প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৪৭
নওরিন কবির তিশা
সময়ের চাকা যেন এক অদৃশ্য জাদুবলে বনবন করে ঘুরে চলেছে। ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো ঝরে গেছে অনেকগুলো কেটে গেছে দুটি সপ্তাহ। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ অগাস্টের ১২ তারিখ। শ্রাবণের শেষবেলা হলেও আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা এখনো কমেনি।
আজকের সকালটা অন্যরকম; শ্রাবণের শেষবেলায়, আকাশের কোণে মেঘের ঘনঘটা থাকলেও তিলমাত্র বিষণ্ণতা নেই; বরং প্রকৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ এক নিগূঢ় উৎসবের আমেজ;আজ সেই দিন, বিশ বছর আগে এই দিনেই ধরণীর বুকে তিহুর আগমন ঘটেছিল। ছোট্ট সেই তিহু আজ বিংশতী রমনী।নিঃসন্দেহে দিনটি একটু বেশিই বিশেষ তিহু সহ খান মহলের প্রত্যেকের কাছে। বন্ধু-বান্ধব আর পরিবারের সকলের শুভেচ্ছা বাক্যের মাধ্যমেই ঘুম ভেঙ্গেছে তার;সকালটাও কেটেছে এসবের মধ্যেই।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মেঘের ঘনঘটা কমেছে মাত্র;সূর্যটা মধ্যগগনে। সূর্যরশ্মিটা তেজস্বী না হলেও উষ্ণতায় আবৃত দিনটা। কিছুক্ষণ পূর্বের মাহা-রিশাদের আমন্ত্রণী বার্তার দরুন তিহু তৎপর গোছগাছে। বেরুবে তারা।তবে শুধু তারা নয় সঙ্গে আছে নাহা-রাফা-নীরাও। ড্রেসিং টেবিলের দীঘল আয়নাটা সম্মুখে বসে তৈরি হচ্ছিল তিহু; মুখে হাসির রব থাকলেও মনের কোনটা বিষণ্ন ভীষণ। কারণ একটাই জীবনের এই বিশেষ দিনে জীবনের সবথেকে বিশেষ মানুষটা নিরুদ্দেশ। কাল রাত থেকেই লাপাত্তা সে।
নামমাত্র সাজগোজ শেষে;তিহু বেরোনোর উদ্দেশ্যে যক্ষুনি দরজার দিকে তাকাতেই দেখল নাহা-রাফা-নীরা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে দরজায়।তিহুকে দেখামাত্র গালে হাত দিয়ে একযোগে সবগুলো বলল,,
—’মাশাআল্লাহ।কিতনি ইয়ারি লাড়কি!কিসিকি নাজার না লাগ জায়ে!
তিহু না চাইতেও মুচকি হাসলো তাদের এমন কাণ্ডে।নাহা এগিয়ে এসে বলল,,
—’আল্লাহ কি সুন্দরী।
তিহু আলতো হাসলো। নামমাত্র সাজগোজ করেছে সে।তবে শরীরে জড়ানো হালকা গোলাপি রঙা শাড়িটা তাকে এক লহমায় চঞ্চল বালিকা থেকে এক ধীরস্থির তন্বী কিশোরীতে রূপান্তর করেছে।তার সাজে আজ কোনো কৃত্রিমতার দাপট নেই, আছে শুধু এক অদ্ভুত মায়াবী স্নিগ্ধতা।আর তাতেই এত প্রশংসা কুড়াচ্ছে সে।
—’মাশাআল্লাহ!
নাহাদের সঙ্গে সবে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমেছে তিহু। মূহুর্তেই উপস্থিত সকলের এমন প্রশংসাসূচক কণ্ঠে তিহুর চঞ্চল আঁখিজোড়া পুলকিত হলো। লাজুকতা বেষ্টন করল খানিক, শেষ ধাপ অতিক্রম করে নিচে নামতেই মির্জা সায়মা এগিয়ে এসে বললেন,,
—’মাশাআল্লাহ; সত্যিই খুব সুন্দর লাগছে মা।
ওয়ালিদ খান ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে হিসাবের কাজ করছিলেন তিহু এসে সালাম দিতেই তিনি কাজকর্ম পাশে রেখে বললেন,
—’এদিকে আসো মা!
তিহু এগিয়ে আসতেই তিনি পকেট থেকে লক্ষ টাকার বান্ডিল বের করে দিয়ে বললেন,,—’দিনটা উপভোগ করো।
তিহু না চাইলে রান্নাঘর থেকে মির্জা সূচনা; পায়েসের বাটি হাতে এগিয়ে এসে বললেন,,——’দ্রুত নে;আর এইটুকু খা তো।
নিজের হাতে পায়েস রান্না করেছেন মির্জা সূচনা।তিহুকে দু চামচ খাইয়ে বললেন,,—’সুখী হ মা।
সবার দোয়া আর মমতা পূর্ণ স্পর্শ পেরিয়ে তিহু নাহাদের সঙ্গে প্রস্থান করল মহল থেকে।
হোটেল ‘দ্য ব্লু ওশান’ এর ছাদখোলা রেস্টুরেন্ট। রিশাদ আর মাহা মিলে জায়গাটাকে যেন এক টুকরো নন্দনকাননে রূপান্তর করেছে। শহরের যান্ত্রিকতা থেকে অনেক উঁচুতে এই ছাদটা এখন এক স্নিগ্ধ মায়াপুরীর ন্যায় সজ্জিত। পুরো চত্বরটা হালকা গোলাপি আর সাদা রঙের লিলি ফুলে ছেয়ে গেছে, কারণ একটাই তিহুর এই রঙের প্রতি এক আদিম অনুরাগ। মাথার ওপরে মিটিমিটি জ্বলছে অজস্র সাদা টুনি বাল্ব, যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় আকাশের তারারা বুঝি তিহুর জন্মদিনের আমন্ত্রণে মর্ত্যে নেমে এসেছে।
মাঝখানে একটা কাঁচের টেবিল, তার ওপর রাখা চার তলা বিশিষ্ট একটি ভ্যানিলা কেক। কেকের গায়ে সাদা ক্রিমে লেখা—“হ্যাপি বার্থডে মিসেস বিয়েত্তা মহিলা। আয়োজনের মূল কারিগর যে মাহা-রিশাদ সেটা কেকে লেখা ডাকনামটাতেও স্পষ্ট।
তিহু সিঁড়ি বেয়ে ছাদে পা রাখতেই রিশাদ আর মাহা সমস্বরে বলল,,
— ‘হ্যাপি বার্থডে মিসেস বিয়েত্তা মহিলা।
মূহুর্তের মধ্যে কনফেটি গান থেকে রঙিন কাগজের বৃষ্টি ঝরল তিহুর চুলে, শাড়ির ভাঁজে। তিহু অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখল তাদের এই আয়োজন।আকস্মিক এই আয়োজনে তিহুর চোখের কোণে আনন্দাশ্রু চিকচিক করে উঠল। মাহার হাত ধরে কেকের সামনে দাঁড়ালো সে।রিশাদের জোরাজুরিতে হাতে নিল কেক কা”টা ছু”রিটা।
উপস্থিত সকলের করতালি আর শুভেচ্ছা বাকের মধ্য দিয়ে এসে কা”টলো কেকটা।
কেক কাটার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই শুরু হলো সেই চিরাচরিত হুল্লোড়। মাহা আর রিশাদ আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। তিহুর গালে কেক মাখিয়ে দিয়ে মাহা চিৎকার করে উঠল,
—’হ্যাপি বার্থডে মিসেস বিয়েত্তা মহিলা!
তিহু কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিশাদ ওর অন্য গালে একদলা ক্রিম লেপে দিয়ে হো হো করে হাসতে লাগল। রাফা আর নাহাও বাদ গেল না। হাসাহাসি, ছোটাছুটি আর কেক মাখামাখিতে পুরো ছাদটা এক লহমায় যেন একটা উৎসবের রণক্ষেত্রে পরিণত হলো।
রিশাদ হাতে এক গাদা ক্রিম নিয়ে মাহাকে তাড়া করছিল। মাহা চটপটে ভঙ্গিতে নীরাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পেছনে লুকিয়ে পড়ল। রিশাদ পূর্ণ বেগে ছুটে এসে নীরাকে লক্ষ্য করে হাত বাড়াতেই হঠাৎ যেন সময়ের চাকা থেমে গেল।
নীরার একদম মুখোমুখি এসে থমকে দাঁড়াল রিশাদ। ওর হাতের ক্রিম মাখা আঙুলগুলো নীরার নাকের ডগা স্পর্শ করার ঠিক কয়েক ইঞ্চি দূরে স্থির হয়ে আছে। নীরা অপ্রস্তুত হয়ে দু-পা পিছিয়ে যেতে চেয়েও পারল না; রিশাদের তীক্ষ্ণ আর অতর্কিত চাহুনি তাকে যেন পাথর করে দিয়েছে।
নীরা ভয়ে আর লজ্জায় চশমা আড়ালে লুকায়িত চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। রিশাদের চঞ্চল স্বভাবটা মুহূর্তেই কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। ওর চোখের দৃষ্টি আজ বড্ড গভীর, বড্ড অচেনা। চারপাশের হইচই যেন এক লহমায় ফিকে হয়ে এল। রিশাদ হাতটা নামিয়ে নিল না, বরং খুব ধীরলয়ে ওর হাতের আঙুলে লেগে থাকা সাদা ক্রিমটুকু নীরার গালের একপাশে আলতো করে ছুঁইয়ে দিল। সেই স্পর্শে কোনো চপলতা ছিল না, ছিল এক অদ্ভুত অধিকারবোধ আর মুগ্ধতা।
রিশাদের এমন স্পর্শে লাজুক লতার ন্যায় নুইয়ে আসলো নীরা। আনমনে মুচকি হাসলো রিশাদ, আর তাদের এমন কাণ্ডে পিছন থেকে মাহা গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,,
—’উহুম; এখানে আমিও ছিলাম!
মাহার কথাটাই যেন আরও মিইয়ে আসলো নীরা। আর তাকে এমন অপ্রস্তুত দেখে রিশাদ দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করার দরুন তাড়া করল মাহাকে। দৌড়ে সরে গেল দুজনেই।
মাহা তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে রিশাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য উল্টোমুখে দৌড়াচ্ছিল। পেছনে রিশাদের অট্টহাসি আর ‘আজ তোকে ক্রিম দিয়েই গোসল করাব’—এমন হুমকির শব্দ শুনে মাহা আরও গতি বাড়িয়ে দিল। ঠিক তখনই পেছনের দিক থেকে আসা কারও শক্ত বক্ষপিঞ্জরে সজোরে ধাক্কা খেল সে।
আকস্মিক এই সংঘর্ষে মাহা টাল সামলাতে না পেরে ছিটকে পড়ে যেতে নিলেই, এক জোড়া বলিষ্ঠ হাত বিদ্যুদ্বেগে তার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিল। মাহার চোখ দুটো ভয়ে বন্ধ হয়ে এসেছিল, কিন্তু পতনের বদলে এক অদ্ভুত আশ্রয়ের উষ্ণতা অনুভব করে সে ধীরে ধীরে চোখ মেলল।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে মাহার হৃৎপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল–রাওফিন! তার গভীর কালো চোখের মণি দুটো যেন মাহার অস্থিরতাকে শুষে নিতে চাইছে। রাওফিনের পরনে থাকা সাদা শার্টের বোতামে মাহার গলার চেইনটা কোনো এক জাদুবলে আটকে গেছে। দুজনের মাঝে দূরত্ব বলতে তখন এক চিলতে বাতাসের আনাগোনা।
রাওফিনের শরীরের সেই পরিচিত পারফিউমের ঘ্রাণ মাহার নাসারন্ধ্রে এসে ধাক্কা দিল। সে বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইল রাওফিনের চোখের দিকে। চারপাশের হইচই, রিশাদের চেঁচামেচি—সব যেন হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে গেছে। রাওফিন মাহার কোমরে হাতের বাঁধনটা আলগা করল না, বরং এক পা এগিয়ে এসে নিচু স্বরে বলল,
—’ইদানিং আমার সংস্পর্শ পেতে একটু বেশি বাহানা করো মনে হচ্ছে।
মাহার গাল দুটো মুহূর্তেই জবা ফুলের মতো লাল হয়ে উঠল। সে কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু রাওফিনের শার্টে আটকে থাকা চেইনটা যেন আজ কোনো বাঁধন ছিঁড়তে নারাজ। মাহা শেষমেষ না পেরে বলে উঠলো,,
—’ছাড়ো।
রাওফিন আত্মসমর্পণের ভঙ্গিমায় বলল,,—’দেখো আমি কি ধরে আছি নাকি?
মাহা জলদি হাতে তার শার্ট থেকে নিজের চেইন ছাড়াতে ছাড়াতে বলল,,
—’শার্ট টাও তোমার মতই নির্লজ্জ।
রাওফিন মাহার প্রত্যুত্তরে সকলের অগোচরে তাকে নিজের সঙ্গে টেনে বলল,,
—’এটুকু তো যৎসামান্য সুইটহার্ট, আমি যদি নির্লজ্জ হই সইতে পারবে তুমি?
তার ইঙ্গিত পূর্ণ কথার মর্মার্থ বুঝে মাহা লজ্জায় নুইয়ে পড়লো যেন। পরক্ষণেই নিজেকে ছাড়িয়ে বলল,,
—’তোমার মত নির্লজ্জ আমি জীবনে দুইটা দেখিনি!
সে চলে যেতেই পেছন থেকে রাওফিন বলল,,—’এর থেকেও বেশি নির্লজ্জতা দেখার জন্য প্রস্তুত থেকো ম্যাডাম।
——“নীল ভীষণ অসুস্থ সিস্টার। মাথা ব্যাপকভাবে ইঞ্জুরড ওর। রক্তক্ষরণ হচ্ছে কল্পনাতীত ভাবে।
রাওফিনের কণ্ঠের সেই একটি বাক্য যেন প্রলয় বয়ে নিয়ে এল আমেজ পূর্ণ সেই আঙিনায়। মাহার চপলতা মুহূর্তেই স্তব্ধ হলো, নীরা-রাফাদের হাসিমুখের রেখাগুলো ভয়ে কুঁকড়ে গেল। কিন্তু সবচেয়ে বড় আঘাতটা লাগল তিহুর বুকে। তার চারপাশের রঙিন আলোকসজ্জা, লিলি ফুলের সুবাস আর বন্ধুদের কলতান—সব যেন এক লহমায় অর্থহীন ধূসর কুয়াশায় ঢাকা পড়ে গেল।
তিহুর হাতের কেক মাখা আঙুলগুলো কাঁপতে শুরু করেছে। সে অস্ফুট স্বরে কেবল বলতে পারল,,
—’নেতা সাহেব… অসুস্থ? রক্তক্ষরণ?
তার দুচোখের কোণে জমে থাকা আনন্দাশ্রু এবার আতঙ্কের নোনা জলে রূপান্তরিত হলো। রাওফিনের চোখের দিকে তাকিয়ে সে এক আদিম হাহাকার অনুভব করল। ব আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করল না। পরনের স্নিগ্ধ গোলাপি শাড়িটার কথা ভুলে, আলুথালু চুলে সে পাগলের মতো রাওফিনের দিকে এগিয়ে এল। কম্পিত কণ্ঠে বলল,,
—’কোথায় সে? আমায় নিয়ে চলো ব্রাদার, আমি যাব; আমি যাব ওর কাছে!
রাওফিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটি ঠিকানা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,—’নীল এখন ওর পুরনো পার্টি অফিসে আছে। ও কাউকে ওখানে যেতে নিষেধ করেছে, কিন্তু পরিস্থিতি ভালো নয় সিস্টার।
তিহু ঠিকানার কাগজটা একরকম ছিনিয়ে নিয়েই ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড় দিল সিঁড়ির দিকে। পেছন থেকে মাহা বা নাহার ডাক তার কানে পৌঁছাল না। তার হৃদপিণ্ড তখন কেবল একটি নামই জপ করছে—নীল।
মাহা-রিশাদ নাহারাও পিছু করতে গেল তার তবে তাদের আটকে রাওফিন বলল,,
—’তোমরা কোথায় যাচ্ছ?
মাহা কিছু বলতে যেতেই রাওফিন তার নাকে হাত দিয়ে আলতো স্বরে বলল,,—’স্টুপিড গার্ল। আজকের রাতটা ওদের নিজের মতো উপভোগ করতে দাও। কাবাব মে হাড্ডি হয়োনা।
শহরের এক কোণে জনমানবহীন রাস্তার ধারে সেই পুরনো আধো-অন্ধকার পার্টি অফিস। তিহু যখন সেখানে পৌঁছাল, চারপাশটা নিঝুম, নিস্তব্ধ। শ্রাবণের মেঘেরা আবার আকাশ দখল করেছে, দূরে কোথাও মেঘের গুরুগুরু ডাক শোনা যাচ্ছে। অফিসের লোহার গেটটা অর্ধেক খোলা।
তিহু ভেতরে পা রাখল। চারদিকে ঘুটঘুঁটে অন্ধকার, কেবল আবছা একটা আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে ভেতরের কক্ষ থেকে। ধুলোমাখা মেঝে আর পুরনো আসবাবপত্রের গন্ধে দম আটকে আসছে তার। ভয়ের চেয়েও আজ অস্থিরতা অনেক বেশি। সে দেয়াল ধরে ধরে অন্ধকার হাতড়ে এগোতে লাগল।
প্রেমের নীলকাব্য পর্ব ৪৬
“নেতা সাহেব?”——তিহুর গলার স্বর কান্নায় বুজে আসছে।
হঠাৎ করেই সেই আবছা আলোর ঘরে প্রবেশ করল তিহু। নির্জীব-নিস্তব্ধতা মোড়ানো চারিধার। থমথমে নীরবতায় শরীর হিম হয়ে আসছে তিহুর;ঠিক তখনই সেই নিস্তব্ধতা চিরে একটা খুব পরিচিত, শান্ত অথচ গভীর কণ্ঠস্বর কর্ণগোচর হলো তার,,
—’নুর?
