত হলো নীলের এই আচরণে।
নীলের কথার প্রতিউত্তরে কেউই কোনো কথা না বলে তুবাকে নিয়ে হসপিটালে রওণা হলো।
সময়টা অগ্রহায়ণ মাস। শহরে শীত অনুভূত না হলেও গ্রামের প্রকৃতি তাকে বরণ করে নিতে শুরু করে । স্নিগ্ধ কমোল শুভ্র সকালে শীত শীত আবহাওয়া ।
আলো-ছায়ায় নিভু নিভু নরম রোদ আর ঠাণ্ডা হাওয়ায় এক আলতো অনুভূতি । পাখির কলোগাণ। গাছের পাতা আর ঘাসের উপর বিন্দু বিন্দু মুক্ত কণাকে পায়ের আঙ্গুলের ডগা দিয়ে ছুয়ার লোভ। সাথে পিঠা-পুলি
তহ আছেই আর ব্যস্ত ব্যক্তিদের নরম- গরম উষ্ঞ অনুভূতিকে দূরে ফেলে , গাঁ থেকে ব্ল্যানকেট সরিয়ে ফ্রেশ হয়ে ছুটতে হয় নিজ গন্তব্যে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নীলাদ্র অদ্ভুত ভঙ্গিতে দাঁত মাঝছে। পিছনে হুর এসে দাঁড়ালো।
হুর ঃ নীল ভাইইই একটা কথা ছিল।
নীল ঃ Not interesred (আগ্রহ নেই)
নীল আবার ব্রাশটা মুখে পুরে নিয়ে আগের ভঙ্গিতে দাঁত মাঝতে লাগলো। হুর নাকটা একটু ছিটকালো।
হুর ঃ নাহহহ শুনতে হবে। কালকে রাতে তু,,,,,
নীল হুরের মুখে নিজের ব্রাশটা ডুকিয়ে দিল। হুরের চোঁখ বড় বড় হয়ে গেল।
নীল হুরকে সাইট করে চলে গেল যেন কিছুই হয় নি।
হুর মুখ থেকে ব্রাশটা ছুড়ে ফেলে কুলি করতে লাগলো। এক পর্যায়ে ওয়াক ওয়াক করে ভমি করতে লাগলো।
নীল হাত পা টানটান করে বেডের সাথে হেলান দিয়ে আধাশোয়া হয়ে বসে আছে।
হুর রেগে ওয়াস রুম থেকে বের হলো।

হুর ঃ নীললল ভাইইইই
নীল ঃ কেমন লাগলো পাখিইইই মা,,নে টেস্ট।
হুর মুখ বিকৃত করে তাকালো। হুর রাগে গাঁ রি রি করছে
উফ পাখি তকে কিছু বলতে হবে না, তর মুখের রিয়েকশন ই বলে দিচ্ছে এই টেস্ট তকে পাগল করে দিয়েছে। তুই আবারও চাইছিস,,,
হুর ঃ কচু,, ইচ্ছে করছে তোমাকে উত্তম মাধ্যাম,,
নীল ঃ আদর করতে,,,
নীল দুষ্টো হেঁসে জ্বিহা দিয়ে গালে ঢেলতে ঢেলতে বললো।
হুর ঃ না ঝাাড়ুপিটা করতে।
নীল ঃ অ্যা আইছে,,,। এখনই লিপে লিপ রেখে একদলা থুথু ভরে দিলে মধুর মতো করে চুষে চুষে খাবে।
হুর ঃ তুমি না এক নাম্বারের বেহায়া,,,।
হুর বের হয়ে গেল।

নীলাসা ড্রয়িং বসে বসে নেলপলিস দিচ্ছে। মুখে হালকা বিরক্তির ছাপ।
হুর ঃ নিলাসা তর কথা হয়েছে কারও সাথে। তুবার কী অবস্থা।
নীলাসা ঃ খারাপ। কাল রাতেই অপারেশন হয়ছে।
হুর ঃ নীল ভাই এমন করবে আমি বুঝতে পারি নি।
নীলাসা ঃ একদম ঠিক করছে ভাইয়া। মেয়েটার এমন শিক্ষা হওয়া প্রয়োজন ছিল। কাল যদি নীল ভাই ঠিক সময়ে দুধের গ্লাসটা ফেলে না দিত তাহলে আজ তুবা ভাবির জায়গায় তুই থাকতি।

রাত 9 টা
হুর কফি বানিয়ে নীলের জন্য নিয়ে গেল। নীল গায়ের শার্ট খুলে বিছানায় শুয়ে আছে।
হুর ঃ নীল ভাই তুমি কিন্তু কালকে কাজটা একদম ঠিক করোনি।
নীলের মুখটা হঠাৎই পরিবর্তন হয়ে গেল। নীল শুয়া থেকে উঠে হুরকে খাটের উপর ফেলে হুরের গলাটা আলতো চেপে ধরলো
নীল ঃ হুর তুই কী বুজতে পারছিস না আমি বিষয় টা এড়িয়ে যাচ্ছি।
নীল হুরের গলা ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ফুলদানিটা মেঝেতে ছুড়ে দিয়ে এক আছাড়ে ভেঙ্গে ফেললো।
নীলের চেহায়ায় ফুটে উঠেছে পাগলাটে ভাব।

নীল হুরের সামনে হাটুঁ গেড়ে বসলো। হুরের গালে হাত রাখলো।
পাখি আই লাভ ইউ। আই লাভ ইউ সো মাচ্। তকে কেউ আঘাত করবে আর আমি চুপ থাকবো সেটা কখনোই হতে পারে না। তর প্রতিটা যন্ত্রনা আমার হৃদয়ে বিষাক্ত তীরের ফলার মতো বিধেঁ।
If anyone hurt’s you, I’II make sure they regret
it deeply . (কেউ তকে কষ্ট দিলে তার এমন অবস্থা করবো, যেন সে সারাজীবন গভীর ভাবে আফসোস করে।)
নীল রেগে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো।
হুর নীলের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। নীলের ভালোবাসার গভীরতা অনুভব করার চেষ্টা করলো। কিন্তু নীলের ব্যবহারে তার মনে ভয় ওহ উঁকি দিতে লাগলো।

শহরের এক প্রান্তে নির্জন কোলোহলহীন জায়গায় গড়ে উঠেছে রানবির রনবের আস্তানা।
মাফিয়া কিং রানবির রনবের প্রধান কাজই হলো নারী পাচার, শিশু পাচার আর ড্রাগসের ব্যবসা।
6 – 16 বছরের ছেলে-মেয়েদের কিডন্যাপ করে আনে। তাদের ভিক্ষাবৃত্তির জন্য জুলুম করা হয় শারিরীক ওহ মানসিকভাবে। কেউ ভিক্ষা করতে না চাইলে তার হাত – পা ভেঙ্গে এমনকি চোঁখ ওহ অন্ধ করে দেয়।
রনব জানালার ধারে দাঁড়িয়ে সিগেরেট টানছে। তার দৃষ্টি বাইরে
দুটো ছেলে একটি 14 বছরের ছেলেকে ধরে আনলো। ছেলেটার চোঁখে রাগ আর জেদ স্পষ্ট।
সুবিন ঃ দাদাভাই এই হা*রা*মি*র বাচ্ছার মেজাজ ভারি। ছল ছাতুরি আর চালাকিতেও 100।
আজ আমাদের চোঁখে পট্টি মেরে পালাচ্ছিল।

রনব ঃ ছোকরারা দেখি বেশ উত্তেজনা। কারেন্টে কিলবিল করে।
আমি আর সইতে পারছি নারে সুবিন,, নিয়ে যা এরে আহা,,,,,শোন জানিস ই তহ আমার দয়ার শরীর ছোকরাটারে বেশি কিছু করিস না একটা চোঁখ তুলে নিবি আর একটা হাত ভেঙ্গে দিবি।
ছেলেটা হাওমাও করে কাদঁতে লাগলো। না আমায় ছেড়ে দিন। আমি মায়ের কাছে যাব। আমার মা ভাত বেড়ে অপেক্ষা করছে আমার জন্য। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে মা বলেছিল , খোকা সাবধানে যা, ফেরার সময় দেরি করবি না। আমি টাকা জমিয়ে তর জন্য গরুর মাংস এনেছি। আজ তর পছন্দের পোলাও আর গরুর মাংস রাধঁবো।
আমি মায়ের হাতের ভাত খাবো আমায় ছেড়ে দিন। মা মা ও মা তুমি কোথাও।
কিন্তু ছেলেটির কান্নায় উপস্থিত কারও হৃদয়ে ঝড় বইলো না।

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৩

রাত 12 টা বেজে গেছে নীল এখনও বাড়ি ফিরে নি। হুর অপেক্ষা করতে করতে ড্রয়িং রুমেই ঘুমিয়ে পড়েছে।
হুর কারও উপস্থিতি টের পেয়ে চোঁখ খুললো।

নীলের হুরপাখি পর্ব ২৫