Home কি করিলে বলো পাইবো তোমারে কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৪

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৪

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৪
মুনমুন বুড়ি

অভ্র মিহির সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। মিহি একবারের জন্যও চোখ তুলে তাকাল না। অভ্র কিছুক্ষণ যাবৎ মিহির মুখটা পর্যবেক্ষণ করে বলল—
— তোকে দেখে আমার খুব আফসোস হচ্ছে জানিস। এত দিনের ভালোবাসার মানুষটা আজকে তোর সাথে এমন করল। কৌশিকের জায়গায় আমি থাকলে তো…
এটুকু বলে অভ্র থেমে গেল। একটা কুটিল হাসি দিয়ে বলল—

— সেম কাজটাই করতাম।
এই পর্যায়ে মিহি চোখ তুলে তাকাল অভ্রর দিকে। নিজের দুই চোখ দুই হাত দিয়ে মুছে বলল
— আপনার থেকে এর থেকে ভাল আর কী বা আশা করা যায়? তবে নিজেকে কৌশিকের সাথে তুলনা করতে যাবেন না। আপনি ওর নখের যোগ্যও হবেন না।
অভ্র বাঁকা হেসে এক কদম এগালো মিহির দিকে। তারপর ঘাড় বাঁকিয়ে বলল
— আমি কৌশিকের মতো হতে চাই না। আমি অভ্র। অভ্র আহমেদ। আমি নিজের জিনিস নিজে বুঝে নিতে জানি। কেউ আমার জিনিসের দিকে তাকালে তার চোখ উপড়ে ফেলতেও আমি দুই বার ভাবি না। কৌশিক তো আমার ধারে কাছেও যেতে পারবে না। সমাজের চোখে ভালো মানুষের মুখোশ পরে আছে যে, কিন্তু আমাকে দেখ—আমি জঘন্য, নিকৃষ্ট তোর ভাষায় জানোয়ার । তোর কৌশিক কীভাবে হবে আমার মতো?
মিহি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে অভ্রর দিকে। মনে মনে ভাবছে—এই মানুষটা আসলে কোন ধাতু দিয়ে তৈরি!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

— আপনি আমাদের যতই আলাদা করার চেষ্টা করুন, কখনো পারবেন না আপনি।
— তোদের আলাদা করার কী আছে? তোরা কখনো এক হয়েছিস যে আলাদা করব?
মিহি বিদ্রূপাত্মক হেসে বলল—
— আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। আমরা হালাল বন্ধনে আবদ্ধ আছি।
অভ্র কুটিল হেসে বলল—
— তুই শিউর তো?
মিহি হতভাগ হয়ে বলল—
— মানে?
অভ্র বাঁকা হেসে শিস বাজাতে বাজাতে চলে গেল।
মিহি তাকিয়ে রইল অভ্রর যাওয়ার দিকে। মনে মনে ভাবল—অভ্রর কথাগুলো কী ইঙ্গিত করল লোকটা?

সময়টা রাত ১০টা।
ডাইনিং টেবিলে সবাই ডিনারের জন্য বসে আছে। তখনই সিয়াম বলে উঠল—
— তিহির এনগেজমেন্টটা তো হলোই না। এমনিতে নাসরিন আন্টি এসে রিং পরিয়ে দিয়ে গেল। কিছুদিন পরেই তো বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমি বলি কী, কাল যদি আমরা বিয়ের শপিংটা করে ফেলি তাহলে কেমন হয়?
সিয়ামের কথায় আলতাফ শেখ সায় জানিয়ে বলে উঠলেন—

— সেটা তো ঠিক আছে। তবে বিয়ের শপিং যখন করাই হবে, তখন দুই পরিবার একসাথে করাই ভালো। কাল দুই পরিবার একসাথেই বিয়ের শপিং করতে যাবে।
আলতাফ শেখের কথা শুনে তিহি প্রচুর খুশি হলো, কিন্তু এখনে বড়দের সামনে সেটা প্রকাশ করল না। অন্যদিকে মিহির মনটাই খারাপ হয়ে গেল। খাবারের ইচ্ছাটাই মরে গেল। মিহি পাশ ফিরে তিহিকে দেখল। তিহিকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে কতটা খুশি। মিহি মনে মনে বিদ্রূপ করে বলল
— একবার যদি ওই লোকটার আসল রূপটা জানতে তুমি আপু, তাহলে কখনো ওই লোকটার মুখটাও দেখতে চাইতে না।
এইসব ভেবেই মিহি দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

আজ সকালে মিলে বিয়ের শপিংয়ে গিয়েছে। মিহিকে অনেক জোর করলেও মিহি শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে বাড়িতেই রয়ে গেল। এই বিয়েটাই যেখানে একটা মস্ত বড় ভুল, সেখানে বিয়ের শপিংয়ে গিয়ে মিহি কী করবে! কিন্তু আফসোস—এইসব কে বুঝাবে তিহিকে? চোখের ওপর ভালোবাসার পর্দা যে পড়া আছে।
মিহির এত এত ভাবনা ছেদ করে হঠাৎ বাড়ির কলিং বেলটা বেজে উঠল। মিহি মনে মনে ভাবল—এখন কে এসেছে ! কিন্তু আবার কিছু ভাবার আগেই পুনরায় বেলটা বেজে উঠল। পরপর আবার অবিরাম বেলটা বেজে উঠল।
মিহি দ্রুত গিয়ে দরজাটা খুলে দিল। আর যা দেখল—দেখার জন্য মিহি মোটেও প্রস্তুত ছিল না। সামনে অভ্র দাঁড়িয়ে আছে।

অভ্রকে দেখে মিহি তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করতে চাইলে অভ্র এক হাত দিয়ে আটকায়। এক প্রকার ধাক্কা মেরে ঘরে ঢুকে পড়ে অভ্র। মিহি অভ্রকে ঘরে ঢুকতে দেখে দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু অভ্র মিহিকে জাপটে ধরে। মিহি ছাড়া পেতে ধস্তাধস্তি করতে থাকে, কিন্তু পুরুষালী শক্তির সাথে পেরে ওঠে না। শেষমেষ পেরে না উঠে অভ্রর হাতে জোরে কামড়ে ধরে। অভ্র মিহিকে ছাড়ানোর চেষ্টা না করে উল্টো মিহির গলায় কামড় দিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ মিহি অভ্রকে ছেঁড়ে দেয়।
অভ্র কুটিল হেসে মিহিকে বলল—

— জানেমান, তোমার তো দেখছি কামড়াকামড়ি করার খুব শখ। নো প্রবলেম। বেডরুমে চলো। পুরো বাড়ি খালি আজকে। তোমার কামড়াকামড়ির শখ মিটিয়ে দেব।
অভ্রর মুখে এমন কথা শুনে মিহি আরও বেশি ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয়।
— উফ্ জান, তুমি এমন করে নড়াচড়া করো না তো। আই ফিল সামথিং সামথিং।
— অসভ্য লোক, ছাড়ুন আমাকে। আমি ফোন করে সবাইকে ডাকবো এখনই।
মিহির কথায় অভ্র কুটিল হেসে বলল—
— অসভ্যতামি এখনো তো কিছু করিনি। তবে তুমি চাইলে করতে পারি।
— আপনি কিন্তু বেশি বে…

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৩

মিহির বাকী কথা শেষ হওয়ার আগেই মিহির ফোনটা বেজে ওঠে, যা ড্রয়িং রুমের সোফায় বাজছে।
ফোনের আওয়াজ শুনে অভ্র মিহিকে ছেড়ে দেয়। মিহি গিয়ে ফোন ধরবে, তার আগেই অভ্র ফোনটা নিয়ে নেয়। মিহি অভ্রর কাছ থেকে ফোনটা নিতে চাইলে অভ্র ফোনটা দেয় না।
ফোনের স্ক্রিনে কৌশিক নামটা দেখে অভ্রর মুখে বাঁকা হাসি ফুটে ওঠে। অভ্র মিহির মুখ চেপে ধরে ফোন রিসিভ করে গড়গড় করে বলে—
— কৌশিক, আমি মিহির সাথে পার্সোনাল টাইম স্পেন্ট করছি। তুমি পরে ফোন করো।

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৫