Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৩১

নীতিহীন রাজ পর্ব ৩১

নীতিহীন রাজ পর্ব ৩১
আশিকা আক্তার সোহাগী

“একটা ছেলের নজর বাজপাখির চেয়েও গভীর আর চিতার থেকেও দ্রুত হয়। মার্জিত পোশাকের ভেতরের আন্তর্বাস এরা চোখে দেখেই মেপে দিতে পারে।এক পলক একটা অচেনা মেয়েকে দেখে মনে মনে কামনা করতেও ভুলে না।
আর তুই নিজেকে এভাবে শোডাউন করতে স্টেজে উঠে পড়েছিস?নিবিড়ের নামের সাথে জড়িয়ে তোর সাহস কি করে হলো এমন ঘৃণিত কাজ করার?”
জিয়ানার গ্রীবা দেশ চেপে ধরে রাগে হিসহিসিয়ে বলে নিবিড়।প্রচন্ড চাপের ফলে চোখ উল্টে এলো জিয়ানার।আচম্বিতে গলা ছেড়ে খোলা চুলের গুছি শক্ত করে বাম হাতের মুঠোয় নিয়ে , আর্টিফিশিয়াল রঙে অল্প গোলাপী ঠোঁট গুলোকে ডান হাত দিয়ে ঘষা শুরু করে আবার বলল,

-কি মেখেছিস এগুলা? তুই কি বাজারের মেয়ে? এগুলা কেনো দিবি? আর কি কি দিয়েছিস? কাকে সিডিউস করতে চাস বল? কথা বলছিস না কেন?
জিয়ানা গত পাঁচ মিনিট ধরে কি হচ্ছে তার সাথে কিচ্ছু টের পাচ্ছে না।মনে হচ্ছে ব্ল্যাক হোলে পড়েছে।মেকাপ আর্টিসের অনুরোধে মেকাপ নিলো।একবার শুধু মিররে দেখেছিলো।ন্যাচারালই লাগছে তাকে। তবে নিজের সৌন্দর্য্য যে ফুটে উঠেছে সেটা বুঝা যাচ্ছে। ফাইনাল টাচের কথা বলে নিজের ফোন চেইক করলো ভদ্রমহিলা। তারপর হঠাৎ টেনে স্টেজে। সেখান থেকে তামান্না টেনে হেটে সামনে আগানো।একেবারের সামনের সারিতে নিবিড় দাঁড়িয়ে ছিলো।
তারপর নিবিড় হাতের খাতা আর কলম ছুড়ে মেরে হুংকার দিয়ে বলে উঠলো ,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

-আজ এই মুহূর্ত থেকে এই ক্যাম্পাসে সকল প্রকার সুন্দরী প্রতিযোগিতা নিষিদ্ধ করা হলো।
তারপর স্টেজে উঠেই জিয়ানার হাত খপ করে ধরে একপ্রকার টানতে টানতে নিয়ে গেলো তখনকার মেকাপ রুমে।তামান্না পেছন পেছন এলে নিবিড়ের কড়া ধমকে সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়ে সে।
আর এখন নিবিড়ের রোষানলের শিকার সে।কি করেছে জিয়ানা? দোষটা কোথায়? এইভাবে মারই বা খাচ্ছে কেনো? এই লোকটা কথায় কথায় গলা টিপে ধরে কেনো? জিয়ানার ছোট্ট মন নির্দেশ দিলো “অভিমান কর।অনেক অনেক কষ্ট পা জিয়ানা। অকারণে সবার রোষানলের শিকার হোস বারবার। তোর জন্য সহমর্মিতা। ”

জিয়ানা কষ্ট পায় না।শরীরে ব্যাথা লাগে। কিন্তু সেই ব্যাথা মনকে ছুতে পারে না।মন একবার কষ্ট পাওয়া শুরু করলে প্রচন্ড নাজুক হয়ে যায়। জিয়ানা মনে মনে বিশ্বাস করে তার জীবনের দুঃখ গুলা হবে পাহাড় সম।যেগুলা মোকাবিলা করার জন্য ছোট ছোট কষ্ট গুলা টপাটপ গিলে ফেলতে হবে পানি ছাড়া।
তবে এখন এবং আগেও নিবিড়ের অহেতুক গায়ে হাত উঠানোতে জিয়ানার কোথায় যেনো সুক্ষ্ম একটা কষ্ট টুনটুন করে বেজে যাচ্ছে।এমন কি সেই অভিমান মিশ্রিত কষ্টের কারণে তার নিজেকে প্রমাণও করতে ইচ্ছা হলো না।
জিয়ানা একেবারে ফ্রিজড হয়ে আছে দেখে নিবিড় তাকে ছেড়ে দিলো।আর পাশের চেয়ারে সর্বশক্তি দিয়ে লা*ত্থি দিলো। চেয়ার পড়ার শব্দে তামান্না অনুমতিহীন দৌঁড়ে প্রবেশ করলো অস্থায়ী সে রুমে।

এসেই দেখে জিয়ানা চুপচাপ এককোনায় দাঁড়িয়ে। আর নিবিড় আরেক কোনায়।তামান্না জিয়ানার কাছে গিয়ে বলে,
-সরি জিয়ানা।আমার জন্য আজ তোমাকে হিউমিলিয়েট হতে হলো। আসলে আমরা মানে জেনি ,মৌ আর মিম মিলে প্ল্যান করি যে ,ক্যাম্পাসের মেয়েদের মুখ বন্ধ করবো তোমাকে এই সাজে দেখিয়ে। তারা কিছুদিন থেকে শুধু তোমাকে না শুধু তোমার পরিচিতদেরও পিঞ্চ করে নানান বাজে কথা রটাচ্ছে।এমনকি পরশু আমার আর জেনির সামনে একজন বলল,”তুমি নাকি ট্রান্সজেন্ডার। “নিবিড়ের যোগ্য না।কত কথায় রটাচ্ছে।
আমরা জানি এইসব কথা তোমার কিচ্ছু না এসে গেলেও আমাদের খারাপ লাগে।তুমি যে ঠিক কি পরিমাণ সুন্দর সেটা ওদের বুঝাতেও চাওয়ার জন্য আমরা এই প্ল্যানটা করি। উই আর সরি জিয়ানা।

-ইটস ওকে।সরি বলার মতো কিচ্ছু হয়নি।বলে নিজের অর্জিনাল ড্রেসটা অন্য একটা চেয়ারের উপর থেকে হাতে নিলো।
কারো অনুমতি না নিয়েই উপরের গাউনের চেইন খুলে ফেললো। শোল্ডার থেকে জামার স্লিভ নামিয়েও ফেললো নিবিড়ের সামনে।ভাবটা এমন যেনো কেউ নেই এখানে সে একা।নিবিড় টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সেভাবেই।আর দেখে চলেছে জিয়ানাকে।দুইটা শোল্ডার উন্মুক্ত করে বুকের কাছটাই জামা বাজিয়ে উপর দিয়ে হুডি পরে নিলো। তারপর হুডির নিচ দিয়ে গাউনটা টান দিয়ে বের করে। তারপর মিররের সামনে থেকে ব্যাগটা নিয়ে বের হয়ে যায় সেখান থেকে।
তামান্নাও একবার নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে জিয়ানার পেছন পেছন বের হয়।

-লক্ষ্য এক থাকলে সৌন্দর্যও ইবাদতে পরিনত হয়।ধর্মহীনই শুধু প্রতিদিন তার কিবলা পরিবর্তন করে- মির্জা গালিবের এই কথাটা বর্তমানে আমাদের রাজনীতির সাথে উতপুত ভাবে জড়িত।আমাদের দলেই অসংখ্য অনুপ্রবেশকারীদের আজকাল আনাগোনা। একজনের পাপ অপরজনের সাথে মিশে একাকার অবস্থা। এই যেনো চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।আপনারা আমরা সবাই জানি এরা কারা। এবং এদের উদ্দেশ্য কি।
বন্ধুরা! বিদ্যুৎ যেমন একটা দেশের চালিকা শক্তি তেমন রাজনীতি হচ্ছে জীবনের চালিকা শক্তি।তাই নেতার রাজনীতি যত স্বচ্ছ হবে জনগণের জীবন তত সহজ সুন্দর স্বচ্ছ হবে।আমি সুখনীল নিবিড় আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা দিচ্ছি ,আমি যতদিন বেঁচে আছি এ এলাকার কেউ কোন অন্যায় কিংবা জনগনের হক মারতে পারবে না।এবং আপনাদের জন্য অতি সুসংবাদ হচ্ছে মাননীয় মন্ত্রী মশাই আপনাদের সকল দাবিদাওয়া আজ নিজে শুনবেন। এবং সেখান থেকে যুক্তিযুক্ত সকল দাবি পূরণ করা হবে। ”

কড়া হাততালির শব্দে মুখরিত হলো চারপাশ। পাশ থেকে নিবিড়ের পার্টির ছেলেরা স্লোগান দেয়া শুরু করলো ,
নিবিড় ভাই
নিবিড় ভাই
নিবিড় ভাই
নিবিড় হাত উঠিয়ে সবাইকে থামার নির্দেশ দিয়ে বলে,
এখন আপনাদের সামনে মুল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করবেন ,এই দেশ ও দশের সম্পদ ,নীতিবান এবং মাটির কাছে মানুষ আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব মঈনুল হোসেন।
সাদা পাঞ্জাবি পড়া প্রবীণ একজন লোক চেয়ার ছেড়ে উঠে স্পিকারের সামনে দাঁড়ালো। গলা খাকি দিয়ে বক্তব্য শুরু করলো ,

-আসসালামু আলাইকুম সাভার বাসী।আল্লাহর রহমতে সবাই নিশ্চয় ভালো আছেন? অবশ্য ভালো না থাকার উপায়ও নেই। আমাদের সরকারের যোগ্য একজন প্রতিনিধি আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করেন।তার ছত্রছায়ায় বড় হওয়া সুখনীল নিবিড়ের মতো কিছু ইয়াং নেতা আপনাদের এলাকায় যেহেতু আছে। তাই আমি একশো পার্সেন্ট নিশ্চিত আপনাদের সামাজিক জীবন বেশ স্বস্তির। আমার এখানে আশার যদিও বিশেষ প্রয়োজন ছিলো না।ছোটভাই নিবিড়ের অনুরোধে আসা।তাছাড়া বরাবরই আমার ঢাকার আশেপাশের এলাকা খুব টানে। কিন্তু কর্মব্যস্ততায় হয়ে উঠে না।
আমাদের সরকারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং প্ল্যান ছিলো বিদ্যুৎ এবং সড়ক ব্যবস্থা একশো পার্সেন্ট নিশ্চিত করা। আপনারা সেটা দেখেছেন এবং পেয়ে তার সুফল ভোগও করছেন।বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন চ্যালেঞ্জিং প্রোজেক্টে একশো পার্সেন্ট সফলতা কখনো কেউ পায়নি।কিন্তু আমরা…..

চলতেই থাকবে এই ট্যাপ রেকর্ডার। নিজের ঢোল নিজে বাজানোর মতো কাজ একমাত্র এই উপমহাদেশের নেতারাই করে থাকে।এক রতি কাজের কয়েক মণ বিল। সেখান থেকে আবার কেজিতে কেজিতে নিজেরা ভাগাভাগি করে পগারপার। পৃথিবীতে বাংলাদেশের সড়কপথে খরচ সর্বোচ্চ। ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের প্রতিকিলোমিটার রাস্তার ব্যায় ২০০কোটির উপর। এলেঙ্গা রংপুর রোডের প্রতি কিলোমিটার ১০০কোটি। ঢাকা সিলেট তামাবিল ১১৫কোটি। শতকোটির নিচে কোন বিল পাস হয়নি।ভারতের থেকে সড়ক উন্নয়নে বাংলাদেশের নির্মাণ খরচ ৪দশমিক ৪গুন ,পাকিস্তানের থেকে ২দশমিক১৫গুন। চিন এবং তুরস্কের চেয়ে দ্বিগুন।

এত এত ব্যায়বহুল রাস্তা গুলা বছর না ঘুরতেই নাজেহাল হয়ে চলাচলের অক্ষম হয়ে যায়।কারণ আগে থেকে সরকার দলীয় ঠিকাদার ঠিক করা থাকে।খারাপ কাচামাল দিয়ে রাস্তা করতে যদি দশকোটি ইনভেস্ট হয়। তবে সেটার বিল হয় শত কোটি।তারপর মন্ত্রী নেতা ঠিকাদার সবাই মিলে সেই টাকা ভাগাভাগি করে নিজেদের পকেটে ঢুকায়।
জনগনের টেক্সের টাকার সাথে বৈদেশিক ঋণে হয় এসব উন্নয়ন। উন্নয়নের নামে জনগনের রক্তচোষা হয় কারিকারি ভ্যাট যুক্ত করে। সকল ক্ষমতার উৎস জনগন ক্ষমতার কাছে জিম্মি হয়ে থাকে আজীবন।না হয় ভাগ্যের পরিবর্তন আর না হয় দেশের।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো জিয়ানা। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করছে মন্ত্রীর ভিডিও।হঠাৎ জিয়ানার কপালে সুক্ষ্ম একটা ভাজ দেখা গেলো।ক্যামেরার সুইচ টিপে জুম ইন করে স্টেজের পেছনে যেখানে ডেকোরেশনের সাদা পর্দা দেয়া আছে।সেই পর্দার পেছনে দুই তিনজন মানুষ আছে।নিরাপত্তা বাহিনী তারা।পোশাক পরিহিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়ে সিভিলেই বেশি।

অপরদিকে জিয়ানা আগাগোড়া বোরকা দিয়ে মোড়ানো।উদ্দেশ্য নতুন এক্সপেরিমেন্ট। যেহেতু সে সিক্রেট ইনফর্মার হবে তাই বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণের চেয়ে কমপ্লিট পর্দা করা ভালো।
ঘন্টা দুয়েক থেকে জিয়ানা বোরকা পড়ে ঘুরছে ক্যাম্পাসে।এবং সে অনুভব করলো ,কেউ তার দিকে বিশেষ নজর দেয়নি।জিয়ানার কাছে মনে হচ্ছে সে আলাদা একটা দুনিয়া। কেউ তাকে দেখছে না তবে সে সবাইকে দেখছে।
হেরি পটারের অদৃশ্য ক্লোকটি যেটা ডাম্বলডোর তাকে ফেরত দিয়েছিলো।জিয়ানা ছোটবেলায় ভাবতো আহা এমন যদি একটা পোশাক থাকতো তার।আজ এই আবায়া নামের বোরকা পড়ে জিয়ানার সেইম ফিল হচ্ছে।
আচম্বিতে কেউ কানের পাশ থেকে বলল,

-ভাবি! ভাই আপনাকে এখন বাসায় ফিরতে বলেছে।এখন মানে এখনই।নাহলে অজ্ঞান করে রেখে আসতে বলেছে।
জিয়ানা পেছন ফিরে দেখে আকাশ তার দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলল।হঠাৎ অদৃশ্য ক্লোকটির যেনো নিজেই ভেনিস হয়ে সব দৃশ্যমান হয়ে গেলো।আহা সুখ অনুভূতির স্থায়িত্ব এত কম হয় কেন? জিয়ানা কটমট করে জিজ্ঞেস করলো ,
-কে ভাবি? কি সব বাকোওয়াজ বকছেন?
-আমি বলি নাই। ভাই বলছে।আপনি যদি অদৃশ্য হয়েও ঘুরেন ভাই নাকি আপনার গায়ের গন্ধেই বলে দিবে কোথায় আপনি।চলে যান এক্ষুনি।
জিয়ানা বলল,

-নাহ আপনার ভাইয়ের চামচা আপনারা, আমি না। ফুটেন এখান থেকে। আমার সময় হলে একাই চলে যাবো।
আকাশ বিনা শব্দে প্রস্থান করে সেখান থেকে। কিন্তু ফিরে আসে মিনিট পাঁচেক পর।
-ভাই আপনার সাথে জরুরী কথা বলবে। এখন তো স্টেজে আছে তাই সম্ভব না। কিন্তু ওই যে সাদা মাইক্রো গাড়িটা ওইটাতে একটা জিনিস রাখছে। সেটা আপাতত দেখতে বলছে।তাড়াতাড়ি চলেন।
জিয়ানা প্রচন্ড বিরক্ত নিয়েই অগত্যা আকাশের পেছনে হাটা শুরু করলো। গাড়ির দরজা খুলে আকাশ ইশারা করলো ভেতরে ঢুকতে।জিয়না কথা মতো ভেতরে বসার সাথে সাথে ধপ করে দরজা বন্ধ হয়ে গেলো। হকচকিয়ে জিয়ানা দরজা পেছন ঘুরে দরজা টানলো বারকয়েকবার কিন্তু সেটা লক।

কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে বুঝার চেষ্টা করলো ,আসলে নিবিড়ের উদ্দেশ্য কি। ব্যাক থেকে ফোন বের করে চেইক করে নেটওয়ার্ক রেস্ট্রিকটেড দেখাচ্ছে। গাড়ির কাচে টোকা দিয়ে বুঝলো উন্নত গাড়ি। বুলেট প্রুফ হইতো।বাহির থেকে একটা শব্দও বুঝা যাচ্ছে না।
হঠাৎ খেয়াল হলো মানুষজন প্রচন্ড ছুটাছুটি করছে।জিয়ানা জানালার দিকে ঘেঁষে ভালো করে দেখার চেষ্টা করলো। আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ তৎপরতা সাথে ফুসফুস করে আগুনের মতো কিছু ছুটাছুটি করছে চারপাশে।
-গুলাগুলি হচ্ছে নাকি?
হাতের ফোন ঝাকি দিলো বেশ কয়েকবার।কাচে চর দিয়ে শব্দ করার চেষ্টা করলো। বোরকা খুলে ব্যাগে ভরে ফেললো।পা দিয়ে স্বজোরে বার কয়েক জানালার কাচে লা*ত্থি দিলো।কিন্তু একটা স্কেচও পড়লো না।নিজেকে জিয়ানার আজ বড্ড কমজোর মনে হলো।

ঘন্টাখানেক এমন মানুষ আর আইনশৃংখলা বাহিনীর বোবা ছুটাছুটি দেখে চললো জিয়ানা।মাথার চুল গুনা ছাড়া আর কোন কাজ সে বাকি রাখেনি এই একঘন্টা।সারাগাড়ি তল্লাশি করে একট এয়ারফ্রেশনার ছাড়া কিচ্ছু পেলো না।উল্টো হয়ে শুয়ে কতক্ষন উল্টা পাল্টা গান গাইলো। তারপর একাডেমিক পড়া আওড়ালো কতক্ষন।
আরও কিছুক্ষন পর ছুটাছুটি একেবারে নাই হয়ে এলো।জিয়ানা ভাবছে আজ রাত হইতো তার গাড়িতেও কাটাতে হবে।আহারে ক্লাবের বিরিয়ানির লোভে আর বোরকা এক্সপেরিমেন্ট করতে এসে এমন মাইনকার চিপায় পড়বে জানলে ,হাসিদা খালার টেলটেলে ডাল খেয়েই নাহয় পার করতো আজকের রাতটাও।
আরও অনেকক্ষন পর গাড়ির দরজা খট করে খুলে গেলো।জিয়ানার চোখ লেগে এসেছিলো প্রায়। দরজা খোলার শব্দে চড়াক করে উঠে লাফ দিয়ে গাড়ির বাহিরে এসে দেখে জেনি আর পার্টির অন্য একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। জেনি এগিয়ে এসে উৎকন্ঠা হয়ে জিজ্ঞেস করলো ,

-তুই ঠিক আছিস জিয়ু? আল্লাহ আমি ভয়ে শেষ। সারা ক্যাম্পাসে কতবার চক্কর দিয়েছি জানিস? ভাগ্যিস তোকে এই ছেলেটা দেখেছিলো এই গাড়িতে উঠতে।
-সেসব থাক। কি হয়েছে কিছুক্ষন আগে? আমি এখানে লক হয়ে আটকা পড়েছিলাম।
-তুই জানিস না কি হয়েছে? আচ্ছা আগে নিরাপদ স্থানে চল।এখানে কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না।
ক্যাম্পাসের বাহিরে এসে জিয়ানা জিজ্ঞেস করলো ,
-এবার বলো।

-কারা জাানি নকল নিরাপত্তা রক্ষী কর্মি সেজে এট্রাক্ট করেছিলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপর। উনাকে সেইভ করতে গিয়ে নিবিড় খারাপভাবে আহত হয়।কেউ নিহত হয়নি কিন্তু ক্লাবের তিনজন ছেলে খারাপভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের সনাক্ত করা যায়নি।আমি চিন্তা করি এত প্রটোকল আর প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এত বড় মাসাকারের প্ল্যান কেউ কিভাবে করতে পারে।
জিয়ানাকে মোটেও বিচলিত হতে দেখা গেলো না।জেনিকে বলল,
-তুমি বাড়ি যাও।আমি হাসপাতাল থেকে ঘুরে আসি।হাজার হলেও সোয়ামী।
-হ্যাঁ যা।নিবিড়ের ডান হাতের বাহুতে ছুরির আঘাত লেগেছে।মন্ত্রীকে হঠাৎ উনার নিজের গার্ড আক্রমণ করতে এলে নিবিড় নিজের হাত বাড়িয়ে দেয়।তারপর থেকেই শুরু গুলাগুলি। নিবিড় ভাই পলিটিক্সের জন্য অনেক ডেডিকেটেড।
-হুম যে সরিষা দিয়ে ভূত সারাবে সেই সরিষাতেই ভূত। হাউউউ।
বলে মুচকি হেঁসে দ্রুত হাটা শুরু করলো হাসপাতালের দিকে।
হাসপাতালের গেইট থেকে শুরু করে কড়িডোর পর্যন্ত পা ফেলার জায়গা নেই।সজল জিয়ানাকে দেখে এগিয়ে এসে বলল,

-ভাই ভালো আছে। আপনার এখন এখানে থাকার দরকার নেই।চলেন বাসায় দিয়ে আসি।
উত্তরে জিয়ানা চোখ দিয়ে ভস্ম করে দিয়ে ভীড় ঠেলে এগিয়ে যায় সামনে। কড়িডোরে একটা চেয়ারে অত্যন্ত চিন্তিতমুখে মামুন ইসলাম আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বসে আছে।জিয়ানা তাদেরকে পাস করার সময় গার্ডরা বাধা দিলো। মক্কু এগিয়ে এসে জিয়ানাকে ভেতরে নিয়ে যায়।
নিবিড়ের একহাত ব্যান্ডেজ করা। আরেক হাতে ক্যানুলা করা। সেটা চোখের উপর দিয়ে রেখেছে।সটান সোজা হয়ে শুয়ে আছে চুপচাপ।জিয়ানার কাছে মনে হলো বেডটার উপর নির্যাতন করা হচ্ছে।এই জিরাফ সম লোকটার জন্য বেডটা অতি ক্ষুদ্র। বেডের জবান থাকলে চিৎকার করে বলে উঠলো ,

-এই বদ লোক নাম আমার উপর থেকে। নিজের এই শরীর নিয়ে আমার উপর চড়াও হয়েছিস কেন? তোর জন্য ফ্লোরিংই উপযুক্ত। জিয়ানার চিন্তার মাঝেই নিবিড় চোখ মেলে তাকিয়ে মাথা না ঘুড়িয়েই জিজ্ঞেস করলো ,
-কি? সংয়ের মত দাঁড়িয়ে আছো কেনো? নাকি স্বামীর কষ্টে ব্যথিত?’
জিয়ানা সেসব প্রশ্নের উত্তর দিলো না। নিবিড়ের কাছাকাছি গিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,

নীতিহীন রাজ পর্ব ৩০

-ইন ইউরোপ , রোম যখন পুড়ছিলো নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলো। ইন উপমহাদেশ , নিজের নাক কেটে অন্যের রথযাত্রা ভঙ্গ।
নিবিড় মুচকি হেঁসে জিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে,
-উপস আওয়ার লাভ ল্যাংগুয়েজ ইজ বেষ্ট।আই লাভ ইউ টু…

নীতিহীন রাজ পর্ব ৩২