Home প্রিয় রাগিনী প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৯

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৯

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৯
লামিয়া ইসলাম শাম্মী

সময়টা সকাল আটটা।
শুভ্রর ঘুম ভেঙ্গে গেলো। চোখ মেলে সামনে তাকাতেই শান্ত – শিষ্ট ঘুমন্ত ভ্রমর কে দেখেই ওষ্ঠ জোড়ায় হাঁসি ফুটে উঠলো। হাত বাড়িয়ে প্রেয়সীর মুখ থেকে চুল সরিয়ে কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে শুকনো ঠোঁটে বেশ সময় নিয়ে শব্দ করে একটা চুমু খেয়ে কিছুক্ষণ চোখ বোলালো শ্যামবর্ণের মুখ খানাতে। কী মায়াবী লাগছে তাঁর ঘুমন্ত ভ্রমর কে। দেখতে একদম বাচ্চা বাচ্চা লাগছে। ভেবেই ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে নিজের বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরলো লামিয়ার থুতনি। তারপর মাথা এগিয়ে নিয়ে লামিয়ার শুকনো ঠোঁটে জোড়া আঁকড়ে ধরলো। বেশ কিছুক্ষণ পর ছেঁড়ে দিয়ে কপালে চুমু এঁকে বিড়বিড় করে বললো ” ভ্রমর, শুধু আমার ভ্রমর। আমার শ্যাম ভ্রমর।” বলেই আবারো কপালে চুমু এঁকে, লামিয়া কে বালিশে শুইয়ে দিয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেলো আলমারির দিকে।

আলমারি থেকে ছোট্ট একটা গয়নার বাক্স হাতে নিয়ে এসে লামিয়ার পায়ের কাছে বসলো। তারপর বাক্স খুলে তাঁর ভিতর থেকে বের করলো চকচকে স্বর্ণের নূপুর। শুভ্র নূপুর গুলো পাশে রেখে আলতো করে লামিয়ার পা দুটো নিজের কোলের উপর রেখে সযত্নে দু – পায়ে দুটো নূপুর পড়িয়ে দিয়ে, মাথা নিচু করে লামিয়ার দু – পায়ে ঠোঁট ছুঁয়ে চুমু খেলো। তারপর ফিসফিস করে বলে উঠলো
~ নরম পায়ের সোনালী ছন্দ, শুনলেই অস্থির হবে মন।
দূরে থাকবো চোখের আড়ালে, তবু হৃদয়ে বাজবে সারাক্ষণ। ~
বলেই মাথা নিচু করে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে হালকা হেঁসে বিড়বিড় করে দু লাইন গেয়ে উঠলো

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

Tera mera hai pyar amar
Tu chaahe to qadamo n mein sar rakh doon
Yehh jeevan kya gar maange tu
Meri jaan nazar kar doon…

বাহিরের থেকে এলাকার কিছু মানুষের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুমের ঘোরের কপাল কুঁচকে ফেললো। তারপর পিটপিট করে চোখ খুলে তাকাতেই দেখলো সে নিজের রুমে নেই। ভোরের কথা মনে পড়তেই চমকে পাশে ফিরে তাকাতেই দেখলো শুভ্র নেই। তা দেখে স্বস্তি শ্বাস ফেলল। বাহিরের থেকে আবারো চেঁচামেচির শব্দ ভেসে আসতেই লামিয়া বিছানা থেকে উঠে জানালায় উঁকি দিয়ে বাহিরের দিকে তাকাতেই দেখলো রাস্তায় অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তাঁদের সাথে ইসলাম আর খান বাড়ির সবাই ও আছে। কাহিনী কী তা দেখতে লামিয়া আর দেরি না করে দ্রুত পায়ে দৌড়াতে লাগলো বাড়ির বাহিরের দিকে। সিঁড়ি বেয়ে নামতেই ঝুনঝুন করে শব্দ করে উঠতেই লামিয়া থেমে গেলো। পিছন ঘুরে, আশেপাশে তাকালো না কেউ নেই তাহলে ঝুনঝুনি শব্দ কোথা থেকে আসলো ভাবতে ভাবতে সিঁড়ি বেয়ে নামতেই আবারো ঝুনঝুনি শব্দ করে উঠতেই লামিয়া পায়ে কিছু অনুভব করতেই ভ্রু কুঁচকে পায়ের দিকে তাকাতেই বিস্ফোরিত চোখে তাকালো।

পায়ে তাঁর চকচকে স্বর্ণের নূপুর কোথা থেকে এলো এই গুলো? তারপর কিছু আন্দাজ করতে পেরে মুখ বাঁকিয়ে আবারো দৌড়াতে লাগলো বাহিরের দিকে। লামিয়া কে শুভ্রর বাড়ি থেকে বের হতে কেউ না দেখলেও মাহির , তায়েব, তায়েবা ঠিকই দেখেছে। তাঁরা দেখে চোখ ছোট্ট ছোট্ট করে তাকালো। লামিয়া তাদের দিকে এগিয়ে এসে তায়েবার মাথায় চাটি মেরে বললো
” কী হয়েছে রে..?”
লামিয়ার কথার উত্তর না দিয়ে তায়েবা ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে বললো ” আগে বল তুই ওই বাড়িতে কী করছিলি?”
তায়েবার কথায় লামিয়া বিরক্ত হয়ে তাকালো তায়েবার দিকে। তা দেখে মাহির, তায়েব, তায়েবা হেঁসে উঠলো।
” ওওওও সামথিং সামথিং তাই না…?” বলেই এক সাথে হেঁসে উঠলো তিনজন। লামিয়া তা দেখে ধাপাধাপ তিনজনের পিঠে কিল মেরে বিরক্ত হয়ে বললো

” সবসময় উল্টা পাল্টা কথা না বললে তোদের ভালো লাগে না। এসব রেখে এখন বল কি হয়েছে সকাল সকাল মহল্লার মানুষ রাস্তায় কেনো?”
” ভুঁইয়া বাড়ি নাকি ডা*কাতি হয়েছে কালকে রাতে। এইগুলো নিয়েই চিল্লাচিল্লি করছে সবাই।”
মাহিরের কথা শুনে লামিয়া কপালে ভাঁজ ফেললো। আশেপাশে তাকাতেই দেখলো শুভ্র দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাবিব, রাশেদ, জাহিদ, সাফওয়ান, আরিফ, আবির সবার সাথে কথা বলছে। শুভ্র কথা বলতে বলতে চোখ ঘুরিয়ে লামিয়ার দিকে তাকাতেই চার চোখ এক হতেই লামিয়া দ্রুত অন্যদিকে তাকালো। তা দেখে শুভ্র মনে মনে হাসলো। হঠাৎ ফোন বাজতেই শুভ্র পকেট থেকে মোবাইল বের করে অন্যদিকে চলে গেলো কথা বলতে। লামিয়া তা আড়চোখে তাকিয়ে দেখে মাহির দের সাথে কথা বলতে লাগলো।
” আমি বাংলাদেশে আসছি আবরার। খুব শীঘ্রই দেখা হচ্ছে।”
” সাবধানে এসো। আমি অপেক্ষা করছি।” বলেই ফোন কেটে মুচকি হেঁসে উঠলো শুভ্র।

” বিগ বস কোথায় ছিলে তুমি..?”
” বাড়িতেই ছিলাম। আবার কোথায় থাকবো..?”
তোয়া ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো ” তাহলে ঘুম থেকে উঠে তোমাকে দেখি নি কেনো?”
তোয়ার কথায় মাহির, তায়েবা, তায়েব হিহি করে হেঁসে উঠলো। লামিয়া তা দেখে বেশ বিরক্ত হলো। আজকে সারাদিন এরা জ্বালাবে এতে কোনো ভুল নেই। লামিয়া চোখ মুখ কুঁচকে কোনো কথা না বলে গটগট পায়ে বেলকনিতে গিয়ে চেয়ার টেনে বসলো পা দুটো বেলকনির রেলিংয়ে উঠিয়ে। তাঁর পিছন পিছন মিটমিটিয়ে হেঁসে মাহির, তায়েব তায়েবা ও বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো। তোয়া তাদের তিনজনের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তাঁরা হাসছে কেনো তা বুঝতে পারছে না সে। তাই মুখ ফুলিয়ে বেলকনির দিকে এগিয়ে গিয়ে মাহির দের সামনে গিয়ে কপাল কুঁচকে বললো ” এই তোমরা হাসছো কেনো?”

” মুখ আছে তাই হাসছি। ”
” আমারো তো মুখ আছে..!কোথায় আমি তো হাসছি না।”
” তাহলে তুই ও হাস।”
মাহিরের কথা শুনে লামিয়া কপাল কুঁচকে তাকালো মাহিরের দিকে। মাহির তা দেখে দাঁত কেলিয়ে গেয়ে উঠলো ~ বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর পায়ে আমগো লামু সোনার তাহার সোনার নূপুর ।”
মাহিরের গান শুনে তায়েবা,তায়েব হেঁসে উঠলো। লামিয়া বিরক্ত হয়ে বললো ” চাচার পোলা মাইয়া তোরা বের হ তো আমার রুম থেকে। তোদের মুখ দেখতে ইচ্ছে করছে না।”
লামিয়ার কথা শুনে তাঁরা এক পা ও নড়লো না বরং আরো হেঁসে উঠলো। লামিয়া তা দেখে আরো বিরক্ত হয়ে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো।

তায়েব হঠাৎ চোখ ঘুরিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো ফারিয়া তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। তাঁদের দিকে বললে ভুল হবে তাঁর দৃষ্টি তায়েব এর দিকে। তায়েব তা দেখে ঢোক গিলে ফিসফিস করে বললো
” দেখ দেখ ওই মাইয়া আমার দিকে কেমনে তাকিয়ে আছে।”
তায়েব এর কথায় সবাই আশেপাশে তাকিয়ে খুঁজতে কোন মেয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। আশেপাশে তাকিয়ে কাউকে না দেখতে পেয়ে বিরক্ত হয়ে তায়েবের দিকে তাকালো। লামিয়া বিরক্ত হয়ে বলল ” কোন মেয়ে তোর দিকে তাকিয়ে আছে..? আশেপাশে তো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।”
তায়েব এবার মুখ বাঁকিয়ে বলল ” আরে তোরা দেখতে পাচ্ছিস না..? সামনে খান বাড়ির তিন তালার বেলকনির দিকে তাকা।”
তায়েবের কথা শুনে সবাই চোখ ঘুরিয়ে খান বাড়ির তিন তালার বেলকনির দিকে তাকাতেই দেখল ফারিয়া তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। ফারিয়াকে দেখে লামিয়া, তায়েবা, মাহিরের কপাল কুঁচকে গেল।

” হঠাৎ তোর দিকে ফারিয়া এভাবে তাকিয়ে আছে কেন..?” কপাল কুঁচকে বলে উঠলো তায়েবা।
” আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তাই তুই ফারিয়াকে কিছু বলেছিস । তাই সে এমন দৃষ্টি ফেলে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সত্যি করে বল কি বলেছিস ওকে..?” সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললঝ মাহির।
মাহিরের এমন কথা শুনে তায়েব বললো ” বিশ্বাস কর আমি ওকে কিছু বলি নি। ও কেনো এভাবে তাকিয়ে আছে আমি জানিও না। ” একটু থেমে কিছু একটা ভেবে খুশিতে লাফিয়ে বললো ” এই ভাই এই আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে ওও আমাকে ভালোবাসে। দেখছিস না কীভাবে ভালোবাসার দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।”
তায়েবের কথায় মাহির, তায়েবা লামিয়া বেশ বিরক্ত হলো।

” দুনিয়াতে ছেলের অভাব পড়ছে যে ফারিয়া তোর মত একটা প্লেবয় কে ভালবাসতে যাবে ..?” মুখ বাঁকিয়ে বললো তায়েবা।
তায়েবার কথা শুনে তায়েব বেশ চটে গিয়ে বললো ” কেনো আমি কী দেখতে কম সুন্দর নাকি? আর প্লেবয় হলেও আমি অনেক লয়াল আছি বুঝেছিস।”
তায়েব এর কথা শুনে সবাই মুখ বাকালো। তোয়া গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে আছে সবার দিকে। কী হচ্ছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না। তাই সবার কথা শুনে বোঝার চেষ্টা করছে কাহিনী কী।
তায়েব এর কথায় মাহির ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে বললো
” আচ্ছা অন্তরার কথা কী তোর একটুও মনে পড়ে না??”
” না না ওকে আমার মনে পড়ে না। কিন্তু ওকে নিয়ে লেখা কবিতা গুলো বড্ড মনে পড়ে।”
তায়েব এর কথা শুনে তায়েবা মুখ বাঁকিয়ে বললো
” এমন কী কবিতা লিখেছিস যে অন্তরা কে মনে না পড়ে তোর কবিতা মনে পড়ে??”
তায়েবার কথা শুনে মাহির বেশ আগ্রহ নিয়ে বললো
” এই শোনা তো দেখি কেমন কবিতা লিখে ছিলি।”
মাহিরের কথা শুনে তায়েব বেশ ভাব নিয়ে বললো
” শুনবি?”

মাহির,তায়েবা, লামিয়া মাথা নাড়ালো। তা দেখে তায়েব মুচকি হেসে লজ্জা জড়িত কন্ঠে কবিতা আবৃত্তি করে উঠলো
~ ওই কাজল কালো চোখে তোমার আমি তখন হারালাম। ~
বলেই লামিয়া, মাহির আর তায়েবার মুখের দিকে তাকালো। তাঁরা তিনজন তাদের মুখটা বিকট আকৃতি করে রেখেছে। তায়েব কে থামতে দেখে মাহির বলে উঠলো ” কী হলো থামলি কেনো?”
তায়েব ছোট ছোট চোখ করে বললো ” তোরা এমন ভসকানো চেহারায় তাকিয়ে আছিস কেনো?”
” আরে এমনেই বল তুই।”

তায়েব গলা পরিষ্কার করে আবারো মুচকি হেসে আবৃত্তি করে উঠলো
~ ওই কাজল কালো চোখে তোমার আমি তখন হারালাম। ~
বলার সাথে সাথেই মাহির, তায়েবা, লামিয়া এক সাথে বলে উঠলো ” না জেনেই তখন নিজের হো*গাটা নিজেই তখন মারালাম। হে হে হে হেএএএএএ।” বলেই এক সাথে উচ্চ স্বরে হেঁসে উঠলো তিনজন।
” মাঙ্গের নাতি দূরে যা। পড়া লেখা পারে না সে আবার কবিতা মা*রাইতে আইছে।”
বলেই নিজের পায়ের জুতা খুলে তায়েব এর দিকে ছুঁড়ে দিলো লামিয়া।
” পড়া লেখা পারে না আবার কবিতা মা*রাইতে আইছে। দূরে গিয়া মর, মাইয়া গো রুচি কতোটা খারাপ হলে ওর মতো ছেলের সাথে রিলেশন করে মানুষ বুঝ তাহলে।” হাসতে হাসতে বলে উঠলো তায়েবা।
” ট্যাকা ভাই ট্যাকা দেইখা আহে সব। তারপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে তায়েব এর পিছন মেরে জয় বাংলা করে চলে যায়।” বলেই তায়েব এর দিকে তাকালো মাহির।

সবার কথা শুনে তায়েব মুখটা ভোঁতা করে বসে আছে। মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছে না তাঁর। সবসময় তাঁকে নিয়ে এই তিনজন মজা করে। ভেবেই মুখটা কালো করে চলে গেল নিজের রুমে। এখানে থাকলে ইজ্জতের মোয়া বানিয়ে রেখে দিবে এরা। তাই এখান থেকে চলে যাওয়াই উত্তম। ভেবেই হাঁটা ধরলো নিজের রুমের দিকে।
লামিয়া, মাহির, তায়েবা চুপচাপ যাওয়ার দিকে তাকালো তারপর গলা ফাটিয়ে আরো শব্দ করে হেসে উঠলো। তোয়া কিছু না বুঝেই তাদের হাঁসির সাথে তালে তাল মিলিয়ে হাসতে লাগলো। সামনের বেলকনিতে এখনো ফারিয়া দাঁড়িয়ে আছে। তায়েব যাওয়াতে মুখ টা তার ছোট হয়ে গেলো।
প্রায় বিশ সেকেন্ড পর তায়েব আবার এলো হাতে লামিয়ার গিটার। তা দেখে সবাই ছোট্ট ছোট্ট চোখ করে তাকালো।
” গিটার কেনো তোর হাতে?”

” অনেক দিন সিঙ্গেল আছি। তাই দেখি ট্রাই করে গান গেয়ে ফারিয়া কে ইমপ্রেস করে পটাতে পারি নাকি।”
তায়েব এর কথা শুনে লামিয়া, মাহির, তায়েবা চোখ উল্টালো। তা দেখে তায়েব বললো ” আরে চোখ উল্টাছিস কেনো..? ওই জাহিদ ভাই আমার বোনের পিছনে পড়েছে না, এখন আমি তাঁর বোনের সাথে লাইন মারবো। আর সত্যি বলতে এইরকম একটা কিউট মেয়ে ইসলাম বাড়ির বউ আর তোদের ভাবি হলে কিন্তু মন্দ হয় না। ”
তায়েব এর কথা শুনে আবারো বিরক্ত হলো সবাই। এই ছেলে যে নিজের জন্য করছে তা না বলে তায়েবা আর জাহিদের কথা তুলছে।

তায়েব বেলকনির রেলিংয়ে উঠে বসে তাকালো সামনের বেলকনির দিকে। ফারিয়া দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। তা দেখে তায়েব হাসলো তারপর লামিয়া দের দিকে দৃষ্টি ফেলে অসহায় কন্ঠে বললো ” তোরা আমাকে সাপোর্ট করবি তো..?”
লামিয়া, মাহির, তায়েবা তায়েবের কথা শুনে ফোঁস করে শ্বাস ফেলে মাথা নাড়ালো। মানে তাঁরা হেল্প করবে। তায়েব যে ফারিয়া কে পছন্দ করে সেটা তাদের অজানা নয়। আর ফারিয়া ও একটু আধটু তায়েব কে পছন্দ করে এটাও তাঁরা জানে তাই আর হেল্প করার জন্য তৈরি তাঁরা। লামিয়া দের সাঁই দেখে তায়েব খুশি হলো। তারপর কিছু ভেবে মুখ গম্ভীর করে বললো

” কিন্তু ভাই আমার ভীষণ ভয় হচ্ছে যদি রিজেক্ট করে দেয় তখন কী হবে?”
” আরে বাল কিছু হবে না। তুই প্রপোজ করে দে না আমরা আছি তো নাকি।”
” না তবুও আমার কেমন জানি ভয় করছে। দেখ শরীর কাঁপছে কীভাবে।”
লামিয়া এবার বেশ বিরক্ত হয়ে তায়েব এর পিঠে ধাম করে কিল মেরে দিলো। লামিয়ার সাথে সাথে তায়েবা, মাহির ও কিল দিলো। তায়েব কিল খেয়ে মুখ চুপসে ফেললো।
” চাচার পোলা আ*বা*ল মার্কা। এমনে দেখি এতক্ষণ পটর পটর করলি আবার এখন নাটক মারাচ্ছিস?” বেশ রেগে বলে উঠলো লামিয়া।
” ভাই তুই এতো রেগে যাচ্ছিস কেনো? আচ্ছা আয় আমি প্রোপজ করছি। প্লিজ রাগিস না। শুধু তোরা তালে তাল মিলাস কেমন। ”

বলেই লামিয়ার কালো গিটার টা হাতে তুলে নিয়ে সামনের বেলকনিতে তাকালো।
ফারিয়া মুখে হাঁসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বেলকনিতে।
ফারিয়া আজ ঠিক করেছে কোনো না কোনো ভাবে তায়েব কে তাঁর মনের কথা জানাবে। এই ভেবে সে ও এসেছে।
লামিয়া, তায়েবা, মাহির ফারিয়া কে তায়েব এর দিকে ইশারা করে দেখিয়ে হাত দিয়ে লাভ বানিয়ে বোঝালো তায়েব তোকে ভালোবাসে। তা দেখে ফারিয়া লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।
তায়েব ফারিয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে গিটারের টুংটাং শব্দ তুলে গান ধরলো

~ তোমার বাড়ির জানালার মায়ায় পড়েছি।
তায়েব এর গাওয়া শেষ হতেই লামিয়া, মাহির, তায়েব তালে তাল মিলিয়ে গেয়ে উঠলো ” মায়ায় পড়েছি।”
আবার তায়েব গেয়ে উঠলো ~ এই ভেবো না তোমার বাবার ধনের লোভে পড়েছি। হায় হায় হায়।”
বলা শেষ হতেই লামিয়া, তায়েবা, মাহির ও গেয়ে উঠলো ~ ভেবো না ধনের লোভে পড়েছি। হায় হায় হায়।
বলেই তাদের টনক নড়লো। কি গাইলো ধনের লোভে মানে ওয়েট। ভেবেই চোখ বড় বড় করে তায়েব এর দিকে তাকালো।

” ধনের লোভে মানে?” বেশ চেঁচিয়ে উঠলো তায়েবা।
” আরে ভাই ধন, ধন বলেছি। মানে সম্পত্তির কথা। তোরা যে ধন ভেবেছিস সেটা না। সবসময় উল্টা পাল্টা মাইন্ড নিয়ে থাকিস কেনো?” বলেই মুখ কালো করে ফেললো।
লামিয়া, তায়েবা , মাহির বেশ বিরক্ত হলো তায়েব এর উপর। দুনিয়াতে আর কোনো গান ছিলো না গাওয়ার যে খুঁজে খুঁজে এই ধনের লোভের গান গাইতে হলো এই ছেলের। আর ফারিয়া কী ওর এইসব গান শুনে পটে যাবে? ভেবেই ফারিয়ার দিকে তাকালো। তায়েব তাদের দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকাতেই ভয়ে ঢোক গিললো।
ওইদিকে ফারিয়া ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে তায়েব এর দিকে। তাঁর ভীষণ রাগ লাগছে। প্রপোজ করার জন্য এটা কোন ধরনের গান। ভেবেই রেগে পায়ের জুতো খুলে ছুঁড়ে দিলো তায়েব এর দিকে। কিন্তু বাড়ি দূরে দেখে জুতো জোড়া তায়েব এর মুখে এসে পড়ে নি।

তায়েবা কাঁদতে কাঁদতে রুমের ভিতর চলে যেতেই লামিয়া, মাহির, তায়েবা হো হো করে হেঁসে উঠলো।
পেট ফেটে তাদের হাঁসি পাচ্ছে।
ওইদিকে তায়েব বেচারা মুখ কালো করে ফেললো। সে তো ভালো গান ই গাইলো তাহলে এমন রিয়েক্ট করার মানে কী। পুরো গান না শুনেই ফারিয়া চলে গেলো।
তায়েবা, মাহির, লামিয়া তায়েব এর মুখ দেখে হো হো করে হেঁসে গেয়ে উঠলো এক সাথে
~ তোমার বাড়ির জানালার মায়ায় পড়েছি।
এই ভেবো না তোমার বাবার ধধধধধধধ নেরররর লোভে পড়েছি, হায় হায়াহায়।।
হায় হায় হায় রে তোমায় ভালো বেসেছি।‌
হায় হায় হায়, হায়রেএএএ হায় তোমায়য়য় ভালোওও বেসেছি।।
বলেই হো হো করে হেঁসে উঠলো। তোয়া এতোক্ষণ চুপচাপ বসে তাদের দেখছিলো তবে গান শুনে তোয়া চেঁচিয়ে উঠলো ” এই এই এই বিগ বস আমি না ভীষণ সুন্দর গান জানি সেম এই এরকম একটা গান। আমি শোনাবো..?”
মাহির তোয়ার কথা শুনে হেঁসে বলল ” বাহ্ সবাই দেখি শিল্পী। সবাই যখন গান গেয়েছে তাহলে তুই বাদ যাবি কেনো গেয়ে ফেল তো ঝটপট।”
মাহিরের কথা শুনে তোয়া খুশিতে লাফিয়ে গেয়ে উঠলো

~ দিদিমা বলেছে তোর ধ*নে পোকা, দিদিমা বলেছে তোর ধ*নে পোকা। ঠোঙ্গাটা দেখ না খুলে যায় রে দেখা। ~
তোয়ার গান শুনে সবাই হাঁসি থামিয়ে অদ্ভুত চোখ তাকিয়ে আছে তোয়ার দিকে। তাঁদের এমন চাহনি দেখে তোয়া অসহায় চোখ করে তাকিয়ে বললো ” কি হয়েছে বিগ বস..? গান কি ভালো হয়নি।”
তোয়ার কথা শুনে হো হো করে হেঁসে উঠলো। তায়েবা হাসতে হাসতে বেলকনির ফ্লোরে বসে পরেছে। মাহির পেটে হাত দিয়ে গলা ফাটিয়ে হাসছে। তায়েব না চাইতেই উচ্চ স্বরে হেঁসে উঠলো। লামিয়া চেয়ারে হেলান দিয়ে হাসছে। তাঁদের এমন হাসি দেখে তোয়া ও হেঁসে উঠলো।
” তুই এমন গান কোথায় শুনেছিস বোন..?”
” বিগ বস এসব গান তো দাদী শুনে।”
তোয়ার কথা শুনে আবারো হেঁসে উঠলো সবাই। এমন গান বাপের জন্মে প্রথম শুনলো তাঁরা। ভেবেই আরেক দফা হাসলো সবাই।

বাড়ির বাহিরে রাস্তার পাশেই ছোট্ট একটা মাচার উপর বসে আছে লামিয়া, মাহির, তায়েব, তায়েবা,তোয়া। তাঁদের পাশেই গিটার রাখা। কিছুক্ষণ আগে বেশ গানের আসর জমিয়ে ছিলো।এখন তাদের সামনের একটা মাটির বাসনের ভেতরে বেশ ঝাল ঝাল দিয়ে চালতা মাখানো। পাশে গিটার রেখে চারজন মিলে বেশ আরাম করে চালতা খাচ্ছে আর ঝালে তাদের নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে তবুও তাদের খাওয়া থামছে না। তোয়ার নাক মুখ দিয়ে পানি পড়ছে, ফর্সা মুখ খানা লাল টুকটুকে হয়ে গেছে। তবুও কারোর খাওয়া থামছে না। ভাতের লোকমার মতো বড় বড় করে মুখে পুরছে। লামিয়া মাথা ঝাড়া দিয়ে পাশ ফিরে তাকাতেই চোখ ছোট্ট ছোট্ট হয়ে গেলো তার। তারপর সামনে ফিরে সবাইকে ইশারা করতেই মাহির, তায়েব, তায়েবা ও সেদিকে তাকাতেই খেক খেক করে কেশে উঠলো।
তাঁদের সামনে সাদা পাঞ্জাবি পরে, চোখে কালো সানগ্লাস এঁটে দাঁড়িয়ে আছে শফিকুল খান। দেখে বোঝা যাচ্ছে কারোর জন্য অপেক্ষা করছে। তা দেখে চারজন একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। কাহিনী টা তাদের সুবিধার ঠেকছে না। তাই সেদিকে দৃষ্টি ফেলে দেখতে লাগলো কী হয়।
তখনই হঠাৎ একটা ভদ্রমহিলার আগমন হলো। ভদ্রমহিলা মাথায় ঘোমটা টেনে এই পথেই আসছে। ভদ্রমহিলা কে দেখে চারজন চমকে উঠলো।

” আরেহহহহ শালা এ দেখি শিকদার বাড়ির মাইয়া মালতী বেগম। ” বলেই চোখ বড় বড় করে ফেললো লামিয়া।
” তাই তো দেখতাছি, বহু বছর পর দেখা পাইলাম।” লামিয়ার কথায় বলে উঠলো তায়েবা।
” ওওও এখন বুঝলাম খান সাহেব তাঁর এক্সের সাথে দেখা করার জন্য এভাবে সেজে গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে।” বলেই হেঁসে উঠলো মাহির। তাঁর সাথে হেঁসে উঠলো লামিয়া,তায়েবা, তায়েব।

মালতী বেগম, শিকদার বাড়ির মেয়ে। যৌবন কালে শফিকুল খান এর সাথে তাঁর প্রেম ছিলো। তারা একে অপরকে ভীষণ ভালোবাসতো। তবে তাদের এই ভালোবাসার তাদের ফ্যামিলি মেনে নেয় নি দেখে দুজনের বিচ্ছেদ ঘটেছিলো। দুই ফ্যামিলি দুইজন কে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলো অন্য জায়গায়। মালতী বেগম বিয়ের পর কখনো তাঁর বাবার বাড়িতে পা রাখে নি। তাই শফিকুল খান এর সাথে দেখা ও হয় নি। তবে শফিকুল খান এখনো মালতী বেগম কে অনেক ভালোবাসে। গতকাল রাস্তায় শফিকুল খানের সঙ্গে ধাক্কা টা মালতী বেগম ই খেয়েছিলো। দু’জন একজন আরেকজনকে দেখে বেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো গতকাল। এতো বছর পর দেখা হওয়ার পর শফিকুল খান মালতী বেগম এর সাথে কথা বলতে চেয়েছিলো কিন্তু মালতী বেগম কথা না বলেই চলে গিয়েছিলো। তাই আজ তাঁর সাথে দেখা করার জন্য শফিকুল খান দাঁড়িয়ে আছে।

মালতী বেগম কে দেখেই শফিকুল খান লাফিয়ে গিয়ে সামনে দাঁড়ালো তাঁর। তা দেখে মালতী বেগম রেগে বললো
” কী সমস্যা..? ভুতের মতো সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন কেনো। পথ ছাড়ুন যেতে দিন আমাকে।”
শফিকুল খান তা শুনে মুচকি হেসে বলল ” তুমি যতই বলো, আমি কোনো কথাই শুনবো না। তোমার পথ থেকে আমি সরে দাঁড়াবো না। তোমার সঙ্গে আমার একটা জরুরী কথা আছে। ”
” ইহহ, জরুরি কথা আছে…! আপনার মনে হয় না সাথে আমার কথা সেই বছর আগে শেষ হয়ে গিয়েছে।”
” দেখো মালতী আমার অনেক কথা আছে, একটু শুনো প্লিজ…!”
” আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই। পথ ছাড়ুন.”
” তোমার কথা না থাকলেও আমার আছে। মালতী আমি তোমাকে কখনো ভুলতে পারি নি। আমি তোমাকে এখনো ভালোবাসি। ”

” বুড়া বয়সে এসব কথা বলতে লজ্জা করে না আপনার?”
” না করে না। মালতী প্লিজ মালতী আমার কথা শুনে দেখো আমি জানি তোমার স্বামী নেই আর দেখো আমার ও বউ নেই। চলো না আমাদের না হওয়া অপূর্ণ সংসার টা আমরা শেষ বয়সে পূর্ণ করি।”
” অসম্ভব…! আপনার মাথা ঠিক আছে..? আপনি কি বলছেন এসব।”
” ঠিক বলছি মালতী আই লাভ ইউ।”
” একটা চটকনা মা*ইরা চোপার দাঁত সব ফালায় দিবো বুইড়া খাটাশ কোথাকার।”
” ফালায় দাও অসুবিধা নাই। দাঁতের ডক্টর দিয়ে পুরো দাঁত বাঁধিয়ে নিবো। আর ভিতরের যে দাঁত দুটো পরে গেছে সেই দাঁত গুলোকে ও বাঁধিয়ে আনবো।”
” বুইড়া খাঠাশ তোকে আর একবার আমার সামনে দেখলে আমার ভাইদের দিয়ে তোকে ইচ্ছে মতো মার খাওয়াবো বেয়াদব কোথাকার।” বলেই গটগট পায়ে উল্টো দিকে ঘুরে চলে গেলো মালতী বেগম।
তা দেখে শফিকুল খান মুখ ভার করে বাড়ির দিকে চলে গেলো।
এতোক্ষণ বসে বসে লামিয়া,তায়েব, তায়েবা, মাহির দেখছিলো। শফিকুল খান যেতেই তাঁরা হো হো করে হেঁসে উঠলো।

” বুইড়ার যৌবন লাড়া দিছে আমি শিওর।” হাসতে হাসতে বলল তায়েব।
” এই বয়সে আইসাও ছ্যাঁকা খাইলো আমগো খান দাদা এটা কী মানা যায় বল তো?” পাশ থেকে বসে উঠলো মাহির।
” আহা খান দাদার জন্য মন খারাপ হচ্ছে। কিন্তু দেখ শালা এই বয়সে এসেও বিয়ে পাগল । আবার মালতী দাদী কে প্রপোজ ও করে ফেললো। বুকের পাটা আছে বলতে হবে। এই লামিয়া চল না সারাজীবন তো ভন্ডামি করে আসলাম আয় না এইবার একটু ভালো কাজ করি।”
তায়েবার কথা শুনে লামিয়া, মাহির, তায়েব ভ্রু উঁচিয়ে তায়েবার দিকে তাকাতেই তায়েবা দাঁত কেলিয়ে হেঁসে ফুসুরফুসুর করে কিছু বললো। তায়েবার কথা শুনে তিনজনের মুখে আচমকাই হাঁসি ফুটে উঠলো। ঠোঁটে হাঁসি নিয়ে দু হাত উপরে তুলে আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে চোখ গেলো শুভ্রা নিবাসের দিকে। বারান্দার রেলিংয়ে শুভ্র হেলান দিয়ে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে তার দিকে। তা দেখে লামিয়া ঠোঁট কামড়ে হেঁসে গাছের সাথে হেলান দিয়ে গিটার হাতে তুলে নিয়ে টুং টাং সুর তুলে গান ধরলো

~ পিরিত ভালা, গলার মালা
বললে কি আর হয়..
যারে ভালো লাগে আমার,
দেখলে তারে, চোখে নেশা হয় রে বন্ধু
চোখে নেশা হয়..
সাদা সাদা কালা কালা
রঙ জমেছে সাদা কালা
সাদা সাদা কালা কালা
রঙ জমেছে সাদা কালা
হইছি আমি মন পাগেলা
বসন্ত কালে…
তুমি বন্ধু সাদা পাখি
আমি যেন কি..
বসন্ত কালে তোমায়
বলতে পারিনি…
গান গাইতে গাইতে দৃষ্টি ফেললো শুভ্রর দিকে। শুভ্র লামিয়ার গান শুনে বাঁকা হেঁসে উঠলো। গানটা যে তাঁকে ইঙ্গিত করে গাইছে তা সে বেশ ভালো করেই বুঝতে পেরেছে। তায়েব, তায়েবা, মাহির লামিয়ার গান শুনে মুখ চেপে হাসছে।

রাত প্রায় গভীর। স্তব্ধ হয়ে আছে চারপাশ, যে যার কক্ষে ঘুমিয়ে আছে।
হঠাৎ কিছুর শব্দে শুভ্রর ঘুম হালকা হয়ে যায়। চোখ বুজেই এদিক ওদিক ঘুরতেই, তখনই শিস এর শব্দ শুভ্রর কানে আসতেই এবার পুরোপুরি ঘুম ভেঙ্গে গেলো। বিছানা থেকে দ্রুত উঠে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখলো তাঁর বাড়ির মেইন গেটের সামনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকারে মুখ দেখা না গেলেও শুভ্র এইটুকু বুঝতে পেরেছে গেটের কাছে যে দাঁড়িয়ে আছে সে একজন মেয়ে। কোমড়ের নিচ পর্যন্ত চুল গুলো ছাড়া, হালকা মৃদু বাতাসে দুলছে চুল গুলো।
শুভ্র তা দেখে ভ্রু কুঁচকে উচ্চ স্বরে বলল ” কে..? কে ওখানে…?”
তবুও সাঁড়া দিলো না মেয়েটি। শুভ্র আবারো বলে উঠলো ” আমি জানি কেউ তো ওখানে আছে। কে ওখানে জবাব দিন। কে আপনি..?”
মেয়েটি শুভ্রর কোনো উত্তর না দিয়ে উল্টো পথে হাঁটতে হাঁটতে শিস বাজালো।

~ সারাটা দিন
ঘিরে আছো তুমি এত রঙ্গীন
হয়নি কখনও মন
সারাটা রাত
আসছে না ঘুম ধরেছি হাত
থাকবো সারাজীবন…..

গানের শিস বাজতে বাজাতে আবার পিছন ফিরে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আবার সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলো। শুভ্র আর কিছু না ভেবে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই দেখলো একটা কালো রঙের হুডি পড়া লোক রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর হল রুমে পরে আছে। শুভ্র তা দেখে আশ্চর্য হলো, কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কিছু ভেবে দৌড়ে বাহিরে গিয়ে খুঁজলো সেই মেয়েটিকে কিন্তু পেলো না। কে এই মেয়ে, তার বাড়িতে কী করছে? আর তাঁকে কেনো বাঁচাতে আসছে বারবার? ভেবে পাচ্ছে না শুভ্র।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৪৮

মেয়েটিকে না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে লোকটির নাকের সামনে হাত রাখতে বুঝলো লোকটি বেঁচে আছে। আর এই লোকটি তাকে মারতে এসেছে ছিলো সে তা বুঝতে পেরেছে। শুভ্র দীর্ঘ শ্বাস ফেলে দ্রুত রুমে গিয়ে রাশেদ কে কল করে তার বাড়িতে আসতে বলে ফোন কেটে মাথার চুল গুলো টেনে ধরলো। কে এই মেয়ে? কেনো তাঁকে বারবার বাঁচাতে চাইছে। যেভাবেই হোক খুঁজে বের করবে সে।

প্রিয় রাগিনী পর্ব ৫০