প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭ (২)
Sadiya Jahan Simi
এপ্রিলের দশ তারিখ। আজ থেকে রাফসার পরীক্ষা শুরু। গত দু’দিন পড়তে পড়তে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। সারাদিন রুমে বসে পড়েছে। প্রয়োজন ব্যতীত রুমের বাইরে পা রাখেনি। খাওয়া দাওয়া পর্যন্ত রুমে হয়েছে। হুমাইরা ফরাজী মেয়ের দরকারি সব কিছু হাতের কাছে এনে রাখছে। যেন রাফসার কষ্ট না হয়।
ভোর চারটা,,,
রাফসার এলার্ম এর শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। রাতে শোয়ার আগেই এলার্ম দিয়ে রেখেছিল। বেশি রাত অবধি জেগে পড়াশোনা করেনি। দশটা পর্যন্ত পড়ে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়েছিল। রাত জেগে পড়াশোনা করা বোকামি। রাফসা সেটা করেনি। রাফসা চোখ মেলে পিটপিট করে। চোখ খুলতেই আজ সর্বপ্রথম উদ্যানের কথা স্মরণ হয়েছে।চোখে মুখে এখনো ঘুমের রেশ কাটেনি। বিরক্ত হয়ে জোড় করে চোখজোড়া খুলে রাখার চেষ্টা করছে। সময় নিয়ে উঠে বসে। জিরো লাইটের সাহায্যে বিছানা থেকে নেমে এনার্জি লাইট জ্বালিয়ে দিল। পুরো রুমটা দিনের আলোর মতো চকচকে করে উঠলো।ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে ওযু করে একেবারে বের হয়। তারপর জায়নামাজ বিছিয়ে ফজরের সালাত আদায় করে নেয়। মোনাজাতে অনেক কিছু চেয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে উঠে দাঁড়ায়।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
পড়ার টেবিলে বসে। বাংলা বই বের করে প্রথমে লেখক পরিচিতি গুলো সব মনোযোগ সহকারে দেখে। লেখকের জন্ম, মৃত্যু ছদ্মনাম, ইত্যাদি ইত্যাদি তে বেশি ইফেক্ট দেল। লেখক পরিচিতি থেকে একটা না একটা এমসিকিউ কমন থাকবেই বোর্ডে। তারপর দাগানো লাইনগুলো চোখ বুলিয়ে নিল। কফির প্রয়োজন পড়ে।মাকে বলবে ভাবলো।সময় দেখে নিজেই চলে যায় কফি বানাতে।
মিনিট দশেক পর কফি নিয়ে ফিরে।কফি নিয়ে চুমুক দিতেই বিছানায় বালিশের উপর রাখা ফোনের আলো জ্বলে উঠলো। ফোনটা ভাইব্রেশন করছে। এতো সকালে ফোন আসাতে ভ্রু কুঁচকে ফেলে রাফসা। ঘড়ির পানে তাকিয়ে দেখে পাঁচটা বাজতে আরো পনেরো মিনিট বাকি। কি যেন ভেবে পড়ার টেবিল থেকে উঠে দাঁড়ায়। হয়তো সাবিকুন বা সায়মা কল করেছে। বেডের কাছে এগিয়ে যায়। ততক্ষনে ফোনটা বাজতে বাজতে কেটে যায়। পুনরায় ফোন ,আসতেই রাফসা ফোন হাতে তুলে নিল। অচেনা নাম্বার দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলে। কেমন অদ্ভুত নাম্বার। ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে।
“হ্যালো,,,
ফোনের ওপাশে কেউ কথা বলছে না। শুধু নিঃশ্বাস—ভারী, ধীর, মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠা। যেন প্রতিটা শ্বাসের সঙ্গে আটকে থাকা হাজারটা কথা বেরিয়ে আসতে চায়, কিন্তু গলায় এসে থেমে যায়। কানের ভেতর সেই শব্দ ঢুকে বুকের গভীরে গিয়ে ধাক্কা মারে।
নিঃশ্বাসগুলো কখনো লম্বা, ক্লান্ত; কখনো হঠাৎ দ্রুত—ভয়ের মতো, কিংবা দমিয়ে রাখা কান্নার মতো। মনে হয়, ওপাশে কেউ অন্ধকার ঘরে বসে আছে, চোখের সামনে শূন্যতাকে তাকিয়ে দেখছে। শব্দহীনতার ভেতরেও এক অদ্ভুত আর্তনাদ লুকিয়ে থাকে, যা শব্দের চেয়েও বেশি তীব্র।
এই নিঃশ্বাসে প্রশ্ন আছে, অভিযোগ আছে, অপূর্ণ ভালোবাসার চাপা দীর্ঘশ্বাস আছে। কথা না বলেও সে যেন সব বলে দেয়—হারানোর বেদনা, বলা না-পারার অসহায়ত্ব, আর দূরত্বের নির্মম সত্য। ফোনের এই নীরবতাই সবচেয়ে বেশি চিৎকার করে, কারণ এখানে শব্দ নেই, কিন্তু কষ্টের ওজন অসীম।
ওপাশ থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কপালে বিরক্তির ছাপ পড়ে রাফসার। ফোনটা কান থেকে নামিয়ে সামনে ধরে। সেকেন্ড চলছে— তবে কথা বলছে না। রাফসা আবার ফোনটা কানে নিয়ে হ্যালো বলে। তবে ফলাফল শূন্য। বিরক্তি যেন আকাশ ছুঁয়েছে রাফসার। নখ খুঁটতে খুঁটতে নিজেও কিছুটা সময় শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওপারের — এপারের , নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে শুধু। দুজনেই শান্ত নিশ্চুপ। নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে ওদের মধ্যে। রাফসা এইবার ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল।
“এই শালা , কেরে তুই? ভোরে কল দিয়ে বিরক্ত করছিস। জুতা দিয়ে পিটিয়ে পিঠের ছাল তুলবো। বেয়াদব, অসভ্য, ইতর কোনখানের। তোকে সামনে পেলে মেরে হাড়গোড় ভেঙ্গে, তোর পকেটে ঢুকিয়ে দেবো। আমার পড়ায় বিরক্ত করছিস। দোয়া করি, তোর বউ যেন তোরে যাইতে এক লাথি মারে, আইতে এক লাথি মারে। শ্লা বেওমিজ। কল রাখ মিয়া।”
একদমে কথাগুলো বলে ফোন কেটে দিল রাফসা। হাঁপিয়ে গেছে বোধহয়। বিরক্তও বেশ। ফোনটা রাখতেই যাবে তার আগেই আবার আলো জ্বলে উঠলো। রাফসা কি মনে করে দেখলো। মেসেজ এসেছে সেই নাম্বার থেকে। মেসেজটা অন করতেই সামনে ভেসে উঠলো।
“শুভকামনা রইল পরীক্ষার। ভালো করে পরীক্ষা দেবেন। ঘড়ি দেখে সিকিউর উওর লিখবেন। এমসিকিউ মনোযোগ সহকারে দেখে মার্ক করবেন। সিকিউ কমনগুলো আগে লিখে ফেলবেন। ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষা দিবেন। আর মুখের ভাষা তো দেখি আপনার ফাটাফাটি।দেখা গেলো আপনার হাসবেন্ড উঠতে বসতে, ধুপধাপ মেরে দিল আপনায়। সেটা ভবিষ্যতে দেখা যাবে। আর আমি কে , সেটা ভেবে মাথা নষ্ট করবেন না। সময় হলে জানতে পারবেন।টেক কেয়ার।”
মেসেজটা পড়ে রাফসা ভারী অবাক। বিরক্তিতে ফোনটা ছুঁড়ে মারে বিছানায়। পুনরায় গিয়ে টেবিলে বসে। কফির কাপ থেকে এক চুমুক দিতেই চোখ মুখ কুঁচকে ফেলল। কফিটা ঠান্ডা হয়ে গেছে। ধুপধাপ পায়ে বেরিয়ে যায় কফি বানাতে।
উদ্যানের এপার্টমেন্টটা শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, তবু আকাশের আলো আর বাতাসের সঙ্গে যেন গভীর এক আত্মীয়তা আছে। উঁচু তলার এই এপার্টমেন্টে ঢুকলেই প্রথমে চোখে পড়ে প্রশস্ত ড্রইংরুম—মেঝেতে হালকা কাঠের রঙ, দেয়ালে নরম ধূসর ছোঁয়া, আর বড় কাচের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া বিকেলের আলো। পর্দাগুলো পাতলা, সাদা—বাতাসে দুলে দুলে ঘরের ভেতর একটা শান্ত সুর তৈরি করে। কোণায় ছোট একটা বুকশেলফ, সেখানে গল্পের বই আর কিছু পুরোনো নোটবুক। পাশে একটা আরামচেয়ার, যেখানে বসে উদ্যান প্রায়ই চুপচাপ ভাবনায় ডুবে থাকে।
আজ ঘরটা অন্যরকম। ড্রইংরুমের এক পাশে ক্যানভাস বসানো, সামনে কাঠের ইজেল। মেঝেতে ছড়িয়ে আছে রঙের টিউব, তেলরঙের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। উদ্যান রঙ মিশাচ্ছে ধীরে ধীরে—কখনো তুলি থামিয়ে দূরে তাকায়, যেন স্মৃতির ভেতর থেকে কোনো অনুভূতি তুলে আনছে। সে আঁকছে তার রুহির ছবি।
ক্যানভাসে রুহি শাড়ি পরিহিতা। শাড়ির রঙ হালকা ঘাসফুল সবুজ, তাতে সূক্ষ্ম সোনালি পাড়—আলো পড়লে ঝিলমিল করে ওঠে। আঁচলটা কাঁধের ওপর আলতো করে রাখা, যেন একটু পরেই নেমে আসবে। রুহির চুল খোলা, লম্বা কালো ঢেউ কাঁধ ছুঁয়ে নেমেছে পিঠের দিকে। মুখটা সামান্য পাশ ফেরানো, চোখে একধরনের নরম দৃষ্টি—না পুরো হাসি, না পুরো বিষণ্ণতা।মাঝখানের সেই অনুভূতি, যা কেবল কাছের মানুষই পড়তে পারে।
উদ্যান খুব যত্ন করে চোখের গভীরতা আঁকে। চোখের কোণে হালকা ছায়া, যেন সেখানে জমে আছে না বলা কথা। ঠোঁটের রেখায় নরম গোলাপি, বেশি উজ্জ্বল নয়—রুহির স্বভাবের মতোই শান্ত। তুলি চালানোর সময় উদ্যানের কপালে ভাঁজ পড়ে, আবার কখনো ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটে ওঠে। এই ছবিটা তার কাছে শুধু একটি পেইন্টিং নয়; এটা তার অনুভূতির মানচিত্র।
ঘরের ভেতর তখন নিস্তব্ধতা। শুধু জানালার বাইরে দূরের শহরের শব্দ আর মাঝে মাঝে তুলির ঘষাঘষি। সময় থেমে গেছে যেন। আলো ধীরে ধীরে সোনালি হয়ে ক্যানভাসে পড়ছে, রুহির আঁকা মুখটাকে আরও জীবন্ত করে তুলছে। উদ্যান বুঝতে পারে—এই এপার্টমেন্ট, এই নিঃশব্দ সকাল,আর এই শাড়ি পরা রুহির ছবি—সব মিলিয়ে আজকের সময়টা তার জীবনের সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে সত্য ।
জিহাদ ঘুম থেকে উঠে ড্রয়িং রুমে আসে। উদ্যানকে রংতুলি দিয়ে হাত চালাতে দেখে এগিয়ে যায় সেদিকে। উদ্যানের যেন কোনো হুঁশ নেই আশেপাশে। জিহাদ পেছন থেকে ডেকে উঠে।”সারারাত দেবদাসের মতো এখানেই পড়েছিলি। ঘুমাসনি কেনো?”
উদ্যানের চলতে থাকা রংতুলি হাতটা থেমে যায় ক্যানভাসে। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো। জিহাদ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে ওর পানে । উদ্যান নিঃশব্দে রংতুলি রেখে উঠে দাঁড়ায়। ক্যানভাসের উপর কাপড় টেনে দিলো। পেছনে ঘুরে ঠান্ডা গলায় বলল।”তোকে কয়বার বলেছি। আমার কাছে ডিস্টার্ব করবি না।”
জিহাদ ভ্রু নাচিয়ে বলল।”কেনো ভাবীর ছবি দেখে ফেলেছি। তাই কলিজায় লাগছে?”
উদ্যান চোখ গরম করে তাকালো। সারারাত না ঘুমানোর ফলে চক্ষুজোড়া লাল হয়ে আছে। চোখের পাতা কাঁপছে। এক ভ্রু উঠিয়ে কিড়মিড় করছে। জিহাদ ওর এহেন অবস্থায় ঠোঁট চেপে হাসলো খানিক।
“সত্যি ভাই, আমি দেখেনি ওকে। বিশ্বাস কর ভাই। তবুও এমন করে আজরাঈলের মতো খপ করে তাকাস না। আমি অসহায় এক মাসুম বাচ্চা।”
উদ্যান বিরক্ত চোখে তাকিয়ে ক্যানভাসটা হাতে তুলে নিল। রুমের পানে পা বাড়াতে বাড়াতে বলল।”গাদা, বলল।”
জিহাদ অসহায় ফেস নিয়ে তাকিয়ে রইল। শালার বন্ধু চার আনার দাম দেয় না। জিহাদ পেছন থেকে গলা উঁচিয়ে বলল।”দেখিস, তুই আমার মতো এই বউ হীন এতিম পোলার উপর যে জুলুম করছিস। তোর বউ, ঠিক তেমনি করবে। উঠতে বসতে সকাল বিকাল নিয়ম করে ঝাটা দিয়ে পেটাবে।”
উদ্যান থেমে যায়। শান্ত চোখে পেছনে ফিরে জিহাদের পানে তাকায়। উদ্যানের চাহনি দেখে শুকনো ঢোক গিলল জিহাদ। উদ্যান ফের ঘরের দিকে যেতে থাকে। ঠোঁট কামড়ে মৃদু হেসে ক্যানভাসের পানে তাকিয়ে বলল।”সেটা সময় হলে দেখা যাবে।”
পরীক্ষা শেষে শতশত শিক্ষার্থীদের ঢল নামে। দুপুর দেড়টায় পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তিনতলা থেকে নামতেই প্রায় দশ মিনিটের বেশি লেগেছে। এতো এতো ছাএ ছাএী। ওরা তিনজনই নিচে নেমে এসে একপাশে দাঁড়িয়ে রইল আশরাফুল এবং সাতারুল এর জন্য। ওরা এখনো আসেনি। এক দূরেই দেখা যায় ওরা আসছে। দুজনের মুখ চলছে অনবরত। হয়তো কিছু বকছে। কাছে আসতেই রাফসা বলল।
“পরীক্ষা কেমন হয়েছে তোদের?”
দুজনেই চেতে উঠলো যেন। চোখে মুখে বিরক্ত। আশরাফুল খেকিয়ে বলল।”আমার জাওড়া হালারা, লেখক পরিচিতি থেকে তিনটা এমসিকিউ দিছে। একটাও পারিনা। হুদায় দাগাইছি।”
মেয়েরা হাসে। সায়মা বলল।”আর বলবি না? ক্লাসে কি বলছি যেন, মেম ওদের জন্মসাল মৃত্যুসাল পরিচয় জেনে আমাদের কাজ কি। মরেই তো গেছে। এইবার বুঝেছিস , কেন পড়তে হয়।”
সাতারুল ধমকে বলে।”তুই আর কথা কইস না। জিন্দেগি বরবাদ।”
সাবিকুন বলল। আচ্ছা বাদ দে। চল কিছু খাই। খিদা লাগছে।”
আশরাফুল দাঁতে দাঁত চেপে বলে।”হহ। তোরে তো সারা দুনিয়া খাওয়াইলেও পেট ভরবে না।”
সাবিকুন মুখ বাকালো। ওরা পঞ্চপান্ডবের দল চলে খেতে। প্রথমেই পাঁচ টা শরবত নিল। খেয়ে গলা ভেজায়। সাতারুল পাঁচজনের জন্য পাঁচটা কোণ আইসক্রিম কিনল। পাঁচজন খাচ্ছে দাঁড়িয়ে। মেইন রোডের সাথেই ওদের কেন্দ্র পড়েছে। এটা একটা বড় কলেজ। পাশে পাম্প রয়েছে।
একটা গাড়ি যাওয়ার সময় সায়মার গা ঘেঁষে যেতে নিল। রাফসা তা খেয়াল করে হাত দিয়ে টেনে সরিয়ে ফেলল। সবাই সেদিকে তাকায়। গাড়িটাও থেমে গেছে। রাফসা চেঁচিয়ে বলল।”লাইসেন্সটা কোন লটারিতে পেয়েছেন। ব্রেক ছাড়া গাড়ি চালায় কোন আবালরে।”
রাফসার চেঁচানোতে ভরকে গেল গাড়িতে থাকা ড্রাইভার। ততক্ষনে সায়মা সাবিকুন ও চেঁচিয়ে উঠলো। ড্রাইভার বেরিয়ে এসে বলল।”রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলে এমনই হবে।”
রাফসা ঝাঁঝালো কন্ঠে বলল।”চোখ কি কপালে নাকি পকেটে? চোখগুলো চোখের জায়গায় রেখে ভালো করে দেখেন। ”
ওদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ঝগড়া শুরু করেছে। আশরাফুল শুকনো ঢোক গিলল। গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তির এইবার বিরক্তি বাড়ে। গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করে।”কি হয়েছে? এতো চেঁচামেচি কেন?”
ড্রাইভার ইশারা তুলে বলল।”ভাই, এই মেয়েটা আমাকে আবাল বলেছে। আমি নাকি চোখ কপালে তুলে হাঁটি।”
ব্যক্তিটি চোখ তুলে সামনে তাকাতেই একটা মায়াবী মুখ সামনে পড়ল। চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে । কপালে শীতল ভাঁজ পড়ে। চোখে থাকা রোদচশমা টেনে খুলে। রাফসা কোমড়ে হাত দিয়ে বলল।”আবালকে, আবাল বলব না তো কি বলব? আর আমি যেন ভয় পাই আপনার মালিককে। কিছু বলতে আসলে মেরে পুঁতে ফেলবো।”
রাফসা আরো কিছু বলতেই যাবে সাবিকুন পেছন থেকে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে। ফিসফিস করে বলল।”থেমে যা সাদু। আর বলিস না। তাকিয়ে দেখ মালিক বয়সে আমাদের অনেক বড়।”
সাবিকুনের কথায় তাকালো রাফসা। ব্যক্তিটা এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে ওর দিকেই। রাফসা এই দৃষ্টিতে যেন আরো বিরক্ত হলো। হাত থেকে মুখ ছাড়াতে চাইলেও পারেনা। ওরা জোড় করে রাফসাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। রাফসা কোনো রকম মুখ থেকে হাত সরিয়ে চেঁচিয়ে ব্যক্তির পানে তাকিয়ে বলল।” এই আঙ্কেল। আপনার ড্রাইভার যদি আমার সামনে আর পড়েছে না? একেবারে ঠ্যাং ভেঙ্গে রেখে দিব।”
ওরা গাড়িতে উঠে চলে যায়। এদিকে রাফসার মুখে আঙ্কেল ডাক শুনে ভরকে গেল লোকটি। পাশে থাকা ড্রাইভার বিচার দিয়ে বলল।”দেখেছেন ভাই । কি ইঁচড়ে পাকা মেয়ে। আমাকে আবা,,,
বাকিটা বলার আগেই জোরে থাপ্পর মেরে বসে লোকটি। ড্রাইভার হতবাক হয়ে গালে হাত দিয়ে বলল।”ভাই আমি কি করলাম?”
“চুপ কর শালা। তোর জন্য, আজ আমার মায়াবীর মুখ থেকে আমায় আঙ্কেল ডাক শুনতে হয়েছে। তুই আসলেই একটা আবাল। সর সামনে থেকে, আবাল কোনখানের।”
আভিয়ান রাগে গজগজ করতে করতে গাড়িতে গিয়ে বসে। পেছনে ড্রাইভার এখনো গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বেচারা বুঝতে পারছে না, ওর দোষটা কি। আঙ্কেল তো ডেকেছে ওই মেয়েটা।
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭
অনিকের নাম চেঞ্জ করে জিহাদ দিয়েছি। আর জিহাদের নামটা হবে অনিকের। আসলে জিহাদ আমার ভাইয়ের নাম । ওর ক্যারেক্টার চরিত্রহীন দিতে পারবো না। তাই চেঞ্জ করেছি।
