Home মেঘের ওপারে আলো মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৫

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৫

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৫
Tahmina Akhter

— আমি চললাম ভাবি।
কথাটি বলেই মেঘালয় চলে যেতে চাচ্ছে কিন্তু মাশফি মেঘালয়ের বাহু ধরে থামিয়ে দিলো। মেঘালয় মাশফির মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— আমাকে আর কতবার ধ্বংস করব ভাইয়া? মানুষ নিজের শরীরটাকে সুঁইয়ের খোচা থেকে বাঁচিয়ে রাখে। আর আমি এক অধম শরীরের বিশেষ অংশটাকে বিরহের দহনে পুরিয়ে ফেললাম।
মাশফির হাত আলগা হয়ে গেছে মেঘালয়ের কথা শুনে। মেঘালয় সরে দাঁড়ালো। বর্ষা নরম হয়ে মেঘালয়কে বলল,

— আলো এখনও তোমার ওয়াইফ।
— আপনি জানেন, আমি জানি আলো আমার কি হয়? আলোর মনে আছে? আমার তো মনে হচ্ছে ও ভুলেই গিয়েছিল ওর একটা সংসার ছিল। ওকে ভালোবেসে যাওয়া সামান্য এক মানুষ যে কি-না রাত-দিন তাকে না পাওয়ার যন্ত্রণা ভোগ করেছে সেই মানুষটার কথাও সে ভুলেই গিয়েছিল। এতগুলো বছর পর এসে আমাকে তার মানুষ হিসেবে দাবি করবে বলে যে তার দাবি পূরণ করতে হবে এমন কথা কোন আদি পুস্তকে আছে? সে আমার এতগুলো বছরের দুঃখকে রাতারাতি সুখে পরিণত করতে পারবে?

মেঘালয়ের কথার পিঠে আর কোনো জবাব দিতে পারল না মাশফি এবং বর্ষা। মেঘালয় তাদের পাশ কাটিয়ে বের হয়ে গেলো। ক্যাব নিয়ে সোজা চলে গেল শিশিরদের বাড়িতে। লাগেজ গুছিয়ে, পাসপোর্টসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র এবং মোবাইল বিছানার ওপরে রেখে ওয়াশরুমে চলে গেল সে। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এসে কালো স্যুট পরল। তারপর,Kraków Airport এর উদ্দেশ্য বের হয়ে গেল। মেঘালয় কালো কোটের কলার তুলে ক্যাবের পেছনের সিটে বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। ক্যাবটা ধীরে ধীরে Old Town পেরিয়ে যখন শহরের সীমা ছাড়াল, তখন ঘড়িতে বিকেল সাড়ে পাঁচটা। রাস্তায় গাড়ি কম, তাই ড্রাইভার কোনো কথা না বাড়িয়ে গতি বাড়াল। মাত্র বিশ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেল John Paul II International Airport Kraków–Balice এ ।
ক্যাব থামতেই মেঘালয় ভাড়া মিটিয়ে নামল। বুকের ভেতর অদ্ভুত এক চাপা অনুভূতি। প্লেন যাত্রার আগের বুকের মধ্যে সেই চেনা ভারের উপস্থিতি। গভীর শ্বাস নিয়ে সে একবার আকাশের দিকে তাকাল, তারপর ট্রলি টেনে এয়ারপোর্টের ভেতরে ঢুকে পড়ল।

বোর্ডিং কল শেষ হতেই মেঘালয় ধীরে ধীরে লাইনে দাঁড়াল। হাতে পাসপোর্ট, কাঁধে ছোট ব্যাগ। খুব সাধারণ একটা বিকেল, কোনো তাড়াহুড়ো নেই। কাচের ভেতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে সাদা রঙের বিমানটা রানওয়েতে দাঁড়িয়ে আছে।
প্লেনের সিটে বসে সে সিটবেল্ট বাঁধল। জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখল, বিমানটা ধীরে ধীরে সামনে এগোচ্ছে। কিছুক্ষণ পর হালকা একটা ঝাঁকুনি, তারপর মাটি ছেড়ে উঠে গেল আকাশে। নিচে ক্রাকোভ শহর ছোট হতে হতে মিলিয়ে গেল।

ফ্লাইটটা শান্ত। কেবিনে আলো নিভে গেলে সময়টা নিজের মতো করে কেটে যায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পাইলট ঘোষণা দিল, “ইউকে খুব শিগগিরই দেখা যাবে।” মেঘালয় চোখ বন্ধ করে আরও একবার গভীর শ্বাস নিল। যাত্রাটা ঠিক যেমন হওয়া দরকার, তেমনই ছিল। কিন্তু মনের কোনে মিথ্যাবতীকে ফিরে পাওয়ার জন্য তোলপাড় করছে।
বিমানটা ধীরে ধীরে নামতে শুরু করল। জানালার বাইরে মেঘ সরে গিয়ে নিচে ভেসে উঠল সবুজ মাঠ আর পিচঢালা সোজা রাস্তা। হালকা একটা ঝাঁকুনির পর চাকা রানওয়েতে স্পর্শ করলো। যাত্রা শেষ।

বেল্ট খুলে সবাই একে একে দাঁড়াল। মেঘালয়ও ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিল। করিডোর পেরিয়ে যখন সে টার্মিনালের ভেতরে ঢুকল, চারপাশে ব্যস্ততা। ইমিগ্রেশন লাইনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা, তারপর পাসপোর্টে সিল পড়ল। ব্যাগেজ বেল্টের পাশে দাঁড়িয়ে সে নিজের লাগেজটা নামাল। সবকিছু স্বাভাবিক, নিয়মমাফিক। দরজা পেরিয়ে বাইরে পা দিতেই ঠান্ডা বাতাস মুখে স্পর্শ করলো। মেঘালয় এক মুহূর্ত থামল, তারপর স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই এগিয়ে গেল।
এয়ারপোর্টের বাইরে পা দিতেই ভিড়ের ভেতর হঠাৎ একটা পরিচিত মুখ চোখে পড়ল। মুহূর্তেই মেঘালয়ের ভেতরটা কেমন জানি চুপসে গেল। এখানে, এই জায়গায়, ওকে দেখার কোনো প্রস্তুতিই ছিল না তার।
এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল সে। মুখ ফিরিয়ে অন্যদিকে তাকানোর একটা স্বাভাবিক চেষ্টা, কিন্তু ততক্ষণে চোখাচোখি হয়ে গেছে। পরিচিত সেই মুখটা এগিয়ে আসছে বুঝেই মেঘালয়ের কপালে বিরক্তির রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠল। সে কোনো কথা না বলে ব্যাগটা শক্ত করে ধরল। ভেতরে ভেতরে একটাই অনুভূতি। এই সাক্ষাৎটা ঠিক এখন দরকার ছিল না। তারপরও সে দাঁড়িয়ে রইল, বিরক্তিটা আড়াল করে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করতে লাগল।

— হেই মেঘালয়! হাউ আর ইউ?
কথাটা বলতে বলতে রিনি সামনে এগিয়ে এসে মেঘালয়কে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করল। কিন্তু মেঘালয় সঙ্গে সঙ্গে এক হাত সামনে বাড়িয়ে তাকে থামিয়ে দিল। চোখেমুখে বিরক্তি লুকোনোর কোনো চেষ্টাই করল না সে।
— স্টপ, রিনি। আই ক্যান্ট টলারেট দিস টর্চার। আর ইউ টিনএজ, অর আ চাইল্ড? ইউ আর আ ম্যাচিউর পার্সন। অ্যাট লিস্ট আই এক্সপেক্টেড দ্যাট।
রিনি থমকে গেল। হাত দুটো শূন্যে ঝুলে রইল কয়েক সেকেন্ড। আশপাশের সবকিছু অস্বস্তিকর হয়ে উঠল তার কাছে।
মেঘালয় আর কিছু বলল না। ব্যাগটা কাঁধে ঠিক করে নিয়ে অন্যদিকে তাকাল। তার চোখেমুখে স্পষ্ট। এই সাক্ষাৎটা তার একেবারেই কাম্য ছিল না।
রিনির মনটা মুহূর্তেই ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। চোখের কোণায় জল জমে উঠেছিল, কিন্তু এত মানুষের ভিড়ের মাঝখানে নিজেকে ভেঙে পড়তে দিল না সে। দ্রুত চোখের পাতা ফেলে জলটা আটকে নিল। ঠোঁটের কোণায় জোর করে একটা হাসি টেনে এনে শান্ত গলায় বলল,

— “পাপ্পা তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।” একটু থেমে আবারও বলল,
— তুমি ফিরবে, অথচ আমাকে একটিবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলে না? ভাগ্যিস শিশিরের কাছে কল করার বদৌলতে তোমার ফিরে আসার খবর জানতে পারলাম।
কথাগুলো বলার সময় রিনির চোখে অভিযোগ ছিল, কিন্তু কন্ঠে ছিল না। শুধুই ছিল চাপা অভিমান, যেটা সে যত্ন করে হাসির আড়ালে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছে।
মেঘালয় রিনির অভিমানের কারণটা ভালো করেই জানে। তার হৃদয়ের এই বেগতিক অবস্থার খবরও অজানা নয়। তবুও তো সে জানে, রিনি তার মানুষ নয়। কোনোদিন ছিলও না। এক জীবনে সে শুধু আলোকে চেয়েছে। আলোকে নিজের হৃদয়ের গভীরে জায়গা দিয়েছে। সেই হৃদয়ে অন্য কারও ঢোকার কোনো ফাঁক নেই।
এই কারণেই মেঘালয় খুব সচেতনভাবে চেষ্টা করে, যেন রিনি তার ওপর দুর্বল হয়ে না পড়ে। ইচ্ছাকৃতভাবেই মাঝেমধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কটু কথা বলে ফেলে। ভাবে, এতেই হয়তো রিনি দূরে সরে যাবে। কিন্তু অদ্ভুত এই মেয়েটা জানি কেমন ধাঁচের! এত কথা শোনার পরও, এত অবহেলার পরও, কোনোদিন তাকে রাগ করতে দেখা যায় না। অভিযোগ নেই, প্রতিবাদ নেই। শুধু আছে সহ্যক্ষমতা। যেন কষ্টটাকে নিজের ভেতরেই গুটিয়ে রাখার অদ্ভুত ক্ষমতা তার আছে। রিনি এমন কেন?

“সে কি ভালোবাসার সংজ্ঞাটা অন্যভাবে জানে?
নাকি সে বিশ্বাস করে, ভালোবাসা মানে চাওয়া নয়, ধরে রাখা নয়; শুধু পাশে থাকা, যতটা দূরে থাকতে বলা হোক না কেন সে তবুও কাছে এসে দাঁড়িয়ে থাকবে”
না চাইতেও রিনির সঙ্গে বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্য উবারে বসে রওনা হলো মেঘালয়।
উবার ধীরে ধীরে Tower Hamlets-এর সরু রাস্তা দিয়ে এগোচ্ছে। জানালার বাইরে ছোট ছোট দোকান, লাল ইটের বাড়ি আর রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা সাইকেলগুলো চোখে পড়ছে। কয়েকজন মানুষ হেটে যাচ্ছে, কেউ কথোপকথন করছে, কেউ পোষ্য কুকুর নিয়ে ঘোরাফেরা করছে। শহরের এই অংশে বাঙালি সম্প্রদায়ের উপস্থিতি আছে। দরজার নামপ্লেট থেকে শুরু করে দোকানের সাইনবোর্ড পর্যন্ত সবকিছুতে ছোট্ট স্বদেশের ছোঁয়া।

ড্রইংরুমে বসে আছে আলো, সিতারা বেগম,কাব্য এবং ইতি। কাব্য আলোকে দেখে কি রিয়াকশন দেবে তাই ভুলে গিয়েছিল? আলো কাব্যকে দেখে “স্যার” বলেই কান্নায় ভেঙে পরেছে। ইতি আলোর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বারবার বলছিল শান্ত হবার জন্য। কিন্তু আলো শান্ত হলে তো! ধীরে ধীরে আলোর কান্না ফুরিয়ে যায়। শান্ত হয়ে সোফায় বসে। তারপর, কাব্য গম্ভীরমুখে আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— এতবছর পর!
কথাটি বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল কাব্য। আলোর মাথা যেন আরও নীচু হয়ে গেছে। কাব্য দুই হাঁটুর ওপর দুই হাতের কনুই ঠেকিয়ে বলল,
— চোখের আড়াল হলে মানুষ মনের আড়াল হয়ে যায়৷ জানো তো তুমি?
আলো মাথায় নাড়িয়ে বোঝালো সে জানে। কাব্য সিতারা বেগমের দিকে ফিরে বলল,
— আলোর বয়স কম ছিল ঝোঁকের বশে একটা ডিসিশন নিয়েছিল। কিন্তু আপনি ওর পক্ষে ছিলেন কেন? আপনি ওকে একবারও বোঝানোর চেষ্টা করেননি?
সিতারা বেগম ভীষণ লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল,

— আমি কিছুই জানি না বাবা। গতবছর আটবছর ধরে আমার মেয়ের কোনোকিছু আমি বুঝতে পারি না। বহুবার বলেছি মেঘালয়ের কাছে ফিরে যেতে কিন্তু… রাজি হয়নি একবারও। গতকাল রাতে কি মনে হলো! রাত বারোটা বাজে আমাকে নিয়ে রওনা হলো। এখানে আসার পর থেকে একের পর এক খারাপ খবর শুনতে শুনতে আমি আর আলো হতবাক হয়ে গেছি। বেয়াইন থাকলে নিশ্চয়ই…
কথাটি সম্পূর্ণ হবার আগেই সিতারার হাতের ওপরে হাত রেখে ইতি সিতারা বেগমকে চোখের ইশারায় থেমে যেতে বলল। সিতারা বেগম বোকার মতো চুপ হয়ে গেল৷ কাব্য সব শুনলো। শেষ মূহুর্তে গিয়ে কাব্য আলোকে উদ্দেশ্য করে বলল,

— তুমি এসেছো জানার পর থেকে মাশফি ভাইয়া কম করে হলেও বিশ বার কল করেছে পোল্যান্ড থেকে। তুমি কোথাও যাবে না। এই বাড়িতে থাকবে। মাশফি ভাইয়া দশদিন পর ফেরত আসবে বাংলাদেশে। ভাইয়া ফিরে এলে তোমার এবং মেঘালয়ের ব্যাপারটা আমরা হ্যান্ডেল করব। এবার অন্তত তোমরা দু’জন ইগো দেখিয়ে নিজেদের সংসার নষ্ট করবে না?
— আমার হসপিটালে ডিউটি আছে। আমি এই বাড়িতে থাকতে পারব না। তাছাড়া, আপনার ভাইয়ের এখন নতুন সংসার হয়েছে। আমাকে ভুলে যে নতুন সংসার পেতেছে তার সংসার ভাঙার অধিকার আমার নেই স্যার। আমাকে নীরবে সরে যেতে দিন। আমার আমিটা আর আমার মা ছাড়া আমার কেউ নেই স্যার। আমার জীবনে অনুশোচনার অভিযোগের অভাব নেই। নতুন করে কারো সংসার ভাঙার দায়ে আমার অন্তরে আরও একটা অনুশোচনা বাড়িয়ে দেবেন না। ইট’স এ রিকুয়েষ্ট।
শেষের কথাটি বলার সময় হাতজোড় করে মিনতির সুরে বলল আলো। আলোর কথা শুনে কাব্য অবাক হয়ে বলল,

— মেঘালয় নতুন সংসার পেতেছে কে বলল?
কাব্যের কথা শেষ হবার পর ইতি স্বশব্দে হেসে ফেলল। আলোর বিস্ময়ভরা মুখটা দেখে তার বেশ আনন্দ লাগছে। মেয়েটা তো জানে না তার অপেক্ষায় থেকে মেঘালয়ের কেমন করে দিনকাল কাটছে? তার খুব ইচ্ছে যেভাবেই হোক দু’জনকে মিলিয়ে দেবে। পৃথিবীর কোনো ভালোবাসা কি এত অপেক্ষার প্রহর গুনেছে? যতটা মেঘালয়ের বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকা ভালোবাসা আলোর একটা “হ্যা” শোনার জন্য অধির আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে!
ইতি আলোর মাথায় হাত রেখে বলল,

— তোমার ডাক্তার সাহেব তোমারই আছে। তোমাকে যে ভুলে থাকার জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে গেছে সে করবে দ্বিতীয় বিয়ে? কি বাঁধনে বেঁধে ফেললে তুমি মেঘালয়কে। তোমার অনুপস্থিতিতে সে নিজেকে তোমার স্মৃতিতে বেঁধে ফেলল।
আলো ইতির হাত ধরে বলল,
— তাহলে ছবিটা?
—তুমি যাকে ছবিতে মেঘালয়ের পাশে বসে থাকতে দেখছো সেই মেয়েটা মাশফি ভাইয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী।

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৪

আলো চোখ বন্ধ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। বুকের ওপর একটন ওজনের সমান ডাক্তার সাহেবকে হারিয়ে ফেলার ভয় সরে গেছে এই মূহুর্তে। তবে আলোর শরীর কাঁপছে অস্থিরতা। ইতি টের পেলো কিনা আলোর অবস্থা? কাব্যর চোখের দিকে তাকিয়ে কি যেন ইশারায় বলল! কাব্য ইশারার মানে টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে মোবাইল বের করে ভিডিও কল করলো মেঘালয়ের হোয়াটসঅ্যাপে। আলো টের পেলো না অব্দি। কিছুক্ষণের মধ্যে তার সঙ্গে ডাক্তার সাহেবের পূর্ণমিলন হতে যাচ্ছে।

মেঘের ওপারে আলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৪৬