আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৫
অরাত্রিকা রহমান
বিকেলের সময় পার হচ্ছে, সূর্য হেলে পরেছে পশ্চিম দিকের পাহারের পিছনে, আড়াল হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই চূড়ান্ত মুহূর্ত দুই মানব মানবীর ভালোবাসার সাক্ষী হচ্ছে। রায়ান মিরায়ার ঠোঁট এখনো নিজের ঠোঁট আঁকড়ে ধরে আছে। আজ তার বউকে ছাড়ার কোনো ইচ্ছে কাজ করছে না। মিরায়া তেমন ভাবে রায়ানের সাথে তাল মেলাতে পারছে না তাই বেশি কিছু করছেও না, ওভাবেই রায়ানের গলা জড়িয়ে বসে আছে। নিঃশ্বাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল তাকে তবুও রায়ানকে সে ছাড়তে চাইছিল না যেন ছেড়ে দিলেই হারিয়ে যাবে মানুষ টা। রায়ান ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ছাড়ে নি। নিজের প্রিয়সীর ঠোঁটে মেতে থাকা এক পুরুষ যে ঠিক কতটা অধৈর্যতা বহন করে তা রায়ানের আচরণে বোঝা যাচ্ছিল।
মাহির আর রুদ্র এই দিকে সোরায়া আর রিমির চোখে হাত দিয়ে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে হাঁটা ধরেছে বাইকের দিকে তাদের আর কাজ নেই সেই জায়গায়। এর মাঝেই রিমি রুদ্রর সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলল-
“রুদ্র…মাহির ভাই সোরায়ার চোখ ধরেছে বোঝা যায়, ও তো বাচ্চা মেয়ে। কিন্তু আপনি আমার চোখ কেন ধরে আছেন? আমি তো প্রাপ্ত বয়স্ক।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
রুদ্র রিমির কথায় সাথে সাথে ওর হাত রিমির চোখের উপর থেকে সরিয়ে নিলো। রিমি চোখ ছোট ছোট করে রুদ্রর দিকে তাকালো। রুদ্র মাথা লজ্জায় ঘাড়ে হাত দিয়ে ঘষতে ঘষতে বলল-
“না বয়সের ব্যাপার নয়। যদি ওদের কান্ড তে অপ্রস্তুত হয়ে অস্বস্তিতে পরেন তাই আর কি।”
রিমি মুখ বাঁকিয়ে দূরে মিরায়া আর রায়ানের দিকে তাকিয়ে একনজর আবার রুদ্রর দিকে তাকিয়ে বলল-
“ওখানে ওরা অপ্রস্তুত ভাবে চুমু খাচ্ছে, ওদের অস্বস্তি নেই তাহলে আমার কেন হবে আমি কি কিছু করেছি?”
রুদ্র মাথা না সূচক নাড়ালো ভদ্র ছেলের মতো। রিমি চুপচাপ বাইকের কাছে গিয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। রুদ্র ও তার পিছন পিছন গেল।
এই দিকে একই সময়ে সোরায়ার অবস্থা ভিন্ন। সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে মাহিরের হাত নিজের চোখের উপর থেকে সরানোর।
-“আআহহহ্, স্যার হাত সরান না। কি এমন হচ্ছে ওখানে যে দেখা যাবে না? আমি দেখবো।”
সোরায়া ঠিক বুঝে উঠতে পারে নি পরিস্থিতি টা। মাহির পড়লো জ্বালায়। এখন কিভাবে বলে বোঝাবে কেন হাত সরানো যাবে না। রায়ানের উপর বিরক্তি প্রকাশ করে বিড়বিড় করলো মনে মনে –
“খোদা.. মানে সমস্যা কই এই ছেলের। সব সময় ছোট দের সামনেই কেন এইসব করতে হবে ওর? বাড়িতে কি ঘরের অভাব? সব ছেড়ে রাস্তা ভালো লাগলো। এখন এই পিচ্চি পাকা মেয়ে কে কি বলবো! সব জানে সব বোঝেও কিন্তু এখন এটা বুজছে না। ধুরু…”
সোরায়া মাহির হাত জোর করে নিজের চোখ থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“কি হয়েছে হ্যাঁ? এতো দূরে নিয়ে এলেন কেন আমাকে? আপুরা তো ওই…!( মিরায়া রায়ানের দিকে আঙুল তুলে ইশারা করে)”
কথা পুরো করার আগে চুপ করে গিয়ে হা করে তাকিয়ে রইল সেই দিকে। কয়েকবার পলক ফেলে বিড়বিড় করলো-
“এটা তো কোনো ডার্ক রোমান্স উপন্যাসের এর দৃশ্য মনে হচ্ছে?”
মাহির সোরায়ার কথা খানিকটা শুনতে পেয়ে তুচ্ছার্থে বলল-
“হাহ্ ! রাইট… ডার্ক রোমান্স উপন্যাস…তাই তো, আমি তো ভুলেই গেছিলাম যাকে বাচ্চা ভেবে সবাই ভুল করে সে ডার্ক রোমান্স রিডার।”
সোরায়া তৎক্ষণাৎ সেই দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে মাহিরের দিকে তাকালো।
-“কি বললেন আপনি আমার ব্যাপারে?”
মাহির সোরায়ার দিকে ঝুঁকে প্রশ্ন করলো-
“কিছু না তো, আচ্ছা একটা কথার উত্তর দাও। সে দিন যে বই টা নিলে পড়েছো? কেমন ছিলো রিভিউ দাও তো! আমিও পড়বো।”
সোরায়া মাহিরের কথায় লজ্জায় পড়ে গেল। তার গাল লাল হয়ে উঠলো। সেদিন অনিচ্ছাকৃত মাহিরের সামনে একটা ডার্ক রোমান্স বই কিনার পর সোরায়া বেশ লজ্জায় ছিল। কিন্তু হঠাৎ তার মাথায় এলো মাহির যেহেতু তাকে এটা নিয়ে খোটা দিচ্ছে তার মেনে বইটা কিসের এটাও তার জানা। সোরায়ার চোখ হঠাৎ বড় বড় হয়ে গেল, সে মাহিরের চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করলো-
“আপনি এইসব পড়েন?”
মাহির ফিক করে হেসে দিয়ে বলল-
“আমার বয়স প্রায় ২৮। তার উপর অবিবাহিত। কি মনে হয় তোমার, উত্তর কি হবে এই প্রশ্নের?”
সোরায়া অবাক হয়ে গেলো-
“সত্যি সত্যি ওই বই পড়েছেন আপনি?”
মাহির সোরায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল-
“খালি ওই বই না। একটা সময় তোমার ভাইয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে এমন সব বই পড়েছি। তফাত এতটুকুই যে তোমার ভাইয়ের বই পড়ে প্রাপ্ত জ্ঞান প্রকাশ করার জায়গা আছে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে দেখছ। আর আমি এক দুর্ভাগা, খোদা দিলো তো দিলো তাও ছোট্ট পিচ্চি। এখন তার বড় হওয়ার অপেক্ষাও করতে হবে আমার।”
মাহিরের কথা শুনে সোরায়ার কান দিয়ে ধোঁয়া বের হওয়ার উপক্রম। অবশেষে আর কিছু বলার মতো না পেয়ে দৌড়ে বাইকের কাছে চলে গেলো ঠিক যেখানে রিমি দাঁড়িয়ে ছিল।
প্রায় ১৫ মিনিট পর হঠাৎ মিরায়া রায়ানের থেকে নিজেকে দূরে, সরিয়ে নেয়। এমন কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে হঠাৎ বেঘাত ঘটায় রায়ান বিরক্ত হয়ে মিরায়ার দিকে তাকায়। মিরায়া ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলছে কিন্তু চোখ রায়ানের চোখ বরাবরই। মিরায়ার কান্না ভেজা চোখের দিকে তাকিয়ে রায়ান কিছু টা নিজের বিরক্তি সামলে নিয়ে মিরায়ার গালে হাত রেখে বলল-
“That wasn’t enough, baby.. আর একটু…!”
সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই মিরায়া রায়ানের গালে মৃদু শক্তি প্রয়োগ করে চর বসালো। রায়ানের যদিও তেমন লাগেনি তবে সে হতভম্ব হয়ে রইল। আগে মারলেও হতো কিন্তু এভাবে আদরের ভরা সুখময় মুহুর্তের পর মারার মানে কি তা সে বুঝতে অক্ষম। রায়ান মিরায়াকে নরম গলায় প্রশ্ন করলো-
“এটা কেন ছিল?”
মিরায়া আবারো কেঁদে দিল। সে এভাবে কখনো কাঁদে না তবে আজ কাঁদছে, কেন সে তাও জানে না। মিরায়া রায়ানের অন্য গালেও চর বসিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল-
“অসভ্য লোক, দূরে থাকুন আমার থেকে। আপনি ভীষণ খারাপ। কত ভয় পেয়ে গেছিলাম আমি। আপনি উঠুন আমি নিজে আপনাকে ধাক্কা দিয়ে খাদ থেকে ফেলে দেবো এখন।”
রায়ান এতক্ষণে বুঝতে পারলো তার প্রিয়তমার রাগ। মূলত ভয় থেকেই রাগ আর ভয় থেকেই কান্না। রায়ান মুখে বানোয়াট একটা দুঃখ ভাব এনে প্রশ্ন করলো-
“সত্যি ফেলে দিবা?”
মিরায়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে গালে দিয়ে বেঁয়ে পড়তে থাকা অশ্রু কণা হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছতে মুছতে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়াল-“হুঁ ম।”
রায়ান মিরায়ার মুখ দুই হাতের মাঝে নিয়ে চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলল-
“আচ্ছা চলো, আমি দাঁড়াচ্ছি খাদের সামনে তুমি পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে দিও।”
এই বলে রায়ান উঠতে নিলে মিরায়া রায়ানের জ্যাকেট টেনে ধরে বসিয়ে কাঁদতে থাকে অবস্থায় আবারো জড়িয়ে ধরে বলল-
“না…না…!”
রায়ান ঠোঁট কামড়ে হেসে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেঁড়ে মিরায়াকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল-
“আরে পাগলি, সরি, সোনা। কাঁদছো কেন? তোমার কান্না কি আমার সহ্য হয়? ভালোবাসি তো!”
রায়ানের মুখে সরাসরি প্রথম বার মিরায়া ভালোবাসি শব্দ টা শুনলো। রায়ানের মুখে এমন সহজ স্বীকারোক্তি সে আশা করেনি তবে তার ভালো লাগলো। সেই ভালো লাগার প্রতি কোতুহলী হয়েই জিজ্ঞেস করলো -“কতটা?”
রায়ান এমন প্রশ্নের মুচকি হেঁসে জিজ্ঞেস করলো-
“কতটা চাই তোমার?”
মিরায়া নিজের পরিস্থিতি সাপেক্ষেই বলল-
“আমার কিছু হয়ে গেলে, চক্ষু লজ্জা বিসর্জন দিয়ে এভাবে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারবেন?”
মিরায়া কি হয়ে যাওয়ার কথা উঠতেই রায়ানের অসম্মতি প্রকাশ করলো-
“উঁহু, তা হয় তো পারবো না।”
মিরায়া রায়ানকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে চোখে একরাশ অভিমান নিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“তো কি পারবেন আপনি?”
রায়ান মিরায়াকে অভিমান করতে দেখে মুচকি হেঁসে মিরায়া ঘাড়ে আঁকড়ে ধরে নিজের কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে বলল-
“চক্ষু লজ্জার বদলে আত্মার বিসর্জন দিলে হবে না, হৃদপাখি?”
মিরায়া রায়ানের দিকে অবাক চোখে তাকালে রায়ান বলল-
“কপালে কপাল জুড়ে দিয়ে ভাগ্যও ভাগ করে নিলাম যাও। যা তোমার তাই আমার সেটা তোমার জীবন হোক বা মৃত্যু।”
মিরায়া সাথে সাথে রায়ানকে আবার জড়িয়ে ধরতে যাবে তখনি রায়ান মিরায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল-
“বাইকের চাবিটা..!”
মিরায়া অবাক চোখে রায়ানের দিকে তাকালে রায়ান হাত পাতলো।
-“চাবি তো বাইকেই লাগানো।”
মিরায়া কথাটা বলতেই রায়ান মিরায়াকে নিয়ে রাস্তার মাঝে দাঁড়া করিয়ে বলল-
“Stand here and watch your hubby..!”
রায়ান দৌড়ে গিয়ে বাইকে বসলো। মিরায়া সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল। মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে একদম মাঝখানে—স্থির, অবাক। রায়ান বাইক নিয়ে এগিয়ে আসে, তারপর হঠাৎ গতি বাড়ায়। মিরায়া ঠিক বুঝতে চেষ্টা করছিল রায়ান ঠিক কি করতে চাইছে। হঠাৎ ইঞ্জিনের গর্জনটা ভারী হয়ে ওঠে।
এক মুহূর্তে সে সামনের চাকাটা তুলেই নেয়—ফ্রন্ট হুইল শূন্যে,
বাইকটা ভর করে শুধু পেছনের চাকায়। এটা সোজা হুইলি না।
সে হ্যান্ডেলটা সামান্য কাত করে রাখে, বডির ওজন এক পাশে নিয়ে যায়। ফলাফল—বাইকটা বৃত্ত এঁকে ঘুরতে শুরু করে,
আর সেই বৃত্তের ঠিক কেন্দ্রে—মিরায়া। চারপাশে বাইক ঘোরে, মাঝখানে সে, চুলে হাওয়া, চোখে বিস্ময়। ইঞ্জিনের শব্দটা কখনো জোরে, কখনো নরম, গতি নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু দৃশ্যটা বেপরোয়া। পেছনের চাকা রাস্তা আঁকড়ে ধরে ঘুরছে,
সামনের চাকা এখনো শূন্যে, একটা নিখুঁত ব্যালান্স।
একটা পূর্ণ বৃত্ত তবে মাঝে কিছু টা আঁকাবাঁকা টার্ন নিল। তারপর আরেকটা। শেষ ঘোরাটায় সে ধীরে সামনের চাকাটা নামায়—মিরায়া ঠিক সামনে এসে থামে। মিরায়া একনজর খেয়াল করে দেখলো সে লাভ স্যাপের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। রায়ান বাইকের সাহায্য মিরায়ার চার পাশে লাভ স্যাপটাই তৈরি করছিল এতোক্ষণ। বিষয়টা ঠিক যতটা না রোমান্টিক তার চেয়েও বেশি কঠিন। মিরায়া চার পাশের লাইন গুলো দেখে অবাক হয়ে কাঁদো কাঁদো মুখে তৃপ্তির হাসি হাসলো। দূর থেকে মাহির রুদ্র সোরায়া রিমিও তালি দিচ্ছে সেই দৃশ্য দেখে।
রায়ান মিরায়ার মুখে হাঁসি দেখে বলল-
“মিসেস চৌধুরী…এইটা আমার ছোট্ট হৃদয়। যার মধ্য মনি আপনি, বাকিটা জীবন কি এইখানে থাকতে পারবেন? জায়গার অভাব হলেও ভালোবাসা আর যত্নে কমতি থাকবে না।”
মিরায়া খুব জোরে হেঁসে উঠলো। কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। রায়ান মিরায়াকে হাসতে দেখে চিন্তিত গলায় বলল-
“My sweet little headache, তাড়াতাড়ি উত্তর দিন- আমার হৃদয় আকাশের একমাত্র হৃদপাখি হবেন?”
মিরায়া পাল্টা প্রশ্ন করলো- “আমি headache?”
রায়ান দুষ্টু হেঁসে বলল-
“উঁহু, শুধু headache না sweet headache, এর ফলে মাইগ্রেনের ব্যথায় মরে গেলেও আফসোস থাকবে না। এবার বলো- থাকবে আমার হৃদয়ে? ”
-“রাজ্য তো আপনার হলো তাহলে আমার আর জোর কোথায় খাটবে?”
-“যেখানে রাজ্যের রাজা প্লাস রাজত্ব সবই আপনার সেখানে আর কোথায় জোর খাটাতে চান?”
মিরায়া মিষ্টি হেঁসে মাথা হ্যাঁ সূচক নাড়াতেই মাহির রুদ্র রিমি সোরায়া চেঁচিয়ে উঠে হাততালি দিয়ে উৎসব পালন করতে শুরু করলে শুরু করলে রায়ান চেঁচিয়ে বলল-
“চুপ কর তোরা, এখন চেঁচাচ্ছিস কে? ( মিরায়ার দিকে তাকিয়ে বলল-) say yes.”
মিরায়া রায়ানের বাইকের দিকে এগিয়ে গিয়ে বাইকের সামনের দিক থেকে বাইকের হ্যাড স্ট্যান্ডে ভর দিয়ে রায়ানের জ্যাকেটের কলার টেনে রায়ান কে নিজের কাছে এনে তার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল-
“yes, I will Mr.Habby.. Forever and ever and ever…”
রায়ান তখন জোরে বলল-“এখন চেঁচা তোরা।”
সবাই হাসি মুখে চেঁচিয়ে উঠলো হাততালি দিয়ে। রায়ান মিরায়াও একে পরের দিকে তাকিয়ে নিজেদের মনের মিলনের মুহূর্ত উপভোগ করলো। তার পর তিনটা বাইক আবারো ছুটলো নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। রায়ান মাহির রুদ্র বাইক চালিয়েছে বাকিটা রাস্তা। মেয়ে চুপচাপ জড়িয়ে ধরে পিছনে বসে ছিল।
বিকেল~৫টার পর~
কটেজে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৫টার ও বেশি সময় লেগে যায়। সবাই কটেজে পৌঁছানোর আগেই তাদের লাগেজ আর জুলিয়েট রমিও গাড়িতে করে পৌঁছে গেছিল সেখানে। বাইক কটেজের সামনে এসে দাড়াতেই মিরায়া বাইক থেকে নামলো
। কটেজের পরিবেশ যে তার পছন্দ হয়েছে সেটা তার চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। সবাই বাইক থেকে নামলো মাহির সোরায়া ছাড়া। লম্বা জার্নি করার ফলে সোরায়া মাহিরের পিঠের উপর মাথা রেখেই ঘুমিয়ে গেছিল তাকে জড়িয়ে ধরে। মাহিরের ইচ্ছেও করল না ওকে জাগাতে। সবাই মাহিরের দিকে তাকালে মাহির চোখের ইশারা করে পিছনে সোরায়া ঘুমিয়ে আছে এমনটা বোঝায়। মিরায়া মাহিরকে বলল-
“ডাক দিন ওকে মাহির ভাই। এখন উঠলে কটেজটা কত সুন্দর দেখতে পারবে।”
মাহির না চাইতেও নিজের উদরের উপর সোরায়ার বেঁধে রাখা দুহাতের বন্ধন এর উপর হাত রেখে মৃদু গলায় ডাকলো-
“সোরায়া…সোরা…উঠো, আমরা চলে এসেছি। ”
সোরায়ার ঘুম খুব একটা গভীর ছিল না এক ডাকে তোর ঘুম ভেঙে গেল। অতপর সবাই হেলমেট খুলে কটেজে প্রবেশ করলো। কটেজে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বাশঁ দিয়ে তৈরি নন্দিত বসার ঘর। বাইরের দিকেও সম্পূর্ন জায়গাটা বাঁশের তৈরি মনে হলেও ভেতরেও এমন কিছু হবে তা কেউ ভাবে নি। মেয়ে তিনজন অপলকে চারদিকটা পর্যবেক্ষণ করছে। রায়ান সবার উদ্দেশ্যে বলল-
“অনেকটা রাস্তা জার্নি করা হয়েছে তোরা সবাই একটু রেস্ট নে আগে। পরে জায়গাটা ঘুরে দেখিস?”
সবাই মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলে, রুদ্র- মাহির সোরায়া আর রিমিকে নিয়ে ভেতরে চলে গেল তাদের ঘরগুলো দেখিয়ে দিতে। সবাই চলে যাওয়ার পর রায়ান মিরায়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো –
“যাওয়া যাক?”
মিরায়া অবাক হয়ে রায়ানকে প্রশ্ন করলো-
“কোথায়?”
রায়ান সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। রায়ান মিরায়ার কোমর দুই হাতে আকরে ধরে উঠিয়ে নিয়ে নিজের দুই পায়ের উপর মিরায়ার পা রেখে মিরায়াকে তার মুখমুখি দাড়া করালো। মিরায়া হকচকিয়ে গিয়ে রায়ানের গলা জড়িয়ে ধরে প্রশ্ন করলো –
“কি করছেন এটা? পরে যাবো তো।”
রায়ান হঠাৎ মিরায়ার নরম গোলাপী ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে নিয়ে নিল। আকস্মিক ঘটনায় মিরায়া চোখ বড় বড় করে রায়ানের দিকে তাকিয়ে দেখল- রায়ান দিব্যি চোখ বন্ধ করে তার ঠোঁটের মিষ্টত্ব শুষে নিচ্ছে। মিরায়ার বিরক্তির প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ নেই তার। এইদিকে স্বামীর এমন অতর্কিত আক্রমণে মিরায়া ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। রায়ান এক চুলও ছাড় দিল না এবার মিরায়াকে- কিছুতেই যেন তো আশ মিটছে না। রায়ান ওভাবেই মিরায়াকে এক পা এক পা করে কটেজের বাকিয়ার্ডে নিয়ে গেল। ওখানেই তাদের মাস্টার বেডরুম যেটার সাথে অ্যাটাচড সুইমিং পুলও আছে। খরের ছাউনি দেওয়া একটা খোলা বারান্দা হাওয়াতে সাদা পর্দা গুলো অনবরত উড়াউড়ি করছে। রায়ান ওই অবস্থায় মিরায়াকে নিয়ে ঘরে ঢুকেই দরজা ঠাস করে লাগিয়ে দিয়ে মিরায়াকে দরজায় চেপে ধরে পাগলের মতো ডুবে যেতে থাকে প্রিয়সির মধুসুধায়। মিরায়া কুলিয়ে উঠতে পারছে না রায়ানের গতির সাথে , অনেক বার রায়ানের বুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইল কিন্তু পুরুষালী দেহের উপর তার কোন প্রভাব পড়ল না। মিরায়া ব্যথাতুর আওয়াজ করে রায়ানকে ছাড়তে বলতে চাইল-
“উউমমম…উউমমম…!”
রায়ান কোন কিছুর তোয়াক্কা করলো না। এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট তার পাগলামি জারি রাখল মিরায়ার ঠোঁট জড়ায়। বেচারি মেয়ের গা নেতিয়ে গেছে। মিরায়ার পা জড়িয়ে আসছিল বারবার যেন দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না আর। রায়ান সেটা বুঝতে পেরে মিরায়া ঠোঁটের থেকে ঠোঁট সরিয়ে নিয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে ঘন ঘন গরম নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দ বলল –
“Baby.. please, hold on to yourself.. I want more…please stay strong for now..”
মিরায়া চোখ বন্ধ করে হাপিয়ে হাঁপিয়ে নিশ্বাস নিচ্ছে যেন অনেকক্ষণ পর প্রাণ ফিরে পেল। রায়ানের কথায় ওই অবস্থাতে মাথা না সূচক নাড়িয়ে রায়ানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মুখ লুকিয়ে হাঁপাতে হাপাতে বলল-
“পারছি না..পারছি না নিজেকে ধরে রাখতে। পা জড়িয়ে আসছে। কেন এমন করছেন? শান্ত হন একটু প্লিজ।”
রায়ানের কি হইয়েছে তা সে নিজেও জানে না হয়তো। রায়ান মিরায়ার কাঁধের থেকে চুল সরিয়ে নিয়ে গলায় মুখ গুজে দিয়ে বলল-
“তখন কেন সরে গেছিলে, হুমম? That wasn’t enough, I told you right? I wanted more.. I needed more..”
মিরায়া এখনো নিজের শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে পারেনি। রায়ানের স্পর্শ গলায় পরতেই তার সর্বাঙ্গে কেঁপে উঠলো। সে রায়ানের ঘাড়ে হাত রেখে ধীরে ধীরে তার চুল খামচে ধরে আমতা আমতা করে বলল-
“সামলে নিন একটু। আজ না, প্লিজ।”
রায়ান মিরায়ার গলায় মুখ ডুবিয়ে রেখেই মাথা ঝাঁকিয়ে বলল-
“আর কোনো বাহানা আমি শুনবো না। আর পারবো না নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। I just can’t anymore baby..”
রায়ানের গলায় কেমন যেন মায়া জড়ানো ছিল। মিরায়ার চোখের কোণায় জমে থাকা একবিন্দু পানি তার কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়লো। রায়ান আরো পাগল হচ্ছে। এই মুহূর্তে সে নিজেও খুব দূর্বল রায়ানের প্রতি।
এমন সময় হঠাৎ রায়ানের একটা কল এলো। কলের শব্দ মিরায়ার কানে যেতেই সে রায়ানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো-
“আপনার ফোন বাজছে।”
-“বাজুক।”
রায়ান কোনো পাত্তা নি দিয়ে ওভাবেই থাকলো।
-“প্রয়োজনীয় কল ও তো হতে পারে। একবার ধরে দেখুন কে কল করেছে।”
-“এখন কোনো কল প্রয়োজনীয় হতে পারে না।”
মিরায়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রায়ানের মাথায় হাত রেখে একটু শান্ত করার চেষ্টা করে বুঝিয়ে বলল-
“হাবি..আপনি একজন দায়িত্ববান বিজনেসম্যান। আপনার কাজ আপনি ছাড়া কেউ করতে পারবে না। কল টা রিসিভ করে দেখুন কে, কিসের জন্য কল করেছে।”
রায়ান কিছুটা শান্ত হয়ে মিরায়ার গলার থেকে মুখ উঠিয়ে নিল। আর নিজের পকেট থেকে ফোনটা বের করতে করতে বিরক্ত হয়ে বিড়বিড় করলো-
“পরের বার বউয়ের কাছে আসলে ফোন মাটিতে পুঁতে রেখে আসবো, ফাঁকিং ইডিয়ট ডিভাইস।”
মিরায়া রায়ানের কথা ঠিক করে হেসে দিয়ে রায়ানের পায়ের উপর থেকে নামতে গেল, কিন্তু রায়ান মিরায়ার কোমর জড়িয়ে ধরে রাখলো-
“তুমি কোথায় যাচ্ছ? চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাক যতক্ষণ কথা বলছি। কথা শেষ করে দেখছি তোমাকে।”
রায়ানের কথা মতো মিরায়া সরলো না। রায়ান বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন রাখলো। মিরায়া ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে আছে রায়ানের দিকে। রায়ান এবার নিজ ইচ্ছায় মিরায়াকে পায়ের উপর থেকে নামিয়ে দিয়ে বলল-
“পাখি শোন, আমাকে এখনি একটু বাইরে যেতে হবে। তুমি শাওয়ার নিয়ে একটু রেস্ট নাও অনেক ধকল গেছে। আমি তাড়াতাড়ি চলে আসবো।”
রায়ানের কথায় হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করে মিরায়া রায়ান কে প্রশ্ন করলো –
“কি হয়েছে? কে ফোন করেছিল? কোথায় যাবেন এখন?”
রায়ান মিরায়ার দুই গালে হাত রেখে তার কপালে ঠোঁট ছুইয়ে বলল-
“এসে বলছি সব। এখন যা বলেছি তাই করো, কেমন? তাড়াতাড়ি চলে আসবো আমি।”
মিরায়া মুখ ভার করে বলল-
“না, কোথাও যেতে হবে না এখন। যাবেন না আপনি বাইরে। আমার সাথেই থাকবেন।”
রায়ান ঠোঁটের কামড়ে হেঁসে বলল-
“এখন যদি আটকাও তাহলে সত্যি যাবো না, তোমার সাথেই থাকবো। কিন্তু তোমার সাথে থাকলে কিছু করতে তো হবে তাই না। শুধু শুধু কি আর বসে থাকা যায়? তখন আমি কিছু করতে চাইলে আমাকে আর আটকাতে পারবে না বলে দিচ্ছি। এই শর্তে রাজি থাকলে বল।”
মিরায়া সাথে সাথে এক পা পিছিয়ে গিয়ে হাঁসি মুখে বলল-
“সাবধানে যাবেন, আর তাড়াতাড়ি চলে আসবেন। রাত গভীর হওয়ার আগে আগে।”
রায়ান হেঁসে মিরায়ার মাথায় হালকা টোকা মেরে বলল-
“ভীতুর ডিম…! আচ্ছা যাচ্ছি। তুমি ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিও।”
এরপর রায়ান তাড়াহুড়ো করে কোনো মতো শাওয়ার নিয়ে শার্ট কোর্ট পড়ে রেডি হয়ে নিলো। মিরায়া বিছানায় বসে চুপচাপ দেখছে সন্দেহ ভরা নজরে। মনে তার অনেক প্রশ্ন। রায়ান হঠাৎ মিরায়াকে ডাকলো-“বউ…!”
-“কি হয়েছে?”
-“এদিকে এসো তাড়াতাড়ি। বের হতে হবে আমাকে।”
-“তো যান। আটকেছে কে?”
-“কাছে আসো তাড়াতাড়ি টপাটপ কয়েকটা চুমু খেয়েনি তোমাকে, তারপর বের হবো।”
মিরায়া লক্ষ্মী বউয়ের মতো বিছানা থেকে নেমে রায়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। রায়ান আয়নার থেকে চোখ সরিয়ে মিরায়ার দুই গালে, কপালে, চোখে, নাকে, থুতনিতে, গলায় আর সব শেষে ঠোঁট দুটো তে চুমু খেয়ে বেরিয়ে গেল। মিরায়া রায়ানের যাওয়ার পথে তাকিয়ে থেকে বিড়বিড় করলো-
“বেডা জাত এমন কেন? হঠাৎ করেই কি হয় কিচ্ছু বুঝি না। এমনিতে ছাড়াতে চেষ্টা করেও পারি না আর এখন সুন্দর মতো গটগট করে হেঁটে চলে যাচ্ছে।”
মিরায়া এক কথায় রায়ানের কাছে গেছিল এই ভেবে হয়তো রায়ান ঘোরের মধ্যে চলে যাবে কিন্তু কিছুই হলো না তেমন। রায়ানের চলে যাওয়ার পর মিরায়াও মুখ ভার করে জামা কাপড় নিয়ে শাওয়ার নিতে চলে যায়।
সন্ধ্যা~
সোরায়া নিজের ঘরে জানালার দিকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাইরে ঠান্ডা বাতাসে তার ঠান্ডা লাগছে তবুও গায়ে কিছু জাড়ায় নি। সে আজকে রায়ান আর মিরায়ার কথাই ভাবছিল। সত্যি প্রি। মানুষ টা আমাদের যখন খুব করে চায় আমরা তাকে হয়তো মূল দিতে পারি না অথচ যখন দেখি সে নেই তখন খুব শূন্যতা কাজ করে। সোরায়া শুরু থেকে মাহিরকে ভালোবাসে, কখনো স্বীকার করেনি যদিও। আর এখন মাহির ও তাকে ঠিক একই ভাবে চাইছে কিন্তু সে শুধু শুধু অতীতের কথা মাথায় নিয়ে এভাবে ঘুরিয়ে যাচ্ছে ছেলেটাকে। এসব নিয়েই সোরায়া বেশ গভীর ভাবনায় চলে গেছিল।
-“আমি কি ঠিক করছি ওনার সাথে? কত চেষ্টাই তো করছেন আমার মন জেতার আমি তো কখনো এমন করি নি তার জন্য।”
মনে মনে দ্বিধা দ্বন্দ্বের শেষ হচ্ছে না। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একটা মখমলের চাদর সোরায়ার গায়ে জাড়িয়ে দিল। সোরায়া অবাক হয়ে পিছনে ফিরতেই দেখলো মাহির ঠিক তার পিছনেই দাঁড়ানো আর চাদর টাও তার। সোরায়া ভড়কে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“স্যার আপনি… এখানে এইসময় কি করছেন?”
মাহির সোরায়া অস্থিরতা দেখে একটু দূরে সরে গিয়ে বলল-
“Chill chill, don’t get the wrong idea. আসলে তখন খেয়াল করে দেখলাম তোমার ঘরে কোলবালিশ ছিল না। আর তুমি তো কোলবালিশ জড়িয়ে ঘুমাও। নতুন জায়গাতে এমনি তোমার ঘুম হয় না, কোলবালিশ টা থাকলে হয়তো একটু কমফোর্টেবল লাগবে তাই আমার ঘরের কোলবালিশ টা তোমাকে দিতে এসেছিলাম। ওই যে বিছানায় রেখেছি।”
মাহির বিছানার উপর রাখা কোলবালিশ টার দিকে আঙুল তুলে ইশারা করে বলল। সোরায়া অবাক হয়ে সেই দিকে তাকালো – মাহির তার অভ্যাসের ব্যাপারে এতো কিছু খেয়াল করেছে এই কয়দিনে তা দেখে সে খানিকটা অবাক। সোরায়া কৌতুহলী হলো মাহির এসব কিভাবে জানে।
-“আমি কোল বালিশ ছাড়া ঘুমাতে পারি না আপনি কিভাবে জানেন। আমরা তো কখনো একসাথে থাকি নি।”
মাহির সোরায়ার চোখে চোখ রাখে জিজ্ঞেস করলো-
“তুমি কি তা চাও?”
সোরায়া লজ্জায় মুখ জানালার দিকে ফিরিয়ে নিল। তার কিছু বলার ইচ্ছে হলো না কেন জানি। মাহির ও খুব অধৈর্য হয়ে উঠেছে রায়ানকে কনফেস করতে দেখে। নিজের ভেতরে ভেতরে বোঝার চেষ্টা করছিল তারও কি নিজের মনের কথা সোরায়াকে বলা উচিত একটা স্পষ্ট উত্তর এর আশায় প্রশ্ন করা উচিত? বেচারা সব গুলিয়ে ফেলেছে। সোরায়া মাহিরের দিকে আর ফিরে চায় নি যার জন্য মাহির একটু বিরক্ত হচ্ছিল। ঘরটা নিস্তেজ, ঠান্ডা হাওয়া আর দুজন মানুষের দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।
মাহির কিছু না ভেবেই সোজা গলায় বলল-
“সোরায়া, আমি তোমাকে ভীষণ পছন্দ করি।”
সোরায়া মাহিরের কথা শুনতে পেল কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। মাহির বুঝলো না সে যেভাবে বলেছে এটা কি আদতেও কোনো ভালো উপায় মনের কথা বলার জন্য! কিন্তু সবকিছুই কেমন উল্টো পাল্টা এর মধ্যে সোরায়ার নিরবতা তার টেনশন বাড়াচ্ছে। মাহির ভাবলো সোরায়া হয়তো শুনতে পায়নি তাই চুপচাপ ঘর থেকে চলে যেতে নিলো।
-“কি বললেন আপনি? আরো একবার বলবেন?”
পিছন থেকে সোরায়ার প্রশ্নে মাহির স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। একটু সাহস যুগিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখলো সোরায়া তার দিকে তাকিয়ে আছে। মাহিরের মনে হলো যা হবার হোক আজকে কিছু একটা হওয়া দরকার। সে আগের মতোই স্পষ্ট করে বলল-
“বলেছি, তোমাকে আমার ভীষণ পছন্দ।”
সোরায়া চোখে চোখ রেখেই কথাটা শুনে বলল-
“ওহ আচ্ছা।”
এই বলে আবার জানালার দিকে ঘুরে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হেঁসলো।
মাহির হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এই কথার এমন প্রতিক্রিয়া অন্তত সে আশা করে নি। মাহির সোরায়ার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“তুমি কি আদতেও শুনতে পেয়েছ কি বলেছি আমি? আমি বলেছি আমার তোমাকে ভালো লাগে।”
সোরায়া আবারো নিজে নিজে মুখ টিপে হেঁসে গম্ভীর গলায় বলল -“এক কথা আর কত বার বলবেন শুনতে পেয়েছি তো।”
মাহির বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“যদি সত্যি শুনে থাকো তাহলে ‘ওহ আচ্ছা’ এটা কেমন কথা হলো?”
-“তার মানে হলো- আপনি যা বলেছেন তা আমি বুঝেছি।”
-“বুঝে হলো টা কি, কিছু বলো তাহলে না বুঝবো বুঝেছো তুমি। আমি অধৈর্য হয়ে যাচ্ছি।”
-“কি বলবো? কিছু বলার নেই। আপনি আমাকে কোন প্রশ্ন তো করেন নি। নিজের কথা বলেছেন শুধু, আর আমি বুঝেছিও।”
সোরায়া মাহিরের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। অবশেষে মাহির সোরায়াকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল-
“প্লিজ সোরায়া, একবার বলো। Do you like me?”
সোরায়া সোজা প্রশ্নের সোজা উত্তর দিলো মাহিরের মুখের উপর –
“উঁহু, I don’t like you..”
সোরায়ার উত্তরে মাহিরের মনটা হঠাৎই শূন্য হয়ে উঠলো। সোরায়ার কাঁধের উপর থেকে তার হাতও ফস্কে গেল। মুখে এক প্রকার হতাশা যেন পেয়েও কিছু হাড়ানোর অনুভূতি। সোরায়া মাহিরের অঙ্গ ভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করে মনে মনে বেশ মজা পেল। কারো অমতে বা চাওয়ার বাইরে ভালোবাসা সম্ভব নয় তাই মাহির এই বিষয়ে সোরায়াকে আর কিছুই বলল না। বরং ভারাক্রান্ত মন নিয়ে মাথা নিচু করে পিছন ঘুরে ঘর থেকে বের হতে উদ্যত হলো।
এমন সময় হঠাৎ সোরায়া হালকা হেসে বলে উঠলো-
“I love you….!”
মাহিরের পা থমকে গেল, সে হঠাৎ মাথা উঁচু করে পিছনে ফিরে সন্দেহভাজন ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলো-
“”হাহ্! কিহ্ বললে?”
সোরায়া কয়েক পা মাহিরের দিকে এগিয়ে বলল-
“I said, I don’t like you, but, I love you. Like এর জায়গায় love হলে চলবে না?”
মাহির সোরায়ার দিকে হা করে তাকিয়ে থেকে কয়েক সেকেন্ড পর হেসে ফেললো। মাহির নিজের নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বুকের বাঁ পাশে হাত রেখে আনমনে বলল-
“আর একটু হলেই মনে হয় মরে যেতাম। আহ্ এমন ভার কখনো অনুভব হয় নি বুকে। কি এক অদ্ভুত জ্বালা।”
সোরায়া মুখ টিপে হেঁসে মাহিরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মাহির সোজা হয়ে গভীরতা বজায় রেখে বলল-
“উঁহু, এখন আর চলবে না।”
সোরায়া মাহিরের এমন কথায় চিন্তায় পড়ে গিয়ে কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলো-“তাহলে..?!”
মাহির সোরায়ার একদম কাছে গিয়ে চোখে চোখ রেখে দাঁড়ালো। সোরায়া ঘাবড়ে গিয়ে শুকনো ঢোক গিলে ঘাড় উঁচু করে মাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাহির বলল-
“প্রেম করার বয়স নেই। সংসার করবে আমার সাথে? খান বাড়ির বউ হবে?”
সোরায়া বিয়ের প্রস্তাবে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। এতো আগের প্লেন তো সে ভাবেও নি। সোরায়া নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। হঠাৎ পা শক্তি হারিয়ে পড়ে যেতে নিলে মাহির সোরায়াকে দুই হাতে আঁকড়ে ধরে বলল-
“এমন সময় ব্যালেন্স হারালে তো চলবে না ফিউচার ওয়াইফ। Answer me now, simply just say yes..I will handle everything…”
সোরায়া মাহিরের মুখে ফিউচার ওয়াইফ ডাক শুনে পুরো অজ্ঞান হওয়ার অবস্থায় কিন্তু এমন কিছু তার সাথে হচ্ছে না। বেচারি মনে মনে বিড়বিড় করলো-
“বইয়ের নায়িকা গুলো যখন তখন অজ্ঞান হয় কিভাবে? আমি তো হচ্ছি না।”
মাহির সোরায়াকে বলল-
“কালকের মধ্যে উত্তর চাই আমার। আজ রাতটা শান্তি তে ঘুমাও।”
এই বলে মাহির সোরায়াকে সোজা দাঁড়া করিয়ে দিয়ে ঘর থেকে বেরোতে উদ্যত হলে আবার থেমে গিয়ে বলল-
“ওহ্ তোমার উত্তর দেওয়া হয়নি… I love you more than you could ever imagined for yourself… শুধু তোমার উত্তর আর সময়ের অপেক্ষা। যতই হোক শিক্ষকের তকমা এখনো যায় নি। সেই সীমা পার করার সাহস আমি দেখাতে পারি নি।
-আর শুনো, তোমার ভাইয়া ঠিকই বলেছে ছেলে জাতটা সত্যিই খারাপ- হোক সে তোমার টিচার। একটু দূরে থাকাই ভালো। বিশেষ করে যখন দুইজনেই দুইজনকে চায়। I hope you got me.. Gd night..”
সোরায়া আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে কথা গুলো গিললো। মাহির ঘরে থেকে চলে গেলে নিজের মাথায় হাত দিয়ে ধপ করে বসে পড়লো বিছানায়-
“ওহ আল্লাহ, এটা কি ছিল? কি থেকে কি হয়ে গেলো? আমি কি তাহলে এখন রিলেশনশিপ এ আছি? নাকি ফিচারে যাবো? নাকি উনার বউ হয়ে গেলাম? না না বউ কেন হবো- হবু বউ! না না ফিউচার ওয়াইফ…! আমি কি সিঙ্গেল আছি? না মিঙ্গেল হয়ে গেছি মাত্র?”
সোরায়া বিছানায় শুয়ে এলোপাথাড়ি হাত পা ছুড়তে লাগলো। তার মাথা পুরো গুলিয়ে গেছে।
মাহির সোরায়ার ঘর থেকে নিজের ঘরে গিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বুকে হাত রেখে বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে।
-“আরে হার্টবিট আস্তে চল নাহলে মরেই যাবো কালকের আগে। ও আমাকে ভালোবাসে, ভালোবাসে। she loves me…Yeeehh…”
-“কি হলো এটা এই মাত্র? কিভাবে হলো? Did I just get a girlfriend? Am I officially a boyfriend of someone?”
মাহির কথাটা বলেই হেঁসে কয়েকবার হাত মুঠো করে জোরে চেঁচিয়ে উঠলো -“yes, yess..”
হঠাৎ আবার হাঁসি থামিয়ে দিলো।
-“ওয়েট, না না না, not a girlfriend I just got a wife…Wooohhoo!” আবারও সে উৎসবে মেতে উঠলো। মনে মনে রায়ানের উদ্দেশ্যে বিড়বিড় করলো-
“দোস্ত রে, সকালে উঠেই তোকে চুমু খাবো একটা। জানি বউয়ের পর বন্ধু আর চুমু তোর ভালো লাগবে না। তাও খাবো। আজকে তুই সাহস না করলে আমারও কিছু হতো না।”
তারপর মনের সুখে বেশ কিছু সময় উড়ু উড়ু করলো ছেলেটা।
রিমি আর রুদ্র দুইজন রাতের খাওয়ার আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে আছে। রিমি চুপচাপ রান্না করছে। বিরিয়ানি রান্না করা হচ্ছে। আলাদাভাবে সব রান্না করার চেয়ে একটা খাবার রান্না করাই শ্রেয়। রুদ্র যতটা সম্ভব রিমিকে রান্নায় সাহায্য করছে। যদিও রিমি তাকে বার বার বলেছে সে করে নিয়ে পারবে একা।
রিমি মনোযোগ দিয়ে যখন রান্না করছিল রুদ্র নীরবতা ভাঙতে বলল-
“ভাইয়া আর মিরাকে একসাথে খুব সুন্দর লাগে তাই না?”
রিমি হালকা হেসে সম্মতি দিলো-
“হুঁ, অনেক ভালো লাগে। দুইজন রাজ্জটক একবারে। দেখলেই মনে হয় একজন অন্য জনের জন্যই তৈরি।”
রুদ্র খানিকটা উৎসাহ নিয়ে বলল-
“রিমি… আপনার কি মনে হয় মিরা এতোদিন পর ভাইয়াকে মেনে নিলো কেন?”
রিমি একটু ভেবে বলল-
“মনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ পেলে বেশিরভাগ সময়ই মানুষ সেটা বুঝিয়ে বলে উঠতে পারে না। সেই হিসেবে ধরতে গেলে ভাইয়া নিজের মনের কথা ভাষাতে প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি রাখেনি। যখন মনের কথা মন বোঝে সেখানে না মানার কি কোনো কারণ আছে? বলুন তো।”
রুদ্র অবাক হলো রিমির কথায়। কোতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“আপনার মতে মনের কথা ভাষাতে প্রকাশ করতে গেলে ঠিক কেমন উপায় অবলম্বন করা উচিত?”
রিমি রুদ্রর কথার ধরন দেখে বুঝতে পারলো রুদ্র তার মতামত চাইছে। রিমি সত্যি টাই বলল-
“বাস্তবিক হতে হবে। বাস্তবতা বুঝে মনের কথা বলা উচিত। তা নাহলে সেটা প্রশ্রয় পেয়ে যায়। বুঝেছেন?”
রিমি বিরিয়ানি এর চালে কষিয়ে রাখা মাংস ঢেলে দিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকে। রুদ্র রিমির কথা বুঝলো হয়তো ইঙ্গিত করছে মনের অনুভূতি গুলো কে প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য। রুদ্র রিমির দিকে এক নজরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সোজাসুজি প্রশ্ন করলো-
“রিমি, আমাকে মানতে সমস্যা কোথায় আপনার আমাকে একটু বলবেন?”
রিমি হঠাৎ থমকে গিয়ে রুদ্রর প্রশ্নের উত্তর দিলো-
“আপনাকে মানতে সমস্যা তা কে বলেছে?”
-“তাহলে কিসের সমস্যা?”
-“সমস্যা আমার।”
-” এতে আমার কি দোষ? আমি এখানে কি করতে পারি? আমার কিচ্ছু তেই যায় আসে না।”
রিমি বিরক্ত হয়ে জোরে চাল নাড়তে থেকে বলল-
“আমার ব্যাপারে সবকিছু জেনেও কেন এমন করছেন আপনি?”
রুদ্র ও জেদ দেখিয়ে বলল-
“এটাই কারণ, আমি সব কিছু জানেই আপনাকে চাইছি । বলতে পারেন সব জানি দেখেই চাইছি।”
রিমি বিরিয়ানি যে পানি দিতে দিতে বলল-
“আমি আপনার যোগ্য নই। এটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন আপনারই ভালো।”
-“দরকার নেই এই ভালোর আমার। যোগ্যতা আবার কি? আমি যে যোগ্য তা কিভাবে বুঝলেন ?”
রিমি তুচ্ছার্থে বাঁকা হেঁসে বলল-
“আমাকে পেতে আবার যোগ্যতা! হাহ্! আপনি যোগ্য হবেন না কেন? আপনার কিসের অভাব?”
রুদ্র সোজাসাপ্টা উত্তর দিলো-
“আপনার..আপনার অভাব। দেখুন কেমন ভাবে চাইছি আপনাকে। অভাব না থাকলেও এভাবে কেউ চায়?”
রিমি রুদ্রর উত্তরে চুপ হয়ে গেলো। তার মুখ থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো যেন আর কোনো উপায় পাচ্ছে না রুদ্র কে বাস্তবতা বুঝানোর। বিরিয়ানি দমে বসিয়ে হাফ ছেড়ে রুদ্রর দিকে তাকিয়ে একটা প্রশ্ন করলো-
“রুদ্র..আপনি বিরিয়ানি আর ডাল-ভাতের তফাত বোঝেন?”
রুদ্র রিমির মুখমুখি দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে বলল-
“না বোঝার কিছু নেই এতে, একটা আবশ্যক আর একটা বিলাসিতা। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনো আবশ্যকতা ছেড়ে বিলাসিতার পিছনে দৌড়ায় না, রিমি।”
রিমি চোখ সরিয়ে নিলো, তার কোনো যুক্তি আজ কাজে দিচ্ছে না। রুদ্র কে এড়িয়ে যেতে চাইলে রুদ্র রিমির হাত ধরে ফেলে। রুদ্র রিমির কাছে এসে বিনয়ী গলায় প্রস্তাব রাখলো-
“রিমি, আমার জীবনের আবশ্যকীয় ডাল-ভাত হয়ে থাকবেন আমার সাথে?।”
রিমি অবাক হয়ে পিছনে ঘুরে তাকিয়ে রুদ্রর দিকে তাকালো-
“ডাল-ভাত…?”
রুদ্র উপর নিচে মাথা নাড়ালে রিমি হাসিতে ফেটে পড়লো। রুদ্র আহাম্মক হয়ে গেছে। রিমি হাসতে হাসতে লুটোপুটি খাওয়ার জো হয়েছে। রুদ্র রিমিকে ধরে দাঁড়া করিয়ে রাখতে পারছে না। রিমি মেঝেতে বসে হাসতে হাসতে আওড়ালো-
“like seriously? ডাল-ভাত..? হাহাহা।”
রুদ্রও রিমির সাথে মেঝেতে বসে পড়ে বলল-
“আপনি ই তো বললেন মনের কথাতে বাস্তবতা থাকতে হবে।”
রিমি আরো জোরে হাসতে হাসতে মাথা নাড়িয়ে বলল-
“ঠিক ঠিক…আমি ই তো বললাম। তাই বলে এতো বাস্তবতা? শেষে কিনা ডাল-ভাত! ওহ আল্লাহ। আমি হাসতে হাসতে মরে যাবো মনে হয়।”
রুদ্রর বেশ মনে লাগলো-“ধুর…খেলবই না আমি।”
এই বলে মেঝে থেকে উঠে চলে যেতে নিলে রিমি রুদ্রর প্যান্ট দুই আঙ্গুলের সাহায্য চিমটি দিয়ে ধরলো হাসতে হাসতে। রুদ্র দাঁড়িয়ে গেল। রিমি হাসি নিয়ন্ত্রণ করতে করতে বলল-
“রাগ হয়েছে বুঝি?”
রুদ্র মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিলো। রিমি ঠোঁট কামড়ে হেঁসে উঠে দাঁড়িয়ে রুদ্রর মুখমুখি দাঁড়ালো কিন্তু রুদ্র আর রিমির দিকে দেখছে না। রিমি রুদ্রর টি-শার্ট এর কলার টেনে নিজের দিকে এনে কানে কানে বলল-
“ডাল-ভাত হওয়া যেতে পারে।”
রুদ্র সাথে সাথে রিমির দিকে তাকালো। রিমি তৎক্ষণাৎ বলল-
“তবে শর্ত আছে।”
রুদ্র হাসিমুখে বলল-“বলতে হবে না আমি রাজি।”
রিমি আবারো হেঁসে বলল-“আগে শুনে তো নিন কি শর্ত।”
-“আচ্ছা বলুন।”
রিমি খুব সিরিয়াস ভাব নিয়ে বলল-
“এই ডাল-ভাত আপনার হলে কেবল তখধ খেতে পারবেন যখন সময় থেমে থাকবে। এবার ভেবে বলুন রাজি কিনা।”
রিমি এই বলে চুলার আগুন কমিয়ে দিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো মিটিমিটি হাসতে হাসতে। রুদ্র রিমির যাওয়ার দিকে হা করে তাকিয়ে রইল। রিমির শর্ত বুঝতে তার অনেক টা সময় লাগলো কিন্তু বুঝতে পেরে যে খুব লাভ হলো তার এমন নয়। বেচারা মুখ ঝুলিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল ওইখানেই।
রাত~
মিরায়া শাওয়ার নেওয়ার পর ছোট খাটো একটা ঘুম দিয়েছিল। দুই ঘন্টা ঘুমিয়ে উঠে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো ৮টা বাজছে। অনেক দিন ফোনটা তেমন তার ধরা হয়নি। হঠাৎ কি মনে করে অনলাইনে ঠুকলো। একমাসের জমা নোটিফিকেশনগুলো উপচে পড়ছে। ফোনটা হ্যাং করছে। মিরায়া একটা একটা করে সব নোটিফিকেশন দেখতে থাকলে হঠাৎ আজকের একটা নোটিফিকেশনে দেখলো রায়ানের জন্মদিন আজ। আর ফেসবুক ফ্রেন্ড হিসেবে উইস করতে বলা হয়েছে মিরায়া কে। মিরায়া এটা দেখার সাথে সাথে বিছানা থেকে উঠে বসে।
-“আজ রায়ানের বার্থডে!? আর আমি জানিই না?”
মিরায়া রায়ানের আইডি চিক করলো। সত্যি সত্যি আজ রায়ানের জন্মদিন অথচ রায়ান তাকে বলে নি আর সে জানেও না। কারোর খেয়াল ও নেই। মিরায়া তাড়াতাড়ি বিছানার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে একা একা কথা বলতে থাকলো-
“আল্লাহ এখন আমি কি করবো? সারাটা দিন চলে গেলো এই সময় কিভাবে কিছু করবো আমি।”
আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৫৪
-“সকালে কি এই জন্যই উনি এতো শখ করে হালুয়া খেতে চেয়েছিলেন? হায় খোদা, আর আমি কি খাইয়েছি উনার বার্থডে তে। একটা বার বলতে পারতো আমাকে, এখন কি করবো? আর গেছেন বা কোথায়? এখন যদি চলে আসেন! উফফফ্। এটা কিছু হলো নাকি। ধুর…”
