Home The Silent Manor The Silent Manor part 61

The Silent Manor part 61

The Silent Manor part 61
Dayna Imrose lucky

মায়া ও তৃষ্ণা অচেনা বাঁশিওয়ালার নিকট পৌঁছাতে চাইল। তৃষ্ণা ভয় পেল শেয়াল এর তির্যক ডাক ভেসে আসাতে।সে সামনে আগে এগোলো না। মায়াকে যেতে বলল আগে।মায়া সাহস করে আগে এগোতে চাইল।কিন্তু তাঁর ইচ্ছা বৃথা গেল।শিমুল গাছের দিকে পা বাড়াতেই পেছন থেকে ধাপ করে তাঁর হাতটি কেউ ধরে নিল।মায়া একজোড়া ভয়ার্ত চোখ নিয়ে থমকে গেল। তৃষ্ণা ও সে একসাথে পেছন ঘুরল।মীর তাঁর হাতটি ধরেছে।
মায়া ক্ষুদ্র চোঁখে তাঁর দিকে তাকাল।মীর মায়াকে অতিক্রম করে তাঁর পেছনের দিকে দেখল।ঘোলাটে অন্ধকার- তার মাঝে মৃদু চাঁদের আলো ব্যতীত কিছুই নেই।যা এই মাঝরাতে দু’টো মেয়েকে ঘরের বাইরে বের করে গহীন পথে আগমন করাতে বাধ্য করতে পারে।

মীর দূর পথ থেকে চোখ সরিয়ে নিল।মায়ার হাতটি ধরা ছিল শক্ত করে। ছেড়ে দিল।হাতটি লাল হয়ে গেল।মায়া ও তৃষ্ণা নত দৃষ্টিতে মীর কে পর্যবেক্ষণ করে।
মীর বলল “এত রাতে তোমরা বাইরে কেন?” প্রশ্ন করে মীর দুজনের দিকে তাকাল। তৃষ্ণা কিছুই বলল না।মায়া একবার তৃষ্ণার দিকে চেয়ে দ্বিতীয়বার মীর এর দিকে চেয়ে বলল “অচেনা বাঁশিওয়ালার সুর শুনতে পেয়েছিলাম।তাই আমি আর তৃষ্ণা দেখতে এসেছি সে কে? ছোট্ট বেলা থেকে অচেনা বাঁশিওয়ালার গল্প শুনেছি,বড় হয়ে বাস্তবে পেয়েছি সুফিয়ান হায়দার কে।চোখে দেখেনি‌।” এতটুকু বলে বিরতি নিল মায়া।মীর মায়ার থেকে সম্পুর্ন কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করছে।মায়া ঢোক গিলে গলা ভিজিয়ে বলল “এর আগেও একদিন অচেনা বাঁশিওয়ালার সুর শুনতে পেয়েছিলাম। কিন্তু তাঁকে দেখিনি।আজ ও সে-ই একই সুর পেয়েছি।তাই ছুটে এসেছি তাঁকে দেখতে ‌”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“আমি কোন অচেনা বাঁশিওয়ালার সুর শুনতে পাচ্ছি না।এসব তোমাদের মনগড়া ধারণা।”
মায়া ও তৃষ্ণা সজাগ হল যেন হঠাৎ। সত্যিই এখন কোন বাঁশির সুর ভেসে আসছে না।মায়া ব্যাকুল হয়ে চারদিকে তাকাল। না সুর আসছে, না গাছের নিচে কেউ বসে আছে।
মীর কোমল কণ্ঠে বলল “শোনো মেয়ে, হুটহাট করে ঘর থেকে বের হবে না।কখন কি হয়ে যায় বলা যায় না।”
“আমাকে নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। আমার কিছু হলেও বা কি! তাঁতে তো আপনার কিছু যায় আসে না।”
মীর মায়ার দিকে উত্তাপ নিয়ে তাকাল। তবে কণ্ঠনালীতে সে-ই টান আনল না। “ধরে নিলাম আমার কিছু যায় আসে না।এখন বাড়ি চলো।”

“একা এসেছি,একাই যাব।”
“এত বেশি সাহস দেখিও না।চলো”
বলে পথ ছেড়ে দিতেই মায়া পুনরায় বলল ‘বললামতো, আপনি যান,আমরা একাই যাব”
“তৃষ্ণা তো আগেই চলে গেছে।” বলে মীর হাসল।মায়া পাশে তাকিয়ে দেখল তৃষ্ণা চলে গেছে। এতক্ষণ মীর এর সাথে কথা বলার জন্য পাশে থাকা মানুষটির প্রতি খেয়াল হারিয়ে গেছে। উঁকি দিয়ে একবার বাড়ির পথে দেখল। তৃষ্ণা চলে যাচ্ছে।মায়া তবু সাহস আছে বলে অভিনয় করে বলল “আপনি যান,আমি আসছি।”
“কেন, তুমি কি বাঁশিওয়ালা কে খুঁজতে যাবে?’ মীর খানিকটা রেগে গেল।
“যেথায় যাই, আপনার সমস্যা?’

‘হুঁ আমার সমস্যা। ঝগড়াঝাঁটি করার ইচ্ছা হলে ঘরে বসে করবে,এখন চলো।”
“আপনি যান,আমি তারপর একা একা আসছি।আর আমাকে নিয়ে আপনার এত চিন্তা করতে হবে না, আমার কিছু হলেই বা কি!”
“অনেক কিছু হবে।প্রথমত আদ্রিয়ান বিয়ের আগে বিধবা হবে। দ্বিতীয়ত তোমার বাবা মেয়ে হারাবে। তোমার মা কান্নাকাটি করবে।”
“ছেলেরা, বিয়ের আগে বিধবা হয়?’ মায়া ভ্রু কুঁচকে ফেলল।
“হুঁ হয়।তাই বলছি চলো।”
“হোক সে বিধবা। আপনার তো কিছু যায় না আসে না। তাহলে চলে যান আপনি।”

মীর উত্তাপ গলায় কিছুটা উচ্চ স্বরে চেঁচিয়ে বলল “অফকোর্স যায় আসে। সে-ই কখন থেকে এক কথা বারবার বলেই যাচ্ছ,বলেই যাচ্ছ। হয়রান হয়ে যাচ্ছি।” মীর এর এরুপ শব্দে মায়া থ’হয়ে গেল। নিষ্পলক তাকিয়ে রইল মীর এর দিকে।মীর দৃষ্টি সরিয়ে ফেলল অন্যদিকে।আড়াল যেন কিছু বলল।তবে তা অস্পষ্ট।শুনেছে শুধু প্রকৃতি।মায়া খুশি হয় মীর এর মুখে এরকম কথা শুনে।মীর তাঁকে নিয়ে ভাবে। তাঁর কিছু হয়ে গেলে তার যায় আসে।এক টুকরো হাঁসি চলে আসল মায়ার ঠোঁটের ফাঁকে। কিন্তু তাঁর হাঁসি দীর্ঘতম হল না।মীর দম ছেড়ে বলল “কারণ তুমি আমার খালতো বোন। তোমার কিছু হলে,ভাই হিসেবে একটু তো খা’রাপ লাগবেই তাই না।”

মায়ার মুখটা ধোঁয়াময় হয়ে গেল। তাঁর শরীরে শীতের পোশাক নেই।পাতলা ওড়নাটি জড়িয়ে ধরল।মীর তা দেখে বলল “অচেনা বাঁশিওয়ালার সুর এতটাই তীক্ষ্ণ যে,শীতের পোশাক অবধি আনতে ভুলে গেলে।” বলে তাঁর শরীর থেকে মোটা কালো রঙের জ্যাকেট টা খুলে মায়ার শরীরে জড়িয়ে দিল।
“দরদ দেখাতে হবে না।” মায়া বলল।
“দয়া দেখালাম।দরদ দেখিয়ে কি হবে, তুমি তো অন্যকারো! অন্যকারো জিনিস এর প্রতি হাত বাড়াতে নেই।”
“আপনি তো হাত বাড়িয়ে দিলেন।”
“হাত বাড়িয়ে ছিলাম ভুলে, কিন্তু ছুঁয়ে দেখেনি।চলো,রাতটা আমরা দু’জন উপভোগ করি।”
“কলঙ্ক লাগবে।”

“লাগুক।দু চারটে কলঙ্ক থাকা ভালো। পুরোপুরি পরিষ্কার থাকলে অহংকার বাড়বে।”
“আপনি অনেক কথা জানেন।”
“সময় ও পরিস্থিতি অনেক কিছু বলতে শেখায় মেয়ে।” বলে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে মীর।
“বাড়ি ফিরব।”
“এতক্ষণ আমি বলেছি যাওনি।এখন আর যেতে দেব না।আগে চলো রাতটা আমরা আমাদের মত করে উপভোগ করি‌। শিমুল গাছের দিকেই যাই।”
মায়া একবার শিমুল গাছের দিকে তাকাল দ্বিতীয়বার মীর এর দিকে চেয়ে সম্মতি মূলক মাথা নাড়ায়।
মীর ও মায়া পাশাপাশি হাঁটা শুরু করে। ধানক্ষেতের আইল ধরে।মায়া ঘুরেঘুরে কাঁধ পাশ থেকে মীর কে দেখল।সাদা রঙের একটা গেঞ্জি পড়নে।আজ প্রবল শীত। কিন্তু শীত যেন তাঁকে ছুঁতে পারছে না।
মীর বলল “কি দেখছো?
মায়া না সূচক মাথা নাড়ল। দুজনে পৌঁছে শিমুল গাছের নিচে। শিকড়ের উপর বসে মায়া।মীর বসল দু হাঁটু ফাঁক করে।

রাত বাড়ছে ধরণীতে।খোলা ক্ষেতে শো শো বাতাসে চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠল যেন।মীর আঁধারে খুঁজে একটি ছোট্ট ডাল হাতে তুলে মাটিতে আঘা’ত শুরু করল।মায়া দৃশ্যটি দেখে দ্য সাইলেন্ট ম্যানর বইটির ফারদিনার কথা, আরেকবার সুফিয়ান এর কথা মনে পড়ল। সুফিয়ান গভীর চিন্তায় ডুবে থাকলে, মাটিতে আঁকিঝুঁকি করত, নদীর তীরে বসে থাকলে ঘাস টেনে ছিঁড়ত।বেশ মিল পেল মায়া।
“আপনাকে সুফিয়ান হায়দার এর মত লাগছে।” মায়া বলল মীর এর চোখের দিকে তাকিয়ে।
মীর হাত থামিয়ে জবাব দিল “সুফিয়ান হায়দার
এর মত ভাগ্য না হোক।”
“হলে কি?’

মীর গভীর শ্বাস ফেলে বলল “সুফিয়ান হায়দার যতটা কঠিন জীবন পাড় করেছে, এরকম কেউ বোধহয় কোনদিন করেনি। নিজের বোন সহ পুরো গ্রাম বাসীদের বাঁচাতে নিজের প্রিয় মানুষটিকে নিজ হাতে হ’ত্যা করল, এরপর নিজেই ম’রল।আমি ম’রতে ভয় পাই না, কিন্তু নিজের চোখের সামনে প্রিয় মানুষটির কিছু হোক তা চাই না।সহ্য করতে পারব না।খোদার কাছে ফরিয়াদ, আমার প্রিয় মানুষটির কিছু হওয়ার আগেও যেন আমাকে দুনিয়া থেকে নিয়ে যান।”

“খুব ভালোবাসেন তাঁকে,তাই না।”
“নিজের থেকেও বেশি!”
“আপনার কাছে প্রেম-ভালোবাসা মানে কি?
“প্রেম হলো সৌন্দর্য ও সত্যের দিকে আত্মার যাত্রা।শারীরিক আকর্ষণ দিয়ে প্রেম শুরু হলেও, প্রকৃত প্রেম মানুষকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আত্মিক উৎকর্ষের দিকে নিয়ে যায়।”
“এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ?

মীর হেঁসে দূর কুয়াশার দিকে চোখ ফেলে বলল “প্রেমের ব্যখ্যা দেয়া যায় না সংক্ষেপে।প্রেম থাকে জীবন জুড়ে।প্রেম মানুষকে শূন্য থেকে পূর্ণ করে,প্রেম মানুষকে ধ্বং’স করে।”
“আপনার জীবনের মোহিনী প্রথম ভালবাসা? না কি তাঁর আগেও কেউ ছিল ?”
“ছিল একজন। তাঁকে আজও ভালোবাসি। যাকে দিয়ে ভালোবাসার সূচনা তৈরি হয়, তাঁকে কি কখনো ভোলা যায়?”
“কে সে?” মায়া অধীর আগ্রহে জিজ্ঞেস করল।
“বলব।আজ নয়।অন্য একদিন।”
“আজ নয় কেন?

“প্রতিটি জিনিসের উপযুক্ত সময় দরকার। প্রতিটি সত্যর নিখুঁত সময় সৃষ্টি করে নিতে হয়।আর আমার সত্যটা বলার সময় সৃষ্টি এখনো হয়নি।”
“সাজিয়ে, গুছিয়ে বেশ কথা বলতে পারেন আপনি।” মায়া করমর্দন করে বলল।
আশেপাশের পরিবেশ নির্জীব হয়ে উঠল আরো।দূরে শেয়ালের ডাকাডাকি যেন খুব কাছে চলে আসছে।মায়া বরাবরই ভিতু।তবু আজ ভয়টা যেন তাঁকে তীব্র ভাবে ছুঁতে পারছে না।পাশে মীর বলে সাহস পাচ্ছে। আবার ভাবে, গ্রামে অনেক কৃষক আছে,রাত হলে ধান দেখতে বের হয়।ধান তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছে যে। তাঁদের মধ্যে কেউ দেখে ফেললে সমস্যা। দুর্নাম ছড়াবে। দু’দিন পর তাঁর বিয়ে। বিয়ের আগে মাঝরাতে পরপুরুষের সাথে রাতঘোরা মোটেই সম্মানের কাজ নয়।

মায়া নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল “চলুন!এখন উঠি। অনেক রাত হয়েছে।বাবা জানতে পারলে খুব বকবে।”
“আজকে রাতটা আমাকে দিলে।তাও সীমিত সময়। আগামীকাল সকালটাকেও আমাকে দাও।”
“কেন, সকালে কি?
“তুমি আর আমি শিকার করতে যাব।”
“কোথায়?
“যেখানে তোমার আর আমার প্রথম দেখা হয়েছিল।”
“আমি শিকার করতে পারি না।তীর নিশানা করে বিদ্ধ করতে পারি না।”
“আমি শিখিয়ে দেব।”
মায়া প্রথম সেকেন্ড কয়েক কিছু ভাবলো, এরপর জবাব দিল “দেব।”

পরদিন সকালে মায়া খুব দ্রুত ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়ে নেয় মীর এর সাথে শিকার করতে বের হওয়ার জন্য। আজকাল মীর এর সাথে তাঁর মিশতে বেশ ভালো লাগছে। অন্যরকম অনুভূতি সৃষ্টি হচ্ছে।গতকাল রাত তিনটে ছুঁইছুঁই সময়ে ঘরে পৌঁছেছিল তাঁরা। তৃষ্ণা বাড়ির পেছনের দিকে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিল।রাত জেগে।মায়া তৃষ্ণার আচরণে খুশি হয়েছিল।
বাইরে বের হওয়ার জন্য মায়া আজ শেফালী আর তৃষ্ণার সাহায্য নিয়েছে।বাড়ি ভর্তি অতিথি।সবার নজর এড়িয়ে বের হতে হবে।আপাতত ওঁরা কোথাও গেছে। এখুনি ফিরবে বলে।
গৌরী আসল মায়ার ঘরে। মায়ার পড়নে শিকারি পোশাক দেখে জিজ্ঞেস করল “ শিকারি করতে বের হচ্ছিস?
“শুধু শিকারি না,মীর এর সাথে বের হচ্ছি।” মায়ার মুখে উজ্জ্বল হাঁসি দেখে গৌরী বলল “এত আনন্দ হচ্ছিস যেন,মীর এর সাথে পালিয়ে যাচ্ছিস।অচিন দেশে গিয়ে ঘর বাঁধবি।”
“সে আমার না হোক, অন্তত তাঁর সাথে কিছু মুহূর্ত তৈরি হোক।যাতে আমি আমার নাত নাতনি কে আমার অপূর্ণ প্রেম কাহিনী বলে শোনাতে পারি।”

“আজকে তোকে দেখে ভীষণ ভালো লাগছে।তোর এই কঠোর মনটাকে দেখে আনন্দ হচ্ছে।জীবন পথে যতই ঝড় আসুক না কেন,এভাবেই সবসময় শক্ত থাকতে হবে।” বলে আলতো হাতে মায়ার কাঁধে হাত রাখে।
দু’জনে কথা বলছিল মায়ার ঘরের দরজার কাছে বসেই। সোজা তাকালে মীর এর ঘর।মীর ঘর থেকে বের হল। তাঁদের দুজনের চোখ পড়ে মীর এর দিকে। খয়েরি রঙের বুট পায়ে,কালো প্যান্ট, সাদা শার্ট এর উপর হালকা খয়েরী রঙের কটি। মাথায় পাগড়ি।হাতের ব্রেসলেটটা পড়তে পড়তে মায়ার ঘরের দিকে হাঁটছে । শিকারি পোশাকের সাথে পাগড়ির ছোঁয়ায় যেন মীর এর সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
মীর মায়ার ঘরে এসে বলল “কখন বের হবে?

“আপনি আগে যান, এরপর আমি আসছি।”
“তোমার অশ্ব নেয়ার দরকার নেই, তুমি হেঁটে এসো। বটগাছের নিচে আমি অপেক্ষা করছি। আমার অশ্বে চড়ে যাবে।” বলে মীর সময় না নিয়ে ব্যস্ত পায়ে হেঁটে গেল ঘর ছেড়ে।
মায়া গৌরীর সাহায্য লোকচক্ষুর আড়ালে বাড়ির পেছনের দিক থেকে মীর এর কাছে পৌঁছাল।মীর তাঁর অশ্ব অগ্নীল এর পৃষ্ঠায় চেপে বসা।মায়া বলল “আমি কি আপনার সাথে এক অশ্বে বসে যাব?
“গেলে কি হবে?
“আপনার মতলবটা কি?

মীর হেঁসে বলল “এই মেয়েটা একটু হলেই মতলব খুঁজে। আমার কোন মতলব নেই।থাকলেও পড়ে দেখবে।এখন উঠে এসো।” বলে মায়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।মায়া ইতস্তত করে মীর এর হাতে হাত রেখে অশ্বে উঠে বসে।মীর তাঁর গা ঘেঁষে পেছনে বসা।মায়া ঘুরে একবার দেখল মীর কে।মীর মায়ার দিকে না তাকিয়ে অশ্বের লাগাম টেনে ধরল।অশ্ব ছুটল তাঁর নির্দেশনায়।

বেশ কিছুক্ষণ পরে তারা পৌঁছে যায় উত্তর পাড়ার জঙ্গলে।জঙ্গলটি আকারে খুব বড় না হলেও তার সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। গ্রামের উত্তর পাশে অবস্থিত এই জঙ্গলটি যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক আশ্রয়স্থল। চারদিকে উঁচু উঁচু গাছ, ঘন ঝোপঝাড় আর সবুজ লতার জালে জঙ্গলটি সারাবছর শীতল ও সজীব থাকে। সকালে সূর্যের আলো গাছের ফাঁক দিয়ে পড়লে পুরো জঙ্গলটি সোনালি আভায় ঝলমল করে উঠেছে।

এই জঙ্গলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো হরিণের বসবাস। দল বেঁধে হরিণগুলো কখনো ঘাস খায়, কখনো আবার ভয় পেলে দ্রুত দৌড়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে। তাদের মসৃণ বাদামি গায়ে সাদা ছোপ আর সতর্ক চোখ জঙ্গলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে যেন। সকালের সময় দূর থেকে হরিণের চলাফেরা দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।এছাড়াও এই জঙ্গলে নানা পাখির বসবাস। পাখির কিচিরমিচির-পাতার মর্মর ধ্বনি মিলেমিশে এক অপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি করছে।উত্তর পাড়ার জঙ্গল শুধু প্রাণীদের আশ্রয়ই নয়, মানুষের মনকে শান্ত করার এক অনন্য প্রাকৃতিক নিয়ম।
তাঁরা থামে জঙ্গলের নিকটে এসে।অশ্ব থেকে নামল না।মায়া দূরে দূরে হরিণদের ছোটাছুটি দেখছে। ওঁরা যেন বুঝে গেছে মীর ও মায়া বোধহয় ওঁদের শিকার করতে এসেছে।মায়া বলল “শুধু কি শিকার করার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছেন?

“তোমার কি মনে ? মীর যেন সোজা প্রশ্নের সোজা জবাব দিতে নারাজ।
“আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।”
মীর মায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে মিনমিনিয়ে বলল “মূল উদ্দেশ্য তোমাকে শিকার করা‌”
“মানে? মায়া আকস্মিক অবাক হল।
মীর হেঁসে উড়িয়ে দিল। উত্তর দিল না।তূণীর থেকে তীরফলক বের করে মায়ার হাতে দিল।মায়া বলল “আমিত তীর ছুঁড়তে পারব না।”
মীর কোন জবাব না দিয়ে মায়ার ডান ও পা পাশ থেকে মীর তাঁর হাত দুটো সামনে নিয়ে তীরটি ধরল।মায়ার হাতে হাত রেখে তীরটির নিশানা করল। ধীরে ধীরে তীরটি একটি ব্যস্ত হরিণকে লক্ষ্য করল।মায়ার গালের সংস্পর্শে মীর এর গালে।মায়া ঘুরে দেখে।মীর চোখের ইশারায় তাঁকে বোঝাল তুমি সামনে তাকাও।মায়া তাকায়। এরপর মীর তীর ছুঁড়ে হরিণকে শিকার করে ফেলল।

মায়া হেঁসে উঠল গগণ কাঁপিয়ে। মায়ার মাত্রারিক্ত সুন্দর হাঁসি।মীর স্বীকার করে মনে মনে। এরপর দুজনে নেমে দাঁড়াল অশ্ব থেকে। হেঁটে গেল হরিণটির কাছে।মায়া চারপাশে তাকিয়ে বলল “আচ্ছা,এই জঙ্গলে কেউ আসে না কেন?কেন সবাই এই জঙ্গল থেকে দূরে থাকতে বলে?
“এক ভয়ং’কর ঘটনা ঘটেছিল এই জঙ্গলে। তুমি জানো না?”
“আমিত বিদেশে ছিলাম। কিভাবে জানব? আপনি সে-ই ঘটনা সম্পর্কে জানলে দয়াকরে বলুন।” মায়া অনুরোধ করল যেন।

The Silent Manor part 60

মীর আটকে রাখা দম ফেলে বলল “এক অপূর্ণ প্রেম কাহিনী এখানেই যেন সমাপ্তি হয়। দরিদ্র ঘরের ছেলের সাথে সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ের সম্পর্ক পরিবার মেনে নেয়নি। কিন্তু সে-ই প্রেমিক ছিল যেন শাহজাহান এর মত। ছুটে গেল সে-ই মেয়ের বাবার কাছে। যেকোনো বিনিময়ে সে-ই মেয়েকে জীবনসঙ্গী হিসেবে তাঁর চাই। বেইমান বাবা শর্ত দিলেন,এই জঙ্গলে এক রাত কাটাতে হবে তাঁর। তখনকার সময়ে এই জঙ্গলে বাঘ,চিতার বসবাস ছিল।সাহস করে উন্মাদ প্রেমিক রাজি হয়। কিন্তু শেষমেশ তাকে প্রাণ দিতে হয় ভালোবাসার বিনিময়ে।এই জঙ্গলের জ’ন্তুজা’নোয়ার তাকে ছিঁড়ে খায়। এরপর তাঁর প্রেমিককেও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি ওকে।
মীর কথাটা শেষ করতে না করতেই একটা তীরফলক এসে তাঁর বা হাত ছুঁয়ে বেরিয়ে গেল।মীর আ.. শব্দে হঠাৎ আ’ঘাতে আঁতকে উঠল।

The Silent Manor part 62