mad for you part 37
তানিয়া খাতুন
সকাল দশটা বাজছে।
সূর্যের আলো যখন কাঁচের টাওয়ারগুলো ছুঁয়ে ঝিলমিল করছে,
ব্যস্ত শহরের মানুষ তখন ছুটছে যার যার গন্তব্যে।
কেউ অফিসের দিকে, কেউ দোকান খুলছে,
কেউবা ট্রাফিকের ভিড়ে গলা শুকিয়ে ফেলছে—
এই শহরের যেন কারও জন্য অপেক্ষা করার সময়ই নেই।
বড়সড় কালো গাড়িটা ধীরে ধীরে এসে থামল “Khan Mansion”-এর সামনে।
শহর তখনো ব্যস্ত — কিন্তু এই বাড়িটা দেখে অদ্ভুত নীরবতা মনে হলো।
গাড়ির জানলার কাঁচ সরিয়ে ক্ৰিশ বাইরে তাকাতেই বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
চোখের সামনে দৃষ্টিটা ঝাপসা হয়ে এলো…
মাথাটা যেন ধরে এলো…
মনে হলো — এই বাড়িটাকে সে আগে কোথাও খুব ভালো করে দেখেছে!
কোথায়? কবে? মনে করতে পারছে না… শুধু অদ্ভুত এক টান।
ক্ৰিশ দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরল।
আয়ান দ্রুত পাশে ঝুঁকে —
আয়ান: “এই! কী হল? ঠিক আছিস তো?”
ক্ৰিশ মাথা ঝাঁকিয়ে জোর করে হাসল —
ক্ৰিশঃ “হ্যাঁ… I’m fine… কিছু না।”
ক্ৰিশ চারপাশে তাঁকিয়ে বলে—
ক্ৰিশ: “এত বড় বাড়ি… কিন্তু লোকজন কোথায়? কেউ দেখাও যাচ্ছে না!”
ইয়াশ কাঁধ উঁচু করে বলে,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“ভাই, আমি কিছুই জানি না। আর তুইও আমাকে বেশি প্রশ্ন করবি না।
গতরাতে আমার ‘main point’-এ এমন লাথি মেৱেছিস এখন ব্যাথা আছে!”
ক্ৰিশ হাসতে হাসতে গাড়ি থেকে নামল—
ক্ৰিশঃ “ওই ব্যথা সারলে… বলবি আরেকটা লাথি দিবো! যেন ভবিষ্যতে আমার ‘হানি’-র নাম নিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলার সাহস না হয়!”
আয়ান মুখ বাঁকিয়ে বলে, বাবা “হানি?
ক্ৰিশঃ “Fuck your mouth”
“Don’t say that name again.”
ক্ৰিশ অনেকক্ষণ ধরে গেটের সামনে পায়চারি করছে।
কিন্তু বাড়ির দিক থেকে কোনো সাড়া নেই।
আয়ান এবাৱ বিরক্ত হয়ে গাড়ি থেকে নামল।
আয়ানঃ “ভাই, আর কতক্ষণ? এক ঘণ্টা হতে চলল…
কেউ তো দরজা খুলল না, বাড়িতে মানুষই নেই নাকি?”
ক্ৰিশ অন্যমনস্কভাবে গেটের দিকে চেয়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
হঠাৎ — একটি ছোট্ট কণ্ঠ আব্বু…….
দুজনই একসাথে চমকে গেটের ভেতর তাকাল।
একটা ছোট্ট মেয়ে…
চুলে দুটি পাফ, হাতে গোলাপি রঙের ছোট্ট একটা বল…
গেটের ওপারে দাঁড়িয়ে হাঁসছে— মুসকান।
আয়ান চোখ বড় করে: “এ কী?
এই মেয়ে তোকে আব্বু বলছে কেন?
তুই কি এতদিন বাইরে থাকার নাম করে লুকিয়ে বিয়ে করে বাচ্চা-কাচ্চা পয়দা করে ফেলেছিস?!”
ক্ৰিশ রাগে চোখ লাল করে আয়ান এর গালে সজোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল।
ক্ৰিশঃ “সালা! আমি পুরো ভার্জিন! মুখ বন্ধ রাখ!”
আয়ান ভয়ে হাত গাল চেপে নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
মুসকান আবার ডেকে ওঠে—
আব্বু ভিটরে আতো না কেন?
আম্মু তোমাতে দেতলে খুব খুতি হবে!”
ক্ৰিশ স্থির হয়ে যায়।
তার চোখে শিশুটিকে দেখে অদ্ভুত এক অনুভূতি জেগে ওঠে…
মনে হয় যেন এই ছোট্ট মেয়েটা সত্যিই তার কেউ।
মুসকান আবার security-কে বলে ওঠে—
“দতজা খুলুন!
আমার আব্বু এতছে তো!”
গার্ড দ্বিধা না করেই গেট খুলে দেয়।
গেট খোলার সাথে সাথে মুসকান দৌড়ে গিয়ে ছোটো ছোটো দু হাত দিয়ে ক্ৰিশ-এর পা জড়িয়ে ধরে।
অদ্ভুতভাবে—
ক্ৰিশও তাকে বুকে তুলে নেয়।
মৃদু হেঁসে মুসকানেৱ কপালে ছোট্ট করে একটা চুমু দিল।
ক্ৰিশ আস্তে বলে “তুমি আমাকে চেনো?”
মুসকান চওড়া হাঁসি দিয়ে বলে —
“চিনব না কেন? টুমি টো আমার আব্বু!
আমি রোত টুমার ছবি দেতি তো!”
আয়ান অবাক হয়ে—
“ভাই… ভাই… কিছু তো গোলমাল আছে…”
ক্ৰিশ আবাৱ রাগী চোখে তার দিকে তাকাতেই
আয়ান মুখে আঙুল দিয়ে চুপ কৱে দাঁড়ায়।
মুসকান খুশিতে ক্ৰিশেৱ এর হাত টেনে বলে—
“চলো না আব্বু! I mitt you.
সন্ধ্যা নেমে এসেছে।
চারদিকে এক ধরনের অদ্ভুত অন্ধকার…
রাস্তার লাইটগুলো মাঝেমধ্যে জ্বলছে-নিভছে।
মুসকান সারা দিন ধরে বলেছে আজ বেড়াতে যাবে।
তাই ৱুহি তাকে নিয়ে বেরিয়েছে।
গাড়ি চালাচ্ছে ৱুহি,
মুসকান পাশে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে খুশিতে বাৱ বাৱ হাত তালি দিচ্ছে।
হঠাৎ একটা আইসক্রিম ভ্যান দেখে!
মুসকান খুশিতে চিৎকার করে উঠে—
“আম্মু আম্মু আইতক্ৰিম আইতক্ৰিম”
ৱুহি হেঁসে গাড়ি রাস্তার পাশে থামিয়ে দিল।
গাড়ি থেকে নামতে নামতে বলে,
“তুমি বসো ঠিক আছে? আমি তোমার পছন্দের ice cream নিয়ে আসছি!”
মুসকান খুশিতে মাথা নাড়ল—
“oke আম্মু!”
ৱুহি রাস্তা পার হওয়ার জন্য এগিয়ে যায়।
হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে তাৱ চুল মুখে এসে পড়ে,
সে বিরক্ত হয়ে চুল সরিয়ে নিল।
তার চোখের সামনে আইসক্রিম ভ্যান…
কিন্তু ঠিক তখনই—
একটা কালো গাড়ি পাশ দিয়ে বেৱিয়ে যায় হালকা গতিতে।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য…
ৱুহি সামনের সিটে থাকা লোকটার মুখ দেখল—
ক্ৰিশ…….
তার ক্ৰিশ!
ৱুহিৱ নিঃশ্বাস থেমে যায়।
ৱুহি এক সেকেন্ডও দেরি করল না—
দৌড়ে নিজের গাড়িতে ফিরে এল।
কাঁপা কাঁপা হাতে স্টিয়ারিং ধরল।
মুসকান অবাক—
“আম্মু কী হলো? Ice cream?”
ৱুহি কাঁপা গলায়—
“পরে দেবো সোনা… এখন খুব দরকারি কাজ আছে!”
তার চোঁখে পানি জমেছে… শ্বাস ভারী হয়ে উঠছে…
কিন্তু দৃষ্টি স্থির—
সেই গাড়ির দিকে… যেখানে সে ক্ৰিশ কে দেখেছে।
ৱুহি গাড়ির চাবি ঘুরিয়ে দিল—
ইঞ্জিন গর্জে উঠল।
ৱুহিঃ “আমি ভুল দেখতে পারি না…
ওটা ক্ৰিশই ছিল।”
পাগলের দ্ৰুত গতিতে সে গাড়ি চালাতে শুরু করল—
সরাসরি সেই কালো গাড়ির পেছন পেছন…
মুসকান সিটে বসে চুপচাপ,
মায়ের মুখের আতঙ্ক দেখছে কিন্তু কিছুই বুঝছে না।
আম্মুঃ “টুমি… কাঁনছো কেন?”
ৱুহি ঠোঁট চেপে ধরে—
“কিছু না সোনা… তোমাৱ আব্বু…”
আর কথা শেষ না করেই,
তার চোখ আবার সেই গাড়ির লাল ব্রেকলাইটে আটকে যায়।
কিছু মিনিট পর—
কালো গাড়িটা এসে থামল
এক বিশাল, রাজকীয় বাড়ির সামনে।
ৱুহি ব্রেক চাপল,
গাড়িটা থেমে গেল সামান্য দূরে।
চোখের সামনে— ক্ৰিশ দরজা খুলে নেমে এলো।
ৱুহির চোঁখ ভিজে উঠল…
যেন পুরো পৃথিবীটা থেমে গেল এক মুহূর্তে।
তার পাশে আয়ানও নামল।
দু’জনই বাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল
কোনো কথা ছাড়াই।
ৱুহি দরজা খুলে নামতে গিয়েও স্থির হয়ে গেল।
তার পা সামনে এগোতে পারছে না।
ভয়, আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাস—একসাথে তাকে থামিয়ে দিল।
তার শ্বাস ভারী…হাত কাঁপছে…
অবশেষে সে ব্যাগ থেকে ফোন বের করল
দ্রুত একটা নম্বর ডায়াল করল।
ৱুহিঃ “Hello Sir… আমি ৱুহি বলছি।
আমি একটা বাড়ির ঠিকানা পাঠাচ্ছি…
আপনি কি প্লিজ এই বাড়ির মালিক আৱ সদস্য দেৱ সব ডিটেইলস আমাকে দিতে পারবেন?”
ওপাশে কেউ কিছু বলল—
ৱুহিঃ “Okay Sir… thank you so much…
কাল পেলেই হবে… রাখছি।”
ফোনটা নামিয়ে চোখ বন্ধ করে গভীর নিঃশ্বাস নেয় ৱুহি তাৱ বুক এখনো ধকধক কৱছে।
রাতভর চোঁখে ঘুম আসেনি ৱুহিৱ।
ক্ৰিশ কে সামনে দেখাৱ পৱ থেকে তাৱ বুকের ভেতর কাঁপছে।
মুসকান তখনও ঘুমাচ্ছে।
ৱুহি নিঃশব্দে বেরিয়ে এল ড্রয়িংরুমে।
কিছুক্ষণ পর ডোরবেল বেজে উঠল।
দরজা খুলতেই দেখা গেল—
সামনে দাঁড়িয়ে একজন পুলিশ অফিসার।
সুট পরা, মুখে গম্ভীর ভাব।
তিনি সেই ব্যক্তি —
যাকে ৱুহি গতরাতে ফোন করেছিল।
Inspector: “Good Morning, Ruhi.
আপনার বলা ঠিকানার তথ্য আমি বের করেছি।”
ৱুহি থম মেরে দাঁড়িয়ে গেল।
তার হাত কাঁপতে লাগল অজান্তেই।
ৱুহি নরম গলায়: “Please… বসুন।”
Inspector ফাইল খুলে পড়তে শুরু করলেন—
Inspector: “যাকে আপনি Krish Khan ভাবছেন…
তিনি Krish Ahmed Siddiki।
বিদেশে ছিলেন কয়েক মাস আগে ফিৱেছেন।
তার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন।
তাকে বড় করেছেন তার ফুফু।”
ৱুহি-র নিশ্বাস আটকে গেল।
Inspector আরও বললেন:
“ওই বাড়িটি তার ফুফুর নয়, তবে ক্ৰিশেৱ ফুফু ফুফা আৱ তাদেৱ একমাএ মেয়ে সবাই একসাথে থাকেন।”
ৱুহি নির্বাক হয়ে শোনো চোখের পাতা পর্যন্ত নড়ছে না।
ৱুহিঃ “কিন্তু…
যদি তিনি আলাদা মানুষ হন—
তাহলে… আমার ক্ৰিশেৱ মতো একেবারে হুবহু দেখতে হলো কীভাবে?”
তার কণ্ঠে কষ্ট, সন্দেহ, আশা—সব মিশে আছে।
Inspector একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন—
Inspector: “এটা সত্যিই অবাক করার বিষয়।
কিন্তু তার পরিচয়-পত্র, রেকর্ড… সবই বলে
তিনি Krish Ahmed Siddiki।
আর যদি তিনি আপনার স্বামীই হতেন…
তাহলে কি এতদিন পরে তিনি আপনার কাছে ফিরতেন না?”
ৱুহি মাথা নিচু করল।
চোখের কোণ ভিজে উঠল।
ৱুহি নিজেকে বুঝিয়ে বলা ভঙ্গিতে: “হয়তো…
হয়তো তিনি সত্যিই আমাৱ ক্ৰিশ নয়…”
Inspector চুপ করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
Inspector: “আমার দেওয়া তথ্য পুরোপুরি সঠিক।
এবং আমার মনে হয়—
কোনো ভুল বোঝাবুঝি না তৈরি কৱাই ভালো ।”
ৱুহি ধীরে মাথা নাড়ল…
কিন্তু হৃদয়ের ভেতরে হাজারটা প্রশ্ন এখনও জ্বলছে।
ৱুহি চোঁখ মুছে: “ধন্যবাদ, Sir…
আমাকে এত বড় সত্যটা জানানোর জন্য।”
Inspector সম্মানের সঙ্গে মাথা নত করে চলে গেলেন।
দরজা বন্ধ করে ৱুহি সোফায় বসে পড়ল।
দু’চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল…
তার হৃদয় চিৎকার করে বলছে—
“ওই মানুষটা…
আমার ক্ৰিশ।”
কিন্তু… প্ৰমান পরিচয়, সবই বলছে — তিনি অন্য কেউ।
ৱুহি চোঁখ বন্ধ করে ফিসফিস করল—
“ক্ৰিশ কোথায় আপনি?”
ৱুহি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে মুখ মুছতে মুছতে
চোখ তুলে বিছানার দিকে তাকাল—
ফাঁকা বিছানা।
মুসকান কোথাও নেই।
ৱুহি প্রথমে ভাবে— “ হয়তো রান্নাঘরে গেছে…”
কিন্তু আশঙ্কা বুকের ভিতর কাঁপুনি ধরায়।
ৱুহি ডাকতে শুরু কৱে—
“মুসকান?… মুসকান?… কোথায় গেলে সোনা?”
কোনো উত্তর নেই।
রুম থেকে বেরিয়ে ৱুহি পুরো বাড়ি তন্ন তন্ন কৱে খোঁজে—
ডাইনিং, স্টাডি, বেলকনি, এমনকি সোফার পেছনেও—
মুসকান কোথাও নেই।
ৱুহিৱ নিঃশ্বাস দ্রুততর হতে থাকে।
হাত-পা কাঁপতে শুরু করল—
“না না… এভাবে হঠাৎ কোথাও যাবে মেয়েটা…?”
সে দৌড়ে নিচে নেমে গেল
মেইন গেটের কাছে দাঁড়ানো সিকিউরিটি গার্ডের দিকে—
ৱুহি হাঁপাতে হাঁপাতে:
“Uncle… মুসকান কে দেখেছেন? কোথায় গেল আমার মেয়ে?”
গার্ড শান্ত গলায় উত্তর দিল—
“জি ম্যাডাম… মুসকান তো একটু আগেই বাইরে গেছেন।”
ৱুহি অবাক, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে—
“কার সাথে? কার সাথে গেল?”
গার্ড একটু ভাবল— “এক ভদ্রলোকের সাথে…
কালো রঙের বড় গাড়ি…
মনে হলো… মুসকান চিনত তাকে।”
ৱুহিৱ এর কান শোনা বন্ধ হয়ে গেল।
হঠাৎই তার মাথা ভারী হয়ে উঠল—
কালো গাড়ি…!
তার বুক ভেঙে যাওয়ার মতো বেদনা—
আর ভয় একসাথে আঘাত করল।
সে আর কিছু জিজ্ঞেস না করে
গেটের বাইরে ছুটে গেল—
নির্বাক কান্না চোখে ভেসে উঠছে।
রাস্তার ওপরে চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু খুঁজতে থামছে না—
“মুসকান………..শোনা আমাৱ কোথায় তুই!”
দৌড়াতে দৌড়াতে,
পাগলের মতো চারপাশ তাকিয়ে—
হঠাৎ— একটি গাড়ি এসে তার সামনে থামল।
ব্রেকের শব্দে ৱুহি থমকে দাঁড়ায়।
চোঁখ বড় হয়ে গেল…
তার দিকেই মুখ করে
গাড়ির দরজা ধীরে খুলে গেল—
গাড়ি থামার শব্দে চারপাশের লোকজন এক মুহূর্ত তাকিয়েই ফের ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
বড় শহর—কাউকে দেখার সময় কারও নেই।
কিন্তু রূহির চোখ আটকে আছে শুধু একজনের উপর—
গাড়ির দরজা খুলে ধীরে ধীরে নামে ক্ৰিশ।
কালো শার্টের উপরের দুই বোতাম খোলা—
সে একটু মাথা ঝাঁকায়…
আলোছায়ায় তার বুকের পেশীগুলো ঝলকে ওঠে।
চুল ঠিক করতে করতে এগিয়ে এসে—
হালকা বাঁকা হাঁসি ফেলে ক্ৰিশ।
ক্ৰিশ: “কেমন আছো, হানি?
চলো… গাড়িতে বসো।
একটু বিয়ে কৱবো আৱ কী।”
রূহির গলা শুকিয়ে যায়, একই মানুষ একি ভয়েস একই স্টাইল কী কৱে আলাদা হতে পাৱে।
এক মুহূর্তের জন্য বুকটা কেঁপে ওঠে…
কিন্তু সাথে সাথেই পুলিশের কথা মনে পড়ে যায়।
ৱুহি মনে মনে ভাবে একে দেখে “দুর্বল হোস না রুহি… এ লোকটা আসল ক্ৰিশ না।”
চোখ সরু করে দৃঢ় গলায় রুহি বলে—
মানে কী?
“আমি আপনাকে কেন বিয়ে করব?”
সে ঘুরে হাঁটতে শুরু করে—
কিন্তু ক্ৰিশ শান্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে এসে
তার কব্জি শক্ত করে ধরে—
ঝট করে ঘুরিয়ে আনে নিজেৱ দিকে…
সেই মুহূর্তে দু’জনের বুক– ঠেকে যায়।
দমের তীব্রতা ছুঁয়ে যায় একে অপরকে।
ক্ৰিশ (ফিসফিস): “ আৱে শুধু বিয়ে না… হালকা করে বাসরও কৱবো।”
রূহি শিউরে উঠে—চোখে বিদ্যুতের মত রাগ—
রুহি: “দেখুন!”
ক্ৰিশ এক চুলও নড়ে না।
বরং ৱুহিৱ কোমরে হাত দিয়ে কাছে টেনে নেয়— ঘুৱিয়ে গাড়ির দিকে নিতে নিতে বলে—
“নটি! হ্যাঁ সব দেখবো বিয়েৱ পৱ…।”
রুহি শেষ চেষ্টা করে বলে উঠে—
“আমি আপনাকে বিয়ে করব না…
কখনোই না!”
ক্ৰিশ ঠান্ডা চোঁখে তাঁকিয়ে, হাঁসি চেপে বলে
“তুই করবি না? তোর চোদ্দো গুষ্টি করবে।”
কথা শেষ না হতেই— সে রুহিৱ কোমর ধরে
এক ধাক্কায় গাড়ির ভিতর ফেলে বসায়।
দরজা ধাক্কা দিয়ে বন্ধ কৱে।
রুহি শ্বাস নেবার আগেই—
mad for you part 36
শুনতে পায় চকলেটের মোড়ক ছিঁড়ে ফেলার শব্দ।
পিছনে তাকিয়ে রুহি চমকে ওঠে—
মুসকান আরামে বসে আছে…
পা দোলাতে দোলাতে চকলেট খাচ্ছে।
তার পাশেই একজন বসে আছে আয়ান—
মুখে দুষ্টু হাঁসি নিয়ে।
মুসকান চওড়া হাঁসিতে দিয়ে বলে—
“আম্মু, আব্বুকে তাতাতাৱি বিতে করো—
আমি খুত এতটাইটেড”
