Home তোমার নামে নীলচে তারা তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৯

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৯

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৯
নওরিন মুনতাহা হিয়া

ডিভোর্সের কথা শুনে মেঘ দূরে থাকা আদ্রিয়ানের দিকে তাকায় যে এখন কফির মগে চুমুক দিচ্ছে আর শান্ত হয়ে বসে নীরব পরিবেশ উপভোগ করছে। মেঘ জামান সাহেবের কথার জবাবে কি উত্তর দিবে তা তার জানা নাই? তার কি সত্যি উচিত আদ্রিয়ানকে ডিভোর্স দেওয়া? না ‚ শেষ বার মতো একবার সুযোগ দিবে সে! আদ্রিয়ান এখন মেঘের প্রতি যথেষ্ট যত্নশীল ‚ যে ভালোবাসা ‚ যত্ন আর সম্মান মেঘের প্রাপ্য তার সবটুকু সে এখন মেঘকে দেয়। কিন্তু অতীতের সব ঘটনা কি মেঘ এতো দ্রুত ভুলে যাবে? যে কষ্ট ‚ যন্ত্রণা ‚ অপেক্ষা সে তার শাস্তি কি আদ্রিয়ানকে সে দিবে না! ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে ঘৃণা আর অবলেহার শাস্তি স্বরূপ তার বাধ্য হয়ে মেঘকে ডিভোর্স দিতে হবে! মেঘ কণ্ঠে দৃঢ়তা নিয়ে এসে বলে

“বড় আব্বু‚ তুমি ডিভোর্স পেপার রেডি কর। আমি সাইন করে দিব।”
মেঘের কথা শুনে জামান সাহেব মুখে খুশি হলেন কিন্তু তার মন জুড়ে ঘিরে ধরল এক রাশ বিস্নতা। তালুকদার বাড়ির বড় বউ হিসাবে মেঘকে দেখার স্বপন তার অপূর্ণ রয়ে গেল। তার ভুল সিদ্ধান্তের জন্য আজ এক অনাথ মেয়ে ডিভোর্সি পরিচয় পাবে! জামান সাহেব দীর্ঘ শ্বাস ফেলে শান্ত কণ্ঠে বলে
“হুম। আমি ডিভোর্স পেপার রেডি করে রাখব। আর বিশ দিন পর আমি আর তালুকদার বাড়ির সকল সদস্য আমেরিকা আসছি। তখন তোমার আর আদ্রিয়ানের ডিভোর্স হবে! তুমি কি রাজি আছো মেঘ?”
মেঘের চোখ টলমল করে উঠল পানির বিন্দুতে তার চোখ এখন দূরে থাকা আদ্রিয়ানের উপর সীমাবদ্ধ। তবুও মেঘ প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে সাহস দেখিয়ে বলল

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“আমি রাজি বড় আব্বু।”
জামান সাহেব মেঘের সম্মতি পেয়ে হতাশ হয়ে যান। কিন্তু হঠাৎ ওনার মনে পড়ে যায় তার বন্ধুর ছেলের কথা। যার সাথে ওনি মেঘের বিয়ে ঠিক করেছেন। জামান সাহেব বলে
“মেঘ‚ আমার বন্ধুর ছেলে এখন বর্তমানে আমেরিকায় থাকে তুমি কি তার সাথে দেখা করতে চাও?”
“বন্ধুর ছেলের” কথা শুনে মেঘ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে
“কোন বন্ধুর ছেলে?”
“যার সাথে আমি তোমার নতুন করে বিয়ে ঠিক করেছি।”

নতুন করে বিয়ের কথা শুনে মেঘ আগের ন্যায় শান্ত গলায় বলে উঠে
“আগে ডিভোর্স হোক। এরপর না হয় দেখা হবে।”
মেঘের কণ্ঠে থাকা জড়তা আর কান্নার রেশ হয়ত জামান সাহেব উপলব্ধি করলেন। তাই জামান সাহেব আর কথা বাড়ালেন না ফোন কেটে দিলেন। কানের পিঠ থেকে ফোন সরিয়ে মেঘ শক্ত করে শরীর কেমন জানি অবাশ হয়ে যাচ্ছে তার! ডিভোর্স আর নতুন করে বিয়ের কথা সে আগে ও শুনেছে কিন্তু কেন জানি এখন কষ্টের তীব্রতা দিগুণ হয়ে যাচ্ছে! হয়ত আদ্রিয়ান আর তার কাছাকাছি আসার ফলস্বরূপ এমন হচ্ছে। প্রিয় মানুষ দূরে থাকলে হয়ত তাকে ভুলে থাকা যায় কিন্তু কাছাকাছি থাকলে তার থেকে দূরে সরে থাকা যায় না। কিন্তু মেঘ আদ্রিয়ানকে ডিভোর্স দিতে চাই। নয় বছর ধরে তার অপেক্ষার প্রতিশোধ নিবে সে আদ্রিয়ানের কষ্ট দিয়ে! শত অপমান আর আঘাতের বদলা দিবে এই ডিভোর্সের কাগজ আদ্রিয়ানের মুখে ছুঁড়ে মেঘের কিন্তু ডিভোর্স হলে হয়ত সবচেয়ে বেশি কষ্ট মেঘ পাবে! কারণ আদ্রিয়ানকে সে উন্মাদের মতো ভালোবাসে! তবুও মেঘ চাই ডিভোর্স হোক! মেঘ কোন রাস্তার কু’কু’র নয় যাকে প্রয়োজনে তাড়িয়ে দিবে আবার কিছুক্ষণ পর প্রিয়জন বলে ঘরে তুলবে! ডিভোর্স হবে! অবশ্যই হবে।

সকাল ১০:০০
কড়া লাল রঙের শাড়ি পরহিত অবস্থায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে মেঘ। তার কানে সাদা ডায়মন্ডের দুই জোড়া দুল ‚ হাতে লাল ফ্রেমের কাঁচের চুড়ি‚ গলায় হার। চোখে গাঢ় রঙের কালো কাজল আর ঠোঁটে লিপস্টিক। নবীন বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে হালকা সাজে মানানসই সাজায় নিজেকে। মেঘের ধপধপে সাদা ফর্সা গায়ের সাথে লাল রঙের শাড়ি বেশ সুন্দর লাগছে। ভীষণ মিষ্টি আর সিগ্ধ লাগছে। আয়নায় নিজ প্রতিবিম্ব দেখে মৃদু হাসে দেয়ালে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সকাল দশটা বাজে! মেঘের মনে পড়ে আদ্রিয়ান তার জন্য নিচে অপেক্ষা করছে। খুব দ্রুত নিজেকে পরিপাটি করে মেঘ রেডি হয়ে রুম থেকে বের হয়।

ড্রয়িং রুমের ছোফায় বসে ভ্রু কুঁচকে ঘড়ির দিকে বিরক্তিভরা মুখ করে তাকিয়ে আছে আদ্রিয়ান। প্রায় তিরিশ মিনিট ধরে মেঘের জন্য অপেক্ষা করছে আদ্রিয়ান! কিন্তু এখন ও মেঘ রেডি হয়ে নিচে আসেনি। বেশ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার ধর আদ্রিয়ান বেশ বিরক্তি নিয়ে ছোফায় থেকে উঠে দাঁড়ায়। ঘড়ির সময় অনুযায়ী আলরেডি দশটা বেজে গেছে নবীন বরণ অনুষ্ঠান হয়ত শুরু হয়ে গেছে। এখন যদি তারা না যায় তবে অনেক লেইট হয়ে যাবে। তাছাড়া অনুষ্ঠানের সকল দায়িত্ব আদ্রিয়ানের উপর তাই তার উপস্থিত থাকা অবশ্যই জরুরি।

আদ্রিয়ান মেঘকে ডাকার উদ্দেশ্য সিঁড়ির দিকে পা বাড়ায় হঠাৎ চুড়ির ঝুমঝুম শব্দ শুনে উপরের দিকে তাকায়। সিঁড়ির উপরে চোখ পড়তেই আদ্রিয়ানের চোখ- জোড়া ধমকে যায় তার কপালে কুঁচকে থাকা ভ্রু মুহুর্তে শান্ত হয়ে যায়। সিঁড়ি বেয়ে ধীর পায়ে নিচের দিকে হেঁটে আসছে মেঘ! মেঘের পড়নে লাল শাড়ি‚ তার পায়ে রূপার জলে আকাঁ সাদা নূপুর হাতে কাঁচের লাল চুড়ি সবকিছুর উপর আদ্রিয়ানের দৃষ্টি যায়। আদ্রিয়ানের বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে তার সামনে থাকা রূপবতী নারী তার বউ! তার একান্ত বক্ত্যিগত সম্পত্তি। যার উপর শুধু আর শুধুমাএ আদ্রিয়ানের ছোঁয়ার বৈধতা আছে!

আদ্রিয়ান মুগ্ধ দৃষ্টিতে মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার বিরক্তি ‚ রাগ ধূলিসাৎ হয়ে যায় মেঘের এমন মোহনীয় রূপের কাছে। তার মন অন্তর জুড়ে শুধু প্রশান্তির সুখ অনুভূত হয়! কিন্তু আদ্রিয়ানের বেশ রাগ ও হয় কিন্তু তা মেঘের উপর নয় ‚ বরং নিজের উপর এমন সুন্দরী বউ রেখে সে কোন নয় বছর আমেরিকায় থাকল! যদি ঘরে বউ না থাকে তবে কেরিয়ার দিয়ে সে কি করবে! টাকা‚ পয়সা রোজগার করে তার পিছনে উড়াবে! এখন বড্ড আপসোস হচ্ছে আদ্রিয়ানের ধূর কি ভুল করল সে জীবনে!
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসে মেঘ‚ আদ্রিয়ানের সম্মুখে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু আদ্রিয়ানকে এমন হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেঘ বেশ অবাক হয় আর বলে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ কি হয়েছে এমন করে তাকিয়ে আছেন কেন? কলেজে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে! চলুন গাড়িতে গিয়ে বসি।”

মেঘের কথা আদ্রিয়ান শুনল না! সে এখন ও তীক্ষ দৃষ্টি নিয়ে মেঘকে দেখে যাচ্ছে। আদ্রিয়ানের সাড়া শব্দ না পেয়ে বেশ বিরক্ত হয় মেঘ ‚তাই সে হাত দিয়ে মৃদু ধাক্কা দেয় আদ্রিয়ানের শরীরে! হঠাৎ শরীরে ধাক্কা লাগায় বেশ থতমত খেয়ে যায় আদ্রিয়ান। মেঘ পুনরায় বলে
— আদ্রিয়ান স্যার চলুন কলেজে যায়। দেরি হয়ে যাচ্ছে।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানের কথা মনে পড়তেই আদ্রিয়ান দ্রুত মেঘকে তাড়া দিয়ে বলে
— হুম দ্রুত চল মেঘ।
বরফ খণ্ডে ঢাকা নিউইয়র্ক সিটির পিচ ঢালা রাস্তায় গাড়ি চলছে আপন মনে। ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি ড্রাইভ করছে আদ্রিয়ান কিন্তু তার মনোযোগ রাস্তায় নাই। বরং তার পাশে বসে থাকা মেঘের উপর! লাল শাড়িতে মেঘকে ভীষণ সুন্দর লাগছে যার কারণে আদ্রিয়ানের নজর সরছে তার উপর থেকে।

আদ্রিয়ানের বেহায়া চোখ জুড়া বারবার মেঘের দিকে তাকিয়ে দেখছে! মেঘের সমস্ত শরীরের উপর তার চোখের বিচরণ ঘটাচ্ছে! অপর পাশের সিটে বসে থাকা মেঘ আদ্রিয়ানের এমন বেহায়া চোখের কারসাজি বুঝল! তার বেশ বিরক্ত লাগছে আদ্রিয়ানের এমন তাকিয়ে থাকায়! আদ্রিয়ানের চোখের মনোযোগ যে রাস্তায় নাই তা মেঘ বুঝল। বাধ্য হয়ে ঘুরে তাকায় মেঘ আদ্রিয়ানের দিকে এরপর চির শাসিত কণ্ঠে কড়া করে বলে
“আদ্রিয়ান স্যার‚ রাস্তা সামনের দিকে। অতএব সামনের দিকে মনোযোগ দেন।”
মেঘের কথায় আদ্রিয়ানের তাকিয়ে থাকার পরিবর্তন হয়নি বরং তার মুখে সয়তানি হাসির ঝলক দেখা যায়। আদ্রিয়ান তার ঠোঁট কামড়ে ধরে ‚ মেঘের পা থেকে মাথা অবধি নিখুঁত চোখে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে আর উত্তর দেয়
“আমার মনোযোগ ঠিক জায়গায় আছে মেঘ। আমি খুবই মনোযোগী আমার মিশনে।”

আদ্রিয়ানের চোখ আর কথার ধরণ দুইটাই কোন মিশনের কথা বলছে তা মেঘ বুঝল! রাগে দাঁত কটমট করে তাকায় আদ্রিয়ানের দিকে মেঘ! মেঘের চোখে মুখে ফুটে উঠা রাগ দেখে আদ্রিয়ান শুকনো ঢুক গিলল। এরপর তার বেহায়া দৃষ্টি মেঘের উপর থেকে সরিয়ে সামনে রাস্তার দিকে রাখল! মেঘ বিরক্তি নিয়ো উল্টো পাশে জানালার দিকে ঘুরে তাকাল! তবুও আদ্রিয়ানের অবাধ্য চোখ মেঘের বারণ শুনল না। সে বারবার লুকিং গ্লাসে বা আড়চোখে মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকে! মেঘ জানে এই লোককে কোন কথা বললে ও ওনি শুনবেন না! তাই মেঘ আর কথা বলল না চুপচাপ আদ্রিয়ানের চোখের অত্যাচার সয্য করল!

____ নবীন বরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয় কলেজের সকল ছাএ ছাএী। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর এইটাই তাদের প্রথম অনুষ্ঠান। কলেজ গেইটে গাড়ি এসে পৌঁছায় আদ্রিয়ানের গাড়ি মেঘ গাড়ির দরজা খুলে বের হয়ে আসে। নূহা কলেজ গেইটে দাঁড়িয়ে ছিল হঠাৎ মেঘকে দেখে সে খুশি মনে এগিয়ে যায় তার কাছে। কিন্তু তখনই গাড়ির অপর পাশের দরজা খুলে বের হয়ে আসে আদ্রিয়ান! আদ্রিয়ান আর মেঘকে একই গাড়ি থেকে বের হতে দেখে সে অবাক হয়ে যায়!

একই গাড়ি করে আদ্রিয়ান স্যার আর মেঘ কলেজে কেন আসছে? তবে কি আদ্রিয়ান আর মেঘ পরিচিত? নূহার সন্দেহ কি ঠিক মেঘ আর আদ্রিয়ানের মধ্যে কি কোন সম্পর্ক আছে? আদ্রিয়ান গাড়ি থেকে বের হয়ে তার কেবিনে চলে যায়। মেঘ যখন নূহাকে দেখে তার দিকে এগিয়ে আসবে নূহা মুখ থমথম করে সন্দেহ বোধক দৃষ্টিতে মেঘকে জিজ্ঞেস করে
“মেঘ‚ তুমি আর আদ্রিয়ান স্যার একই গাড়ি করে কলেজে কেন এসেছ? তোমরা কি একে অপরের পরিচিত? আদ্রিয়ান স্যার কে হয় তোমার?”
হঠাৎ নূহার এমন প্রশ্ন শুনে মেঘ থতমত খেয়ে যায়! এখন সে কি বলবে নূহাকে! সত্য ঘটনা কি বলে দিবে! মেঘ বলে

“আদ্রিয়ান স্যার আর আমু এক গাড়িতে আসতে যাব কেন? তুমি হয়ত ভুল দেখেছ নূহা! আদ্রিয়ান স্যার অন্য গাড়ি করে এসেছে?
মেঘের কথা শুনে নূহা তার চোখের দেখা ভুল বলে উড়িয়ে দিল না! বরং তার কথার উপর অটল থেকে বলল
“না মেঘ ‚ আমি ভুল দেখি নাই৷ তুমি আর আদ্রিয়ান স্যার একই গাড়ি থেকে বের হয়েছ। সত্যি করে বলো মেঘ তুমি আর আদ্রিয়ান স্যার কি ডেইট করছ?
মেঘ নূহার কথার দৃঢ়তা শুনে বুঝে যায় এখন নূহাকে মিথ্যা বলা যাবে না! কিন্তু সে সব সত্যি ও বলতে পারবে না। তাই মেঘ বলে

“নূহা‚আদ্রিয়ান স্যার আর আমি ডেইট করছি না। ওনি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের দেবর হন। আমি আমেরিকায় পড়াশোনা করতে এসেছি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের বাসায়। তাই আদ্রিয়ান স্যার আর আমি একই বাড়িতে থাকি। এইজন্য আমরা একসাথে কলেজে এসেছি।”
মেঘের কথা শুনে নূহা হকচকিয়ে উঠে এরপর মেঘের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে ইশারা করে বলে
“ও্হ তাই! তুমি আর আদ্রিয়ান স্যার এক বাড়িতে থাকো?
মেঘের নূহার কথার ধরণ বুঝতে পেরে বলে

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৩৮

“হুম থাকি।”
নূহা মেঘকে দ্রুত প্রশ্ন করে
“মেঘ তুমি কি আদ্রিয়ার স্যারকে ভালোবাসো বা পছন্দ কর?”
মেঘ সহজ ভাষায় স্পষ্ট জবাব দেয়
“না ‚ আদ্রিয়ান স্যার শুধু আমার টির্চার হন। আর কিছু নয়।

তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৪০