বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬২
shanta moni
‘রাত ১২ টা কি সাড়ে বারোটা, রোমান নিজের রুমে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে, দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে। আকাশে আজ হাজার হাজার তারার মেলা, রোমান আকাশের দিকে তাকিয়ে আনমনে বলে উঠে।
‘দেহ হত্যা করার মহাপাপ। তাই আমি আমার মনকে হত্যা করেছি রুহি।
তুই যে নাই এই কথা আমি মানিনা, আর মানবো না। আমি অপেক্ষায় আছি। তুই ফিরে আসিস।
আমি মানুষ তো তাই অপেক্ষা করি। ফেরা না ফেরা তোর ইচ্ছে।
‘কথা গুলো বলতে বলতে চোখের কোনে পানি জমে রোমানের, চোখের পলক ফেললেই পানি পড়বে এমন উপক্রম। রোমান নিজেকে স্বাভাবিক করে রুমের ভিতরে, রুমির প্রতিটা দেয়ালে রুহির ছবি লাগানো। রোমান প্রতি মূহুর্তে নিজের মৃত্যু কামনা করে। আত্মহত্যা মহাপাপ না হলে। সেই কবেই সে শেষ করে ফেলতো। কয়েক বার নিজেকে শেষ করতেও চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি৷ সে আর বাঁচতে চায় না। সে তার রুহির কাছে যেতে চায়। অনেকটাই ভেঙে পড়েছে রোমান। আগের সেই পরিপাটি ছেলেটা আর নেই৷ রুহি চলে গিয়েছে সাথে করে রোমানের হাসি খুশি নিয়ে গেছে। রোমান রুহির ছবি জড়িয়ে বিছানার উপর শুয়ে পড়ে।
এইদিকে রোদ নিজের রুমে দরজা বন্ধ করে শুয়ে আছে। শুভ্র সেই বিকালে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছে। এখন পযন্ত আসেনি। রোদ সেই সব কিছুই ভাবছিলো। আজ বেশ কিছু দিন ধরে শুভ্র, রোদকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক করে কথা বলছে না। রোদকে এক রকম ইগনোর করে চলছে। শুভ্রের এমন পরিবর্তন রোদ যেনো মানতে পারছে না। বুকের ভিতর চিন চিন করে ব্যথা শুরু হয়। আনমনে চোখের কোনে পানি চলে আসে। রোদ কিছু একটা ভেবে নিজের রুম থেকে বেড় হয়ে। শুভ্রের রুমের দিকে যায়। শুভ্রের রুমের দরজা হালকা চাঁপানো। রোদ দরজা ঠেলে রুমের ভিতরে যেতেই দুই পা পিছিয়ে যায়৷ রিয়া শুভ্র দুইজন দুজনকে জড়িয়ে আছে। রোদ এক রকম রাগে ক্ষোভে শুভ্রের কাছে গিয়ে রিয়াকে শুভ্রের কাছ থেকে ছাড়িয়ে। ঠাসসসস ঠাসসস থাপ্পড় মারে রিয়ার গালে। এতো রাতে শুভ্রের রুমে রোদকে কেউ আশা করেনি। রিয়া থাপ্পড়ের টাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে পড়ে যায়। মুখ থুবড়ে, রোদের চোখে পানি, রোদ শুভ্রের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বলে উঠে।
‘চরিত্রহীন পুরুষ মধ্যে রাতে, অন্য একটা মেয়ের সাথে নোংরামো করছেন।
_কথা শেষ করার আগেই শুভ্র পর পর রোদকে দুইটা থাপ্পড় মারে, রোদ ফ্লোরে পড়ে যায়৷ নাক দিয়ে রক্ত জড়ছে৷ রিয়া পাশেই গালে হাত দিয়ে ন্যাকা কান্না কাঁদছে। রোদ ফ্লোর থেকে মাথা তুলে শুভ্রের দিকে তাকায়।
শুভ্র রাগে চোয়াল শক্ত করে বলে উঠে।
‘তোর মতো একটা রাস্তার মেয়ের সাহস কি করে হয়। রিয়ার গায়ে হাত তুলার।
‘রোদ ফ্লোর থেকে আস্তে করে উঠে দাঁড়ায়, শুভ্র সামনে দাড়িয়ে হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছে বলে।
রোদ: আমি আপনার বউ, আর আমার কোনো সাহসের দরকার নেই। ওর মতো নোংরা মেয়েকে মারতে।
রোদের এমন কথা বলাতে, শুভ্র যেনো আরো ক্ষেপে যায়। রোদের দিকে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে বলে উঠে।
‘কে বউ কার বউ, শুভ্র চৌধুরীর বউ হতে যোগ্যতা লাগে। তোর কি যোগ্যতা আছে হ্যা।
_রোদ শুভ্রের কথা শুনে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নেয়। দুই কদম পা পিছিয়ে যায়। রোদ নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।
শুভ্র রোদের দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বলে উঠে।
‘আমি যাই করিনা কেনো? তোর কোনো অধিকার নেই। আমাকে কিছু বলার। আর হ্যা শুনে রাখ, আমি রিয়াকে বিয়ে করছি। এই কিছু দিনের মধ্যে।
শুভ্রের এমন পর পর কথায় রোদ ধমকে যায়। কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে উঠে।
‘আ……আ….আপনি আ..আ…মাকে ভালোবাসেন শুভ্র ভাই। আমি থাকতে আপনি অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন না।
‘শুভ্র যেনো রোদের কথায় তেতে উঠে। দাঁত কিড়মিড় করে বলে।
‘আমি কি বলেছি, তোকে ভালোবাসি।
শুভ্রের এই একটা কথায় রোদের পুড়ো পৃথিবী ধমকে যায়। রোদ শুভ্রের দিকে এগিয়ে এসে বলে উঠে।
‘আপনি আমাকে ভালোবাসেন শুভ্র ভাই। আমি জানি আপনি মিথ্যা বলছেন।
‘শুভ্র হাত দিয়ে রোদকে সরিয়ে দিয়ে বলে উঠে।
‘আমি কি তোকে কখনো বলেছি যে তোকে ভালোবাসি।
রোদ শুভ্রের কাছে এসে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে।’
‘নাহ নাহ আপনি মিথ্যা বলছেন আপনি। এতোদিন এতো কিছু তাহলে কি ছিলো। এই সব কখনো মিথ্যা হতে পারে না।
শুভ্র রেগে রোদকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূড়ে সরিয়ে দিয়ে, তাচ্ছিল্য হেঁসে বলে উঠে।
‘এতোদিন যা ছিলো, সব নাটক। তুই কি করে ভাবলি, আমি আমার মায়ের খুনিকে ভালোবাসবো। তোর মতো স্তুতা একটা মেয়েকে আমি ভালোবাসবো। এই শুভ্র চৌধুরী, ইম্পসিবল।
‘রোদ ফ্লোরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। আস্তে করে বসে, হাতের উল্টো পিঠে চোখের পানি মুছে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে।
‘খুব বেশি কি দরকার ছিলো৷ এমন মিথ্যা নাটক করার। এর থেকে আপনি আমাকে মেরে ফেলতেন। এতই যখন ঘৃণা পাত্র আপনার।
‘আমাকে মিথ্যা ভালোবাসার লোভ কেনো দেখালেন শুভ্র ভাই।
‘রোদ কাঁদছে তীব্র কিছু পেয়েও হারিয়ে ফেলার কষ্ট আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না। এক নিমিষেই বিষাদ নেমে এলো তার জীবনে। শুভ্র রোদের কথায় হেঁসে বলে উঠে।
‘তোকে মেরে ফেললে তো মেরে ফেললাম। কিন্তু বেঁচে থেকে প্রতিটা মূহুর্তে মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করার মজাই তো আলাদা তাই না।
‘সারা জীবন ভালোবাসা না, পাওয়ার কষ্টে তুই তিলে তিলে শেষ হবি। কখনো করো ভালোবাসা পাবি না তুই। তোর মতো মেয়েকে কেউ ভালোবাসবে না।
রোদ শুভ্রের চোখের দিকে তাকায়, এই শুভ্রকে সে চিন্তে পারছে না। বড্ড অচেনা লাগছে।
রোদের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। কোনো ভাবেই চোখের পানি আটকে রাখতে পারছে না। রোদ এক হাত দিয়ে বার বার চোখ মুছতে, চোখ মুছতে মুছতে ভাঙা গলায় বলে।
‘আপনি ঠিকই বলছেন। আমার মতো এতিমকে কেই বা ভালোবাসবে।
রোদ একটু থেমে আবার বলে উঠে
‘ইসসসস কতোটা বোকা আমি। আপনি আমার সাথে মিথ্যা ভালোবাসার নাটক করলেন। আর আমি আপনার মিথ্যা দিয়ে কতো স্বপ্ন সাজিয়েছি। আচ্ছা খুব বেশি কি অপরাধ ছিলো আমার, যার জন্য এমন করলেন। এর থেকে মেরে ফেলতেন আমায়। মরে যেতাম।
_শুভ্র কোনো কিছু বলছে না। রিয়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাঁসছে। রোদ শুভ্র কাছে এসে শুভ্রের দুই বাহু ধরে বলে উঠে।
‘আপনি আমাকে কেনো ভালোবাসলেন শুভ্র ভাই? আমি তো আপনাকে ঠকায়নি। অন্য কাউকে কখনো সুযোগ দেয়নি। তাহলে এমন কেনো করলেন?
কথা গুলো বলতে বলতে শুভ্রের বুকে মাথা রাখে। শুভ্র ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিয়ে বলে।
‘তোর জন্য আমি আমার মাকে হারিয়েছি। আমার বোনকে হারিয়েছি। আর তুই কি করে ভাবছি তোকে আমি ভালোবাসবো। এ-তো দিন তোর উপরে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই তোর সাথে সংসার করার নাটক করেছি।
শুভ্র একটু থেমে বলে উঠে।
‘আর হ্যা আমি তো তোকে কখনো তো বলিনি। যে তোকে ভালোবাসি। তো কানের কাছে এসে এই সব থার্ট ক্লাস কথা বারতা না, বলে রুম থেকে বেড় হ।
‘সব কিছু কি তাহলে মিথ্যা ছিলো।
‘হুম সব কিছুই মিথ্যা ছিলো। তোর প্রতি এতো দিনে ভালোবাসা তো দূরের কথা একফোঁটা মায়াও জন্মায়নি।’
-কথা গুলো বলেই শুভ্র আর দাঁড়ায় না। রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। শুভ্র যেতেই রিয়া বাঁকা হাসে, রোদের কাছে এগিয়ে এসে বলে উঠে।
‘কি বলেছিলে, শুভ্র শুধু তোমার, কতো বড় বড় কথা বলেছিলে। কই গেল তোমার বড় কথা হ্যা। আমার শুভ্র আমার কাছেই এসেছে।
আর শুনো রোদ, শুভ্র আর আমি মিলেই তোমার সাথে এই নাটকটা করেছি। যাতে তোমায় শাস্তি দিতে পারি৷
‘কথা গুলো বলেই হাঁসতে হাঁসতে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। রোদ ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়ে।
শুভ্রের বলা শেষ কথা গুলো রোদের কানের কাছে বাজছে। রোদ কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠে।
‘ইট কাঠ পাথরের প্রানহীন ঘরের প্রতিও মানুষ মায়ায় জড়িয়ে পরে। আমি কি তার থেকেও বেশি প্রানহীন।
‘সকাল সাতটা কি সাড়ে সাতটা, আড়মোড়া ভেঙে ঘুম ভাঙে অয়নের বুকের উপর বারি কিছু অনুভব হতেই, কপাল কুচকে যায়। ধর ফরিয়ে উঠে বসে। সামনে জুঁইকে দেখে রাগে চোয়াল শক্ত করে ফেলে। রাগে ফুসতে ফুসতে বলে উঠে।
‘এই মেয়ে তুমি এখানে কি করছো?
জুঁইয়ের ঘুমের রেশ এখনো কাটেনি, জুঁই ঘুমো ঘুমো কন্ঠে বলে।
‘কি করবো, জামাই সাথে প্রেম করছি।
অয়ন রাগে তেতে উঠে, ঠাসসসস ঠাসসস করে দুই গালে থাপ্পড় মারে। সাথে সাথে বিছানায় উপর হয়ে পরে। গালে হাত দিয়ে কাঁদো কাঁদো হয়ে অয়নের দিকে তাকিয়ে বলে।
‘আপনি আমাকে মারলেন..?
‘অয়ন যেনো আর সহ্য করতে পারেনা। এই একমাস ধরে পাগল বানিয়ে ছাড়ছে অয়নকে। আঠার মতো লেগে আছে। অয়নের পিছনে, অয়ন কিছু বলতে চেয়ে বলতে পারছেনা। সারাক্ষণ কানের কাছে ভালোবাসি ভালোবাসি বলে গ্যান গ্যান করা। হুটহাট এসে জড়িয়ে ধরা। সব কিছুতেই অয়ন ভিষন বিরক্ত। আজকে যেনো জুঁই সব ধৈর্যের বাধ ভেঙে দিয়েছে অয়নের। অয়ন রাগে দাঁতে দাঁত চেঁপে বলে উঠে।’
‘নির্লজ মেয়ে, লজ্জা সরম কি কিছু নেই। অবিবাহিত একটা ছেলের রুমে এসে এই রকম নোংরামো করছো। বের হয়ে যাও, রুম থেকে। তা না হলে ঠাটিয়ে আর একটা চর মারবো।
‘জুঁইয়ের চোখে পানি, বিছানা থেকে উঠে দৌঁড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।
‘সকাল আটটা ড্রয়িং রুমে সবাই বসে আছে। এমন সময় সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে, শুভ্র। চোখ মুখে কেমন গম্ভীরতা, শুভ্র হেনা বেগম আরাফ চৌধুরী সামনে এসে দাঁড়ান। ড্রয়িং রুমে সবাই আছে। শুভ্র হেনা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে।
‘দাদি আমি বিয়ে করতে চাই…!
‘হেনা বেগম কপাল কুচকে তাকায় শুভ্রের দিকে। শুভ্র হেনা বেগমের দৃষ্টি উপেক্ষা করে বলে উঠে।
‘সাতদিনের মধ্যে আমি রিয়াকে বিয়ে করবো।
হেনা বেগম শুভ্রের কথা শুনে বসা থেকে দাঁড়িয়ে যায়৷
‘কি সব বলছিস। মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোর।
‘আমার মাথা ঠিকই আছে। আমি রিয়াকে বিয়ে করতে চাই।
‘তোর মাথা ঠিক নেই শুভ্র। তুই ভুলে যাচ্ছিস রোদ তোর বিয়ে করা বউ।
শুভ্র তাচ্ছিল্য হেঁসে বলে উঠে,
‘একজন খুনি কখনো আমার বউ হতে পারেনা।
কথা গুলো শেষ করার আগেই হেনা বেগম ঠাসসস করে থাপ্পড় বসায় শুভ্রের গালে।
হেনা বেগম রাগে চোয়াল শক্ত করে বলেন।
‘বিয়েটা কি তুই পুতুল খেলা পেয়েছিস। যে যখন ইচ্ছে বিয়ে করলাম। আবার যখন ইচ্ছে হলো ছুড়ে ফেলে দিলাম।
‘হ্যা পুতুল খেলাই আমার ইচ্ছে হ’য়েছে। তাই ওই খুনিকে নিয়ে খেলেছি। আর শুনে রাখো দাদি আমি রিয়াকে বিয়ে করবো। সেটাও খুব তাড়াতাড়ি৷
হেনা বেগম শুভ্রের এমন আচরণ যেনো মেনে নিতে পারছে না। শুভ্রের প্রতিটা কথায় তার গায়ের রক্ত টগবগ করে ফুটছে।
‘রোদ তোর বিয়ে করা স্ত্রী। একটা বউ থাকতে তুই কখনোই আর একটা বিয়ে করতে পারিস না।
‘শুভ্র তাচ্ছিল্য হেঁসে বলে উঠে
‘দরকার হলে ওকে ডির্ভোস দিয়ে, আমি রিয়াকে বিয়ে করবো। তারপর এই খুনিকে আমার চাই না৷
‘কথা গুলো বলেই শুভ্র বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। রোদ এতোক্ষণ রান্না ঘরে ছিল। নিজের চোখের পানি আর সামলে রাখতে পারছে না। দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে যায়। রোদের পিছু পিছু নীলাও আসে। নীলা কিছুক্ষণ আগেই চৌধুরী বাড়িতে এসেছে। ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করতেই শুভ্র আর হেনা বেগমের কথা কানে আসে। রোদ রুমে গিয়ে ফ্লোরে বসে পড়ে। ডির্ভোসের কথা শুনেই যেনো তার পুড়ো পৃথিবী ধমকে যায়। নীলা রোদের কাছে দৌড়ে আসে। রোদ নীলাকে জাপ্টে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠে বলে।
‘আমাকে শুভ্র ভাই ভালোবাসে নায় নীলা।
আমাকে ভালোবাসে নায়৷
‘রোদের সাথে সাথে নীলাও কাঁদছে,
রোদ নীলাকে ছেড়ে দিয়ে বলে।
‘আমি এতিম তো, আমার কোনো যোগ্যতা নেই। তাই হয়তো ভালোবাসেনি।
‘আচ্ছা নীলা আমাকে একটু ভালোবাসলে খুব বেশি, কি ক্ষতি হয়ে যেত, বলনা।
কি হলো চুপ করে আছিস কেনো।
যানিস নীলা আমার নাহ, এই বুকের ভিতরে যন্ত্রণা হচ্ছে৷ আমার সাথে কেনো এমন করলো। আমি যে সহ্য করতে পারছি না।
নীলা কাঁদতে কাঁদতে বলে..
বাঁধনহারা প্রেম পর্ব ৬১
‘প্লিজ রোদ একটু শান্ত হ। প্লিজ একটু শান্ত হ।
রোদ চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলে।
‘কি করে সইবো আমি এই যন্ত্রণা। কি করে নিজের স্বামী সামনে অন্য নারীকে দেখবো। কিভাবে সহ্য করবো আমি।
রোদ বসা থেকে উঠে, বলে….!
এর থেকে ভালো আমি মরে যাই। তাহলেই ভালো হবে।
কথা গুলো বলেই টি-টেবিল থেকে ছুড়ি বের করে। হাতে ধরে, এমন সময় রোদের চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে আসে। মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নেয়৷ এমন সময় নীলা রোদকে ধরে ফেলে। রোদ অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে নীলার কোলে।
