Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪০

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪০

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪০
নওরিন মুনতাহা হিয়া

– নবীন বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সারা কলেজ রঙিন মরিচা বাতি দিয়ে সাজান হয়েছে। সমগ্র কলেজ এখন ছাএ ছাএীর সমাগমে পরিপূর্ণ ‚ সবার পড়নে নতুন জামাকাপড়। কলেজে উপস্থিত হয়েছে তিহান প্রায় এক ঘণ্টা আগে এখন ও অনুষ্ঠান শুরু হয়নি তাই ফোন হাতে নিয়ে এক কোণায় দাঁড়িয়ে ছিল। কলেজ গাউন দিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে আসছে দুই রমণী ‚ তাদের মুখে বিস্তর হাসির ছাপ। তারা যখন আপন মনে গল্প করে মঞ্চর নিকটে আসে ‚ তখন তাদের অট্টহাসির শব্দ শুনে তিহান তার হাতে থাকা ফোনের উপর থেকে সৃষ্টি সরিয়ে উপরের দিকে তাকায়।

পাশাপাশি হেঁটে আসছে মেঘ আর নূহা। দুইজনে হালকা সাজে বেশ সুন্দর আর সিগ্ধ লাগছে। প্রথমে তিহান তাকায় মেঘের উপর লাল শাড়ি পরহিত অবস্থায় তার সৌন্দর্য যেন দিগুণ হয়ে গেছে। কিন্তু মেঘের রূপের লাবণ্য তিহান মুগ্ধ হতে চাইলে ও তার দৃষ্টি চলে যায় মেঘের পাশে হেঁটে চলা কালো গাউন পড়া নূহার উপর। নূহার উপর চোখ পড়তেই তিহানের দৃষ্টি থমকায় ‚ এক ধামকা ঝড়ো হাওয়া তার শরীর ছুঁয়ে যায়। নূহার পড়নে কালো শাড়ি ‚ হাতের ডান আঙ্গুলের ভাঁজে এক আংটি‚ কানে সাদা মুক্তার মতো জল রঙ করা একজোড়া ইয়ারিং‚ হাতে কালো ফিতার ঘড়ি। তিহান বেশ মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করল নূহাকে মাথা থেকে পা অবধি প্রতিটা অঙ্গ আর সাজসজ্জার বিবরণ মুখস্থ করল।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

নূহার সৌন্দর্য আর রূপ কখন আগে তিহানকে মুগ্ধ করেনি! কারণ সে এমন তীর্য দৃষ্টি আর বিশেষ আগ্রহ নিয়ে নূহাকে কখন দেখেনি! প্রথম বৃষ্টির মধ্যে দেখা হয়েছিল তাদের ‚ সেখান থেকে ঝগড়া শুরু হয় এরপর শত মনমালিন্য আর রাগের উপর ভিত্তি করে তারা একে অপরের পরিচিত হয়। শুরু থেকে শএুর নজরে সে দেখত নূহাকে! কিন্তু আজ কি হল তিহানের! নিজের শএুর প্রতি রাগ‚ ঘৃণা‚ সব ভুলে তা রূপের মোহে মত্ত হয়েছে সে! তবে কি কাল দুইজনে একসাথে ডান্স করার জন্য এমন হয়েছে? তিহানের মনের করা প্রশ্নের কোন উত্তর নাই তার নিজের কাছে। এখন সে বোধ বুদ্ধি হারিয়ে শুধু দূর থেকে নূহাকে দেখে যাচ্ছে!

বেশ দীর্ঘ সময় পর নূহা আর মেঘ উপস্থিত হয় কলেজ গাউনে। ঠিক যেখানে তিহান দাঁড়িয়ে ছিল‚ নূহার চোখ মঞ্চ উপরে থাকলে ও মেঘের চোখ যায় তিহানের উপর। তিহান যে হা করে তাকিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরে নূহাকে দেখছে ‚চোখ যেন সরছে না নূহার উপর থেকে তা মেঘ বুঝল! মেঘের ঠোঁটে দুষ্ট হাসি ফুটে উঠল। ধীর পায়ে এগিয়ে যায় মেঘ তিহানের কাছে এরপর তার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। এখন অবধি তিহানের হুঁশ নাই ‚ মেঘ ঠোঁট টিপে হাসে এরপর মৃদু ধাক্কা দেয় হাত দিয়ে তিহানের শরীরে আর সয়তানি হাসি দিয়ে বলে

“কি তিহান? এমন মনোযোগ সহকারে নূহার দিকে তাকিয়ে কি দেখছ? মুখ বন্ধ করে দেখ! না‚ হলে কিন্তু মুখে মশা ঢুকে যাবে! নূহাকে কি দেখতে আজ সুন্দর লাগছে?”
তিহান মেঘের পাশে দাঁড়ান উপলব্ধি করতে পারল না সে এখন অন্য ঘোরে রয়েছে। আশেপাশে তার খেয়াল নাই তিহান আনমনে হেঁসে বলে উঠল
“হুম‚ খুব সুন্দর লাগছে নূহাকে আজ।”
তিহানের কথা শুনে মেঘ মিটমিট করে হেসে বলে উঠে
“ওহ্ তাই বুঝি তিহান! তা নূহার প্রেমে পড়ে গেলে না কি?”
তিহান এইবার ও আনমনে বলে উঠে

“হ্যাঁ।”
তিহানের মুখে প্রেমে পড়ে যাওয়ার কথা শুনে মেঘ খিলখিল করে হেঁসে উঠে। দূরে থাকা নূহাকে বেশ জোরে শব্দ করে ডাক দিয়ে বলে
“নূহা‚ দেখো তোর মিস্টার : সয়তান। প্রথম দেখায় তোমার প্রেমে পড়ে গেছে।”
মেঘের ডাক শুনে নূহা পিছনে ফিরে তাকায়। দূরে থাকা তিহানের উপর নজর যায় এতোখন তিহানকে খেয়াল করেনি সে! কিন্তু এখন করে। আর মেঘের কথা কানে পৌঁছাতে সে সরাসরি তিহানের মুখের দিকে অবাক করা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে! এতোখনে হয়ত তিহানের হুঁশ ফিরল। সে আনমনে কি বলেছে তা বুঝতে পারল! নূহার উপর চোখ পড়ে তিহানের দুইজনের চোখ মিলিত হয়! নূহার এমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকা আর মেঘের হাসির শব্দ শুনে তার বেশ লজ্জা লাগছে। নিজের মাথায় হাত দিয়ে বারি দিয়ে তিহান বলে

“তিহান‚ তুই শেষ আজ! কি প্রয়োজন ছিল ওই মিসেস ঝগড়ুটের দিকে তাকিয়ে থাকার! এখন নিশ্চয়ই এই নূহা তোর সাথে ঝগড়া করবে।”
কিন্তু তিহানের ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ হয় নূহা তিহানের সাথে ঝগড়া করে না। বরং মেঘের কথা শুনে লজ্জা পায়! কেমন জানি অদ্ভুত সুপ্ত অনুভূতি বাসা বাঁধে তার মনে! কিন্তু মেঘের হাসির শব্দ শুনে তার দিকে চোখ গরম করে তাকায়। এরপর আবার যখন তিহানের উপর নজর যায় তখন মুখে লাজুর হাসি ফুটে উঠে! মেঘ সব দেখছে আর মিটমিট করে হাসছে! মেঘ তিহানের পাশে থাকা অবস্থায় দুইজনকে উদ্দেশ্য করে গুণ গুণ করে বেশ জোরে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে

“প্রেমে পড়েছে রে।”
“মন‚ প্রেমে পড়েছে।”
“নূহার সাথে ঝগড়া করতে করতে।”
“তিহান তার প্রেমে পড়েছে।”
মেঘের দুষ্ট গান শুনে নূহা আর তিহান উভয়ই বেশ লজ্জা পায়। তিহান দ্রুত সে স্থান ত্যাগ করে! আর নূহা তার দৃষ্টি নিচুঁ করে আবার মঞ্চর দিকে তাকায়। কিন্তু মেঘ সারাক্ষণ নূহাকে বিরক্ত করে যায় তিহানের নাম নিয়ে। নূহা শেষে বাধ্য হয়ে মেঘের থেকে দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। তবে মেঘের কথা মিথ্যা নয় সত্যি কি তিহান তার প্রেমে পড়েছে? কিন্তু আবার তিহানের করা ঝগড়ার কথা মনে পড়তেই তার মনে হয় সে ভুল! তিহান তাকে ভালোবাসে না। তাছাড়া নূহা ও ওই সয়তান লোকের প্রেমে পড়বে না। অসম্ভব এই ঝগড়ুটে তিহানের সাথে সারাজীবন থাকা নূহার সাথে সম্ভব নয়। নূহা তিহানের কথা আর ভাবে না সে আবার অনুষ্ঠানের উপর মনোযোগ দেয়।

দুপুর ১২ :০০ আমেরিকায় এখন মধ্য দুপুর হলে ও আকাশে সূর্যের আলোর দেখা মেলেনি। চারপাশ অন্ধকার কুয়াশায় ঢাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বরফখণ্ড আকাশ থেকে গড়িয়ে পড়ছে ধরণীর বুকে। রাত আর দিনের মধ্যে খুব বেশি তারতম্য লক্ষ্য করা যায় না। নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত মেডিক্যাল কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যদিও সময়ের স্বল্পতার কারণে এখন খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু অনুষ্ঠানের দায়িত্ব যখন আদ্রিয়ানের উপর পড়েছে তাই সাজসজ্জা যথেষ্ট সুন্দর করার চেষ্টা সে করেছে। কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় আর অন্য শিক্ষকগণ বেশ প্রশংসা করল আদ্রিয়ানের!

সকল ছাএ ছাএী এখন হাতে ফুল নিয়ে এখন কলেজ গেইটে অপেক্ষা করছে প্রধান অতিথিকে বরণ করার উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি একজন বাঙালি ‚ ওনি বাংলাদেশের নাগরিক। মেঘ হাতে ফুলের তুরা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর তার পাশে উপস্থিত রয়েছে আদ্রিয়ান। প্রথম অতিথি বাংলাদেশি শুনে মেঘের বেশ আগ্রহ জন্মায় তাকে দেখার! কলেজের ছাএ ছাএী সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক সেখানে উপস্থিত ছিল! আদ্রিয়ান ও কলেজ গেইটের সামনে মেঘের পাশে দাঁড়ায়!

প্রায় পাঁচ মিনিট পর কলেজ গেইটে পৌঁছায় প্রধান অতিথির গাড়ি। দীর্ঘ অপেক্ষা পর প্রধান অতিথির আগমনে সকলে খুব খুশি হয়! গাড়ির ডান পাশের দরজা খুলে বের হয়ে আসে এক সুদর্শন যুবক। যার বয়স সম্ভবত তেইশ বা পঁচিশ বছর হবে ‚ পড়নে লাল সাদা শার্ট আর কোর্ট চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। গেইটে উপস্থিত সকলে প্রধান অতিথিকে দেখে হা করে তাকিয়ে থাকে! কি মারাত্মক সুন্দর দেখতে এই মানুষকে! সবাই মনে করেছিল যে ‚ প্রধান অতিথি হয়ত কোন মধ্য বয়স্ক বা বৃদ্ধ ব্যক্তি হবে!

শেষের সারিতে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখল প্রধান অতিথিকে। আশেপাশে ছাএ ছাএীরা চিপ গেস্টের যা প্রশংসা করছে তা মিথ্যা নয়! বেশ গুড লুকিং আর হ্যান্ডসাম দেখতে ওনাকে! মেঘ আনমনে বলে উঠে
“কি কিলার লুক এই প্রধান অতিথি! প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যাওয়ার মতো। এমন একজন সুর্দশন পুরুষ যদি আমার জামাই হতো!”

মেঘের প্রধান অতিথির দিকে তাকিয়ে মিনমিন করে বলে উঠল কথাটা। আদ্রিয়ান মেঘের পাশে অবস্থান করায় সে মেঘের কথা শুনতে পায়! ভ্রু কুঁচকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায় মেঘের দিকে আদ্রিয়ান। মুগ্ধ চোখে মেঘকে চিপ গেস্টের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আদ্রিয়ান রাগের পরিমাণ বাড়ল! সাহস কতো বড়ো পাশে সুর্দশন স্বামীকে রেখে অন্য পুরুষকে তার জামাই করার স্বপন দেখে? কেন আদ্রিয়ান কি দেখতে খারাপ? আদ্রিয়ান নিজে ও যথেষ্ট সুর্দশন কিন্তু আজ অবধি মেঘ কখন তার প্রশংসা করেনি! এমন মুগ্ধ হয়ে তার রূপে বিভোর হয়ে থাকেনি। আদ্রিয়ানের রাগী দৃষ্টি মেঘ দেখল না সে এখন পায়ে ভর দিয়ে মাথা উঁচু করে প্রধান অতিথিকে দেখতে ব্যস্ত।

প্রথম সারির সকল ছাএী প্রধান অতিথিকে ফুলের শুভেচ্ছা দেয়। ওনি সবার হাত থেকে ফুল নিয়ে তার পাশে থাকা এসিস্ট্যান্টকে দিয়ে দেয়। তার চোখ বারবার কাকে যেন খুঁজছে! সবার হাত থেকে ফুল নিয়ে যখন ধীর পায়ে হেঁটে যখন ওনি এগিয়ে আসেন‚ তখন হঠাৎ মেঘকে দেখে থমকে যায়! এতোখনে বিরক্তি মাথা মুখে হাসির ঝলক ফুটে উঠে তার চোখ জুড়া দিয়ে পা থেকে মাথা অবধি মেঘকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। কিছুক্ষণ মেঘের দিকে তাকিয়ে থেকে নিজে এগিয়ে যায় মেঘের কাছে এরপর মেঘের সম্মুখে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে
“ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবে আমায় আপনি।”

হঠাৎ প্রধান অতিথির হাত বাড়িয়ে তার হাত থেকে ফুল নিতে চাওয়ায় বেশ অবাক হয় মেঘ। তবুও সে মৃদু হেঁসে তার থাকা ফুল দেয়। মুচকি হাসি দিয়ে অতিথি তা গ্রহণ করে এবং তার হাতে রেখে দেয়। আদ্রিয়ান সব খেয়াল করল রাগে তার শরীর টগবগ করে গরম হয়ে উঠে!
মেঘ প্রধান অতিথিকে তার জন্য সংরক্ষিত জায়গায় নিয়ে যায়। সকল ছাএ ছাএী পিছনে আর তারা দুইজন সামনে। আদ্রিয়ান কলেজ গেইটে অনান্য শিক্ষকের সাথে দাঁড়িয়ে আলোচনা করছে! হঠাৎ করে পাশে থাকা ব্যক্তি মেঘের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল

“মেঘ‚ তুমি কেমন আছো? আর আজ তোমায় লাল শাড়িতে ভীষণ সুন্দর লাগছে।”
হঠাৎ কারো মুখে মেঘের নাম শুনে মেঘ পাশে ফিরে তাকায়! কিন্তু তার আশেপাশে প্রধান অতিথি ছাড়া অন্য কেউ নাই। তবে কি প্রধান অতিথি তাকে মেঘ বলে ডেকেছে! কিন্তু ওনি মেঘের নাম কি করে জানল! মেঘ বেশ অবাক হয়ে অপর পাশ ঘুরে প্রশ্ন করে
“স্যার‚আপনি কি আমার নাম নিয়ে কোন কথা বললেন?”
“মেঘ‚তুমি আমাকে স্যার বলে সম্বোধন করছ কেন?তুমি আমার নাম ধরে ডাকতে পারো? তোমার সেই অধিকার আছে মেঘ।”

প্রধান অতিথির এমন কথা শুনে মেঘ পুনরায় অবাক হয়! মেঘ কেন তাকে নাম ধরে ডাকতে যাবে! আর মেঘের অধিকার আছে ওনার প্রতি মানে? একজন অপরিচিত ব্যক্তির উপর মেঘের অধিকার কি করে থাকবে? মেঘ বিস্ময়ে সহিত প্রশ্ন করে
“আপনি কে? আমরা কি পরিচিত? আর আপনার প্রতি আমার অধিকার আছে মানে?”
মেঘের কথা শুনে পাশে থাকা মানুষটা হাসে এরপর তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে

“হাই মেঘ ‚ আমি ফারহান। ফারহান চৌধুরী।”
“ ফারহান চৌধুরী” নামটা কোথায় যেনো শুনেছে মেঘ? কিন্তু মনে করতে পারছে না! মাথার উপর চাপ প্রয়োগ করে এই নামের কোন মানুষ পরিচিত মানুষ আছে কি না তা মনে করার চেষ্টা করল। কিন্তু ব্যর্থ হয়! মেঘ বলল
“দুঃখিত‚ আপনার নাম শুনে আমার পরিচিত ব্যক্তি বলে মনে হয়নি? একটু স্পষ্ট ভাষায় বলবেন কে আপনি? কি পরিচয় আপনার?”

ফারহান অনেক সময় ধরে মেঘের দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে বলে! মেঘ তার হাত এগিয়ে দিয়ে হেন্ডসেক করে। মেঘ আর ফারহানের হাত মিলিত হলে ‚ ফারহানের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠে। ফারহান বলে
“মেঘ‚তুমি কি আমার দেখে সত্যি চিনতে পারনি? আমি তোমার —।”
ফারহান আর কোন শব্দ উচ্চারণ করবে তার আগেই দূর থেকে আদ্রিয়ান মেঘের নাম ধরে বলে
“মেঘ।”

হঠাৎ আদ্রিয়ানের ডাক শুনে ফারহান আর মেঘ উভয়ই তাকায় সামনের দিকে! দূরে থাকা আদ্রিয়ান এগিয়ে আসে তাদের কাছে। সবার প্রথমে আদ্রিয়ানের দৃষ্টি যায় তাদের একে অপরের হাতের দিকে ‚ যা এখন মুষ্ঠিবদ্ব করে ধরে রেখেছে ফারহান। রাগে‚ লাল বর্ণ ধারণ করে আদ্রিয়ানের মুখ শরীর তিরতির করে কেঁপে উঠে। মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের উপর এক চোখ রেখে অন্য চোখ দিয়ে মেঘের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায়!
আদ্রিয়ানের চোখে মুখে ফুটে উঠা রাগের ভয়াবহতা দেখে মেঘে ভয় পেয়ে যায়। চোখ দিয়ে যেন জ্বলসে দিবে মেঘকে এমন রাগ এখন আদ্রিয়ানের দুই চোখে। মেঘ আর কোন কথা বলতে পারল না। কেন মেঘকে ডাক দিয়েছে আদ্রিয়ান! সে প্রশ্ন অবধি করে উঠতে পারল না। মেঘ দ্রুত তার হাত ফারহানের হাতের বাঁধন থেকে সরিয়ে নেয়। আদ্রিয়ানের রাগের তীব্রতা তবুও কমে না ‚ সে ধমক দিয়ে বলে

“মেঘ‚ তুমি এখানে কি করছ? অনুষ্ঠানের সকল কাজ রেখে এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?যাও ‚ স্টেজে যাও।”
আদ্রিয়ানের ধমক শুনে মেঘের আত্মা কেঁপে উঠে। শান্ত স্বভাবের আদ্রিয়ানের হঠাৎ এমন রূপ অবিশ্বাস্য লাগল মেঘের কাছে। মেঘ কোন প্রশ্ন করল না শুধু মাথা নাড়িয়ে বলল
“হুম যাচ্ছি।”
মেঘ কথাটা বলে স্টেজে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়ায়! তখন ফারহান হঠাৎ মেঘকে বাঁধা দিয়ে আদ্রিয়ানের সম্মুখীন হয়ে বলে উঠে

“ডক্টর : আদ্রিয়ান‚ আপনি মেঘকে এমন করে ধমক কেন দিচ্ছেন?মেঘ ভয় পেয়ে যাবে ”
ফারহানের কথা শুনে আদ্রিয়ানের রাগের পরিধি বৃদ্ধি পায়। তার বউকে সে ধমক দিবে না! আদর করবে এখন কি তার কৈফিয়ত অন্য একজনকে দিতে যাবে? মেঘ ভয় পেলে আদ্রিয়ান তার জন্য চিন্তা করবে অন্য কেউ নয়। আদ্রিয়ান দাঁত কটমট করে বলে
“মেঘ‚ আমার ছাএী হয়। ওকে ধমক দিয়ে কথা বলার অধিকার আমার আছে। আর যদি মেঘের ভয় পাওয়া নিয়ে আপনার এতো চিন্তা হচ্ছে কেন? কে হয় মেঘ আপনার?”
আদ্রিয়ানের কথার বিপরীতে ফারহান তেজী কণ্ঠে বলল

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৯

“মেঘ আমার। তাই আমার মেঘের সাথে কেউ উঁচু গলায় কথা বলবে আমি তা পছন্দ করব না! ডক্টর: আদ্রিয়ান।”
ফারহানের কথা শুনে মেঘ আর আদ্রিয়ান দুইজনে অবাক হয়ে যায়। আদ্রিয়ান বলে
“মেঘ‚ আপনার মানে? কি সম্পর্ক আপনার মেঘের সাথে? কে হয় আপনার মেঘ?বলুন!
আদ্রিয়ানের কথায় ফারহান ওর কাছে এগিয়ে গিয়ে তেজী কণ্ঠে বলে
“মেঘ আমার। কারণ আমি হলাম মেঘের —- [ কাল বলব ]
কে এই ফারহান? কি সম্পর্ক মেঘ আর ওর! তা জানতে কালকের অপেক্ষা করুন।

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪১