নীতিহীন রাজ পর্ব ৮
আশিকা আক্তার সোহাগী
উল্কি বা ট্যাটু যেটাই বলা হোক বর্তমানে পশ্চিমাদের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়াতেও জনপ্রিয় একটা শিল্প।ইসলামে হারাম। সুই টাইপ একটা মেশিন দিয়ে শরীরের চামড়াতে ক্ষত করে বিভিন্ন রঙ দিয়ে স্থায়ীভাবে একটা নকশা করাই হলো ট্যাটু।রাজধানীর ধানমন্ডির ট্যাটু আর্টিস্ট প্লাস অ্যানালিস্ট লুনা পোয়েটসের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে জিয়ানা। ভার্সিটি ফ্রেন্ড মুনের অপেক্ষায় সে। নকশাল সীমানা প্রাচীরের ফাঁক দিয়ে ভেতরের সৌন্দর্য্য উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে।বড়লোকদের বড় ব্যাপার। বাড়ির সামনে বিরানভূমি। অথচ এই এলাকার এই ইঞ্চি জায়গার দাম কত হতে পারে জিয়ানা মনে মনে হিসেব কষছিলো। তখনই পেছন থাকে কেউ মাথায় টোকা দিলো। ঘুরে দেখলো ছাই রঙের কামিজ সাথে মস্ত ঢিলা ডেনিম প্যান্ট গলায় গামছা প্রিন্টের ওড়না। আর মাথায় পাগড়ি ,কপালে চাঁদ টিপ দেয়া উজ্জ্বল শ্যামা এক কন্যা নিজের গজদন্ত বের করে একশো আশি ডিগ্রি কেলিয়ে দাঁড়ানো। দেখে মনে হবে ন্যাংটা বাবার মাজার থেকে উঠে আসা কোন ভণ্ড মুরিদ। সেসব সাইডে রেখে জিয়ানা জিজ্ঞেস করলো ,
“কিরে মহিলা এত দেরি করলি কেন?”
“আরেহ ক্যাম্পাস থেকে এখানে আসতে সময় লাগে না? তো কি করবি ট্যাটু আর্টিস্ট দিয়ে?তোর কি নতুন বাতিক উঠছে ট্যাটু করার?”
“হোপ বেডি। ভেতরে চল পড়ে বলছি।”
“আব্বেহ জিয়ু দেখ ‘কত্তা হইতে সাবধান।'”
জিয়ানা ফুটপাত থেকে একটা ইটের টুকরা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো “কোথায়?”
“আরেহ গাধী বাড়ির ভেতরে কুত্তা আছে। এইসব বড়লোকদের কুত্তা গুলা হেব্বি হারামি টাইপ ভাবওয়ালা হয়। ”
“ভাব তো হবেই এমন ডুপ্লেক্স বাড়িতে থাকে তোর আমার মতো গরীব নাকি? ঢুকতে দিবে ভেতরে? আমারা দেখতেই কেমন গরীব নারে? ” জিয়ানা নিজের দিকে তাকিয়ে বলল।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“তুই ঠিক আছিস। কিন্তু আমাকে কেমন জঙ্গল লাগছে দেখ।লাইফের ফাষ্ট মনে হচ্ছে চারুকলায় পড়লেই এমন ভং ধরতে হবে নাকি! ঢুকতে দিবে চল উনার এক আত্মীয়ের বাচ্চাকে আমি প্রাইভেট পড়িয়েছি। ”
দারোয়ানকে পরিচয় দেয়ার পরও ভ্রু কুচকে জিয়ানাদের দেখলো বারবার। এই বাড়িতে সবাই প্রবেশ করে দামী গাড়ি করে এমন গরীব মনে হয় ওরাই।ঢুকে মুন একটু কাচুমাচু শুরু করলো কুকুরের ভয়ে। গার্ডেনের এক সাইডে দুইটা জার্মান শেপার্ড বাঁধা।তাদের দিকে জিহবা বের করে তাকিয়ে। এদের সাইজ আমাদের দেশী কুকুরের চেয়ে বেশ বড়।
“বড়লোকদের কুকুর হারামি হয় না। বড়লোকরা নিজেরাই হারামি। এরা মানুষের বাচ্চার চেয়ে কুকুর বিড়ালের বাচ্চা পালাকে পশ মনে করে। অথচ আমাদের দেশে দেখ কত লক্ষ শিশু এতিম ঘুরে বেড়াচ্ছে।” জিয়ানা হাঁটতে হাঁটতে বলল।
বিশাল চারটা পিলারের নিচে এসে মুন কলিং বেলের সুইচ প্রেস করলো। মিনিট দুইয়েক পর একজন সুরুচি ভদ্রমহিলা দরজা খুলে দিলেন। জিয়ানার মনে হলো স্টার প্লাসের কোকিলা মদির বাসায় ঢুকে গেছে। বাসাতেও এত সেজেগুজে আছে মহিলা। মিডিলক্লাসরা নিজেদের বিয়েতেও এত জুয়েলারি পরে না। জিয়ানা অবাক হলো তখন ভদ্রমহিলা যখন কথা বললেন। উনি হুট করে ভদ্রলোক হয়ে গেলেন। মানে উনি তৃতীয় লিঙ্গের? তখন জিয়ানার লক্ষ্য হলো সদ্য শেভিং করলে যেমন দেখায় উনাকেও তেমন দেখাচ্ছে। অধিক মেকাপেও সেটা ঢাকা যায়নি। ভদ্রম-পুরুষ হোয়াট এভার উনি হাই হ্যালোতে না গিয়ে সরাসরি জিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে,
“বড্ড বাড়াবাড়ি রকমের যৌবনের শরীর তোমার মেয়ে? কি নাম তোমার? ”
সারাজীবন জিয়ানার কথায় মানুষ খাবি খেয়েছে কিন্তু আজ এই ম-পুরুষের কথায় জিয়ানার কথা কন্ঠনালীতে আটকে গেল।পাশ থেকে মুন হেসে উওর দেয়,
“ওর নাম জিয়ানা হক। অভার সাইজ ড্রেসেও আপনার চোখ দেখি কোথায় কোথায় চলে যায় মিস? ”
“আ’ম নট মিস ,লেডি। আ’ম কমপ্লিট মিসেস। লিভ ইট। কী জন্য এসেছো বল?” অতিমাত্রায় শুদ্ধ উচ্চারণ উনার কথায়।
জিয়ানা নিজের ব্যাকপ্যাক থেকে ডায়েরি বের করে একটা নকশা দেখালো। যেখানে ড্রয়িং করা একটা ব্ল্যাক মাম্বা সাপ মানুষের মাথার খুলি কামড়ে ধরে আছে। তারপর বলল,
“ভার্সিটির একটা জার্নাল রিপোর্টের জন্য আমাকে কিছু রিয়েল কাজ করতে হয়েছে। আমি যাদের সার্চ করেছি আই মিন সিক্রেট ইনভেস্টিগেট করি ,তাদের গ্যাংয়ের কয়েকজন বিদেশি।এবং তাদের নেকে এই ট্যাটুটা দেখি। সামহাউ আমি যদি ভুল না হই এটা আফ্রিকান ক্যানিবালদের একটা চিহ্ন? ”
লুনা পোয়েটস একটু নড়েচড়ে বসলেন। তারপর জিয়ানার দিকে তাকিয়ে বললেন “লাইফ রিস্ক আছে এমন কাজ আমরা শুধু ডিফেন্সের সাথে শেয়ার করি। সিভিলিয়ানদের এইসব কৌতূহল কখনই ভালো কিছু বয়ে আনে না। তোমাদের বয়স কম। তাই এই ইনভেস্টিগেশন এখানেই স্টপ করে দাও। ”
তারপর নিজের স্বরূপে ফিরে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন “কী নেবে হট ওর কোল্ড?”
জিয়ানা আর মুন একসাথে থ্যাংকুউ বলে ‘না’ করে উঠে গেল। জিয়ানা তার উত্তর পেয়ে গেছে।
“আই থিংক তোমার কার্ভ কোমড়ে যদি একটা ট্যাটু করো আর শর্ট টপ পড়ে বের হও।হোল কান্টি বয় উইল গো ক্রেজি ফর ইউ।” বলে জিয়ানার কোমড়ে একটা টোকা দিলো।
“না না লাগবে না।বিন্দাস আছি এমনিতেই। কারো ক্রেজি ফেজি হওয়ার দরকার নাই। আসি। ” বলে মুনের হাত ধরে টেনে বের করে আনলো। বাহিরে এসে দুইজনই অট্টহাসিতে ফেঁটে পড়লো।
“অদ্ভুত নমুনা মাইরি। তুই নরখাদক কোথায় পেলি?এইদেশে এটা অকল্পনীয়। সেকেন্ড ইয়ারে কিসের রিপোর্ট। সত্যি সত্যি বলতো?” মুন ফুটপাতে বসে জিজ্ঞেস করলো ।
“পুরাটাই কৌতূহল থেকে রে।আর্টিকেল লিখতে একাটা গল্প বানিয়েছিলাম। ওইটাই কেমন কাজে দেয় সেটা দেখতে এখানে আসা।চল স্টারে খাবো আজ? ”
অন্ধকার বন্ধ ঘরের তালা খুলে প্রবেশ করলো নিবিড় আর মামুন ইসলাম। দিনের বেলাতেও আলো চলাচলের কোন রাস্তা নেই বিধায় ঘুটঘুটে অন্ধকার কক্ষময়। শিকলের ঝনঝন আওয়াজে বোঝা গেল প্রাণের স্পন্দন। মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে দেয়ালের জং ধরা সুইচবোর্ড খোঁজে নির্দিষ্ট সুইচ অন করায় কৃত্রিম আলোয় অন্ধকার দূর হলো। কিন্তু নিকষকালো অন্ধকারের পর তীব্র আলোতে চোখের ক্ষমতা সহনীয় মাত্রায় আসতে কয়েক পল লেগে গেল। আলোতে দৃশ্যমান হলো ,জীর্ণশীর্ণ কঙ্কালসার এক যুবক ময়লা ফ্লোরে শুয়ে আছে। মামুন ইসলাম কাছে গিয়ে নাকে রুমাল চেপে বলল
” গাদ্দারি করার কুফল কেমন লাগছে নীল? বেঈমানী টা না করলে আজ তো খোলা আকাশের নিচে ওর মতো জীবন পেতিস। ” নিবিড়ের দিকে আঙুল তাক করে বলে উঠলো।
“স্কাউন্ডেল ,ফাক ইউ। বাস্টার্ড। “বন্দী ভাঙা কন্ঠে জবাব দেয়।
“আমার যে কি অসীম ধৈর্য্য নিবিড় জানিস? বেইমানী করবি যেনেও তোদের উপর মায়া করি। কি করবো বল? আমি আবার কথা দিয়ে কথা রাখি। নীলুফাকে ভালোবাসি বলে তার সন্তানকে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছি। আবার আরেক শুয়ারের বাচ্চাকেও বড় করছি। সে আবার খুব পালতু আমার। কোন অর্ডারই হেলাফেলা করে না। শুধু মাল পেলেই খুশি। “নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে খ্যাকখ্যাক করে হেসে উঠল মামুন ইসলাম।
নিবিড়ের চোয়াল আর হাতের হাড় শক্ত হয়ে ওঠে।মনে হচ্ছে সবগুলো হাড় ভেঙে বের হয়ে যাবে। দাঁতে দাঁতে কামড় দিয়ে সহ্য করে নিচ্ছে সে।একবার শুধু টার্গেটে পৌঁছাক জ্যান্ত টুকরো টুকরো করবে এই জানোয়ারটাকে আর নিজের জন্মদাত্রীকে।
পরক্ষনে আশরাফ মামুন ইসলামকে ডেকে বলল”স্যার জিয়াউল হক নামের একজন আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন। আমি ওয়েটিংরুমে বসিয়ে রাখবো নাকি চলে যেতে বলব?”
নামটা শুনে ফট করে উঠে দাঁড়ালো মামুন ইসলাম। নিবিড়কে ইশারায় বের হতে বলে উনি আগে আগে চলে গেলেন। নিবিড় আঙুল দিয়ে কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে বের হয়ে গেল। আর নীল নামের বন্দী মুচকি হেঁসে দেয়ালে হেলান দিলো।
মামুন ইসলাম নত মস্তকে দুইহাত উড়িয়ে জিয়াউল হককে জড়িয়ে ধরলেন। চোখের কোনায় পানি জমা হলো।পকেট থেকে রুমাল বের করে মুছে বললেন,
“এতদিন পর মনে হয়েছে আমাদের কথা? এখানে কীভাবে এলেন?ভুলে নয়তো? সেসব থাক নীলুর খোঁজ পেয়েছেন কি?”
“আমরা আপনার এলাকায় শিফট হয়েছি কয়েক বছরের জন্য। আমার স্ত্রীর এখানের এক কলেজে পোস্টিং হয়েছে। আর না পাইনি কোন খোঁজ । না নীলুফা না সাগর আর না রুপক মন্ডল। কাউকেই আমি পাইনি। আমার আর কত দূর দৌঁড় বলুন? আপনারাই কিছু পেলেন না?”
“একেবারে যে পাইনি তা না।সেটা তো আপনি জানেনই। সূদুর পাহাড়পুর হাসপাতালে গিয়ে যখন জানতে পারলাম নীলুর বাচ্চা হয়েছে কিন্তু সে বাচ্চা সহ নীলু উধাও। কোথায় না খুঁজেছি বলুন?”
কিছুক্ষন চুপ করে থেকে আবার বললেন,
“আম্মা প্রতিদিন কান্নাকাটি করে ওর জন্য। সবাই চলে গেছে সেটা চোখের সামনে দেখে বিশ্বাস করে নিয়েছে। কিন্তু নীলু কোথাও আছে ,একদিন আসবে এই আশায় বেঁচে আছেন উনি। ”
“মামুন সাহেব, একটা ইনফরমেশনের জন্য এসেছিলাম।”
“বলুন না ভাই এত অনুমতির কি আছে।”
“আপনার বাবা আপনাদের সকল সম্পত্তি নীলুফার নামে উইল করে গেছেন? না মানে আপনারা দুই ভাই থাকতে মেয়ের নামে কেনো? এই কারণেও কি নীলুফা নিখোঁজ হতে পারে না? ”
“আসলে যৌবনে আমি আর ভাই কিছু ভুল করেছিলাম সেই রাগ থেকেই আব্বা সব নীলুফার নামে লিখে দেন। ওও অনেক সহজ সরল ছিলো তো। ”
“ছিলো বলছেন কেনো? এখনো তো থাকতে পারে?”
হকচকিয়ে গেলো মামুন ইসলাম। তারপর নজর লুকিয়ে বলল”অবশ্যই আছে। আমিও বিশ্বাস করি আমার বোন একদিন বের হয়ে আসবে। ”
অদূরে নিবিড় দাঁড়িয়ে দেখে গেল মামুন ইসলামের নিখুঁত নাটক।
সন্ধ্যার কিছুটা আগে দিনের আলো যায় যায় করছে। আর তিমির আসবে কিনা দ্বিধায় আশেপাশে ঘুরাঘুরি করছে। এমন সময় হনহনিয়ে জিয়ানা ঘরে ঢুকলো। জুতো জোড়া ছুড়ে ,ব্যাগ সোফায় রেখে “আব্বু আব্বু ” বলে ডাকা শুরু করলো।
কলেজ থেকে এসে রেস্ট নিচ্ছিলেন আঞ্জুমান। হঠাৎ এমন চিল্লানোর জন্য ধড়ফড়িয়ে উঠে এলেন। কিন্তু এসেই মেজাজ তুঙ্গে উঠে গেল।যখন দেখলেন জিয়ানার এক জুতো ড্রয়িং রুমে আরেক জুতো সদর দরজায়।ব্যাগ সোফায় উল্টে পড়া। উনি তেড়ে গেলেন জিয়ানার দিকে।সেও কম যায় না ব্রেক করে আঞ্জুমানের পেছনে গিয়ে ,নিজের হাত দিয়ে উনার হাত আটকে জড়িয়ে ধরলো। আঞ্জুমানের নড়াচড়া বন্ধ হলেও মুখ চলছে।
“ছাড় জিয়ু। আজ তোর পিঠের ছাল ছাড়িয়ে দেবো। জঙ্গলী কোথাকার। এমন এলোমেলো কেউ থাকে? একটু তো ডিসেন্ট হওয়া উচিত এখন। ছাড় বলছি? ”
“আব্বু কোথায় আম্মু?জরুরী দরকার। মারপিট পড়ে করো আপাতত খবর টা দেই। নাহলে আমার তালগোল পাকিয়ে যাবে। ”
“আছে আশেপাশে হয়তো কোথাও। ছাড় আগে? ”
জিয়ানা একপা পেছনে রেখে হাত ছেড়ে দিয়ে দৌঁড় দিলো রুমের দিকে।আঞ্জুমান হাতের কাছে পেলে সত্যি সত্যি পিঠে ঢোল বাজাবে।
জেনির রুম কাছে হওয়াই সেটাতেই ঢুকে গেলো। বিছানায় চার হাত পা চারদিক করে চিত হয়ে শুয়ে প্রশ্ন করলো ,
“আপি!প্রেমে পড়লে কেমন লাগে?”
“কেন তুই প্রেমে পড়েছিস?”
“বুঝি না তো। আচ্ছা ভাইয়া তোকে জড়িয়ে ধরেছে?”
“না আমিই ধরেছি। সজীব একটু ভীতু। ওর বার্থডেতে জড়িয়ে ধরেছিলাম। ”
“কেমন লাগে?আমাকে রাফিন স্যার জড়িয়ে ধরতে চেয়েছে। ”
“জড়িয়ে ধরার কথা শুনে তোর কি পেটে কখনো প্রজাতি উড়াউড়ি করেছে? কিংবা মেরুদন্ডে শীতল শিহরণ বয়ে গেছে?
“পেটে বড় জোর গ্যাস হয়ে ফুসফুস শব্দ হতে পারে ,প্রজাপতি কি পেটে উড়ার জিনিস? আর মেরুদন্ড যদি সুস্থ স্বাভাবিক থাকে শীতল শিহরণ কেনো বয়ে যাবে?”
পিঠে একটা কিল দিয়ে জেনি বলে”
“তুই প্রেমে পড়িস নি গাধী। প্রেম এত সাধারণ জিনিস না। টোটাল স্বর্গীয় একটা অনুভূতি। ”
“বি প্র্যাক্টিক্যাল লেডি। এইসব গল্প সিনেমায় হয়। বাস্তবে না ”
“হয়! যেদিন সত্যি সত্যি প্রেমে পড়বি সেদিন হবে। ”
“কিন্তু রাফিন স্যারকে আমার ভালো লাগে। আব্বুর অনুমতি নিয়ে আগাবো কিনা ভাবছি। তুমি কি বল?”
“ভালো লাগা আর ভালোবাসা এক জিনিস না জিয়ু।ভালো লাগা আজ আছে কাল নেই। ভেবে চিন্তে আগা। এমনিতে উনি ডিসেন্ট আর জেনুইনলি জেন্টেলম্যান।একদম তোর উল্টো। ”
“আপি ভাইয়াকে আজকাল খুব মিস করি। কাল ইন্সট্রাতে ভাবি দুইজনের হাতের ফটো দিয়েছে। দেখেছো?ওরা বিয়ে করছে না কেন?”
“একদম ভাবি বলবি না ওই ছাপরি কে। ওর কুমন্ত্রণায় ভাইয়া নষ্ট হচ্ছে। ”
“ভাইয়া কি নাদান? দুধের শিশু? একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে তার চেয়ে বয়সের ছোট মেয়ের কুমন্ত্রণায় নষ্ট শুধু এই উপমহাদেশেই কেন হয় বলতো? ”
“তা নইতো কি? ভাইয়ার সিজিপিএ থেকে শুরু করে এভ্রিথিং চমৎকার হওয়ার পর গার্লফ্রেন্ডের বাপের অফিসে চাকরি করাটাকে আমি মেনেই নিতে পারি না। ”
রুমের বাহিরে তখন জিয়াউল হকের কথা শুনে জিয়ানা দফারফা করে উঠে একপ্রকার দৌঁড়ে সেদিকে গেলো। জিয়াউলের হাত ধরে টেনে বেডরুমে এনে আবার ছুটলো ড্রয়িংরুমের সোফায় রাখা ব্যাগ আনতে। আঞ্জুমান রান্নাঘর থেকে সাবধান করলেন আস্তে ছুটতে। ধীরেসুস্থে বলে কোন ব্যাপার জিয়ানার নেই।
জিয়াউলকে ডাইরি বের করে আর ফোনের রেকর্ড থেকে সাউন্ড ক্লিপ অন করে বলে,
আব্বু চেয়ারম্যান মামুন কোন সাধারণ মানুষ না। উনি তিনজন ক্যানিবালের পালক। এই যে ওদের ঘাড়ে এই ট্যাটু টা যেটা আফ্রিকান নরখাদক গুষ্টি তাদের শরীরের বহন করে। যদিও এদের টা কালার করা কিন্তু এই চিহ্ন সাধারণ না। আমি ট্যাটু এনালাইসিস লুনা পোয়েটসের কাছে গিয়ে একটু যাচাই করে এসেছি। যদিও উনি ডিরেক্টলি বলেন নাই কিছু। তবে এটা শুনো। ”
অডিও রেকর্ড শুনে আর নকশাটা দেখে জিয়াউল দাঁড়িয়ে গেলেন। থতমত খেয়ে উনি জিয়ানাকে আগলিয়ে নিলো। তারপর বললেন,
“আম্মু চুপ চুপ। এই বিষয়ে আর কোন কথা না। যা করার আমি করবো। ওকে? তুমি এগুলো কিছুই জানো না। ঠিক আছে? ”
“রজার দ্যাট স্যার। বাট ক্যাপ্টেন আমার আর একটা কথা বলার ছিলো? বলি?”
জিয়াউল শুনলো বলে মনে হয় না। তবুও “হুম” বললেন শুধু।
“কেউ যদি সুসম্পর্ক গড়তে তোমার দিকে দুই পা এগিয়ে আসে তোমারও কি দুপা আগানো উচিত না?”
ভু কুঁচকে জিয়াউল হক উত্তর দিলেন,
“সম্পর্কের যদি হালাল দলিল থাকে তবে তুমি দুপা না চার পা এগিয়ে যাবে। আর যদি দলিল না থাকে তবে আট পা পিছিয়ে যাবে। ”
জিয়ানা নিভে গেলো যেনো। মন আর মস্তিষ্কের দোটানায় ঝুলমান হয়ে নিজের কি করা উচিত বুঝে উঠতে পারছিলো না। রুম থেকে বের হয়ে সিদ্ধান্ত নিলো ,নিজেকে সময় দিবে।
মৌসুমী মৌয়ের আজ প্রায় একমাস হয় বিয়ে হয়েছে। তারই ভাইয়ের বন্ধু সমতুল্য এইজনের সাথে। সমুদ্রদের পারিবারিক ব্যবসা। একমাত্র ছেলে হওয়াই বিন্দাস লাইফ। মাঝেমধ্যে গিয়ে খোঁজ খবর নিলে নেয় ,না নিলে নাই টাইপ। আর বাকি সময় টুটু কোম্পানির ম্যানেজার। হ্যাঁ তবে পার্টাইম নিবিড়ের বন্ধু কম ক্রাইম পার্টান বেশি। সমুদ্র নিজেই বদীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তারপর পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। সবই ভালো চলছিলো কিন্তু ইদানীং সমুদ্রের ব্যবহার ভালো লাগে না মৌসুমীর কাছে। এই যেমন রাতে শুধু অন্তর্বাস পড়ে থাকতে বলবে। সমুদ্র যতক্ষন রুমে থাকবে ততক্ষন শরীরে কিছু রাখা যাবে না। আবার স্বাস্থ্য নিয়ে কটু কথা বলবে। পরশু একগাদা রং ফর্সাকারি ক্রিম এনে দিয়েছে। মৌসুমী শ্যামা না তবে ফর্সাও না। আজ একসপ্তাহ থেকে এইসব নানা উদ্ভব আচরণে মৌসুমী বিরক্ত। তাকে তো নিজেই পছন্দ করে বিয়ে করেছে।
রাতে খেয়ে মৌসুমী অপেক্ষা করছে সমুদ্রের জন্য। ওও হ্যাঁ ইদানীং শরীর থেকে বাজে গন্ধও আসে। ড্রিংস করে নিশ্চয়। মৌসুমীর বাবা নেই। মা প্রাইমারী শিক্ষিকা।আর ভাই তো বখাটে। স্বামীর সংসার ছাড়া তার আর শক্ত জায়গাও নেই। দরজায় নক হলো। মৌসুমী খোলে দিয়ে সাইড হয়ে দাঁড়ায়। আজ মনে হচ্ছে গন্ধ তীব্র বের হচ্ছে।জড়তা ভেঙে জিজ্ঞেস করে,
“আপনি ড্রিংক্স করেন?”
“হুহ।আর কোন প্রশ্ন না। ঝটপট কাপড় খুলে ফেল।আর এইসব খালাম্মাদের মতো কি শাড়ি পড়ো হে? যত্তসব বোরিং মহিলা মানুষ। শরীরটাও বোরিং। নো কার্ভ লাইন। নো হটনেস। ”
এমন কথায় মৌসুমীর বুক ফেটে কান্না বের হতে চাইলো। তবুও সেটকে দমিয়ে এগিয়ে গিয়ে বলে,
“গোসল করে নেন হ্যাংওভার কাটবে। আর মা শাড়ি পড়ে থাকতে বলে। ”
“ওকে নাও টেইক অফ ইউর ক্লথ এন্ড লাই ডাউন। ”
ফুপিয়ে কেঁদে দিলো মৌসুমী। এ কার পাল্লায় পড়লো সে। সমুদ্র অপেক্ষা করলো না নিজেই এগিয়ে এসে খাবলে শাড়ি খুলতে শুরু করে। নখের আঁচড়ে কয়েক জায়গায় ছিলে গেল। না কোন ভালোবাসার পরশ ,না এটাকে আদর বলে।স্রেফ শারীরিক চাহিদা ছাড়া আর কিছু খুঁজে পেলো না নিজেকে শান্তনা দেয়ার মতো। অন্যবারের চেয়ে আজকে সবকিছু ছাপিয়ে গেছে হিংস্রতায়। ব্যথায় কুকিয়ে উঠল যখন সেই অবস্থায় সপাটে গালে পর পর কয়েকবার থাপ্পর দিলো সমুদ্র।
সারারাত শরীর আর মনের ব্যাথায় দুইচোখের পাতা একে অপরের সংস্পর্শে আসেনি। বারন্দায় বসে ছিলো কাঠ হয়ে। আর সমুদ্র মরার মতো সারা বিছানায় হাত পা মেলে গভীর নিদ্রায়।এসব কাকে বলবে? কাউকে কি বলা যায় স্বামীর হিংস্রতার কথা?
নেশার ঘরে এমন করেছে। নিশ্চয় নেশা ছাড়া এমন করবে না। সব ঠিক হয়ে যাবে ভেবে উঠে দাঁড়ালো। এটাই একমাত্র বাঙালি নারীর বেঁচে থাকার চাবিকাঠি। একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।
আজ সকাল সকাল জিয়ানার ক্লাস।জেনিও বের হয়েছে তার সাথে।সকালে আজ জগিংয়ে যেতে পারেনি। পারবে কিভাবে রাফিনের অনুরোধে অনেক রাত পর্যন্ত ফোনে কথা বলেছে। কথায় আছে অনুরোধে ঢেকিও গিলতে হয়। জিয়ানা না হয় একটু কথা বলেছে।বেশির ভাগ আলাপ হয়েছে পড়াশোনা নিয়ে। রাফিন রসালো আলাপে ঢোকার আগেই জিয়ানা ব্রেক করে অন্যদিকে চলে গেছে।
জেনিকে পেছনে নিয়ে দুইবোন যখন ক্যাম্পাসে ঢুকলো তখন বেশ গণ্ডগোল। এই সকাল বেলা ক্যাম্পাস ফাঁকা থাকে তবে আজ বেশ গরম। জিয়ানা একজনকে ডেকে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে।সে মুখ কুচকে অন্যদিকে চলে গেল। ভাবখানা এমন সে বিরোধীদলীয় কেউ। আর একটু এগিয়ে গিয়ে জেনি নেমে তার ডিপার্টমেন্টে চলে গেলো। তার অবশ্য ক্লাস নেই সজীব রাগ করে আছে দুইদিন থেকে। এইজন্য রাগ ভাঙ্গানোর জন্য এসেছে। জানে ক্লাবেই আছে কোথায় পড়ে।
জিয়ানা যখন ক্লাবের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলো তখন দেখে বদী আর মক্কু তাকে ইশারা করছে সেদিকে যেতে। দুইজনের চেহারার ডিসপ্লের বেশ পরিবর্তন হয়েছে। একজনের চোপায় আলু গজিয়েছে। আরেকজনের ঠোঁট ফেটে লাল হয়ে আছে। পাালের গুদাটার কি অবস্থা জানার জন্য বলে,
“কাবলিওয়ালা কই?”
“শ্বশুরবাড়ি “মক্কু বলল
“আরেহ বাস। আমি জানতাম তাহার আন-অফিসিয়াল বউ আছে এখন দেখি শ্বশুরবাড়িও আছে।”
“সব রাজনীতিবিদ দের একটাই শ্বশুরবাড়ি সেটা হলো জেলখানা। ” বলে মক্কু আর বদি হাই ফাইভ করলো। কিন্তু বদির হাতেও মনে হয় ব্যথা।হালকা কুকিয়ে উঠে মক্কুকে লাথি দিলো একটা।
“আপনারা গেলেন না ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি? ”
“আমাদের যেন না যাওয়া লাগে তাই ভাই নিজেই গেছে। সমস্যা নেই ভিআইপি ট্রিট দিয়ে বাপ বাপ বলে আজ বিকেলেই ছেড়ে দিবে। ” বলে আবার হাসা শুরু করে দুইজন।
তারপর মক্কু ভেতর থেকে একটা সাইকেল এনে জিয়ানার কাছে দিলো। আর জিয়ানার টা নিজের কাছে নিলো। নতুন সাইকেলটা জিয়ানার আগের মডেলের আর কালার সব আগেরটার মতো।জিয়ানা চোখ ছোট করে বুঝা চেষ্টা করলো এদের মতলব। তাকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা না করিয়ে বদি বল,
“এটা তোমাকে দোকান থেকে দিয়েছে। সেদিন একটা রিসিট কাটা হলো না। সেটার জন্য তুমি লটারি জিতেছো। আর এই পুরাতনটাকে ভেঙে গুড়াগুড়া করার নির্দেশ এসেছে উপরমহল থেকে। এখন এখান থেকে ফটো।”
“ইয়ার্কি পেয়েছেন? মানি রিসিট দিয়ে লটারি পায় মানুষ? আর এটা আজ বারোদিনেই পুরাতন হলো কিভাবে? ”
“ইয়ার্কি মশকরা জানি নারে বইন। তবে নির্দেশ তোমার সাইকেলে কোন পুরুষ উঠতে পারবে না। যদি উঠে সেই সাইকেলকে ভেঙে গুড়াগুড়া করে কটকটি না খেলে আমাদের দিয়ে কটকটি বানানো হবে। নো মোর প্রশ্ন।” মক্কু বলে ভেতরে চলে গেল।
বদি বলল” ঝামেলা করো না আপু। এটা আসলে আমরা দোকানে বলে আসছিলাম এই মডেল আসলে জানাইতে। আর পুরাতনটার বদলে এটা। কোন সমস্যা নাই। ” বলে সেও চলে গেল।
পেছনে জিয়ানা এদের গুজামিলের হিসেব কোনটাই না বুঝে দাঁড়িয়ে থাকে।
জিয়ানাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মৌসুমী এগিয়ে এসে কাধে হাত রাখলো। কিছুটা চমকে গেলেও নিজেকে সামলে নিয়ে মুচকি হাসলো জিয়ানা। কিন্তু মৌসুমীকে দেখে পুনরায় ভ্রু কুচকে গেল তার। হাত বাড়িয়ে ঠোঁটের কাটা আর মুখের একপাশে ফুলে উঠার জায়গায় দেখিয়ে বলে,
“কি হয়েছে তোর মৌ? শরীর ঠিক আছে? ”
জিয়ানার বাড়িয়ে দেয়া হাত নিজের হাতে নিয়ে বলে,
“বিছানা থেকে পড়ে গিয়েছিলাম। ক্লাসে দেরি হয়ে যাচ্ছে চল। ”
মৌসুমী হাত ধরায় জিয়ানা বুঝতে পারলো তার শরীর বেশ গরম। কপালে হাত দিয়ে দেখলো হ্যাঁ সত্যিই অনেক গরম।
“ক্লাস পরে। তুই এই শরীর নিয়ে ক্লাসে এসেছিস কেন? শরীরের বেশ জ্বর। মেডিসিন নিয়েছিস?”
মৌসুমী মাথা উপর নিচ করে হ্যাঁ বুঝালো।
ওদের সামনে দিয়ে মিস তামান্না গটগট করে হেঁটে চলে গেল। ভাবখানা এমন মিস ইউনিভার্স সে।জিয়ানা হেসে দিলেও মৌসুমীর মুখটাই মেঘ জমলো। কাল কয়েকবার সমুদ্র অচেতন অবস্থায় তামান্না তামান্না বলে ডেকেছে তাকে। হঠাৎ করে চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু করলো তার। জিয়ানার আড়ালে মুছে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো ,
“এমন ফিগার পেতে কি করতে হয় জিয়ানা?”
জিয়ানা প্রথমে ফান হিসেবে নিলেও মৌসুমীর দিকে তাকিয়ে একটু বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করে,
“ভাইয়ার সাথে কিছু হয়ে তোর?ওয়েট তোর গায়ে হাত তুলেছে? বিছানা থেকে পরলে কারো দুইগাল ফুলে না! ”
মৌসুমীর চোখের পানি দেখে জিয়ানা তার হাত ধরে উল্টো কমনরুমের দিকে হাঁটা ধরলো।
একটু সাইডে বসে নিজের পানির বোতল এগিয়ে দিলো মৌসুমীর দিকে। একদমে পুরো বোতল খালি করলো সে। জিয়ানা বলল,
“তোর না নতুন বিয়ে? মাসখানেক না যেতেই এমন ব্যবহার কোন পাগলও করবে না। ভেতরগত বা পারিবারিক কোন রেষারেষি আছে?”
ডানে বামে মাথা ঘুরালো মৌ।
“তাহলে?”
“কিছু বুঝতে পারছি না রে। আজ কয়েদিন থেকে এমন উদ্ভট আচরণ। সব মেনে নিতে পারলেও ব্যাক্তিগত মুহূর্তে অন্য মেয়ের নাম বললে আর মনকে শক্ত রাখতে পারি না। ”
“অন্য মেয়ে বলতে? ভাইয়ার কি তোদের বিয়েতে আপত্তি ছিলো?
“না সে নিজেই তো ভাইয়ার কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। আমাদের সব কিছুই তার জানা ”
“তবে কোন বাজে মেয়ের পাল্লায় পড়েছে?ভাইয়া কি করেন?”
“পাল্লায় কি কেউ কাউকে ফেলতে পারে বল? আর উনাকে তুই চিনবি। নিবিড় ভাইয়ের ফ্রেন্ড সমুদ্র নাম। লম্বা ফর্সা করে যে ছেলেটা। আর ভাইয়াকেও চিনবি বদী বলে সবাই ডাকে আসল নাম বাদল উজ্জামান। ”
হা হয়ে গেলো জিয়ানা। একটা মেয়ে এক তুড়িতেই একজন ছেলের নজর চিনতে পারে। প্রথম দিনেই সমুদ্রের নজর ছিলো তার শরীরের আনাচে কানাচে। এইজন একটু অ্যাঙ্গেল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো তার দিক থেকে।এই কয়েকদিনে মৌসুমীকে দেখে যতটুকু বুঝেছে এই মেয়ে সংসারী লক্ষ্মীমন্ত বউ। তাহলে হঠাৎ কি হলো? তাছাড়া বদীর বোন মৌসুমী এটাও জানতো না। দুই ভাইবোনের শারিরীক গঠন কাছাকাছি যদিও। শান্তনা জিয়ানা কাউকে দিতে পারে না। তবুও বলল,
“শোন পুরুষের হাজার অপরাধ কিংবা দোষ মেনে নেয়া যায় কিন্তু চরিত্র খারাপ এই দোষ মেনে নিয়ে লাভ হয় না। যে পুরুষ বারো ঘাটে পানি পান করে বেড়ায় সে একঘাটে স্থির হয়ে বসে না। তোর যদি মনোবল শক্ত থাকে তাহলে পরিবারকে জানিয়ে ব্যাটাকে টাইট দে। আর যদি পরিবার সাপোর্টিভ না হয় তাহলে তোকে শক্ত হয়ে তার সাথে লড়তে হবে। পারবি?”
“কীভাবে পারবো বল? কোথায় সেই তামান্না আর কোথায় আমি। ”
“তামান্না”বলে জোরেশোরে চেচিয়ে উঠলো জিয়ানা। তারপর বলে,
“এই মাইয়ার মাঝে ঘাপলা আছে মাইরি। এই কোন বনেদি পরিবারের মেয়ে হতেই পারে না। এমন বাতেলা মাইয়া কোন রাতের গলি থেকেই একমাত্র উঠে আসতে পারে। দুইদিন সময় দে এর নাড়ি নক্ষত্র বের করবো। আর তোকে আমি গাইড করবো। তুই এইবার মিস বিউটি ক্যাম্পাসে দাঁড়াবি। তোর হাইট কত?”
“পাঁচ ফিট চার। আমার স্বাস্থ্য দেখেছিস? স্টেজে উঠলে সবাই হাসবে। ”
জিয়ানা নিজের ফোন বের করে চার বছর নিজের আগের ছবি দেখিয়ে বলে,
নীতিহীন রাজ পর্ব ৭
“দেখ আমার ওয়েট ছিলো ষাট। এখন আটচল্লিশ। আমি কিন্তু প্রচুর খাই।খাবার খেলে আমার মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু একটা সিডিউল মেইনটেইন করে। ওইসব ছাড় কমপিটিশনের দেরি আছে। আমার উপর ছেড়ে নিজে যদি মেইনটেইন করতে পারিস। তোর এই হাইটে চমৎকার লাগবে তোকে। আচ্ছা একটা জোক্স শোন। ”
*এক বিদেশি উপমহাদেশে ঘুরতে আসছে। তো উনি এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে দেখে একলোক রাস্তায় প্রস্রাব করছে। উনি কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো। এইভাবে যে রাস্তায় হিশু করছেন আপনাদের পুলিশে ধরে না? লোকটি উত্তরে বলল”না এখানে তো এই ব্যবস্থা নাই ,আমরা নিজেরাই ধরে করি।
