Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৩৮

নীতিহীন রাজ পর্ব ৩৮

নীতিহীন রাজ পর্ব ৩৮
আশিকা আক্তার সোহাগী

“রাজনীতিতে যে যত বড় গুন্ডা সে ঠিক ততবড় কুতুব।তাই আমাদের দল ভারি করতে আগে দাগি আসামীদের জেল থেকে বের করতে হবে।আমরা যখন ওদের আগাম জাবিন করাবো তারা এমনিতেই আমাদের পক্ষে চলে আসবে।লিষ্ট অনুযায়ী কাল হাইকোর্টে সব এডভোকেট ধরবি।প্রথমশ্রেণীর যেনো হয় সবাই।বাকি কথা সরাসরি বলবো”
বলে ফোন ডিসকানেকট করে বারান্দায় পা দেয় নিবিড়।আর সাথে সাথেই শুনতে পায়,
-চাঁদ!চাঁদ
নিবিড় কপাল ভাজ করে সুখুর কাছে গিয়ে প্রশ্ন করে ,
-দুইদিনও হলো না এসেছে।অথচ এখনই চাঁদ চাঁদ করছিস? আমাকে চোখে দেখিস না?
সুখু ডানা ঝাপটিয়ে দুইবার পল্টি খেয়ে ডেকে উঠে,

-বন্দ নোতা
নিবিড়ের চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
-পাজি মেয়েটা তোর মাথাও খারাপ করে দিয়েছে?
-সাবধান! সুখ! সাবধান
নিবিড় ঘাড় ঘুরিয়ে আশেপাশে চেয়ে দেখে।অদ্ভুত কিছু দেখলে সুখু সাবধান সাবধান বলে। যদিও সেটা শুনতে ছাগান ছাগান শোনা যায়।নিবিড় নিজের ফোন বের করে নিচের গার্ডকে ফোন দিয়ে বলে আজকের দিনের সিসি ফুটেজটা তাকে পাঠাতে।
সুখু আবার যখন বন্দ নোতা বলে উঠে নিবিড় গর্জন করে উঠলো জিয়ানা বলে।তার গর্জনে স্যাসি দৌঁড়া দৌঁড়ি শুরু করলো। এই এক বিড়াল ঘুমানোর সময় ছাড়া কখনই চুপচাপ থাকে না।ঠিক তার মালকিনের মতো।আর যখন ছুটাছুটি করবে কয়েকবার টাইলসে স্লিপ কাটবে।এখনো তাই হলো। নিবিড় তার সংসারে সব অদ্ভুত প্রাণীর ঠাই দিয়েছে।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

রাগটা গিলে ড্রয়িংরুমে যায়।কিন্তু ফাঁকা ড্রয়িংরুম দেখে মাথায় আবার বারুদ পোড়া শুরু করলো। সাথে হৃদপিন্ডে কিছু একটা কামড়ে ধরলো।শূন্যতা নাকি অল্প একটু অভ্যাস নিবিড় বুঝতে পারলো না।তখন জিয়ানাকে দেখে লক করতে ভুলে গেছে।আর নিশ্চিত এই সুযোগে এই মেয়ে পালিয়েছে। রান্নাঘরে উঁকি দিলো।যেমন খাবারের প্যাকেট তেমনই পড়ে।এই মেয়ে না খেয়েও আছে। লম্বাশ্বাস ছাড়ে নিবিড়।অতি অবাধ্য এই মেয়ে নিবিড়ের বুঝা শেষ। নিজে যা বলবে তাই সে করবে।কারো কথার তোয়াক্কা করবে না।তার ভাবনার মাঝেই পাশে কমন বাথরুমের দরজার শব্দ হয়।ফিরে দেখে জিয়ানা চেইঞ্জ করে তার সরুপে ফিরে গেছে। লম্বাশ্বাসটা এবার স্বাভাবিক হয়ে আসে।মস্তিস্ক আর হৃদয় দুইটাই শান্ত হয়।

ওভার সাইজ হুডি আর ডেনিম প্যান্ট পড়ে চুলে পনিটেইল বাঁধতে বাঁধিতে নিবিড়ের সামনে এসে দাঁড়ায়।নিবিড়ের মনে হলো জিয়ানার চুল বাঁধার দৃশ্য কোন শিল্প কিংবা জীবনানন্দ দাশের নির্মল সতেজ একটা কবিতা।জিয়ানার চেহারায় কোন বিশেষত নেই।ধনুকের মতো বাকানো ভ্রুজোড়া,ঘননেত্র পল্লবে বেষ্টিত মাঝারি আকারের চোখ ,ছোট্ট একজোড়া ঠোঁট। আর বুচা বুচা একটা নাক।যেটা সৃষ্টিকর্তা শুধু এই মেয়ের জন্যই বানিয়েছে।নিবিড় একশো পার্সেন্ট নিশ্চিত এই নাক জিয়ানা ছাড়া আর কাউকেই মানাবে না।

এককথায় জিয়ানাকে গ্ল্যামার বলা যায় না।তবে স্নিগ্ধ আর ফ্রেশ একটা চেহারা।আরাম আরাম লাগে তাকালেই।আজকাল কার মেয়েদের মতো কৃত্রিমতা নেই একেবারেই।জিয়ানার দিকে তাকালে নিবিড়ের চোখ আরামে মুদে আসে।তার চিন্তার মাঝেই জিয়ানা একেবারে সামনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে ,
-তো চোর মশাই ঘুমন্ত একটা মানুষকে হা করে দেখাটা কোন সভ্যতার নির্দেশন?
নিবিড় জিয়ানার চুল বাঁধাতেই আটকে ছিলো।জিয়ানার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অর্ডার করে,
-আজ থেকে আর কোনদিন কোন পুরুষের সামনে চুল বাঁধবে না।ইটস মাই অর্ডার।
জিয়ানা ভ্রু কুচকে বলে,
-রাখুন আপনার অর্ডার। শুনোন এত নেতাগিরি সব জায়গায় দেখাতে আসবেন না।আপনার এইসব কিচাইন আপনার সাজ্ঞুপাজ্ঞুদের সাথে পারবেন। আমার সাথে অর্ডার মারাতে আসবেন না।

-মারানো কি ভাষা?
-রাজনৈতিক ভাষা।
-তোমার সাথে আমার রাজনৈতিক সম্পর্ক?
-হ্যাঁ আপনার সাথে আমার জাগতিক সকল সম্পর্ক।
এখন চলুন।
-চলুন মানে?কোথায়?
-পাশের ফ্ল্যাটে তাসাফি না তালাফি ওদের ওইখানে। ওর বোনের বার্থডে। আমাদের দাওয়াত দিয়েছে।
নিবিড় ঘুরে সোফায় বসতে বসতে বলে

-মাথা খারাপ?
জিয়ানা এগিয়ে এসে বলে ,
-হুম। আপনার।পাগল আদমি।
-জিয়ানা!!
-সুখ!!
নিবিড় সোফায় মাথা হেলিয়ে বলে,
-তাশজিদের পরিবারের প্রোগ্রাম মানেই ওই পরিবারের মানুষ জন আসবে।
-কোন পরিবার?
-নূর ম্যানসন।
-আপনার কেউ হয় না তারা?
-না।

-কিন্তু আমার হয়। তারা আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
-হাজবেন্ড মানো না আবার শ্বশুরবাড়ি শ্বশুরবাড়ি করো?
-না মানার কি আছে?
নিবিড় সোজা হয়ে বসে মুচকি হেঁসে বলে,
-আচ্ছা? তাহলে চলো একটা ফ্রেন্স কিস করি।
জিয়ানা এগিয়ে এসে ফট করে নিবিড়ের গালে একটা চুমু এঁকে দিয়ে ফটাফট দরজা খুলতে খুলতে বলে ,
-নেন প্রোফ দিলাম। আল্লাহ যেটা আমাকে দেন আমি জিয়ানা সেটা মন থেকেই মেনে নেই।হোক সকন্টক পুষ্প কিংবা এক আকাশ দুঃখ। সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ।
তারপর বের হয়ে যায়।
অপরদিকে নিবিড়ের শরীরে কারেন্ট বহমান।কি হলো কিচ্ছু বুঝার আগে জিয়ানা বের হয়ে গেছে। এটা কি করলো?হাত নিজের ডান গালে ছুঁয়ে দিয়ে খোলা দরজার দিকে তাকিয়ে অবাক নেত্রে।

হাতে একটা অদ্ভুত লাল কাঠের বক্স নিয়ে উল্টেপাল্টে বারবার দেখছে মিসেস স্বপ্না। এইসব অদ্ভুত জিনিস একমাত্র মামুন ইসলামেরই হয়।কিভাবে খুলে কে জানে? পুরো চারপাশ সমান,কোন ছিদ্র বা গর্ত নেই।মনোযোগ সহকারে যখন বক্সটা দেখায় ব্যাস্ত কেউ একজন পাশে এসে দাঁড়ায়।
স্বপ্না জানে এটা কে। তবুও একবার তাকিয়ে দেখে বলে,
-কম মেকাপ দাও।নিবিড় এগুলা একদম পছন্দ করে না। যদিও দেখা হবে কিনা নিশ্চিত না।
-আন্টি আজ আমরা উনার ফ্ল্যাটে যাবো। ঠিক আছে?
-ফ্ল্যাটে থাকলে না যাব?
শুনে মেয়েটা মন খারাপ করে ফেলে।ভার্চ্যুয়ালি ছাড়া নিবিড়কে ছুঁয়া তো দূর কি বাত দেখাও আজকাল কঠিন হয়ে গেছে।

-মন খারাপ করো না ফাইজা।সব একদিন ঠিক হয়ে যাবে।
-কিচ্ছু ঠিক হবে না আন্টি।তোমার ছেলে আমার দিকে ফিরেও তাকায় না।আবার নাকি বিয়েও করেছে এক টমবয়কে।নিবিড়ের পছন্দ এত খারাপ?
-বিয়ে করেনি।তাকে করানো হয়েছে।তাছাড়া এতদিন হয় বিয়ে করেছে আমি নিশ্চিত একবারও ওই মেয়েকে বউয়ের স্বীকৃতি দেয়নি।তাই তোমার সুযোগ এখনো হান্ড্রেড পার্সেন্ট আছে।তাছাড়া নূর ম্যানসনে ওই মেয়ে কখনো ঢুকতেও পারবে না।বেশভূষা অত্যাধিক খারাপ।ছেলেদের মতো সাজসজ্জা ,হাটাচলা এমন কি কথাবার্তায়।
-হ্যাঁ আমি দেখেছি।রাফিন ভাইয়ার বিয়েতে এসেছিলো। কেউ বিয়ের দাওয়াতে এমন পোশাকে আসে?
-অন্যের কথা বাদ দাও।নিজের দিকে মনোযোগী হও।হিল রেখে নরমান সু পড়ো। সাথে লাইট কালারের ড্রেস আর মেকাপ একেবারে ন্যুড করবে।

ফাইজা মেহেদীর শালী।ফাইজা আর ফারহানা দুইবোন।ঢাকার ধনাট্য পরিবারের মেয়ে।বাবা মা দুইজনই রোড এক্সিডেন্টে মারা যাওয়ার পর ফাইজাকেও তার বোন নিজের সাথেই রাখে।ফাইজা গ্রেজুয়েশন শেষ করেছে এই বছর।মাস্টার্সের প্ল্যান করছে।কিন্তু তার মাথায় সারাক্ষণ নিবিড় চলে।
বলে বক্সটা যেখানে ছিলো সেখানে রেখে বের হতে যাবে তখনই মামুন ইসলাম ঢুকে রুমে।স্বপ্না বক্সটা দেখিয়ে প্রশ্ন করলো ,

-আর কত চেষ্টা করবেন?আমাকে কি আপনার চোখে পড়ে না?
-স্বার্থপরদের আমি গুনাতে ধরি না।
-সেটা তো আপনার জন্যই হয়েছি।কি না করেছি তবুও ক্ষমা করতে পারলেন না?এখনো আপনার মন মস্তিস্কে তাকেই জিয়ে রেখেছেন?
-আমার শরীরের প্রতিটা কোষ সেই নামেই উৎসর্গ করা।কোন নোংরা মানুষের স্থান আমার জীবনে নেই।
বলে হনহন করে বের হয়ে যায় দরকারী জিনিসপত্র সব নিয়ে।
ডুকরে কেঁদে উঠে স্বপ্না।জীবনে না পেলো এই কোল না পেলো ওই কোল।ষোল বছর বয়স থেকে মরতে মরতে বেঁচে আছে।এভাবে ধুকেধুকে মরতে সে আর চায় না।তার জীবনের সমস্ত দূর্ভোগের কারণ নীলুফা ইয়াসমিন। কোনদিনই সে মাফ করবে না এই নীলুফাকে।আর তার মেয়েকেও।

নিবিড়ের চমক কাটলে সাথে সাথেই উঠে দাঁড়ালো। বাঘ সিংহ ওয়ালা জঙ্গলে তার বউ একা একাই লড়াই করতে পারে কিনা আজ দেখবে।যদিও প্রচুর আনইজি লাগছে।এত বছর ধরে এই বিল্ডিংয়ে আছে অথচ আজ পর্যন্ত একটা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে কখনো যায়নি।যদিও প্রতিটা প্রোগ্রামের ইনভাইটেশন আগে আগে নিবিড়কে দিবে। ক্লাবের প্রোগাম ছাড়া নিবিড় কোন প্রোগ্রামেই এটেন্ড করে না।সে ইন্ট্রোবার্ট প্রো ম্যাক্স।পরিচিত সো কলড আত্মীয়দের সাথে কথা বলতে গেলে দুটা শব্দও বের হতে চায় না।

ফ্ল্যাটের দরজা লক তারমানে ছাদে প্রোগ্রাম হচ্ছে।তাশজিদ রিয়েল স্ট্রিটের ব্যবসা করে।এই বিল্ডিং সহ আশেপাশের অনেক গুলো বিল্ডিংয়ের মালিক সে।নতুন নূর ম্যানসন তার কোম্পানির প্রোজেক্ট ছিলো।নিশ্চিত গুষ্টিসহ এসে গেছে এতক্ষণে।চিন্তার মাঝেই নিবিড় ছাদে এসে পৌঁছায়।আর ছাদের দরজায় দাঁড়িয়েই দেখতে পায় জিয়ানা খিলখিল করে হাঁসছে অনেক গুলা বাচ্চার মাঝে।তারপাশে একজন জোকার জিয়ানার কান থেকে ফুল বের করছে। আবার ভ্যানিশ করে দিচ্ছে।।তার হাঁসির শব্দে ঠা ঠা শব্দে মুখরিত চারপাশ।নিজে হেঁসে সব গুলো বাচ্চাকে সুড়সুড়ি দিচ্ছে।মনে হচ্ছে কত পরিচিত জায়গায় এসেছে।সবাই তার পরম আত্মীয়।
বিশাল বড় ছাদ পুরোটাই চমৎকার লাইটিং করা। কাচাফুল আর পার্টি বেলুন দিয়ে মনোরম করে সাজানো। একপাশে স্টেজ করা হয়েছে।স্টেজের মাঝখানে বার্থডে গার্ল আর তার প্যারেন্টস ফটোশুট করছে।সামনে গেইষ্টদের জন্য টেবিল ওয়াইজ চেয়ার রাউন্ড রাউন্ড করে সাজানো।

অপরপাশে ফুডকর্নার তার সাথেই কিডসজোন। আর কিডসজোনে ম্যাজিশিয়ানরা বিভিন্ন ম্যাজিক দেখাচ্ছে।সেখানেই সব বাচ্চারা দাঁড়িয়ে। তাদের মাঝখানে একটা বড় বাচ্চা মানে জিয়ানাও দাঁড়িয়ে। হেঁসে হেঁসে হাত তালি দিচ্ছে।
জিয়ানার মতো প্রানবন্ত আর প্রাণোচ্ছল মানুষ নিবিড় কম দেখেছে।এমন কি এমন বুদ্ধিমত্তা আর চিন্তাশক্তির মেয়েও হয় না।মেয়েলী রং ঢং হীন ,জড়তাহীন ,স্ট্রেট ফরোয়াড চমৎকার একটা মেয়ে।নিজের টুকু নিয়েই তুষ্ট যে।জন্মগত ভাবে পাওয়া জিনিসের প্রতি বিশ্বাস নেই। নিবিড়ের কি হওয়া উচিত জিয়ানার মতো? কিছুই নেই কিন্তু ভেতর বাহির যার সুখ কনিকা দিয়ে তৈরি।সেই হিসেবে নিবিড়ের তো সব আছে।কালো অতীত টুকু কি বাদ দেয়া যায় না? আজকাল নিবিড়ের যে কি হয়েছে।যে মস্তিষ্কের সারাক্ষণ চলতো রাজনৈতিক মারপ্যাচ ,সেই মস্তিস্কে এখন এই উদ্ভট মেয়ে ঘুরে।প্রতি মুহুর্তে নিবিড়কে বদলে দিতে চায়।আর নিবিড়ের হৃদয়প্রকোষ্ঠ এতে সায় দেয় শতভাগ।নিবিড়ের চিন্তার মাঝেই দেখলো জিয়ানা পাশে ফুড কর্নারে যাচ্ছে।
একটা রেইনবো কাপ কেক মাঝখানে তার চারপাশে অনেক গুলো সাদা কাপ কেক রাখা।জিয়ানা মাঝখানের রঙিন কেকটা শুধুমাত্র হাতে নিয়েছে কোত্থকে একটা মোটা বাচ্চা ছেলে এসে সেটা ফট করে কেড়ে নিয়ে নিলো। জিয়ানা ভ্রু কুচকে বলে,

-এটাতে আমার নজর লেগেছে। তুমি যদি এটা এখন খাও তবে তোমার লুজমোশন হবে বাবু।
জিয়ানার কথা শুনে ছেলেটা বলে,
-আমি বাবু না।আমার নাম ফিজান ইসলাম।এন্ড আম এইট ইয়ার্স অল্ড।আর এটা আমি খাবোই।তোমার নজরে আমার কিচ্ছু হবে না।
জিয়ানা বুঝলো ভারি চালুচিজ এই বাচ্চা।মোটা গালটা টেনে বলে,
-এমন নাদুসনুদুস গাল আর স্বাস্থের জন্য সবাই তোমাকে বাবুই বলবে বাবু।হ্যান্ডসামরা ফিট এন্ড ফাইন হয়। তারা এইসব ফ্যাটি জিনিস খায় না।সো ইউ আর আ বাবুওওওও।
এইবার বাচ্চাটা কাদোকাদো হয়ে কেকটা রেখে দৌঁড়ে চলে গেলো।আর জিয়ানা বিজয়ী হাঁসি দিয়ে কেকটা হাতে নেয়।কেক খাওয়ার সময় নিবিড়কে দেখে তার কাছে এসে বলে,

-কি হুম? এলেন যে?
-এত হাঁসি কোথায় পাও?
-একমিনিট হাঁসলে দশমিনিট হাটার সমান।হাসলে স্ট্রেস হরমোন কমে যায়।মানে একমিনিট হাঁসলে একদিনের আয়ু বাড়ে। সবসময় মুখটা এমন করে রাখেন যেনো গান্ধিপোকা পা*দ দিছে।হাঁসতে পারেন না?
-বাজে কথার জন্য তোমাকে বিশেষ পুরস্কার দেয়া উচিত। উইদাউট গিফট একটা বাচ্চার বার্থডে প্রোগ্রামে কিভাবে কেউ নাঁচতে নাঁচতে আসতে পারে তোমার কাছ থেকে শিখা উচিত।
-হ্যাঁ শিখে ফেলেছেন সেই সাথে চলেও এসেছেন।আমি অলরেডি গিফট দিয়েছি।
নিবিড় মনে করার চেষ্টা করে খালি হাতেই না এসেছে। তারপর জিজ্ঞেস করে ,

-কি গিফট?
-গিফটের খাতায় লিখতে বলেছি সুখনীল নিবিড়ের পক্ষ হতে বাকি গিফট পাওনা রইলো।
-জিয়ানা।
বলে ধমকে উঠে নিবিড়। জিয়ানা সেই সবে থুরাই কেয়ার করলো সে তার হাতের কেক খেতে ব্যাস্ত।খেতে খেতে বলে,
-কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়ে সাল্লু ভাইরা আমকে পিজ্জা বার্গার খেতে দিয়েছিলো।তাদের ডেরায় ছিলাম মাত্র তিন চার ঘন্টা।তবুও ভিআইপি ট্রিট করেছে।অথচ আপনার এখানে আছি দুইদিন একরাত আপনি শুধু একটা পরোটা আর সবজি খেতে দিয়েছেন।আসলে আপনি ভেতর থেকে কিপ্টা। না শুধু কিপ্টা না হাড়কিপ্টা।

-আমি কাউকে এমন কিছু দেই সে সেটা সারাজীবন মনে রাখে জিয়ানা।
-আচ্ছা কি এমন মনিমুক্তা দেন?
-তোমাকে যখন দিবো তখন বুঝতে পারবে।
তাদের কথার মাঝে তখনকার সেই বাচ্চাটা আর তার মা কোত্থেকে এসে জিয়ানাকে পেছন থেকে ডাকলো।জিয়ানা ফিরে দেখে রাফিনের বিয়ের সময় সেই ফ্যাসফ্যাসে কন্ঠের মহিলাটা।আজও বিয়ে বাড়ির ঝাকানাকা সাজে সজ্জিত।তার ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলে উঠলো ,
-তুমি যে ছোটলোক সেটা জানতাম কিন্তু এতটা জাত ছোটলোক সেটা জানা ছিলো না।একটা বাচ্চা ছেলের হাত থেকে কেক কেড়ে নিয়ে খেয়ে ফেলো?
জিয়ানা চমৎকার হেঁসে বলে ,

-মানলাম আমি ছোটলোক। আপনি ঠিক কতটা বড়লোক?
-মানে?
নিবিড় এখনো উল্টো ঘুরেই আছে।এটা মেহেদীর বউ। সে ফিরলেই তার হাওয়া ফুস হয়ে যাবে।আপাতত সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে জিয়ানা যে তাকে ডিটারজেন্ট ছাড়াই ধুয়ে দিবে সেই অপেক্ষায়।একটু আলো কম হওয়াই বুঝাও যাচ্ছে না নিবিড়কে ঠিক করে। তাই নড়াচড়া করছে না।

-মানে আপনি ঠিক কতটা বড়লোক? ধরলাম পৃথিবী সমান বড়লোক। কিন্তু সূর্য আপনার চেয়ে তের লক্ষগুন বড়। আবার ১.৩ বিলিয়ন সূর্যকে একটা ব্ল্যাকহোল অনায়াসেই গিলে ফেলতে পারে।আবার আমাদের গ্যালাক্সি তে আছে কয়েক মিলিয়ন ব্ল্যাকহোল। আবার গ্যালাক্সির সংখ্যা দুই ট্রিলিয়ন।গ্যালাক্সি আবার থাকে মহাবিশ্বে।মহাবিশ্বের বয়স ১৩৭৫ কোটি বছর।এর ব্যাস ৯৩০০ আলোকবর্ষ। যা প্রতিমুহূর্তে কয়েক হাজার আলোকবর্ষ করে বেড়ে যায়।এক আলোক বর্ষ সমান ৯৮৬হাজার কোটি কিলোমিটার।এগুলোতে আপনার অস্তিত্ব কোথায়?
ফারহানা বেক্কেল হয়ে গেলো জিয়ানার টপাটপ কথা বলা দেখে।কই থেকে কই চলে গেছে এই মেয়ে?নিবিড় মুচকি মুচকি হেঁসে ঘুরে দাঁড়ালো।জিয়ানার কথায় ফারহানা আর তার ছেলে হা করে তাকিয়ে আছে। নিবিড়কে এখনো খেয়াল করেনি।জিয়ানা আবার বলা শুরু করলো ,

-টিভির চ্যানেল পড়লে ঝিরিঝিরি করে ব্ল্যাক একটা স্কিন ভাসে দেখেছেন কখনো? ওই ঝিরিঝিরি পুরা স্কিনটা যদি হয় আমাদের গ্যালাক্সি তবে সেখান থেকে একটা ডট (বিন্দু) হচ্ছে পৃথীবী। আর সেই পৃথিবীর একটা মহাদেশের ,একটা দেশে,তার একটা জেলার মাঝের একটা থানার ,একটা ওয়ার্ডের একটা এলাকার একটা বাড়িতে বসা আপনি ঠিক কতটা বড়?
ফারহানার চোখ লাল হয়ে উঠলো।কথা বলার কিচ্ছু খুজে পাচ্ছে না।জিয়ানা এগিয়ে এসে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বলে,
-আমরা আসলে অস্তিত্বহীন অতি ক্ষুদ্র নগন্য একটা প্রাণী।কেকটা আমি ইচ্ছা করে খেয়েছি কারণ এই তুলম্বা আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়েছিলো কেকটা।যদি আমার কাছে চাইতো আমি দিয়ে দিতাম।
এতক্ষণে বাচ্চাটা নিবিড়কে দেখেছে।আর দেখা মাত্রই “রাগীচাচ্চু” বলে তার মায়ের পেছনে লুকিয়ে গেলো।
ফারহানাও নিবিড়কে দেখে আরও নিভে গেলো।নিবিড় এগিয়ে এসে জিয়ানার উদ্দেশ্যে বলে,

-এরা হচ্ছে মেহেদীর স্ত্রী আর পুত্র।
জিয়ানা এবার দুঃখী মুখ করে ফিজানের দিকে তাকিয়ে বলে,
-আহারে তোর তো কোম্পানি ভালো নারে বাপ।এরা তোকে শুধু খাওয়া আর হাগা শিখাবে।আর এমন হিপ্পো বানাবে।তারচেয়ে আমার কাছে চলে আয় বাপ ফিট এন্ড ফাইন হ্যান্ডসাম হিরো বানিয়ে দিবো।
ফিজান তার মায়ের পেছন থেকে বলে,
-মম তুমি কি স্কুলে যাওনি?এই আন্টিটা কত গুলো পড়াশোনার কথা বললো তুমি একটাও বলতে পারলে না কেনো?আমরা হেরে গেলাম না?
নিবিড় হোঁ হোঁ করে হেঁসে বলে,
-কি নাম দিয়েছো ওর? তুলম্বা? সাউন্ডস গুড। উপযুক্ত নাম। অনেক হয়েছে এখানে থাকা এবার চলো।
বলে জিয়ানার হাত ধরে হাঁটা ধরবে তখনই সামনে এসে দাঁড়ায় স্বপ্না মানে নিবিড়ের মা।

“যে মানুষ নিঃশব্দে হাঁসে তাহার বিষয়ে সাবধান। দুই ধরনের মানুষ নিঃশব্দে হাঁসে। এক অতি উঁচু শ্রেণির সাধক। দুই নিম্ন শ্রেণির পিচাশ -হুমায়ুন আহমেদ”
সোনালী জামদানী পরিহিতা মধ্যবয়সী নারীটির পানে তাকিয়ে জিয়ানা এই কথাটা ভাবছে। শাহনাজ স্বপ্নার এই নিঃশব্দে হাঁসিটা কিছুটা নিবিড়ের সাথে মিল আছে।জিয়ানা সালামা দেয়ার জন্য মুখ খুলবে তার আগেই শুনতে পেলো,
-বিয়ে হতে না হতেই শ্বশুরবাড়ি আর বাপের দুটোই ঠেলে সরিয়ে দিয়েছো?
জিয়ানার হাঁসি আরও চওড়া হলো। সেদিনের ৫মিনিটের পরিচয়ের ভদ্রমহিলা আর আজকের মাঝে তুমুল পার্থক্য। সেদিন কেমন কোমল আদর আদর একটা মা মা ভাব ছিলো।আর আজ বাংলার বাঘিনী শ্বাশুড়ি রুপ।কেমন কাটকাট গলার টোন।জিয়ানা হাঁসি সমেত এগিয়ে গিয়ে স্বপ্নাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

-কেমন আছেন মামি?
-মামি?হিসেব মতে আমি তোমার শ্বাশুড়ি হয় মনে হয়!
-যে সম্পর্ক স্বয়ং আমার স্বামীই মানে না সেখানে আমার সম্পর্ক পাতানো কি উচিত?তাছাড়া আমার একার জন্য আপনাদের সবাইকে ঠেলা বেশ কঠিন।বরং আপনারা সবাই মিলে যদি আমাকে কাছে টানেন সেটা সহজ।
কথা বলা শেষ করার আগেই হাতে টান পড়ে। নিবিড় হাত ধরে টেনে দরজার দিকে আগায়।আবার থামে স্বপ্নার কথায়,
-বেশ ধার দেখছি মুখে।তা আমাদের টানতে দেয়ার জন্য হলেও তো সময় দিতে হবে? যাচ্ছো কোথায় সবাই ওইদিকে পরিচিত হবে না?
-দরকার নেই।
বলে নিবিড় টানলেও জিয়ানা অনড় হয়ে নিবিড়ের হাত ধরে ঝাকিয়ে বলে,
-যাই না একটু প্লিজ? সবাইকে চিনি নাতো।আপনার পরিবার হিসেবে না। আমার নানাবাড়ি হিসেবে। যাই?
মাথা বাকিয়ে এমন লক্ষ্মি আবদার এর আগে জিয়ানা নিবিড়ের কাছে করেনি।একবার মক্কু কথায় কথায় বলেছিলো ,জিয়ানা একমাত্র জিয়াউলের কাছে আবদার করে আর অনুমতি নেয়।বাকি দুনিয়া গোল্লায় গেলেও সে ধার ধারে না।”

আজ নিবিড়ের কাছে চাইলো যে?না চাইতেও কি তারা একে অন্যের উপর ইনভলভ হয়ে যাচ্ছে?নিবিড় হাত ছেড়ে দিলো।আর জিয়ানা স্বপ্নার আগে আগে সেদিকে হাটা ধরলো যেদিকে সবাই।
স্বপ্না নিবিড়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে ,
-কেমন আছো আব্বু? জন্ম দিয়েছি এই খাতিরেও বলতে পারতে বিয়ে করেছো? অবশ্য করেছো কেনো বলছি বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে।
নিবিড়া সাইড থেকে মুখোমুখি টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত ঢুকিয়ে উল্টা জিজ্ঞেস করে ,

-বাধ্য হয়েছি আপনাকে কে বলেছে?ভুল শুনেছেন। নিজের ইচ্ছায় আর পরিকল্পনা মাফিক বিয়ে করেছি।
-তুমি আমার কাছে লুকাতে পারবে না আব্বু।এমন মেয়েকে কোন ছেলেই বিয়ে করতে চাইতে পারে?
-জ্বি পারে।আর দুনিয়াতে এই একটা মেয়েকেই আমি নিবিড় যেকোন কিছুর মূল্যে হলেও বিয়ে করতাম।আর এই মেয়ের ডিমান্ড ঠিক কতো টা সেটা চোখ কান খোলা রাখলেই দেখতে পারবেন।
-বাহ যে তুমি মেয়ে দেখলেই ঘৃণা করতে সে তুই এই মেয়ের হয়ে সাফাই গাইছো।
-ঠিক বলেছেন এখনো মেয়েদের ঘৃণা কিন্তু জিয়ানা আমার স্ত্রী। আমার অর্ধাঙ্গিনী। সে আলাদা। আশা করি তার ব্যাপারে নিচু কোন ধারণা পোষণ করবেন না।তাছাড়া সে নীলুফা ইয়াসমিনের কন্যা। একশো কোটি শেহনাজ স্বপ্নার চেয়ে একজন নীলুফা ইয়াসমিন অনেক বড়।
বলে পাশ কাটিয়ে জিয়ানা যেদিকে গেছে সেদিকে হাটা ধরলো।
ফারজানা এতক্ষণ এদের সবার কথায় শুনেছে।তাই বাকহারা স্বপ্নার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে,
-ছোট আম্মু এরপর থেকে আর ফাইজাকে আশা দিবেন না।এমনিতেও সে নিবিড়ের নাম জপতেই থাকে। তারপর আপনি যদি এখনো আশা দিয়ে যান ওর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে।আমি বড় মামাকে বলেছি ভালো পাত্র পেলে এই বাড়ি থেকে বিদায় করবো।
বলে সেও স্টেজের দিকে চলে যায়।

জেনি আজও শাড়ি পড়ে বউ বউ সেজে রান্নাঘরে রান্নায় ব্যাস্ত।অপরদিকে মক্কু টিভির সামনে বসে বারবার উঁকিঝুঁকি মারছে।দুইবার রান্নাঘরে গিয়ে ধমক খেয়েছে।কোন কারনে জেনি মক্কুকে এড়িয়ে চলছে।সে কি ভুল করলো খোঁজে পাচ্ছে না।মক্কুর দিকে আজ সারাদিনে তাকায়নি পর্যন্ত।বাসায় ফেরার পথে এটা সেটা কত্তগুলা স্ন্যাকস আনলো তবুও তাকালো না। বিষয়টা মক্কুর মনে কাটার মতো খুচাচ্ছে।
তাই শেষমেষ অপারগ হয়ে আকাশকে ফোন করলো।তার আবার মেয়ে বিষয়ে বিস্তর জ্ঞ্যান।আকাশ ফোন রিসিভ করেই বলে ,
-ভাই একটু গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা কইতাছিলাম আপনার সহ্য হইলো না?
-আরেহ বেটা রাখ তোর গার্লফ্রেন্ড।এইদিকে আমার বউ সকালের পর থেকে আমার দিকে তাকায় না।গিফট দিলাম কাজ হলো না।কি ভুল করেছি সেটাও বুঝতেছি না।
-ভাই ভুল তো কিছু একটা করছেন।যান সরি বইলা আসেন।আমারে আপনাদের সংসারের আলাপ বইলা বিয়ের লাড়া আর দিয়েন না।একটা পার্টানের অভাবে রাত জাগা বিফলে যাইতাছে।আপনাদেরও শালি নাই।জীবনটাই লস আমার।

-হারা*মজাদা হাটে ঘাটে প্রেম করিস তবুও তোর পাত্রীর অভাব?
-ভাই প্রেম করা মাইয়া ভালো হইবো না।এরা সব ফাউ।দুইদিনের রিলেশনে এইটা চায় ,ওইটা চায়। এই রেস্টুরেন্টে চলো ,ওই বুফে চলো।মাইয়া না পিশাচ এক একটা।মানুষ যে কয় পিরীতের পিশাচও ভালা।হুদাই কয় ভাই।
-তোরে আমি ফাউ প্যাচাল পারতে ফোন দিছি? আমারে একটা উপায় বল।
-ভাই মনে করেন সারাদিন কি কি কাজ কতছেন ভাবির সাথে? রিভিশন দেন।
মক্কু ভাবে কিন্তু স্মৃতির খাতায় হাতরেও কিছু পায় না।জেনি রান্নাঘর থেকে একটা খাবারের ডিশ ডাইনিংয়ে রাখে।ঝুকে রাখার সময় ক্লিভেজ উন্মুক্ত হয়।আর নজরে আসে মক্কুর ঠোঁট দিয়ে করা ট্যাটু। ফট করে ফোন কেটে সোফায় টান টান হয়ে বসে পড়ে।একটা কুশন নিজের কোলে রেখে অনুভূতির ফোয়ারাকে ঢাকার চেষ্টা আর কি।মনে পড়েছে তার। মহাপ্রলয় ঘটিয়েছে সে মেয়েটার উপর।আকুতি মিনতি কিচ্ছু মানে নি।মানবে কিভাবে নিজের হাতে কিছু ছিলো নাকি? কে বুঝাবে এই মেয়েকে ছেলেরা চাইলেও এই সময় নিজেকে সংযত করতে পারে না। নিজেকে শাসালো আচ্ছা মতো প্রথমে।তারপর উঠে গিয়ে রান্নাঘরে জেনির পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। মক্কুর বুক পর্যন্ত জেনি।ছোটখাটো একটা রসগোল্লা সে।কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে আলিতো স্পর্শ করে বলে,

-সরি বউ।আর হবে এমন।প্রমিজ।
জেনি উত্তর দেয় না।মক্কু আবার বলে ,
-কথা বলো প্লিজ।
-হুম।
-কি হুম?
-সরেন তো কাজ করতে দেন।
-বলতাম তো সরি।
জেনি নিজেই হাত ছাড়িয়ে বেডরুমের দিকে যেতে যেতে বলে,
-আমার সামনে আসবেন না।আপনাকে দেখলেই আমার লজ্জা লাগছে।
তারপর ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দেয়।দরজার বাহিরে মক্কু দাঁড়িয়ে নিজের অভার থিংকিংয়ের জন্য নিজেই নিজের গালে চ*র বসায়।তারপর এগিয়ে গিয়ে দরজায় নক করে বলে,

-আচ্ছা আমি আরও কত কি ভাবলাম।তাহলে তো লজ্জা আরও ভালো ভাবে ভাঙ্গাতে হচ্ছে। দরজাটা খুলো বউ। প্লিজ লাগে। প্রমিজ লজ্জা না ভাঙ্গিয়ে আর বাহিরে যাবো না।
-যান এখান থেকে।
-বউ ছাড়া অন্যকোথায় যাওয়ার জায়গা নাই আমার।
-উল্টাপাল্টা কিছু করবেন না তবেই খুলবো।
-ওকে।
দরজা খুলে দিলে মক্কু ঢুকেই জেনিকে ফট করে কোলে উঠিয়ে বলে,
-উল্টাপাল্টা না সব সোজাসাপ্টা হবে।
-মুসাদ্দিক!!
বলে ধমকে উঠে জেনি।অপরদিকে মক্কু দেয়াল ফাটা হাঁসি শুরু করে।

জিয়ানা ঘুরে ঘুরে সবাইকে দেখলো।তাকে দেখে নূর ম্যানসনের বেশিরভাগ ভাবলেশীন। তাই সেও বিকারহীন টাইপ হয়ে ঘুরছে।আত্মীয় স্বজনদের তাকে যারা দাম দেয় না ,সেও তাদের দাম দেয় না। এটা সেটা খেয়ে খেয়ে ঘুরে ঘুরে চারপাশ দেখছে।উপরেও একটা কিছু সাজানো। লাল তিরপাল দিয়ে চাল করে লাইটিং করা। একটু উঁকি দিয়ে দেখে স্মোকিং জোন।প্লাস ডিংক্সের জন্য অস্থায়ী বার।বড়লোকদের কত জোন।পাশ দিয়ে ওয়েটার ডিংক্স নিয়ে যাওয়ার সময় একটা গ্লাস হাতে নিয়ে বড়লোকদের মতো অল্প চুমুক দিয়ে খেতে খেতে আশপাশ দেখতে লাগলো।আর ভাবতে লাগলো সে যখন বড়লোক হবে আরও কিছু জোন এক্সট্রা বসাবে।
পথশিশু জোন।ভিক্ষুক জোন।আর অবশ্যই ঝগড়া জোন।এখাানে এসেই দেখেছে অনেক কাপল দাঁত কিড়মিড় করে একে অপরের সাথে নিচু গলায় কিন্তু কড়া কথা বলছে।ঝগড়া করা মানুষের পোষ্ট মৌলিক অধিকার। সাউন্ডপ্রোফ একটা রুমে কাপেলদের ছেড়ে দেয়া হবে।তারা শান্তি মতো ঝগড়া করে পার্টিতে জয়েন্ট করতে পারবে।
আস্তেধীরে এইভাবে ঢং করে জোস খাওয়া জিয়ানার পোষালো না। ঠকঠক করে পুরা গ্লাস ফিনিশ করে সামনে চেয়ে দেখে সেদিনের লিলিপুট সে মাইয়াকে।যে জিয়ানাকে ধাক্কা দিয়ে পুলে ফেলেছিলো। আহা জিয়ানা নিজের প্রতিশোধের কথা কখনো ভুলে না।একদম কাছাকাছি গিয়ে জিয়ানা বলে,

-আরেহ তুমিই সেই না কি যেনো নাম? নিবিড় যার নাম প্রায় বলে?
-ফাইজা বিনতে ফয়েজ। ফাইজা নাম বলেছে নিবিড় ভাইয়া?
-হ্যাঁ হ্যাঁ ফাইজা ফাইজা। মনে পড়েছে।
-সত্যি বলেছে আমার নাম? কি বলেছে?
জিয়ানা মন খারাপ করে বলে,
-একজন স্ত্রী হয়ে নিজের স্বামীর মুখে অন্য একটা মেয়ের নাম শোনলে কেমন লাগে যদি জানতে তাহলে এই কথা জিজ্ঞেস করতে না।
তারপর বড্ড দুঃখী দুঃখী ভাব করে চলে আসে সেখান থেকে।আর মনে মনে হেঁসে কুটোকুটি হয়ে বলে,
-হ্যাঁ তোর নাম ভুলেও যদি নেয় তবে কাবলিওয়ালা সাতবার কুলি করবে।
একটা চোদ্দ পনের বছরের ছেলে এসে জিয়ানাকে বলে রাফিন তাকে স্টেজের সাইডে ডাকছে। জিয়ানা কমপ্লিট এড়িয়ে গেছে।আরও দুইবার অন্য বাচ্চারা এসেও ডেকে গেছে কিন্তু সে যায়নি।

সে এখনো অপেক্ষায় আছে ডিনারের জন্য।এরা আং সাং খাবার দিচ্ছে কিন্তু ডিনার দিচ্ছে না কেনো। খেয়েই ফুটে যেতো। অবশ্য হাবিজাবি যা খেয়েছে সেটাও কম না। কাপ কেক ,ফ্রুটস কেক,জেলি,চকলেটের ফাউন্টেন থেকে স্ট্রবেরি কোট করে খেয়েছে।তিন গ্লাস জোস ,মাশমেলো। এককথায় যেটা সামনে পড়েছে সেটাই খেয়েছে।
ঘুরেফিরে আবার সেই অস্থায়ী বারের নিচে এলে দেখে নিবিড় রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ফোন দেখছে।বারো ফুট উপরে হওয়াই জিয়ানার মনে হলো যদি এইভাবে গলা ছেড়ে একটা ডাক দেয়া যায় কেমন হবে?
-উপর থাইক্কা নাইম্মা আসো সোয়ামি রেএএএএএ…
নিশ্চিত নিবিড়ে তাকে ঝাটা পিটা করবে।পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো মহারানী ভিক্টোরিয়া। তার গটগট ফুট স্টেপে জিয়ানা ফিরে তাকিয়ে দেখে নিবিড়ের দাদী।একেবারে পাটের বিবি সেজে এসেছেন।এই বয়সেও কি পরিপাটি। বাবা গো বা ডার্ক লিপষ্টিকও দিয়েছেন।জিয়ানাকে দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন বৃদ্ধা।জিয়ানা সালাম দেয়।সালাম নিয়ে প্রশ্ন করে ,

-নিজের অধিকার কিভাবে আদায় করতে হয় জানো?
জিয়ানা মাথা উপর নিচ করে বুঝায় সে জানে।
-গুড।অধিকার যে ছাড়ে সে পৃথিবীর সেরা বোকা।যে বোকামি তোমার মা করেছিলো আশা করি সেই একই বোকামি তুমি করবে না।
তারপর জিয়ানার উপর নিচ ভালো ভাবে লক্ষ্য করে বলে ,
-পোশাকে মানুষের ব্যাক্তিত্ব বহন করে। আগে দর্শনদারি পরে গুন বিচারি।বুঝতে পেরেছো?
-জ্বি শুকরিয়া। কিন্তু আমার কাছে যে দেখতে সুন্দরের চেয়ে শুনতে আর মনুষ্যত্বে সুন্দরদের বেশি ভালো লাগে।
-সেটা যার যার অভিরুচি।
বলে আবার জুতায় গটগট আওয়াজ তুলে প্রস্থান করেন বৃদ্ধা।

-মানুষ পৃথিবীর প্রাণী না তাকে শাস্তিস্বরূপ এই গ্রহে রাখা হয়েছে। আমার কথা না, মার্কিন এক গবেষণা কেন্দ্র এই তত্ত্ব প্রকাশ করেছে। এই কথাটা আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করি জানো? কারণ এই পৃথিবীটা আমার জন্য যাবত জীবন কারাগার সরুপ।
বলে জিয়ানার সামনে এসে দাঁড়ায় রাফিন ইসলাম। জিয়ানা কিছুটা স্টেজের দিকে আগালে একটা বাচ্চা এসে বলে তাকে ভাইয়া পেছনের সাইডে ডাকছে। জিয়ানা ভেবেছিলো নিবিড়। কিন্তু এসে দেখে রাফিন।রাফিনের কথা শুনে জিয়ানাও চমৎকার হেসে বলে,

-হইতো সঠিক কিংবা পুরোটাই বেঠিক। গবেষণা শুধু না আমাদের ধর্মেও আছে ,হাওয়া (আঃ) নিষেধ অমান্য করে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার জন্য তাকে জান্নাত থেকে বিতারিত করা হয়েছে।সো দুনিয়াকে শাস্তি হিসেবে ধরলে শাস্তি আর পরিক্ষাকেন্দ্র ধরলে সেটাই স্যার।
-আমাকে এভাবে এভোয়েট করার কারণ কি জিয়ানা?
-এরিয়ে কিংবা আগ্রহের কোন সম্পর্ক আমাদের না স্যার। আর সত্যি বলত্তে আমি আসলে লজ্জিত।নিজের বোকামী গুলা মনে পড়লে সত্যি লজ্জা লাগে।
রাফিন জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকায়।জিয়ানা সেটা বুঝতে পেরে বলে,

-আপনি অনেক আগেই আমার পরিচয় জানতেন।এবং সেটা জেনেই মগবাজার পড়াতে যান।এবং আমার সাথে ডাবলরুল প্লে খেলেছেন।আপনি জানতেন একটা মেয়ের দূর্বল সাইট কি।এবং যখন দেখলেন আমি বেশ দূর্বল হয়ে পড়ছি তখন নিজে থেকে সরে আসলেন , এইভেবে আমি সারাজীবন সিঙ্গেলই থাকবো। যখন ইচ্ছা ব্যবহার করা যাবে।এবং আমি বোকার মতো আপনার সেই প্ল্যানে আবার ছয় বছর পর সাধ দিয়েছি।ভাগ্যিস সুখ বাঁচিয়েছে।
-মানছি আমি সব জানতাম। কিন্তু তোমার প্রতি আমার অনুভূতি মিথ্যা ছিলো না জিয়ু।তুমি জানো নিবিড়ের প্ল্যান সম্পর্কে? সে কতটা ডার্টি গেইম খেলেছে তোমার আর আমার সাথে?
জিয়ানা হাত উঠিয়ে রাফিনকে থামিয়ে দিয়ে বলে,

-প্লিজ স্যার। আগের দিন বাঘের খাইছে।আমার হাজবেন্ডকে নিয়ে কোন কথা আমি শুনতে চাই না।খারাপ কথাটা তো একেবারেই না।আমার জিনিস ত্যাড়া হোক কিংবা সোজা সেটা আমরই।
-তুমি নিবিড়ের সম্পর্কে কিচ্ছু জানো না।ও তোমাকে ভালো রাখতে পারবে না।সে কোন স্বাভাবিক মানুষ না।তোমার এখনো অনেক পথ আছে সরে যেতে পারো।আমি আমার কথা ভেবে বলছি না।তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবেই বলছি।তুমি চমৎকার একটা মেয়ে। যথেষ্ট মেধাবী। তোমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। শুধু শুধু নিজের লাইফ স্পয়েল কেনো করবে?
-আপনি সুখকে কতটুকু চিনেন আমি জানি না স্যার। তবে আমি যতটুকু চিনেছি সেই একমাত্র মানুষ যে আমি যেমন তেমন ভাবেই ভালো রাখতে পারবে।কোনদিন হইতো আমাকে আমার মতো করেই মানিয়ে চলবে।জানি না আমাদের ফিউচার কি তবে আমার দিক থেকে শতভাগ চেষ্টা থাকবে সুখের সাথে চলার।আর যদি মেধার কথা বলেন তবে এই এলাকায় সুখের চেয়ে মেধাবী আমি কাউকে দেখি না।জিয়ানার জন্য এই ভূমন্ডে যদি কেউ উপযুক্ত থাকে তবে সেটা একমাত্র সুখনীল নিবিড়ই।

রাফিন লক্ষ্য করলো। এতক্ষন হেঁসে কথা বললেও নিবিড়ের কথা উঠলেই জিয়ানা মুখ শক্ত করে উত্তর দিচ্ছে।মনে মনে যে সুপ্ত আশা ছিলো ,জিয়ানা হইতো নিজের ভাগ্যকে মেনে নেয়নি সেটাও আস্তে আস্তে ক্ষয়ে আসা শুরু করলো। জিয়ানার অনুভূতি আর একটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলে,
-ভুল ট্রেনে উঠলে সবচেয়ে কাছের স্টেশনে নেমে পড়তে হয়।নাহলে ফেরা কঠিন হয়ে যায়।
-আমি একদম সঠিক ট্রেনের ,সঠিন সিটে আছি স্যার।
-নিবিড় কি পরিমাণ ধূর্ত সেটা তুমি জানো না।সে তার স্বার্থ ছাড়া একপা নড়ে না।তোমাকে ঠিক দরকার শেষ হলে টিস্যুর মতো ছুরে ফেলবে।যেমনটা সে নিজের পরিবারের সাথে করেছিলো।তুমি কোনভাবেই ওর সাথে পেরে উঠবে না। তুমি তো নিজের ভাগ্য মেনে নেয়ার মেয়ে নও?
-শোবিল নামের একটা পাখি আছে।যে একটা কুমিরকে গিলে ফেলতে পারে। তাই কাউকে বাহির থেকে বিবেচনা করা উচিত না।তাছাড়া স্বার্থ ছাড়া মানুষ আছে নাকি? যদিও কখনো মনে হয় স্বার্থহীন তবে বুজতে হবে আদোতে সে আগাগোড়া ভন্ড।আমি বাহির থেকে যেমনই ভাগ্য মেনে চলি।ভাগ্য যা দেয় তাই দুই হাতে আকড়ে ধরি।আসি স্যার বাই।

বলে জিয়ানা হনহন করে সেখান থেকে চলে আসে।
আর পরক্ষণেই অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসে নিবিড়।রাফিনের মুখোমুখি হয়ে বলে,
-জিয়ানাকে ম্যানুপুলেট করা সম্ভব না।সে তার মতামতে পর্বতের মতো আটল।এমন স্ট্রং মেয়েকে বাহির দেখে দেখে অধিকাংশ পুরুষই প্রেমে পড়বে।কিন্তু স্ট্রং ওমেনদের সাথে যখন দুইকদম চলবে তখনই তার মন মস্তিষ্ক বিদ্রোহ শুরু করবে।কারণ সে দূর্বল পুরুষ স্বত্ত্বা।তারা দেখে এসেছে পুরুষ সর্বেসর্বা। তারাই সকল মতামত নেয়।আর দ্বায়িত্বও পালন করে।কিন্তু এই যে ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন স্ট্রং নারী সে নিজের স্বীদ্ধান্ত তো নিবেই সাথে সংসারে সমান কন্ট্রিবিউটের আর দ্বায়িত্ব নিবে।তাই একজন জিয়ানার জন্য একজন নিবিড়ই দরকার।বুঝে আসছে? আমার বউয়ের দিকে আবার যদি তোর নজর পড়ে কসম এই চোখ দিয়ে নিজের বউকে দেখতে পারবি না।

-তোর জেদের জন্য তিনটা জীবন নষ্ট হলো নিবিড়।ব্ল্যাকমেইল করে আর যায় হোক সম্পর্ক হয় না।
-ব্ল্যাকমেইল?
হোঁ হোঁ করে হেঁসে রাফিনের কাধে হাত দিয়ে বলে,
-আমি জানতামও না ফু-আম্মুর মেয়ে আছে।তুই সত্যি জিনিয়াস। তবে ছোট থেকেই এই যে ইনডিসিশনে ভুগিস। এরজন্য তুই ওকে পেয়েও হারিয়েছিস।যাক গে আমার এই উপকার করার জন্য তোকে একটা পরামর্শ দেয়
ই।নিজের বউ নিয়ে সংসার শুরু কর।অহেতুক যা যাওয়ার সেটা নিয়ে অফসোস করে লাভ নাই।আছে?
রাফিন নিবিড়ের হাত ঝটকা মেরে সরিয়ে বলে,

-তুই কি জিয়ুকে কখনো স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারবি? তুই নিজে অসংখ্য নারীকে ভোগ করে এসেছিস।হারাম সম্পর্কে জরিয়ে ফুলের মতো একটা মেয়েকে বউ হিসেবে পেয়েছিস ভাগ্যের জোরে।শান্তি কি তুই আদো ওকে দিতে পারবি? না ভালোবাসতে পারবি?
-ভালোবাসা বলে কিছু হয় না।সব স্বার্থের খেলা।ওর কি লাগবে আর কি দেবো সেটা তোকে নিশ্চয়ই সাক্ষি হিসেবে মাঝখানে রেখে দিবো না? আচ্ছা যা কথা দিলাম তোকে জেঠু বানিয়ে দিবো।
বলে শিস বাজাতে বাজাতে প্রস্থান করে নিবিড়।রাফিন থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে থাকে বিকারগ্রস্ত হয়ে।

নিবিড় নিচে নেমে আশেপাশে জিয়ানাকে খুজে চলেছে।আচম্বিতে কেউ তার হাত ধরলো।ফিরে তাকিয়ে দেখে মেহেদীর শালি ফাইজা।হাত ধরা দেখেই নিবিড়ের মাথায় আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরিত হলো যেনো।হাত ঝটকা মেরে ছাড়িয়ে ঠাটিয়ে একটা চ*র লাগালো।আশেপাশের সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেলো। ফাইজা গালে হাত দিয়ে শব্দ করে কেঁদে উঠলো। জিয়ানা কোত্থেকে দৌঁড়ে এসে নিবিড় আর ফাইজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকায়। ফারহানাও এসে ফাইজাকে ধরে।উম্মে কুলসুম ঘটনাস্থলে এসে নিবিড়কে প্রশ্ন করে ,

-এটা কি করলে নিবিড়?এরকম পাবলিক প্লেসে একটা মেয়েকে এইভাবে মা*রো কোন সাহসে?
-দূষিত রক্ত শরীরে থাকলে তার কোন সাহস লাগে না।এই মেয়েটা কেনো আমাকে টাচ করবে? ওর হাতটা যদি ভেঙে দেই এখন?
-টাচ করলেই মা*রতে পারো না।তোমার সেই অধিকার নেই।
-আমাকে টাচ করাও কারো অধিকার নেই।
এরমাঝে ফাইজা জিয়ানার দিকে আঙুল তুলে বলে উঠলো ,
-এই মেয়েটা আমাকে বলেছে নিবিড় আমার নাম নিয়েছে।তাই কথা বলতে এসেছিলাম।
জিয়ানার দিকে নিবিড় অগ্নিঝরা চোখে তাকায়।আর জিয়ানা চোর ধরা পরা মুখ করে বলে,

নীতিহীন রাজ পর্ব ৩৭

-আরেহ আমি কি বলেছি নাকি যে উনি তোমার নাম ধরে কবিতা আওড়ায়? আমি তো বলতে চেয়েছি তোমার নাম ধরে গালিগালাজ করে।
স্বপ্না এগিয়ে এসে জিয়ানার দিকে তাকিয়ে বলে,
-পেটের মাঝে শুধু শয়তানী কুবুদ্ধি না?অথচ চেহারা কেমন ভুলাভালা।
জিয়ানা বোকা একটা হাঁসি দিয়ে উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বুঝায়।নিবিড় জিয়ানার বাহু ধরে বলে,
-চলো এবার। অনেক হয়েছে এখানে থাকা।
টানতে টানতে হাটা ধরে।জিয়ানা পেছনে ফিরে হাত দিয়ে সবাইকে টা টা দেয়।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৩৯