Home পৌষপার্বণ পৌষপার্বণ পর্ব ৭

পৌষপার্বণ পর্ব ৭

পৌষপার্বণ পর্ব ৭
Irfa Mahnaj

রাত যত বাড়ছে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পার্বণের অস্থিরতা। হাত মুঠো করে তালু ঘষছে সে। নিজেকে দমিয়ে রাখতে তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা।
চোখ বুঁজে লম্বা শ্বাস টেনেও যখন দেখলো কোনো কাজ হচ্ছে না ঠিক তখনই তড়াক করে চোখ মেলে তাকালো নিজের কাঁধের দিকে।
পৌষ নিশ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে আছে। পার্বণের কাঁধে মাথা দিয়ে রেখেছে। কিছুটা কাত হয়ে যাওয়ার দরুন ঠোঁট টা ঠিক পার্বণের ঘাড়ে ঠেকেছে।
ঠোঁট টা গোল হয়ে আছে যা এক পাশে মুখ চেপে থাকার কারণে ঠোঁটের ঠান্ডা স্পর্শ পার্বণের গলায় লাগে। জায়গাটা ভিজে গেছে।

সাথে নাক দিয়ে নিঃসৃত গরম নিঃশ্বাস গুলো আছড়ে পড়ছে পার্বণের গলা, ঘাড়ে।
এটুকু হলেও বুঝি হতো কিন্তু না সবচেয়ে ডেঞ্জারাস স্থানে পৌষের হাত গিয়ে ঠেকেছে। পার্বণের দুই হাঁটুর উপরে একদম তার সবচেয়ে দামি সম্পদটার উপর গিয়ে হাতটা পড়েছে।
বাসের ঝাকুনিতে আবার হাত টা হেলছে দুলছেও। সব মিলিয়ে পার্বণ এখন পাগলপ্রায়।
অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পথে। না এভাবে আর থাকা যাচ্ছে না। এই মেয়েটা ওকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে। একদম ছাই করে দিয়ে তবেই শান্ত হবে বোধহয়।
অনেক হয়েছে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ। আর নয়। নিয়ন্ত্রণের মায়রে বাপ করে পৌষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পার্বণ।
রুক্ষ পুরুষালী হাতের সাহায্যে পৌষের চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে নিকটে নিয়ে আসে পার্বণ। এরপরই দখল করে নেয় পৌষের ঠোঁট দুটো।

চোখ বুঁজে খুব আশ্লেষের সহিত পৌষের ঠোঁটের সুধা পান করছে। উন্মত্ত হয়ে আরো একটু গভীর ভাবে অধরে চাপ প্রয়োগ করলেও ধড়ফড়িয়ে উঠে পৌষ।
চোখ খুলে যায় তার। মস্তিষ্ক এখনো সক্রিয় নয়। বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে আর তার নরম অধর জোড়া দখল করে বসে আছে পার্বণ।
কয়েক মুহুর্ত ব্যবধানে ঘটনা বুঝতে পারলেই হাত দিয়ে পার্বণের গায়ে প্রহার করতে থাকে। থাপ্পড়, কিল দিলেও তা পার্বণের শরীরে কিছুই না।
দূরে ঠেললেও এক ইঞ্চিও নড়ে না পার্বণ। উল্টে ওর চাপ এবং ঘর্ষণ অধরে বাড়তে থাকে।
চোখ বুঁজে মনের সাধ মিটিয়ে সে পৌষের ঠোঁট শুষে যাচ্ছে। আজ এই অধরের মিষ্টি মধুর রস বুঝি ও সব নিজের ভিতর টেনে নিতে চাইছে।

পৌষের হাত বাঁধা দেওয়ায় ওর হাত দুটো নিজের এক হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে।
আস্তে আস্তে পৌষকে নিজের উরুর উপর উঠিয়ে ওকে নিজের সাথে চেপে ধরে পার্বণ। কিস অব্যাহত রেখেই সে কাজ করছে। এক চুলও সে ছাড়ছে না।
বাসের সব ঘুমিয়ে পড়েছে। বেশি মানুষ নেই আর যারা আছেন তারাও ঘুমিয়ে পড়েছে। লাইট অফ করে দেওয়া হয়েছে।
পৌষ আর পার্বণ বসেছিলোই বাসের একদম শেষ সিটটায়। সিটটা পুরোটাই ফাঁকা যেই তিনজন উঠেছিলো তারাও নেমে পড়ায় সুবিধাই হয়েছে।
ওদের সামনের চার সিট ও ফাঁকা থাকায় ওদের এই নিশ্বাসের আওয়াজ ও কেউ শুনতে পারছে না।
দুর্ভাগ্যবসত নাকি সৌভাগ্যবসত চৈত্র ও ভাদ্র এর সিটটাও পড়েছে সামনের দিকে।মানে পার্বণের জন্য সোনায় সোহাগা।

প্রায় পনেরো থেকে বিশ মিনিটের মত একাধারে ডিপলি কিস করে পৌষের অধর ছেড়েছে পার্বণ। তাও তার তৃপ্তি হয়নি।
পৌষের নাকের সাথে নাকে ঘষে গালেও নাক ঘষে, ছোট ছোট চুমু খায়। পৌষের গাল বোধহয় লাল হয়ে গেছে।
ও পার্বণকে যত ঠেলছে পার্বণ ওর পিছনে পিঠ বরাবর হাত দিয়ে ততো ওকে নিজের সাথে চেপে ধরছে।
আর পৌষ গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে ওর বুকের সাথে, শরীরের সাথে। মোচড়ামুচরি করতে করতে পৌষ বলে,
— ছাড় আমায় কি করছিস কি? এটা পাবলিক প্লেস।
এবারে পৌষকে পিছনের দিকে কিছুটা ঝুঁকিয়ে দিয়ে ওর কন্ঠদেশে কিস করে নেশালো গলায় জবাব দিলো পার্বণ,
— চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু আমি অসফল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মস্তিষ্ক লোপ পেয়েছে।
যেখানে এতক্ষণ কিস করছিলো সেখানেই এখন দন্তের চাপ বসিয়ে দিলে পৌষের গলা হতে “আহ” শব্দ বেরিয়ে আসে।

ভারি শ্বাস পড়ছে দুজনের। পার্বণের হাতের বিচরণ ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। বেসামাল স্পর্শে ওকে নাজুক করে দিচ্ছে।
পৌষের ঘাড়ে, গলায় কখনো নাক ঘষছে, কখনো কিস করছে, কখনো বাইট দিচ্ছে। মোট কথা যেখানেই ধরছে সেখানেই চাপ ফেলে দিচ্ছে পার্বণ।
পৌষকে এবার উল্টো দিকে ঘুরিয়ে নিজের কোলে বসায় পার্বণ। হাত উঠিয়ে রাখে ওর জামার চেইনে।
পৌষ বাঁধা দিলেও ওর বাধার ধার ধারে না পার্বণ। ওকে নিজের মতো করে নিজের সাথেই চেপে রাখে।
চেইন ধরে এক টানে খুলে ফেললেই উন্মুক্ত হয় ফর্সা পিঠ। অন্ধকার থাকলেও বাসের জানালার পর্দার ফাঁক গলে আসা সামান্য চাঁদের আলোয় পৌষের আকর্ষণীয় পিঠ স্পষ্ট দেখতে পায় পার্বণ।
ওর চোখে স্পষ্ট নিষিদ্ধ চাওয়া। এতো কাছে উন্মুক্ত নারী দেহ। ভিতরের পৌরুষ টা শান্তি দিচ্ছে না।
উত্তেজনা বেড়েই যাচ্ছে। ঢোক গিললে পার্বণের এডামস অ্যাপল টাও উপর নিচ হয়। আস্তে আস্তে নিজের মুখ এগিয়ে নেয় পৌষের পিঠে।

অন্ত*র্বা*সের ঠিক উপরে থাকা একটা ছোট্ট তিল যেটায় এক গভীর, প্রগাঢ় চুমু খায়। কিছুটা সময় নিয়েই চুমু খাওয়া শেষ করে।
পরপরই নিজের ভ্যাম্পায়ারের মত দাঁত টা বসিয়ে দেয় সেথায়। এদিকে পৌষ ব্যথায় জামা মুঠো করে চেপে ধরে।
মুখ দিয়ে তার বের হয় ব্যাথাতুর ধ্বনি। পার্বণ যে জায়গায় ধরছে ব্যথা বানিয়ে ছাড়ছে। না সহ্য করা যায় না।
বহু কষ্টে মুখ থেকে কয়েকটি শব্দ আওড়ায়,

— ব্যথা পাচ্ছি আমি কিন্তু।
পিঠে অনবরত চুমু দিচ্ছে পার্বণ। সেভাবেই পৌষের কথার পৃষ্ঠে বলে,
— পা। একটু ব্যাথা পেলে কিছু হয়না। আদর করলাম প্রমাণ না রাখলে কিসের আদর।
পার্বণের এহেন বেসামাল, বেপরোয়া আদর সহ্য করতে পারছে না পৌষ। তার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসে।
কিন্ত এসবও থামাতে পারে না পার্বণকে। সে উল্টো আরো বেশি উন্মাদ হচ্ছে।
আর এই উন্মাদনা থেকেই ঘটিয়ে ফেলে এক ভয়ানক কাজ।
পৌষের পরিধেয় অ*ন্তর্বা*স টির হুক খুলে ফেলে। ব্যস পৌষ পুরো জমে যায়। অস্ফুটে শুধু বলে,
— নাহ!

পার্বণ যেনো তা শুনেও শুনলো না। সে এবার উন্মুক্ত সেই জায়গাটায় নাক ঘষে। তারপর লম্বা শ্বাস টেনে মেয়েলি সুন্দর গন্ধটা ভিতরে পুড়ে।
প্রথমে ছোট ছোট চুমু দেয়। পরে সময় নিয়ে গভীর চুমু খায়। সেখানেও দন্তপাটির লাল চিহ্ন বসিয়ে দেয়।
ফর্সা শরীরে দাঁত বসানোয় সেখানে যে দাঁতের দাগ পড়েছে আর জায়গাটা লাল হয়ে গেছে দেখতে বেশ লাগছে।
কেনো জানি এই সিল গুলো খুব সুন্দর লাগছে, বিশেষ করে পৌষের দেহে পার্বণের করা চিহ্ন গুলো একটু বেশিই ফুটে উঠছে।

পৌষপার্বণ পর্ব ৬

সন্তুষ্ট দেখা গেলেও তৃপ্ত নয় পার্বণ। সে পৌষকে কাছে চায়। আরো কাছে। যতোটা কাছে থাকলে পৌষ ওকে উপলব্ধি করতে পারবে।
যতোটা কাছে থাকলে একজন আরেকজনের সত্ত্বার খুব কাছে থাকবে। যেথায় ইঞ্চি পরিমাণ ফাঁকও থাকবে না তাদের দেহ দুইয়ের মাঝে।

পৌষপার্বণ পর্ব ৭ (২)