Home বাঁধনহারা প্রেম বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৩

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৩

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৩
shanta moni

‘নীলা রোদ বলে চিৎকার করে রোদকে ঝাঁপটে ধরে’ রোদকে আস্তে করে ধরে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দেয়। নীলা টি-টেবিল থেকে গ্লাসে পানি এনে রোদের চোখে মুখে ছিটিয়ে দেয়। কিন্তু রোদের সেন্স ফিরছে না। নীলা রুম থেকে বেড়িয়ে হেনা বেগমের রুমে দিকে এক রকম দৌড়ে যায়। ভয়ে তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।
‘এইদিকে রিয়া আর হাঁসি বেগম নিজেদের রুমে বসে কিছু একটা নিয়ে গভীর আলোচনা করছে। রিয়া হাঁসি বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে।
‘অবশেষে শুভ্রকে দিয়ে রোদকে ভুল বোঝাতে পেরেছি। তোমাকে বলেছিলাম না, খালামনি শুভ্রকে আমার করে ছাড়বো। দেখছো তো আমি রোদ আর শুভ্রকে আলাদা করে ফেলছি।

‘হাঁসি বেগম ভাবলেসিন ভাবে বলে উঠে।’
‘তারপর আমার কেমন জানি ঘটকা লাগছে। হটাৎ করে শুভ্রের এমন পরিবর্তন মানতে পারছি না।
‘রিয়া হাঁসি বেগমের দিকে তাকিয়ে হাঁসি হাঁসি মুখ নিয়ে বলে উঠে৷”
‘আরে ইয়ার তুমি চাপ নিও না। শুভ্রকে আমার বসে করে ফেলছি। আর এখন শুধু বিয়াটা হোক, তারপর সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে, করে৷ ওই শুভ্রকেও আমাদের পথ থেকে সরিয়ে দেব।
‘হাঁসি বেগম আর কিছু বলে না। রিয়া হাঁসি বেগমের রুম থেকে হাঁসতে হাঁসতে বেড়িয়ে যায়। মনে মনে সে কি কি করবে, সব কিছু ভেবে রেখেছে।
নীলা হেনা বেগমকে রুমে নিয়ে ডুকতেই দেখে রোদ রুমে নেয়। হেনা বেগম, নীলা মিলে তড়িঘড়ি করে রুমে ভিতরে ডুকে, রুমে ডুকতেই ওয়াশরুম থেকে পানি শব্দ কানে আসে। কিছুক্ষনের মধ্যে রোদ ওয়াশরুম থেকে হাত মুখ মুছতে মুছতে বেড় হয়। হেনা বেগম রোদের কাছে এসে বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করে।

‘কি হয়েছে তোর…?
রোদ হেনা বেগমের দিকে তাকিয়ে আড়ালে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে৷ আস্তে করে বলে উঠে।’
‘কিছুই হয়নি নানু, এমনি একটু ছিক ছিলাম। তাই হয়তো সেন্স ছিলো না। নানু আমার একটু কাজ আছে। আমি একটু বাহিরে যাবো।
‘হেনা বেগমকে আর কিছু না বলতে দিয়ে বলে উঠে।”
‘প্লিজ নানু আমি ঠিক আছি। আমাকে নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না। আমি যাচ্ছি।
‘রোদ আর কোনো কিছু না বলেই কাধের ব্যাগ নিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে আসে।
নীলা রোদকে পেছন ডাকলে, রোদ থেমে পিছনে না তাকিয়ে বলে উঠে।’
‘আমার জরুরি একটা কাজ আছে নীলু। এসে তোর সাথে কথা বলবো।
‘কথা গুলো বলেই রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। হেনা বেগম আর নীলা রোদকে এতো স্বাভাবিক দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

কিছু সময়ের ব্যবধানে রোদকে চিনতে পারছে না। হেনা বেগম নীলা দীর্ঘ শ্বাস ফেলেন। রোদের রুম থেকে বেড়িয়ে নিজ গন্তব্যে চলে যান। এইদিকে রোদ বাসা থেকে বেড়িয়ে রিকশা ধরে একটা হসপিটালের সামনে আসে।
রিকশা থেকে নেমে হসপিটালের ভিতরে যায়।
প্রায় আধাঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছে রোদ। কিছুক্ষনের মধ্যে রিপোর্ট আসে। রোদ ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে বসে। ডাক্তার রোদকে দেখে হাঁসি হাঁসি মুখ নিয়ে বলে উঠে।”
‘মিসেস রোদ অভিনন্দন, আপনি মা হতে যাচ্ছেন।
‘রোদ বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায় সাথে সাথে।
কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠে।’
‘আ…আ…আপনি কি বলছেন ডক্টর?
‘আই এম সিওর মিসেস রোদ। আপনি প্রেগন্যান্ট প্রেগনেন্ট।

কথা গুলো বলেই ডক্টর রিপোর্ট রোদের হাতে দেয়৷ রোদ কাঁপা হাতে রিপোর্ট হাতে নিয়ে দেখে স্পষ্ট ভাবে লেখা৷ দুই মাসের প্রেগনেন্টে। ডক্টর রোদ আরো কিছু কথা বলে।
রোদ ডক্টরের কেবিন থেকে বেড়িয়ে আসে।
বার বার রিপোর্টের দিকে তাকাচ্ছে। আর
নিজের পেটে হাত দিচ্ছে, চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। কান্না গলা কাছে দলা পাকিয়ে আছে। এক সময় আর নিজের মধ্যে কান্না চেঁপে রাখতে পারেনা। হু হু করে কেঁদে উঠে।’
পেটে হাত দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়ে।
রোদ কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে।’
‘কি নাম দিব এই সন্তানের আর কাকেই বা বলবো৷ যে সময় টা আমার স্বামী বেশি প্রয়োজন আজ সেই আমার পাশে নেই।

‘রোদের এমন কান্না দেখে আসে পাশের মানুষ কেমন করে আড় চোখে তাকিয়ে আছে। রোদ চোখের পানি মুছে বিড়বিড় করে বলে উঠে।”
‘আমার এই অন্ধকার জীবনে এক টুকরো আলোর হদিস নিয়ে তুই আমার জীবনে এলি।
যাই হয়ে যাক আমি তোকে পৃথিবীর আলো দেখাবো।
‘আমার পাশে তোর বাবা প্রয়োজন নেই৷ আমি একাই তোর জন্য যথেষ্ট।
কথা গুলো বলেই হসপিটাল থেকে বেড়িয়ে আসে। মনে মনে বলে উঠে রোদ।
‘আপনি কখনো জানতেই পারবে না। আপনার সন্তান আমার গর্ভে। সন্তান থাকতেও আমি সন্তান হারা করে রাখবো। এর থেকে বড় শাস্তি আর কিছুই হতে পারে না।
রোদ নিজের পেটে হাত দিয়ে শক্ত কন্ঠে বলে উঠে।
‘আমি আমার সন্তানের জন্য বাঁচবো। সন্তান নিয়ে বাঁচবো৷ আমার জীবনে কোনো পুরুষের দরকার নেই। আর না কারো ভালোবাসার।
চৌধুরী বাড়ি…!

কিছুক্ষণ আগেই বাড়িতে ডুকে রোদ। বাড়িতে ডুকেই অবাক৷ বাড়িতে সব কিছু খুব সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে৷ রোদ কোনো দিকে না তাকিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমের দিকে যায়।
করিডোর দিয়ে নিজের রুমে যেতে নিলেই রিয়া সামনে আসে। রোদের দিকে তাকিয়ে হাঁসতে হাঁসতে বলে উঠে।
‘আজ রাতে পার্টি হবে। আর আমার আর শুভ্র বেবির এনগেজমেন্ট হবে।
রোদ বিরক্ত হয়ে বলে উঠে….!
‘তো….আমি কি করবো…? তুই তোর বেবি কে নিয়ে এনগেজমেন্ট কর, না কোলে তুলে ফিটার খাওয়া তাতে আমার কি?
রিয়া রোদের এমন উত্তর আশা করেনি। রিয়া রোদকে খুঁচিয়ে আবার বলে উঠে…!
‘তোর প্রান প্রিয় স্বামীকে আমি বিয়ে করছি। কষ্ট হচ্ছে না তোর…!
রিয়া তাচ্ছিল্য হেঁসে বলে উঠে।

‘ইসসস রে তোর মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে। কষ্ট পাস না তোকে এই বাড়ির কাজের লোক হিসেবে রেখে দিবো। শুভ্রকে বলে, একে বারে বের করে দিব না।
রোদের রাগে শরীর জ্বলছে ইচ্ছে তো করছে এই মেয়েকে এখনি একটা থাপ্পড় মেরে সব দাঁত ফেলে দিতে। রোদকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রিয়া আবার বলে উঠে।
‘শুভ্রকে আমি বিয়ে করছি। আর কিছুদিনের মধ্যেই, তারপর থেকে শুভ্র আমার।
রোদ হাঁসে রিয়ার দিকে তাকিয়ে, রোদের এমন হাঁসি রিয়া এই সময় আশা করেনি।
ভ্রু কুচকে রিয়া রোদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।’

‘তুই হাঁসছিস..?
‘তো কি করবো..?
‘কষ্ট হচ্ছে না…?
রোদ রিয়ার মুখে এমন কথা শুনে হো হো করে হেঁসে দেয়৷ রিয়া অবাকের চরম পর্যায়ে…!
রোদ নিজের হাঁসি থামিয়ে বলে উঠে…!
‘কষ্ট তো আমার তোর জন্য হচ্ছে!’
‘মানে….?
‘মানে কিছু না! তবে একজন বিবাহিত ছেলেকে বউ আছে জানা সত্বেও বিয়ে করছিস। এতেই প্রমান হয় কত বড় নির্লজ্জ বেহায়া রাস্তার মেয়ে তুই।

‘রোদদদদদদদ…..!
‘গলা নামিয়ে কথা বল…!
‘তুই কি আমাকে অপমান করছিস..?
‘একজ্যাকলি এই তো বুঝতে পেরেছিস। যদি অপমান হতে না চাস, তো আমার সামনে থেকে সর…!
‘কথা গুলো বলেই রিয়া সামনে থেকে সরে রুমের ভিতরে ডুকে শব্দ করে দরজা লাগায় রোদ।
রুমে ডুকেই রোদ মুখে হাত দিয়ে ফুপিয়ে উঠে।কাঁদতে কাঁদতে ফ্লোরে বসে পড়ে।
‘নাহ নাহ আমি কাঁদবো না। বেইমানদের জন্য চোখে পানি ফেলতে নেই। ঘৃণা করতে হয়।
আমি আর কাঁদবো না। ঘৃণা করি আমি।
‘রোদ চোখ মুখ শক্ত করে ফেলে। হাতের উল্টো পিঠে চোখে পানি মুছে উঠে দাঁড়ায়।
পেটে হাত দিয়ে আনমনে হাঁসে,

‘তোর জন্য তোর মা বাঁচবে। আজকের পর থেকে তোর মায়ের অন্য এক রুপ দেখবে সবাই।
আমি আর কষ্ট পাবো না। আর না কাঁদবো।
রাত ১১ টা কি সাড়ে ১১ টা, চৌধুরী বাড়ি অনেক সুন্দর করে সাজানো হ’য়েছে। বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের গ্রেস্ট আসছে। ড্রয়িং রুমে খুব সুন্দর করে এনগেজমেন্ট জন্য সাজানো হয়েছে। শুভ্র কিছুক্ষণ আগেই বাড়িতে এসেছে৷ শুভ্রকে দেখে কিছুই বুজা যাচ্ছে না। সে খুঁশিতে বিয়ে করছে না চাপে পরে।
শুভ্র নিজের রুমে ডুকে, ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে যায়।
এইদিকে রোদের রুমে নীলা বসে আছে। রোদকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে লক্ষ করছে। এতো কিছু হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রোদের মধ্যে কোনো ভাবান্তর নেই। নীলা বিরক্ত হয়ে বলে উঠে।’

‘রোদ কি হচ্ছে এই সব..!
রোদ নিজের রুমে টুকিটাকি কাজ করছিল। রোদ নীলা দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।
‘কি হচ্ছে…?
‘তুই কি কিছুই দেখতে পারছিস না?
‘কি দেখবো…?
‘রোদ আমি তোর সাথে মসকারা করছি না..!
‘কি হ’য়েছে বলবি তো?
‘শুভ্র ভাইয়া অন্য কাউকে বিয়ে করছে রোদ..?
‘তো আমি কি করবো…?
‘আমার সাথে কি তুই মজা করছিস..?
‘একদমই না..!
‘তাহলে তুই কিছু বলছিস না কেনো..? কেনো তুই এই বিয়েটা আটকাচ্ছিস নাহ?
নীলার কথায় রোদ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। নীলার দিকে এগিয়ে এসে নীলার পাশে বেডের উপর বসে। নীলার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বলে উঠে।’

‘কিসের বিয়ে আটকাবো বলবি। যে নিজ থেকেই অন্য কাউকে বিয়ে করছে৷ তাকে আটকে কি বা লাভ হবে। সত্যি টা তো মিথ্যা হয়ে যাবে না নীলু৷ আমাকে ভালোবাসে ওই লোক। সে যাকে ভালোবাসে তাকেই না হয় বিয়ে করুক।
‘তুই শুভ্র ভাইয়ের বিয়ে করা বউ..!
‘আগে ছিলাম এখন আর নেই..!
‘মানে কি সব বলছিস তুই? মাথা ঠিক আছে।
‘আগে ঠিক ছিল না। তবে এখন ঠিকই আছে। তুই শুনলি না, সে আমাকে ডির্ভোস দিবে। তো সেখানে আমি কি করে তার বউ হই।
‘রোদ তোর কি কষ্ট হচ্ছে না। শুভ্র ভাইয়া অন্য কাউকে বিয়ে করছে। কি করে এই সব কিছু চোখের সামনে দেখবি বল…!
তুই তো ভাইয়াকে ভালোবাসিস রোদ। কি করে তাকে অন্য কারো হতে দিবি।
রোদ তাচ্ছিল্য হাঁসে তাঁরপর বলে..!

‘যে পুরুষের আমি থাকার পরও, অন্য নারীর প্রয়োজন হয়। সেই পুরুষ কখনোই আমার ছিল না। আর না আমি তাকে ভালোবাসি।
রোদ একটু থেমে আবার বলে উঠে।
সে কখনো আমার ছিলই না। আর যে আমার না, তাকে হাজার চেষ্টা করেও আমার করতে পারবো না।
‘কথা গুলো বলতে বলতে রোদের গলা কেঁপে ওঠে। নীলা কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে রোদের দিকে৷ রোদ নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে উঠে।
‘একটা কথা জানিস নীলু…?
‘কি….?

‘নসিবে না থাকলে কিছু জিনিস, পেয়েও হারিয়ে ফেলতে হয়৷
‘আর আমিও সেই কাতারেই মানুষ বুঝতে পারছিস। তবে কেনো জানি না,
‘সে আমার নাহ. তারপরও কেনো জানি তাকে আমারি মনে হয়৷
‘হয়তো ভালোবাসছি এই জন্যই, তবে একটা আফসোস রয়েই যাবে।
‘তাকে ভালোবেসে কলঙ্ক দাগ গায়ে মেখেছি।
সবার কাছে ছোট হয়েছি৷ নিজের আত্মসম্মান বিষর্জন দিয়েছি৷ লোকের কটু কথা শুনেছি।
কিন্তু তাকে আমি পাইনি।

‘কেনো পেলাম না, কেনো বা সে আমার হলো না। এই একটাই আফসোস..!
‘কথা গুলো বলতে বলতে রোদের চোখের কোনে পানি চলে আসে। রোদ নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে উঠে।
‘আচ্ছা বাদ দে তো এই সব৷ নিচে যা নিচে অনেক মেহমান এসেছে। সেখানে গিয়ে এনজয় কর যাহ৷
‘কথা গুলো বলে রোদ আর নীলা কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ওয়াশরুম ডুকে যায়।
নীলা রোদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।
নীলা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে, রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। সে কোনো কিছু বুঝতে পারছে না। হটাৎ করে শুভ্রের এমন পরিবর্তন রোদের এমন আচরন সব কিছুই যেনো মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
সময় ঠিক রাত সাড়ে এগোরটা, শুভ্র ফ্রেশ হয়ে নিজেরে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ছিল। বেলকনি থেকে নিজের রুমে আসে। তখনি দরজা ঠেলে রোদ শুভ্রের রুমে ডুকে৷ রোদকে এই সময় এই যায়গা দেখে শুভ্রের কপাল কিংচিৎ কুচকে যায়৷ রোদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে।

‘তুই এখানে..?
‘জ্বি আমি…?
‘কেনো এসেছিস আমার রুমে? এখনি বেড়িয়ে যা রুম থেকে৷
‘রোদ শুভ্রের কথা শুনে তাচ্ছিল্য হাঁসে। যে লোকটা একদিন এই রুমে জোর করেই আটকে রেখেছিল। সে আজ তাকে রুমে আসার জন্য অপমান করছে। সময় পরিবর্তনশীল তবে এই রকম পরিবর্তন যেনো আমার শত্রুর না হয়। রোদ শুভ্রের দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে আছে। শুভ্র রোদের দিকে এগিয়ে এসে রোদকে রুম থেকে ধরে বেড় করতে যায়। রোদকে যখন শুভ্র ধরতে যাবে৷ রোদ দুই কদম পিছিয়ে বলে উঠে!
‘স্টপ মিস্টার শুভ্র ওই খানেই থামুন।

শুভ্র থেমে যায়, রোদের মুখে নিজের নাম শুনে কিছুটা অবাক হয়ে তাকায় রোদের দিকে।
রোদ শুভ্রের চোখের দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বলে উঠে।
‘আপনাকে আমায় বেড় করে দিতে হবে না। আমি নিজেই বেড় হয়ে যাচ্ছি। তবে চলে যাওয়ার আগে আপনার বড় একটা উপকার করে যাই। তা না হলে আপনারি ক্ষতি হবে।
‘রোদের কথা শুনে কপাল কুচকে রোদের দিকে তাকায় শুভ্র। রোদ ঠোঁটের কোনে হাঁসি টেনে শুভ্রের হাতে একটা পেপার দেয়। শুভ্র রোদের দিকে তাকায়, রোদ মুচকি হেঁসে উঠে।
‘আপনি কষ্ট করে ডির্ভোস কেনো দিবেন। তাই আমি আগেই ডির্ভোস পেপার রেডি করে নিয়ে এসেছি। নিজেও সাইন করে দিয়েছি । এখন আপনি সাইন করলেই ডির্ভোস হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
রোদের মুখে ডির্ভোস কথা শুনে শুভ্র হাতের কাগজের দিকে তাকায়৷ সাথে সাথে রাগে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকায় রোদের দিকে। রোদের ঠোঁটের কোনে এখনো মুচকি হাঁসি৷ শুভ্র রোদের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেঁপে বলে উঠে।
‘তোর সাহস হয় কি করে…?

‘আপনার মতো লোককে ডির্ভোস দিতে সাহসের প্রয়োজন নেই।
‘রোদ শক্ত কন্ঠে বলে উঠে,
‘আমি রোদ আজকের পর থেকে আপনার সাথে সব সম্পর্ক এইখানে শেষ করছি।
কথা গুলো বলেই,
রোদ রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে যেতে বলে উঠে।’
‘সাইন টা করে দিবেন..!
রোদ আর পিছন ফিরে না তাকিয়ে রুম থেকে বেড় হতে নেয়। শুভ্র রোদের হাত ধরে হেচকা টানে নিজের সামনে দাড় করায়। রোদ চোখ মুখ শক্ত করে আছে। শুভ্র দাঁতে দাঁত চেঁপে বলে উঠে..!
‘অনেক সাহস বেড়েছে তাই না। নিজ থেকে ডির্ভোস দিচ্ছিস, এতো বড় কলিজা।
‘রোদ নিজেকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলে উঠে।
‘আপনার মতো চরিত্রহীন পুরুষকে ডির্ভোস দিতে বড় কলিজার প্রয়োজন নেই৷ আপনার মতো নিকৃষ্ট পুরুষকে আমার জীবনে চা…..

আর কিছু বলতে পারে না রোদ, ঠাসসসসস করে থাপ্পড় পরে রোদের গালে। রোদ কিছুটা ঝুঁকে যায়৷ শুভ্রের দিকে মাথা তুলে তাকায়৷ শুভ্র কিছু বুঝে উঠার আগেই ঠাসসস ঠাসসস দুইটা থাপ্পড় মারে শুভ্রের গালে। শুভ্র গালে হাত দিয়ে রোদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
‘আজকের পর থেকে আমার গায়ে হাত তুলার আগে দশ বার ভাববেন। মিস্টার শুভ্র আমি এখন আর আপনার বউ নেই। যে যখন খুঁশি গায়ে হাত তুলবেন।
রোদ তাচ্ছিল্য হেঁসে আবার বলে উঠে,

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬২

‘কি ভেবেছেন সতীন নিয়ে সংসার করবো আমি, হ্যা এই সব ভাগাভাগি আমার ধাচে নেই।
রোদ একটু থেমে আবার বলে উঠে
‘যতদিন আপনি আমার ছিলেন তো আমারি। এখন যখন অন্য কারো কাছে গিয়েছেন। তো আপনাকে আমার দরকার নেই। আমি আপনাকে দান করে দিয়েছি।
রোদ শুভ্রের দিকে আঙ্গুল উচো করে শক্ত কন্ঠে বলে উঠে৷
‘যে নারী ভালোবাসতে জানে। সেই নারী ভয়ংকর ভাবে ঘৃণাও করতে পারে।
কথা গুলো বলেই রুম থেকে বেড়িয়ে আসে।

বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬৪

1 COMMENT

  1. আপু তুমি কী বেঁচে আছো।থাকলে পরের পাট একটু দাও। প্লিজ 🙏🙏🙏🙏😫😫😫

Comments are closed.