Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩২

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩২

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩২
নওরিন মুনতাহা হিয়া

বিকাল তিনটার দিকে জিয়াকে আইসিউ থেকে বেডে সিফট করা হয়েছে ওর অবস্থার এখন উন্নতি হয়েছে। শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ র’ক্ত বের হয়ে গিয়েছিল পরে নতুন দুই ব্যাগ র’ক্ত ভরা হয়েছে। জিয়া এখন সম্পূর্ণ সুস্থ তবে ওর হাতে ক্যানেলা লাগান রয়েছে স্যালাইন চলছে। ডলি বেগম বাসায় গিয়েছে দুপুরের খাবার রান্না করে বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু ইরফান সাহেব এখন ও উপস্থিত জিয়া ক্যানেলা লাগান হাত বেডে রেখে মাথার উপর উঁচু বালিশ দিয়ে সটান হয়ে শুয়ে আছে।

তখনই হঠাৎ দরজায় শব্দ হয় জিয়া তাকিয়ে দেখে কে এসেছে? ইরফান সাহেব সেখানে উপস্থিত থাকার সুবাধে ওনি ও তাকায়। হয়ত তারা মনে করে ডলি বেগম বাড়ি থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে সেখানে উপস্থিত হয় আদ্রিয়ান। আদ্রিয়ানকে দেখে জিয়া সহ ইরফান সাহেব সাহেব অবাক হয়ে যায় ‚ আদ্রিয়ান কি তার সুস্থতার খবর শুনে তাকে দেখতে এসেছে? জিয়া তার অসুস্থ হয়ে যাওয়ার নাটক বাড়িয়ে দেয় যাতে আদ্রিয়ানের সিমপ্যাথি লাভ করা হয়। জিয়া অসুস্থ কণ্ঠে ধীর ধীর বলে
“আদ্রিয়ান তুমি এসেছ আমার সাথে দেখা করতে? আদ্রিয়ান তুমি জানো আমি তোমায় কতো মিস করেছি! আই মিস ইউ আদ্রিয়ান“।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আদ্রিয়ান জিয়ার কথা শুনল অসুস্থ হয়ে মারা যাবে তবুও এই মেয়ের ন্যাকামি কমবে না। বিরক্তিকর! আদ্রিয়ান এগিয়ে যায় জিয়ার কাছে এরপর যথেষ্ট ভদ্রতা বজায় রাখতে জিজ্ঞেস করে
“জিয়া তুমি কেমন আছো? শরীর সুস্থ হয়েছে তোমার? ডক্টর কি বলেছে কবে ডিসচার্জ করবে?“
আদ্রিয়ান কি জিয়ার জন্য চিন্তা করছে? তবে কি জিয়ার পরিকল্পনা সফল হয়েছে! জিয়া হাতে ক্যানেলা লাগা হাত বিছানা থেকে উঠিয়ে একটু এগিয়ে গিয়ে পাশে থাকা আদ্রিয়ানকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু আদ্রিয়ান তার আগেই জিয়ার হাত ধরে ফেলে আর কর্কশ কণ্ঠে বলে
“জিয়া অসুস্থ হয়ে মারা যাবে তুমি বেহায়া হওয়া ছাড়বে না তাই না? তোমাকে এখানে জড়িয়ে ধরতে বা ভালোবাসা বিনিময় করতে আসি নি আমি। শুধু কয়েকটা প্রশ্নর উত্তর জানতে এসেছি?“
আদ্রিয়ানের কণ্ঠ শুনে জিয়া থমকে যায় এখন ও আদ্রিয়ানের মন তার উপর দুবর্ল হয়নি। জিয়া বলে

“কি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাও তুমি আদ্রিয়ান?
আদ্রিয়ান একবার ঘুরে ইরফান সাহেবের দিকে তাকায় ওনি আজ চুপচাপ বসে আছেন। হাসপাতালে আদ্রিয়ানকে দেখে কোনো প্রকার হটকারিতা বা বাজে মন্তব্য করছেন না। কাল মিরাজ সাহেবের কথায় বেশ ভয় পেয়ে আছেন কারণ ওনি জানেন আদ্রিয়ানের যদি কোনো ক্ষতি ওনি করতে যান তবে তার ক্ষতিপূরণ তাকে ও দিতে হবে। ব্যবসায় মিরাজ সাহেব আর ওনি আর পার্টনার তা শুধু তা নয় তার হাসপাতাল সহ অনান্য ব্যবসার সবচেয়ে বড়ো শেয়ার হেলডার হলেন মিরাজ সাহেব। যদি ওনি ইরফান সাহেবের সাথে সমস্ত চুক্তি শেষ করে দেন তবে ইরফান সাহেব পথের ভিখারি হয়ে যাবে।
আদ্রিয়ান ইরফান সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে

“ইরফান স্যার আপনি কি পাঁচ মিনিটের জন্য বাহিরে যেতে পারবেন। আমার জিয়ার সাথে একান্তে কিছু কথা বলার আছে।“
আদ্রিয়ানের কথা শুনে ইরফান সাহেব কোনো প্রতিবাদ করলেন না বরং চুপচাপ চলে যায় কেবিনের বাহিরে। জিয়া আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে
“আদ্রিয়ান তুমি আব্বুকে বাহিরে যেতে কেনো বললে?
“কারণ আমি তোমার মতো এমন নির্লজ্জা না তার জন্য। বড় গুরুজনের সামনে কি কথা বলতে হবে তার বোধ আমার আছে।“
জিয়া হয়ত আদ্রিয়ানের কথার মানে বুঝতে পারল না সে অবাক হয়ে বলে উঠল
“মানে?“

পকেট থেকে এক চিরকুট বের করে আদ্রিয়ান জিয়ার হাতে ধরিয়ে দেয়। জিয়ার হাতে ধরিয়ে দেওয়া কাগজ যে চিরকুট না বরং তার লেখা সু’ই’সা’ই’ড নোট তা বুঝতে দেরি হয় না জিয়ার। আদ্রিয়ান জিয়ার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে এরপর ধমকের সুরে বলে উঠে
“এই সুইসাইড নোটের মানে কি জিয়া? তুমি এখানে কি লিখেছ? তোমার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক? কবে কখন আমি তোমাকে ভালোবাসি বলেছি? আর কি লিখেছ আমার সাথে তোমার রিলেশন ও ছিল? আর ইউ আউট অফ ইউর মাইন্ড? তোমায় আজ অবধি আমি কখন ছুঁয়ে দেখেছি? টার্চ করেছি তোমায় আমি? তুমি নিজ থেকে সবসময় বেহায়ার মতো আমার সাথে চিপকে থাকবে। জড়িয়ে ধরবে! আমি তোমাকে শুরু থেকেই বাধা দিয়ে এসেছি এইসব করতে। গুণে গুণে ১৪ টা থাপ্পড় অবধি দিয়েছিলাম তবুও কি তোমার শিক্ষা হয়নি? আর কতটা বেহায়া, আর নির্লজ্জা হবে তুমি!“

আদ্রিয়ান কথাগুলো বেশ জোরে বলায় সমগ্র কেবিন জুড়ে তা শুনা যাচ্ছিল? আদ্রিয়ানের এমন রাগ দেখে জিয়া ভয়ে থতমত খেয়ে যায়। জিয়ার পরিকল্পনা ছিল আদ্রিয়ানকে অসহায় বা ভয় দেখিয়ে তার কাছে নিয়ে আসা।কিন্তু এখন তার উল্টো হচ্ছে আদ্রিয়ানকে দেখে তার ভয় হচ্ছে! জিয়া ভীতু কণ্ঠে তার কাজের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলে
“আদ্রিয়ান তুমি রাগ করছ কেনো? আমি শারিরীক সম্পর্কর কথা ঠিক তেমন করে বলেনি? ওই জড়িয়ে ধরা বা কিস করার কথা বলেছি।“
জিয়ার কথা শুনে আদ্রিয়ানের রাগের পরিমাণ দিগুণ বেড়ে যায় আর বলে

“একটা থাপ্পড় দিয়ে না বত্রিশ দাঁত দিব আমি তোমার জিয়া! ফাইজলামি কর তুমি আমার সাথে? একজন ডক্টর হয়ে তুমি ফিজিক্যাল রিলেশনের মানে বুঝো না? এইটা কি বিশ্বাস করার মতো কথা! আর জড়িয়ে বা কিস কি আমি তোমাকে করেছিলাম? এই কিস করার জন্যই যে ‚ তুমি ১৪ টা থাপ্পড় খেয়েছিল তা কি তুমি ভুলে গেছ? অবশ্য তুমি ভুলে গেলে আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিতে পারি অসম্ভব কিছু না।“
আদ্রিয়ান জিয়াকে অপমান করে কথা বলছে যা জিয়া সয্য করতে পারে না ‚জিয়া ও রাগী কণ্ঠে বলে

“আদ্রিয়ান তুমি কিন্তু আমাকে অপমান করছ? তুমি কেন বুঝো না যে আমি তোমাকে ভালোবাসি! আই লাভ ইউ আদ্রিয়ান। আই রিয়েলি লাভ ইউ!
জিয়ার কথার বিপরীতে আদ্রিয়ান উত্তর দেয়
“কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি না জিয়া! আই ডোন্ট লাভ ইউ জিয়া। তুমি কেনো বোঝ না আমি তোমাকে ভালোবাসি না। তাছাড়া আমি বিবাহিত আমার বউ আছে। ঘরে বউ রেখে অন্য নারীর সাথে পরকীয়া করতে পারব না আমি জিয়া?“
আদ্রিয়ানের কথা শুনে জিয়া তার হাত ধরে কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে অনুরোধ করে বলে উঠে

“না ‚তুমি আমার ছাড়া অন্য কারো হতে পারবে না। তুমি শুধু আমার। শুধু একবার তুমি আমায় ভালোবাসে দেখো। অন্তত চেষ্টা কর আমায় ভালোবাসার! আমি তোমাকে ভালোবাসি আদ্রিয়ান।“
জিয়ার ধরে রাখা হাত আদ্রিয়ান এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলে
“আমার দ্বারা তোমাকে কখন ভালোবাসা সম্ভব নয় জিয়া। এই হৃদয় জুড়ে শুধু মাএ আমার স্ত্রীর মালিহার অবস্থান রয়েছে ‚সেখানে অন্য নারীর প্রবেশ নিষেধ। তোমার প্রতি আমার মনে কোনো ভালোবাসার অনুভূতি কখন ছিল না আর না ভবিষ্যতে হবে। তোমার সাথে আমার এইটাই শেষ দেখা ‚ এরপর থেকে আমার জীবনে তোমার ছায়া অবধি আমি দেখতে চাই না জিয়া।“

জিয়া কান্না করতে করতে বলে
“না ‚আদ্রিয়ান আমায় ছেড়ে যেও না তুমি। আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না। আদ্রিয়ান!“
জিয়ার কথা হয়ত আদ্রিয়ান শুনল না সে বলল
“বিদায় জিয়া। শেষ বারের মতো বিদায়। “
আদ্রিয়ান “বিদায়“ শব্দটা উচ্চারণ করে জিয়ার থেকে দূরে সরে আসে এরপর পা বাড়ায় কেবিন থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য। আদ্রিয়ানকে যেতে দেখে জিয়া পিছন থেকে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে বলে উঠে
“আদ্রিয়ান তুমি যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাও৷ তবে কিন্তু আমি এই সু’ই’সা’ইড নোট পুলিশের কাছে দিয়ে দিব! তোমার কিন্তু জেল হবে। কেরিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে। তোমার ডক্টরি লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে আদ্রিয়ান।“
জিয়ার কথা শুনে আদ্রিয়ান থামে কিন্তু পিছনে ফিরে তাকায় না জিয়ার মুখ দেখার ইচ্ছা তার আর নাই। আদ্রিয়ান বলে

“জিয়া তোমার যা ইচ্ছা তুমি তাই কর। আমার বিরুদ্ধে মামলা কর বা অথবা আমায় জেলে দাও। কিন্তু আমি কখন তোমায় ভালোবাস না ‚ অসম্ভব। আর আমি যদি ধ্বংস হয় তবে তুমি হয়ে যাবে ভিখারি। কারণ আমার মামার পরিচয় হয়ত তুমি ভুলে যাচ্ছ। তোমাদের ব্যবসা থেকে যদি আমার মামা সরে দাঁড়ায় তবে কিন্তু তোমার বাবা ‚আর তোমার কেরিয়ার সহ মান সম্মান টাকা পয়সা সব শেষ হয়ে যাবে। আশা করি আমার কথা মানে তুমি বুঝতে পারছ।“

এক মুহূর্ত আদ্রিয়ান আর সেখানে দাঁড়াল না বড় বড় পা ফেলে বের হয়ে আসে যায় কেবিন থেকে। জিয়ার মুখ থেকে কোন কথা শুনার ইচ্ছা বা আগ্রহ তার আর নাই। তাছাড়া রাত হয়ে গেছে মেঘ এখন একা বাসায়। হয়ত ভয় পেতে পারে তাই দ্রুত বাসায় ফিরে যাওয়া উচিত।
আদ্রিয়ান চলে যাওয়ার পর জিয়া তার হাত দিয়ে বিছানায় ঘুষি মারে মূলত তার রাগ কম করার চেষ্টা করছে সে। হাতে ক্যানেলা থাকায় জোরে ঘুষি দেওয়ায় হাত থেকে এক বিন্দু র’ক্ত বের হল যদিও তা খুব সামান্য পরিমাণ। জিয়ার শরীরে থাকা রাগ ‚আর জেদ থেকে কম।
রাত ৯: ০০

ঘড়িতে সময় রাত নয়টা তখন আদ্রিয়ান বাসায় ফিরে আসে। বাড়ির মেইন গেইট অতিক্রম করে গাড়ি এসে থামে বাগানের মাঝে এক সরু রাস্তায়। ড্রাইভার সহ বাড়ির অন্য গার্ড সকলে বড়দিন উপলক্ষে ছুটিতে তাদের বাসায় গিয়েছে। তাই আজ গাড়ি নিজ থেকে ড্রাইভ করে বাসায় ফিরে এসেছে আদ্রিয়ান।

গাড়ি পার্ক করে বাসার সদর দরজা দিয়ে ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করে। তবে অদ্ভুত বিষয় হল! সারা বাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকার কোথাও আলোর রশ্নি বা ঝলক অবধি দেখা যায় না। আদ্রিয়ান অবাক হয় রাত নয়টা বাজে তবুও বাড়িতে লাইট জ্বালান হয়নি কেনো? রাস্তায় আসার সময় সকল বাসায় কারেন্ট দেখে এসেছে আর যদি কারেন্ট না থাকবে তবে জেনারেট অন করেনি কেন? আর মেঘ কোথায়?এই অন্ধকারে কি একা একা রুমে বসে আছে? কোনো বিপদ হল না হতো? আজ বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড সহ সকলে ছুটিতে। আদ্রিয়ান জোরে শব্দ করে ডাকে
“মেঘ ‚মেঘ? কোথায় তুমি? মেঘ?”

আদ্রিয়ান দুই থেকে তিনবার ডাক দিল কিন্তু কোন প্রকার সারা শব্দ শুনা যাচ্ছে না। আদ্রিয়ানের ভয় বাড়ল সত্যি কি মেঘের কোন বিপদ হল? আদ্রিয়ান যখন মেঘের সাড়া শব্দ না পেয়ে মেঘের রুমের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়ায় তখন হঠাৎ সিঁড়ির দিয়ে কারো হেঁটে আসার পায়ের শব্দ শুনা যায়।আদ্রিয়ান তাকায় সামনের দিকে।
প্রজ্বলিত মোমবাতি হাতে নিয়ে ধীর পায়ে এক পা দুপা করে এগিয়ে আসছে এক রমণি। কৃত্রিম মোম বাতির আলোয় তার অরুরাঙা আঁখি পল্লব জ্বলজ্বল করে উঠে। অন্ধকার আর মৃদু আলোর সংমিশ্রণে চারপাশে এক মোহনীয় পরিবেশ বিরাজ করছে। রক্তকমল ভয়ার্ত ঠোঁট জুড়া ঝলমলে আলোয় চিকচিক করে উঠে। আদ্রিয়ান থমকে যায় তার হার্টবিট তীব্র গতিতে ছুটছে ‚ কিছুক্ষণ আগে যে আদ্রিয়ানের চোখে ভয় ‚আবেগ আর উৎকণ্ঠা ছিল এখন তা শীতল আর শান্ত চাহনিতে পরিণত হয়েছে। তার দৃষ্টি মুগ্ধ থেকে মুগ্ধ হয়ে মেঘের চোখের মায়ায় বিভোর হয়ে গেছে।

সিঁড়ি দিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে এগিয়ে আসে মেঘ ঘর অন্ধকার থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখেছে। আজ রাত ছয়টা থেকে কারেন্ট চলে গেছে এখন ও আসেনি! অথচ আশেপাশের বাসায় কারেন্ট আছে শুধু তাদের বাসায় নাই। অন্ধকারে মেঘের ভীষণ ভয় করে তাছাড়া বাসায় কেউ ছিল না আদ্রিয়ান ও না। তাই মেঘ তার রুমে ফোনের ফ্যাশ লাইট অন করে বসে ছিল ‚এখন আদ্রিয়ানের ডাক শুনে নিচে নেমে এসেছে। মেঘ আদ্রিয়ানকে দেখে সস্তি পায় এরপর তার দিকে এগিয়ে এসে বলে
“আদ্রিয়ান স্যার আপনি চলে এসেছেন? কোথায় ছিলেন আপনি? বাসায় কারেন্ট নাই অন্ধকারে থাকতে আমার ভয় করছিল!”

মেঘের বলা কথা হয়ত আদ্রিয়ানের কানে পৌঁছায় না কারণ সে এখন মেঘের দিকে তাকিয়ে আছে। কাছ থেকে মেঘকে থেকে আরো অধিক সুন্দর লাগছে! আদ্রিয়ান কোন কথা বলছে না দেখে মেঘ তাকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে আবার ডাক দেয়
“আদ্রিয়ান স্যার শুনছেন আপনি? কি হয়েছে আপনার? কথা বলছেন না কেনো? আদ্রিয়ান স্যার”।
মেঘের পরের বারের ডাক আদ্রিয়ান শুনল সে হুঁশ থেকে ফিরে এসে মেঘকে তার নিকটে দেখে চমকে উঠল। আদ্রিয়ান বলে

“মেঘ তুমি? আর সারারাত অন্ধকার কেনো?
“ছয়টার সময় কারেন্ট চলে গেছে কিন্তু এখন আসেনি”
“কারেন্ট চলে গেছে তুমি জেনারেটর অন করনি?”
“না ‚ জেনারেটর কোথায় লাগান তা আমি জানি না?
“ওহ্ আসলে বাসায় সাধারণ কখন কারেন্ট যায় না। তাই হয়ত খুব বেশি জেনারেটর অন করা হয়নি। বাড়ির বাহিরে দেয়ালের সাথে জেনারেটর লাগান। তুমি এখানে থাক আমি জেনারেটর অন করে আসছি।”
“ওকে ”।
আদ্রিয়ান মেঘের হাত থেকে মোমবাতি নিয়ে নেয় কিন্তু অন্ধকারে মেঘ একা দাঁড়িয়ে থাকবে বলে জিজ্ঞেস করে

“মেঘ তুমি কি অন্ধকারে একা থাকতে ভয় পাবে?”
“একটু।”
“আচ্ছা তবে চল আমার সাথে। তুমি মোমবাতি ধরবে আর আমি জেনারেটর অন করব”।
“হুম চলুন”।
মেঘ আর আদ্রিয়ান দুইজনে ড্রয়িং রুম থেকে বের হয়ে বাড়ির বাহিরে যায়। আদ্রিয়ান সামনে আর মেঘ পিছনে মোমবাতি হাতে নিয়ে। বাড়ির পিছনে সাইডে জেনারেটর লাগান খুব উঁচুতে না তাই আদ্রিয়ান হাত দিয়ে নাগাল পেয়ে যায়। আদ্রিয়ান হাত দিয়ে জেনারেটর বাক্স চেক করে দেখে জেনারেটরর প্রধান লাই টার ছিঁড়ে গেছে। এখন আর জেনারেটর জ্বালান সম্ভব হবে না ‚আদ্রিয়ান বলে

“মেঘ জেনারেটর টার ছিঁড়ে গেছে এখন আর জেনারেটর জ্বালান সম্ভব না। কারেন্ট না আসা অবধি অপেক্ষা করতে হবে”।
“কি বলেন? কারেন্ট কখন আসবে তার ঠিক নাই।যদি আজ সারারাত না আসে তবে কি আমরা অন্ধকারে বসে থাকব!”
“এখন আর কি করার। তবে চিন্তা কর না কারেন্ট খুব শীঘ্রই চলে আসবে। আমেরিকায় সাধারণ কোন জটিল সমস্যা না হলে কারেন্ট আসতে খুব বেশি দেরি হয় না।”
“হুম‚ অপেক্ষা করা ছাড়া আর কি করব।”
মেঘ আর আদ্রিয়ান বাড়ির ভিতরে চলে আসে হাতে থাকা মোমবাতি প্রায় গলে শেষ হয়ে যাচ্ছে। মেঘের রুমে আরো কিছু মোম ছিল যা আবিহা আগে কিনে রেখেছিল। যদি রাতে হঠাৎ করে কারেন্ট চলে যায় তবে পড়াশোনা করতে যেনো মেঘের অসুবিধা না হয়। মেঘ সেই মোমবাতি নিয়ে আসে এরপর টেবিলে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়। আদ্রিয়ানকে উদ্দেশ্য করে মেঘ বলে

“আদ্রিয়ান স্যার আপনার কি খুদা লাগছে খাবার কি গরম করে নিয়ে আসব।”
“ওকে নিয়ে আসো। কাল যেহেতু নাই তাই তাড়াতাড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে হবে”।
“আচ্ছা আপনি বসুন আমি খাবার গরম করে নিয়ে আসছি”।
“হুম ওকে ”।
মেঘ খাবার গরম করতে রান্না ঘরে চলে যায় টেবিল থেকে এক মোমবাতি তার হাতে নিয়ে। আদ্রিয়ান রান্না ঘরে মেঘের দিকে তাকিয়ে দেখছিল কি সুন্দর গিন্নির মতো রান্না করছে। একটু পর মেঘ বিরিয়ানি গরম করে নিয়ে আসে এরপর টেবিলে সাজিয়ে রাখে। চারপাশে মোমবাতির নিভু নিভু আলো তার মধ্যে আদ্রিয়ান আর মেঘ খাবার খাচ্ছে। যেন এক প্রকার “ ক্যানডেলাইট ডিনার মতো“। কারেন্ট গিয়ে বেশ ভালো হয়েছে মেঘের সাথে সে সুন্দর সময় কাটাতে পারছে। আদ্রিয়ান বলে

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩১

“মেঘ কি সুন্দর মোমবাতির আলোয় খাবার খাচ্ছি বিষয়টা সুন্দর না!”
“হুম বেশ সুন্দর আমার এভাবে খাবার খেতে ভালো লাগছে ”।
”মনে হচ্ছে যেন আমরা ডেইটে এসেছি তাই না“।
“ডেইট?”
“তুমি আর আমি একসাথে ডেইটে এসেছি”।
“কিন্তু আমি সাথে ডেইটে কেনো যাব?”।
“আমি তোমার সাথেই ডেইটে যাব ”।

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৩