Home মিহি মিহি পর্ব ২১+২২

মিহি পর্ব ২১+২২

মিহি পর্ব ২১+২২
রুপন্তী সরকার

বাসায় আসার পর ও রিদের মাথা ঠান্ডা হচ্ছে না! মিহি কে কোল থেকে নামিয়ে বিছানায় গিয়ে বসে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে! অভ্র রিদের পাশে বসে!
❝ দেখ রিদ মাথা ঠান্ডা কর! এতো রাগ করতে নেই❞
রিদ অভ্রর কথার উত্তর দিলো না! যখন ও প্রচন্ড রেগে থাকে তখন কারো সাথে তেমন কথা বলে না কারণ রাগের মাথায় মুখ থেকে যা তা বেড়িয়ে যায়!
মিহির কান্না করতে লাগলো! মিহিকে কান্না করতে দেখে রিদের হুস আসে!
তাড়াহুড়ো করে মিহির কাছে যায়

“কি হয়েছে প্রিন্সেস? কোথায় ব্যাথা পেয়েছো দেখি?”
মিহি বললো
“বেতা পাই নি! তুমি লেগে আছো তেনো? তুমি লেগে থাকলে মিহির খুব তান্না পাই”
মিহির কথায় রিদের সব রাগ হাওয়া হয়ে গেছে
রিদ গলায় চুমু দিয়ে বললো
“আর রেগে যাবো না প্রমিস”
মিহি এবার চোখ মুছলো!
রাতের বেলা অভ্র চলে গেলো!
মিহি একা একা চুড়ি পুতুল খেলনা পাতিল খেলছে, হুট করেই মিহি দৌড়ে গিয়ে রিদের কিনে দেওয়া শাড়ি বের করে আনলো!
রিদ বসে থেকে মিহির কান্ড দেখছে! মিহি একা একা শাড়ি পড়তে থাকে কোনো রকম গায়ে পেঁচিয়ে রিদের সামনে এসে দাড়াই
রিদ মিহিকে ভ্রু কুঁচকে বললো

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

” কি হয়েছে আমার টেডি বিয়ারের?”
“শালিটা পলিয়ে দাও তো”
“এতো রাতে শাড়ি পরার ভূত চাপলো? কালকে পরিয়ে দিবো যাও এখন ঘুমাও”
মিহি রিদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার দিয়ে কান্না করতে যাবে এমন সময় রিদ মিহির হাত থেকে শাড়ি নিয়ে বললো
“আচ্ছা আচ্ছা পরিয়ে দিচ্ছি আমার ভুল হয়ে গেছে সরি কাঁদে না সোনা বাচ্চা”
রিদ মিহিকে শাড়ি পরিয়ে দিতে দিতে
❝আমি শুধু চেয়েছি তোমায়❞ গানের লিরিক্স অনুযায়ী শিষ বাজাতে লাগলো”
মিহি রিদ কে শিষ বাজাতে দেখে বললো
” তুমি তিভাবে ফু দিয়ে গান বলছো? আমাকেও শেখাও”
রিদ মিহিকে বললো

” শিখাবো প্রিন্সেস সব শেখাবো! তোমাকে আমি অলরাউন্ডার বানাবো আর একটু বড় হও! তোমাকে সব শিখতে হবে! বক্সিং, মার্শাল আর্ট, ক্যারাটে, ফাইটিং,সিঙ্গিং, ড্রয়িং ডান্সিং সব কিছুর স্কিল তোমার মধ্যে থাকবে! কারণ তুমি রিদের বউ আর রিদের বউকে অলরাউন্ডার হতেই হবে! তাই না প্রিন্সেস?”
মিহি কিছুই বুঝলো না তবুও রিদের কথায় হ্যাঁ বললো
পরের দিন সকালে….
প্রতিদিনের মতো অভ্র সকাল সকাল চলে এসেছে
রিদ অভ্রকে দেখে বললো
“শকুন শালা প্রতিদিন ভোর বেলা চলে আসিস কেনো রে”
অভ্র রিদকে পাত্তা না দিয়ে মিহির কাছে চলে যায়
মিহি ঘুমিয়ে ছিলো অভ্রর আওয়াজ শুনে ঘুম থেকে উঠে পরে!

★৩ বছর পর…!
এভাবেই কেটে গেলো আরো তিনটা বছর মিহির এখন ৮ বছর! আর রিদের ২২ বছর!
মিহি এখন তৃতীয় শ্রেণীরছাত্রী! পড়াশোনায় বেশ ভালো! পড়ার আগ্রহ রিদের থেকে পেয়েছে! কারন রিদ প্রতিনিয়ত মিহিকে একটা জিনিস বুঝিয়ে এসেছে যে ওকে ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে অনেক বড়ো হতে! রিদের জন্য বড়ো হতে হবে! রিদ কাজ থেকে এসে মিহিকে অনেকক্ষণ পড়ায়!
কিন্তু রেস্টুরেন্ট থেকে যে টাকাটা পেতো সেই টাকা দিয়ে বেশ অভাবেই সংসার চালিয়েছে! এমন ও দিন রিদ টানা দুইদিন না খেয়ে ছিলো! কিন্তু মিহিকে কখনো খাওয়া পড়ার কষ্ট দেয়নি! নিজে না খেয়ে হলেও মিহিকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করে! অভাব কি জিনিস সেটা কখনো মিহি বুঝতে পারেনি!
তবে রিদ হারে হারে টের পেয়েছে অভাব হলে মানুষের কেমন দিন যায়! তবে রিদ হাল ছাড়ে নি রেস্টুরেন্ট এর পাশাপাশি অনলাইনেও একটা জব করা শুরু করেছে! যদিও রিদের বাবা অনেক উপায়ে রিদকে টাকা দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেছে! কিন্তু রিদ কোনো ভাবেই নেই নি! ওর কথা ওর যতো টুকু সামর্থ্য তা দিয়েই বউকে বড়ো করবে!

তবে এখন টাকার খুব একটা অভাব নেই ভালো ভাবেই দিন যাচ্ছে! মিহি এখন স্কুল করে এরপর গানের ক্লাস করে!
আবার অবসর সময়ে রিদ ওকে গান প্র্যাকটিস করায়! ড্রয়িং শিখায়!
মিহির গানের গলা ও খুব সুন্দর! আবার এইটুকু বয়সে ভালো ড্রয়িং করতে পারে! একটু একটু নাচ ও পারে! তবে রিদ বলেছে নাচ শুধু ওর সামনেই যেনো করে অন্য কারো সামনে নাচালে পা ভেঙে দিবে!
মিহি আর একটু বড়ো হলে বক্সিং, মার্শাল আর্ট, ক্যারাটে শিখাবে! রিদ চাই মিহি যেনো সব দিকেই দক্ষ থাকে ছোট থেকেই ট্রেনিং দিলে ভবিষ্যতে নিজের রক্ষা নিজেই করতে পারবে
রিদ মিহিকে ছোটো থেকে শিখিয়ে এসেছে যেনো কোনো ছেলের সাথে কথা না বলে! কারন সে রিদের বউ! আর বরের কথা শুনতে হয়! মিহিও রিদের সব কথা মেনে চলে! রিদ যা বলে তাই শুনে!

মিহি এখন একাই বিছানায় ঘুমায়! আর রিদ মেঝেতে চাদর পেতে ঘুমায়! কারন রিদ চাই মিহিকে পুরোপুরি বউয়ের স্বীকৃতি দিয়ে তবেই ওর কাছে ঘুমাবে! এই ৩ বছরে রিদ অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করেছে এখনো করেই চলেছে! সব দিক সামলে যাচ্ছে একইভাবে!
মিহি এখন দেখতে আরো সুন্দর হয়ে গেছে! চেহারার মধ্যে সবথেকে আকর্ষণীয় লাগে ওর লম্বা চুল আর নীল চোখ জোড়া! রিদ যতো বার চোখের দিকে তাকাই ততো বার নেশায় পরে যায়! মিহি এখন শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারে! রিদ মাঝে মাঝে অবাক হয়! সেদিনি তো ওই বাচ্চাটাকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিল! দেখতে দেখতে কেমন করে যেন তিনটে বছর জীবন থেকে চলে গেলো!
এই তিন বছরের অনেক কিছু বদলে গেছে! অভ্র আর মিষ্টির জমিয়ে প্রেম করছে!
অভ্র আর মিষ্টি মিহিকে জীবন দিয়ে ভালোবাসে! মিহিকে কোনো কিছুতে কমতি রাখে না! অভ্র সব সময় বাবার মতো মিহিকে সামলাই!

কিছু দিন আগে অভ্রর জন্মদিন গিয়েছে সেখানে মিহি অভ্রকে একটা সুন্দর ছবি স্কেচকরে দিয়েছে ছবি টা অভ্র আর মিহির। স্কেচ করা রিদ শিখিয়েছে। অভ্র ও মিহি কে রিটার্ন গিফট হিসেবে একটা ছোট্ট পার্শিয়ান বিড়াল ছানা উপহার দিয়েছে। মিহির সে কি খুশি সারাদিন সেই বিড়াল ছানা কে নিয়ে কতো আনন্দ করে। বিড়াল ছানা ও মিহির সাথে মিশে গেছে। নিজের নামের সাথে মিলিয়ে বিড়াল ছানার নাম দিয়েছে “মিকি”
সব জায়গাতে মিকি কে নিয়ে যায়। রিদ যদিও বিড়াল একদম পছন্দ করে না। কারণ ওরা নোংরা হয়ে যায়। আর রিদ খুব পরিস্কার পরিপাটি ভাবে থাকতেই পছন্দ করে। কিন্তু বাচ্চা বউয়ের চাপে পড়ে সব সহ্য করতে হচ্ছে।
রিদ মিহি কে একটা কোচিংয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। অভ্র রোজ মিহিকে কোচিংয়ে দিতে যায়। মিহি সেখানেও মিকি কে নিয়ে যায়। কয়েকদিনের মধ্যে দুজন একদম ভালো বন্ধু হয়ে গেছে। মিহি আবার ওকে নিজের বাচ্চা বানিয়েছে। সবাই কে বলে ওটা ওর বাচ্চা। আর কাওকে কোলে নিতে বা ধরতে দেই না। মিকি শুধু ওর বাচ্চা আর কারো বাচ্চা না।

মিকি ও মিহি কে ছাড়া ম্যাও ম্যাও করে। বিলাই বেডি আবার মাংস ছাড়া খাবার খাই না। এই বিষয় টা নিয়ে রিদ কে খুব ঝামেলা পোহাতে হয়। মিহি আবার পছন্দ করে না। কিন্তু কলিজার বাচ্চা বিল্লু রানী মাংস খায় তাই সেও খাই। তবে মিহির কথা ” ভালো মেয়ে রা মাংস খায়না মিকি কে দিয়ে দেই”
রিদ মাঝে মাঝে অভ্রর উপর খুব রেগে যায়। তার ভালো বউটাকে একটা বালের বিড়াল দিয়েছে। সেটা নিয়ে ওর বউ সারাদিন ডং করে রাতেও রিদ কে পাত্তা দেই না। মাঝে মাঝে রিদের মনে হয় বিড়াল কে উষ্টা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিতে। ওই বিলাই বেডি বাড়িতে আসার পর বউ রিদকে পর করে দিয়েছে। রিদের এতো দুঃখ রাখার জায়গা নাই। সব দোষ ওই জা*উয়া অভ্রর।
সন্ধ্যার পর রিদ বাড়ি আসলো। মিহি রিদ কে বললো

“পচাঁলোক আজকে আমি তেমাকে খেতে দিই?”
রিদ বললো
” না আগে আমার কাছে আসো কথা আছে”
মিহি গুটি গুটি পায়ে রিদের কাছে গেলো
রিদ বললো
“মিকি আগে নাকি পঁচালোক?”
মিহি বললো
” ধুর বাবা কিসের সাথে কি, মিকি আমার বাচ্চা আর তুমি পঁচালোক”
রিদ বললো
“বিড়াল কেমনে আমার বউয়ের বাচ্চা হয়?”

মিহি রিদ কে এটা ওটা বলে যুক্তি দিলো। মিহির যুক্তি গুলো অন্য রকম। ওর যুক্তির সাথে পারা খুব মুশকিল
রিদ প্রতিদিন এসে মিহির সাথে বকবক করে। ওকে সময় দেই। মিহি প্রতিদিন রিদ আসার আগে ঘর সুন্দর করে গুছিয়ে রাখে। রিদ নোংরা একদম পছন্দ করে না। যদিও রিদ মিহি কে বলেছে ❝তুমি মন দিয়ে শুধু পড়াশুনা করো, বাড়ির কাজ তোমাকে করতে হবে না।❞ কিন্তু মিহি দেখে রিদ বাসায় এসে অনেক ক্লান্ত হয়ে যায় তাই ও ছোট হাতে যতটুকু পারে করে। আবার মিষ্টি ও এসে টুকটাক কাজ করে দেই।
কিছুদিন পর….

অভ্র মিহি আর মিষ্টি কে নিয়ে বাহিরে ঘুড়তে গেলো।
ওরা একটা নদীর ঘাটে গিয়ে বসলো। বিকেল বেলা নদীর ঘাটে খুব বাতাস। মিহি হালকা কেঁপে উঠল ঠান্ডায় অভ্র মিহি কে একহাতে জড়িয়ে ধরলো।
মিষ্টি অভ্রর উদ্দেশ্যে বললো
” শুনুন বাবা আমার বিয়ের জন্য পাত্র দেখছে”
অভ্র বললো
” তুমি কিছু বলো নি?”
মিষ্টি কাঁদো কাঁদো গলায় বললো
” কি বলবো? বাবা আপনাকে মেনে নিবে?”
অভ্র বললো

“আমাকে ভালোবাসার আগে তোর মনে ছিলো না? আল্লাহর কসম যদি অন্য কারো বউ হওয়ার ভুল ও করিস তোর বাপ সহ চৌদ্দগুষ্টিরে উরাই দিমু”
মিহি খুব মনোযোগ দিয়ে নদীর স্রোত দেখছিলো অভ্রর কথাতে হেসে ফেললো
মিষ্টি বললো
“বাবাকে বারণ করার মতো সাহস আমার নাই। আপনি বলুন”
অভ্র কিছু বললো না চুপ করে নদীর পানে চেয়ে থাকলো। কোনো বাবা একটা মুসলিম ছেলের সাথে নিজের মেয়ের বিয়ে দিবে না তা ছাড়া অভ্র প্রতিষ্ঠিত না। দু একটা প্রাইভেট পড়ায়। অভ্র খুব চিন্তার মধ্যে পড়ে গেলো।
এভাবেই দেখতে দেখতে সময় পার হচ্ছে।
আজকে মিষ্টিকে দেখতে পাত্র পক্ষ এসেছে।
মিষ্টি একটা লাল রঙের শাড়ি পড়ে ওদের সামনে গিয়ে বসলো। পাত্রপক্ষ সব দেখে শুনে মিষ্টিকে বেশ পছন্দ করে। মিষ্টির বাবা ও পাকা কথা সেরে নিলো। পাত্রর নাম অন্তর সাহা দেখতে খুব সুন্দর। পেশায় একজন পুলিশ অফিসার। মিষ্টি আর অন্তরকে আলাদাভাবে কথা বলার জন্য একটা রুমে নিয়ে যাওয়া হলো।
অন্তর জিজ্ঞেস করলো

-” নাম কি তোমার?”
মিষ্টি মাথা নিচু করে বললো
” মিষ্টি দাস”
” ও মাই গড তুমি তো পুরোটাই মিষ্টি”
মিষ্টি বললো
” মানে?”
“মানে কিছু না। বিয়েতে রাজি তো তুমি? যদি রাজি না ও হও তাও আমাকেই বিয়ে করতে হবে কারণ তোমাকে আমার পছন্দ হয়েছে”
” মামার বাড়ির আবদার নাকি? আমি একজন কে ভালোবাসি”
অন্তর বললো

“ধুর বাল। সে যাকেই ভালোবাসো না কেন বিয়ে আমাকেই করতে হবে”
এই বলেই বেড়িয়ে গেলো।
ছেলে বাহিরে গিয়ে বললো
” আমার মেয়ে পছন্দ হয়েছে আর বিয়ে করলে ওকে করবো”
ছেলের মা বললো
” ঠিক বলেছিস মিষ্টি মাকেই আমার ঘরের লক্ষি বানাবো”
সামনের মাসে বিয়ে।
পাত্রপক্ষ চলে যাওয়ার পর মিষ্টি হাউমাউ করে কান্না করতে থাকে। মিষ্টির বাবা মেয়ের কান্না করা দেখে চমকে উঠলো

” কি হয়েছে মা কাঁদছো কেনো?”
মিষ্টি কান্না করতে করতে বললো
” বাবা আমাকে ওই ছেলের সাথে বিয়ে দিও না। আমি মরে যাবো আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি”
মিষ্টির বাবা বললো
” তাহলে সেটা আগে বলতি মা। আগে বললেই তো আর ছেলে দেখতাম না”
মিষ্টি বললো
” ও মুসলিম”
মিষ্টির বাবার চোখ বড় হয়ে গেলো
” তোর কি মাথা গেছে? অসম্ভব। তোকে এই ছেলেকেই বিয়ে করতে হবে। ভালোবাসার জন্য ধর্ম ছাড়া হবি?”
মিষ্টি বললো

” ভালোবাসা কি জাত ধর্ম দেখে বাবা?”
” ওতো কথা বাদ যদি আমার দেখা ছেলে বিয়ে না করিস তাহলে আমি বি*ষ খাবো”
মিষ্টি মন থেকে ভেঙে পড়লো। অভ্রকে ও খুব ভালোবাসে ওকে ছাড়া কাওকে বিয়ে করবে না। দরকার পড়লে মরে যাবে।
এইদিকে সন্ধ্যার পর অভ্র রিদের কাছে আসলো।
মিহি অভ্রকে বললো
” অভ মিষ্টি আপুকে আজকে দেখতে এসেছিলো। মিষ্টি আপু খুব কান্না করছিলো।”
অভ্র বললো
” টুইংকেল ওকে ডেকে নিয়ে আসো”
মিহি গিয়ে মিষ্টি কে ডেকে আনলো। কেঁদে কেঁদে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে
অভ্র বললো

” কাঁদছ কেনো?”
মিষ্টি বললো
” জানিনা”
এদের কাহিনি দেখে রিদ মিহি কে নিয়ে বাহিরে চলে গেলো
অভ্র মিষ্টি কে বললো
” আমাকে ভালোবাসো? যাবে আমার সাথে? আমি কথা দিচ্ছি কখনো তোমাকে ধর্ম চেঞ্জ করতে বলবো না। তুমি তেমার ধর্ম পালন করবা আর আমি আমার”
মিষ্টি বললো

” পালিয়ে যেতে বলছেন? আমি একটা মুসলিম ছেলের সাথে পালিয়ে গেলে বাবা আত্ম***হত্যা করবে।”
“তাহলে তুই তোর বাপের দেখা ছেলেকেই বিয়ে করবি?”
মিষ্টি আবার ও কান্না করতে লাগলো। অভ্র মিষ্টি কে বললো
“কেঁদো না যাবে যাবে আমার সাথে?”
মিষ্টি রাজি হলো না কারণ ও এমন করলে ওর বাবা সত্যিই মরে যাবে।
অভ্র না পারছে কিছু করতে না পারছে সহ্য করতে। ভালোবাসায় এতো জ্বালা কেনো?
মিষ্টি ঘরে চলে গেলো। একটুপর রিদ আসলো
রিদ অভ্র কে বললো

” কি বললো ও?”
অভ্র মাথা নিচু করে বললো
” যাবে না রে আমার সাথে। হয়তো বাবার দেখা ছেলেকেই বিয়ে করবে।”
রিদ বললো
” ভেঙে পরিস না। এখনো সময় আছে একটা ব্যবস্থা হবেই!
এভাবেই ১ মাস কেটে গেলো। এর মধ্যে একবারো মিষ্টি অভ্রর সাথে দেখা করে নি অভ্র ও কোনো জোর করে নি।
আজকে মিষ্টির গায়ে হলুদ
সকাল সকাল হলুদের নিয়ম গুলো পালন করলো। মিষ্টি একটা কাঁচা হলুদ রংয়ের শাড়ি পড়েছে। ছেলের বাড়ি থেকে আনা হলুদ দিয়ে মিষ্টি লর গায়ে হলুদ দেওয়া হলো।
অভ্র সকাল বেলা এসে দেখে বাড়ি সাজানো অনেক হিন্দু মহিলার ভিড়
মিহি ও আজকে হলুদ শাড়ি পড়েছে। অভ্র মিহি কে বললো

” তোমার আপুর বিয়ে বুঝি?”
মিহি বললো
” হ্যাঁ”
হলুদের পর মিষ্টি মিহিদের ঘরে আসলো। অভ্র অনেকক্ষণ থেকে মিষ্টির অপেক্ষাতেই ছিলো।
অভ্র মিষ্টির উদ্দেশ্যে বললো
” কি বাল মুখে মেখেছিস? ওই ছেলের ছোয়া হলুদ তোর গালে? এখনি মুছ”
মিষ্টি টিস্যু দিয়ে মুছলো
অভ্র মিষ্টি কে জড়িয়ে ধরে বললো
” এখনো সময় আছে মিষ্টি, যাবে আমার সাথে? চলো মিষ্টি আমাদের ও একটা সুখের সংসার হবে”
মিষ্টি বললো

মিহি পর্ব ১৯+২০

” আর বাবা?”
অভ্র বললো
“তোমার বাবার কিছু হবে না।”
মিষ্টি আবার কান্না শুরু করলো এখন বাড়ি ভর্তি মানুষ। যদি পালিয়ে যায় তাহলে মিষ্টির বাবা মা কে সবাই ছিড়ে খাবে।
মিষ্টি গেলো না
অভ্রর নিজের কাছে খুব অসহায় লাগছে।

মিহি পর্ব ২৩+২৪