Home জাহানারা জাহানারা পর্ব ৫০

জাহানারা পর্ব ৫০

জাহানারা পর্ব ৫০
জান্নাত মুন

ব্যস্ত নগরী। রাতেও চারদিকে আলোর খেলা। সড়ক-মহাসড়ক আর ফ্লাইওভারজুড়ে যানবাহনগুলো ছুটে চলেছে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।ঢাকা উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে চৌধুরী বাড়ির অবস্থান। বিশাল আয়তনের এই অট্টালিকা যেন গর্বভরে শির তুলায় দাঁড়িয়ে আছে। সারা বাড়িটা আলোয় ঝলমল করছে, তার সেই সৌন্দর্য যে কারো চোখ ধাঁধিয়ে দেবে।চারদিক ঘিরে সশস্ত্র কালো পোশাকধারী গার্ডদের সতর্ক দৃষ্টি। গেইটের দু’পাশের গার্ডরা দরজা খুলতেই কালো কুচকুচে মার্সিডিজটা হুরমুর করে ঢুকে পড়ল চৌধুরী মেনশনের ভেতরে।
ইফান পার্কিং লটে গাড়ি থামাতেই আমি ঝটপট নেমে পড়লাম।ইফান কিছু বলার আগেই দ্রুত পায়ে সামনে হেঁটে এগিয়ে গেলাম।ইফান হেসে পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলতে লাগলো,

–“এই যে ঝাঁঝওয়ালি, বি কেয়ারফুল।হোটচ খেয়ে পড়ে যাবে তো বেইবি।আজ কিন্তু আমি ব্যথা দেওয়ার আগে ব্যথা পেলে চলবে না।”
আমি ঝটপট পিছনে ফিরে দাঁত কটমট করে বললাম,”শা’লা লু’চ্চা। তুই কোনোদিন মানুষ হবি না।”
নিজের কথা শেষ করেই পার্কিং এরিয়া ত্যাগ করলাম।যাওয়ার সময় ইফানের উচ্চ স্বরে হাসি কানে আসে।
আমি রাগে গজগজ করতে করতে কলিং বেল বাজালাম।প্রথমবারে কেউ দরজা খুললো না।মেজাজ আরও গরম হয়ে গেলো।তাই একনাগাড়ে বেশ কয়েকবার চাপতেই দরজা খুললো।
“কি ব্যপার এত দেরি……!!”
বাকি কথা আর সম্পূর্ণ করতে পারলাম না।তার আগেই নজরে পড়ে সামনে থাকা ব্যক্তির উপর। আমি অবাক নয়নে অস্পষ্ট ভাবে বললাম,”মীরা আপু!!”

মীরা হেসে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো,”ওহ্ ডিয়ার ভাবিজান। ডোন্ট কল মি আপু।হতে পারি তোমার সিনিয়র।বাট তুমি আমার বড় ভাইয়ের ওয়াইফ।সো অলওয়েজ আমার নাম ধরেই ডাকতে পার কেমন।”
মীরা আমাকে ছেড়ে দাঁড়াল।আমি মিষ্টি হাসি দিয়ে বললাম,”আচ্ছা বাবা ঠিক আছে।তো হঠাৎ দেশে ফিরলে যে।আমি তো ভেবেছিলাম এ জীবনে বড় ননদিনীর সাথে সামনাসামনি দেখা হবে না।”
মীরা মন ভুলানো হাসি দিয়ে বললো,”ওও সুইটি তোমাকে দেখার জন্যই তো হঠাৎ ডিসিশন চেইঞ্জ করে ভাইয়ার সাথে প্ল্যান ছড়াই দেশে ফিরা।”

–“ওও আচ্ছা বুঝলাম সবাই খালি বড় ভাবির কথায় ভাবে। আমি বুঝি কেউ না?”
আমার আর মীরার কথার মাঝেই পলি হাজির।মীরা হেসে পলির বাহু হালকা জড়িয়ে ধরে বললো,”ও মাই গড, তুমি তো আমার সুইটহার্ট।তোমার কথা ভাববো না কেন!এক্টচুয়ালি আমি তোমাদেরকে দেখার জন্যই আসলাম।”
আমরা তিনজন কথা বলতে বলতে ড্রয়িং রুমে আসলাম।আগে থেকেই চৌধুরী বাড়ির কিছু সদস্য সেখানে উপস্থিত।আমাকে দেখেই নাবিলা চৌধুরী মুখ অন্ধকার করে ফেললো।ছয়মাস আগে বাপের বাড়ি থেকে চৌধুরী বাড়িতে আসার পর নাবিলা চৌধুরী আর আমার সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে।কথায় কথায় আমাদের ঝগড়া।আর সেই ঝগড়ার মূল কারণ থাকে ইফান।আমি নাকি তার ছেলেকে আচলে বেঁধে মায়ের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি!!
নাবিলা চৌধুরী আর আমি দুজনেই মুখ মুচড়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম।
আমাকে দেখা মাত্রই সোফায় বসে থাকা মাহিন দাঁড়িয়ে কাছে এসে কুর্নিশ জানিয়ে বললো,”মাননীয় ভাবি জান কি খবর,ভালো আছেন?এই অবিবাহিত মাসুম দেবরটাকে ভুলে যাননি তো নাকি?”
মাহিনের কথায় হেসে দিলাম।তিন মাস আগে ইফান দেশের বাইরে যাওয়ার চারদিনের মাথায় মাহিনও দেশ ছাড়ে।

–“তো ভায়া এবার বিয়েসাদী করে নাও।আর কতকাল বউ হীনা জীবন পাড়ি দিবে?”
মাহিন বুকে হাত ধরে আফসোসের সুরে বললো,”উফফ ভাবি আপনার মতো করে কেউ আর বিয়ের কথা বলে না গো।নাহলে আমারও তো একটা টুকটুকে বউ থাকতো।এবার আমার বিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব টা আপনিই নেন।”
–“সে তো আমিই নিব।তোমার বিয়ে দিয়ে তো আবার আমার বড় ননদিনী কেও বিয়ে দিতে হবে নাকি?”
আমার কথাটা শুনা মাত্রই এতক্ষণ হাসিখুশি থাকা মীরার চেহারা মলিন হয়ে গেলো।মনিরা বেগম আমার কাছে এসে বললো,”এত দিনে ঠিক জায়গায় দায়িত্ব পড়লো।শুন বড় বউমা, এবার তুমিই দেবরের বিয়ের ব্যবস্থা কর।আমরা বললে তো আবার এখন না,এখন না করে।পাজি ছেলে এখন ভাবির কাছে বিয়ে করানোর আবদার করেছে।”

–“আরে আমার বেটা।”
মাহিনকে নিয়ে সবাই হাসিঠাট্টা করছে।তখনই নাবিলা চৌধুরীর কন্ঠ কানে আসে।আমি সহ সকলেই নাবিলা চৌধুরীর দৃষ্টি অনুযায়ী দরজার দিকে তাকাতেই দেখলাম ইফান ভেতরে আসছে।ইফান ভেতরে আসতে আসতে একবার আমার দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে তার মায়ের দিকে রাখলো।দু’হাত মেলে ধরে বললো,
–“ওহ্ ডিয়ার মম।”
নাবিলা চৌধুরী ছুটে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরলো।ইফান মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে চুমু খেয়ে বললো,”হাউ আর ইউ মম?”

নাবিলা চৌধুরী আধিক্যেতা দেখিয়ে বলতে লাগলো,”ওহ্ মাই সন আ’ম ফাইন।বাট আই মিস ইউ সো মাচ।এতগুলো দিন কোনো যোগাযোগ কর নি কেন বেটা?”
নাবিলা চৌধুরীর কথা শুনে ইফান আমার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে হেয়ালি করে প্রতিত্তোর করলো,”যে সাঙ্ঘাতিক জিনিস খাইয়ে পড়িয়ে পালছি মনে হয় না পরের বার আর ফিরা হবে।”
ইফানের কথার মানে কেউ বুঝলো কি বুঝলনা জানা নেই। তবে এতক্ষণ সোফায় চুপচাপ বসে ফোন টিপতে থাকা নুলক চৌধুরী আড় চোখে আমার দিকে তাকালো। এদিকে ইফানের দিকে চোখ সরিয়ে আরেক পাশে তাকাতেই নুলক চৌধুরীর সাথে আমার চোখাচোখি। সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।অনুভূতিহীন নুলক চৌধুরী দৃষ্টি সরিয়ে আবারো ফোন টিপায় মনযোগ দিলো।
নোহাকে নিয়ে চৌধুরী বাড়ি ফেরার পরদিনই নুলক চৌধুরী অসুস্থ পঙ্কি আর নোহাকে নিয়ে লন্ডন বেক করে।গত সপ্তাহে দেশে এসেছেন এই ভদ্র মহিলা। তবে নোহা আর পঙ্কি এবার আসে নি।আমার কাছে যতদিন যাচ্ছে নুলক চৌধুরী তত রহস্যময় হয়ে উঠছে।আমি উনাকে নিয়ে যতই হিসাব মিলাতে যাই ততই তা গোলমেলে হয়ে যায়।
আমার ভাবনার ছেদ ঘটে নাবিলা চৌধুরীর কথায়,

–“তুমি ছেলে না বাবা, এই মেয়ে যে কি কি করেছে তার কোনো আইডিয়া আছে তোমার।ও মাই গড, আমি বলেই ওকে দেখেশুনে রাখতে পেরেছি।”
নাবিলা চৌধুরীর কথা শেষ হতে না হতেই আমি সবার সামনে হোহো করে হেসে দিলাম।সবাই আমার দিকে তাকিয়ে। কেউ বুঝতে পারছে না হাসার কারণ। আমি এক আঙ্গুল নাবিলা চৌধুরীর দিকে তাক করে হাসতে হাসতে বলালম,
–“এত বড় ডাহা মিথ্যা কিভাবে বললেন সাসু মা!আপনি তো এই বয়সেও বাবার পিছনে স্টক মেরেই সময় পান না। আমাকে দেখে রাখতেন কখন!!”
আমার কথা শুনে সকলে ঠোঁট টিপে হাসছে।নুলক চৌধুরী চোখেমুখে বিরক্তি নিয়ে লিভিং রুম ত্যাগ করলো।নাবিলা চৌধুরী রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চেচিয়ে উঠলো,

–“অসভ্য বেয়া……”
বাক্য সম্পন্ন হওয়ার আগেই কয়েকজন গার্ড মেলা থেকে নিয়ে আসা জিনিসগুলো ভেতরে নিয়ে আসলো।সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।গার্ডগুলো জিনিস গুলো রেখে চলে যেতেই নাবিলা চৌধুরী শুধালো,
–“হোয়াট ইজ দিস?”
আমি ছুটে গিয়ে বললাম,”এগুলো আমার জন্য।আপনার ছেলে তো আমাকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলো।কেন আপনি জানেন না?”
নাবিলা চৌধুরী ছেলের দিকে তাকালো।আমি আবারো বলে উঠলাম,”আহারে আপনি কিছুই দেখছি জানেন না।আপনার ছেলে তো দেশে আসার পর থেকে আমার সাথেই ছিলো।আজ আমরা কত ঘুরাঘুরি করলাম…”
আমি থামলাম।ইফানের বুকে এক আঙ্গুল দিয়ে ধাক্কা দিতে দিতে নাটকীয় ভঙ্গিমায় বললাম,”এটা তুমি একদমই ঠিক করো নি ইফান।তোমার উচিত ছিলো আমার একমাত্র সাসু মাকে নিয়ে যাওয়া।”
নাবিলা চৌধুরী আমার কথা শুনে রাগে ফুঁসছে।আমি ওনার রাগ বাড়াতে বলে উঠলাম,”মন খারাপ করবেন না।ছেলে নিয়ে যায় নি তো কি হয়েছে আপনার জামাই তো আছে…..”

আমি থামলাম।ভুলাভালা চেহারা করে বললাম,”কিন্তু বাবা তো আপনাকে দেখলেই এভাবে কাঁপে…আমি নাটকীয় ভঙ্গিমায় দু’হাত সামনে ধরে চোখ উল্টে শরীর কাঁপিয়ে দেখালাম।এটা দেখে ইফান মাথার চুল এলোমেলো করে দিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসতে হাসতে নিজের রুমে যাওয়া ধরলো।এদিকে পলি আমার কাঁপুনি দেখে নিজের চাপা হাসি চেপে রাখতে পারলো না।
হাসির আওয়াজ নাবিলা চৌধুরীর কানে পৌঁছাতেই তিনি চিৎকার করে উঠলেন,”এই মেয়ে চুপ। একদম চুপ।তোরা দু’জনেই কুচক্রী। তোরা আমার সুখের সংসারে আগুন লাগাতে এসেছিস।”
নাবিলা চৌধুরীর ধমকে সকলের হাসি বন্ধ হয়ে গেলো।দাদি মুখ মুচড়ে মুখে আচল টেনে ধরলো।মাহিন হেসে শুকনো কাশতে কাশতে লিভিং রুম ত্যাগ করলো।আমি মেলা থেকে আনা জিনিসগুলো থেকে সবাই কে এটা ওটা দিচ্ছি।নাবিলা চৌধুরী বুকে হাত গুঁজে আড় চোখে সবটা দেখলো।অতঃপর গজগজ করতে করতে চলে যেতে নিলেই আমি ঢেকে উঠলাম,

–“আরে সাসুমা আপনি চলে যাচ্ছেন কেন?আমি তো আপনার জন্যও স্পেশাল গিফট আনলাম।”
আমার ডাক শুনে নাবিলা চৌধুরী থামলো।শাড়ির আচল কাঁধে তুলে পিছনে ফিরে গম্ভীর ভঙ্গিমায় আমাকে পরক করলো।আমি দাঁত বের করে ওনার কাছে এগিয়ে গিয়ে বললাম,”আপনি কি ভেবেছিলেন সাসুমা, আপনার সোনা বউমা আপনার জন্য কিছুই আনবে না?একদমই না।আমি তো আপনার জন্য খুঁজে খুঁজে একদম বেস্ট একটা জিনিস এনেছি ওয়েট!”
আমি জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজিয়ে আমার সাইট ব্যাগটা থেকে টুক করে একটা বেলান বের করলাম।তারপর সেটা নাবিলা চৌধুরীর চোখের সামনে ধরতেই তিনি রেগে ফায়ার।আমি বাচ্চা চেহারা করে চোখ পিটপিট করলাম।নাবিলা চৌধুরী ফুঁসতে ফুঁসতে যেতে যেতে বললো,
–“অস’ভ্য বে’য়া’দব ঢিঙ্গি মেয়ে কোথাকার!!”
বাড়ির সকলেই হো হো করে হেসে ওঠলাম।তখনই নাবিলা চৌধুরী আবার ফেরত আসলো।আমরা হাসি থামিয়ে দিলাম তৎক্ষনাৎ। নাবিলা চৌধুরী বাড়ির সবাই কে চোখ রাঙিয়ে আমার দিকে সরু চোখে তাকালো।পরপরই টুক করে আমার হাতের বেলানটা নিয়ে যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই চলে গেলো।

আমি রুমে গিয়ে দেখলাম ইফান নেই।নাকে সিগারেটের বি’চ্ছি’রি গন্ধ আসছে।বুঝতে পারলাম ইফান বেলকনিতে।আমি কাঁধের ব্যগটা রেখে বেঁধে রাখা খোঁপাটা খুললাম।সাথে সাথে লম্বা ঘন চুলগুলো কোমর ছাড়িয়ে পড়লো।আমি শাড়ির আচল দিয়ে সারা মুখটা মুছে নিলাম।ফর্সা ত্বক লালচে হয়ে আছে।সারাদিন বাইরে দৌড়ঝাঁপ করায় এই অবস্থা।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁধ থেকে সেফটিপিন খুলছি।হঠাৎই মনে হলো দরজার কাছে কেউ আছে।আমার হাতটা থেমে গেলো।এটা হয়ে আসছে বহুদিন ধরে।বাইরে গেলেই দেখি কেউ নেই।আমি মাথা হালকা বাকিয়ে বেলকনিতে দৃষ্টি রাখলাম।না ইফানের কোনো সারা শব্দ পেলাম না।তবে সিগারেটের গন্ধ এখনো আসছে।আমি পিছন ফিরে দরজার দিকে তাকাতেই মনে হলো কেউ একজন সরে গেছে। আমি ধীর পায়ে দরজার এক পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম।কয়েক মিনিট পর আবার উপলব্ধি করলাম দরজার বাইরে কেউ দাঁড়িয়ে। আমি তৎক্ষনাৎ দরজা খুলতেই কাজের মেয়ে লতা আঁতকে উঠল।
লতাকে দরজার সামনে দেখে আমি মোটেও অবাক হলাম না।কারণ আমার ধরনা ছিলো আজকেও লতাকেই পাব।আজ এ নিয়ে চারবার লতাকে আমি দরজার সামনে পেয়েছি।সব দিনেই লতার থেকে উত্তর আসে আমাকে ডাকতে কিংবা এটা ওটা দিতে এসেছে।আজও তার ব্যতিক্রম নয়।লতার হাতে শরবতের গ্লাস। লতা আমাকে দেখে হেসে বললো,

–“আপা আপনার জন্য কাকি আম্মা শরবত পাঠিয়েছে।”
–“কখন এসেছে এখানে?”
লতা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বললো,” জি আপা একটু আগে।স্যার বাড়িতে দেইখা আপনারে ডাকার সাহস পাচ্ছিলাম না।”
লতার কথায় মৃদু হাসলাম।তারপর জহরি চোখে পরক করতে করতে ট্রে থেকে শরবতের একটা গ্লাস নিলাম।
–“তুমি আসতে পার।”
–“স্যার খাবে না।”
–“মনে হয় না।”
–“তাহলে আমি আসি আপা।দরকার লাগলে আমারে ডাক দিয়েন।আর ফেশ হয়ে নিচে আয়া পড়েন। রাতের খাবার রেডি হয়া গেছে।”
–“ওটা ফেশ নয় ফ্রেশ।”
লতার কথায় ভুল ধরায় হেসে লজ্জায় মাথা নিচু করে তাড়াতাড়ি চলে গেলো।আমি ওর যাওয়ার দিকে চেয়ে বিরবির করলাম,”ঘাপলা আছে…”

–“সে তো আছেই।বিশাল এক ঘাপলা। তবে সেটা তোমার মধ্যে বুলবুলি। ”
হঠাৎই পিছন থেকে ইফান এসে জড়িয়ে ধরলো।আমার ঘারে মুখ ডুবাতেই নাকে আসলো সিগা’রে’টের বাজে গন্ধ।আমার বমি এসে যাওয়ার উপক্রম।আমি ঠেলে ইফানকে আমার থেকে সরিয়ে দূরে সরে গেলাম।ইফান গা দুলিয়ে হেসে দিলো।আমি নাকে আচল টেনে ধরে।ইফান আমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো,
–“কি হলো ঝাঁঝওয়ালি কাছে আস।”
–“ছিহ্যা দূরে থাক।কি বাজে গন্ধ।”
আমি বমি করার মতো চোখমুখ কুঁচকে নিলাম।ইফান আমার কোমর জড়িয়ে ধরে বললো,”এই কদিনেই আমার ফ্লেভার ভুলে গেছ জান।কোনো ব্যপার না আজ থেকে আবার অভ্যস হয়ে যাবে।”
আমি ইফানকে সরিয়ে আরেকটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালাম।নাকে আঁচল ধরে রেখেই ইফানকে বললাম,”সবসময় ফাইজলামি ভালো লাগে না।সামনে থেকে সরে দাঁড়ান গোসল করতে যাব।”

–“এখনই কিসের গোসল, গোসল তো শেষরাতে করবে…..ইফান থামলো।একটু ভেবে জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলতে ঠেলতে হাস্কি স্বরে বললো,”উমম এখন গোসল করা প্রয়োজন।চল এক রাউন্ড খেলে একসাথেই গোসল করে নেই।”
আমি দাঁত কটমট করলাম।ইফান গা দুলিয়ে হাসতে লাগলো।আমি মনে মনে অ’শ্রা’ব্য ভাষায় আচ্ছা মত কয়েকটা গালি দিয়ে দিলাম।টায়ার্ড লাগছে,সাওয়ার নেওয়া প্রয়োজন।আমি হাতের গ্লাসের শরবতটা এক চুমুকে খেতে লাগলাম।খাওয়ার সময় কিছুটা শরবত মুখ থেকে থুতনি গলা বেয়ে বুকের মাঝখান দিয়ে ব্লাউজের ভেতর চলে গেলো।ইফান এটা দেখে বারবার ঢুক গিলতে লাগলো।
আমি ঠান্ডা শরবতটা খেয়ে তৃপ্তি পেলাম।বেখেয়ালি সামনে তাকাতেই ইফানের উপর চোখ আটকালো।কি অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে। ইফানের দৃষ্টি অনুযায়ী আমি তাকাতেই দেখি আমার গলা ভিজে আছে।আমি তাড়াতাড়ি মুছতে নিলেই ইফান আচমকা এসে আমার হাত ধরে আটকে নিলো।ইফানের ধূসর বর্ণের চোখগুলো কেমন লালচে বর্ণ ধারণ করেছে।আমি আমতা আমতা করে বললাম,

–“ক কি হয়েছে তোমার?”
ইফান আমার ভেজা গলা আর বু’কের দিকে চেয়ে থেকেই হিসহিসিয়ে উত্তর করলো,
–“বেইব, আই’ম থার্স্টি।”
–“পা পানি খা….”
বাকি কথা বলার আগেই ইফান আমার ঠোঁটের পানি জিহ্বা দিয়ে চেটে নিতে লাগলো।তারপর আস্তে আস্তে থুতনি, গলা আর তার নিচের যতটুকু পর্যন্ত উন্মুক্ত ছিলো,তার সবটা জায়গার লেগে থাকা শরবত জিহ্বা দিয়ে চেটে নিলো।এক হাতে আমার শাড়ির আচল বুক থেকে সরিয়ে দিলো।ইফানের মুখ ব্লাউজের কাছে এসে থামলো।সে একটা বোতাম খুলতে নিলেই আমি লাফ মেরে দূরে সরে বুকে আঁচল টেনে নিলাম।
আমি সেই আগের উন্মাদ ইফানকে দেখতে পারছি।আমি ঢোক গিললাম।ইফান বিরক্ত নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

–“আমার তৃষ্ণা এখনো মিটে নি।”
আমি তাড়াতাড়ি শাড়ির আচল দিয়ে সেঁতসেঁতে সবটা জায়গা মুছে নিলাম।আমার মুখে সিগা’রে’টের গন্ধ লেগে গেছে। বমি চলে আসার উপক্রম। আমি চোখমুখ খিচকে ওয়াক ওয়াক করতে করতে কাভার্ড থেকে জামাকাপড় বের করলাম।ইফান আমার হাত থেকে কাপড়গুলো নিয়ে বিছানায় ফেলে দিলো।আমি বিরক্ত নিয়ে বললাম,
–“ইফান আমার বমি চলে আসছে।যেতে দাও আমায়।”
ইফান আমার আরও কাছে এগিয়ে আসছে। হঠাৎই আমার নজরে পড়লো ইফানের কাঁধে।এতক্ষণ খেয়াল করি নি ইফানকে।তার পরনে শুধু একটা পেন্ট তাও আবার নিম্নাংশে নেমে আছে।তার পেশিবহুল দেহের গঠন অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে।আগের চেয়ে তার পেশি আরও ফুলে উঠেছে। হয় তো মোটা হয়েছে।কিন্তু আমার নজর তো ওর কাঁধে যেখানে গভীর এক ক্ষত।যদিও ওর সারা দেহে অনেক আঘাতের চিহ্ন।কিন্তু এটা নতুন। আমি ঠোঁট ভিজিয়ে মনের বিরুদ্ধে গিয়েও জিগ্যেস করলাম,

–“কাঁধে কি হয়েছে তোমার?”
ইফান আমার বাহুতে ধরে আয়নার সামনে দাঁড় করালো।আমি আয়নাতে প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। ইফান হালকা হেসে তার পেন্টের পিছনের পকেট থেকে কিছু একটা নিয়ে আমার চোখের সামনে ধরলো।একটা গাঢ় নীল রঙের নেকলেস।এটা দেখা মাত্রই আমার চোখ ধাঁধিয়ে গেলো।এমন পাথর আমি জীবনেও দেখিনি।গাঢ় নীল রঙা পাথরটিকে ঘিরে আছে ছোট ছোট অনেকগুলো সাদা চকচকে পাথর।নেকলেসটা আমার চোখের সামনে ঝিলিক দিচ্ছে। মনে হচ্ছে কোনো নক্ষত্র আমার চোখের সামনে।
হঠাৎই মনে পড়লো নেকলেসটা কোথাও একটা দেখেছি।ওও হ্যা মনে পড়েছে, এটা তো আমি নিউজে দেখেছি।বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পাথর।প্রাইজ ৩৫০ মিলিয়ন এর মতো। বাংলাদেশি টাকায় এটার প্রাইজ প্রায় ৪২০০ কোটির মতো পড়বে।এটি বিশ্বে একটি মাত্রই আছে।কিন্তু সেটা তো যুক্তরাষ্ট্রের একটা মিউজিয়ামে ছিলো যা কয়েকমাস আগে চুরি হয়েছে।
আমি আর ভাবতে পারছি না।গাঢ় নীল ডায়মন্ডের নেকলেস থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আয়নায় ইফানের দিকে তাকিয়ে অবাক কন্ঠে শুধালাম,

–“এ এটা… ”
–“হোপ ডায়মন্ড।যা শুধু তোমার জন্য পৃথিবীতে এক পিসই আছে।”
ইফান বলতে বলতে আমার গলায় নেকলেসটা পড়িয়ে দিলো।আমি কোনো কথা বলার ভাষায় নেই। মানে এটা ইফান চুরি করেছে।আমি চেষ্টা করছি ঢোক গিলার গিলতে পারছি না।ইফান আমার গলায় নেকলেসটা পড়িয়ে দিয়ে কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি স্বরে হিসহিসিয়ে বললো,
–“লুক বেইবি।বলেছিলাম না পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিস গুলো আমার বুলবুলি কেই সুট করে।দেখলে তো!!”
আমি খুব কষ্টে একটা শুকনো ঢোক গিলে আস্তে আস্তে বললাম,
–“ত তুমি এটা চুরি করেছ!!”

আমার কথায় ইফানের চোখ সরু হয়ে গেলো।আমার বোকা কথা শুনে অবাক হয়ে বললো,”হোয়াট দ্যা ফা*ক বউ!চু’রি করতে যাব কেন?আমার যা লাগে আমি ছি’নিয়ে নেই।”
আমি কিছু আর না বলে গলার নেকলেস টা খুলতে নিলেই ইফান আমার হাত ধরে নেয়। আমি আয়নাতে তাকাতেই ইফান শক্ত কন্ঠে বললো,”ডোন্ট টাচ।এটাতে তোমায় সুন্দর লাগছে।”
আমি বলার কিছু খুঁজে পাচ্ছি না। ভাবা যায় কি সা’ঙ্ঘা’তিক লোক এই ইফান চৌধুরী।আমার অবাক দৃষ্টি নিজের গলাতেই।গাঢ় নীল নেকলেস গলায় ঝলমল করছে।আমার সৌন্দর্যকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমার অবাক দৃষ্টি দেখে ইফান আমার কানের লতিতে দাঁত বাসিয়ে গাঢ় চুম্বন এঁকে হিসহিসিয়ে বললো,
❝তোর থেকে এক দফা রতির আশায় আয়ু ফুরিয়ে এলো।অথচ তোর রক্তক্ষয়ী অক্ষিজোগলে আমার জন্য দুর্ভেদ্য ঘৃণা ছাড়া কিছুই দেখতে পেলাম না…❞
ইফান নিজের বাক্য সম্পন্ন করেই আমার মাথায় শব্দ করে চুমু খেয়ে ওয়াশরুমের উদ্দেশ্য চলে গেলো।আমি ঘার বাকিয়ে ইফানের যাওয়ার পানে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম।

বিছানার মাঝখানে উপর হয়ে শুইয়ে আছে ইতি।তার দু’হাতের মাঝে পিংক কালার একটা টেডিবিয়ার। তার লাজুকতায় ভরপুর চোখ দুটো সেটাতেই নিবদ্ধ। ইতি এক আঙ্গুল দিয়ে টেডিবিয়ারের নাকে আল্তো টাচ করতেই দুনিয়ার সকল লাজ তাকে ঘিরে ধরেছে।ইতি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে চোখ বন্ধ করে ফেললো।গাল দুটো লাল টকটকে বর্ণ ধারণ করেছে।
রুমের দরজা খোলা থাকায় আমি ভেতরে এসে দেখি ইতি টেডিবিয়ার সামনে রেখে চোখ বন্ধ করে শুইয়ে।আমি কিছু না বলে আস্তে আস্তে ওর পাশে গিয়ে বসলাম।চোখ বন্ধ রেখেই মেয়েটা মুচকি হাসছে।আবার চোখমুখ কুঁচকে নিচ্ছে।আচ্ছা ইতি কি কোনো কারণে লজ্জা পাচ্ছে!
–“ইতি, মা খাওয়ার জন্য তোমাকে ডাকছে।”
পলির কন্ঠ শুনেই মেয়েটা আঁতকে উঠল। আমি পিছন থেকে হালকা জড়িয়ে ধরে বললাম,”আরে ভয় পেও না পলি ডাকছে।”
বলতে বলতেই পলি রুমে আসলো।ইতি অবাক হয়ে বললো,”বড় ভাবি তুমি কখন আসলে।”

–“আরে ভাবি তুমিও এখানে। আমি আরও তোমার রুমে খুঁজে এলাম।”
পলি এসে পাশে বসলো।আমি ইতিকে বললাম,”আমি একটু আগেই আসলাম। এসেই দেখি তুমি শাই করছ।কি হয়েছে হুম। হঠাৎ এত লজ্জা পাওয়ার কারণ কি?”
–“ওমা তাই নাকি।আমাদের ননদিনী প্রেমেটেমে পড়লো নাকি।হুম হুম।”
আমার আর পলির কথা শুনে মেয়েটা আরও লজ্জা পেলো।”ধুর কি যে বল ইসসস, জাহান ভাবি।” ইতি বললো।
আমি মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম,”পলি আর লজ্জা দিও না।ইতি আর প্রেম হাহাহা। যাইহোক তোমার জন্য যে মেলা থেকে জিনিস গুলো এনেছি দেখেছ?পছন্দ হয়েছে?”
ইতি খুশিতে বলে উঠলো, “তুমি আমার জন্য মেলা থেকে জিনিস এনেছ কখন?”
–“ওমা দেখ নি!”
ইতি মাথা নাড়িয়ে না করলো।পলি বললো,”ও দেখবে কিভাবে!আজ বিকেলে কলেজ থেকে বাসায় এসে একবারো নিচে নামে নি।এমনকি মীরা আপুও ওর সাথে রুমে দেখা করে গেছে।”

–“কেন, শরীর খারাপ নাকি?”
–“না না না আমি ঠিক আছি।তুমি বাসায় ছিলে না তো আর ছোট ভাবিও রান্নার কাজে বিজি ছিলো।তাই নামি নি।”
–“ওও আচ্ছা। গিয়ে তোমার জিনিস গুলো নিয়ে এসো।আমি নিচে যাচ্ছি। তোমরাও চলে এসো।”
আমি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালাম।তখনই ইতি ঢেকে উঠে,”ও ভাবি তোমার গলার নেকলেস টা কি মেলা থেকে নিয়েছ। খুব সুন্দর তো।”
পলি এতক্ষণ খেয়াল করে নি।ইতির কথা শুনে তাকালো।সেও প্রসংশা করছে।আমি নিজের গলার দিকে তাকালাম।নেকলেসটা গোসল করার সময় খুলে ফেলেছিলাম।কিন্তু ইফান আবার পড়িয়ে দেয়।আমার গলায় নাকি বেশ লাগে।আমি কিছু বলতে পারি নি।তাই রুম থেকে বেরিয়ে এসেছি।
আমি ইতির আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুলগুলো ঝেড়ে পুনরায় টাউয়াল দিয়ে পেচিয়ে খোঁপা করতে করতে বললাম,

–“না গো বোন।এটা তোমার ভাই দিয়েছে।”
–“ভাইয়া চলে এসেছে!”
ইতি খুশিতে বলে উঠলো। আমি হালকা হেসে বললাম,”সেই কখন এসেছে। তাড়াতাড়ি নিচে আস কেমন।”
কথাটা বলে মাথায় আঁচল টেনে বেড়িয়ে গেলাম।পলি ইতিকে বললো,”কি চলছে হুমমম।”
ইতি চোখ নিচে নামিয়ে টেডিটাকে নাড়াচাড়া করতে করতে বললো,”ইসস ভাবি।”
পলি হেসে দিলো।হঠাৎই নজরে পরলো টেডিটার ওপরে।পলি একটু ভেবে বললো,”এটা তো তোমার রুমে আগে কখনো দেখিনি।নতুন কিনলে?”
ইতির মনে পড়ে গেলো বিকেলের কথা।জুইয়ের সাথে সবাইকে শপিং করাতে মলে নিয়ে যায় জিতু ভাইয়া।তারপর সবাইকেই কিছু না কিছু কিনে দেয়।ইতির টেডিবিয়ার টা পছন্দ হয়। কিন্তু ল’জ্জা’য় বলতে পারছিলো না।কিন্তু জিতু ভাইয়া বুঝে যায়।তাই তিনি টেডিটা কিনে দেয়।
আর সেই থেকেই মেয়েটা এটা হাতছাড়া করছে না।কেন জানি টেডিটাকে তার নিজের কাছে রাখতে ইচ্ছে করছে।

–“কি হলো ইতি! কিছু বলছ না।”
পলির কথায় ইতি ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসলো।তারপর লাজুক চেহারা নিয়ে বললো,”জুইয়ের ভাইয়া আমাদের সবাইকে গিফট কিনে দিয়েছে।”
পলি অবাক হয়ে বললো,”জুইয়ের ভাইয়া।এই ভাবির বোন জুই নাকি?”
–“হু।”
–“আজ জুইয়ের সাথে দেখা হয়েছিলো নাকি?”
–“জুই আমাদের কলেজে পড়ে।”
–“তাই নাকি।খুব ভালো হয়েছে।তোমার সাথে ফ্রেন্ড শিপ করেছ তো।”
ইতি খুশিতে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো।পলি বললো,”মেয়েটাকে ছবিতে দেখেছি।ভরী মিষ্টি। ওকে আমাদের এখানে নিয়ে আসতে।”

–“আমি জোর করেছিলাম,কিন্তু ও আসে নি।”
পলি কিছুক্ষণ কথা বলে উঠে দাঁড়াল,”আমার এখানে বসে থাকলে চলবে না গো।তুমি তাড়াতাড়ি নিচে চলে এসো।”
ইতি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললো।পলি বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে।ইতি মাথা বাড়িয়ে দেখলো পলি চলে গেছে কিনা।শিউর হতেই মুঠো ফোনটা হাতে তুলে নিলো।টেডিটাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে ফেইবুকে ঢুকলো।আজ জুইয়ের সাথে ফেবুতে এড হয়েছে।

ইতি জুইয়ের আইডি ঘটে জিতু ভাইয়ার আইডিটা বের করলো।আইডি নেইম আরমান শেখ।প্রোফাইল পিকে জিতু ভাইয়ার হ্যান্ডসাম ছবি।প্রোফাইল টা দেখেই ইতির বুক উঠানামা শুরু করলো।ফোন ধরে রাখা হাত দুটোও কাঁপছে।
ইতি ফোনটাকে সাইডে রেখে দিলো।চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করলো।তারপর ফোনটা আবার হাতে নিলো।আইডিতে জিতু ভাইয়ার অনেক ছবি।ইতি কাঁপা কাঁপা হাতে ছবি গুলোকে জুম করে দেখতে লাগলো।তার তল পেটে কেমন যেন করছে।মেয়েটার এমন অনুভূতি এই প্রথম হচ্ছে।বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে। খালি অনুভব করছে তার ভেতরে উতালপাতাল ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। তল পেটে লক্ষ প্রজাতির ডানা ঝাপটাচ্ছে।
ইতি ঠোঁট ভিজিয়ে ঢোক গিললো।আইডিতে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎই কয়েকটা গ্রুপ ফটো সামনে আসে।সেখানে জিতু ভাইয়ার সিআইডি টিমের সব সদস্য আছে।প্রথম ছবিটা ইতির খুব ভালো লাগলো।কিন্তু দ্বিতীয় ছবিটা দেখে লাজুক মেয়েটার নাকের পাঠা ফুলে উঠলো।ছবিতে ফরেন্সিক ডক্টর সুমি জিতু ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে হাসছে।ইতির ভিষণ রাগ হলো।

ইতি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তিন নাম্বার ছবিটা দেখতেই রাগের সাথে অভিমানের পাল্লা ভরী হলো।চোখ দুটোতে পানি কণা জমা হলো।এই ছবিতেি আগের ছবির মেয়েটা এখনো জিতু ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে। কিন্তু জিতু ভাইয়া হেসে আরেকটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে। সে ছেলেদের মতো শার্ট প্যান্ট পড়ে।কিন্তু মেয়েটার মুখে কালো মাস্ক সাথে মাথায় ক্যাপ দেওয়া।ফলে সারা মুখ ঢেকে আছে।
জিতু ভাইয়াকে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখে অভিমানে চোখ দিয়ে পানি বেড়িয়ে এলো।ইতি হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে ক্যাপশন চেক করলো।ক্যাপশনে লেখা,
❝We are one family.❞

জাহানারা পর্ব ৪৯

তারপর সকলের আইডি ম্যানশন দেওয়া,”আবির, কবির,হিমন,কণা,অরনা,ডক্টর আব্দুল হোসাইন, ডক্টর সুমি।”
ইতি নাম অনুযায়ী আইডিগুলোতে ঢুকে সকলকে চিহ্নিত করলো।কিন্তু শেষ ছবিতে জিতু ভাইয়া যার দিকে তাকিয়ে হাসছিলো তার আইডি পেলো না।মানে ক্যাপশনে সবাইকে ম্যানশন করলেও সেই মেয়েটাকে করা হয় নি।
ইতি মাস্ক পড়া মেয়েটাকে জুম করে দেখতে চাইলো। কিন্তু চেহারার কোনো অংশই উন্মুক্ত নয়।সবটা ঢাকা।ইতি দু’হাতের মুঠোয় শক্ত করে ফোনটাকে চেপে ধরে নাক টেনে কাঁদতে কাঁদতে বিরবির করলো,
❝কে এই মেয়েটা!!❞

জাহানারা পর্ব ৫১