Home শ্রাবণ ধারার রূপকথা শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৮

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৮

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৮
অনামিকা তাহসিন রোজা

কনিকা আজকাল ভীষন লজ্জা পায় সাদিককে। কখনো এতটা লাজুক লালিমায় কনিকা কে দেখেছে কিনা জানা নেই সাদিকের। তবে আজকাল অবশ্য এভাবেও মেয়েটা কে দারুণ লাগে। একদম বউ বউ মনে হয়। এইতো সকাল বেলা সাদিককে চা দিয়ে কনিকা সেই যে উধাও হয়েছে। আর খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। আজ আবার তাদের ঢাকা তে যাওয়ার দিন। বিকেল বেলা বের হবে তারা। অথচ চোখের সামনেই আসছে না মেয়েটা।
শেষে বাধ্য হয়ে সাদিক নিজেই খুঁজতে বের হলো কনিকা কে। পুকুর পাড়ে গিয়ে অবশেষে বিচ্ছু টাকে খুঁজে পেলো সাদিক। কনিকা পুকুর পাড়ে পা ঝুলিয়ে বসে আছে। চোখে মুখে অদ্ভুত দীপ্তি। সাদিক পুলকিত হলো। ভালো লাগলো সহসা। নিজেও গিয়ে ধপ করে বসে পড়লো মেয়েটার কাছে। কনিকা সাদিককে দেখেই ভোঁ দৌড় মারতে চাইলো। কিন্তু তার আগেই শক্তপোক্ত হাতের সাদিক মুহুর্তেই হাত টেনে ধরলো কনিকার। কাঁদো কাঁদো মুখ করে তাকালো মেয়েটা। বলল,

—” ছেড়ে দেন।”
সাদিক ভ্রু কুঁচকে চোখ সরু করে বলল,
—” বউ ছাড়তে নাই। আল্লাহ পাপ দেয়।”
কণিকা আরো সংকুচিত হয়ে বলল,
—” উহু। আপ-আপনি ছাড়ুন আগে। ”
—” ছাড়ুম না?”
—” কেনো?”
—” কারন তুমি আমার বউ।”
কণিকা মুখ ভেঙচালো। আবারো মোচড়ামুচড়ি শুরু করলে সাদিক তাকে হ্যাঁচকা টানে নিজের কাছে এনে বসিয়ে দেয়। কোঁমড় চেপে টেনে নিজের পাশে ঘেষে বসিয়ে বলে
—” তোমার যে এত্তগুলা রূপ আছে। তা তো জানতাম না আমি। ওই সময় আরো কয়েক মিনিট থাকলে যে কি হয়ে যাইতো।”
কণিকা লাজুকলতার মত গুটিয়ে গিয়ে মিনমিন করে বলল,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

—” মানে?”
সাদিক হেসে বলল,
—” খোলাশা কইরা আর কিছু কইলাম না। লজ্জা দিতে চাইতাছি না তোমারে। কিন্তু এইটা জানে রাখো যে তোমারে আমি আর কখনোই ছাড়ুম না। ছাড়ুম না মানে ছাড়মুই না। এতে তুমি আমারে বকো, মারো, কাটো, যা খুশি তাই করো।”
কণিকা মাথা নিচু করে হাসলো। লজ্জা পেলো আবারো। একটু সময় নিয়ে বসে রইলো সাদিকের পাশে। এভাবে পুকুরপাড়ে স্বামীর সাথে বসে সময় কাটাতে মোটেই মন্দ লাগছে না তার। তবে এক মুহুর্তের জন্য একটু মন খারাপ হলো কনিকার। সাদিকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

—” আইচ্ছা আব্বা-মা কি আমারে কোনোদিনও খুঁজবে না? আমার ছোট ভাইগুলারে কি আর কোনোদিনও দেখবার পারুম না?”
সাদিক চুপ করে রইলো। এ বিষয়ে বলার মত কিছু নেই তার। কনিকার বলার আগেই সে আবারো চেষ্টা করেছিল। চেয়েছিল কনিকা কে নিয়ে শহরে যাওয়ার আগে অন্তত দেখা করে যাবে সবার সাথে। কিন্তু সম্ভব হয়নি। সাদিক পারেনি। খোঁজ পায়নি কারো। গ্রামে তাকে ঢুকতেই দেয়া হয়নি। এমনকি সাদিকের গায়েও হাত তোলা হয়েছে। শেষে ব্যর্থ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে সে। কনিকার কৌতূহলী চোখজোড়া লক্ষ্য করে সাদিক কনিকার গালে হাত বুলিয়ে বলল,

—” শুনো, তোমারে আমি বিয়ে করছি। তুমি এখন পুরোটাই আমার। আমিই তোমার একমাত্র অভিভাবক। বিশ্বাস করো, আমি কম চেষ্টা করিনি। কিন্তু তবুও পাইনি তোমার ভাইদের। তোমার বাপ মায়েও খুঁজে পাইনি।”
একটু থেমে সাদিক আবারো বলল
—” আইচ্ছা, তুমি কি আমারে ভরসা করো না?”
কনিকা উত্তর না দিয়ে তাকিয়ে রইলো। সে তো আর বলতে পারবেনা, চেঁচিয়ে মনের কথা বলতে পারবেনা যে, হ্যাঁ ভরসা করি, সবার থেকে বেশি ভরসা করি। কনিকা জবাবে শুধু হালকা করে মাথা নাড়ালো। সাদিক এবারে কনিকার মাথায়ও হাত বুলিয়ে বলল,

—” ওনারা তোমারে চায়না কনা! তোমার খোঁজও নেয় না। তুমিও ওদের ভুইলা যাও। আমি আছি তো। দেখবা আমরাও অনেক সুন্দর একখান সংসার করব। আমি কোনোদিনও তোমারে এটুকু দুঃখ পাবার দিমু না। অনেক ভালা রাখমু তোমারে। দেইখা নিও তুমি। কষ্ট পাইয়ো না। সব ঠিক হইয়া যাইবো।”
কনিকা কিছুক্ষণ বিষাদ মুখে চেয়ে থেকে হুট করেই নিঃশব্দে হেসে ফেলল। সাদিককে জড়িয়ে ধরলো অবলীলায়। সাদিক অপ্রস্তুত ছিল। হুট করে যে তাকে এভাবে জড়িয়ে ধরবে ভাবেনি সে। কিন্তু মুহুর্তেই নিজেকে সামলে সেও কনিকার পিঠে হাত রাখলো। কনিকা সাদিকের বুকে মাথা রেখেই বলল,
—” আমি কষ্ট পাইতাছি না। আমি তো খুব ভালা আছি আপনার সাথে। অনেক ভালা আছি। আমি জানি আপনি আমারে দুঃখ দিবেন না। পারবেনই না!”
সাদিক প্রশান্তির শ্বাস ফেলল। ভালো লাগছে তার। বুক থেকে একটা ভার নেমে গেছে বলে মনে হলো। শেষে সেও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো কনিকা কে। চোখ বুঁজে শুকরিয়া আদায় করতে ভুলল না। ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে বিকেলে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি করে নিলো দুজনে।

মুনিরা জিহানের বিয়ে সুষ্ঠুতার সাথেই সম্পূর্ণ হয়েছে। তারা এখন বর্তমানে যাত্রায় আছে। সাজেকের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে দুজনে। হানিমুন টা সেখানে সেড়ে তারপর আসবে। এদিকে শেখ বাড়ির অবস্থা একটু কাহিল। সামিউল শেখ ভীষন অসুস্থ। সালমা বেগম তার সেবায় ব্যস্ত। ধারাও কম নয়। সেও সেবা করছে সাধ্যমতো। তবে এর মাঝে সবার সবকিছু ঠিক থাকলেও শ্রাবণ আর ধারার মধ্যে একটুখানি ঝামেলা হয়েছে। তারা সকাল থেকেই একে অপরের সাথে কথা বলছে না। এর অবশ্য এক কারন রয়েছে। শ্রাবণ ধারাকে ভালো করে থাকতে বলেছিল। ঠান্ডা বেশি হওয়ায় চাদরও দিয়েছিল। অথচ অবহেলার কারনে বেচারি ধারাও জ্বর বাঁধিয়ে শুয়ে আছে বিছানায়। মাঝে মাঝে এ অবস্থা তেই আবার ঘোরাঘুরি করছে। শ্রাবণ এ নিয়ে ভীষন রাগান্বিত। পারলে ধারার মাথায় বাড়ি মারে শ্রাবণ শেখ। বিকেল হতেই মেডিসিন আনে শ্রাবণ। ঘরে ঢুকে দেখে ধারা গলা অব্দি কম্বল দিয়ে নিজেকে মুড়িয়ে বসে রয়েছে। দেখেই মেজাজ খারাপ হলো শ্রাবণের। কতবার করে সে বলেছিল মেয়েটাকে। একটু ভালো করে চলাফেরা করো। ঠান্ডা লাগিও না। অথচ শেষে কিনা ঠান্ডা লাগিয়েই বসে রয়েছে অশভ্য মেয়েটা।

শ্রাবণ কথা বলল না ধারার সাথে। ঘরে ঢুকে ঠাস করে দরজা লাগালো। শব্দে মাথা তুলে তাকালো ধারা। শ্রাবণ কথা না বলায় তারো মনটা ভীষণ খারাপ। কিন্তু সেও নিরূপায়। কিছু বলতে পারছে না ভয়ে। শ্রাবণ টেবিলের কাছে মেডিসিন টা ঠাস করে রেখে শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে দৃঢ় কন্ঠে বলে উঠলো,
—” আমার দায়িত্ব আমি পালন করছি। কেও মেডিসিন চাইলে নিতে পারে৷ কোনো জোরজবরদস্তি নেই।”
বলেই ঘুরে ড্রেসিং টেবিলের সামনে চলে গেলো শ্রাবণ।
শুকিয়ে যাওয়া মুখটা আরেকটু রক্তশূন্য হলো থারারচ। ঠোঁট উল্টে তাকালো স্বামীর দিকে। মিনমিন করে জিজ্ঞেস করলো,

—” আপনি কেনো এত রাগ করছেন? সরি বলেছি তো।”
শ্রাবণ জবাব দিলো না। নিজের মত করে শার্ট খুলে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। ধারা কান্নারত মুখ নিয়ে তাকিয়েই রইলো। লক্ষ্য করল জ্বরের মাত্রাটা আরো বেশি করে বাড়ছে, মাথা ভনভন করে ঘুরছে, বমি বমি ভাবটাও টের পাওয়া যাচ্ছে। এসব কি নেওয়া যায়? রীতিমতো ক্লান্ত হয়ে আবারো মাথা মুড়ে ঢাকা নিলো ধারা। শ্রাবণের এমন অবহেলা আর আচরণে ভীষণ কষ্ট পেয়ে এবারে হু হু করে কান্না শুরু করলো। সে সব কিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু শ্রাবণের অবহেলা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারে না। লোকটা কেমন নিষ্ঠুরের মতো কথা শুনেও না শোনার ভান করে চলে গেল। মেডিসিনটা কিভাবে ঠাস করে জোর করে রেখে রাগ দেখালো। দরজাটাও কেমন যেন রেগেমেগে ঠাস করেই লাগালো। লোকটা কি বুঝতে পারছে না যে বেচারী ধারা ভয় পাচ্ছে?

খানিকক্ষণ বাদে ওয়াশরুম থেকে বের হলো শ্রাবণ। হাতে টাওয়াল দিয়ে মুছতে মুছতে এগিয়ে আড় চোখে তাকালে বিছানার দিকে। চোখ সুরু করে তাকিয়ে বিড়বিড় করে, ” বলদ “বলল। এর পরে টাওয়ালটা শুকাতে দিয়ে বিছানার কাছে এসে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল নিজের বিছানার মাঝখানে সটান হয়ে মাথা মুড়ে শুয়ে থাকা ধারার দিকে। মেয়েটা যে কাঁদছে সেটা বেশ ভালো করেই টের পাওয়া গেলো। কারণ কান্নার তালে শরীর কাঁপছে মেয়েটার। শ্রাবণের এক মুহূর্তের জন্য মায়া হলো, আবার রাগও হলো। কিন্তু সে আবার অত্যন্ত দয়াবান। আদরের বউটাকে অনেক বেশি ভালোবাসে সে। তাই রাগ করে থাকা তার পক্ষে আর সম্ভব না। এমনিতেই সকাল থেকে কথা বলেনি বলে বুক ব্যথা করছে।
শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানার উপরে বসে পড়লো শ্রাবণ, সময় নিয়ে একটু একটু করে শুয়েও পড়ল ধারার পাশে। ধারা মেয়েটা এখনো বোঝেনি যে তার পাশে শুয়ে পড়েছে শ্রাবণ শেখ। কিছুক্ষণ পর শ্রাবণ গলা খাঁকারি দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো,

—”কান্না থামাও বেয়াদব।”
ধারা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে না কেঁদে অস্ফুটস্বরে কান্না শুরু করেছিল বলে শ্রাবণের কন্ঠটা শুনতে পেল। এবং কান্না থামিয়ে একটু একটু করে মুখের উপর থেকে কম্বল সরিয়ে আড় চোখে তাকালো শ্রাবণের দিকে। শ্রাবণে তাকালো ধারার দিকে। মেয়েটার চোখ ভর্তি পানির ফোয়ারা দেখে মায়া উপচে পড়লো তার। ধারার চোখে তাকিয়ে কাতর গল্য় বলল,
—” দুর্বলতায় আঘাত করো না মেয়ে। প্রিয়তমার চোখের পানি সহ্য হয়না আমার। আমার সামনে চোখের পানি বিসর্জন দেয়া বারণ।”
ধারা ঠোঁট উল্টে এভাবে অভিমানী নয়নে তাকিয়ে মিনমিন করে বলল,

—”আপনি আমার সাথে সকাল থেকে কথা বলছেন না। সরি বলেছি তো। তবুও রাগ দেখাচ্ছেন। এমনিতেই মাথা ব্যাথা করছে, জ্বরে মাথা ঘুরছে। তার ওপর আপনার রাগ দেখে আমার এখন ইচ্ছে করছে চলে যাই কোথাও। ”
চোখ সরু করলো শ্রাবণ। গম্ভীর ভাবটা বজায় রেখে জিজ্ঞেস করল,
—” কোথায় যাবে?”
—” যেখানে খুশি সেখানে। আপনার সাথে থাকবো না আমি। চলে গেলে তো খুশিই হবেন।”
শ্রাবণ ভ্রু কুঁচকে তাকালো। ধারা হাত উঠিয়ে সদ্য আসা চোখের পানি মুছে নাক টেনে নিয়ে আবারো চোখমুখ কুঁচকে কান্নারত স্বরে বলল,

—” আপনি ভীষন খারাপ। আমি চলে যাব। থাকবো না আপনার সাথে, থাকবোনা একটুও।”
শ্রাবণ ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
—” আচ্ছা তাই?”
ধারা পুরোদমে মাথা নেড়ে বলল,
—” হ্যাঁ অবশ্যই। ”
শ্রাবণ সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কাঁমড়ে হাসলো। মনে মনে ভেবে নিলো কিছু একটা। বিড়বিড় করে বলল,—” শাস্তি মওকুফ! বোকা মেয়ে টা কেঁদে কেঁদে মন গলিয়ে নিলো।”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে শ্রাবণ আবারো ধারার দিকে তাকালো। গম্ভীর মুখ করেই দুহাত বাড়িয়ে বলল,
—” বুকে আসো। ”

ধারা যে অত্যন্ত রেগে গিয়েছিল সেটা তারই মনে থাকল না। “বুকে আসো” শোনা মাত্রই বিড়াল ছানার মত কোনো কথাবার্তা ছাড়াই সুড়সুড় করে শ্রাবণের বুকের কাছে চলে আসলো. শক্ত করে জড়িয়ে ধরল শ্রাবণকে। বুকে মাথা রেখে আবারো কান্না করতে শুরু করলো। শ্রাবণ ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এটাই হচ্ছে ম্যাজিক। যে মেয়েটা একটু আগে চলে যাব, থাকবো না -এসব হলে বকবক করছিল, সেই মেয়েটাই দুটো মাত্র শব্দে এক বলাতেই কাছে চলে আসলো। আর শ্রাবণ জানত এমনটাই হবে। সেও আর রাগ করে থাকলো না। জড়িয়ে ধরল বিড়াল ছানার মত বউ টাকে। কপালে সময় নিয়ে চুমু খেয়ে জিজ্ঞেস করল,

—’ খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে?”
ধারা আবারও জোরে জোরে মাথা নেড়ে বলল,
—” হুম, অনেক কষ্ট হচ্ছে। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আপনি কপালে আরেকটা চুমু খেলে কষ্টটা একটু কমতে পারে। দেখুন আমার কপাল গরম হয়ে গিয়েছে। ”
শ্রাবণ হেসে ধারার কপালে হাত রেখে দেখলো আসলেই কপাল গরম হয়ে গিয়েছে। আগুনের তাপে পুড়ে যাচ্ছে। সেই কপালে আদর করে চুমু খেয়ে অসহায়ের নয়নে চোখ মেলে তাকালো শ্রাবণ। কাতর কন্ঠে বলল,

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৭

—” কেনো যে তুমি আমার কথা শোনো না। জ্বর বাঁধিয়ে এখন কার কষ্ট হচ্ছে?”
ধারা মলিন হেসে শ্রাবণের বুকে মুখ লুকোলো। সে তো জানেই যে কার কষ্ট হচ্ছে। অবশ্যই ধারার থেকেও শ্রাবণ শেখের বেশিই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ধারার আর কোনো কষ্ট নেই। উল্টো উষ্ণ বুকে মাথা রেখে সে ঘুমের আভা টের পেলো। বড় করে শ্বাস নিয়ে আরামে চোখ বুঁজে ফেলল। দুহাতে চেপে ধরলো শ্রাবণের শার্ট। দশ মিনিটের মধ্যেই তলিয়ে গেলো ঘুমের রাজ্যে।

শ্রাবণ ধারার রূপকথা পর্ব ৪৯