সায়রে গর্জন পর্ব ৪৮
নীতি জাহিদ
শাহীনের জিপ থেকে নেমে সবাই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। পাভেল এক পাশে দাঁড়িয়ে তুহিন,হামজা এবং কাব্যের তামশা দেখছে। তুহিন শাহীনের হাত ধরে বলেছে,
– স্যার আমাকে নিয়েন না। হাসপাতালে ভর্তি হতে চাই না। ওরা ভালো খানা দেয় না। ও স্যার, আর জীবনে এমন করমুনা। আমি কি জানতাম লিমন এমন বিপদে ফালাবে?
শাহীন ধমক দিলো,
– তুহিন হাসপাতালে গেলে সবাই একসাথে যাবো।এমন করছিস কেনো?
কাব্য কাঁপা কাঁপা গলায় বললো,
– ছোট দা* তুমিও ভয় পাচ্ছো?
শাহীন মুখটা পেঁচার মতো করে বললো,
– তোর আমাকে কি মনে হয়? আমার ইউনিটের সদস্যরা আমাকে ভয় পেলেও আমার জম তো থাকে সুলতানা মঞ্জিলে। আমাকে সুলতানা মঞ্জিলের তিন তলা থেকে এক্কেবাড়ে ময়লার ভাগাড়ে ছুঁ ড়ে ফেলবে।
পাভেল ক্ষে পে বলে,
– শা*লা ওদের বিয়েটা দিছিস ভালো কথা, এখন সব গুলাকে ভ য় লাগাচ্ছিস কেনো? পোলা পান গুলা ভরসা হা/রাবে।
কথা শেষ করে পাভেল নাকে কেঁদে বললো,
– ও শাহীন মা*ইর মাটিতে একটাও পড়বে না। এতদিন থা*প্পড় মিশন চালিয়েছে আজ কি চালাবে?
হামজা ঠোঁট উলটে বলে উঠলো,
– ভাই, বুলডোজার।
সকলে শুকনো ঢোক গিলে গেট খুলে ভেতরে ঢুকলো। যদিও এত রাতে সবাইকে দেখে দারোয়ান বিচলিত। তবুও এই বাড়ির ছেলে মেয়ে এরা, যখন খুশি আসবে তাই সালাম দিলো। পাত্তা না দিয়ে সকলকে ঢুকতে দিলো।
এক কদম এক কদম করে এগিয়ে গেলো সুলতানা মঞ্জিলের বিখ্যাত থা*প্প ড় ঘরে, লিমন মজা করে একবার বলেছিলো এই বাড়ির সব থাপ্পড় পড়ে লিভিং রুমে, শাহীনের গালে, শেফালীর গালে, নোমানের গালে এবং সর্বশেষ আজ লিমনের গালে পড়তে যাচ্ছে। অবশ্য এর চেয়ে বেশি কিছুও ঘটতে পারে। কলিং বেল চাপ দিতেই আফিয়া খালা দরজা খুলে দিলো হাসি মুখে। শাহীনকে আচমকা দেখেই অবাক হলো। লিভিং রুম ফাঁকা। ওদের এতজনকে একসাথে ঢুকতে দেখে ঘা ব ড়ে গেলো আফিয়া। সবাইকে বসতে বলে সুলতানা কবির, রায়হান সাহেব কে ডেকে নিলেন। দিয়া ডাইনিংয়ে এসেছিলো পানি নিতে। সবাইকে দেখে হাসি মুখে সালাম দিলো। খুশি হয়ে বললো,
– বাহ ভালোই হলো আজ সবাই একসাথে হলাম অনেক দিন পর। ভাইয়া আপনি তো সারপ্রাইজ দিয়ে দিলেন। আমি আপুকে ডাকছি।
নওরীনকে ডাকার প্রয়োজন পড়েনি। নিজ থেকেই এসে পড়েছে। এর মাঝে রায়হান সাহেব এবং সুলতানা কবির ঢুকলেন। সকলে দাঁড়িয়ে পড়লো। শাহীন বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরলো। নওরীনের দিকে তাকিয়ে মলিন হাসি দিলো। চোখের ইশারায় নওরীন যা বুঝার বুঝে গিয়েছে। ঘা/প/লা আছে কোথাও। আবির মামাদের পেয়ে খুশি হলো। ছুটে গিয়ে বড় মামাকে ডেকে আনলো। শাহাদ শেহজাকে নিয়ে রুম থেকে বের হলো। আফিয়া খালা সবাইকে চেয়ার দিলেন বসতে। শাহাদ সোফায় বসলো। লিমন আর তাহি কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বসেছে। রায়হান সাহেব হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে বললেন,
– ভালোই হয়েছে তোমরা এসেছো। তাহির তো পরশু বিয়ের ডেট ফিক্সড হলো। আজই চেয়েছিলাম কাবিন করতে। তাহি ডেট পেছালো। সবাই মিলে কিভাবে কি করবে প্ল্যান করো।
লিমন মাথা নত করে রেখেছে। তাহিও মাথা তুলছেনা। শাহাদ ওদের পর্যবেক্ষন করছে। আজ বিকালের পর তো লিমনের এখানে থাকার কথা নয়। তবে? সাবিনা এবং রত্না নামাজে ছিলো। রুম থেকে বের হয়ে এলো। শাহীনকে আদর করে ওরাও বসলো। সাবিনা প্রশ্ন করলো,
– তাহি অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে?
বাড়িসুদ্ধ সকলের দৃষ্টি তাহির দিকে। কাব্য ভাবছে তাহি আপা অপারেশনের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলো? ওর শরীরে ঘাম ছুটে গিয়েছে। আফিয়া খালা সবাইকে শরবত বানিয়ে দিয়েছে। কারো গলা দিয়ে নামছেনা। শুরু করবে কে? তুহিন এবং হামজার দিকে শাহাদ মুখ খুললো,
– কোনো কাজে এসেছো তুহিন,হামজা?
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে চোখের পলক ঝাপটে যাচ্ছে। কি উত্তর দিবে? তুহিন কম্পিত গলায় বললো,
– না বস।
শাহাদ প্রশ্ন ছুড়লো,
– তবে? কয়টা বাজে ঘড়ি দেখেছো?
হামজা বললো,
– জ্বি বস, নয়টা চল্লিশ।
– এত রাতে এখানে কি?
– আচ্ছা চলে যাচ্ছি।
হামজা বেকুবের মত উত্তর দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। পাভেলের দিকে চোখ যেতেই পাভেল চোখ রাঙিয়ে দিলো। পুনরায় বসে পড়লো। লিমন দাঁড়িয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো,
– আমার কিছু কথা ছিলো?
রত্না প্রশ্ন শুধায়,
– কি কথা?
অকপটে উত্তর দিলো,
– আমি এবং ডক্টর তাহি বিয়ে করেছি।
হতবিহ্বল সুলতানা মঞ্জিলের লিভিং রুম। কি শুনলো? ভুল শুনেনি তো?
সাবিনা কোনো রকম উঠে দাঁড়ায়। সোজা গিয়ে তাহির গালে প্রচন্ড জোরে সপাটে চ*ড় লাগায়। একই কাজ রত্নাও করলো আজ। লিমনে গালে কষে সর্ব শক্তি দিয়ে
থা/প্প/ড় মা*রলো। বাকিরা নিঃশব্দ। রত্না চেঁচিয়ে বললো,
– এই মানুষ করলাম তোরে। এই প্রতিদান দিলি। চুন কালি মাখালি পরিবারের মুখে। কোন সাহসে তোর চোখ এত ন/ষ্ট হলো যে বয়সে বড়, সম্পর্কে বোন লাগে এমন মেয়েকে বিয়ে করলি। এরচেয়ে তুই আমাকে গার্মেন্টস কর্মী বিয়ে করে এনে দিতি আমি খুশি হতাম।
লিমন মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবছে মা কি ডাক্তার তাহি কে অপমান করলো! নাকি তাকে শাসাচ্ছে? সাবিনা মেয়ের চোয়াল শক্ত করে ধরে বললো,
– রুচি এত নিচে নামলো তোর? হাঁটুর বয়সী ছেলেকে বিয়ে করলি?
শাহীন গিয়ে আগলে ধরলো তাহিকে। খালাকে ধমকে বললো,
– তোমরা এমন অদ্ভুত আচরণ করছো কেনো? আমার ধর্ম যেখানে বাঁধা দেয় না ওদের বিয়েতে তোমরা কোন সাহসে এগুলা করছে। কার সাথে নাফরমানি করছো? আমি বিয়ে দিয়েছি ওদের দাঁড়িয়ে। যা বলার আমাকে বলো।
পুনরায় থমকে গেলো লিভিং রুম। কথাটা বলে শাহীন শাহাদের দিকে তাকায়। পরের থাপ্পড় কি ওর গালে পড়বে? না পড়েনি। শাহাদ স্থির। তবে দুটো অলরেডি দুই অপরাধীর গালে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই লিভিং রুমকে থা প্পড় ঘর হিসেবে আখ্যায়িত করা বহাল থাকলো।
রায়হান সাহেব এতক্ষনে বললেন,
– ওরা কি দুজন রাজি ছিলো বিয়েতে?
শাহীন জবাব দিলো,
– জ্বি আব্বু।
– তাহলে আমার বলার কিছু নেই। তবে আমাদের জানানো উচিত ছিলো। পারিবারিক ভাবে বিয়েটা হতো।
সাবিনা ক্ষেপে বললো,
– কি বলেন দুলাভাই, আপনার আপত্তি নাই? সমাজে মুখ দেখাবো কি করে আমরা? মানুষ কি বলবে? ওর চাচারা আমাকে এমনি খা/রা/প ভাবে। আজকের পর তো আমার সম্মান নিয়ে টানাটানি লাগবে।
রত্না ধপ করে সোফায় বসে পড়লো। দিয়া,নওরীন এবং শেফালী গিয়ে ধরলো রত্নাকে।
– কোন সমাজে মুখ দেখাতে চাইছেন খালাম্মা?
গম্ভীর প্রগাঢ় আওয়াজের উৎসের দিকে ফিরে ঘাড় ঘুরালো সাবিনা। পুনরায় প্রশ্ন এলো,
– যে সমাজ আপনার মেয়ের নিরাপত্তা দেয় না ওই সমাজ? যে সমাজ মেয়েকে অলক্ষ্মী, অপয়া বলে সেই সমাজ? যে চাচা ভাই মা রা যাবার পর ফিরে তাকায় নি ওই চাচা? নাকি যে পরিবার একটা বিধবা নারীকে তার সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে সেই পরিবারের?
সাবিনা কাছে এসে বললো,
– আমরা তো সমাজ মানি। বাবা রে কি করলো আমার মেয়েটা, ও আমাদের বিশ্বাসের অমর্যাদা করলো? আমাকে মাফ করে দেয়।
সাবিনা শাহাদের সামনে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে। শাহাদ খালাকে সামলে বললো,
– লিমন ভালো ছেলে, আপনার মেয়েকে সামলে রাখবে। স্বাভাবিক একটি ব্যাপার, স্বাভাবিক ভাবে নেয়াই উচিত। সবার অধিকার আছে, নিজেদের সিন্ধান্ত জানানোর। জীবনসঙ্গী বেছে নেয়ার। ওরা দুজন তাই করেছে। এত চিন্তার কিছু নেই।
কথা শেষ করে উঠে দাঁড়ায় শাহাদ। শেহজাকে শেফালীর কোলে দিয়ে এক পা আগানোর পর তাহি লিমন দুজনই ছুটে শাহাদের সামনে হাত জোড় করে বসে পড়ে। নিরবতা বিচ্ছিন্ন করে প্রশ্ন করে,
– হাঁটুতে বসেছো কেনো?
লিমন উত্তর দিলো,
– ভাইজান মাফ করে দেন।
লিমন এবং তাহিকে ধরে উঠিয়ে বললো,
– আমি মাফ করার কেউ না। এখানে মাফ করার মত কিছুই হয়নি। অনেক রাত হয়েছে। তাহিকে স-সম্মানে নিজের বাড়ির নিয়ে যাও।
এতটুকু বলেই পাশ কা টিয়ে চলে গেলো শাহাদ। রুমের দরজা আটকে দিলো জোরে। যা বুঝার বাকিরা বুঝে নিলো। নিরবে পুরো ব্যাপারটা এড়িয়ে গেলো শাহাদ। সাবিনা চিৎকার দিয়ে বললে,
– দিলি তো মু/খ/পু/ড়ি সব শেষ করে, ছেলেটা মুখ ফিরিয়ে নিলো। কি না করেছে তোর জন্য।
দিয়া সবাইকে থামিয়ে বললো,
– অনেক হয়েছে খালামনি,চাচী আম্মু এবার থামুন আপনারা। লিমন ভাইয়া তাহি আপুকে নিয়ে রুমে যান। শুধু শুধুই এত কাহিনি। আপনাদের ছেলেকে আমি দেখছি। রাগ করেছে খানিকটা তবে বেশিক্ষণ এই রাগ থাকবেনা। অন্য কারো ব্যাপারে জানিনা তবে লিমন ভাইয়া আর তাহি আপু আপনাদের ছেলের জান। না জানিয়ে এত বড় কাজ করাতে কষ্ট পেয়েছে।
দিয়া এগিয়ে এসে তাহিকে জড়িয়ে ধরে বললো,
– আপু আমি খুব খুশি হয়েছি। আপনারা দুজন আমার বড্ড প্রিয়।
লিমন দিয়ার কাছে এসে বললো,
– ভাবীমা আমি সকালে আসবো ডাক্তার তাহিকে নিয়ে আজ বাসায় ফিরে যাই। ভাইজান ও তো বললো চলে যেতে।
– আপনার মাথা ঠিক আছে ভাইয়া? জেদের বসে বলেছে। এখন যদি সত্যি বেরিয়ে যান সকালে এই বাড়িটাকে ধ্বংসাবশেষ বানাবে আপনাদের না পেলে। আপনারা কেউ যাবেন না। সবাই রেস্ট নিন।
রায়হান সাহেব আর সুলতানা কবির ও সহমত দিয়ার সাথে। সবাইকে থেকে যাওয়ার জন্য বললো। শাহাদের মতিগতি কেউ বুঝতে পারছেনা। ঝড়ের আগে পরিবেশ ঠিক যতটা শান্ত শাহাদ ততটাই নিস্তব্ধ হয়ে আছে।
ঘড়িতে সাড়ে বারোটা। দিয়া মেয়েকে নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নক করার পর দরজা খুলে দিলো। শেহজা ঘুমিয়ে পড়েছে। মেয়েকে বিছানায় শুইয়ে শাহাদের পাশে বসলো। আজ খাবার ছুঁয়েও দেখেনি। হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে কপালে হাত রেখে বসে আছে।
– শেহজার বাবা?
– হুম।
– রাগ করবেন না প্লিজ। সবারই তো নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে। তাই না?
– হুম
– আপনি এত শান্ত হয়ে আছেন কেনো?
– ঠিক আছি আমি।
– আমার কষ্ট হচ্ছে।
কপাল থেকে হাত সরিয়ে ডানে ফিরে মেয়েকে দেখলো শাহাদ। মেয়ের ঝাকড়া চুল হাত দিয়ে সরিয়ে কপালে চুমু দিয়ে হালকা হেসে বললো,
– আমার কলিজার চুল গুলোর যত্ন নেবে ফারাহ্। তোমার মতো কেশবতী বানাবে কেমন?
দিয়া ইষৎ হেসে বললো,
– তা না হয় হবে। কিন্তু রা/গ টা তো কমান।
– নেই তো।
– আছে তো। এই যে প্রসঙ্গ বদলাচ্ছেন।
– প্রসঙ্গ বদলাইনি ফারাহ্। চাচ্ছিনা আমাদের তিনজনের মাঝে অন্য কাউকে নিয়ে ভাবতে। আমার কাছে আপাতত আব্বু,আম্মু, তুমি এবং শেহজা আমার পৃথিবী। বাদ বাকি সব ছলনা। কাছে আসো। সব ভাবনা বাদ দাও।
দিয়া মলিন মুখে এগিয়ে যায় শাহাদের দিকে। এক হাতে প্রেয়সীকে আগলে বুকে চেপে ধরে। বুকের ভেতর কেনো এত কষ্ট হচ্ছে? কেনো মেনে নিতে পারছেনা ওদের করা কাজটা? তাহি তো ভু ল কিছু করেনি। অন্যদিকে লিমনের চেয়ে বেশি আগলে কেউ তাহিকে রাখতে পারবেনা। তবে কি তথাকথিত মেল ইগোতে লাগলো? নিজেকে সবার সব ব্যাপারে জড়ানো অনুচিত, অশোভনীয়। এই শেষ, আর কারো ব্যাপারে মাথা ঘামাবেনা।
অকস্মাৎ শাহাদ শব্দ করে হেসে উঠলো। দিয়া লজ্জা পেয়ে বলে,
– হাসছেন কেনো?
– তোমার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ছোট্ট একটা বেড়াল ছানা গুটিশুটি মেরে উম খুঁজছে।
– খুঁজছিই তো।
– কোথায়?
– এই যে, এখানে।
আঙুল তাক শাহাদের বুকে। শাহাদ দু হাতে বুকের সাথে চেপে ধরলো দিয়াকে। আহ্লাদ নিয়ে বললো,
– ওলে আমার ছোট্ট বউটা। এত্ত আদর কেনো তুমি? কাছে আসলে আমার রা*গ, দুঃখ কষ্ট সব এক নিমিষেই হাওয়া।
দিয়ার খিলখিল হাসি শাহাদের কানে বাজে। থুতনী তুলে অধরে অধর ছুঁইয়ে দিলো। দিয়া উপলব্ধি করছে শাহাদের ভেতরের তোলপাড়। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে মানুষটা। কথা না বাড়িয়ে দিয়া খাট থেকে নেমে ল্যাম্পশেড নিভিয়ে পুনরায় শুয়ে পড়লো। শাহাদ ফোনে মেইল চেক করে ফোন রেখে দিয়ার দিকে ঘুরলো। দিয়া দুহাত মেলে দিতেই শাহাদ হেসে বলে,
– এই পুতুলের মত হাত দুটো দিয়ে ছোট্ট বুকটাতে কিভাবে আগলে রাখো দানবটাকে?
– এই পুতুলের মতো হাতের,ছোট্ট বুকের মালিকই পারে দানবটাকে মনুষ্য সত্ত্বায় ফিরিয়ে আনতে।
– সব উপায় মুখস্ত তাই না?
– হুম।
– আমার রজনীগন্ধা। তুমি আস্ত একটা ফুলবাগান ফারাহ্। ঘোর কাটাতে চাইলেও পারিনা।
– পারতে হবে কেনো? সারাজীবন আমার ঘোরেই থাকবেন। যখন আমি থাকবো না তখন ও। মনে থাকবে?
জড়িয়ে ধরলো সহধর্মিণীকে। দিয়া বকবক করেই যাচ্ছে। শাহাদ চুপ করিয়ে দিলো,
– শুষষ। ডোন্ট ডিস্টার্ব….
– কমান্ডার সাহেব বারান্দায় যাবো।
প্রিয়তমা স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে কিঞ্চিৎ হেসে খাট থেকে নেমে দাঁড়ালো। পাঁজকোলে তুলে নিলো স্ত্রীকে। তান্ডব করা প্রকৃতি। ভিজিয়ে দিয়েছে বারান্দার সব গাছকে। বর্ষা সেই কবে পেরিয়েছে তবুও প্রকৃতি মাঝে মাঝে সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে নিজের ক্রো/ধ ঝাঁড়ে জনজীবনের উপর। দিয়া মুখে হাসি রেখে আবদার করে বললো,
– একটা অনুরোধ করি?
সহধর্মিণীর দিকে তাকিয়ে বললো,
– হুম।
– আপনার গানের গলা মন্দ নয়। ভালো লাগে। আমার জন্য একটি গান গাইবেন?
অনুরোধ শুনে চুপ শাহাদ। পুরো পৃথিবীটাকে অসহ্য লাগছে। তবুও মন চাইছে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রেয়সীর আবদার রাখতে। গলা ছাড়ে,
– এই বুকে বইছে যমুনা
নিয়ে অথৈ প্রেমের জল
তার তীরে গড়বো আমি
আমার প্রেমের তাজমহল
আমার প্রেমের তাজমহল
আমার প্রেমের তাজমহল।
জানে ঈশ্বর জানে আল্লাহ
তোমার প্রেমের কত মূল্য
কিছু সৃষ্টি হয়নি ধরা
তোমার প্রেমের সমতূল্য
এই প্রেম যে কত গভীর
খুজে পায় না কোন তল
তার তীরে গড়বো আমি
আমার প্রেমের তাজমহল।
ছাদের উপর সবাই। পাভেলের চিলেকোঠা সবার আশ্রয়স্থল। তুহিন,হামজা জোর করে চলে গিয়েছে। শাহীন, পাভেল ও চায়নি ওদের ঝামেলায় রাখতে। চিলেকোঠায় এখন লিমন, পাভেল এবং কাব্য। শাহীন কিছুক্ষণ আগেই রুমে ফিরেছে। লিমনকে সবাই রুমে যাওয়ার জন্য বলছে। অথচ সে ঘাপটি মে*রে এক জায়গায় বসে আছে। উলটো কাব্যকে ধমকে বললো,
– কিসের রুম? এটা কোনো বিয়ে? আমি কাগজে কলমে সই করেছি এরচেয়ে বেশি কিছু নয়।
কথা বলতে বলতে বেরিয়ে আসে চিলেকোঠা থেকে তিনজন। আগামীকাল কি হবে তা নিয়ে চিন্তিত সবাই। হঠাৎ গানের গলা কানে আসায় ছাদের রেলিং ধরে তিনজনই উঁকি দেয় নিচে। কিছু দেখা যাচ্ছে না তবে গলা স্পষ্ট। কাব্য বলে উঠে,
– এটা বড় ভাইজানের গলা না?
লিমন স্তব্ধ। পাভেল মাথা নেড়ে বলে,
– হুম। ভাবীমা হয়তো স্বাভাবিক করতে চাইছে বসকে।
লিমন হেসে বললো,
– কি করলাম আমি এটা?
কাঁধে পাভেলের ভরসার হাত। ফোস করে দম ফেললো লিমন।
শাহীন – নওরীনও আজ বারান্দায়। নওরীনের মাথা শাহীনের কাঁধে। পুরো ঘটনা শোনার পর থেকে আগামীকাল নিয়ে শঙ্কিত। গানের ভারী গলা বাতাসে আরো ঝঙ্কার তুলেছে। নওরীন কাঁধ থেকে মাথা তুলে শাহীনের দিকে তাকায়। শাহীন নওরীনের দিকে। নওরীন প্রশ্ন ছুড়ে,
– কে গায়?
শাহীন ভ্রু কুচকে গানে মনোযোগ দিয়ে চোখ বুজে বললো,
– ভাইজান।
নিশ্চুপ কপোত-কপোতী। শাহীন আফসোসের স্বরে বললো,
– বড্ড আঘাত করে ফেলেছি আমরা প্রতিটি ভাই-বোন ভাইজানকে। মানুষটা আর ভরসা করবেনা। একটি বার জানালাম না।
নওরীন মলিন গলায় বললো,
– তোমার সব কাজে আমি পাশে ছিলাম। তবে এবারের কাজ টা ঠিক করোনি। মানুষটাকে সবাই মিলে কষ্ট দিয়েছো। ভেবেই কেমন যেন লাগছে লিমন ভাইয়া আর তাহি আপা? আসলেই কি এরা দুজন দুজনকে ভালোবাসে?
– লিমন বাসে আর তাহি ভরসা চায়। যা অন্য কেউ দিতে পারবেনা। সৃষ্টিকর্তাই সব ঠিক করার মালিক। আল্লাহ যেন সব ঠিক করে দেয় নিরা। আমি আমার পরিবারকে পূর্বের মত হাসিখুশি চাই। ভাইজানকে চাই ছাদ হিসেবে।
– ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছো ছাদের ইটগুলোকে। পুনরায় ভিত্তি গড়তে কতখানি সময় লাগে সেটাই দেখবার বিষয়।
– আল্লাহ ভরসা।
– আমিন।
আজানের স্পষ্ট বানী কানে আসছে, এলার্ম বাজছে। ফোন হাতড়ে দিয়া এলার্ম বন্ধ করে দেখলো শেহজা এখনো ঘুমে। পাশ ফিরে স্বামীর দিকে তাকিয়ে দেখছে মানুষটার আজ হুঁশ নেই। অন্য সময় দিয়াকে আগে ডেকে তুলে। অন্ধকারে ও অনুমান করতে পারছে মানুষটা কতটা ভেঙে গিয়েছে এক রাতের ঘটনায়। হালকা খোঁচাখোঁচা দাঁড়িতে হাত বুলিয়ে কপালে অধর ছোঁয়ায় দিয়া। এই তো গত বছর ও একা ঘুমিয়েছে অথচ আজ মানুষটা মিশে আছে তার মাঝে। শাহাদের ঘুমের অবস্থা দেখে দিয়ার ভীষণ হাসি পাচ্ছে। দুহাতে দিয়ার কোমড় পেঁচিয়ে ধরে আছে। মাথা দিয়ার বক্ষে। মানুষটার ঘুম দেখেই বুঝা যাচ্ছে রাতে ঘুমাই নি। হয়তো দিয়া ঘুমানোর পর ও জেগে ছিলো। শেহজাকে যেভাবে আদরে যত্নে বড় করেছে, তাহিকে তেমনি আগলে রেখেছিলো। তাহি এমন একটা কাজ করাতে মনের ভেতর কষ্ট লেগেছে। রাতে একটি কথাই তাহি সম্বন্ধে বলেছে,
– জানো ফারাহ্, তাহি আমার কাছে বোন কম মেয়ে ছিলো বেশি। ওর জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমার নেয়া। বড় হওয়ার পর ওকে আমি ছেড়ে দিয়েছি ঠিকই কিন্তু চোখে চোখে রেখেছি যদি কোনো ভুল করে বসে। রাশেদের হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে ছিলাম। রাশেদ ও চলে গেলো। এরপর ও মেয়েটা বিপথে যায় নি। আমি কি তবে খুব বড় ভুল করলাম নিলয়ের সাথে ওর বিয়ে ঠিক করে?
দিয়া রাতে অনেক বুঝিয়েছিলো। শেহজা উঠে যাওয়াতে পুনরায় শুয়ে পড়েছিলো। কি বুঝলো মানুষটাই জানে।
চিন্তাসব একপাশে ফেলে বর্তমানে দিয়া উঠার চেষ্টা করছে শাহাদকে না জাগিয়ে। হাতের বেষ্টনী আরো দৃঢ় হলো। দু হাতে দিয়াকে চেপে ধরে বললো,
– আর পাঁচ মিনিট পর ওঠো। নতুবা সত্যি নামাজের পর এই ঠান্ডা পানিতে গোসল করাবো।
– কিহ? আপনি ঘুমে নেই?
– উহু।
– নামাজের দেরি হচ্ছে।
– ওকে যাও।
শাহাদ দিয়াকে ছেড়ে দিলো। ভেঙচি দিয়ে দিয়া উঠে গিয়ে ওযূ করে এলো। দুজনে প্রাতঃকালের প্রার্থনা সেরে বসলো। শাহাদের মাথা ব্যাথা করছে শুনে এক কাপ কফি এনে দিলো। শেহজাকে খাইয়ে দিয়া উঠে যাবে ভেবেছিলো, মেয়েটা উঠতেই দিলোনা। শাহাদ ল্যাপটপে কাজ করছে এবং ব্ল্যাক কফিতে চুমুক দিচ্ছে। এক পর্যায়ে ল্যাপটপ বন্ধ করে কম্ফর্টারের ভেতরে এসে দিয়ার কোমড় ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো। দিয়া মুচড়ে উঠলো। আদুরে ধমক দিলো শাহাদ,
– মেয়ে ঘুমিয়েছে, একদম চুপ।
– মানে?
– বলেছিলাম না তখন পাঁচ মিনিট থাকতে, অমান্য করেছো। এখন শাস্তি।
দিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,
– এখন না প্লিজ উঠতে হবে।
নাস্তার টেবিলে কেউ বসছেনা। রায়হান সাহেব ব্যতীত বাকিরা চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে আছে। শাহাদ রুমের দরজা খুলে ডাইনিং এর দিকে এগিয়ে এসেছে।
সবার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিজের চেয়ার টেনে বসলো। ব্রেডে এক কামড় দিয়ে পুনরায় সবার দিকে তাকিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুঁড়ে বললো,
– এভাবে দাঁড়িয়ে কেনো? সার্কাস চলছে?
রায়হান সাহেব সবাইকে বসার ইঙ্গিত দিলেন। বারো চেয়ারের ডাইনিং টেবিল। দুই মাথায় দুজন বসে। শাহাদ এক মাথায়, অন্য মাথায় রায়হান সাহেব। সাবিনা এবং রত্না; সুলতানা কবিরের সাথে দাঁড়িয়ে আছে। শাহাদ খেয়ে টিস্যুতে মুখ মুছে সাবিনাকে বললো,
– খালাম্মা আপনার প্রথম ভুল এত বড় মেয়ের গায়ে হাত তুলেছেন লোক সম্মুখে। দ্বিতীয় ভুল মেয়ের মন না বুঝা। তৃতীয় ভুলকে ভুল বললে গুনাহ হবে পাপ বলতে হবে। বয়সের ব্যবধানটা কোনো মুখ্য বিষয়ই নয়। মেয়ে কেমন আছে,কেমন থাকবে এটাই প্রকৃত ব্যাপার হওয়া উচিত। এটাকে বড় ইস্যু বানাবেন না প্লিজ।
এক চুমুক কফি খেয়ে পরবর্তীতে তাকালো রত্নার দিকে। হাসি মুখে বললো,
– ছেলের চেয়ে বয়সে বড় বিধবা বউ মেনে নিতে কি খুব সমস্যা হবে চাচী আম্মু?
রত্না কাল থেকেই এই ব্যাপার মেনে নিতে পারছেনা। একে তো বয়সে বড় অন্যদিকে বিধবা। তার ছেলেটা কত সুন্দর। কেমন বেখাপ্পা লাগছে। মেয়ের কি এতই অভাব ছিলো? শাহাদের প্রশ্নে আজ রত্না মুখ খুললো,
– বাবা আমি সত্যি মেনে নিতে পারছিনা। আমার ছেলেটা অবিবাহিত। এরপর বয়সেও তিন চার বছরের বড় তাহি…
এর মাঝে লিমন একটু উচ্চস্বরে বলে উঠলো মাকে,
– আম্মু…
শাহাদ লিমনের দিকে তাকিয়ে সুউচ্চ স্বরে বজ্রকন্ঠে ধমকে বললো,
– এমন চ ড় দিবো বিছানা থেকে উঠতে পারবিনা,
বে য়া দপ। মায়ের সাথে কিভাবে আচরণ করতে হয় জানিস না?
কেঁপে উঠেছে ডাইনিং রুম। শেহজা চিৎকার দিয়ে উঠেছে। শেফালীর কোলে ছিলো। মেয়েটা বাবা বলে আরো জোরে কেঁদে উঠলো। শেফালীকে দিলো বজ্রধমক,
– সরা ওকে চোখের সামনে থেকে। কি লাভ এত আদর করে?
শেহজা কেঁদে দুহাত বাড়িয়ে চিৎকার করছে। শাহাদ এবার ধমক দিলো অবলা অবুঝ দুধের বাচ্চাটা কে,
– একদম চুপ। বেশি আদর করে মাথায় তুলে ফেলেছি।
থমকে গিয়েছে সকলের হৃদ স্পন্দন। শেহজাকে ধমকানোটা বাড়ির সকলের আত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছে। কি বুঝলো বাচ্চা মেয়েটা! কেঁপে উঠে হেচকি তুলছে। মুখের আওয়াজ বন্ধ করে দিয়েছে। মেয়েটার শরীর কাঁপছে। দু চোখে পানি। দু বছর হয়নি এখনো, তবে কাছাকাছি তো হয়েছে। এই বাচ্চা মেয়ে কি তবে বুঝলো বাবার ধমক! শেফালীর দুচোখ বেয়ে পানি ঝরছে। বুকের সাথে চেপে ধরলো শেহজাকে। ফুফুর বুকে মুখ লুকিয়ে ফেললো মেয়েটা। সুলতানা কবির শাড়ির আঁচলে মুখ ঢেকেছে। নওরীনের চোখে পানি। সাবিনা- রত্না যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। পাভেল – শাহীনের মাথা নত। লিমন যেন জমে কাঠ। তাহির আজ মনে হলো লিমনকে বিয়ে করার চেয়ে গলায়
দ ড়ি দেয়াই ভালো ছিলো। কালকের নিস্তব্ধতা তবে এই ঝড়ের আভাস। দিয়া শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দিয়া ব্যতীত প্রতিটি মানুষ আঁৎকে উঠেছে। শেফালীকে আস্তে বললো শেহজাকে নিয়ে যেতে। নওরীন ও চলে গেলো আবিরকে নিয়ে। ছেলেটা ভয়ে গুটিসুটি মে*রে গেছে।
লিমনকে ইঙ্গিত করে শাহাদ বললো,
– ফার্দার যদি দেখেছি মায়ের সাথে এভাবে কথা বলেছিস জিভ টেনে ছি ড়ে ফেলবো। কি পেয়েছিস তোরা? নিজেরা সব বুঝিস? আর তাহি? তুই আমাকে কেনো জানাস নি এসবের ব্যাপারে। তুই লিমনকে বিয়ে করবি জানালে কি আমি বাঁধা দিতাম নাকি ধরে বেঁধে বিয়ে দেয়ার ডিসিশন নিতাম। আমি খুশি হতাম এটা ভেবে যে আমার বোনটা এত বছর পর কিছু চাইছে আমার কাছে। তা না কি করলি নিজেরা বিয়ে করলি। মনে হয় যেন টিনেজ বাচ্চা। প্রমাণ করলি যে তোদের কেউ নেই। এতটা বছর ধরে যে দুজনের অভিভাবক হয়ে সব দায়িত্ব পালন করলাম সব বৃথা।শাহীনকে জানানো গেলে ব্যাপারটা আমাকে জানানো হয়নি কেনো? নাকি আমার স্নেহে গাফেলতি ছিলো। কোনটা?
তাহি কাঁদছে। গালে এখনো চ*ড়ের দাগ। দিয়া গ্লাসে পানি ঢালছে। শাহাদের প্লেটের পাশে রাখলো। এক ঢোক পানি গিললো শাহাদ। তাহি চোখ মুছে ভেজা গলায় বললো,
– ভাইজান আমি ভ য় পেয়েছিলাম।
– তাই? কেনো? আমি বাঘ না ভাল্লুক। এত বছর পাস নি তবে কাল কেনো পেলি?
লিমন এবার দাঁড়িয়ে বলে,
– ভাইজান আমাদের মাফ করে দেন। আপনি বললে আমি ডাক্তার তাহিকে ডিভোর্স দিয়ে…
এবারের থা*প্পড় টা লিমনের নাক ফাটিয়ে দিয়েছে। গালের ঠিক কোনপাশে লেগেছে আন্দাজ করা যাচ্ছেনা। থা প্প ড় ঘর থেকে পরিবর্তিত হয়ে সুলতানা মঞ্জিলের নাম থা প্পড় মঞ্জিল হয়ে গেলো। লিমনের নাক দিয়ে
র ক্ত ঝরছে। আঙুল তুলে শাহাদ শাসালো,
– বিয়ে করেছিস সম্পূর্ণ দায়িত্ব তোর। বুঝে শুনে শাহাদের বোনের গায়ে নিজের নামের ট্যাগ লাগিয়েছিস। ভুলেও যদি জানতে পারি ওর এক ফোঁটা চোখের পানির কারণ তুই, জ্যান্ত ক/ব/র দিব সুলতানা মঞ্জিলের মাটিতে মনে রাখিস।
তাহির দিকে ফিরে বললো,
সায়রে গর্জন পর্ব ৪৭
– বিয়ে যখন করেছিস নিশ্চয়ই সব জেনে করেছিস, লিমন শাহাদ ইমরোজের জানের টুকরা। লিমন বাচ্চা নয় যে ওর স্নেহের প্রয়োজন, স্বামী হিসেবে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা যেন ও পায়। তোর দ্বারা যদি আ ঘা ত পায় তবে শাহাদের সাথে তোর সেদিনই সব সম্পর্ক ছিন্ন হবে৷ ভুলে যাবি তুই শাহাদের বোন ছিলি।
হনহন করে হেঁটে বেরিয়ে গেলো। পেছনে ফিরলোনা। দিয়ার মুখে হাসি। বাকিরা স্তব্ধ। মুখের বুলি হারিয়ে ফেলেছে। ঠান্ডা মাথায় সমাধান করে দিয়ে গেলো। তবে যে ঝড় তুলেছে সেই ঝড়ের ধাক্কা সকলে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
