Home সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ৯

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ৯

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ৯
jannatul firdaus mithila

রাতভর জেগে থেকে কাহিল রৌদ্র। কাঁধ দু’টোতে ভর করেছে একরাশ ক্লান্তি। চোখেমুখে নেমেছে একরাশ বিষাদের ছায়া। ভোরের আলো ফুটবার আগেই রৌদ্রের কানে এলো দূর থেকে ভেসে আসা আযানের সুমধুর ধ্বনি। রৌদ্র ঠায় বসে আছে অরিনের বন্ধ দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে। আযান শুনতেই ছেলেটা নড়েচড়ে বসলো। চোখদুটো কেমন লাল টকটকে হয়ে আছে সারারাত জেগে থাকার দরুন। সে ধীরেসুস্থে উঠে দাঁড়ায়। ঘাড় বাকিয়ে একপলক তাকায় ঘরের দোরের পানে।বুক চিঁড়ে এক দীর্ঘ নিশ্বাস বেরিয়ে আসে তক্ষুনি। সে তৎক্ষনাৎ পা বাড়ায় নিজের ঘরের দিকে। কাবার্ড হাতড়ে সাদা তোয়ালেটা নিয়ে নিলো কাঁধে। অপর পাশ থেকে একখানা সাদা পাঞ্জাবি এবং পায়জামা বের করে রাখলো বিছানার ওপর। তারপর গম্ভীর মুখে চলে যায় ওয়াশরুমে।

প্রায় মিনিট দশেক পর, ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে রৌদ্র। কোমরে পেঁচানো একমাত্র সাদা তোয়ালেটা, গায়ে জমে আছে বিন্দু বিন্দু পানির ফোঁটা! চুল থেকে চুইয়ে পড়ছে পানি। রৌদ্র গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসে বিছানার কাছে। একহাতে ভেজা গা কোনমতে মুছে নিয়ে, পাঞ্জাবিটা পড়ে নিলো আলগোছে। সাদা পায়জামাটাও পরলো পরপর। ভেজা চুলগুলো একহাতে ঝাড়তে ঝাড়তে আবারও গেলো কাবার্ডের কাছে। সেখান থেকে সাদা টুপিখানা মাথায় চেপে পা বাড়ালো মসজিদের উদ্দেশ্যে।
সিঁড়ি বেয়ে নামছে রৌদ্র। ভোরের আলো তখনো ফুটেনি কিন্তু।সে গটগট পায়ে নিচে নামতেই সামনে পরলো কবির সাহেব।হঠাৎ ছেলেকে দেখে থামলেন তিনি। গম্ভীর কন্ঠে বললেন,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“ নামাজে যাচ্ছো?”
রৌদ্র স্থির দৃষ্টি ফেলে বাবার ওপর। পরক্ষণে নিজেকে একবার আপাদমস্তক দেখে নিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো,
“ সকাল সকাল পাঞ্জাবি, পায়জামা, টুপি পড়ে কেউ নিশ্চয়ই হাঁটতে বের হয়না!”
মুখ কুঁচকান কবির সাহেব। ছেলেটার এহেন উল্টো পাল্টা জবাবে বরাবরের ন্যায় কপাল বরাবর বিরক্তির ছাপ ফুটলো তার।তিনি কেমন গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠেন,

“ সোজা কথা আসেনা তোমার মুখ দিয়ে? সবসময় বাঁদড়ামি না করলে পেটের ভাত হজম হয়না তোমার তাইনা?”
মুখের সামনে হাত ঠেকিয়ে হামি টানলো রৌদ্র।পরপর ওপর নিচ মাথা নাড়িয়ে দুষ্ট কন্ঠে বলল,
“ এখনো ব্রেকফাস্ট করিনি আব্বু! তাই পেট আপাতত খালি! সেক্ষেত্রে হজম-টজমের প্রশ্নই ওঠে না।”
বিরক্ত হলেন কবির সাহেব। একটা কথা অব্ধি শান্তিতে বলে থামতে পারেননা তিনি। তার আগেই ছেলেটা কিসব উদ্ভট কথাবার্তা বলে বসে।কবির সাহেব কন্ঠে একরাশ ঝাঁঝ ঢেলে বললেন,
“ নামাজে যাচ্ছি বলে আপাতত তোমায় কিছু বললাম না বেয়াদব ছেলে! ফিরে এসে বলবো যা বলার!”
রৌদ্র মুখ টিপে হাসছে। তা দেখে কবির সাহেব কেমন উত্তেজিত কন্ঠে ধমকে উঠেন ছেলেকে!

“ চুপ করো বেয়াদব! নির্লজ্জের মতো আবারও আমার মুখের ওপর মুখ টিপে হাসছে!”
তৎক্ষনাৎ ঠোঁটের ওপর আঙুল চেপে ধরে রৌদ্র। অথচ হাসি তার বাড়ছে বৈ কমছেনা এখনো। কবির সাহেব দাঁত কিড়মিড় করছেন এবার। শক্ত মুখে আরও কিছু বলবেন তার আগেই রৌদ্র কেমন ব্যস্ত কন্ঠে বলে ওঠে,
“ বাসায় ফিরে বকবে আব্বু! এখন দ্রুত নামাজে চলো।”
থামলেন কবির সাহেব। নিজের উপচে পড়া রাগটা কোনমতে গিলে নিলেন তিনি। অতঃপর গম্ভীর মুখে কোমরের পেছনে দু’হাত বেঁধে পা বাড়ালেন বাড়ির বাইরে। রৌদ্রও ছুটলো বাবার পিছু পিছু। এগিয়ে এসে আলগোছে বাবার ডানহাতের বাহু চেপে ধরে বাচ্চাদের ন্যায়। কবির সাহেব না থেমেই এগোচ্ছেন। ছেলের হুটহাট কান্ডে অলক্ষ্যেই বোধহয় এক-আধবার মুচকি হেসেছেন গম্ভীর পুরুষ।

সকাল সকাল বাড়ির মেয়ে সদস্যরা একপ্রকার হৈ-হুল্লোড়ে মেতেছে। ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তারা। এর আগেই সকলের সাজগোজ সেরে নেওয়ার আদেশ এসেছে কবির সাহেবের কাছ থেকে। মেয়েগুলো সাজগোজের প্রতি যা সময় নেয় না…একেক জনের চুল বাঁধতেই ঘন্টা খানেক লাগে।
কবির সাহেব গম্ভীর মুখে ড্রয়িং রুমের বড় সোফার এককোণে বসে আছেন। দু’হাতে মেলে ধরে রেখেছেন সংবাদ পত্রের পৃষ্ঠা নম্বর দুই।সশব্দে পাঠ করছেন আজকের খবর। সাব্বির সাহেব বসে আছেন ভাইয়ের পাশে।বাম হাতে ধরে রেখেছেন চায়ের পেয়ালা। ধোঁয়া ওঠা গরম গরম চায়ের কাপে এক-দুবার চুমুক বসাচ্ছেন ফু দিয়ে।কান খাঁড়া করে মনোযোগ দিয়ে শুনছেন ভাইয়ের খবর পাঠ। এরইমধ্যে সেথায় আগমন ঘটে তায়েফ সাহেবের। বেচারার মুখ না যেন আমাবস্যার চাঁদ! কোথাও এক চিলতে আলোর ছটাক নেই! সাব্বির সাহেব আড়চোখে তাকালেন ভাইয়ের মুখপানে। সামান্য গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,

“ কী ব্যাপার? তোর মুখটা ওমন বাংলার পাঁচ করে রেখেছিস কেনো?”
কবির সাহেব পড়া থামালেন। সংবাদ পত্রের আড়ালে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন তায়েফ সাহেবের দিকে। এদিকে তায়েফ সাহেব কেমন ফোঁস করে নিশ্বাস ফেললেন।অসহায় মুখে ভাইদের পানে দৃষ্টি ফেলে বলে ওঠেন,
“ আর বলোনা! মাইমুনাকে শুধু বলেছিলাম, একটু তারাতাড়ি রেডি হতে।”
সাব্বির সাহেব নড়েচড়ে বসলেন এবার। ভ্রু কুঁচকে সন্দিহান গলায় জিজ্ঞেস করেন,
“ তো?”
অসহায় তায়েফ সাহেব গালের পাশে রাখেন। আর্তনাদ করে বলেন,

“ শুধু এটুকুই বললাম, এরপরেই শুরু হলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ! আমার গায়ে অপবাদ লাগলো,আমি নাকি তার সাজগোজ দেখতে পারিনা। সে নাকি যথেষ্ট কম সময় নেয় সাজগোজে।আমি না-কি ইচ্ছে করে তাকে কথা শুনাই!”
বেচারার এমন আর্তনাদে বাকি দু’জন না চাইতেও হেসে ওঠে শব্দ করে। তায়েফ সাহেব চোখ তুললেন। আহত কন্ঠে বললেন,
“ আমি এদিকে আমার দুঃখের কথা বললাম, আর তোমরা কি-না হাসছো?”

তৎক্ষনাৎ চুপ করে গেলেন বাকি দুজন। তায়েফ সাহেব আরও কিছু বলতেই যাবেন এর আগেই ড্রয়িং রুমে এসে দাঁড়ালেন বাড়ির চার গৃহিণী।দামী জামদানি, এলিগ্যান্ট জুয়েলারি সবকিছুর সমাহারে একেকজন পরিপূর্ণ। জুবাইদা বেগম হাসিমুখে কদম বাড়িয়ে এগিয়ে এলেন এক কদম।দ্বিধান্বিত চাহনিতে স্বামীর উদ্দেশ্য বললেন,
“ এই দেখো তো রোদের আব্বু! শাড়িটা আমার গায়ে মানাচ্ছে কি-না। না-কি এটা বাদ দিয়ে আরেকটা পড়বো?”
হোঁচট খেলেন কবির সাহেব। চোখদুটো বড়সড় করে নিয়ে হতবাক কন্ঠে বলে ওঠেন,

“ এতক্ষণ ধরে সেজেগুজেও কি-না বলছো এটা না আরেকটা পড়বে?”
গায়ে জ্বালা ধরলো জুবাইদা বেগমের।শান্ত মেজাজটা হুট করেই কেমন গরম হয়ে গেলো স্বামীর এহেন বাক্যে। গরম তেলে পানির ছিটে পড়লে যেমন ছ্যাৎ করে ওঠে, মানুষটাও তেমন ছ্যাৎ করে ওঠে বললেন,
“ কী বললে? এতক্ষণ মানে? আমিতো মাত্র একঘন্টা লাগালাম রেডি হতে। এটা কোনদিক থেকে বেশি মনে হলো তোমার কাছে?”

কবির সাহেব ভ্রু গোটায়। হাতের কাগজখণ্ড ভাজঁ করতে করতে বিরবির করে বলল,
“ হ্যা রেডি হতে একঘন্টা লাগিয়েছে,অথচ কোনটা পড়বে কোনটা পড়বেনা তা ভাবতেই ভাবতেই যে ঘন্টা দুয়েক পার করেছে, সেটার কী হবে?”
স্বামীর ঠোঁট নড়ছে এটুকু দৃষ্টি এড়ায়নি জুবাইদা বেগমের।পাশ থেকে দেবরগুলোও কেমন মুখ টিপে হাসছে। জুবাইদা বেগম ভ্রু কুঁচকালেন। গমগমে গলায় আবারও জিজ্ঞেস করে ওঠেন,

“ কী বিরবির করছো? যা বলার সামনা-সামনি বলো।আমিও একটু শুনি!”
থতমত খেলেন কবির সাহেব। সঙ্গে বাকিরাও।বেচারা তৎক্ষনাৎ দু’ধারে মাথা নাড়িয়ে আমতাআমতা করে বললেন,
“ আরে না না! তেমন কিছু না। আমি বলছিলাম — এই শাড়িটাই সুন্দর লাগছে তোমার গায়ে।থাক না,পড়ে থাকো এটাই।”
প্রশংসা পেয়ে খানিক দমলেন জুবাইদা বেগম। গাল ফুলিয়ে শাড়ির আঁচলটা এদিক ওদিক নাড়িয়ে সন্দিষ্ট দৃষ্টিতে ফের তাকায় স্বামীর পানে।কন্ঠ খাদেঁ নামিয়ে আরেকবার নিশ্চিত হতে জিজ্ঞেস করেন,
“ সত্যি ভালো লাগছে?”
কবির সাহেব জোরপূর্বক হাসি টানলেন ঠোঁটের কোণে। মাথাটা পরপর ঝাকিয়ে জোর গলায় বললেন,
“ হ্যা,হ্যা খুব সুন্দর!”

“ কোনটা পড়লে বেশি মানাবে বলুন তো? লালটা না-কি কালোটা?”
ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে তৈরি হচ্ছে অনিক। বামহাতের কব্জিতে বাঁধছে ঘড়ি। গায়ে জড়িয়েছে গাঢ় নীল রঙা পাঞ্জাবি। এরইমধ্যে পেছন থেকে ভেসে আসা ইকরার দ্বিধা-সন্দেহ কন্ঠে ঘাড় বাকিয়ে তাকায় সে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে ইকরার দিকে। ইকরা ঠোঁট উল্টায়। দু’হাতে দুটো শাড়ি অনিকের সামনে বাড়িয়ে দিয়ে আবারও বলে,
“ কোনটা পড়বো বলুন না।”
অনিক একপলক শাড়ি দুটোর দিকে তাকায়। ঠোঁট কামড়ে কিছু একটা ভেবে পরক্ষনেই মুচকি হেসে বলে,
“ একটাও না!”
হতবাক চোখে তাকিয়ে রইল ইকরা।হতবাক কন্ঠ ফুঁড়ে অস্ফুটে বেরিয়ে এলো,

“ তাহলে কী পড়বো?”
অনিক এগিয়ে আসে এক কদম। কপালে ভাজঁ ফেলে শাড়ি দু’টো ইকরার হাত থেকে নিয়ে নামিয়ে রাখলো বিছানার ওপর। পরক্ষণে নিজে চলে গেলো আলমিরার কাছে। মিনিট খানেক সময় নিয়ে খুঁজলো কিছু একটা। পরমুহূর্তে পেয়ে গেলো কাঙ্ক্ষিত জিনিস। কালো রঙের একটি শপিং ব্যাগ।অনিক ব্যাগটি নিয়ে চলে আসে ইকরার কাছে। ইকরা তখন শঙ্কিত গলায় জিজ্ঞেস করে,
“ এটা আবার কী?”
অনিক মৃদু হাসলো। শপিং ব্যাগ থেকে আলগোছে বের করে আনলো একখানা নীল রঙা ভারি কারুকার্যে শোভিত শিফন জরজেটের শাড়ি। ইকরা চোখ তুললো কপালে। শাড়ির গায়ে আলতো হাত বুলিয়ে অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করে ওঠে,

“ এই শাড়ি কবে আনলেন আপনি? ”
অনিক প্রতিত্তোরে সময় নিলো। শাড়িটা আলতো করে খুলে নিয়ে,ইকরার দিকে এগিয়ে এলো নিজ উদ্যোগে। মেয়েটার পরনে সাধারণ সুতির থ্রি পিছ। সে আবার ঠিকমতো শাড়ি সামলাতে জানেনা! অনিক আলতো করে হাত রাখলো ইকরার কাঁধে। আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে মেয়েটার মুখপানে তাকিয়ে থেকে হাত বাড়িয়ে আলগোছে টেনে সরিয়ে দিলো সুতির ওড়নাটা। ইকরা মুখ নামিয়ে আনলো। দৃষ্টি ঠেকালো জমিন বরাবর। লজ্জায়, বিড়ম্বনায় হাসফাস লাগছে মেয়েটার। হাতের আঙুলগুলো ডলতে ডলতে সে কেমন মিনমিন করে বলল,
“ আপনি ছাড়ুন। আমি পড়ে নিবো।”
অনিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। মেয়েটার কাঁধের ওপর থেকে বস্ত্রখানা ধীরেসুস্থে নামিয়ে দিয়ে আচ্ছন্ন গলায় বলতে লাগলো,

“ আমি থাকতে তুমি কেনো পড়ার কষ্ট করবে? তোমার কী মনে হয়? আমি কেবল খুলতেই জানি?”
এহেন কথায় কানদুটো একপ্রকার ঝা ঝা করে ওঠল ইকরার।জিভে কাটলো দাঁত। গালদুটোয় ঈষৎ লালবর্ন ধারণ করেছে ইতোমধ্যে। অনিক মেয়েটাকে আরেকটু লজ্জায় ফেলতে বলে ওঠে,
“ জামাটা কে খুলবে বউপাখি? তুমি না-কি আমি?”
হকচকিয়ে ওঠে ইকরা।তড়িৎ দু-কদম পিছিয়ে গিয়ে ভড়কে যাওয়া কন্ঠে বললো,
“ একদম না! আমি খুলবো।”
অনিক বাঁকা হাসলো এপর্যায়ে। হাতের শাড়িটা হাতে চেপে রেখে গিয়ে বসলো ড্রেসিং টেবিলের টুলের ওপর।মেয়েটার সর্বাঙ্গে একপ্রকার কাপঁন ধরিয়ে দেওয়ার মত দৃষ্টি তাক করে ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে বলল,

“ ওকে ফাইন! খোলো।”
ভড়কায় ইকরা। অনিকের ওমন অন্তর্ভেদী দৃষ্টি দেখে গলাটায় বুঝি শুষ্কতা নেমে এসেছে তার।মেয়েটা পরপর শুকনো ঢোক গিললো। মাথা নুইয়ে বিছানার ওপর থেকে শাড়ি পড়ার বাদবাকি কাপড়গুলো হাতে নিয়ে পা বাড়ায় ওয়াশরুমের দিকে। তবে এতেও বাঁধ সাধলো অনিক।পেছন থেকে হুট করেই চেপে ধরল ইকরার পাতলা কোমর। ইকরা থমকায়। খানিক ঢোক গিলে পাশ ফিরে তাকায়। অনিকের আচ্ছন্ন দৃষ্টিতে আবারও কাবু হচ্ছে মেয়েটা! এদিকে অনিক কেমন দুষ্ট হেসে বলে ওঠে,

“ কই যাও বউপাখি?”
ইকরা আমতাআমতা করছে এবার। মিনমিনে স্বরে বলে,
“ চেঞ্জ করতে!”
ইকরার কোমর বরাবর অনিকের ধরে রাখা হাতটা এপর্যায়ে বেপরোয়া গতিতে ছুটছে। এহেন স্পর্শে সর্বাঙ্গ কেমন শিরশির করছে ইকরার।মেয়েটা খানিক মোচড়াতে মোচড়াতে বলে ওঠে,
“ কী করছেন! ছাড়ুন।”
“ বিয়ে করেছি কী ছাড়ার জন্য?”

ইকরা ফোঁস করে নিশ্বাস ফেললো। চোখদুটো বুঁজে নিয়ে নিশ্বাস ফেলতে লাগলো ঘনঘন। অনিকের স্থির দৃষ্টি মেয়েটার লজ্জালু মুখপানে নিবদ্ধ। তার কাঁপছে হঠাৎ! মনের কোণে জেগেছে বউকে কাছে টানার অদম্য ইচ্ছা। তবুও সে নিজেকে সামলায়। মেয়েটাকে সোজা করে নিজের সামনে দাঁড় করিয়ে হাত রাখলো মেয়েটার কাঁধে।সুতির নরম বস্ত্রখানা ধীরে ধীরে মেয়েটার মসৃণ কাঁধ বেয়ে নামছে। ছেলেটার আঙুলের শীতল স্পর্শ উষ্ণ গায়ে লেপ্টে যেতেই কেঁপে ওঠে ইকরা।বুকটায় বাজে ধড়াসধড়াস শব্দ। পাদু’টো এমুহূর্তে কেমন অসার ঠেকছে! ওদিকে অনিকের অবস্থা বেগতিক। মেয়েটাকে এভাবে দেখে তার বুকের হাল হয়েছে করুণ।

গলায় নেমেছে অদ্ভুত শুষ্কতা। অধর হয়েছে শুষ্ক! সে আর কিছু ভাবতে পারলোনা। তৎক্ষনাৎ ইকরার কোমর খামচে মুখ ডোবালো মেয়েটার উম্মুক্ত বক্ষে। ইকরা কাঁপছে এবার।চোখবুঁজে অস্থির কন্ঠ ফুঁড়ে অস্ফুটে বেরিয়ে আসে মৃদু শীৎকার ধ্বনি। অনিক বেপরোয়া হলো আরেকধাপ। মেয়েটার উম্মুক্ত পিঠে ক্রমান্বয়ে বেপরোয়া হাতের স্পর্শ একেঁ নাক ঘষলো বক্ষে! ইকরা তৎক্ষনাৎ খামচে ধরে অনিকের ঘাড়। নখ দাবালো ইচ্ছেমতো। অনিকের আর ধৈর্য্যে কুলোয়নি।সে তৎক্ষনাৎ মেয়েটাকে একটানে বসিয়ে দিলো নিজের কোলে। মেয়েটার কোমর চেপে নাক ডুবালো ইকরার ফর্সা কোমল গ্রীবাদেশে। দাঁতের মৃদু পরশে জুড়িয়ে দিচ্ছে জায়গাটা। ওদিকে ইকরা কেবল মুখ বুঁজে সইছে ছেলেটার উন্মাদনা। অনিক এবার মুখ উঠায়। নেশালো চোখে তাকায় ইকরার মুখপানে। মাদকীয় কন্ঠে অস্থির হয়ে বলে,

“ জান! চলোনা,জাস্ট একবার!”
ইকরা আড়ষ্ট হলো লজ্জায়। তা স্পষ্ট তার মুখাবয়বে। সে তৎক্ষনাৎ মুখ লুকায় অনিকের কাঁধে। অনিক আর উত্তর শোনার অপেক্ষায় রইল না। মেয়েটাকে নিজের কোলে চেপেই নিয়ে গেলো বিছানার কাছে। সযত্নে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে, নিজে উদ্যোত হলো গা থেকে পাঞ্জাবি খুলতে। ইকরা আড়ষ্ট নয়নে চাইলো একবার। সুদর্শন যুবক ধীরে ধীরে অর্ধউম্মুক্ত হচ্ছে। লোমহীন পেটানো দেহখানা হালকা নড়চড়নেই কী সুন্দর ফুটে উঠেছে। এদিকে ইকরাকে এভাবে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে বাঁকা হাসলো অনিক।মেয়েটার ওপর ঝুঁকে আসতে আসতে দুষ্ট কন্ঠে বলল,

“ দেখাদেখির সময় শেষ মেয়ে।এবার কাজকর্ম করার পালা!”
লাজুক হাসলো ইকরা।অনিকের বাড়িয়ে রাখা গোলাপি অধরজোড়ায় নিজে থেকে ঠোঁট ডুবালো আলগোছে। অনিকও কেমন দু’হাতে জড়িয়ে ধরলো মেয়েটাকে। আশ্লেষে টানতে লাগলো ওষ্ঠপুট। দাঁতের মৃদু ঘর্ষণে বারেবারে থেমে যাচ্ছে ইকরা ওদিকে থামার কোনো নাম নেই অনিকের। মেয়েটাতে ডুবতে ডুবতে সে হারাচ্ছে নিজেকে!

রুমের বাইরে সর্তক চোখে উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে অরিন। চেক করছে আশেপাশে রৌদ্রকে কোথাও দেখা যায় কি-না। মিনিট দুয়েক সর্তক দৃষ্টি এদিক ওদিক ফেলে কোথাও রৌদ্রকে না দেখায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো অরিন।ধীরেসুস্থে গায়ের ভারি লেহেঙ্গার দু’পাশের অংশ চেপে ধরে ঘর থেকে বেরুলো। গায়ে জড়িয়েছে ল্যাভেন্ডার কালারের ভারি কাজের লেহেঙ্গা। গলায়-কানে ডায়মন্ডের সিম্পল অর্নামেন্টস। হাতে ডায়মন্ডের চুড়ি। ন্যুড মেকাপে সেজেছে মেয়েটা।দেখতে যে কী মিষ্টি লাগছে আজ! অরিন ধীরে ধীরে পা চালায় সিঁড়ির দিকে। ভালোয় ভালোয় রৌদ্রের সামনে না পড়লেই হয়। এদিকে করিডরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে গম্ভীর মুখে চেয়ে আছে রৌদ্র। দেখছে মেয়েটার কর্মকাণ্ড। মেয়েটার বুঝি খুব শখ হয়েছে লুকানোর। থাক ব্যাপার নাহ।রৌদ্র কাঁধ উঁচিয়ে হাঁটা ধরে। ততক্ষণে মেয়েটা চলে গিয়েছে বাড়ির বাইরে।

চারটে গাড়ি পরপর থামানো বাড়ির বাইরে। বাড়ির সকল সদস্য একে একে গাড়িতে গিয়ে বসছেন। প্রথম দুটো গাড়ি ফুল।বাড়ির চার কর্তা এবং গৃহিণী গিয়ে বসেছেন সেগুলোয়। যেহেতু গাড়ি দু’টো ইতোমধ্যে মানুষে পরিপূর্ণ সেহেতু গাড়ি এবার স্টার্ট দেওয়ার পালা।প্রথম গাড়িটা ড্রাইভার চালালেও দ্বিতীয়টা চালাবেন তায়েফ সাহেব। তিনি গাড়ি স্টার্ট দিতে গেলেই বাড়ির ড্রাইভওয়ে থেকে চেঁচিয়ে ওঠে অরিন। হিল জুতোয় খুব একটা দৌড়াতে না পারলেও, হনহন করে এগিয়ে আসে গাড়ির নিকট। গো ধরে বলে,

“ আমিও এ গাড়িতে যাবো।”
অবাক হলেন সকলে। অরিন নাকি রৌদ্রকে ছেড়ে তাদের সঙ্গে যেতে চাইছে! এও কী তবে সত্যি? গাড়ির ফ্রন্ট সিটে বসে থাকা তাশরিক সাহেব অবাক কন্ঠে বলে ওঠেন,
“ তুমি আমাদের সাথে যাবে মানে? তুমি না রোদের সাথে যাবে?”
অরিন দু’ধারে মাথা নাড়ায়। কপট আহ্লাদী কন্ঠে বলে,

“ না! অনেকদিন হয়েছে তোমাদের সাথে কোথাও যাইনা। আজকে আমায় নেবে তোমাদের সাথে?”
ব্যাকসিটে বসে থাকা সাব্বির সাহেব খানিক গলা খাঁকারি দিয়ে ওঠেন। মেয়ের এহেন আহ্লাদী কন্ঠে সে যে বারংবার গলে পানি। তিনি তৎক্ষনাৎ গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। মেয়েকে আলতো করে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে নিজেও উঠে বসলেন পরক্ষণে। তারপর তায়েফ সাহেবের উদ্দেশ্যে হাঁক ছেড়ে বললেন,
“ গাড়ি স্টার্ট দে এবার।”
অরিন তো বেজায় খুশি। বাবার সাথে যাচ্ছে বলে নয়,উল্টো রৌদ্রকে কিছুটা হলেও ঘোল খাওয়াতে পারছে তা ভেবেই যত আনন্দ তার।

একে একে চারটে গাড়ি হর্ণ তুলতে তুলতে এসে থামলো সুসজ্জিত বিয়ে বাড়ির সামনে। কিয়তক্ষন বাদে গাড়ি থেকে নেমে আসেন এহসান বাড়ির সদস্যরা। তাদের দেখতে পেয়েই মোখলেস মিয়া দ্রুত কদমে এগিয়ে আসেন।চকচকে চোখে কবির সাহেবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে অভ্যর্থনা জানালেন সকলকে। ভীষণ সম্মানের সঙ্গে সকলকে আমন্ত্রণ জানালেন বাড়ির ভেতর।কবির সাহেবসহ বাকিরাও হাসিমুখে ঢুকলেন ভেতরে। আধপাকা দালান। সামনে দিয়ে বড় একটা উঠোনের জায়গা। সেখানেই ব্যাপক জাঁকজমকভাবে প্যান্ডেল বেঁধে অতিথি আপ্যায়ন চলছে।কবির সাহেব হাসি হাসি মুখে এদিক-ওদিক দৃষ্টি ফেলছেন। ঠিক তক্ষুনি তার নজর গিয়ে আটকালো অদূরের একটা চেয়ারে পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকা তৌসিফ মির্জার পানে।কবির সাহেব থেমে গেলেন হঠাৎ। পাশ থেকে সাব্বির সাহেবও থামলেন। ভাইয়ের দৃষ্টি অনুসরণ করে নিজেও তাকালেন সেদিকে। পরমুহূর্তে তৌসিফ মির্জাকে দেখে মুখ থেকে হাসিটা কেমন ধপ করে নিভে গেলো তার।তিনি থমথমে কন্ঠে বললেন,

“ উনি এখানে!”
কবির সাহেব মুখাবয়ব গম্ভীর করলেন। কোমরের পিঠে দু’হাত বেঁধে বলতে লাগলেন,
“ বোধহয় তাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কেননা একটা সময় তো আমরাও বিজনেস পার্টনার ছিলাম।”

পাশাপাশি গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকজন যুবক। তাদের মধ্যমনি আপাতত কোরিয়ান সুদর্শন সায়ান মুগ্ধ। বড় চাচার সাথে তিনিও এসেছেন বিয়ে বাড়িতে। তাকে দেখামাত্রই বিয়ে বাড়িতে আসা ছেলে অতিথিগুলো কেমন জেঁকে ধরেছে ছেলেটাকে! আগ বাড়িয়ে সে-কি আড্ডা জুড়িয়েছে সকলে।কেউ কেউ নিজেদের কৌতুহল মেটাতে ব্যস্ত।

বুকের কাছে দু’হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে মুগ্ধ। বলিষ্ঠ দেহী যুবকের পেশিবহুল বাহুদ্বয় ফুলেফেঁপে উঠছে শার্টের বাইরে দিয়েই। ফর্মাল একটা কালো রঙা শার্ট পড়েছে, সঙ্গে পড়েছে ঢিলেঢালা ক্যাজুয়াল ট্রাউজার। গলার কাছের দু-তিনটে বোতাম বরাবরের মতো হা করে খুলে রাখা। তাতে স্পষ্ট দৃশ্যমান যুবকের ফর্সা বক্ষের কিছুটা। শার্টের বোতামে লাগিয়ে রাখা রোদচশমা! মুগ্ধ গম্ভীর মুখে কথা বলছে সকলের সঙ্গে। এরইমধ্যে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার ঠিক পেছনে চোখ পরলো মুগ্ধের। সেথায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে খিলখিল করে হাসছে জমজ দুটো মেয়ে।যাদের কাপড় হতে শুরু করে হেয়ারস্টাইল অব্ধি সবকিছু এক। মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার কান বরাবর হাত রেখে, ছেলেটার মাথা সরালো সামনে থেকে। ছেলেটা কেমন হা করে তাকিয়ে রইলো মুগ্ধের পানে।অথচ মুগ্ধের ধ্যান অন্যদিকে।সে একবার শঙ্কিত চোখে তাকালো সামনে। আশ্চর্য! ও কী স্বপ্ন দেখছে নাকি? মুগ্ধ তৎক্ষনাৎ দৃষ্টি সরিয়ে অনত্র তাকায়,পরক্ষণে আবারও দৃষ্টি ঠেকায় মেয়ে দু’টোর ওপরে। নাহ! এবারেও দু’জন। মুগ্ধ বিড়ম্বনায় নিজেই আওড়ালো,

“ চাশমিসের টুইন সিস্টার আছে?”
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেগুলো একে-অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে এবার।তাদের মধ্য থেকে একজন হুট করেই বলে ওঠে,
“ কী? বুঝিনি!”

মুগ্ধ প্রতিত্তোর করলোনা তাদের কথার।উল্টো হনহন করে হেঁটে গেলো আহি-মাহির দিকে। এদিকে, বিয়ে বাড়ির দুয়েকজন অতিথির সাথে কথা বলছে আহি-মাহি। মাঝেমধ্যে হাসছেও খিলখিল করে। ঠিক তক্ষুনি মুগ্ধ এসে হাজির হলো ঝড়ের গতিতে। আহি-মাহি দু’জনেই কেমন চমকে উঠে তার এহেন হঠাৎ আগমন দেখে। এদিকে পাশের মেয়েগুলো কেমন হা করে তাকিয়ে আছে মুগ্ধের পানে।পারছেনা চোখ দিয়ে গিলে খেতে ছেলেটাকে। মুগ্ধ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মাহির পানে।অদ্ভুত হলেও সত্যি, পাশে একইরকম দেখতে আহি দাঁড়িয়ে থাকলেও মুগ্ধের একমাত্র দৃষ্টি থমকে আছে মাহির দিকে। মাহি ঢোক গিললো সামান্য। পাশ থেকে আহি তখন খ্যাক খ্যাক করে বলল,

“ এইযে মিস্টার! হঠাৎ করে সামনে এসে দাঁড়ালেন কেনো? আশেপাশে কী জায়গার অভাব পরেছে?”
মুগ্ধের গায়েও লাগলোনা আহির বাক্য।সে মাহির পানে শান্ত দৃষ্টি রেখে ভরাট কন্ঠে হঠাৎ বলল,
“ তোমাকে চশমা ছাড়া খুব একটা বাজে লাগেনা চাশমিস!”
মাহি থমকায় একমুহূর্তের জন্য।ঠোঁট ফাঁক করে কিছুটা নিশ্বাস ফেলে পরক্ষণে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। পাশ থেকে আহির কী হলো কে জানে। সে মনে মনে ধরেই নিলো,লোকটা বোধহয় মাহির পূর্ব পরিচিত।সে একবার পাশে তাকায়।মাহির কাচুমাচু ভাব দেখে ভাবে,মাহিকে হয়তো ডিস্টার্ব করছে এই লোক।আহি তৎক্ষনাৎ খেঁকিয়ে বলল,
“ এক্সকিউজ মি! ও কিন্তু মাহি নয়,আমি মাহি।ও আমার টুইন সিস্টার আহি।”

মুগ্ধ মাহির পানে ঠায় তাকিয়ে। আহির কথা কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই সে কেমন হাসলো ঠোঁট পিষে। মাহির নামিয়ে রাখা মুখপানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ভীষণ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে ওঠে,
“ পৃথিবীতে যদি একইরকম দেখতে কোটি কোটি মাহিরা এহসানও থাকে এবং তারা যদি কখনো একইসাথে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে তবুও আমি কোনোরূপ দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছাড়া সেই কোটি কোটি মেয়েদের ভীড় থেকে আমার চেনা চাশমিসকে খুঁজে বের করে নিয়ে আসতে পারবো। কেননা ঐ ভিতু দুটো চোখ কেবল আমার চেনা চাশমিসেরই আছে,আর কারো নেই।”
থমকায় আহি। হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে রইলো যুবকের পানে।আশ্চর্য! তার বোনকে নিয়ে এতোটা কনফিডেন্ট কেনো এ ব্যাক্তি? কে উনি?

ঘরভর্তি মানুষজন! চারিদিকে হৈ-হুল্লোড়। নতুন বউকে বাদ দিয়ে সবাই ভীড় জমিয়েছে এহসান বাড়ির মানুষজনদের দেখতে।ভাবা যায়? কতো বড়সড় মনের মানুষ হলে কর্মচারীর মেয়ের বিয়েতে স্বপরিবারে এসেছে দাওয়াত খেতে! অরিনসহ বাকিরাও সে-কি আনন্দ নিয়ে কথা বলছে সবার সঙ্গে। ওদিকে নতুন বউ বসে আছে খাটের এককোণে। সে-ও কী সুন্দর উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এহসান বাড়ির মেয়েগুলোর দিকে।

এদিকে হাতের মুঠোফোনে লাগাতার কল দিয়ে যাচ্ছে রৌদ্র। নাহ! এখনো কল ধরছেনা মেয়েটা। রৌদ্র এবার বেজায় বিরক্ত হলো! দাঁতে দাঁত চেপে নিজের উপচে পড়া রাগটা কোনমতে সামলাতে লাগলো স্টেজ ভর্তি মানুষের সামনে। কবির সাহেব সকলের সঙ্গে ছেলেকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।রৌদ্রও জোরপূর্বক হাসি টেনে সকলের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। তবে মেজাজ তার এখনো সপ্তম আসমানে।মেয়েটা একবার সামনে পরুক আজ! তখন দেখাবে কত ধানে কত চাল। রৌদ্র সময় নিয়ে স্টেজ থেকে নামলো। সামনের বিছিয়ে রাখা টেবিলের একখানা চেয়ারে বসে ফোনটা বের করে আনলো হাতে।দ্রুত টাইপ করে ম্যাসেজ লিখে পাঠালো মেয়েটার ফোনে।এবার যদি ম্যাসেজটা একটু দেখে আরকি!

পানিভর্তি স্বচ্ছ কাচের গ্লাসে মাত্রই চুমুক বসিয়েছে অরিন।এতক্ষণ বেশ কয়েকবার ফোন বাজলেও তুলেনি সে।কেননা সে-তো জানে কে দিয়েছে ফোন।ছেলেটাকে এবার জব্দ করতে না পারলে আর কবে করবে সে? অরিন পানি খেতে খেতে ফোনের স্ক্রিন অন করলো।নোটিফিকেশনে আসা মেসেজটা ওপেন করতেই মুখ ভর্তি পানিসব ছিটকে পড়লো মেঝেতে। ভাগ্যিস সামনে কেউ ছিলোনা! নাহলে যে নির্ঘাত কেলেঙ্কারি হতো। মেসেজে রৌদ্র লিখেছে,
“ যথাসম্ভব দূরে দূরে থাক বেইব!কেননা আজকে যদি ভুলক্রমেও একবার তোকে আমার হাতের কাছে পাই দ্যান আই সয়্যার হানি! আজ সারারাত তোর কন্ঠে শুধু আমার নামের চিৎকার থাকবে!এন্ড আই মিন ইট।সো বি প্রিপেয়ার টু ফেস আ বেড বয়!”
নাকেমুখে উঠে যাচ্ছে তা-ই অবস্থা অরিনের। রৌদ্রের ওমন ধমকি-ধামকিতে বুক কাঁপছে তার। সে তৎক্ষনাৎ মাথায় হাত ঠেকিয়ে বসলো।চিন্তায় বিভোর হয়ে ভাবতে লাগলো — ডাক্তার সাহেবকে জব্দ করতে গিয়ে নিজেই না জব্দ হয়ে যায় সে।

খাবার -দাবারের পর্যায় শেষ। যে যার মত ব্যস্ত এখন। অরিন রৌদ্রের ভয়ে পুরোটা সময় জুড়ে মা-চাচিদের আশেপাশেই রয়েছে। স্টেজের সামনে বিছিয়ে রাখা ছোট ছোট চেয়ারে আপাতত সকলে বিশ্রাম নিচ্ছে। অরিনের বাম পাশে বসে আছে ইকরা। মেয়েটার হাতে গ্লাসভর্তি মোজো।ধীরে ধীরে চুমুক বসাচ্ছে সেথায়। এরইমধ্যে তাদের পাশ কাটিয়ে হুড়মুড় করে দৌড়ে গেলো পুতুল। ছেলেটার হাত লেগে ইকরার হাতে থেকে মোজোটা তৎক্ষনাৎ ছিটকে পড়ল অরিন শুদ্ধ ইকরার গায়ে! ঘটনার আকস্মিকতায় বেচারা পুতুল দাঁড়িয়ে গেলো হুট করে। অপরাধী সুরে বলে ওঠে,

“ সরি বউমনি! আমি আসলে খেয়াল করিনি!”
ইকরা শাড়ি ঝাড় দিতে দিতে বলল,
“ইটস ওকে পুতুল।”
পুতুল অপরাধী চোখে ঠায় তাকিয়ে। এদিকে ইকরাও একাধারে সরি বলে যাচ্ছে অরিনকে। অরিন আবার বড্ড ভালো মেয়ে।আদরের ভাবির এহেন কৃতকর্মে মোটেও রাগ না করে উল্টো নরম কন্ঠে বললো,
“ আরে নাহ! তুমি তো আর ইচ্ছে করে করোনি।সো সরি বলতে হবে না। আমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসছি!”
কথাটা বলেই অরিন পা বাড়ালো ওয়াশরুমের দিকে। বড়সড় ওয়াশরুমের বেসিন কাউন্টারের সামনে এসে ধীরে ধীরে গা ঝাড়তে লাগলো মেয়েটা। হাতের পার্স ব্যাগ থেকে দুয়েকটা টিস্যু বের করে লেহেঙ্গাটার ওপর থেকে যা পারছে মুছছে সে।আহারে! কত শখের লেহেঙ্গা তার।মোজো পড়ে একেবারে নষ্ট হয়ে গেলো!জামার শোকে অরিনের মুখটা কেমন এইটুকুন হয়ে গেলো! মেয়েটা উদাস মুখে জামা ঝাড়তে ব্যস্ত ঠিক এমন সময় দরজার কাছ থেকে ভেসে আসে তার অতি পরিচিত গম্ভীর পুরুষের দুষ্টু কন্ঠ!

“ ডু ইউ নিড এনি কাইন্ডা হেল্প সে*ক্সি লেডি?”
ভড়কায় অরিন। তড়িৎ ঘাড় বাকিয়ে তাকায় পাশে।ওয়াশরুমের দরজার সাথে রৌদ্র কেমন গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। পরনের লেভেন্ডার রঙা পাঞ্জাবিটায় বরাবরের ন্যায় নজরকাঁড়া ঠেকছে সুদর্শন যুবককে। মাথা ভর্তি লম্বা চুলগুলো জেল দিয়ে স্পাইক করে রাখা তার। ঠোঁটের কোণে ঝুলছে স্পষ্ট দুষ্ট হাসি। রৌদ্র সময় নিয়ে সটান হয়ে দাঁড়ায়। ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে এগিয়ে আসে মেয়েটার নিকট।অরিন ঘাবড়ে গিয়ে দু-কদম পিছিয়ে যায় । ক্ষনে ক্ষনে শুষ্ক ঢোক গিলে আমতাআমতা করছে মেয়েটা।অথচ রৌদ্র সেদিকে ভ্রুক্ষেপহীন। কদম বাড়াচ্ছে নিজ আঙ্গিকে। অরিন পেছাতে পেছাতে একপর্যায়ে তার পিঠ আটকালো দেয়ালের সাথে। আর তো যাবার জায়গা নেই। রৌদ্র এবার ঠোঁট কামড়ে হাসলো।এগিয়ে এসে মেয়েটাকে আটকালো নিজের দু’হাতের মাঝে। দেয়ালের দুপাশে হাত রেখে অরিনের দিকে তাকালো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে।অতঃপর ভীষণ শান্ত অথচ নিরেট কন্ঠে বললো,

“ বলেছিলাম না দূরে দূরে থাকতে? এবার তোকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে পাখি?”
শুকনো ঢোক গিললো অরিন। চোখ তুলে রৌদ্রের পানে তাকাতেই বাঁকা চোখে চোখ টিপলো রৌদ্র। অতঃপর কোনরূপ কালবিলম্ব না করে অরিনকে এক ঝটকায় তুলে নিলো কাঁধে। অরিন হতভম্ব! কন্ঠে স্বর নেই তার। ওদিকে রৌদ্র কেমন দুষ্ট কন্ঠে বলছে,

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ৮

“ চলো হানি! আজকে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট আছে তোমার জন্য! এন্ড আ’ম ড্যাম শিওর, তুমি আজ ভীষণ স্যাটিসফাইড হবে।উফফ,আই ওয়াজ ইয়েগারলি ওয়েটিং ফর দিস মোমেন্ট!”

সঙ্গীন হৃদয়ানুভুতি সিজন ২ পর্ব ১০