Home ছায়াস্পর্শ ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪০

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪০

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪০
জান্নাত চৌধুরী

সকাল সকাল গোসল সেরে বেড়িয়ে ছিলো আরাধ্য , ইফরাহ তখনো গভীর ঘুমে ছিলো। ঘুম ভেঙ্গেছে রেণুর মায়ের ডাকে। রাতের ক্লাতি এখনো বয়ে নিয়ে ঘুরছে , তল পেটের তীব্র ব্যথার নড়াচড়া করাও দায় হয়ে উঠেছে তার ‌।
ঘরে এসে গোসল সেরে ভেজা চুল মেলে বেলকনিতে বসেছে। পেটে ক্ষুধা তবে লোকটাকে না খাইয়ে সে খায় না।
বেলা তখন ১১টার ঘরে।‌ ব্যস্ত ভঙ্গিতে ঘরে প্রবেশ করলো আরাধ্য। দ্রুত হাতে আলমারি হতে এক নীল রঙের ফাইল বের করে বেরিয়ে যাবে তখনি ইফরাহ জড়ালো গলা শুনে থামলো।

-“শুনছেন‌;
গলা বেলকনি থেকে এলো , আরাধ্য দরজার দিকে না গিয়ে বেলকনিতে আসলো।ইফরাহ পেট চেপে রকিং চেয়ারে বসা। আরাধ্য এসে হাঁটু ভাজ করে বসলো । হাতের ফাইল মেঝেতে রেখে‌ ইফরাহর পেটে হাত রাখলো। আলতো করে কয়েকবার হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলো , “পেটে ব্যথা”?
ইফরাহ উপর নিচ মাথা নাড়লো। আরাধ্য ফোস করে নিঃশ্বাস ছাড়ল ,
“ খেয়েছো কিছু?”
-“উঁহু ?”
-“কেনো?”
-“আপনি খান নি যে ?

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আরাধ্য উত্তর করে না। হাতের ঘড়ির দিকে একবার তাকয়। ইফরাহ আবার প্রশ্ন করে , “ কি হলো খেয়েছেন?”
আরাধ্য দৃষ্টি ফেরালো। ইফরাহ গালে হাত রেখে শান্ত গলায় বলল,
“ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে বাহিরে থাকি ইরা। আমার প্রতিক্ষায় না খেয়ে থেকো না।”
আরাধ্য হাত সরিয়ে নিবে , তবে হলো না। ইফরাহ তার হাতে উপর নিজের হাত রেখে গালের সাথে শক্ত করে চেপে ধরলে বলল , “ ব্যস্ততা নিশ্চয়ই আমার থেকেও অতিব গুরুত্বপূর্ণ নয়”!
-হুম নয় , তবে ;
ইফরাহ ঠোঁটের উপর আঙ্গুল রাখলো আরাধ্যের। ছোট বাচ্চার মতো আবদার করলো , “ ক্ষুদা লেগেছে ছোট নবাব।”
আরাধ্য মুখ থেকে আঙ্গুল সরিয়ে দিলো। ইফরাহর কপালে, গলায় হাত ছুঁয়ে দিলো পরপর , “ জ্বর জ্বর লাগছে তোমার? গা টা ভীষণ গরম ;
ইফরাহ মাথা ঝাঁকিয়ে সায় জানালো। আরাধ্য হতাশ হলো , বার বার ঘড়িতে নজর দিচ্ছে; ইফরাহর নজরে এসেছে জিনিসটা। আরাধ্য ব্যস্ত ভঙ্গিতে আবারো উঠে দাড়ালো ,

-“খাবার পাঠাই খেয়ে নাও; আমি ঔষধ আনবো।
আসছি !”
আরাধ্য বেড়িয়ে যাবে , হাত টেনে ধরলো ইফরাহ। আবারো বাঁধা পড়লো , আরাধ্যের মেজাজ চটে যাচ্ছে তাকে যেতে হবে। ইফরাহ বলল , “ উদাসীন লাগছে আপনাকে। একটু অপেক্ষা করুন!”
আরাধ্য আবারো হাঁটু গেড়ে বসলো। ইফরাহ বিরবির করছিলো একপর্যায়ে কিছু একটা বলে আরাধ্যের শরীরে ফুঁ দিলো। তারপর হাত তুলে নিয়ে দাঁত দিয়ে নখ কেটে দিলো , আরাধ্য কথা বলল না। মাঝেমধ্যেই হতাশা দূরে এই মেয়েটা টনিকের মতো কাজ করে তার জন্য।
-“এবার উঠতে হবে ইরা”!
ইফরাহ যেন আনমনেই বলল , “ বড্ড তাড়া করছেন আজ?”
আরাধ্য সেসব পাত্তা দিলো না। বড় বড় কদম ফেলে দ্রুত বেড়িয়ে গেলো।

দক্ষিণ পাড়ার অবস্থা ভীষণ খারাপ , ছোট খন্দকারের অস্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো নয়। আযান বাড়ির পিছনের দিক টায় দাঁড়িয়ে নিষ্পল চাহনিতে প্রকতি দেখছে ,
মুলত ভাবনায় মজেছে সে। বেশ অনেক্ষণ পর উড়ান এসে পাশে দাঁড়িয়ে ডাকলো , “ ভাইজান, ও ভাইজান”।
আযান দৃষ্টি ঘুরালো , উড়ানের দিকে একবার তাকিয়ে দুরের এক বেঞ্চে দিকে এগিয়ে গিয়ে বসল। আযান শক্ত ধাঁচের মানুষ , তার বন্ধু বান্ধব ও নেই যা আছে সব তার ভাই। বলতে গেলে দুনিয়ার তার এক মাত্র দুর্বলতা “উড়ান”!

আযান বসে কয়েকবার শ্বাস টেনে অস্থিরতা কমিয়ে হাত ইশারায় উড়ান কে ডাকলো।
উড়ান এসে বসলো পাশে। আযান উড়ানের মুখ পানে তাকিয়ে কিছুটা শান্ত হলো বোধ হয়। উড়ান অবুঝের ন্যায় বলল , “ কি হয়েছে ভাইজান বড্ড অস্থিরতা বহন করছো তুমি?”
আযান ডাকলো , “ আরো কাছে আয়।”
উড়ান শুনলো , আরো কিছুটা কাছে গিয়ে বসে আযানের বাহুতে মাথা রাখলো। আযান হাত বুলায় উড়ানের কোঁকড়ানো চুলে। কিছু সময় চুপ থেকে বলল , “ তোর শহরে ফিরে যাওয়া উচিত ‘ছুটু’!”
উড়ান অবাক হয় , “ কারণ কী ভাই?”
-”কারণ বললে বুঝবি তুই? বুঝবি না। তবে তোর গ্রাম ছাড়া উচিত।”
উড়ান মাথা তুললো। ভাইয়ের চোখের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে বলল , “ যেতে বলছো চলে যাবো। তবে …

আযান থামিয়ে দিলো , “ তবে আর কিছু না। ফিরে যা , তোকে নিয়ে পেরেসানি ভুগতে চাইছি না আমি। আমার জানের ভয় নাই, তবে তোর জান আমার জন্যে দামি!”
উড়ান হো হো করে হেসে উঠলো। হাসি থামিয়ে পাঞ্জাবির হাতা গুটাতে গুটাতে বলল, “ জ্যান্ত লাশের জানের মায়া করাটাই হাস্যকর ভাই। আমার মরনে ভয় নাই।”
-”বলছিস ?”
উড়ান অসল কন্ঠে বলল, “আমি প্রথমত নিঃস্ব হয়েছি ভালোবেসে। আপাতত দিনের পর দিন নিঃশেষ হচ্ছি তাকে অন্যের সাথে দেখে।‌
আযানের কন্ঠ গম্ভীর হলো , “থাপ্পাইয়া তোর ৩২ টা দাঁত ফেলবো জানোয়ার। তোর মরণের ভয় নেই তবে , আমার তোর জানের ভয় আছে। বুঝেছিস তুই ?”

-”যে দাঁতে হাড় চিবাতে পারিনা ওই দাঁত রেখে কি হবে , মারো থাপ্পড়, ফেলে দাও দাঁত।”
আযান হেসে ফেললো , জোড়ে এক ঘুসি পড়লো উড়ানে পিঠে , “ উঃ ভাই , লেগেছে কিন্তু।”
-“লাগার জন্য‌ই দিয়েছি।”
উড়ান ভেংচি কাটলো , “ লাগাল জন্য‌ই দিয়েছি”।
আযান জুতা হাতে তুলে বলল , “গেলি এখান থেকে , গেলি!”
দুইভাই হাসিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। ভরদুপুরে দুই ভাইয়ের আমদ কে যেনো হিংসে করছে , প্রখর কড়া রোদ। উড়ানের গরম সয় না। একটুতে ঘেমে একাকার হয়ে যায় সে। পাঞ্জাবি ভিজে উঠছে , সে হাসি থামিয়ে বলল –
-“উফফ বালের গরম , দেখছো কী পরিমাণ দেহের ক্ষতি করছে আমার। তুমি বাল কেমনে আছো এইখানে?
আযান চোখ পাকালো , “ তোকে ডেকেছি আমি ? তবে কার বাল ছিড়তে এসেছিস তুই? ”

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৯ (২)

-“বাহ ভাই তুমি দেখি গালি দিতে শিখেছো ; কী উন্নতি তোমার ভাই, হ্যাঁ।”
-“গেলি তুই শুয়োর , নাকি ….
-”যাচ্ছি বাপ যাচ্ছি ? ভাই তো নয় যেন জল্লাদ। ”
আযান এবার জুতা খুলে ছুঁড়েই মারলো , তবে বেশ সুন্দর মতো জুতা ক্যাচ করলো উড়ান। মুখে যুদ্ধ জয়ের হাসি , জুতার ব্লেট ধরে ডানে বামে নাড়িয়ে বলল,-
-“তোমার জুতোটাও তোমার মতো বিদঘুটে ভাই;
আযান দ্রুত উঠে দাড়াতেই , জুতা নিয়েই ছুটে বাড়ির দিকে যায় উড়ান। আযান দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসে ;

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪০ (২)