তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬১
নওরিন মুনতাহা হিয়া
__ দুপুর ২:০০ সময় কলেজ ছুটি হয়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে আকাশ থেকে, আর তার সাথে তাল মিলিয়ে মৃদু বাতাস বয়ে যাচ্ছে। শান্ত নির্জীব প্রকৃতি অশান্ত রূপ ধারণ করে! ” করিডরে বৃষ্টির বিন্দু বিন্দু পানির ঝংকার শোনা যায়, ক্লাস ছুটির পর প্রায় সব ছাত্র ছাএী বাড়ি চলে গেছে। বৃষ্টির বেগ এতো তীব্র নয়! উষ্ণ শীতের মওশুমে এমন বর্ষণ স্বভাবিক তাই এই বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করে লাভ নাই! মেঘ আর আদ্রিয়ান গাড়ি করে চলে গেছে! নূহাও ক্লাস ছুটি হলে, লাইব্রেরিতে গিয়েছিল প্রয়েজনীয় বই সংগ্রহ করতে। তাই একটু দেরি হয়ে গেছে।
লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে নূহা কলেজ করিডরে আসে! কাল রাত থেকে আকাশে কালো মেঘের অভিভার্ব দেখে নূহা আশংকা করেছিল! আজ হয়ত বৃষ্টি পড়বে। তাই ব্যাগে ছাতা ভরে রেখেছিল। সারা কলেজ জুড়ে এখন নিস্তব্ধতা, কলেজ গাউনে আশেপাশে কোন ছাত্র ছাএী নাই! সবাই বাসায় চলে গেছে! নূহারও এখন চলে যাওয়া উচিত! নূহা কাঁধে ঝুলন্ত ব্যাগ থেকে কালো রঙের একটা ছাতা বের করে, তা নিয়ে হাঁটা শুরু করে!
কলেজ গাউনের মাঝ অবধি যাওয়ার পর, হঠাৎ তার চোখ যায়। কলেজের পূর্ব পাশে এক ছোট পুকুরের দিকে! ওইটা পুকুর নয় বরং ছোট সুইমিংপুল! কলেজের ছাএ ছাএীদের একান্ত সময় কাটানর জন্য তৈরি করা হয়েছে! নূহা পুকুর দেখে নয়, পুকুরের পাশে থাকা এক বেঞ্চের উপর থাকা এক যুবকের শরীরে পরহিত শার্ট দেখে চমকে যায়! এই শার্টের কার্লার ভীষণ পরিচিত তার! কোথায় দেখেছে? মাথার উপর চাপ প্রয়োগ করার পর মনে পড়ে, আরে এই শার্ট তিহানের? তিহান! নামটা মনে পড়তেই নূহা চমকে উঠে? তিহান?এখানে কি করবে?
শেষ ক্লাস আগে একবার তিহানকে দেখেছিল। কিন্তু এরপর দেখেনি! প্রথমে নূহার একটু টেনশন হলেও পরে ভাবল, হয়ত তিহান বাসায় চলে গেছে? কিন্তু না, তিহান বাসায় যায়নি? কলেজে ছিল? তবে ক্লাস কোন করেনি? তাছাড়া কলেজ ছুটি হয়ে যাওয়ার পর সব শিক্ষার্থী চলে গেছে, কিন্তু তিহান এখনও কেন যায়নি? পুকুর পাড়ে বসে আছে কেন?
তবে এতো দূর থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না, বেঞ্চে বসে থাকা মানুষ কি সত্যি তিহান? না অন্য কেউ? নূহা কি গিয়ে একবার দেখবে? প্রায় পাঁচ মিনিট পর নিজের মনকে শান্ত করে নূহা এগিয়ে যায় পুকুর পাড়ের দিকে! পুকুর পাড়ে বেঞ্চের কাছে গিয়ে সে পুনরায় অবাক হয়, এইটা সত্যি তিহান!
বৃষ্টির বিন্দু বিন্দু ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে তিহানের উষ্ক চুল বেয়ে মুখশ্রীর উপর। সরু কাঠের তৈরি বেঞ্চের উপর শরীর হেলান দিয়ে বসে আছে। মাথা উঁচু করে পুকুর পানে অপলক দৃষ্টিতে অদ্ভুত ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। পুকুর পানে আপন মনে তিহানকে তাকিয়ে থাকতে দেখে, নূহা সেই দিকে তাকায়। কিন্তু জলের সুবিশাল রাশি আর নিস্তব্ধত প্রকৃতির মাঝে পাখির কোলাহল ছাড়া আর কিছুই শুনে পায়নি! নূহা এইবার যথেষ্ট অবাক হয়ে যায়! তিহান ঠিক আগের মতো বসে আছে, নূহা আগমন কি সে টের পেয়েছে! তা বুঝা যায় না। নূহা এইবার বলে উঠে
—–” তিহান? কি হয়েছে আপনার? কলেজ ছুটি হয়র যাওয়ার পরও এখানে বসে আছেন কেন? বাড়ি যাবেন না।”
নূহার ডাক হয় তিহানের কান অবধি পৌঁছায় না! সে এখনও নিরলস ভঙ্গিতে বসে আছে! নূহা পুনরায় ওর কাছে গিয়ে বাধ্য হয়ে শরীরে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে উঠে
—-” তিহান? শুনছেন আমার কথা? এমন অদ্ভুত ব্যবহার কোন করছেন আপনি? তিহান!”
তিহান এখনও শান্ত। নূহা খেয়াল করল তিহানের চোখ বেয়ে টপটপ পানি গড়িয়ে পড়ছে? তিহান কি কান্না করছে? না, বৃষ্টির পানি! নূহা সন্দেহ বোধক দৃষ্টি নিয়ে এগিয়ে যায় তিহানের কাছে। এরপর ওর সম্মুখে দাঁড়িয়ে ওর মুখশ্রী পর্যবেক্ষণ করে! সত্যি তিহান কান্না করছে? কিন্তু হঠাৎ কান্না করবে কেন? কোন পারসোর্নাল প্রবলেম কি হয়েছে? না হলে, তিহানের মতো এমন হাসি _খুশি থাকা ছেলে কখনও কান্না করে না! নূহা তিহানের মুখ উপরে তুলে আলতো হাতে ধরে বলে উঠে
—-” কি হয়েছে তিহান?আপনি কান্না কেন করছেন?”
সম্মুখে থাকা নারী নূহা না অন্য কেউ তা তিহান দেখল না! নিজ মনের শত কষ্টের প্রকাশ করতে, নূহার কোমড় জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে। হঠাৎ তিহানের এমন ছোঁয়ায় নূহা অবাক হয়! তার শরীর কেঁপে উঠে! হাতে থাকা ছাতা মাটিতে গড়িয়ে পড়ে যায়। নূহা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পারে!
তিহানের কান্নার বেগ বাড়ল! নূহার পেটের উপরে তার মাথা চেপে ধরে তিহান! নূহা শান্ত হয়ে তিহানের মাথায় হাত রেখে প্রশ্ন করে
—-” তিহান কি হয়েছে আপনার? কান্না করছেন কেন? কোন সমস্যা হয়েছে! বাসায় কি কেউ অসুস্থ?”
নূহার কথায় তিহান অস্পষ্ট স্বরে গুঙিয়ে বলে উঠে
____” মেঘ, আমায় ভালোবাসেনি নূহা। ও আদ্রিয়ানকে ভালোবাসে!
“মেঘ ভালোবাসেনি?” মানে নূহার মনে এই কথাটা তীরের মতো বিঁধে যায়। নূহা যেন হতভম্ব হয়ে যায়। মেঘ তিহানকে কেন ভালোবাসবে? আর তিহান কি মেঘের জন্য কান্না করছে? আদ্রিয়ানকে যে মেঘ ভালোবাসে তাদের দুইজনের মধ্যে প্রেম ঘটিত কোন সম্পর্ক রয়েছে তা, নূহা আগেই ঠিক ধারণা করেছিল। আর আজ দুপুরের তার ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এরজন্য তিহান কষ্ট পাচ্ছে কেন?
নূহার মাথায় তখন একটা কথা মনে হয়, সে অবাক হয়ে ভাবে! তিহান কি মেঘকে ভালোবাসত? মানে সিরিয়াসলি? কিন্তু কখন প্রেমে পড়ল সে তিহানের? আর মেঘও কি তিহানকে ভালোবাসে? না, ও তো আর্দ্রকে পছন্দ করে। তবে কি তিহান একতরফা মেঘকে পছন্দ করত! এইজন্য কি আজ কেবিনের বাহিরে ওদের একসাথে দেখে তিহানের মুখ_চোখ এমন হয়ে গিয়েছিল! আর সকালে যে, আত্মাীয় শব্দটা শুনে তিহান মনমরা হয়ে ছিল তার কারণ “তিহান মেঘকে ভালোবাসত?
সব কথা যেন নূহার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। তার বোঝার মতো সব শক্তি হারিয়ে যায়! কি হচ্ছে এইসব? নূহা নিজেকে শান্ত করে তিহানকে স্বান্তনা দিয়ে বলে
___” তিহান, এখানে মেঘের কি দোষ বল? ও কি তোমায় একবার বলেছে, যে মেঘ তোমাকে ভালোবাসে! শুরু থেকেই মেঘ আদ্রিয়ানকে স্যারকে ভালোবাসে। তুমি শুধু এর বন্ধু হও বেশি কিছু নও।”
নূহার কথা শুনে তিহান মাথা তুলে বলে
___” কিন্তু আমারও কি দোষ আছে নূহা? আমি তো মেঘকে ভালোবাসি? ভার্সিটির প্রথম দিন যখন, বৃষ্টির মধ্যে মেঘ ছাতা ছাড়া ভিজে ভিজে বাহিরে যাচ্ছিল
।তখন প্রথম দেখায় ওর প্রেমে পড়েছিলাম আমি! আমার হাতে থাকা ছাতা এগিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর থেকেই মেঘকে আমি অনেক পছন্দ করি নূহা।”
নূহা তিহানের কথা বুঝে বলে
___” তিহান, তুমি মেঘকে পছন্দ কর। আর মেঘ আদ্রিয়ান স্যারকে ভালোবাসে! এখন কি করবে তুমি। ”
___” আমি জানি না কি করব। তবে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে নূহা। কেন মেঘ আমায় ভালোবাসল নূহা! কেন?
___” ভালোবাসা জোর করে পাওয়ার জিনিস নয় তিহান! এইটা অনুভূতির বিষয়।”
বেশ দীর্ঘ সময় ধরে তিহানকে স্বান্তনা দেয় নূহা! তিহানও বাস্তবতা বুঝে শান্ত হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টির মাঝে থাকায়, দুইজনের শরীর ভিজে যায়! নূহার পড়নে পাতলা সুতির মসৃণ জামা ছিল! বৃষ্টির পানি লাগায় শরীরের সব ভাজঁ ফুটে উঠে! নূহার এই খেয়াল না থাকলেও তিহানের চোখে পড়ে! তিহান তার পড়নে থাকা ভিজা শার্টের উপর থাকা কোর্ট এগিয়ে দিয়ে নূহার দিকে তাকিয়ে বলে
—-” নূহা কোর্টা পড়ে নেন।”
নূহা প্রথমে তিহানের কথার মানে বুঝতে পারে না, পরে যখন নিজ শরীরের দিকে তাকায়। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে দ্রুত কোর্ট পড়ে নেয়! তিহান তার নজর সরিয়ে নেয়। মাটিতে থাকা ছাতা উঠিয়ে, নূহা হাত নিয়ে তিহানের মাথায় ধরে আর বলে
—–” তিহান, চলুন এখান থেকে যাওয়া যাক। বাসায় ফিরতে হবে আমাকে।”
তিহানও সম্মতি দিয়ে বলে
—–” হুম চলুন।”
তারা দুইজন একসাথে বের হয়ে যায় কলেজ থেকে! বৃষ্টির মাঝে রাস্তায় গাড়ি না থাকায়, তিহান বলে
—-” নূহা, আমি বাইক নিয়ে আসছি। বাইকে করে দুইজন একসাথে যাব।”
তিহান বাইক নিয়ে আসে ওরা দুইজন উঠে পড়ে! বৃষ্টির বেগ তীব্র হয়! তিহানের পিঠে শক্ত করে বসে আছে নূহা! সামনে থাকা কাঁচের গ্লাসে নূহাকে দেখে তিহান! বৃষ্টি ভেজা সদ্য ফোঁটা ফুলের ন্যয় নিষ্পাপ লাগছে তাকে। কখনও মনোযোগ সহকারে সে আগে দেখেনি। আজ প্রথম।
বাসায় ফিরে ফ্রেস হতে ওয়াশরুমে যায় আদ্রিয়ান। ওয়াশরুম থেকে গোসল শেষ করে, রুমে ফিরে আসতেই তার ফোনে কল করে সৃষ্টি। মাথার টাওয়াল চেয়ারে রেখে, ফোন রিসিভ করে। অপর পাশ থেকে সৃষ্টির চিন্তিত কণ্ঠ শুনা যায়
____” ভাইয়া, তোমাকে কতোখন ধরে ফোন করছি। রিসিভ করছ না কেন? প্রায় বিশ থেকে তিরিশ বার তোমায় কল দিয়েছি।”
সৃষ্টির কথা শুনে ফোনের কল লিস্ট চেক করে আদ্রিয়ান, সত্যি অনেক বার কল করেছে সৃষ্টি! কলেজে ক্লাসে যাওয়ার পর তার ফোন সাধারণ সাইলেন্ট থাকে। তাছাড়া তখন কলেজ গাউন থেকে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিল তাই হয়ত ফোন চেক করে দেখেনি! কিন্তু সৃষ্টি হঠাৎ এতোবার কল কেন করল? কোন বিপদ হয়েছে কি বাংলাদেশে! আদ্রিয়ান বলে
___” সৃষ্টি, তুই হঠাৎ কল দিলি কেন এতোবার? কোন সমস্যা?”
সৃষ্টি তার বাবার আমেরিকার যাওয়ার কথা বলার জন্য, এতোবার ফোন করেছিল! সৃষ্টি বলে
___” সমস্যা মানে, অনেক বড়ো সমস্যা। ভাইয়া, আব্বু খুব শীঘ্রই আমেরিকায় আসবে। শুধু আব্বু নয় আমরা সবাই, ভিসা রেডি হয়ে গেছে।”
হঠাৎ জামান সাহেবের আমেরিকায় আসার কথা শুনে অবাক হয় আদ্রিয়ান। পরিবারের সবাই এখানে কেন আসবে? আদ্রিয়ান বলে
___” হঠাৎ সবাই আমেরিকায় কেন আসবে? ভিসাও রেডি হয়ে গেছে?”
___” হ্যাঁ। ভিসা রেডি। আগামী সাত দিনের মধ্যে আমরা আমেরিকায় আসছি৷ আব্বু তোমার আর মেঘের একসাথে সংসার করার কথা জেনে ফেলেছে। উঁকিল দিয়ে ডিভোর্স পেপার রেডি করে রেখেছে। আমেরিকায় আসলে, ডিভোর্স করাবে অবশ্যই ।”
“ডিভোর্স” পেপার রেডি করার কথা জামান সাহেব আগেই বলেছে! কিন্তু মেঘ আর তার একসাথে সংসার কথা ওনি কি করে জানলেন? কে বলেছে? ফারহান? হয়ত ফারহান বলেছে। তবে জামান সাহেব যে, জেদি ওনি যদি বলেন ডিভোর্স করাবে মানে অবশ্যই হবে। কিন্তু আদ্রিয়ান মেঘকে ছাড়া থাকতে পারবে না। অসম্ভব। আদ্রিয়ান শান্ত কণ্ঠে বলে উঠে
___”- সৃষ্টি, আব্বুকে বল ওনার আমেরিকা আসার প্রয়োজন নাই। আমি আর মেঘ খুব শ্রঘীই বাংলাদেশে আসব।”
__” কিন্তু ভাইয়া, আব্বু কি শুনবে? ওনি কিন্তু তোদের দুইজনের ডিভোর্স অবশ্যই করাবে।”
__” ডিভোর্সের কথা পরে বুঝে নিব। আর আমি আদ্রিয়ান রোদায়ান বেঁচে থাকতে, মেঘকে কখনও ডিভোর্স দিব না। অসম্ভব। ”
__” ওকে ভাইয়া।”
সৃষ্টির সাথে কথা বলা শেষ করে, আদ্রিয়ান ফোন রেখে দেয়! ওই ফারহানকে খুন করতে ইচ্ছা করছে তার। কিন্তু নিজের রাগকে শান্ত করে, একদিন একদিন জামান সাহেব সব সত্যি জানত! কিন্তু মেঘকে ডিভোর্স দেওয়া তার দ্বারা সম্ভব নয়! তারা একে অপরকে ভালোবাসে। তাই ডিভোর্স দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।
______ ২ দিন পর _______________
সময় অতিবাহিত হয়ে যায় দুইদিন পর। আজ ফাস্ট ইয়ারের সকল ছাএ ছাএীকে নিয়ে দুর্গম পাহাড়ে ক্যাম্পে যাবে কলেজ। যার মূল দায়িত্ব রয়েছে ডক্টর: জিয়া আর ডক্টর : আদ্রিয়ান। তারা বাসে করে কলেজ থেকে বের হবে। আর বাসায় এখন কাজের লোকজন চলে এসেছে। আর কারান আর আবিহা কাল ফিরবে। জামান সাহেবের আমেরিকায় আসার কথা শুনে, মিরাজ সাহেব আর ফারহানা বেগমও আসবেন। যদিও মিরাজ সাহেবের কাজ শেষ হয়নি!
কলেজ গেইটর বাহিরে দুইটা বাস দাঁড়িয়ে রয়েছে। যার মধ্যে একটাই অর্ধেক ছাত্র ছাএী রয়েছে। আর অন্যটায় বাকি! ভর্তির রোল হিসাব করে তাদের আলাদা করা হয়েছে। বাসের সিটের হেলান দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে মেঘ, তার সিট জানালার পাশে! তার সাথে নূহা বসে আছে! আদ্রিয়ান এখন এই বাসে নেই, অন্য বাসে রয়েছে। সেখানে ছাত্র ছাএীর কোন সমস্যা হয়েছে কি না তা চেক করছে। জিয়াও রয়েছে ওই বাসে।
সব ছাএ ছাএীকে চেক করে ঠিক করা শেষ করে আদ্রিয়ান যখন বাস থেকে নামতে যাবে। তখন তার পিছন পিছন জিয়াও বাস থেকে নামা শুরু করে। আদ্রিয়ান বলে
___” জিয়া, তুমি কোথায় যাচ্ছে?
জিয়া বেহায়ার মতো বলে উঠে
___” কেন, আদ্রিয়ান তোমার সাথে অন্য বাসে যাচ্ছি? চল যায়।”
জিয়ার এমন কথায় চরম বিরক্ত হয় আদ্রিয়ান। সাধারণ বুদ্ধি ও কি এর মাথায় নাই! একটা বাসে যদি দুইজন শিক্ষক থাকে। তবে অন্য বাসে কে থাকবে? সারাক্ষণ তার পিছু পিছু ঘুরা ছাড়া এই মেয়ের দ্বারা আর কোন কাজই সম্ভব নয়। তাছাড়া অপর পাশের বাসে মেঘ রয়েছে, তাই কোন ভাবে জিয়াকে নিজের সাথে রাখা যাবে না৷ আদ্রিয়ান বলে
___” জিয়া, তোমার মাথার বুদ্ধি কোথায় হারিয়ে গেছে? তুমি যদি আমার সাথে যাও? তবে এই বাসে কে থাকবে? যদি রাস্তায় কোন বিপদ হয় তখন?”
আদ্রিয়ানের অপমানজনক কথায় জিয়ার মুখ কুচঁকে ফেলে। অবশ্য তার কথাও সঠিক! দুইজনে একই বাসে গেলে এই বাসের শিক্ষার্থীর কি হবে?কিন্তু সারা রাস্তা আদ্রিয়ানের সাথে যাওয়ার সুযোগ সে মিস করতে চাই না। জিয়া বলে
___” আদ্রিয়ান, রাস্তায় কি বিপদ হবে আর? বাসে টির্চার না গেলে প্রবেলম হবে না। তাছাড়া ওরা যথেষ্ট বড়ো স্টুডেন্ট।কোন প্রবলেম হলে ফোন করে জানাবে।
আদ্রিয়ান এইবার ধমক দিয়ে বলে উঠে
তোমার নামে নীলচে তারা পর্ব ৬০
___” জিয়া, তোমার এই বাসে করে যেতে কি সমস্যা শুনি? আমার সাথেই কেন যেতে হবে?”
__” কিন্তু আদ্রিয়ান।”
__” চুপচাপ বাসের ভিতরে যাও জিয়া। আমাকে যেন দ্বিতীয় বার বলতে না হয়। ইডিয়েট। ”
আদ্রিয়ান ধমকের সহিত কথাটা বলে বাস থেকে বের হয়ে অন্য বাসে চলে যায়। জিয়া মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে থাকে! তার হাত থেকে কতো বড়ো সুযোগ মিস হয়ে গেল। আদ্রিয়ানের সাথে যাওয়া। ধুর, ভালো লাগে না। তবে ক্যাম্পে গিয়ে আদ্রিয়ান কি করে তার থেকে দূরে থাকে৷ তাই জিয়া দেখবে।
