Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৭

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৭

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৭
সাঞ্জেনা শাজ

তালুকদার বাড়িতে আশড় বসেছে। সকলে এটা সেটা বলতে ব্যাস্ত। বাড়ির বাচ্চা কাচ্চা গুলো ও উপস্থিত। আগামীকাল শুক্রবার হওয়ায় স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি সবিই বন্ধ। শাফি কতোক্ষন নিজে নিজেই উরোউরি করলো। তারপর আচমকাই থেমে গিয়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো,,
“আগামীকাল তো শুক্রবার, চলোনা সকলে মিলে কোথাও ঘুরতে যাই? মেহরাদ ভাইয়াকে বলি আমাদের নিয়ে যেতে কোথাও? ”

“ইশ! আমরা বললেই ভাইয়া নিয়ে যেতে বসে আছে? ভাইয়ার কাজ টাজ থাকলে? তবে গেলে ভালোই হতো কি বলিস শুভ্রতা? ” শেষের কথাটা উচ্ছ্বসিত হয়েই জিজ্ঞেস করলো সোহানা। শুভ্রাও সায় জানালো।
সোহানা উৎসুকভাবে শান্তার দিকে তাকিয়ে বললো,
“আপা তুই ভাইয়াকে বলিস নিয়ে যেতে হে? তুই তো বড় তুই বললে না করতে পারবেনা। ”
শান্তা আমতা আমতা করলো। তারপর আড়চোখে শুভ্রতার দিকে একবার তাকালো, যে আপাতত তার দিকেই তাকিয়ে আছে উৎসুক হয়ে। শান্তা এবার শুভ্রতাকে ইশারা করে বললো,,
“শুভ্রতাকে বল। ও বললে ভাইয়া কিছু বলবেনা। ছোট বলে কথা! ”
“এই নাহ নাহ। আমায় এসবে টেনো না। মেহরাদ ভাই আমায় কিছু বলবেনা মানে?মুখের সাথে হাতও চালাতে পারে। ” চোখ বড় বড় করে বলে উঠলো শুভ্রতা।
শান্তা ঠোঁট টিপে মুচকি মুচকি হাসলো। যাকে ভাইয়া ভালোবাসে তাকে নাকি মারবে? পাগলিটা যদি বুঝতো!তারপর ঠিক হলো সকলে এক সাথেই বলবে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা।

মেহরাদ বাসায় আসলো ন’টার পর। ফ্রেস হয়ে মা’য়ের কাছে খবর পাঠালো কফি পাঠানোর জন্য। জাহানারা বেগম এক কাপ কফি হাতে ধরিয়ে দিলো শুভ্রতার। শুভ্রতা যেতে চাইলো না। কিন্তু তাকে শান্তা আর সোহানা জোর করেই পাঠালো এক প্রকার। সাথে এ-ও বলে দিল একটু যেনো আগে থেকেই বলে আসে তাদের ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা। তারপর বাকিটা না-হয় নিচে খাবার খেতে আসলে বলা যাবে।
শুভ্রতা এগুলো পা টিপে টিপে করিডোরের শেষ রুমটার দিকে। হাফসাফ করতে করতে একটু উঁকিঝুঁকি মেরে নিল। তারপর দরজায় টোকা দিল আলতো করে। মেহরাদ স্বগতোক্ত স্বরে বললো,,
“কাম।”
শুভ্রতা এগিয়ে গিয়ে মৃদু স্বরে গলা খাকাড়ি দিয়ে মিনমিন স্বরে বললো,,
“আপনার কফি। ”
“রাখ। ”

শুভ্রতার এতো লজ্জা লাগছে মেহরাদ ভাইয়ের সামনে আসতে। রাতে তারা একসাথে ঘুমিয়েছে এটা ভাবতেই তার হাত পা গরম হয়ে আসে। লজ্জারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে সর্বাঙ্গে। কি জ্বালা!
শুভ্রতা কফির মগ রেখে দাঁড়িয়ে রইলো উসখুস করে। মেহরাদ তখন কাজে ব্যাস্ত কাউচে বসে। শুভ্রতার দিকে প্রগাঢ় চোখে চাইলো। মেয়েটা উসখুস করছে বেশ বুঝতে পাড়ল। কপালে ভাজ ফেলে তাকিয়ে রইলো শুভ্রতার দিকে। অপেক্ষা করলো এই সুন্দর ওষ্ঠ দুটো ফুরে ঠিক কি বানী বের হবে তার জন্য এই মূহুর্তে।
“ইয়ে ইয়ে মানে আগামীকাল তো শুক্রবার…. আমরা…আমরা চাইছি একটু ঘুরাঘুরি করতে।” এতোটাই মিনমিনিয়ে বললো শুভ্রতা শেষের কথাটা বুঝা গেল না ভালো করে।
তবে মেহরাদ ধরে ফেলেছে, ঠিক কি বলতে এরকম উসখুস করছে তার রমনী। একে দু’হাতে বড় করেছে বলা যায়। ও’ ক তে কলিকাতা নাকি কলাবাগান বোঝায় সে ঠিক বুঝতে পারে। তাই এখনো খুব সহজেই বুঝে ফেললো। তবুও অবুঝের মতো বললো,

“কি বললি, স্পষ্ট করে বল। এরকম মিনমিন করছিস কেন? আর মাথা এরকম নিচে নামিয়ে রেখেছিস কেন?তুই কি পাত্রী, আর আমি তুকে দেখতে আসা পাত্র?এই চাপটার তো কবেই ক্লোজ করে ফেললাম। এখন শুধু বাসর সাড়ার পালা। ” বলতে বলতে কফির মগ তুলে চুমুক বসালো কফিতে। দৃষ্টি নিবদ্ধ শুভ্রতার দিকে।
শুভ্রতার লজ্জা ছাপিয়ে এবার কিছুটা বিরক্ত বোধ করলো নিজের প্রতিও, সামনের মানুষটার প্রতিও। তবুও মাথা উচালো না। তবে স্পষ্ট কন্ঠে বললো,
“আপনার কি সব সময় এগুলোই ঘুরে মাথায়?আর কোন চিন্তা ভাবনা নেই? ”
“আমরা চিন্তাভাবনার শুরু শেষ সবেতেই তুই। এন্ড অফ এভরিথিং আমার সবকিছুতেই তুই। ”
শুভ্রা ঠোঁট মুচড়াল একটু। এহহ!সে-ই নাকি সব! এই যে সারাদিন অফিস করে তখনিই কি তাকে নিয়ে চিন্তা করে? কই তাহলে যে একবারও কল দিয়ে চারটি কথা বলেনা? কই তাকে হাতে হাত ধরে একটু ঘুরতে নিয়ে যায়না? প্রেম করার আগেই বিয়ে সেড়ে বসে আছে। এখন আবার বাসর। আইসেন ভাই, আপনার স্বপ্নে!
মনে মনে হাজার কতে বলতে থাকা চোখ গুলো দেখলো মেহরাদ। আল্লাহ চোখ দিয়েছে দুটো, বলার আগে চোখে ভেসে উঠে সব। মেহরাদকে বার বার ঘায়েল করে। কফির মগে ঠোঁট ছুয়িয়েই তাকিয়ে রয়েছে মেহরাদ। যেনো কোন ঘোরে পড়ে গিয়েছে।

এ চোখের রঙ ঢঙে সে শতবার শতক্ষনে খুন হয়। হৃৎস্পন্দন থমকে যায়। সে খুব করে অনুভব করে, বারে বারে অনুভব করে –এই মেয়েটা তার হৃৎস্পন্দন। এই মেয়েটা তার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার কারণ,, থমকে যাওয়ার কারণ। সব ও! সব!
নিজের আপন চিন্তা ভাবনার মধ্যেই শুভ্রতা আবারও মুখ মুচড়াল কি যেনো ভাবতে ভাবতে।। মেহরাদের ঘোর কাটল। শুভ্রতাকে পাশ কাটিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো কিছুটা খোলা তবে পুরো পুরি না। সে কফির মগ রেখে বিনা পূর্ব সংকেতে শুভ্রতাকে হেচকা টানে এক উরুতে এনে বসালো। চেপে ধরলো কোমর শক্ত করে।
শুভ্রতা অবাক হতভম্ব। চোখ কোটর ছেড়ে বেড়িয়ে আসার উপক্রম। দরজা খোলা! এই লোকটার কান্ডজ্ঞান কি দিন দিন উড়ে যাচ্ছে?

সে উঠতে আপ্রান চেষ্টা করলো, কিন্তু পুরুষালী শক্ত হাত থেকে উঠতে পাড়লো না৷
মেহরাদ শুভ্রতার নড়াচড়ার মধ্যেই গোলগাল গালে আলতো করে কামড় বসিয়ে বললো,
“না করেছিলাম না আমার সামনে মুখ মুচড়াবি না? এখন? ”
শুভ্রতার দু হাতে মুখ ঢেকে নিল।সে চুমু টুমু খেতে দিবেনা। বারবার চুমু খায়। আর সে লজ্জায় ম’রে যায়। তার বুঝি লজ্জা লাগেনা এরকম করলে!
মেহরাদ হেসে ফেললো ঠোঁট কামড়ে। শুভ্রতার হাত সরানোর কোন প্র‍য়াস তার মধ্যে দেখা গেল না৷ শুধু কোমড়ে চেপে রাখা হাত দুটো অবাধ্যের মতো উপরে উঠাতে লাগলো।
শুভ্রতার সাড়া শরীর শিরশিরিয়ে উঠলো। মেহরাদের পরবর্তী উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে খপ করে দু পাশের দু হাত ধরে ফেললো। সেই সাথে চোখ পাকিয়ে রেখেছে।
মেহরাদ সে সবে পাত্তা দিলোনা। তার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। উন্মুক্ত ঠোঁট জোড়ায় শব্দ করে চুমু বসালো। তারপর চোখ জোড়াতেও।।

“আবার মুচড়াস মুখ! ”
“জীব্বনেও না। ”
“আচ্ছা, দেখা নিব।”
এরপর শুভ্রতাকে ছেড়ে দিলে শুভ্রতা একপ্রকার লাফিয়ে দূরে সড়ে গেল। কফির কাপ হাতে তুলে নিতে নিতে আবারও মেহরাদের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙিয়ে এক দৌড়ে বেড়িয়ে গেল।
মেহরাদ হেসে ফেললো শব্দ করে। সারাদিনের ক্লান্তি যেনো এক লহমায় শেষ। মনে মনে আওড়াল ,
“কুকুরের লেজ সোজা হবার না,তোর মুখ মুচড়ানো শেষ হবার না আমার আদর আদায় করা-ও না। ”

রাতের খাবার টেবিলে সকলে খাওয়া দাওয়া নিয়ে ব্যাস্ত। এর মাঝেই আলতাফ তালুকদার বলে উঠলো,,
“শায়ন কবে ছুটে পাবে এবার ছোট বৌমা? বলেছে কিছু।। ”
“নাহ ভাই। এখনো জানেনা কবে ছুটি পেতে পারে। ”
মাথা নাড়ালেন তিনি। ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আগামীকাল যাচ্ছতো চৌধুরীদের সাথে ডিলটা ফাইনাল করতে? সেদিন তো মিটিংটা ক্যান্সেল করে দিলে। ”
“লোকেশন পাঠিয়ে দিতে বলেছি। কোন রেস্টুরেন্টেই সেড়ে ফেলবো মিটিং। মিস চৌধুরীও তা-ই বলেছে। ”
সম্মতি জানালেন আলতাফ তালুকদার। সোহানা ঠোঁট উল্টালো। তারা বুঝে ফেলেছে মেহরাদ ভাই শুক্রবার দিনেও কাজ করবে। তার ভালো লাগলো না। একটু ঘুরতে যাবে তা-ও হয়না এ বাড়িতে। দূর!
সে অধৈর্য হয়ে বলে উঠলো,,
“আমরা একটু ঘুরতে যেতে চেয়েছিলাম ভাইয়া। তুমার শুক্রবারেও মিটিং রাখতে হবে? তাহলে আমাদের একা যাওয়ার অনুমতি দাও প্লিজ। ” শেষের কথাটা অনুরোধ সুরেই বললো সে।
মেহরাদ শান্ত চোখে তাকালো। একা যেতে দিবে? সে? সে গমগমে গলায় “পরে…নিয়ে…” বলতে যাবে তার আগেই আলতাফ তালুকদার সোহানার দিকে তাকালো। মেয়েটা মেহরাদের ঠান্ডা চোখ দেখে মুখ লটকে আছে।
সে আহ্লাদ স্বরে শুধালো,,

“কোথাও ঘুরতে যেতে চাচ্ছে আমার আম্মারা? ”
“ঠিক করিনি বড় বাবা।নিতে রাজি হলে ঠিক করতাম আমরা সকলে বসে। ” উৎফুল্ল হয়ে বলে উঠলো শুভ্রতা।
শুভ্রতার এমন উৎফল্লতা দেখে এক পলক তাকালেন রিমি বেগম। কই মেয়েটা তো তাকে একবারও জানালোনা? সে না-হয় রায়হানকে বলতো এসে নিয়ে যেতে! তার কাছে কি কিছু চাওয়া যায়না? বলা যায়না?
মেহরাদ খাবার ছেড়ে এবার চেয়ারে পিঠ ঠেকিয়ে একদম রিলেক্স চোখে তাকালো শুভ্রতার দিকে। মুখে কোন অভিব্যক্তি নেই। শুভ্রতা আড়চোখে দেখে মুখের হাসিটা একটু কমালো কিন্তু উৎসুক দৃষ্টি বড় বাবার দিকেই রাখলো।
“মেহরাদ তুমি কখন যাবে বাবা?তখন না হয় বাচ্চা গুলোকে নিয়ে যেও। ওরা রেস্টুরেন্টে বসলে তুমি মিটিং সেড়ে নিও। ” আকরাম তালুকদার বললেন।

সোহানা, শাফি এক লাফে উঠে এঁটো হাতেই বাবার কাছে এসে পড়লো। আহ্লাদী হয়ে বললো,,
“বাবা সেড়া একটা বুদ্ধি দিয়েছো। তুমি বেস্ট, বেস্ট, বেস্ট। ভাইয়া তুমি এবার নিয়ে যেতে না করবেনা প্লিজ। ”
সবাই হাসলো সোহানার এমন পাগলামো দেখে। মেহরাদও হাসতো। কিন্তু অফিসের কাজে বাড়ির মেয়েদের নিয়ে যাওয়া এখনো তার ভালো লাগছেনা। মিটিং এর টাইমে ছেলে মেয়ে গুলো এদিক সেদিক যাবেনা তার কি গ্যারান্টি?
“মেহরাদ নিয়ে যেও সাথে করে এতো করে বলছে যেমন ওরা। আর তাছাড়া ওরা ছোট হলেও শান্তা মামনি তো বড়ই। ও দেখে রাখবে না-হয় ওদের যখন মিটিং এ থাকবে। ” আলতাফ তালুকদার ছেলেকে বললেন৷
ছেলেকে ভালো করে চিনেন তিনি। ছেলেটা সব পরিস্থিতির কথা আগে চিন্তা করে। ওর কাছে পরিবারের প্রায়োরিটি আগে। দেখা যাবে আবার মিটিং ই ক্যান্সেল করে বসে থাকবে ওদের নিয়ে বের হতে। তাই তিনি ছেলের দুশ্চিন্তা কমাতে বললো এটা৷
মেহরাদ তাকালো শান্তার দিকে। বিশ একুশ বছরের মেয়ে একটা ও কি দেখবে?কাকে দেখবে? তার নিজেরিই আলাদা প্ল্যান রেডি করে নিল সেকেন্ড ব্যায়ে। কোন শব্দ না করে খাবার ছেড়ে ওঠে যেতে যেতে বললো,,
“ওকে ফাইন। শান্তা! খাবার শেষ হলে উপরে আসবি। ”

মেহরাদের রুমে দাঁড়িয়ে শান্তা। এইমাত্রই এসেছে সে। কি বলবে বুঝতে পাড়ছেনা। তার কি বলা উচিৎ?
মেহরাদ ফাইল ঠিক করতে শান্তাকে দেখলো। মেয়েটা নার্ভাসনেস এ নখ দিয়ে ফ্লোরে খুটছে। রাতে শুভ্রতাকে নিয়ে রুমে যাওয়ার সময় শান্তার রুমের দরজা কিঞ্চিৎ খোলা দেখেছে সে। ভিতর থেকে নিয়ন আলো আসছিল। যেহেতু ওর পেড়িয়ে যেতে হয়েছে। যা বুঝার তখনি বোঝা হয়ে গিয়েছে তার।
“উম, বি কম্ফোর্টেবল শান্তা। আমার বোন তুই, আস্ক মি এনিথিং?”
“শুভ্রতা তোমায় ভালোবাসতো ভাইয়া। সেটা বুঝতে পাড়তাম। তুমিও বুঝে ছিলে তাইনা? ” নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে জিজ্ঞেস করলো শান্তা।

“হুম। ”
“তুমিও ওকে ভালোবাসো তাই-না? ”
“হুম। ”
শান্তা জানতো সব গুলোই। আবারও জিজ্ঞেস করলো নিজের কানকে একটু শুনাতে শুধু। এবার সে শেষ প্রশ্নটা করলো,
“ওর তো বিয়ে ঠিক করে রেখেছে কাকিমনি ভাইয়া, এখন?”
“শি ইজ অলরেডি মেরিড শান্তা উইথ ইউর ব্রাদার। শি ইজ অলরেডি মিসেস তাশদীদ মেহরাদ তালুকদার। এনিথিং এলস?” হাতের ফাইলটা নাড়াচাড়া করতে করতেই বললো নির্বিকার ভাবে।
শান্তার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। মাথা হ্যাং হয়ে গেল। কি বললো এটা ভাইয়া? শুভ্রতা বিবাহিত? ভাইয়ার বউ? সে কোন রকমে অস্থির হয়ে শুধালো,,
“ভাইয়া..ভাইয়া বাড়িতে সকলে?? আর কাকিমনি? কাকিমনি তো শুভ্রতাকে আবার ভুল বুঝবে?দোষারোপ করবে ওকে…” তার কথা আটকে আসছে অনেকটা অস্থিরতায়।
মেহরাদ হাতের ফাইল রেখে এগুলো শান্তার দিকে। হাতে করে পানি ভর্তি গ্লাস নিয়ে এগিয়ে দিল শান্তার দিকে। শান্তা ঢকঢক করে গিলে নিল সবটা। বেচারির তবুও স্বস্থি মিলছেনা। বাড়িতে জানলে সকলে কি রিয়াক্ট করবে সেটাই সে ভাবতে পড়ছেনা!

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৬

“আমি আছিতো কিচ্ছু হবেনা। রিলেক্স। আট বছর আগে এসে যেভাবে সামলেছি এবারও ঠিক সেভাবেই সামলাবো। কোন চিন্তা করিস না। আর বের হওয়ার টাইম টেক্সট করে জানিয়ে দিব। ”
শান্তা মাথা দুলালো। বেচেইন ভাবে বেরিয়ে আসতে নিলে মেহরাদ পিছু ডাকলে, সে নিজে থেকেই আওড়াল,,
“কাউকে বলবো না ভাইয়া। তুমি তাড়াতাড়ি সব ঠিক করে দিও নিজের মতো করে। মেয়েটার উপর যেনো আর কোন অভিযোগ না আসে দেখো ভাইয়া। ”
মেহরাদ দৃঢ় স্বরে বললো,,
“আসবেনা। আমি আসতে দিবোনা। নোট মাই ওয়ার্ড। ”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৮