Home প্রিয় প্রণয়িনী ২ প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৯

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৯

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৯
জান্নাত নুসরাত

ধরণীতে তখন রাত্রি নেমেছে। ল্যাম্পপোস্টের ঘোলাটে আলোয় দেখা গেল খান বাড়ির সদর দরজা দিয়ে বের হয়ে আসা দুই কপোত-কপোতীকে। দু-জনেই দু-জনের সাথে ঝগড়া করছে। মেয়েটা চিৎকার করছে,”আরশ ভাই, আমি যাব না, বলছি না আপনার সাথে যাব না। আপনার সাথে দু-ঘন্টা পূর্বে আমার সকল সম্পর্ক শেষ হয়েছে। আমি যাব না আপনার সাথে।

আরশ তবুও টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল। নুসরাত যাবে না বলে অটল, তাই লেপ্টে বসে গেল পিচঢালা রাস্তায়, একহাত রাখল ব্যালেন্স বজায় রাখার জন্য, আরশ তা খেয়াল করল কিনা বোঝা গেল না, টান বসাল নুসরাতের হাতে, এতেই রাস্তার সাথে ঘর্ষণ লেগে তালু ছেঁচে গেল। মেয়েটার মুখের বিকৃতি ঘটল সামান্য তবুও নিজেকে সামলে নিল, ব্যথাটা ততোটা প্রকোট নয়, সহনীয়! মুখ দিয়ে দীর্ঘশ্বাস বের করতেই এক ঝটকা খেয়ে উঠে আসলো সে। মুখোমুখি হলো আরশের। বিরক্ত স্বর কানে এসে বারি খেল,”চল..!
ঠোঁট ফেড়ে কিছু বলতে নিবে নুসরাত, পুরুষালি রুঢ় কন্ঠ ভেসে এলো সম্মুখ থেকে,”যাবি না তুই?
সাবলীল কন্ঠে উত্তর দিল নুসরাত,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“আপনার মতো বাটপারের সাথে জীবনেও না।
আরশ ভ্রু উচিয়ে, ঠোঁট কামড়ে অদ্ভুতরকম হাসল। নুসরাত হাত ছেড়ে দিয়ে আড়াআড়ি বুকে বেঁধে নিল নিজের হাত। নির্লিপ্ত কন্ঠে বলে ওঠল,”কাপড় খোল।
নুসরাত চ্যাঁচিয়ে উঠল,
“কীই?
“বাংলায় বলছি কাপড় খোল।
“ অসম্ভব! রাস্তা ঘাটে এসব কোনধরণের অসভ্যতামি?
“অসভ্যতামির তো এখানে আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আমার কাপড় পরে ডেং ডেং করে ঘুরছিস, আমার কথা শুনছিস না, তাই আমার জামা-কাপড় আমাকে ফিরত দে।
নুসরাত নিজের পরণের কাপড় এক পলক দেখল।। মিনমিন করে ডেকে উঠল,”আরশ ভাই…
আরশ কোনো প্রতিক্রিয়া জানাল না, ইশারায় বোঝাচ্ছে আমার কাপড় আমাকে দে। মুখ দিয়ে না চাইতেও তপ্ত নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসলো।

থামল দুয়েক মিনিট। গম্ভীর মুখে নুসরাতের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠল,”কথার সাথে লাগিয়ে শখানেক বার আরশ ভাই আরশ ভাই বলবি না। নিজের মায়ের পেটের ভাই ছাড়া দুনিয়ার সবাই হলো পর।
নুসরাত ভেংচি কেটে আগে আগে চলে গেল, এবার আর দ্বিমনা করল না। সামান্য কাপড় দিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যে নিজের কাপড় ফিরত চায়, তার সাথে আবার কীসের সম্পর্ক! এখান থেকে ফিরে গিয়েই সকল সম্পর্ক ডিসমিস করে দিবে। তার চিন্তাকরণের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটিয়ে আরশ পেছন থেকে ডেকে উঠল,”নুসরাত?
নুসরাত ঘাড় বাঁকিয়ে পিছু তাকাল। জিজ্ঞেস করল,

“কী?
ভ্রু তুলে ইশারায় জানতে চাইল,
“ওদিকে কোনদিকে?
নুসরাত অবাক কন্ঠে জানতে চাইল,
“তো এদিকে যাব না?
আরশ ট্রাউজার্সের পকেটে দু-হাত ঢুকিয়ে হেলেদুলে চলে গেল সম্মুখে, উত্তর দিল না, হয়তো প্রয়োজন বোধ করল না। নাক ফুলিয়ে সে ও গেল আরশের পিছু পিছু।
ঘড়ির কাটায় তখন সাতটা৷ ভবঘুরে মানুষের মতো দু-জন ঘুরে ফিরে বাড়ির পথে ফিরতে নিবে রয়েসয়ে প্রশ্ন করল আরশ,”পলিকে ধাক্কা দিলি কেন?
ফালতু কিছু বলে কাটিয়ে নিবে আরশকে, তার মধ্যে আবারো শীতিল কন্ঠ ভেসে এলো,”উঁহু, একদম ৭ই মার্চের ভাষণ ঝারবি না, স্টেট ফরোয়ার্ড উত্তর দিবি, নাহলে গাছের সাথে বেঁধে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পেটাব।
নুসরাত ভেংচি কাটল। বলল,

“পলির বাচ্চা ইসরাতকে ধাক্কা দিয়েছে পানিতে।
আরশের মুখ দেখে নুসরাত বুঝল খুব একটা অবাক হয়নি কথাটা শোনে। শান্ত গলায় জানতে চাইল,”ছাদ থেকে ফেলে দিলি আবার দেখলাম জাল ও বেঁধে রাখলি গাছের সাথে, কারণ কী? মারবি যখন একেবারে মেরে দিতি।
নুসরাত আরশের কথা শুনে মুখ তুলে তাকাল সরাসরি, চোখাচোখি হলো দু-জনের। ঘাড় বাঁকিয়ে কিঞ্চিৎ হেসে জিজ্ঞেস করল,”সাহস দিচ্ছেন?
আরশ শ্রাগ করল। বলল,
“যা ভাবার ভাবতে পারিস।
“নেক্সট টাইম আপনাকে ধাক্কা দিব।
নুসরাতের মুখের সামনে আরশ নিজের তর্জনী আঙুল আর বৃদ্ধা আঙুল তুলে ধরল। ঠাট্টা মিশ্রিত স্বরে শুধাল,”এই মিনি সাইজ নিয়ে?

এটাই ছিল নুসরাতকে রাগানোর জন্য, কিৎকাল আরশের পানে শক্ত চোখে তাকিয়ে চ্যাঁচিয়ে বলে ওঠে,”আরশ ভাই, আমি পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। আপনি তো আমার থেকে মাত্র ছয় সাত ইঞ্চি লম্বা হবেন, এই ইক্টুখানি লম্বা হওয়ায় এত অহংকার। আপনার থেকে তো পূর্ব পশ্চিম বেশি লম্বা।
আরশের মুখের প্রজ্জ্বল্লতা ধপ করে নিভে গেল। নিষ্প্রাণ চোখে তাকিয়ে শুধাল,”পূর্ব-পশ্চিম এটা আবার কে?
“ছাত্রদলের নেতা।
আরশের বিশেষ মনোযোগ পূর্বের প্রতি গেল বলে মনে হলো না। নুসরাতকে জ্বালানোর জন্য ঠোঁটে ঠোঁট টিপে বলে ওঠল,”মিনি সাইজ ট্যাবলেট আজ থেকে তোর নাম।
ছ্যাত করে উঠল সে। মুখ ভেঙচিয়ে বলল,

“তাহলে আপনি লার্জ সাইজ ট্যাবলেট।
নিরুত্তাপ হাসল। উদাসীনতা নিয়ে বলে ওঠল,
“লার্জ সাইজ ইজ ব্যাটার দেন আ মিনি ট্যাবলেট।
নুসরাত আগুনের শিখার মতো জ্বলে ওঠল। কথা না বাড়িয়ে চলে গেল সামনে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝগড়া করার মুড নেই, কিন্তু আজ আরশ তাকে ছাড়ল না, পিছু থেকে মিনি টেবলেট, মিনি ব্যাটারি, বলে হাক ছুঁড়ল।
এরপর শুরু হলো কথা কথা কাটাকাটি দু-জনের মধ্যে৷ একজন আরেকজনকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিল না। নুসরাত আরশের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করল। অপরপাশ থেকে নিরুত্তাপ প্রতিক্রিয়া আসলো, এইজন্য লাভার ন্যায় ফুলে ফেপে উঠে আরশের দিকে তেড়ে গেল সে৷

এক পর্যায়ে পৌঁছে গেল হাতাহাতিতে। কেউ কাউকে হাত-পা, মুখ দিয়ে একবিন্দু ছাড় দিল না। আরশ একজায়গায় দাঁড়িয়ে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে কথা বললেও, নুসরাত রাস্তা থেকে ছোট ছোট পাথর, বালু মুঠোয় ভরে আরশের দিকে ছুঁড়ে মারল, কোনো প্রতিক্রিয়া অপরপাশ থেকে না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এসে আরশের বাহুতে খাঁমচি বসিয়ে দিল, এরপর দুটো কিল। বলল,”পাঠার মতো আচরণ বাদ দেন আরশ ভাই।
আরশ নিজেও নুসরাতের চুল ধরে টেনে দিল দু-য়েকবার। অতঃপর গাল ধরে দু-দিকে টানতে টানতে বলল,”আছাড় মেরে সব তেজ বের করে দিব, বেয়াদব। পাঠা কী, হ্যাঁ?

নুসরাত নিজের গাল আরশের হাতের কবল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দূরে সরে গেল। পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে আরশের মুখোমুখি হলো। ক্ষোভ নিয়ে পুরুষালি গাল শক্ত করে টেনে দিয়ে শাসাল,”একদম বেশি বেশি লাফাবেন না আরশ ভাই, আছাড় মেরে আমার তেজ বের করার আগে, আমি আপনাকে এমন এক আছাড় মারব, থাকবেন এখানে উড়ে গিয়ে পড়বেন শ্বশুর বাড়ির উঠোনে, তাছাড়া পাঠাকে পাঠা বলব না তো কী মহিষ বলব?
আরশ শেষের কথায় ধ্যান দিল না। ঠোঁটের উপর হাত রেখে মুখ ঢাকার বৃথা প্রয়াস চালাল, এমনভান করল যেন নুসরাত কোনো মজার কথা তাকে শুনিয়েছে। আধো আলোয় স্পষ্ট তা দেখতে পেল নুসরাতের আঁখিযুগল, অতঃপর কানে সিসা ঢালার মতো গা জ্বালানো পুরুষালি স্বর ভেসে এলো,”এই হাইট নিয়ে আমাকে আছাড় মারবি?

নুসরাতের তেতে ওঠার জন্য এই কথাটা যতেষ্ট ছিল। তেড়ে এসে আরশের বুক বরাবর ধাক্কা বসাতে নিবে, আরশ এক হাতের মুঠোয় চেপে ধরল মেয়েলি হাত দুখানা। মাথা চেপে ধরল শক্তপোক্ত পুরুষালি হাত দিয়ে, তারপর ঠেলে দূরে সরিয়ে দিল। তাকে ওখানে দাঁড় করিয়ে রেখে সামনের দিকে দু-কদম এগিয়ে গেল, আবার ফিরে আসলো সেকেন্ড দুয়েকের মাথায়। ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে নুসরাত নিজ মনে কিছু একটা বিড়বিড় করছে, যা আধো আধো কানে আসলো আরশের, এসবে ধ্যান দিল না সে, একহাত দিয়ে মেয়েলি ঘাড় চেপে ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেল সম্মুখে। নুসরাতকে চ্যাতিয়ে দিতে কানের কাছে হিসহিসিয়ে বলে ওঠল,”আয়, নডী ফুরি..!

আরশের মুখের কথাটা কানে যেতেই সে চ্যাঁচিয়ে উঠল,“গালাগাল করবি না একদম।
আপনা আপনি ভ্রু কুঞ্চিত হলো আরশের। কন্ঠে বিস্ময় প্রকাশ হলো,”এটা গালি?
নুসরাত তেতে উঠল। নাক ফুলিয়ে বলে ওঠল,
“আরে না এটা গালি না তো, এটা তো প্রশংসা, দ্যা গ্রেট সৈয়দ আরশ হেলালের নতুন আবিষ্কারকৃত প্রশংসাকৃত বাণী।
অত্যাধিক আশ্চর্যের ন্যায় আবারো শিওর হতে আরশ শুধায়,“সত্যি গালি?
“না, গালি না, আপনার শ্বশুরের মন্ডু আর আমার জামাইয়ের মাথা।
আরশ শুধু মাথা নাড়াল উপর নিচ, বোঝার ভঙ্গিতে। বিড়বিড় করল,“নাইছ, ভেরি নাইছ।

মাহাদির উপর ত্যক্ত বিরক্ত সবাই। পাত্রীর ছবি প্রথমে দেখে পছন্দ করে, যখন কেউ জিজ্ঞেস করে তুমি শিওর দেখতে যাওয়ার জন্য, তখন বলে হ্যাঁ, তারপর আবার মেয়ে দেখে মেয়ের বাড়ি বসে পছন্দ হয়েছে জানায়, বাড়ি আসতে আসতে তার চিন্তা বদলে যায়, সদর দরজা পেরিয়ে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে বলে, মেয়ে পছন্দ হয়নি।
প্রথম যেদিন পাত্রী দেখতে গেল ছেলেটা তখন ওয়াশরুমের জুতো পরে গেছে, এমনকি উল্টো সেন্ডো গেঞ্জি পরেছে, এত বেখেয়ালি কবে থেকে হলো সে তা ভেবে পায় না মাহাদির পরিবারের লোক। তারপর ভিক্টরের জুতো পরে পাত্রী দেখতে গিয়েছিল সে।
সেই সেদিনের কথা গেল। এরপর আরেকটা কান্ড ঘটাল মাহাদি। পাত্রী দেখে পছন্দ হয়েছে বলায় চৌদ্দ হাজার থাকা সালামি দিলেন নিজের পকেট থেকে শাহেদ খান, মেয়ের বাড়ির ও ছেলে পছন্দ হয়েছে বলে তারা ফিরিয়ে দিল পনেরো হাজার টাকা, সেই টাকা নিয়ে এসে পগারপার ছেলেটা, বলে টাকা এক হাজার বেশি পেয়েছি, তাই আর বিয়ে করব না। একে নিয়ে কী করবেন শাহেদ খান, কবে থেকে এত টাকার পিপাসু হলো ভেবে পান না তিনি। যে নিজেই ফিলান্সিং করে মাসে এত এত ইউরো উপার্জন করে সেই ছেলে মাত্র পনেরো হাজার টাকা পেয়ে বলে বিয়ে করব না।

তাই মাথায় একটা বুদ্ধি আটলেন ভদ্রলোক। ছেলের বিয়ে যে কোনোভাবে দিবেনই দিবেন এবার।
রাতের খাবার খেয়ে নেন নয়টার দিকে সকলে। খাবার টেবিলে তখন সবাই চুপচাপ নিজেদের প্লেটের খাদ্য নাড়াচাড়া করছে চামচের সাহায্যে। শাহেদ খান দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গলা খাঁকারি দিলেন, বললেন,”আগামীকাল একজায়গায় পাত্রী দেখতে যাব, চুপচাপ রেডি হয়ে থাকবে মাহাদি।
মাহাদি মুখ গোমড়া করে বসে রইল। কোনো এক কারণে বিয়ে করতে অনিহা তার। আজকাল আবার সৈয়দ বাড়ির সেই নাক দিয়ে পানি পরা মেয়েটার চেহারা তার চোখের কোটরে ভাসে। মাথার নিউরণে নিউরণে সেই মেয়ের প্রতিচ্ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশেষ কোনো কারণ নেই, তারপরও এমন কেন হচ্ছে তার কারণ খুঁজে পেতে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে সে।

খান বাড়িতে সামান্য হইহই পড়ে আছে। পলির জ্ঞান ফিরার পর থেকে সবাই জিজ্ঞেস করছেন কীভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়ল, তবুও কোনো রা নেই তার মুখে। অত্যাধিক শকড হওয়ায়, মুখের বুলি বন্ধ হয়ে গেছে। গোল গোল চোখে চেয়ে রইছে সিলিং এর দিকে।
খান বাড়িতে নয়টার দিকে এসে প্রবেশ ঘটল নুসরাত আর আরশের। পুরো বাড়ির মানুষকে দলবদ্ধ হয়ে পলির রুমের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নুসরাত নিজেও ভীর ঠেলে এগিয়ে গেল সেদিকে, মুখে দুশ্চিন্তার বা ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় নেই বিন্দু পরিমাণ। পলির মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াতেই মেয়েটা আতঙ্কিত হলো, চোখ দুটো অক্ষিকোটর থেকে বের হয়ে যাওয়ার জো প্রায়। নুসরাত হাসল গাল বাঁকিয়ে। ভ্রু উচিয়ে শুধাল,”পলি, তুমি নাকি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে?

নুসরাতের নমনীয়তায় মুখের ভয় আরো বাড়ল পলির। এই মেয়েটা না একটু আগে ধাক্কা দিয়েছিল তাকে, এখন এমন মিষ্টি মিষ্টি করে কথা বলছে কেন, আবার কোথাও ধাক্কা দেওয়ার ইচ্ছে আছে নাকি! তার চিন্তার মধ্যেই আহান এসে প্রবেশ করল ভেতরে। ভয় বাড়িয়ে দিয়ে বলে ওঠল,”ভর সন্ধ্যায় এমন খোলা চুল নিয়ে দাঁড়ালে, ভুত প্রেত তো দেখবে, মনে হয় ভুতে দেখে উনি অজ্ঞান হয়ে গেছেন।
নুসরাত সহমত পোষণ করল। মনে মনে বাহবা দিল আহানের বুদ্ধির। নিজেও তেল মশলা ভালো করে মিশিয়ে বলে ওঠল,”হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিক বলেছে আহান, হয়তো নানীর রুপ ধরে এসেছিল। এখন হয়তো বোবায় ধরেছে পলিকে, তাই কথা বলতে পারতেছে না।

মন একটা কেউ পাত্তা না দিলেও, পুষ্পা, রূম্পা, আর তুলি তিনজনে বিশ্বাস করে নিলেন তা। এই তিনজন আবার একটু ভীতু প্রকৃতির। ভয় পেতে দেখে দু-জনের আলোচনা আরো বিস্তারিত হলো ভুত প্রেত নিয়ে। বানিয়ে বানিয়ে দু-জনে কাহিনি শোনাল। কাহিনির মূল চরিত্র নিজাম শিকদার। একবার বোনের বাড়ি গিয়ে নিশীরাতে বাড়ি ফিরে আসছিলেন, পথে সংকটে পড়লেন, একদল খারাপ জ্বীনের দল তার পিছু নিয়েছিল, ঘাড়ে শ্বাসের অস্তিত্ব পেতেই পিছু ঘুরলেন কে তা দেখতে, অমনি ঠাস করে এক চড় বসিয়ে অখানেই অজ্ঞান করে দিল তাকে। পরেরদিন সকালে অবচেতন পাওয়া গেল রাস্তার পাশে।

দু-জনে বিস্তারিত আলোচনা শেষে গম্ভীর মুখে সবাইকে রুমের ভেতর অবলোকন করে বেরিয়ে আসলো। রূম্পা, পুষ্পা, আর তুলি কথাগুলো বিশ্বাস করেছে চেহারা দেখেই বুঝল। চেহারা রক্তশূণ্য তাদের।
রুমানা খাতুন বিরক্তি নিয়ে কথাগুলো এতক্ষণ শুনছিলেন, নুসরাত আর আহান গলায় গলা মিলিয়ে বেরিয়ে যেতেই তেতো মুখে বললেন,”এসব বাচ্চা বোলানো গল্পে ভয় পাচ্ছো, যত্তসব।
তবুও ভয় কমল না কারোর। পুষ্পা পলির কাছ ঘেঁষে শুয়ে পড়লেন। মেয়ের একহাত চেপে ধরে বিড়বিড়িয়ে আওড়ান,”আজ তোর সাথে ঘুমাব আমি।

সকাল সকাল মুরগী আল্লাহর নামে ডেকে উঠল। মোরগ গুলো একটু বেশি জোরে ডাকছে৷ তাই তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙল নুসরাতের। আহান তার সাথে ঘুমিয়েছে, তাই পাশে তাকাতেই দেখল এখনো ঘুমাচ্ছে। হাত দিয়ে খোপা করে উঠে দাঁড়াল সে। পায়ে নাইকের জুতো জোড়া পরে নিয়ে হেঁটে গেল দরজার সামনে। নব ঘুরিয়ে লক খুলে নেমে গেল বাড়ির নিচে। তখনো আঁধার কাটেনি পুরোপুরি। মুরগীর খোপ অনুসন্ধান করে ধীর পায়ে আগাল, বাড়ির পেছনে গিয়ে পেয়ে গেল তা। গরুর গোয়াল, খোপ সব আশপাশে হওয়ায় নাকে এসে বোটকা গন্ধ লাগল। নুসরাত নাক চেপে ধরল, তবুও নিজের অনুসন্ধান থেকে দু-পা সরল না। খোপের দরজা খুলে উঁকি দিল সামান্য, মৃদু আলোয় দেখা মিলল প্রায় দশের মতো মুরগীর। হাত ঢুকিয়ে বড়সড় একটা মোরগ হাতে নিতে যাবে চেচিয়ে উঠল তা। পেছন থেকে ভুতের মতো উদয় হলো আহান, তাকে খেয়াল না করেই, খোপ থেকে আনমনে মুরগী চুরি করে হাতে নিতেই পেছন থেকে শুধাল,”কী করো আপু?

নুসরাত মুরগীর গলা ঝাপটে ধরে সতর্ক কন্ঠে বলে ওঠল,”আস্তে কথা বল, মুরগী চুরি করি।
আহান অষ্টম আশ্চর্যের কিছু শুনেছে বলে মনে হলো। ঠোঁট দু-দিকে ফাঁক হয়ে গেল টুক করে। জিজ্ঞেস করল,”নিয়ে যাব কেমনে?
নুসরাত হাসল। একটা একটা করে তিনটা মোরগ বের করল, তারপরই নিচে রাখা বটি তুলে নিয়ে জপাং করে কেটে দিল গলা। কোথা থেকে আহান ব্যাগ নিয়ে আসলো তাতে কাটা মোরগগুলো ঝটপট হাতে ঢুকিয়ে নিল।
বটি ধুয়ে রাখল সান বাঁধানো ঘাটে। হাত দু-দিকে ঝাড়া দিয়ে পুকুরের পানিতে গিয়ে নামল। নেমে ভালোভাবে হাত ধুয়ে পরিস্কার করে নিল।
সবার ঘুম থেকে ওঠার আগেই মোরগগুলো নিয়ে রাখল বাইকের মধ্যে। আহানকে ওখানে দাঁড় করিয়ে রেখে, বাড়ির ভেতর গেল। কিছু মুহুর্ত কাটার পর নাছির সাহেবকে বগলদাবা করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসলো নিজের সাথে। ঘুমে চোখ খুলে তাকাতে পারছেন না ভদ্রলোক, অই অবস্থায় নাছির সাহেবকে বাইকে বসিয়ে আহানকে উদ্দেশ্য করে বলল,”সোজা বাড়ি যাবি, আম্মাকে মোরগগুলো দিয়ে বলবি ঝোল ঝোল করে রান্না করতে।
নাছির সাহেব নিরুত্তাপ, নুসরাতের কথা শুনেছেন কিনা বোঝা গেল না। ঘুমের চোটে শুধু মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন,”তুমি যাবে কবে?

নুসরাত ঝটপট উত্তর দিল,
“আরশ ভাইদের সাথে যাব পরে।
আহান বাইক স্টার্ট করল৷ বাইক রাইড, বা ড্রাইভিং সে ভালোই পারে। এক বছর ধরে টুকটাক শিখছে নুসরাতের কাছ থেকে। টিচার হিসেবে খুবই শক্ত বড় বোনটা৷ সেসব দীর্ঘ কাহিনি, আজ আর ভাবল না আহান। চলে গেল বাইকে টান দিয়ে পেছনে ফেলে রেখে গেল কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বোনকে।
সকাল আটটার দিকে পুষ্পা ঘুম থেকে উঠলেন। মোরগ খোপ থেকে না বের করেই, আগে গেলেন রান্না ঘরের দিকে। দেরীতে ওঠায়, নাস্তা বানাতেও দেরী হয়ে গেল তাই তাড়াহুড়ো লেগে যাওয়ায় খোপের দিকে আর গেলেন না।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সৈয়দ বাড়ির সবাই একে একে রেডি হয়ে এসে জমাকৃত হলো ড্রয়িং রুমে।
নুসরাত সেই আটটার সময় এসে বসেছিল ড্রয়িং রুমে, ঠ্যাং তুলে রেখেছিল সেন্টার টেবিলে তখনো পা তুলে বসে রইল। তার সামনে দিয়ে চলাচল করতে থাকা মানুষদের দেখেও বিশেষ ভাবাবেগ হলো না। মোবাইলে দিকে ধ্যান রেখে হাতের আঙুলে হিসাব করল কিছু একটা। সকালের নাস্তা খেতে বসেও কারোর দিকে তাকাল না। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে হু হা বলে উত্তর দিল। হেলাল সাহেব জিজ্ঞেস করলেন,”তোর বাপ কই?
নুসরাত মোবাইলের দিকে চোখ রেখেই বলল,

“গেছে গা।
আবারো প্রশ্ন করলেন,
“ মোবাইলে কী করছিস?
ছোট্ট উত্তর ভেসে এলো,
“কাজ!
“ কী কাজ?
“সৈয়দ চয়েসের কিছু কাজ পেন্ডিং আছে, তা ই-মেল করছি আবির সাহেবকে।
ভ্রু কুঞ্চিত করে হেলাল সাহেব জিজ্ঞেস করলেন,
“আবির সাহেব কে?
আরশ মুখের খাবার কচমচ করে চাবাল। বিড়বিড় করে নিজের সাথে কথা বলল,”কে আবার নাগর।
মুখে কিছু বলল না। নুসরাত হাতের কাজ শেষ করে মোবাইল রাখল টেবিলে। মুখ তুলে তাকাল সরাসরি হেলাল সাহেবের দিকে। বলল,”ম্যানেজার।

খাবার শেষে টিস্যু দিয়ে হাত মুছল, তারপর মুখ মুছে নিয়ে অগ্রসর হলো সম্মুখে। তখনই কর্কশ শব্দে বেজে উঠল হাতের মোবাইলটা। কানে চেপে ধরে বলে ওঠল,”আসসালামু আলাইকুম আনোয়ার সাহেব! আমি নুসরাত বলছি।
অপাশ থেকে কী বলল বোঝা গেল না, পরপর কপালে গাঢ় ভাজ ফেলে বিরক্ত স্বরে নুসরাত বলল,”চিনতে পারছেন না মানে কী? আমি সৈয়দা নুসরাত নাছির।
হেলেদুলে চলে গেল বাহিরে। ইসরাতের এখনো জ্বর কমেনি তাই তার জন্য খাবার বেড়ে নিয়ে গিয়েছে জায়িন। নুসরাত ঘন্টাখানিক চেচামেচি করল আনোয়ার সাহেবের সাথে। ভদ্রলোককে এক বোঝায় সে, বুঝেন আরেক। ধৈর্য শক্তি হারিয়ে অস্পষ্ট স্বরে চ্যাঁচাল,”আপনার বয়স হয়েছে মনে হচ্ছে,এবার নিজের কাজ থেকে ইস্তফা নিয়ে চলে যান।

যতক্ষণে সকলে এসে বাড়ির সামনে পৌঁছাল ততক্ষণে নুসরাতের চেচামেচি বেড়েছে। অপাশ থেকে ভদ্রলোক মিনমিনিয়ে বোঝাচ্ছেন নুসরাতকে,”শোনো মা, একটু তো সময় দিবে, হ্যাঁ, এ মাসে নতুন এক্সেসারিজ লঞ্চ করার কথা ছিল কিন্তু সম্ভব হয়নি। এখানে আমার দোষটা কী, এগুলো তো এমপ্লয়িদের গাফিলতি।
“আপনি বলতে চাচ্ছেন আপনার কোনো দোষ নেই আনোয়ার সাহেব? তাহলে দোষ কী আমার? আপনাদের গাফিলতির দায়বার কে নিবে? এত বড় লস সামলাবে কে? সৈয়দ চয়েস কেন এর ঘানি টানবে?
নুসরাতের প্রশ্নের তোড়ে পড়ে ভদ্রলোক চুপ হয়ে গেলেন।

তখন হাতে লাগেজ নিয়ে দাঁড়িয়ে বিদায় নিচ্ছেন সকলে। সাত সকাল হওয়ায় দু-হাত দূরে দাঁড়িয়ে নুসরাতের গলা ফাটানো চিৎকার সকলের কানেই আসছে। হেলাল সাহেব গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের করতেই জায়িন গিয়ে উঠে বসল পেছনে। লিপি বেগম ফ্রন্ট সিটে, আর আরশ ব্যাক সিটে। নুসরাত ধ্যান জ্ঞানহীন ভাবে মুঠোফোনের অপাশের ব্যক্তির উপর চ্যাঁচাচ্ছে। কলে কথা বলায় অভ্যস্ত থেকেই এগিয়ে আসলো সে। ভ্রু কুঁচকে শুধাল,”বসব কোথায় আমি?
লিপি বেগম নুসরাতের কথায় তাকালেন গাড়ির ভেতরে। এমন পরিস্থিতিতে পড়ে যাবেন মনেই ছিল না। ইসরাতের অবস্থা নাজেহাল হওয়ায় বেশ অর্ধেক জুড়ে পেছনের সিটে বসা তারা। আরশ একপাশে কানে হেডফোন লাগিয়ে নির্বিকার চিত্তে বসে। কোনো উপায় খুঁযে না পেয়ে, স্বাভাবিক কন্ঠে বলে ওঠলেন,”আরশের কোলে বসে যা।
আরশ চোখ তুলে তাকাল নুসরাতের দিকে, এমন মুহুর্তে নুসরাতও চোখ নামিয়ে তাকাল, চোখাচোখি হলো দু-জনের। ঠোঁট চেপে হাসল পৈচাশিক লোকটা। ভীষণ মজা পেল যেন নুসরাতের পরিস্থিতি দেখে৷ নিজের উরুর উপর হাত দিয়ে দেখাল, অতঃপর নুসরাতের শোনার মতো করে বলে ওঠল,”চলে আয়, তোর স্বামীর কোল অনেক বড়।

দুপুরের খাবার খেয়ে পাত্রী দেখতে এসেছে মাহাদি। পাত্রী দেখার পর কেউ তাকে আগের মতো জিজ্ঞেস করল না পাত্রী কী তার পছন্দ হয়েছে, না জিজ্ঞেস করেই সবাই সবার মধ্যে কথা বিনিময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। মাহাদির প্রথম খটকা এখানেই লাগল। ধীরে ধীরে তা আরো বৃদ্ধি পেল যখন খাবার খেয়েও কেউ নড়চড় করল না ফিরে যাওয়ার জন্য। চোরের মতো হাবভাব সবার মধ্যে পরিস্ফুটনীয়। মাহাদি চুপচাপ শুধু লক্ষ করল, কোনোরুপ প্রতিক্রিয়া দেখাল না এতে। ফিসফিস করে পাত্রীর বাবার সাথে শাহেদ খান কিছু আলোচনা করছেন। আধো আধো বুলি কানে আসলো মাহাদির, জিজ্ঞেস করছেন,”ইমাম আসবেন কখন?

তড়াক করে বাবার পানে একবার চাইল, ভদ্রলোক কথা বলায় ব্যস্ত। মায়ের হাবভাব ও স্বাভাবিক, এমনকি অনিকা ও ভিক্টরের। কেউ বিন্দুমাত্র তাকে সন্দেহের সুযোগ দেয়নি যে এখানে এসে বিয়ে দিয়ে দিবেন তার। ঠোঁট কামড়ে বসে রইল সে। এমন পরিস্থিতি সম্মুখীন হওয়ায় বুদ্ধি সব পালাল জানালা দিয়ে। এখন কী করবে, এখন কী করবে এসব ভেবে ভেবে নখ কামড়াল। চিন্তা-ভাবনায় ডুবে যেতেই হঠাৎ করে নড়েচড়ে উঠল, মাথায় বুদ্ধি খেলে যেতেই ঠোঁটের কোণে ভেসে উঠল হাসির রেশ। সামনে বসা পাত্রীর দিকে তাকিয়ে সংকোচে হাসল, মেয়েটা আসার পর থেকে হা করে তাকেই দেখছে। হয়তো লজ্জা শরম কম তাই ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে তার দিকে। গলা খাঁকারি দিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করল। বলল,”ওয়াশরুমে যাব।
শাহেদ খান ভাবলেশহীন কন্ঠে বলে ওঠলেন,

“পরে।
মাহাদি নিজের কথায় জোর দিতে বলে ওঠে,
“ ইটস আর্জেন্ট আব্বু।
পাত্রী নিজেই সংকোচ বিহীন উঠে দাঁড়াল। রিনরিনে স্বরে বলে ওঠে,”আসুন আমার সাথে।
পাত্রীর পিছু পিছু গেল মাহাদি৷ মেয়েটা একটা রুমে প্রবেশ করে লাজুক হেসে দেখিয়ে দিল ওয়াশরুমের দরজা। মাহাদি অপ্রস্তুত হাসল নিজেও। মেয়েটাকে তাড়ানোর জন্য দ্বিধানিত কন্ঠে বলে ওঠল,”আপনি যান, আমি পাঁচ মিনিটের ভেতর আসছি।

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৪৮

মেয়েটা হেসে চলে গেল। মাহাদি মেয়েটা চলে যেতেই ধপাস করে লাগিয়ে দিল রুমের দরজা। নব ঘুরিয়ে লক করে দিল রুম৷ আশপাশ চোখ বুলিয়ে যতটুকু ঠাহর করতে পারল তা হলো এটা রেস্ট রুম। জানালার সামনে গিয়ে থাই গ্লাসে ধাক্কা দিতেই খুলে গেল তা। জানালায় কোনোপ্রকার গ্রিল না থাকায় অনায়াসে বেরিয়ে গেল বাহিরে সে। তাড়াহুড়োয় একপায়ের জুতো রয়ে গেল রুমে, অন্যপায়ের জুতো পরে চোরের মতো ভাগল পাত্রীর বাড়ির ত্রি-সীমানা হতে।

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ৫০

3 COMMENTS

  1. Apu ar ektu taratati golpo diben pochonder uponnash tai rag uitha jay deri koira dile 🙂 ar mongol bare to golpo diben ceshta koiren british proti bareo deyar tahole valo hobe 🙃…..

  2. Apu goooo….ektu taratri dile vallo hoy….onk fvt ekta uponnass amr……protidin w8 korte korte ami ahon moron dosay asi🫠…..r partasi nah…..tumer uponnass porte jaya amr ek fd cot khaise🤣tai bollam… ami jani kobe cot khaiya chit potang hoya thaki🙂💔…..tai tumi joto taratri diba ami toto taratri ses korte parbo😑🙌🏻….Ei part er joonno thankssss🌚👍🏻…r taratri ses kore etar boi ber koro🥲✨…. Ami kenar jonno tk jomaitsi…..buchoooo🙂👍

Comments are closed.