Home অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৩

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৩

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৩
Sathi

__ আপনি এখানে কি করছেন এত রাতে?
__ ভবিষ্যৎ চু*মুখোর বউকে দেখতে এসেছি।
” বলতে জেহেফিল সেতুর পাশে ফ্লোরে বসে যায়। জেহেফিল বসতেই সেতু লাফিয়ে উঠে যায়। চোখে স্পষ্ট বিরক্তি আর ভয়ের মিশ্র ছাপ। তারাতারি করে উড়না শ*রী*রে জড়িয়ে বলে বলল।
__ উঠুন বলছি, উঠুন। বের হন আমার রুম থেকে।
__ চলে যাবো, তবে শাস্তি তো নাও। এই যে পাক্কা ৬ ঘণ্টা পঁচা ডিমের গন্ধ খেয়েছি, তা তোমাকেও একটু ফিল করাই। এখনই এই মুহূর্তে পচা ডিম খাবে।

__ কি!
” সেতু ছিটকে দূরে সরে যায়। আরাম করে জেহেফিল কথাটা বলে ফ্লোর উঠে দাঁড়ায়, সেতুর সোজাসুজি হয়ে দাঁড়ায়। পকেট থেকে ডিম বের করতেই সেতুর বুক ধড়ফড় করতে থাকে। মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
__ শাস্তি থেকে বাঁচতে চাও?
__ হ্যাঁ হ্যাঁ!
” জেহেফিলের বলতে দেরি, সেতুর জবাব দিতে দেরি নেই। ভয়ে সেতুর গলা শুকিয়ে গেছে।জেহেফিল ডিমটা হাতে ঘুরাতে ঘুরাতে বলে।
__ প্রচুর খিদে লেগেছে চু*মুখোর বউ। তবে টেনশন নেহি মাত করো, চু*মু খেতে হবে না আপাতত। তোমার অকাম্মা হাত দিয়ে কিছু সুস্বাদু খাবার খাওয়াও।
” জেহেফিলের কথা মনে দিয়ে শুনে কথা সেতু ঘড়ির দিকে তাকায়। বেশ রাত হয়েছে। মানে ভাইয়া আর মা ঘুমিয়ে যাবে। একটু ভেবে, ঠোঁ*ট কা*মড়ে বলে।

__ ঠিক আছে, আপনি বসুন। আমি আসছি।
” বলেই সেতু বেরিয়ে যায়। সেতুকে বেরিয়ে যেতে জেহেফিল গিয়ে বেডে বসে। মশারির দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ হা হয়ে থাকে। বুঝতেই পারে না এই মশারির অবস্থা এমন কেন। পাশে তাকিয়ে কয়েল পড়ে থাকতে দেখে তা নিভিয়ে পাশে রাখতেই, তাকিয়ে দেখে একটা ফ্যামিলি ফটো । যত্ন সহকারে সেটা হাতে নিয়ে চোখ বুলাতেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে যায়।
“পিছনে সেতুর মা আর বাবা, সামনে সেতু আর তার ভাই দাঁড়িয়ে আছে ছবিতে। জেহেফিল সেতুর বাবার ছবিতে হাত বুলিয়ে বাকা হাসে। চোখে অদ্ভুত কিছু একটা বেশ ফিসফিস করে বলে।
__ উল্টো গণনা শুরু করুন, মিস্টার চৌধুরী।

” নিচে কিচেনে এসে সেতু ভাবনায় পড়ে যায়। কি করবে সে? ফ্রিজ চেক করে দেখে কিছু নেই। সে নিজেও গরম পানি ছাড়া কিছু রান্না করতে পারে না। পাশে নুডলস দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে, মোবাইল থেকে রেসিপি দেখে সেটা বানানো শুরু করে।
” চুলায় গরম পানি বসিয়ে পাশে পেঁয়াজ, মরিচ কাটতে থাকে। গরম পানি ফুটতে শুরু করতেই নুডলস দিয়ে দেয়। সিদ্ধ করে কেটে রাখা মু*রগির পিস তেলে ছেড়ে দেয়। ধীরে ধীরে নুডলস রান্না হয়ে যায়।
” বেশ অনেকক্ষণ পর নুডলস তৈরি হলে কো*মরে হাত দিয়ে ঠোঁ*ট বাঁকিয়ে সেতু বলে ওঠে।
__ কোন আ*লারপো*য়ালা বলেছে দুই মিনিটে নুডলস হয়? তার মাকে লাল সালাম।
” সেই ব্যক্তির উপর ওপরই বি*রক্ত হয়ে গা*লি দিতে দিতে বাটিতে নুডলস নিয়ে রুমের দিকে হাঁটা দেয় সেতু।
” রুমে এসে দেখে জেহেফিল ম*শারি খুলে গুছিয়ে রেখেছে। নিজে বেডের চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। একদম নি*র্ল*জ্জ ভঙ্গি।

__ এই নিন আপনার নুডলস। খেয়ে বিদায় হন।
” বাটিটা প্রায় ছুঁ*ড়ে দেওয়ার মতো করে জেহেফিলের দিকে বাড়িয়ে দেয় সেতু। বিপরীতে জেহেফিল হাই তুলে লাজসাহেবের মতো অর্ডার দেয়।
__ খাইয়ে দাও, মেয়ে।
__ মামার বাড়ির আবদার। আল্লাহ দুইটা হাত দিয়েছে, এগুলোকে কাজে লাগান, নয়তো কে*টে ফেলে দেন, তারপর খাইয়ে দিচ্ছি।
__ বড্ড বেশি কথা বলো, চু*মুখোর বউ। আর একটা বাড়তি কথা যদি তোমার ওই রসগোল্লার মতো ঠোঁ*টটা দিয়ে যদি বের হয়, তাহলে পচা ডিম সোজা সেই ঠোঁ*ট ফাঁক করে ভিতরে যাবে। বাঁচতে চাইলে তাড়াতাড়ি খাইয়ে দাও।
” জেহেফিল লম্বা বক্তব্য দিয়ে থামতেই রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সেতু নুডলস নিয়ে মুখের সামনে ধরে। দাঁত চেপে খাওয়াতে থাকে। সেতুর রাগি ফেস দেখে মুচকি হাসে। পায়ের উপর তুলে আরাম করে জেহেফিল নুডলস মুখে নেয়।
“সেতুর চোয়াল শক্ত, চোখে আগুন। আর জেহেফিল দাঁত কেলিয়ে কেলিয়ে খাচ্ছে।

__ আপনি আমার পিছু কখন ছাড়বেন? কেন আমার পিছনে পড়ে আছেন?
__ অনেক বড় ভুল করেছো আমাকে চু*মু দিয়ে। তুমি মেয়েটা কেমন নেশা নেশা। সেখানে তো চুমু দিয়ে একদম আসক্ত করে ফেলেছ আমাকে। মৃত্যুর আগে আমি তোমাকে ছাড়ছি না, অর্ধেক বউ।
” কথাগুলো জেহেফিল অদ্ভুত সিরিয়াস গলায় বলে। সেই হালকা ভারী সুরে, সেতুর বু*ক ধড়ফড় করে ওঠে। দুইদিন হালকাভাবে নিলেও আজ কেন যেন মনে হচ্ছে লোকটা সত্যিই সিরিয়াস।
” কিছু না বলে সেতু খাওয়াতে থাকে। জেহেফিল চপচপ করে খেয়ে শেষ করে।
__ তুমি আমার জীবনের তৃতীয় নারী, যার হাতে আমি খাবার খেলাম।
” বলে মুখ মুছে মুচকি হাসে। সেতু অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। ভ্রু কুঁচকে বলে।
__ সেই দুইজন আপনার মা আর বোনের হাত বুঝি?
” জেহেফিল তাকায়। হাত মুঠো করে ফেলে। চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত কঠিন ছায়া নেমে আসে। স্থির কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে সাভাবিক গলায় বলে।

__ তোমার যা মনে হয়। এখন আমি যাচ্ছি। তবে এমন মজাদার নুডলস খাওয়ানোর জন্য দোয়া করি তোমার পেটে আমার ১২ হালি বাচ্চা জন্ম হোক।
” বলেই যেতে গিয়ে হঠাৎ পিছন ফিরে চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়ায়। তারপর ঝট করে সেতুর কপালে চু*মু দিয়ে দ্রুত সরে যায়।
” হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেতু। কয়েক সেকেন্ডে কি হয়ে গেল বুঝতেই পারে না। কপালে হাত দিতেই ঠাণ্ডা শীতল অনুভূতি। তাড়াতাড়ি কপাল মুছে ফেলে। রাগে দুঃখে বলে ওঠে।
__শালার ব্যাটাছেলে তোর পেটে আমার বাচ্চা জন্ম হোক ১২ হালি!
” বলেই ওয়াশরুমে গিয়ে পানি দিয়ে ঘষে ঘষে কপাল ধুতে থাকে।

” সকাল ৮টা।
” কলেজে রোদের মাঝে এক ঘণ্টা কানে ধরে গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে সেতু। রোদের তাপে তার অতিরিক্ত ফর্সা মুখ লালচে হয়ে গেছে। দাঁত চেপে সামনে সিনিয়র ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে।
“হঠাৎ সামনে স্পিডে একটা গাড়ি এসে ব্রেক কষে। এমন অবস্থায় সেতুর ভয়ে কলিজা গলায় উঠে যায়। ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কিছুক্ষন পর ফিট ফিট করে চোখ খুলতেই দেখে জেহেফিল।চোখে কালো সানগ্লাস, চকচকে কালো শার্ট, হাতা ভাঁজ করা, চুল পিছনে সেট করে দিয়েছে। হাঁটার ভঙ্গিতে স্পষ্ট দাপট। আজ আবার জেহেফিল।ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে সেতু তাকিয়ে থাকে । বুঝতে পারে না জেহেফিল কেন বারবার কলেজে আসছে। তাকে ডিস্টার্ব করতে?

” জেহেফিল কলেজে ঢুকতেই সেতুকে কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে থেমে যায়। পা দুটো আলতো করে ক্রস করে দাঁড়ায়। ল**জ্জায় সেতু মাথা নিচু করে ফেলে। জেহেফিল কুটিয়ে কুটিয়ে তাকিয়ে দেখে, রোদের কারণে সেতুর মুখ একদম টকটকে লাল। পিছন ফিরে দেখে ছেলেগুলো ভয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
__ কে কান ধরতে বলেছে তোমাকে?
” হুঙ্কার দিয়ে বলতেই সেতু কেঁপে ওঠে। ভয়ে ভয়ে আঙুল তুলে সামনে থাকা ছেলেগুলোর মাঝে একটা ছেলেকে দেখায়।
__ এই ছেলে, সামনে আসো।
” রাগি স্বরে বলতেই ছেলেটা সামনে এসে দাঁড়ায়। জেহেফিল তাকে আগাগোড়া পড়ুক করে দেখে।অন্যদিকে সেতুর মনে খুশিতে লাড্ডু ফুটতে থাকে, ভেবেই নেয় শাস্তি দেবে।কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে জেহেফিল ছেলেটার সাথে হ্যান্ডশেক করে।
__ পারফেক্ট করেছিস কাজটা। এমন ছেলেই আমি চাই। নে, তোকে খুশি হয়ে আরো ৫ হাজার বাড়িয়ে দিলাম।
“বলেই পকেট থেকে টাকা বের করে ছেলেটার দিকে বাড়িয়ে দেয়। জেহেফিলের আচরণে ল*জ্জা আর অ*পমানে সেতু হা করে তাকিয়ে থাকে।

__ তার মানে আপনি করিয়েছেন সব?
__ অফকোর্স। নয়তো কার এত সাহস আছে তোমাকে এমন রেগ দেওয়ার? আসলে কি বলতো, অর্ধেক বউ তুমি না বড্ড বেশি সাদা। একদম ফলটি মুরগি, যা আমার পছন্দ না। তাই একটু শ্যামবর্ণ করার ট্রাই করলাম। অ্যান্ড আমি সফল।
__ কি?
” সেতু চিৎকার করে বলতেই জেহেফিল ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে।
__ এক কেজি ঘি। এখন বেশি কথা না বলে ক্লাসে যাও সোজা। আর হ্যাঁ, কলেজের বাইরে একটা খাবারও টাচ করবে না।

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ২

” বলে সেতুকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে গটগট করে হাঁটতে হাঁটতে চলে যায় জেহেফিল।পিছন থেকে ফাটা চোখে তাকিয়ে থাকে সেতু। জেহেফিলকে প্রিন্সিপাল স্যারের কক্ষে ঢুকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে যায় সেতুর। অবাকের চেয়ে রাগটাই বেশি হচ্ছে সেতুর।

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পর্ব ৪