Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৫

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৫

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৫
সাঞ্জেনা শাজ

বিকেল হতে তালুকদার বাড়ির গাড়িটা এসে ঢুকলো খান বাড়ির গেট দিয়ে। গাড়ি থেকে শান্তা আর সুরাইয়া বেগম বের হলেন। তারা এসেছেন শুভ্রতাকে নিয়ে যেতে৷ আর বাকি সকলে বাড়িতেই। চেয়েও তারা আসতে পাড়েনি। মেহরাদের শরীরের জ্বর কমার নামিই নিচ্ছে না! সন্ধ্যার পর পর্যন্ত দেখবে তারপর হসপিটালাইজড করতে হতে পারে বলে তাদের আশংকা।
তাদের দেখে রায়হানের মা’ কিছুটা ব্যাতিব্যাস্ত হতে দেখা গেল। রিমা বেগম কিছুটা গম্ভীর মুখেই কুশল বিনিময় করলেন। এদের আসার কারণ সে আন্দাজ করে ফেলেছে তাই চেহারার অবস্থা ভালো না।
“শুভ্রতাকে দেখছিনা? ও কোথায়? তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে এসো ওকে নিয়ে আমরা একসাথে বাড়ি ফিরবো। অনেক হয়েছে রাগ অভিমান। ” সুরাইয়া বেগম বললেন।

“ও রুমেই ভাবি। এসেছেন খুশি হয়েছি আমরা। কিন্তু যাবার কথা বলবেন না দয়া করে। এটা রাখতে পারবো না। ”
“এটা কেমন কথা ছোট? নিজেদের বাড়ি যাবে না? এভাবে জেদ ধরে থাকলে তো হবে না বলো?”
“এতোসব কিছু আমি জানি না ভাবি। আমি এই সম্পর্ক কখনো মানবো না। আর মেহরাদ যেভাবে বেয়াদবি করেছে! সেগুলো তো কখনোই ভুলবো না। ”
“মেহরাদ তখন হুশে ছিলো না ছোট। নয়তো তো জানো ও কেমন? আশা করি তালুকদার বাড়ির ছেলেদের নিয়ে তোকে কাছে সার্টিফিকেট দেখাতে হবে না!”
“আপনি যা-ই বলেন ভাবি, আমি এ সম্পর্ক কখনোই মানবো না। যেখানে আমার সিদ্ধান্ত হেয় করা হয়েছে সেখানে ওঁদেরটাও আমি মেনে নিবো না, ব্যাস!”

দীর্ঘনিশ্বাস ফেললেন সুরাইয়া বেগম। এই রমনীকে বুঝানো তার সাধ্যে নেই। তাই তিনি হাল।ছেড়ে দিয়ে বললেন,
“আচ্ছা মানতে হবে না তোকে। শুভ্রতাকে ডেকে দে। ওকে নিয়ে যাবো সাথে করে। মেহরাদটার শরীর ভালো না। ”
“ওকে-ও যেতে দিবো না ভাবি। ও আমার সাথে এখানেই থাকবে। আর ঐ ছেলে অসুস্থ, ও গিয়ে কি করবে? ”
“এসব কেমন কথা ছোট? সম্পর্কের মধ্যে বিবাদ তৈরি করছিস কেন? ঐ ছেলে ঐ ছেলে কি? আমরা তালুকদার বাড়ির ছেলে মেয়েদের কখনো দু’নজড় করে দেখিনি। ”
রিমা বেগম চুপ করে রইলেন। আর কিছুই বললেন না তিনি। সুরাইয়া বেগম আবার বললেন,
“শুভ্রতাকে আসতে বল ছোট। ও কোথায়? শুনেনি এখনো আমরা এসেছি?”
“কোথায় আছে শুভ্রতা? আমি গিয়ে নিয়ে আসি…” শান্তা বলে উঠলো।
“থাক রিমা এসেছে যখন দেখা করুক মেয়েটার সাথে। যাবে না যাবে পরের কথা।” রায়হানের মা বললেন।
তিনিই শান্তাকে শুভ্রতার রুমটা দেখিয়ে দিলেন নিচ থেকে। শান্তা সিড়ি ভেঙে উপরে উঠে শুভ্রতার রুমের উদ্দেশ্যে এগিয়ে গেল।

রুমের দরজা খোলা। ভিতরে গিয়ে দেখলো কেউ নেই। ওয়াশরুম বারান্দা কোথাও কেউ নেই। কপালে চিন্তার ভাজ পড়লো শান্তার। মেয়েটা কই? ছাদে টাদে গিয়েছে নাকি?
রুম থেকে বের হয়ে করিডরে গিয়ে সিড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে রিমা খানের উদ্দেশ্যে বললো শান্তা,
“শুভ্রতা তো রুমে নেই ছোট মা। ছাদে গিয়েছে নাকি? নিচে তো দেখলাম না আসার সময়৷ ”
রিমা বেগম তৎক্ষনাৎ বসা থেকে উঠে দাড়ালেন। তার চেহারায় অবাকতার রেষ! রুমে নেই মানে? ছাদে কি থাকবে? তার বিশ্বাস হয় না। কিন্তু না থাকলেও আর যাবে কোথায়?
“ভাবি শুভ্রতাকে দেখেছেন ছাদে যেতে? বা বাহিরে?” রায়হানের মা’য়ের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করলো রিমা বেগম।
“না দেখিনি তো। আমি তো রুমেই ছিলাম এতোক্ষণ, এইমাত্র বের হলাম। দাড়াও নাজমা কে পাঠাচ্ছি ছাদে দেখে আসতে! ”

তিনি কাজের মেয়ে নাজমা কে ডেকে ছাদে পাঠালেন। শান্তাও গেল ছাদে। কিন্তু মিনিট পাচেক এর মধ্যেই নিচে ফিরে আসলো উদ্ভীগ্ন চেহারায়। ছাদে নেই শুভ্রতা। তার বুকটা অজানা কারণেই কেমন ডিপডিপ করছে।
রিমা খান আশ্চর্য হয়ে বাহিরে দারওয়ানের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন শুভ্রতাকে তিনি বের হতে দিয়েছেন কি না! কিন্তু তিনি সাফ সাফ জানালেন –তাকে অনেক অনুরোধ করেছিলো মেয়েটা তবুও সে বের হতে দেয়নি নিষেধাজ্ঞা ছিলো বলে। কেদেছেও মেয়েটা।
পুরো বাড়ি খুঁজা শেষ ইতিমধ্যে। শান্তার মাথায় হাত। সুরাইয়া বেগম যথেষ্ট চিন্তিত। তারা ধরে নিয়েছেন মেয়েটা যেকোনো ভাবে বের হয়ে গিয়েছে বাড়ি থেকে। কিন্তু কিভাবে? আর গিয়েছেই বা কোথায়? তিনি মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন,

“তোর শুভ্রতার সাথে কি কথা হয়েছিলো?”
“আমার ওর সাথে তেমন কথা হয়নি মা। শুধু বললাম ভাইয়ার শরীরটা বেশ খারাপ, এতটুকুই। এরপর কল কেটে গেলো। আর কথা হয়নি তো মা। ”
“এই ছেলেটার কথা শুনেই তখনই কান্না কাটি করছিলো বাড়ি যেতে। আমি রাজি হয়নি। মেয়েটা কি পালিয়ে গেলো? কত্তো বড় সাহস! ” রিমা বেগম আশ্চর্য হয়ে বলে উঠলেন।
সুরাইয়া বেগম এযাত্রায় রেগে গেলেন। কর্কশ কন্ঠে বলে উঠলেন,
“তুই কি মা? মেয়েটা কান্না কাটি কর্ছে তাও তোর মন গলেনি? এখন মেয়েটা কোথায় গেল, কিভাবে গেল কেমন করে গেলো জানবো বলতো? ”
“আমি যেতে দেইনি সেটা দেখছো আর এই মেয়েটা কতো বড়ো সাহস নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে সেটা দেখছো না? সব ঐ ছেলেটার জন্য! সব!”
“তুই থামবি দয়া করে? তোকে আমার কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মনে হচ্ছে না। নয়তো কে এমন মেয়ের চিন্তা না করে অন্য ছেলেকে দোষারোপ করে? বল কে করে?”

“আমারও চিন্তা হচ্ছে ভাবি। কিন্তু ছেলেটার জন্যই তো করেছে এটা। এটা তো মিথ্যে নয়!”
সুরাইয়া বেগম আর কথা বাড়ালেন না। বাড়িতে কল দিতে বললেন শান্তা কে। চারদিকে সন্ধ্যা নেমে যাচ্ছে মেয়েটা কোথায় আছে কে জানে? সুস্থ আছে তো?
জাহানারা বেগম ছেলের কাছেই বসে আছেন। জ্বর কমছে না। চিন্তায় তিনি অস্থির। না কিছু খাচ্ছে না ঔষধ নিচ্ছে! এরকম করলে হবে! ছেলেটা কিসের জেদ ধরে বসে আছে! এর মধ্যেই পাশে থাকা ফোনটা বেজে উঠলো। চেয়ে দেখলেন শাক্তা কল করছে। রিসিভ করতে করতে শান্তার অস্থির কন্ঠঃ ধ্বনিত হলো,
“বড় মা শুভ্রতা বাড়ি গিয়েছে? ”
জাহানারা বেগম আশ্চর্য হলেন। সেভাবেই বললেন,

“বাড়ি গিয়েছে মানে কি? তোরা না গেলি ওকে আনতে? ও বাড়িতে থাকবে কি করে?”
“ও এবাড়িতেও নেই বড় মা। ভাইয়ার অসুস্থতার কথা জানার পর ছোট মা’কে আসতে দিতে বলেছিলো ছোট মা দেইনি। তাই পালিয়ে গিয়েছি বাড়ি থেকে। কিন্তু ও তো বাড়িতেও যায়নি! কোথায় আছে তাহলে?”
লাফিয়ে উঠলেন বসা থেকে জাহানারা বেগম। আৎকে উঠে চেচিয়ে বলে উঠলেন,
“রিমা কি পাগল? মেয়েটাকে আটকে রাখতে চেয়েছিলো ও বাড়ি? মেয়েটা এখন লুকিয়ে কোথায় গিয়েছে? আল্লাহ! এখানেও তো আসেনি। কোথায় আছে মেয়েটা? কিছুই তো বুঝেনা বাহিরের দুনিয়ায়। ”
মেহরাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সজাগ হচ্ছে আস্তে আস্তে। সফেদ বিছানায় উবু হয়ে শোয়া কোম্ফোর্টার টেনে। এযাত্রায় সোজা হলো। পুরো মুখশ্রী রক্তিম হয়ে আছে জ্বরের তোপে। চোখ দুটো টেনে খুলে রাখা মুশকিল।
“তোরা আর এক মূহুর্তও ওইদিকে থাকিবি না। বের হয়ে খুঁজ কর ওর! আমি তোর বড় বাবাকে জানাচ্ছি। ” উদ্ভিগ্ন হয়ে বললেন জাহানারা বেগম। পিছনে ছেলে শুয়া থেকে উঠে বসেছে তার ধ্যানে নেয়৷
মেহরাদের মস্তিষ্ক বিষয়টি ধরতে পারছে না। আর পাড়বেই বা কি করে! পুরো এক রাত এক দিন জ্বরে বেহুশ হয়ে পড়ে আছে। তবুও ভিতরটা কেমন যেন করে উঠলো শংকায়। মাথা চেপে দু’চোখ টেনে রাশভারি কন্ঠে শুধালো,
“কি হয়েছে মা? কে লুকিয়ে বেড়িয়ে গেছে? কার কথা বলছো? ”
হটাৎই ছেলের কন্ঠ শুনে আৎকে উঠেছে জাহানারা বেগম। পিছু ঘুরে দেখলো ছেলে বসা। তিনি এগিয়ে ছেলের কপালে হাত রেখে শুধালেন,

“উঠেছিস বাবা? জ্বর তো কমছেই না! ঔষধ গুলো কেন খাচ্ছিস না বলবি? তোরা কি ভালো থাকতে দিবি না আমাদের পন করে বসেছিস?”
“আমি ছাড়া আরেক জন আবার কে মা, যে তোমাদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না? ” মা’য়ের হাতটা কপাল থেকে সড়াতে সড়াতে বললো মেহরাদ।
জাহানারা বেগম চিন্তায় পড়লেন। ছেলেকে বলবে কি বলবে না এ নিয়ে। ছেলেটার নিজেরই তো শরীর ভালো না। এ খবর শুনলে না জানি কি করে! তবুও, না জানিয়ে রাখলে কেলেঙ্কারি করে ফেলবে পরে।
“শুভ্রতাকে আনতে গিয়েছিলো তোর মেঝো মা আর শান্তা….”
“এ বিষয়ে কিছু জানতে চাইছি না মা। ও বাড়ি গিয়েছে কেন ওঁরা? থাকুক মা’য়ের কাছে! ” চোয়াল শক্ত করে মা’কে থামিয়ে বললো মেহরাদ।
জাহানারা বেগম ভিতরে ভিতরে শুভ্রতার জন্য চিন্তায় অস্থির। তার উপর ছেলের কড়া জেদ দেখে তিনি কিছুটা তেজ নিয়েই বললেন,

“কি শুরু করেছো তোমরা? মেয়েটা একটু বোকামি করে আবেগের বশে তাই বলে এমন করবে?”
“কি করেছি? ও সেচ্ছ্বায় গিয়েছে। থাকুক….”
“শুভ্রতা ওখানে নেই মেহরাদ! শান্তা ওরা গিয়ে পাইনি ওকে ওখানে। তোমার অসুস্থতার কথা শুনে পালিয়েছে ও’বাড়ি থেকে। কিন্তু এখনো তো এ বাড়ি আসেনি। ”
মেহরাদ সেকেন্ড খানিক স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে রইলো মা’য়ের দিকে। তখনকার কথা গুলো যেন আস্তে আস্তে মাথায় সেট হচ্ছে।
জাহানারা বেগম ছেলের স্তম্ভিত চেহারার দিকে তাকিয়ে। দেখছেন, ছেলের তখনকার শক্ত চোয়াল মিনিটেই কেমন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে।
বেড সাইড টেবিল থেকে নিজের মোবাইলটা হাতে নিলো মেহরাদ। সময়টা দেখে নিলো — পাঁচটা বেজে আটচল্লিশ। প্রায় সন্ধ্যা। মোবাইলটা দুর্বল হাতের মুঠোয় চেপে বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো। দেহটা বুঝি একটু টলে উঠলো!
জাহানারা বেগম কদম বাড়ালেন ছেলের দিকে। মেহরাদ হাত দিয়ে থামিয়ে বললো,

“ও বাড়িতে নেই। এই বাড়িতেও আসেনি। রাস্তায় আছে তাইতো? কতক্ষন হবে বেরিয়েছে? আমাদের বাড়িতে আসতে কতক্ষন লাগার কথা? ও কখনো একা একা আসা যাওয়া করেছে কোথাও? আমার জন্য ওখান থেকে পালিয়েছে, হু? ম’রে যাচ্ছিলাম? এবার ওর কিছু হলে? বেচে যাবো তাই-না?ম’রতে ম’রতে বেচে যাবো তাই-না? ”
জাহানারা বেগম ছেলের পাগলের মতো প্রলাম শুনলেন। শুনে তার হৃদয় ব্যাকুল হয়ে উঠলো। ছেলেটা একের পর এক পোশাক গা’য়ে জড়াচ্ছে। নিশ্চয়ই বাহিরে যাবে শুভ্রতাকে খুঁজতে? কিন্তু ওর নিজেরই তো শরীর ভালো না? এখনো টলছে!

“তুই এ শরীর নিয়ে বাইরে যাবি কি করে? তোর বাবা চাচাকে জানাচ্ছি ওনারা খুঁজবে ওকে। ”
মেহরাদ কানে নিলো না কোন কথাই। নিজের মতো অসার দেহটা টেনে কআনে ব্লুটুথ গুজে, গা’য়ে শার্ট চড়িয়ে তারপর একটা হাই কোট ঝুলিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে রুম ছেড়ে বের হতে হতে বললো,
“মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে থাকলেও আমি ওর জন্য পুরো দুনিয়া উলট পালট করে যাবো। এটাতো সামান্য জ্বর! ”
জাহানারা বেগম ছেলের পিছু পিছু সদর দরজা পর্যন্ত গেলেন। দেখলেন,ছেলে বেড়িয়ে যাচ্ছে অসুস্থ শরীর নিয়ে গাড়ি দিয়ে। একে একে সকলেই জেনে গেলো শুভ্রতার কথা। ওর অপেক্ষায় সকলে অস্থির।

একটা সুনসান নীরব জায়গায় একটা সি এন জি দাড় করানো। রাস্তার দু’পাশেই জঙ্গল। মাগরিবের আজান পড়ছে হয়তো চারদিকে! কিন্তু আওয়াজ অস্পষ্ট।
সি এন জির পিছনের সিটে দুরুদুরু বুক নিয়ে নসে আছে শুভ্রতা। তার মন মস্তিষ্ক বারবার রেড এলার্ট জাড়ি করছে। সে নিশ্চিত এ জায়গাটা তার জন্য নতুন। এরকম জায়গায় আগে পরে কখনো এসেছে কি-না সন্দেহ। ড্রাইভারটা বললো গাড়ি চলছে না। তাই থামাচ্ছে। কিন্তু থামানোর নাম করে কিছুটা দূরত্বে গিয়ে মোবাইলে কি যেন করছে।
আশেপাশে মানুষ জন নেই। জায়গাটা অপরচিত মানুষ অপরিচিত। সে বিপদে পড়েছে বুঝতে পেরে তার শরীর হীম হয়ে এলো। রক্ত সঞ্চালন যেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপায়।
ড্রাইভারটা গাড়িতে তাকিয়ে দেখলো শুভ্রতা এখনো ডেপডেপ চোখে তাকিয়ে তার দিকে। মনে এক নিকৃষ্ট ছক একেছে। আঙুলের সাহায্য টাইপ করলো,

“taratari ay meyetake ami atke rakhchi. tura asle ek sathe ***** newya zabe.”
এগিয়ে গেল শুভ্রতার দিকে। গিয়ে বললো,
“ভয় পাবেন না আপা মনি। এই রাস্তা দিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি হবে। একটু অপেক্ষা করুন গাড়ি ঠিক করার লোক আসছে।”
শুভ্রতা হ্যাঁ না কিছু বললো না। শুধু দোয়া পড়ছে মনে মনে। আল্লাহ কে ডাকছে। একজন মেয়ের সম্মান খোয়ানোর চেয়ে মৃত্যু অধিক সহজ। তার মৃত্যু হোক কিন্ত নিজের সম্বল টুকু নিয়ে যেন ম’রতে পারে।
দু’গাল বেয়ে অশ্রু ঝড়া শুরু করলো শুভ্রতার। সন্ধ্যার অন্ধকারে ছেলেটা তা দেখলো না। সে আবারও কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল হাতে নিয়ে।

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৪

শুভ্রতার হাত দুটো অনবরত কাপতে থাকলো তার সাথে কি হতে পারে তা কল্পনা করে। একটা মেয়ে কতটা অসহায় নিজের বাড়ি ছাড়া এ রাস্তা ঘাটে তা আজ হাড়ে হাড়ে বুঝছে। এখনকার মানুষ যে পশুর থেকেও নিকৃষ্ট তা-ও বুঝলো। কি অশ্লীল ভাষায় ছেলেটা তাকে নিয়ে কথা বলছে ফোনে!
শুভ্রতা তার কাপতে থাকা পা দুটোকে অস্থির ভঙ্গিতে নাড়িয়ে লাফ দিয়ে ‘সি এন জি’ টা থেকে নেমে গেল। তারপর বিপরীত দিকে ছুটলো সর্বোচ্চ গতিতে।
পিছনে থাকা ড্রাইভারটা হই হই করে উঠলো। অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে শুভ্রতার পিছু পিছু ছুটলো।
পিছনের দিকে তাকালো না শুভ্রতা, তাকালেই মৃত্যু। প্রন প্রনে ছুটতে লাগলো রাস্তা ধরে…..

হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৬