Home কি করিলে বলো পাইবো তোমারে কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১২

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১২

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১২
মুনমুন বুড়ি

অভ্রর কথা শুনে মিহির দুনিয়া ঘুরতে লাগলো।
কৌশিক স্তব্ধ হয়ে গেল। সে ভেবে পাচ্ছে না—অভ্র এসব কীভাবে জানলো।
মিহি কৌশিকের মুখোমুখি হয়ে আহত কণ্ঠে বলল
— কৌশিক, এসব কথা কি সত্যি? তুমি আমার…
মিহি কথা শেষ করতে না দিতেই কৌশিক উত্তেজিত হয়ে বলতে লাগলো—

— মনি, এটা পুরোপুরি সত্যি নয়। তুমি আমার কথা বিশ্বাস কর…
— আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। উনি যা বললো, তা কি সত্যি? খবরদার, একটুও মিথ্যে বলবে না। তোমাকে আমার কসম।
কৌশিক পরাজিত হয়ে ওপর-নিচ মাথা নাড়ালো।
মুহূর্তেই কৌশিকের ওপর এক দলা থুথু ছুড়ে মারলো মিহি।
— ছয় বছর ধরে এইভাবে নাটক করলি তুই এইভাবে ধোঁকা দিলি আমাকে। তোকে অভিশাপ দিলাম আমি। তুই আমাকে যতটা কষ্ট দিলি, তার থেকেও বহুগুণ কষ্ট তুই পাবি। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে তুই মৃত্যুর জন্য দোয়া করবি, কিন্তু তুই মরবি না। তুই জীবন্ত লাশ হয়ে থাকবি। তোর পাশে কেউ থাকবে না, কেউ না।
কথাগুলো বলেই মিহি কোনোদিকে না তাকিয়ে হনহন করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। অথচ ও একবারও ফিরে দেখলো না ওর কথায় একজন মানুষের হৃদয় কতটা রক্তাক্ত হলো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

অভ্র মিহিকে নিজের বাড়িতে না নিয়ে অন্য কোনো একটা বাড়িতে এনেছে। মিহি জানে না কোথায় এসেছে জানার ইচ্ছেও নেই তার। অভ্র মিহিকে এখানে পৌঁছে দিয়েই কোথাও একটা চলে গেছে। বাড়িতে দু’জন মেইড আছে। তারা কিছুক্ষণ পরপর এসে জিজ্ঞেস করছে—মিহির কিছু লাগবে কি না, কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না ইত্যাদি ইত্যাদি।
মিহি রুমটা চোখ ঘুরিয়ে কয়েকবার দেখে নিল। ঘরটা খুব গোছানো, পরিপাটি। যে কেউ দেখলে বলবে এখানে শৌখিন মানুষের বসবাস। রুমটা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে এটা অভ্রর রুম। দেয়ালে ইয়া বড় একটা ছবি লাগানো অভ্রর। মিহি কয়েকবার ছবিটা দেখে নিল। ছবিতে অভ্রকে দেখতে ভালোই লাগছে ফর্মাল লুকে, সিল্কি চুলগুলোও জেল দিয়ে সেট করা। গালে একটা কাটা দাগ আছে, যেটা তার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মিহি ছবিটি দেখার মাঝেই কেউ দরজায় নক করলো। মিহি পাশ ফিরে দেখলো একটা মেইড দাঁড়িয়ে আছে।

— ম্যাডাম, স্যার আপনাকে কল দিয়েছে। আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছে।
মিহি সম্মতি দিতেই কাজের লোক মিহির হাতে ফোনটা দিয়ে চলে যায়। মিহি ফোন কানে তুলতেই বিপরীত পাশ থেকে বলে উঠলো—
— ওরকম ড্যাবড্যাবিয়ে আমার ছবির দিকে কী দেখছিস? আমি জানি, আমি হ্যান্ডসাম—তাই বলে এভাবে নজর দিবি?
অভ্রর কথা শুনে মিহি আঁতকে উঠলো। এই লোক কীভাবে জানলো—ও লোকটার ছবি দেখছিল?
— আপনি কীভাবে দেখলেন?
— আমার তিনটা চোখ। দুইটা আমি নিজের সঙ্গে নিয়ে ঘুরি, আরেকটা তোর ওপর রাখি।
— মানে?
— তোর মতিগতি আমার ভালো ঠেকছে না। তোর মাথায় কী চলছে বলতো? উল্টাপাল্টা মতলব আঁটছিস না তো আমাকে নিয়ে? দেখ, মিহি—আমি একদম শুদ্ধ, পবিত্র পুরুষ। তাই আমাকে নিয়ে এসব উল্টাপাল্টা ভাবা বন্ধ কর। আমার বউ কষ্ট পাবে।

— অসভ্য, ইতর পুরুষ।
মুহূর্তেই টুট টুট শব্দে ফোন কেটে দেয় মিহি।
অপরদিকে অভ্র হো হো করে হেসে ওঠে। অভ্রকে হাসতে দেখে অভ্রর অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনহাজ চোখ বড় বড় করে অভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে। অভ্র হাসতে হাসতে যখন মিনহাজের দিকে চোখ যায়, অভ্র হাসি থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে—
— এইভাবে চোখ বড় বড় করে কী দেখছো? মারবে নাকি আমাকে?
মিনহাজ জিভ কেটে বলে—
— ছি ছি, বস! এসব কী বলছেন। আসলে আপনাকে কখনো হাসতে দেখি নাই তো তাই আরকি।
অভ্র গলা খাঁকারি দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে ওঠে—

— তা হাসা কি আমার জন্য নিষিদ্ধ?
— না, আসলে ও…
— চুপ। ইদানীং দেখছি তুমি বেশি ফটর ফটর করছ। ফাইলগুলো আনো। যদি একটাও ভুল পাই—তোমার বউয়ের কাছে খবর যাবে, তুমি পরকীয়া করতে ধরা পড়েছ।
— আস্তাগফিরুল্লাহ, বস! আমি এসব কখন করলাম?
— দশ মিনিট আছে। তোমার কাছে যাও, ফাইলগুলো সব ঠিক করে আনো। না হলে এর পর তোমার পরকীয়ার সব প্রমাণ তোমার বউয়ের কাছে যাবে।
— কিন্তু বস, অনেক ফাইল…
— 9 মিনিটস।
— বস…
— 8 মিনিটস।
— আ…
— 7 মিনিটস।
বেচারা মিনহাজ আর কিছু না বলে দৌড় লাগালো ফাইল আনতে। যেতে যেতে মনে মনে অভ্রকে কয়েকটা গালি দিতে ভুললো না।

ঘরের মধ্যে পায়চারি করছেন এক মধ্যবয়স্ক লোক। বয়স তার ষাটের ঘরে। চোখে-মুখে স্পষ্ট চিন্তার চাপ। তিনি বারবার কাউকে ফোন করছেন, কিন্তু বিপরীত পাশ থেকে প্রতিবার মেয়েলি কণ্ঠে একই কথা ভেসে আসছে—
— আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটিতে এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। অনুগ্রহ করে পরে চেষ্টা করুন।
এবার আর রাগ সংবরণ করতে না পেরে ফোনটা বিছানায় ছুড়ে মারলেন। তখনই কেউ একজন ঘরে প্রবেশ করলো। মধ্যবয়স্ক লোকটি জিজ্ঞেস করলেন
— ওরা কোথায় গেছে?
— খুলশীর ফ্ল্যাটে উঠেছে।
তখনই বিছানায় থাকা ফোনটা তারস্বরে বেজে উঠলো। মধ্যবয়স্ক লোকটা ফোনটা হাতে তুলে নিতেই স্ক্রিনে নাম ভেসে উঠলো—

“D.M”
মধ্যবয়স্ক লোকটা ফোন কানে তুলতেই বিপরীত পাশ থেকে ভেসে এলো গম্ভীর কণ্ঠ—
— তোমাদের চোখের ওপর ধুলো দিয়ে দিলো, তোমরা কিছুই জানতে পারলে না?
— না।
— এটা বিশ্বাসযোগ্য?
— আপনি বিশ্বাস করুন, আমরা কিছুই টের পাইনি। ওই কৌশিকের বাচ্চা বেইমানি করেছে।
— আমি এত কিছু শুনতে চাই না। তোমাদের আমি এক মাস সময় দিলাম। এর মধ্যে ওই মেয়েটাকে আমার চাই—যেভাবেই হোক। নইলে তোমার আর তোমার ছেলের অস্তিত্ব মুছে যাবে দুনিয়ার বুক থেকে।
কথাগুলো বলেই লোকটা ফোন কেটে দেয়। মুহূর্তেই আলতাফ শেখের চেহারার রং বদলে যায়।
সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলে—
— ওই মেয়েটার পেছনে লোক লাগা, সিয়াম। চব্বিশ ঘণ্টা ওর ওপর নজর রাখবি। যেভাবেই হোক, ওই মেয়েটাকে তুলে আনতে হবে।
সিয়াম আলতাফ শেখের কথায় সম্মতিসূচক মাথা নাড়ায়।

এখন সময় রাত নয়টা। অভ্র এখনো বাড়ি ফেরেনি। মিহি একা একা ওই রুমে বসে থাকতে আর ভালো লাগছে না, তাই সে রুম থেকে বেরিয়েছে। আশপাশে কেউ নেই। মিহি হাঁটতে হাঁটতে ছাদের সিঁড়ি দেখতে পেল। সিঁড়ি ধরে এগোতে লাগলো মিহি।
ছাদে এসেই মিহি একটা চিলেকোঠা ঘর দেখতে পায়। ঘরটি দেখেই মিহির কৌতূহল জাগে। কৌতূহলবশত ঘরটিতে ঢুকে পড়ে। মিহি ঘরে ঢুকেই দেখতে পায় ঘরটি ঘুটঘুটে অন্ধকার। এত অন্ধকারের মাঝে কিছু দেখার উপায় নেই। মিহি অন্ধকারের মাঝেই হাতড়ে হাতড়ে সামনের দিকে যেতে থাকে। হঠাৎ কিছুর সঙ্গে পা বেজে পড়ে যেতে নিলে পাশে কিছু একটা ধরে নিজেকে ব্যালান্স করে।

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১১

মুহূর্তেই পুরো চিলেকোঠা আলোকিত হয়ে ওঠে।
মিহি নিজেকে সামলে চারদিক ভালোভাবে দেখতেই স্তব্ধ হয়ে যায়। পুরো ঘরভর্তি ছোট বাচ্চা মেয়ের ছবি। কিন্তু এটা কে?

কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৩