হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৬
তামান্না ইসলাম শিমলা
“ আসতে পারি?”
সদর দরজা থেকে কারো কণ্ঠস্বরের শব্দ আসতেই তানিয়া ও সালমা সেদিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে, শান্ত গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে আছে তেহরাব। সালমা তেহরাবকে না চিনলেও তানিয়া চেনে, আর এই মুহূর্তে তেহরাবকে এখানে দেখে কিছুটা অবাকও হলো তানিয়া। হঠাৎ তার নজর গেল তেহরাবের হাতের দিকে, মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি তেহরাব। কিন্তু তেহরাব মিষ্টি নিয়ে কেন এসেছে?
“এখানেই কি দাঁড় করিয়ে রাখবেন?”
তানিয়ার ঘোর কাটে, মুচকি হেসে বলে,
“ আরে না, এসো ভেতরে এসো!”
তেহেরার ভেতরে আসলো, তবে আপাতত তার চোখ জোড়া খুঁজছে তার একান্ত এলোকেশীকে! কিন্তু কোথায়? তনয়া তো নেই!
তেহরাবকে এদিক সেদিক তাকাতে দেখে তানিয়া প্রশ্ন করল,
“কাকে খুঁজছো বাবা?”
তেহরাব নিজের হাতে থাকা মিষ্টির প্যাকেট টা তানিয়া দিকে এগিয়ে দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বলে,
“মাস্টার কাকা কই?”
তানিয়া কৌতুহল নিয়ে মিষ্টির প্যাকেট টা হাতে নেয়,
“উনিতো স্কুলে গিয়েছে! কিন্তু বাবা মিষ্টি কেন? “
তেহরাব আঁড় চোখে তনয়ার রুমের দিকে তাকালো, দৃষ্টি ফিরিয়ে আবারও তানিয়ার দিকে তাকায়,
“পরে বলি, পানি হবে?”
তানিয়া মৃদু হেসে মিষ্টি প্যাকেটটা ডাইনিং টেবিলে রাখে, তানিয়া টেবিলের কাছে যেতেই সালমা আড়ালে তানিয়াকে জিজ্ঞেস করে,
“ছেলেটা কে রে?”
তানিয়া আর চোখে একবার তেহরাবের দিকে তাকায়, শান্ত সুরেই বলে,
“মেম্বারের ছেলে!”
সালমা বোধহয় অবাক হলো, বিষয় নিয়ে বলল,
“এটা ইউসুফের ছেলে?”
তানিয়া ভ্রু কুচঁকে সালমার দিকে তাকালো,
“হ্যাঁ, চিনেন নাকি তাকে? “
সালমা থতমতো খেয়ে গেল, জোরপূর্বক হাসি টেনে বলে,
“না চেনার কি আছে, মেম্বর মানুষ!”
তানিয়া আর কথা বাড়ায় না, জগে হাত দিতে দেখে জগে পানি নেই! কলস টাও তো টেবিলের উপর নেই, ঠিক সেই সময় কলেজ ভর্তি পানি নিয়ে রুমে প্রবেশ করে তনয়া। রুমে ঢুকে তেহরাবকে দেখে বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় তার, এই লোকটা এখানে কি করছে?
তেহরাব বুকে হাত গুঁজে শান্ত শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তনয়ার দিকে, এই দৃষ্টিতে কোনো রাগ বা উত্তেজনা দেখতে পেল না তনয়া। ফলস্বরূপ আড়ালে শস্তির তপ্ত নিশ্বাস ফেলে চোখ সড়িয়ে নিল, মাথা নিচু করে কলসটা টেবিলে রেখে চলে যেতে নিলে তানিয়া আটকায়,
“ চুলাই তরকারি বসিয়েছি, তুই গ্লাসে পানি ভরে তেহরাব বাবাকে দে!”
বলেই তানিয়া প্রস্থান করল, তনয়া চোখ মুখ কুঁচকে বিড়বিড়াল,
“ দেখে শুনে বাঘের মুখে ছেড়ে যাচ্ছ!”
তনয়ারই বা আর কি করার, তেহরাবের দিকে আর তাকাল না। আবারো টেবিলের কাছে এসে পানি ভরে তেহরাবের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, হাতে থাকা পানির গ্লাস এগিয়ে দেয় তার দিকে!
তেহরাব নেয় না, অনেকটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও যখন নিজের হাতে থাকা গ্লাসটা স্থায়ী তখন মাথা তুলে তনয়া তেহরাবের দিকে তাকাল। একান্ত ব্যক্তিগত এলোকেশীর হরিণীর ন্যায় ভয়ার্ত দৃষ্টি তেহরাবের মনের গহীনে ঝড় তুলতে সক্ষম, কি আছে এই দৃষ্টিতে? কি আছে এই এলোকেশীর মাঝে? যা তাকে বারংবার চুম্বকের ন্যায় কাছে টানে, চোখের তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়!
“ পা পানি নিন!”
তনয়া আবারও চোখ নামিয়ে নিল, আমতা আমতা করে কথাটি বলতেই তেহরাব আড়ালে ক্রুর হেসে গ্লাস হাতে নেই। এই সুযোগে নিজের এলোকেশীর নরম কোমল হাতটাকে হালকা ছুঁয়ে দেয়, তনয়ার শরীরের প্রতিটি লোমকূপে দাঁড়িয়ে উঠে। যেন এক ঝটকা বিদ্যুৎ প্রতিবাহিত হলো, দ্রুত দুপা পিছিয়ে গেল। তনয়ার এহেন প্রতিক্রিয়ায় সকলের দৃষ্টির আড়ালে তেহরাবের অধরে বাঁকা হাসি উদয় হলো!
তেহরাব এবার সোফায় বসে থাকা সালমার দিকে তাকাল, আপাতত তার মনোযোগ টিভির দিকে। হঠাৎ সালমার ফোনে কল আসতে তিনি ফোন হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়, এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল তেহরাব। সালমা বেরিয়ে যেতেই তনয়াও বের হওয়ার জন্য পা বাড়ায়, তবে দুপা যাওয়ার পরেই থামতে হয় তাকে! তেহরাবের শক্ত হাতের বাঁধনে বাঁধা পরে তনয়ার হাত, তেহরাব চোখ মুখ কুঁচকে হাতের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ শরীরের অবস্থা কি করেছিস? আমার সাথে দাঁড় করালে তোকে তো খুঁজেও পাওয়া যাবে না! নিজের যত্ন নে, নাহলে আমাকে সামলাবি কি করে?”
তেহরাবের শেষোক্ত কথাটি শুনা মাত্রই চোখ মুখ কুঁচকে নেই সে, পেছন ঘুরে হাতের দিকে তাকিয়ে হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলে,
“ অসভ্য লোক, হাত ছাড়ুন!”
তেহরাব ছাড়ে না, উল্টো দুষ্টু হেসে বলে,
“অসভ্য বলেই তো বলছি নিজের শরীরের যত্ন নে, পরে কিন্তু বলতে পারবি না আমি ওয়ার্ন করিনি!”
তনয়া ভ্রু কুঁচকে তাকায় তেহরাবের দিকে, এবার তেহরাবের হাতের বাধন আলগা হয়।
তেহরাবের আলগা হাতের বাঁধন থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নেয় চট করে, এদিক-ওদিক তাকিয়ে বলে,
“কি করছেন কি, এটা আমার বাড়ি!”
“তো আমি কি বলেছি এটা আমার বাড়ি? অবশ্য তোর বাড়ি মানে আমার শশুর বাড়ি, আমার বাড়ি মানে তোর বাড়ি! আর তুই শুধু আমার!”
তনয়ার রাগী রাগী ভাব নিয়ে তেহরাবের দিকে তাকায়, তেহরাব ঠোঁট টিপে হাসে। অতঃপর যে কাজের জন্য এই বাড়িতে আসা সেটা মনে পড়তেই মৃদু হেসে তেহরাব বলে,
“ আজকের দিন টা আমার জন্য খুশির একটি দিন, একটা সুখবর আছে এলোকেশী!”
তনয়া মৃদু কৌতূহল নিয়ে তাকায় তেহরাবের চোখের দিকে, আজ তেহরাবকে সত্যি অন্যরকম লাগছে। কেমন উজ্জ্বল আনন্দিত মুখশ্রী, তনয়া প্রশ্ন করল,
“ কি সুখবর?”
তেহরাব কোন উত্তর না দিয়ে টেবিলের কাছে চলে যায়, মিষ্টির প্যাকেট থেকে মিষ্টি বের করে আবারো ফিরে আসে তনয়া এর কাছে। মিষ্টিটা নিয়ে তনয়ার মুখের কাছে ধরতেই কপাল কুঁচকে তাকায় তনয়া, হঠাৎ মিষ্টি কি উপলক্ষে?
“ মিষ্টি! কে এনেছে?”
তেহরাব বিরক্ত নিয়ে তনয়ার মুখের ভেতর মিষ্টিটা দিয়ে বলে,
“ আমি!”
আকস্মিক মিষ্টিটা মুখে দেওয়ায় বিষম খায় তনয়া, দ্রুত পানি খেয়ে চোখ মুখ কুঁচকে তাকায় তেহরাবের দিকে! মৃদু রাগ নিয়ে বলে,
“ ভারি আশ্চর্য মানুষতো আপনি, এভাবে কেউ খাওয়ায়?”
তেহরাব ঠোঁট টিপে হাসে, তনয়া মুখ কুঁচকেই রাখে।
“হঠাৎ মিষ্টি নিয়ে আমাদের বাড়িতে কি করছেন?!”
তেহরাব ঠোঁট গোল করে তনয়ার মুখে ফু দিয়ে বলে,
“তোকে বিয়ে করব, তাই সম্মন্ধ নিয়ে এসেছি! আর শশুর বাড়ি কি খালি হাতে আশা যায়?”
তনয়াকে এবার সিরিয়াস দোখাল, কিঞ্চিৎ ভয় পেল বোধহয়
তনয়া হতভম্বের ন্যায় তাকায় তেহরাবের দিকে, চোখ দুটি বোধহয় এখনি অক্ষিকোটর থেকে বেরিয়ে আসবে। তেহরাবের কথাটা বোধহয় গুরুত্বর ভাবেই নিয়েছে সে, তনয়ার এমন মুখশ্রী দেখে তেহরাব এবার শব্দ করে হেসে ফেলল।
তনয়া এবার কিছু না বলে বেরিয়ে যেতে নিলে তেহরাব হাত দিয়ে আটকে দেয়, স্বাভাবিক শান্ত কন্ঠে বলে,
‘ আজ আমার মাস্টার্সের রেজাল্ট দিয়েছে জান, আমার ইচ্ছে ছিল আমার রেজাল্ট যেমনই হোক না কেন সবার আগে আমি তোকে জানাব। সেই জন্য আমি মাকেও এখনো রেজাল্ট জানাইনি!
সকাল থেকে কম হলেও একশো কল করেছি, কিন্তু তোর ফোন বন্ধ! আর যখন কল যাচ্ছিল তুই ধরছিলি না, তবে বিশ্বাস কর আজ আমার বিন্দু পরিমানও রাগ হয়নি। উল্টো খুশি লাগছে কারন আমি নিজে হাতে তোকে মিষ্টি খাওয়াতে পারলাম৷”
তনয়া ভ্যাবলার মতো হা করে তাকিয়ে আছে তেহরাবের দিকে, কারন তনয়া এটাও জানত না তেহরাব আদেও পড়াশোনা করে নাকি বা কিসে পড়ে! নিজের আকস্মিকতা দূরে ঠেলে তনয়া জিজ্ঞেস করল,
“ আপনি কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করলেন? আর রেজাল্ট কি এসেছে!”
তেহরাব নিজের ফোনে কিছু একটা বের করে তনয়ার দিকে এগিয়ে দেয়, তনয়া হাতে নিয়ে দেখে রেজাল্টসিট! আশ্চর্যের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তনয়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে লিস্টের প্রথমরই নাম রয়েছে তেহরাবের। লিস্টের প্রথমেই গোটাগোটা অক্ষরে লেখা “তেহরাব সরকার” এর নাম, আর তার নিচে শিহাব আহমেদ!
এই মুহূর্তে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তনয়া, মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে তার৷ তেহরাব বোধহয় বুঝতে পারল তনয়ান অবাক হওয়ার কারন, কারন মেয়েটা তার বিষয়ে বলতে গেলে কিছুই জানত না অথচ সে তার এলোকেশীর সম্পর্কে সব জানে!
“খুশি হসনি?”
তনয়া ফোনটা তেহরাবকে ফিরিয়ে দিল, মনে মনে প্রচুর খুশি হলেও বাইরে প্রকাশ করল না। শুধু মৃদু হেসে বলল,
“ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল!”
তেহরাবের কাছে এটুকুই যথেষ্ট, এইযে নিজের ইচ্ছেটা পূরন করল, তার এলোকেশী খুশি হয়েছে এটাই তার জন্য সব!
তনয়া এবার বেরিয়ে গেল, তেহরাবও আর আটকালো না৷ দুজনের অধরাই হাসি! মুগ্ধতার আবেশে তেহরাব বড় করে শ্বাস নিল, দুজনের অধরেই বিরাজমান সেই স্নিগ্ধতার চিহ্ন!
একজন হাসছে নিজের জীবনে হুট করে প্রবেশ করা এক আগন্তুকের সফলাতার সংবাদে, অন্যজন হাসছে তার এলোকেশী হাসছে বলে। কি অদ্ভুত যোগসুত্র দুজনার, তবে অপেক্ষা তো দেখার আদেও এক সুতোই বাঁধা পরে কিনা তাদের জীবন। নাকি এ পথ বিচ্ছিন্ন হবে আলাদা দুই গন্তব্যে? কে জানে!
“তেহরাব যে! তুমি এখানে!”
শফিক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তেহরাবকে দেখে কথাটা বলে, তেহরাব শান্ত কন্ঠে সালাম দেয়। ঠিক সেই সময়ই হাতে চিপসের প্যাকেট নিয়ে ঘরে আসে তানহা, তেহরাবকে দেখে আশ্চর্যে হা করে তাকিয়ে থাকে। হাত থেকে চিপসের প্যাকেট পরে যায় তার, নিজের ক্রাশ এখন তার সামনে!! নিজের বাড়িতে!!
তানহা বিড়বিড়িয়ে বলে উঠে,
“তেহরাব জানেমান আমার, আপনি আমার বাড়িতে!”
তেহরাবের অবশ্য তানহার দিকে নজর নেই, সে শফিককে নিজের রেজাল্টের কথা জানাই৷ শফিক খুশি হয়, একটু বেশিই খুশি হয়! শফিক তেহরাবের মাথায় হাত রেখে বলে,
“দোয়া করি ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করো, নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারো!”
তেহরাব স্নিগ্ধ হাসে, বিড়বিড় করে বলে,
“আমার স্বপ্ন তো আপনার মেয়ে, তাকে পেলেই আমার চলবে!”
তেহরাবের বিড়বিড়ানো কথা শুনল না শফিক, শোনার কথাও না। তেহরাব বড় করে শ্বাস নেয়।
“আজ আসছি!”
শফিক মৃদু হেসে বলে,
“আবার এসো!”
তেহরাব মুখে কিছু না বলে বেরিয়ে যায়, তবে মনে মনে বলে,
“ আসতে তো হবেই, শশুর বাড়ি বলে কথা!”
তেহরাব বের হওয়ার সময় তানহার সামনে দিয়েই যায়, তানহা তো মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল তেহরাবের যাওয়ার দিকে। ইশ কি অদ্ভুত অনুভূতি!!
হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছে তানহার, তেহরাব যে তার মন দখল করে নিয়েছে!
“ভম্বলের মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন, সর সামনে থেকে!”
তানিয়া বিরক্তি নিয়ে তানহাকে পাশ কাটিয়ে ভাতের পাতিল নিয়ে ঘরে চলে গেল। তানহা ঠোঁট টিপে হাসল, অজানা কারনে লজ্জা পাচ্ছে সে। ঠোঁট কাঁমরে হেসে বিড়বিড় করে লাগল,
“সরতেই তো চায় মমি ডার্লিং, জানেমানের সাথে বিয়েটা দিয়ে দাও চলে যায়। তেহরাব জানেমানটা যে আমাকে মারহাবা করে দিচ্ছে, আইশ কেয়া নাজরে হে উনকি।মে তো মার জাবা!”
গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় মুখোমুখি হয় তেহরাব আর শিহাব, তেহরাব সেদিকে পাত্তা না দিয়ে চলে যেতে নেই। তবে শিহাব তাকে ডেকে উঠে,
“এই তুমি তেহরাব না?”
তেহরাব ভ্রু কুঁচকে দাঁড়িয়ে পরে, পেছন ঘুরে শিহাবকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে। ছেলেটাকে তো চেনা চেনা লাগছে না, চিনবেই বা কি করে প্রতিদিন কত মানুষের সাথে তার পরিচয় হয়!!
তেহরাব শান্ত গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“হ্যাঁ!”
শিহাব হা করে কিছু সময় তাকিয়ে থাকে,তেহরাব এখানে কি করছে?
“তুমিই তো প্রথম হয়েছ তাই না? আমাকে চিনতে পেরেছ? কলেজের প্রথম দিন তোমার সাথে আমার ছোট্ট ঝামেলা হয়!”
তেহরাব গা ছাড়া ভাব নিয়ে হাঁটা ধরল বাইকের কাছে, বাইকে উঠে বসতে বসতে জবাব দেয়,
“ওসব ছোট খাটো বিষয় আমি মনে রাখি না!”
বলেই বাইক স্টার্ট দেয়, মুহুর্তেই দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে যায়। সে দিকে তাকিয়ে থাকে শিহাব, ছেলেটা কেমন গা ছাড়া স্বভাবের।
“যায়হোক আমার কি!”
আনমনে কথাটি বলে ভেতরে চলে যায় শিহাব, খাওয়া দাওয়া করে তানহা তনয়াকে নিয়ে বেরও হতে হবে!
কথা যেহেতু দিয়েছে নিয়ে তো যাবেই!
“তোমার গুণধর ছেলের নাকি আজ রেজাল্ট দিয়েছে, অথচ সে রেজাল্ট না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছে।”
ইউসুফ সবে বাড়ব এসে ড্রয়িং রুমে বসেছে, আসতে না আসতেই কথার ঝুরি খুলে বসেছে তাসলিমা। এদিকে ইউসুফ না পারছে সইতে না পারছে কিছু বলতে, বলেও তো লাভ নেই। ক্যাসেট চলতেই থাকবে!! তাই গা হাত পা এলিয়ে সোফায় বসতে বসতে তাসফিয়াকে পানি আনতে বলল, তাসফিয়া রান্নাঘর থেকে পানি এনে ইউসুফের হাতে দিল।
এমন সময় শিশ বাজাতে বাজাতে সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করল তেহরাব, অধরর লরপরটর আছে হাসি। তেহরাবের হাস্যজ্জল মুখশ্রী নজরে পরতেই তাসফিয়ার কপালে ভাঁজ পরে, যাওয়ার সময় মুখ ভার করে গেল আর ফির আসল এত উচ্ছ্বাস নিয়ে
বিষয়টা কি? তেহরাব কমকোনো দিকে না তাকিয়ে উপরে যেতে নিলে তাসফিয়া জিজ্ঞেস করে,
“ এই দাঁড়া, রেজাল্ট কি এসেছে বলবি? আর কোথায় গিয়েছিলি?”
তেহরাব সিড়িঁর রেলিং এ হেলান দিয়ে পছনে তাকায়, এবার ইউসুফ চেহারায় গম্ভীরতা এনে প্রশ্ন করে,
“ কালকেই না বললে তোমাকে মিল আর স্কুলের দায়িত্ব দিতে, তাহলে এখনো এত টুটু কীসের? রেজাল্ট কি এসেছে? জেদ করে পরে রইলে গ্রামে, একটা দিন ভার্সিটিতে পা দিলে না। উল্টো নানা রকম ঝামেলা করে বেরাও, একটা কথাও শোনো না।
পাশ করেছো তো? নাকি সেটাও করনি? আর এত সময় কোথায় ছিলে?”
তেহরাব দুজনের কথায় শুনল, অতংপর হাই তুলতে তুলতে বলে,
“পাশ করেছি, ভালো ভাবেই ফাস্ট ক্লাস পেয়েই করেছি৷ আর রইল পরের প্রশ্ন, কোথায় গিয়েছিলাম! আচ্ছা বলছি, আমার হলেও হতে পারত মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম,সাথে শাশুড়ী আম্মার সাথেও!”
তেহরাবের কথা শুনে ইউসুফ ভ্রু কুঁচকায়, কথার মানেটা বুঝল না। এদিকে তেহরাবের মুখে এমন কথা শুনে তাসলিমা হতভম্ব হয়ে তাকায় তার দিকে। কি বলল তার ছেলে? হলেও হতে পারত মা! মানে কি এর!
” এই কি বললি?”
ঝাঁঝালো কন্ঠে শুধায় তাসলিমা,তেহরাব ফিচেল হেসে সিঁড়ি বেয়ে যেতে যেতে মাথা ঘুরিয়ে ইউসুফের দিকে আবার তাকায়। মৃদু চোখ মেরে গানের দু লাইন বলে,
“সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা!”
ইউসুফের বুঝতে বাকি রইল না, সাথে সাথে ভিষম খেলো! তাসলিমা আড়ঁ চোখে ইউসুফের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করল,
” এই তোমার ছেলে কি বলল?”
ইউসুফ বোকা বোকা হেসে বলে,
হাওয়াই মিঠাই পর্ব ৫
“ওর কথা তুমি সিরিয়াস নিচ্ছ কেন?ও তো পাগলই! দেখ তোমার তরকারি পুড়ল কিনা!”
তরকারি পুড়ার গন্ধ সাকে আসতেই আর কিছু না বলে দৌড় লাগায় তাসলিমা, এদিকে ইউসুফ হাফ ছেড়ে বাঁচে৷ তেহরাবের ঘরের দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ কুঁচকে বিড়বিড় করে,
“ছেলে নামে শত্রু, নিজের বাবার সংসার ভাঙতে চাইছে! সব দোষ আমার, কেন যে বলতে গিয়েছিলাম। বজ্জাত ছেলে!”
